Author: প্রিয় ক্যাম্পাস ডেস্ক

  • পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা

    পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা

    রাজধানীর পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তবে কে বা কারা গুলি করেছে তা তাৎক্ষণিক জানা সম্ভব হয়নি।

    সোমবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে পল্লবীর পুরানো থানার কাছে সি ব্লকে একটি হার্ডওয়্যারের দোকানে মুখোশ ও হেলমেট পড়া তিন ব্যক্তি ঢুকে খুব কাছ থেকে তাকে গুলি করে চলে যায়। রাত ৮টার দিকে গুলিবিদ্ধ কিবরিয়াকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত আনা হয়েছে বলে থানা পুলিশ জানায়।

    পল্লবী থানার ওসি শফিউল আলম বলেন, যুবদল নেতা কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের টিম সেখানে গেছে।

    ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হকও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গুলিবিদ্ধ কিবরিয়াকে মুমূর্ষু অবস্থায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে নেয়া হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ঘটনার পরপরই ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া একটি হার্ডওয়্যারের দোকানের একটি দরজা দিয়ে মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে ঢোকেন। সেখানে তিনি ঢোকার পরপরই পাশের আরেকটি দরজা দিয়ে তিনজন মুখোশ ও হেলমেট পড়া ব্যক্তি দ্রুত ঢুকে পড়ে। তাদের মধ্যে একজন কিবরিয়াকে খুব কাছে থেকে গুলি করেন। তিনি নিচে মেঝেতে পড়ে গেলে আরেক ব্যক্তি তাকে গুলি করেন। এরপর অস্ত্রধারীরা দ্রুত ওই দোকান থেকে বেড়িয়ে যান।

    এদিকে  এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আটক ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

    যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়ার হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পল্লবী এলাকা ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণে যুবদল ও বিএনপি নেতাকর্মীদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে থমথমে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

    বিস্তারিত আসছে…

  • হাসিনা-কামালের ফাঁসি, মামুনের ৫ বছরের দণ্ড

    হাসিনা-কামালের ফাঁসি, মামুনের ৫ বছরের দণ্ড

    গেলো বছরের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল মানুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

    বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণা করে। এই ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    রায়ে আদালত বলেছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। দুটি অভিযোগে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড, একটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে একটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল মানুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

    মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলো হলো-

    উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া, হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ‘হত্যা করে নির্মূলের নির্দেশ’ দেওয়া, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাইদ হত্যার ঘটনায় প্ররোচনা, উসকানি, ষড়যন্ত্র, সহায়তা, সম্পৃক্ততার অভিযোগ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর চাঁনখারপুল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্বারা ছয়জনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ। আশুলিয়ায় জীবিত একজনসহ মোট ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ।

    এ ছাড়াও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের নামে দেশে থাকা সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

  • জকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী রাকিব, জিএস খাদিজা

    জকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী রাকিব, জিএস খাদিজা

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। প্যানেলের সহ-সভাপতি মো. রাকিব (এ কে এম রাকিব), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) খাদিজাতুল কুবরা ও সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) প্রার্থী বি এম আতিকুর রহমান তানজিল।

    সোমবার (১৭ নভেম্বর)  বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহিদ রফিক ভবনের নিচে সংবাদ সম্মেলনে এ প্যানেল ঘোষণা করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

    প্রার্থীদের মধ্যে এ কে এম রাকিব বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। জিএস পদে খাদিজাতুল কোবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং এজিএস পদে তানজিল আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

    এছাড়া সম্পাদকীয় পদে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক অনিক কুমার দাস, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক নুসরাত চৌধুরী জাফরিন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মো. মাসফিকুল ইসলাম, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক আল শাহরিয়ার শাওন, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক অর্ঘ্য শ্রেষ্ঠ দাস, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অপু মুন্সি, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক তাকরিম আহমেদ, ক্রীড়া সম্পাদক মো. কামরুল হাসান নাফিজ, পরিবহন সম্পাদক মাহিদ হোসেন, সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ সম্পাদক মো. আনন বিন রহমান ও পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক প্রার্থী রিয়াসাল রাকিব।

    প্যানেলে অন্য সদস্যরা হলেন–ইমরান হাসান ইমন, সাদমান সাম্য, সুলতান মাহমুদ শুভ, মনিরুজ্জামান, তৌহিদুল ইসলাম তামিম, মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ।

    এ সময় কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘আমরা যে প্যানেল দিয়েছি সেখানে সবাই শিক্ষার্থী বান্ধব কাজের সঙ্গে যুক্ত। জকসু নির্বাচন শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই। শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে শক্তিশালী এই প্যানেল নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রস্তুত।’

  • শেখ হাসিনার রায় আজ, সবার দৃষ্টি ট্রাইব্যুনালে

    শেখ হাসিনার রায় আজ, সবার দৃষ্টি ট্রাইব্যুনালে

    গত বছরের জুলাই আন্দোলনকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হবে আজ। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কোনো সরকারপ্রধানের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম রায় হতে যাচ্ছে। এ মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

    গত ১৩ নভেম্বর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায় ঘোষণার এ দিন ধার্য করেন। শেখ হাসিনা ছাড়া এ মামলার অপর আসামিরা হলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এবং তৎকালীন পুলিশ প্রধান (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। আজকের এ রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারাধীন মামলাগুলোর মধ্যে এ মামলার বিচারকাজ প্রথম শেষ হতে যাচ্ছে।

    গত ২৩ অক্টোবর প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনি যুক্তিতর্ক শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল এ মামলার রায় ঘোষণা অপেক্ষমান রাখেন। সেদিন ট্রাইব্যুনাল বলেছিলেনÑ ১৩ নভেম্বর রায় ঘোষণার তারিখ ঘোষণা করা হবে। তবে সেটা হবে খুব তাড়াতাড়ি। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল রায়ের জন্য আজ (১৭ নভেম্বর) দিন ধার্য করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চাওয়ার পাশাপাশি ট্রাইব্যুনালের কাছে তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ চাওয়া হয়েছে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে। অন্যদিকে দুই আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন তাঁদের বেকসুর খালাস চেয়েছেন।

    সরাসরি সম্প্রচার

    ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এ মামলার বিচারকাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে। মামলার রায় ঘোষণার অংশবিশেষও সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

    গতকাল রবিবার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক ব্রিফিংয়ে এমনটাই জানিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আপনারা দেখেছেনÑ এ মামলার স্পেশাল প্রসেডিংসগুলো (বিশেষ কার্যধারা বা বিচারকাজের বিশেষ অংশ) আমরা ট্রাইব্যুনালের অনুমতি সাপেক্ষে সরাসরি সম্প্রচার করেছি। আগামীকাল (আজ সোমবার) রায়ের যে অংশটুকু ট্রাইব্যুনাল পড়ে শোনাবেন, সে অংশটুকুও ট্রাইব্যুনালের অনুমতি সাপেক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করবে। আর বাংলাদেশ টেলিভিশনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ যে কয়েকটি সংস্থা আছে এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে এ দেশের সব গণমাধ্যম সরাসরি সম্প্রচার করতে পারবে।

    গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম সাংবাদিকদের আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে সংশোধনী আনা হয়েছে। সংশোধনীর আগে আইনটির নাম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন হলেও সেখানে আন্তর্জাতিক আইনের কোনো প্রযোজ্যতা ছিল না। জুলাই অভ্যুত্থানের পর আইনটি সংশোধন করে রোম সংবিধিতে আন্তর্জাতিক আইনের যে সংজ্ঞা, সেই সংজ্ঞা এবং অ্যাপ্লিকেবিলিটি (প্রযোজ্যতা), সেটি এখানে প্রযোজ্য করা হয়েছে। এ ছাড়া দণ্ডের পাশাপাশি অর্থাৎ কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আরেকটি দণ্ডকে আইনে সংযোজন করা হয়েছে। সেটি হচ্ছে, আসামিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ভিকটিম (ভুক্তভোগী) অর্থাৎ ঘটনায় যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত, তাঁদের বরাবর হস্তান্তর করা।

    ট্রাইব্যুনাল যে রায় ঘোষণা করবেন, তা মেনে নেওয়ার জন্য প্রসিকিউশন প্রস্তুত আছে উল্লেখ করে গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বলেন, মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে যে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে প্রসিকিউশন। যে কারণে প্রসিকিউশন আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রার্থনা করেছে ট্রাইব্যুনালের কাছে। তিনি বলেন, শুধু তাই নয়, আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে এ মামলায় বা ঘটনায় যারা ভিকটিম (ভুক্তোভোগী) আছেন, তাঁদের বরাবর হস্তান্তরের প্রার্থনা আমরা জানিয়েছিলাম। ট্রাইব্যুনাল ন্যায়বিচারের স্বার্থে যে আদেশ দেবেন, সেটা প্রসিকিউশন মেনে নেবে।

    মামলার আদ্যেপান্ত

    গত বছরের ৫ আগস্ট গণÑঅভ্যুত্থানের পর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। এরপর চলতি বছরের ২৫ মে থেকে ৮ অক্টোবরের মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধে যেসব মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে, তাঁর মধ্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলা আটটি। এর মধ্যে পাঁচটি মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেছেন ট্রাইব্যুনাল। বিচারাধীন এসব মামলার মধ্যে শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে মামলাটি ট্রাইব্যুনালের দ্বিতীয় মামলা।

    সারাদেশে লাগাতার রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে গত বছর ৫ আগস্ট পতন ঘটে শেখ হাসিনা সরকারের। এরপর ওই বছরের ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান করে গঠন করা হয় অন্তর্বর্তী সরকার। জুলাই অভ্যুত্থানে পতিত সরকার মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে দাবি করে অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা দেয়, এ অপরাধের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা হবে। ঘোষণা অনুযায়ী পরে ট্রাইব্যুনাল, প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে গত বছর ১৭ অক্টোবর দুই মামলার বিষয়ে প্রথম শুনানি হয়। সেদিন প্রসিকিউশনের আবেদনে ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ এই ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এর আগে, গত বছরের ১৪ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দাখিল করা হয়। তদন্ত শুরু হয় গত বছর ১৪ অক্টোবর। ৬ মাস ২৮ দিনে তদন্ত শেষ করে গত ১২ মে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

    আসামিদের বিরুদ্ধে সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলি, হত্যা, হত্যাচেষ্টা, ব্যাপক মাত্রায় পদ্ধতিগত হত্যা, অপরাধে প্ররোচনা, উসকানি, সহায়তা, সম্পৃক্ততা, ষড়যন্ত্রসহ অন্যান্য অমানবিক আচরণ, সংঘটিত অপরাধ প্রতিহত না করার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়।

    যে পাঁচ অভিযোগের বিচার

    আদালতের নথি থেকে জানা যায়, প্রথম অভিযোগ হচ্ছে, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালীন গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনসহ তৎকালীন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্ররোচনা ও সহায়তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক মাত্রায় ও পদ্ধতিগতভাবে হামলা চালায়।

    শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় অভিযোগ, তিনি আন্দোলনকারীদের দমনে হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেন। আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এ নির্দেশ বাস্তবায়নে তাঁদের অধীনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দেন। তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়েছেÑ ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সামনে আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন নির্দেশ দিয়েছেন।

    চতুর্থ অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পুরান ঢাকার চানখাঁরপুল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে ছয়জন নিহত হন। এ ঘটনাতেও শেখ হাসিনাসহ তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পঞ্চম অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যা; তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের লাশ পুড়িয়ে দেওয়া এবং একই সঙ্গে গুরুতর আহত একজনকে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

    গত ১ জুন প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করলে তা আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্যে পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে আত্মসমর্পণ করতে ১৬ জুন সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরের দিন সেই বিজ্ঞপ্তি দুটি জাতীয় সংবাদপত্রে ছাপা হয়। আত্মসমর্পণ না করায় তাঁদের পলাতক দেখিয়ে গত ১০ জুলাই মামলার অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। তাঁদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী মো. আমির হোসেনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওইদিন আসামি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন এ মামলার রাজসাক্ষী হতে ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন করেন। পরে তাঁর আবেদন মঞ্জুর করা হয়।

    গত ৩ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটরের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিচারকাজ। ২৮ কার্যদিবসে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ৫৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল। দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সাক্ষ্য দেন এ মামলায়। রাজসাক্ষী হিসেবে গত ২ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্য দেন আসামি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। গত ৮ অক্টোবর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে ১২ অক্টোবর থেকে শুরু হয় যুক্তিতর্ক। টানা পাঁচ দিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

    গত ১৬ অক্টোবর প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শেষ হলে ২০ অক্টোবর থেকে আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী টানা তিন দিন শেখ হাসিনা-কামালের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ অক্টোবর পাল্টা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন দুই পক্ষই। তার আগে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান ট্রাইব্যুনালে সমাপনী বক্তব্য দেন।

  • জাবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ব্যানার, প্রশাসন বলছে তদন্ত হবে না

    জাবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ব্যানার, প্রশাসন বলছে তদন্ত হবে না

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পরিবহন চত্বর এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ব্যানার টানানোর ঘটনার সময় আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরা ও ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ ছিল। অভিযোগ উঠেছে, পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনের ভেতরকার কেউ সহযোগিতা করেছে।

    রবিবার (১৬ নভেম্বর)  পরিবহন চত্বরে গভীর রাতে “Stop Genocide” লিখিত ছাত্রলীগের একটি ব্যানার টানানো দেখা যায়।

    এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন, জুলাই হা/মলার ঘটনায় চিহ্নিত ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পাসের আশপাশে অবস্থান করে আবারও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, ট্রান্সপোর্ট এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরা সংস্কারের কারণে অচল থাকায় সেখানে অবাধে নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানার টানানো হয়েছে। এর দায়ও প্রশাসনের ওপরই বর্তায়।

    জাকসুর এজিএস ফেরদৌস ফাহিম বলেন, লাইন মেরামতের নামে ট্রান্সপোর্ট চত্বর এলাকার সিসিটিভি ও ইন্টারনেট সংযোগ গতকাল সকাল থেকেই বন্ধ ছিল। এই তথ্য সিসিটিভি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ কিংবা প্রকৌশল দপ্তরের ইলেকট্রিক বিভাগ থেকে বাইরে গেছে।  লাইন কাট অফ থাকায় ট্রান্সপোর্ট থেকে চৌরঙ্গী, খালেদা জিয়া হল, সালাম বরকত জেনারেটর মোড়, আল বেরুনী সবখানেই সিসিটিভি সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।

    তিনি আরও বলেন, কারা এই তথ্য ফাঁস করেছে, কারা ছাত্রলীগকে সহায়তা করেছে তা খুঁজে বের করতে হবে। আমরা প্রক্টর বারবার এই ঘটনায় জড়িতদের প্রকাশে তদন্ত কমিটি গঠনের আবেদন জানাবো।

    এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈদ্যুতিক ও ইন্টারনেট সংযোগ উদ্দেশ্যে সাময়িক সময়ের জন্য লাইন কাট অফ হয়েছিল।  তবে আমার মনে হয়, ব্যানারটি কোন দলের পক্ষ থেকে নয় ব্যাক্তি কর্তৃক লাগানো হয়েছে। তাই কোন তদন্ত কমিটি গঠনের করা হবে না।

  • গণহত্যার অপরাধে অভিযুক্ত শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে জাবিতে মশাল মিছিল

    গণহত্যার অপরাধে অভিযুক্ত শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে জাবিতে মশাল মিছিল

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহত্যাকারী ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মশাল মিছিল করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি।

    রবিবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে শুরু হয়ে অদম্য-২৪ স্তম্ভের সামনে এসে মিছিলটি সমাপ্ত হয়।

    মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘শেখ হাসিনার গদিতে,  ‘খুনী হাসিনার গদিতে, আগুন জ্বালো একসাথে’ ‘খুনি হাসিনার শাস্তি, দিতে হবে, দিতে হবে’ “We want Justice”, ‘বিচার বিচার বিচার চাই, খুনী হাসিনার বিচার চাই” স্লোগান দিতে থাকে।

    মিছিল শেষে ছাত্রশক্তি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অন্যতম সদস্য জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন, চব্বিশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মমভাবে গণহত্যা চালানো হয়েছিল। সেই গণহত্যার সুস্পষ্টভাবে নির্দেশদাতা ছিল তৎকালীন সরকার, স্বৈরশাসক এবং গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা। যিনি এখন ভারতে কোনো এক গর্তে লুকিয়ে আছেন। অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এই গণহত্যাকারীদের সাথে যারাই জড়িত ছিল তাদের বিচারকার্য পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছিল। যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং গণহত্যাকারী এবং মানবতা বিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত তাদের বিচার নিশ্চিত করে।

    তিনি আরো বলেন, যারা এই গণহত্যার শিকার হয়েছে, নিপীড়িত হয়েছে, সেই গণহত্যার শিকার হওয়া এবং গত পনেরো বছর গুম, খুনের শিকার হওয়া পরিবারদের আবেদনের প্রেক্ষিতে খুনি হাসিনার বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয় এবং যেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আগামীকাল রায় ঘোষণা করা হবে। খুনি হাসিনাকে দেশে এনে তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

  • প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলনে সাউন্ড গ্রেনেডে আহত শিক্ষিকার মৃত্যু

    প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলনে সাউন্ড গ্রেনেডে আহত শিক্ষিকার মৃত্যু

    দদশম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফার আন্দোলনে রাজধানীতে অসুস্থ হয়ে পড়া শিক্ষক ফাতেমা আক্তার মারা গেছেন।

    রোববার রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

    শিক্ষক নেতাদের অভিযোগ, ৮ নভেম্বর রাজধানীতে শিক্ষকদের পদযাত্রায় পুলিশের ছোড়া সাউন্ড গ্রেনেডে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তির পর আজ শিক্ষক ফাতেমা আক্তারের মৃত্যু হয়।

    বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির (শাহিন-লিপি) সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি জানান, ৮ নভেম্বর আন্দোলনস্থলে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের পর তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর কয়েক দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ মারা যান।

    ফাতেমা আক্তার চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ৫ নম্বর ঝিনাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা এবং একই এলাকার বাসিন্দা ডি এম সোলেমানের স্ত্রী।

    বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, ‘তিনি সাউন্ড গ্রেনেডের শব্দে আহত হয়ে রাজধানীর মিরপুরে অলক হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বলে জানতে পেরেছি। আমরা তার বাড়ি যাচ্ছি। সেখানে জেনে বিস্তারিত জানানো যাবে।’

    ফাতেমা আক্তারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন শিক্ষক সংগঠনের নেতারা। খায়রুন নাহার লিপি লেখেন—‘ফাতেমা আপা শহীদ মিনারের আন্দোলনে ছিলেন। সাউন্ড গ্রেনেডের পর থেকে গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। এ মৃত্যুর বিচার চাই। পাশাপাশি রাজনৈতিক বিভাজন না করে কালো ব্যাজ ধারণ করে শোক পালনের আহ্বান জানাই।’

    উল্লেখ্য, দশম গ্রেডে বেতনসহ তিন দাবিতে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা। ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ নামে চারটি শিক্ষক সংগঠনের মোর্চার ব্যানারে ৮ নভেম্বর রাজধানীর শাহবাগে শিক্ষকদের পদযাত্রায় লাঠি, কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান নিয়ে হামলা চালায় পুলিশ। এতে শতাধিক শিক্ষক আহত হন।

  • শাকসু নির্বাচন ১৭ ডিসেম্বর, তফসিল ঘোষণা

    শাকসু নির্বাচন ১৭ ডিসেম্বর, তফসিল ঘোষণা

    সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (শাকসু) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ।

    রোববার (১৬ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৭ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান, ২০ নভেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে, ২২ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত খসড়া ভোটার তালিকায় আপত্তি গ্রহণ, ২৩ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ, ২৪ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিতরণ এবং ২৫ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিতরণ ও জমাদান।

    তিনি আরো জানান, ২৬ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ তারিখ, ২৭ নভেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই, ২৮ নভেম্বর প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ, ৩০ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ, ১ ডিসেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে প্রার্থিতার বিষয়ে আপিল গ্রহণ ও নিষ্পত্তি, ২ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ এবং ১৭ ডিসেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোট গ্রহণ।

  • জাবির আইআর বিভাগের শিক্ষকের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও খাতা অবমূল্যায়নের অভিযোগ

    জাবির আইআর বিভাগের শিক্ষকের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও খাতা অবমূল্যায়নের অভিযোগ

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক (আইআর) বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের প্রতি অন্যায্য আচরণ, রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে অপমান, খাতার অবমূল্যায়ন এবং মানসিক হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী।

    সোমবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে করা একটি লিখিত অভিযোগপত্র দাখিল করেন আইআর বিভাগের শিক্ষার্থী সজিবুর রহমান।

    এসময় তিনি বলেন, বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফজলুল হালিম রানা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যমূলক ব্যবহার করছেন এবং খাতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করে মানসিক হয়রানি এবং রাজনৈতিকভাবে ট্যাগিং করছেন।

    অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত শিক্ষক প্রায়ই টিউটোরিয়াল বা অ্যাসাইনমেন্ট খাতা না দেখে ইচ্ছামতো কম নম্বর দেন। এমনকি এক শিক্ষার্থী প্রথম টিউটোরিয়ালে কম নম্বর পাওয়ার কারণ দেখিয়ে পরবর্তী টিউটোরিয়াল খাতাও না দেখে একই নম্বর দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়।

    শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, একই ধরনের উত্তরে কেউ পূর্ণ নম্বর পেলেও কেউ কম নম্বর পেয়েছেন—যা শিক্ষক মূল্যায়নে পক্ষপাতের ইঙ্গিত দেয়।

    এছাড়া অভিযোগকারী এবং অন্য শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, শিক্ষক অনেক সময় শিক্ষার্থীদের দাড়ি, পোশাক বা মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ডের কারণে ‘শিবির’ বা ‘জঙ্গি’ ট্যাগ দিয়ে অপমান করে থাকেন। বিভাগের ক্লাস প্রতিনিধি (সিআর) ও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীও তার খারাপ ব্যবহার, হুমকি এবং অবমাননাকর মন্তব্যের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন।

    অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত বেশ কয়েকটি ব্যক্তিগত সাক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগকারী শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষক বছরের বেশিরভাগ সময় ক্লাস না নিলেও পরীক্ষা শুরুর কয়েকদিন আগে হঠাৎ হাতে লেখা অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে বলেন, যা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি বাধাগ্রস্ত করে।

    এসময় অভিযোগকারী শিক্ষার্থী সজিবুর রহমানের সাথে অভিযোগ জানাতে আসেন ঐ বিভাগের আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। অভিযোগপত্রে শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। দাবিগুলো হলো–

    (১) সহযোগী অধ্যাপক ফজলুল হালিম রানা যেন চতুর্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন না করেন;

    (২) টিউটোরিয়ালসহ সব খাতা স্বাধীনভাবে পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা ;

    (৩) নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগ সত্য প্রমাণ হলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ;

    (৪) শিক্ষার্থীদের ওপর ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক হেনস্থা প্রতিরোধে স্থায়ী নীতিমালা গ্রহণ এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিষয়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

    অভিযোগপত্র জমাদান শেষে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিনের আচরণে তারা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছেন। এধরনের ঘটনার ফলে পরবর্তীতে তাদের শারীরিক, মানসিক হয়রানি এবং একাডেমিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।

    এসময় অন্যান্যদের মাঝে আরও উপস্থিত ছিলেন জাকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক আবু উবায়দা, কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতিসহ বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠনের কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশনা

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠনের কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশনা

    এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি গঠনের কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

    রোববার (১৬ নভেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, হাইকোর্ট ডিভিশনের রিট পিটিশনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ৮ সেপ্টেম্বরের জারিকৃত ‘ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডসহ অন্যান্য বোর্ডের (নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি) প্রবিধানমালা, ২০২৪ (সংশোধনীসহ) অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি ও নিয়মিত কমিটি গঠন সংক্রান্ত’ পরিপত্রটি তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

    বিদ্যমান পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে যেসব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে সে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডসহ অন্যান্য শিক্ষা বোর্ড (নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি) প্রবিধানমালা, ২০২৪’ এর অনুচ্ছেদ ৬৯ অনুযায়ী উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক বা তার প্রতিনিধি কর্তৃক সভাপতির দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হলো।