Author: প্রিয় ক্যাম্পাস ডেস্ক

  • ১৫ প্রভাষক নিয়োগ দেবে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ

    ১৫ প্রভাষক নিয়োগ দেবে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ

    রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে ‘প্রভাষক’ পদে ১৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। আবেদনপত্র সরাসরি অথবা ডাকযোগের মাধ্যমে পাঠাতে হবে।

    বিভাগের নাম: বাংলা-০১, ইংরেজি-০৪, পদার্থ বিজ্ঞান ০১, রসায়ন-০২, গণিত-০১, ব্যবস্থাপনা-০১, ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বীমা-০৩ পৌরনীতি ও সুশাসন-০২

    পদের নাম: প্রভাষক। পদসংখ্যা: ১৫ জন।
    শিক্ষাগত যোগ্যতা: সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতকসহ স্নাতকোত্তর অথবা চার বছরের স্নাতক ডিগ্রী। শিক্ষাজীবনে কোনো বিভাগে তৃতীয় বিভাগ/শ্রেণি গ্রহণযোগ্য নয় এবং ন্যূনতম দুইটি প্রথম বিভাগ/শ্রেণি থাকতে হবে। অভিজ্ঞতা : প্রযোজ্য নয়। তবে ইংরেজিতে পাঠদানে পারদর্শী প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বেতন : ২২,০০০-৫৩,০৬০ টাকা

    • চাকরির ধরন : ফুল টাইম
      প্রার্থীর ধরন : নারীপুরুষ
      বয়স : নির্ধারিত নয়
      কর্মস্থল : ঢাকা (উত্তরা)

    আবেদনের ঠিকানা : অধ্যক্ষ, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, সেক্টর-৬, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০। আবেদনপত্র সরাসরি অথবা ডাকযোগের মাধ্যমে পাঠাতে পারবেন। আবেদনপত্রে মোবাইল নাম্বার এবং খামের উপরে পদের নাম লিখতে হবে।

    আবেদন ফি : অধ্যক্ষ, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের অনুকূলে অফেরতযোগ্য হিসেবে ১০০০ টাকার ব্যাংক ড্রাফট অথবা পে-অর্ডার করতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে অবশ্যই টাকা জমার রশিদ পাঠাতে হবে।

    আবেদনের শেষ সময় : ১৭ এপ্রিল ২০২৫ তারিখ বিকেল ০৫টা পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। আবেদনপত্র সরাসরি অথবা ডাকযোগের মাধ্যমে পাঠাতে হবে।

  • পরীক্ষায় ভালো করতে শায়খ আহমদুল্লাহ’র যেসব পরামর্শ

    পরীক্ষায় ভালো করতে শায়খ আহমদুল্লাহ’র যেসব পরামর্শ

    পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ দুশ্চিন্তায় থাকেন। বিশেষত যে সব পরীক্ষার ফলাফলের ওপর তাদের ভবিষ্যতের পড়াশোনা ও কাজের গতি প্রকৃতি নির্ভর করে। পরীক্ষায় ভালো করার জন্য পড়াশোনা ও ভালো প্রস্তুতির প্রয়োজন তো রয়েছেই। পাশাপাশি ভাগ্যও ভালো থাকতে হয়। আল্লাহর সাহায্য থাকতে হয়। অনেক সময় ভালো প্রস্তুতি থাকার পরও অতি দুশ্চিন্তার কারণে, নার্ভাস হয়ে পড়ার কারণে পরীক্ষা খারাপ হয়ে যায়। তাই আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা থাকা খুব জরুরী।

    সুপরিচিত আলেম ও আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ভ্যারিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে পরীক্ষায় ভালো করার জন্য পরীক্ষার্থীদের কিছু পরামর্শ দিয়েছেন-

    • ভালোভাবে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিন। পড়াশোনায় ফাঁকি দিয়ে শুধু দোয়ার মাধ্যমে পরীক্ষায় ভালো করার চিন্তা করবেন না।
    • বেশি রাত জেগে পড়বেন না। রাতে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ুন। ভোর থেকে পড়া শুরু করুন।
    • আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। পরীক্ষায় যাওয়ার আগে দুই রাকাত নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করুন।
    • বেশি বেশি এই দোয়া পড়ুন: اللهم حاسبني حسابا يسيرا উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা হাসিবনী হিসাবান য়াসীরা) অর্থ: হে আল্লাহ আমার হিসাব-নিকাশ বা পরীক্ষা সহজ করুন।
    • আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন, তাওয়াক্কুল করুন এবং নির্ভার থাকুন। ভালো মন্দের ফয়সালা আল্লাহর ওপর ন্যস্ত করে অধিক দুশ্চিন্তা ত্যাগ করুন।

    শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, অনেকেই পড়াশোনা না করে, ফাঁকি দিয়ে সময় নষ্ট করে পরীক্ষার আগে দোয়া ও আমল খুঁজে বেড়ান যেন শর্টকাট কোনো পদ্ধতিতে পরীক্ষার বৈতরণী পার হতে পারেন। এটা ইসলামের শিক্ষা নয়। পরীক্ষাসহ যে কোনো ক্ষেত্রে সফলতা পেতে নিজের দিক থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পর আল্লাহ তাআলার সাহায্য চাইতে হয়, তার ওপর ভরসা বা তাওয়াক্কুল করতে হয়। নিজে যথাযথভাবে চেষ্টা না করে শুধু দোয়ার মাধ্যমে সফলতা পাওয়ার চেষ্টা করার শিক্ষা ইসলাম দেয় না।

  • পরীক্ষার কক্ষ খুঁজে দেবে ‘এক্সাম হল ফাইন্ডার’ অ্যাপ

    পরীক্ষার কক্ষ খুঁজে দেবে ‘এক্সাম হল ফাইন্ডার’ অ্যাপ

    দেশের কৃষি-সংশ্লিষ্ট ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা হতে যাচ্ছে ১২ এপ্রিল। প্রতিবছরই পরীক্ষার দিন শিক্ষার্থীদের অচেনা ক্যাম্পাসে এসে নির্ধারিত কক্ষ খুঁজে পেতে ভোগান্তি পোহাতে হয়। থাকে মানসিক চাপ। সেই জটিলতা কাটাতে প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান নিয়ে এসেছেন ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থীরা।

    বাকৃবির বায়োইনফরমেটিকস বিভাগের তিন শিক্ষার্থী ‘এক্সাম হল ফাইন্ডার’ নামের একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বা অ্যাপ তৈরি করেছেন। এতে পরীক্ষার্থীরা তাঁদের রোল নম্বর ও কক্ষ নম্বর ইনপুট দিলেই ম্যাপের মাধ্যমে কক্ষের সঠিক অবস্থান ও সেখানে যাওয়ার দিকনির্দেশনা পেয়ে যাবেন।

    অ্যাপটি তৈরি করেছেন অনিক হাওলাদার, মুহাম্মদ ইশমামুল হক ও মো. আসিফুজ্জামান। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেল, কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ম্যাথমেটিকস বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অ্যাপটি প্রথম তৈরি হয় গত বছর। তবে চলতি বছরের ভর্তি-ইচ্ছুক পরীক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাপটি সম্প্রতি হালনাগাদ করা হয়েছে।

    অনিক বলেন, ‘আমরা এই অ্যাপ তৈরি করে আগেও ভালো সাড়া পেয়েছিলাম। এবার নতুন কেন্দ্রগুলোর তথ্য যোগ এবং ইউজার ইন্টারফেস আরও সহজ করে অ্যাপটি আপডেট করেছি, যাতে পরীক্ষার্থীরা উপকৃত হন। এখন পর্যন্ত অ্যাপটি শুধু বাকৃবি কেন্দ্রে কার্যকর। তবে ভবিষ্যতে কৃষি গুচ্ছভুক্ত সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এটি কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

    অ্যাপটিতে প্রবেশ করা যাবে ওয়েবলিংক কিংবা কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে। এটি ব্যবহার করে পরীক্ষার্থীদের যেমন সময় সাশ্রয় হবে, তেমনি পরীক্ষার দিন কক্ষ খুঁজে না পাওয়ার ভোগান্তি থেকে রেহাই মিলবে।

    কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা কমিটির বাকৃবি কেন্দ্রের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্ভাবনী দক্ষতা দিয়ে যেভাবে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সমস্যার সমাধান দিচ্ছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এ ধরনের উদ্যোগ ভর্তি-ইচ্ছুকদের মানসিক চাপ অনেকটাই কমিয়ে দেবে।’

  • এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে অভিযোগ-পরামর্শ দেওয়া যাবে কন্ট্রোল রুমে

    এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে অভিযোগ-পরামর্শ দেওয়া যাবে কন্ট্রোল রুমে

    ২০২৫ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। পরীক্ষা সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য, অভিযোগ ও পরামর্শ এ কন্ট্রোল রুমে ফোন করে দিতে পারবেন যে কেউ।

    বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) থেকে এ কন্ট্রোল রুম খোলার পর কাজ শুরু হয়। বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির প্রধান ও ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। কন্ট্রোল রুমের নিম্নলিখিত ফোন নম্বর, মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল সর্বসাধারণের অবগতির জন্য বিভিন্ন সময়ের খবরে প্রচার এবং স্কুলে প্রদর্শনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।

    পরীক্ষা সংক্রান্ত সব তথ্য জানার জন্য যোগাযোগ করুন ফোন নম্বর- ০২-২২৩৩৬৯৮১৫, মোবাইল নম্বর- ০১৫৫০৪১১২০৩, ০১৭১৪৯৯৪০৭৩, ০১৭৫৬১০৩১৫২ ও ই-মেইল- controller@dhakaeducationboard.gov.bd

    এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী রয়েছে ১৪ লাখ ৯০ হাজার ১৪২ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৭ লাখ ১ হাজার ৫৩৮ জন এবং ছাত্রী ৭ লাখ ৮৮ হাজার ৬০৪ জন। পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা ২ হাজার ২৯১টি, প্রতিষ্ঠানসংখ্যা ১৮ হাজার ৮৪টি।

    মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী রয়েছে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৭২৬ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৫০ হাজার ৮৯৩ জন এবং ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৩৩ জন ছাত্রী। এই বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা ৭২৫টি এবং প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯ হাজার ৬৩টি। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী রয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩১৩ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৮ হাজার ৩৮৫ এবং ৩৪ হাজার ৯২৮ জন ছাত্রী।

  • পরীক্ষার্থী সামিরা বলছে, খাতায় লিখছে মারুফা

    পরীক্ষার্থী সামিরা বলছে, খাতায় লিখছে মারুফা

    পড়তে সক্ষম হলেও নিজের হাতে লেখার শক্তি নেই সামিরা আক্তার শ্যামলীর। দুই মাস আগে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে হাতের শক্তি হারিয়েছে সে। হাতের শক্তি হারালেও মনোবল ভাঙেনি তার। অন্যের সাহায্যে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে সে। একটি কক্ষে সে প্রশ্নের জবাব বলছে, আর পাশে বসা একই মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী মারুফা খাতায় লিখে দিচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) সকাল ১০টায় শুরু হওয়া দাখিল পরীক্ষায় গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ভাংনাহাটি কামিল মাদরাসা কেন্দ্রে একটি কক্ষে বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষায় অংশ নেয় সামিরা আক্তার।

    সামিরা আক্তার শ্যামলী উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়নের পটকা গ্রামের মো. সেলিম মিয়ার মেয়ে। তার মায়ের নাম নাসিমা আক্তার। স্থানীয় পটকা আলিম মাদরাসা থেকে সে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ভাংনাহাটি কামিল মাদরাসা পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে সামিরা আক্তার শ্যামলীকে বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা দিতে দেখা গেছে। এ সময় একজন শিক্ষিকা পরীক্ষা পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।

    পটকা আলিম মাদরাসার সুপার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, দুই মাস আগে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হলে হাত অচল হয়ে পড়ে শ্যামলীর। যে কারণে সে কথা বলতে পারলেও হাতে লিখতে পারে না। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা নেওয়ার অনুমতি নেওয়া হয়। সামিরা পড়াশোনায় ভালো। অন্যের সাহায্যে পরীক্ষা দিয়েও ভালো ফলাফল করবে বলে আশা করি।

    ভাংনাহাটি কামিল মাদরাসা দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব মারুফ আহমেদ মমতাজী বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় অসুস্থ সামিরা আক্তারকে একটি কক্ষে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা একটি কক্ষে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

    শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আমাকে জানানোর পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। তার হাতে লেখার সক্ষমতা নেই।’

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজীব আহমেদ বলেন, প্যারালাইসিস হওয়ার কারণে হাতে লেখার সক্ষমতা হারায় দাখিল পরীক্ষার্থী সামিরা আক্তার। এমন একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চিকিৎসকদের মতামত নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

  • শিক্ষার আলোয় হরিজন সম্প্রদায়ের ছেলে-মেয়েরা

    শিক্ষার আলোয় হরিজন সম্প্রদায়ের ছেলে-মেয়েরা

    আজ থেকে ২০-২৫ বছর আগেও হরিজন সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়েদের স্কুল কলেজে যাওয়ার কথা কেউ চিন্তাও করতে পারত না। দারিদ্রতা, অশিক্ষা, পৃষ্টপোষকতার অভাব ইত্যাদি কারণে হরিজন সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়ায় আগ্রহী ছিল না। আগ্রহ ছিল না তাদের অভিভাবকদেরও। নিজ সম্প্রদায়ের বাইরে এসে সমাজের অন্য দশ জনের সঙ্গে মিলেমিশে পড়াশোনা করাটাও তাদের অনুকূলে ছিল না।

    তবে দিন বদলেছে। সময়ের সঙ্গে দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে সমাজের, সমাজের মানুষদের। তেমনি চিন্তা চেতনায় পরিবর্তনের ঢেউ লেগেছে হরিজন সমাজেও। দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ বৈষম্যের মধ্যেও শিক্ষার আলোয় একটি নতুন দিগন্তের দিকে এগিয়ে চলেছে হরিজন ও বাঁশফোর সম্প্রদায়ের কিশোর-কিশোরীরা।

    ময়মনসিংহের নতুনবাজার রেলক্রসিং সংলগ্ন হরিজনপল্লী এলাকায় হরিজন ও বাঁশফোর সম্প্রদায়ের বসবাস। হেলা পঞ্চায়েত প্রধান বিজয় হরিজনের দেওয়া তথ্যমতে, এই এলাকায় হরিজন ও বাঁশফোর মিলে প্রায় ৪০০ পরিবারের বাস এবং জনসংখ্যা প্রায় দুই হাজার জন। এ কমিউনিটির বেশিরভাগ মানুষ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করে থাকেন।

    অল্প সংখ্যক মানুষ অন্য পেশায় জড়িত হলেও তা সংখ্যায় খুবই সীমিত। এদের অনেকেই নিজেদের পরিচয় দিতে দ্বিধান্বিত হন। দেশ কিংবা রাষ্ট্র উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে গেলেও তাদের জীবনযাত্রার মানে খুব বেশি পরিবর্তন আসেনি। এ সম্প্রদায়ের অনেকেই মনে করে থাকেন, পড়াশোনা করে তাদের জীবন-মানে খুব বেশি পরিবর্তন আসবে না। তাদের বংশধরদেরও পেশা হিসেবে ‘পরিচ্ছন্নতাকর্মীকেই বেছে নিতে হবে। তবে হরিজন ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় মূলত এগিয়ে এসেছে বেসরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

    বেসরকারি সংস্থার তত্ত্বাবধানেই ২০-২৫ বছর আগে হরিজন পল্লীতে হরিজন শিশুদের নিয়ে চলত প্রাথমিক পর্বের পাঠদান। কিন্তু মাধ্যমিকে বা কলেজে হরিজন শিশুদের যাতায়াত তখন ছিল না বললেই চলে। তবে এ সম্প্রদায়ের উন্নয়নে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কাজ করেছে এবং এখনো করছে। প্রতিবন্ধী কমিউনিটি সেন্টার (পিসিসি)-এর প্রকল্প প্রমোটিং এডুকেশন এন্ড রাইটস অব মাইনরিটিস (পার্ম) অন্যান্য পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি হরিজন সম্প্রদায়ের শিক্ষা ও অধিকার উত্তরণে ২০১৭ সাল থেকে অদ্যাবধি কাজ করে যাচ্ছে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে শান্তি মিত্র সমাজকল্যাণ সংস্থা।

    প্রকল্পটি শুরু থেকেই হরিজন সম্প্রদায় এবং অন্যান্য পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ৮০ শিক্ষার্থীকে তাদের শিক্ষার সুবিধায় মাসিক শিক্ষাবৃত্তি, ভর্তি ও অন্যান্য ফি ও শিক্ষা উপকরণ দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া কিশোর-কিশোরীদের জন্য ক্লাব গঠন, মানবাধিকার, নৈতিক মূল্যবোধ, জীবন দক্ষতা এবং বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত কর্মশালা করে থাকে। এতে এ কমিউনিটিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পুরনো ধ্যান-ধারণা ভেঙে হরিজন সম্প্রদায়ের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পেয়েছে। পারস্পারিক যোগাযোগ দক্ষতা ও নেতৃত্ব দক্ষতা বেড়েছে। বাল্যবিবাহ বিষয়ে অভিভাবক ও কমিউনিটি জনগণের সচেতনতা বেড়েছে।

    বর্তমানে নতুন বাজার হরিজন কমিউনিটিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা ২২০ জন, উচ্চবিদ্যালয়ে ৫৭ জন এবং কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৭ জন পড়াশোনা করছে। যা নতুন আশার সঞ্চার করে। এ কমিউনিটির শিশু-কিশোর-যুবরাও এখন স্বপ্ন দেখে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, পুলিশ-আর্মি অফিসার ও শিক্ষক হওয়ার।

    হরিজন পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি বিনোদ হরিজন বলেন, হরিজন পল্লীতে শিক্ষার হার খুব কম ছিল। হরিজন কমিউনিটির অনেক ছেলে-মেয়ে এখন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। স্বপ্ন দেখছে, ভবিষ্যতে ভালো অবস্থানে যাওয়ার।

    হরিজন যুব সঙ্গের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিব হরিজন বলেন, হরিজন পল্লীর ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে নিজ কমিউনিটির বাইরে স্কুলগুলোতে ভর্তির আগ্রহ কম ছিল। বর্তমানে শিক্ষার বিষয়ে সচেতনতার ফলে তারা নিজ কমিউনিটির বাইরেও অনান্য বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে।

    শান্তি মিত্র সমাজকল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সুবর্ণা পলি দ্রং বলেন, একটি ন্যায্য ও বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন আমরা সবাই দেখি। আমাদের কাজের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি, নতুন বাজার হরিজন কমিউনিটির মানুষের মধ্যে শিক্ষার গুরুত্ব বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ছেলে শিশুর পাশাপাশি মেয়ে শিশুদের শিক্ষা ও অধিকার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাল্য বিবাহ হ্রাস পেয়েছে।

    জেলা শিক্ষা অফিসার মোহসীনা খাতুন বলেন, হরিজন শিশুরা আজ পড়াশোনায় এগিয়ে আসছে। এঠি ইতিবাচক দিক।

  • কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা ১২ এপ্রিল

    কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা ১২ এপ্রিল

    কৃষি গুচ্ছভুক্ত ৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ এপ্রিল। এ উপলক্ষ্যে সব কেন্দ্র ও উপকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এ বছর গুচ্ছ পদ্ধতির নেতৃত্বে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)।

    বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) রেজিস্ট্রার অফিসের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির সদস্য সচিব ও বাকৃবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. মো. হেলাল উদ্দীন।

    তিনি বলেন, এ বছর গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে ৯টি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র ও ১৩টি উপকেন্দ্রে। পরীক্ষার্থীদের কমপক্ষে এক ঘণ্টা আগে কেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকায় একই দিনে ‌‌‌‘মার্চ টু গাজা’ কর্মসূচির কারণে সড়কে যানজটের সম্ভাবনা থাকায় সময় নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কেন্দ্র পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না।

    সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বাকৃবি ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, এ বছর গুচ্ছ পদ্ধতিতে ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বমোট আসন সংখ্যা ৩ হাজার ৮৬৩ এবং সর্বমোট ৯৪ হাজার ২০ জন ছাত্র-ছাত্রী আবেদন করেছে। আবেদনকারীদের মধ্যে ৪৬ হাজার ৯৩২ জন ছাত্র এবং ৪৭ হাজার ৮৮ জন ছাত্রী রয়েছে। প্রতিটি আসনের জন্য প্রতিযোগিতা করছে ২৫ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী। আগামী ১২ এপ্রিল ৯টি কেন্দ্রে ও ১৩টি উপকেন্দ্রে বিকাল ৩টা থেকে ৪টা একযোগে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও সম্ভাব্য আগামী ১৫ এপ্রিল ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কৃষি গুচ্ছ কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির সদস্য সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. হেলাল উদ্দীন, বাকৃবি ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম, জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ তৌফিকুল ইসলাম ও শিক্ষা বিষয়ক শাখার এডিশনাল রেজিস্ট্রার মো. সারওয়ার জাহান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা।

    বাকৃবি কেন্দ্রে নিরাপত্তার বিষয়ে বাকৃবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা জোরদারের জন্য ভর্তি পরীক্ষার দিন বেলা ১২টার মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন করা হবে। এছাড়াও পরীক্ষার আগের দিন রাত থেকে সকল স্থানে বিশেষ করে নদের পাড় এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। সন্ধ্যা ৭টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নদে কোনো নৌকা চলাচল করতে দেওয়া হবে না।

    প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষায় অসাধু উপায় অবলম্বনের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁস যাতে কোনোভাবেই না হয় সে বিষয়ে সর্বদা নজর রাখা হচ্ছে। প্রশ্নপত্র প্রতিটি কেন্দ্র ও উপকেন্দ্রে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে জিপিএস ট্র্যাকিং ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যাতে কতদূর, কেথায় প্রশ্নপত্র যাচ্ছে তা পর্যবেক্ষণ করা যায়। এছাড়াও সর্বদা বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার কক্ষে প্রবেশের আগে তাদেরকে পুরোপুরিভাবে তল্লাশী করা হবে যাতে কোনো ডিভাইস বা পরীক্ষায় অসাধু উপায় অবলম্বনের কোনো উপকরণ তাদের কাছে না থাকে।

    উল্লেখ্য, কৃষি গুচ্ছের আওতাভুক্ত ৯টি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র হচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা,পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, হবিগঞ্জ এবং কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কুড়িগ্রাম।

  • ৫২ বছর বয়সে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন নাটোরের দুলু

    ৫২ বছর বয়সে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন নাটোরের দুলু

    নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ৫২ বছর বয়সে এবারের চলতি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন দুলু। তিনি প্রাথমিক ও জুনিয়র বৃত্তি লাভের পর ১৯৯০ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় বসেছিলেন। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের শিকার হয়ে সেবার বহিষ্কারর হন। এরপর বন্ধ হয়ে যায় তার পড়ালেখা।

    অনাকাঙ্ক্ষিত সেই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ইউপি সদস্য দুলু। এরপর স্থানীয় নির্বাচনে জয়ী হওয়ায় আবারও পড়ালেখা করার মনোবল ফিরে পান। অবশেষে চলতি এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন তিনি।

    দুলু জানান, তার পরিবারের সবাই শিক্ষিত। শুধু তিনিই কম শিক্ষিত হওয়ায় প্রতিনিয়তই মনকষ্টে ভুগছিলেন। ২০২১ সালে বাগাতিপাড়া উপজেলার জামনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৩ নম্বর করমদোশী ওয়ার্ডের মেম্বার নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি নতুন করে লেখাপড়া করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর তিনি পার্শ্ববর্তী রাজশাহী জেলার চারঘাট উপজেলার উমরগাড়ী দারুল খায়ের দ্বি-মুখি দাখিল মাদরাসায় নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন। এবার তিনি এসএসসি দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।

    তিনি আরো জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি ভালো ছাত্র ছিলেন। ১৯৮৫ সালে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে প্রাথমিক বৃত্তি এবং ১৯৮৮ সালে জামনগর দ্বি-মুখি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণিতে জুনিয়র বৃত্তি লাভ করেন। ১৯৯০ সালে বাগাতিপাড়া কেন্দ্রে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহরাব হোসেন তাকে বহিষ্কার করেন। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তার স্বপ্ন ভেঙে গেলেও নতুন করে স্বপ্ন দেখে তার বাস্তবে রূপ দিতেই অংশ নিয়েছেন এবারের পরীক্ষায়। দুলু তার জন্য সকলের কাছে দেয়াও চেয়েছেন।

    জামনগর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম রাব্বানী দুলুর পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এই বয়সে চক্ষু লজ্জা উপেক্ষা করে দুলু যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে সেজন্য তাকে সাধুবাদ জানাই। আসলে পড়ালেখার কোনো বয়স নাই তারই উৎকৃষ্ট উদাহরণ দুলু।

  • বিসিএস পরীক্ষার নম্বর ওয়েবসাইটে প্রকাশসহ ৬ দাবি

    বিসিএস পরীক্ষার নম্বর ওয়েবসাইটে প্রকাশসহ ৬ দাবি

    বিসিএস পরীক্ষার প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভার নম্বর ওয়েবসাইটে প্রকাশসহ ৬ দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

    বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) পিএসসি কার্যালয়ে ‘জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী পিএসসির কার্যক্রমের গতিশীলতা ও বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ’ প্রসঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এক স্মারকলিপি পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেমের কাছে দেওয়া হয়।

    এনসিপির প্রতিনিধিদলে ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, যুগ্ম সদস্যসচিব মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া ও ফয়সাল মাহমুদ শান্ত।

    এনসিপির দাবিগুলো হলো- প্রিলিমিনারি পরীক্ষার নম্বরসহ ফলাফল, কাট মার্কস ও সঠিক উত্তর পিএসসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা; লিখিত পরীক্ষার ফলাফল নম্বরসহ ওয়েবসাইটে ভাইভার আগেই প্রকাশ করা; লিখিত ফলাফল ঘোষণার পর ভাইভার আগে ক্যাডার চয়েস রদবদল করার অপশন দেওয়া; ১০০ নম্বরের ভাইভা ৪৫তম বিসিএস থেকেই কার্যকর করা এবং স্বচ্ছতা রক্ষার স্বার্থে চূড়ান্ত ফলাফলের সঙ্গে ভাইভার নম্বরও প্রকাশ করা; ভাইভাতে উত্তীর্ণদের থেকে নন-ক্যাডারে সর্বোচ্চ নিয়োগ দেওয়া; ১ বছরের মধ্যে একটি বিসিএসের সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা এবং সার্কুলারে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ করা।

    চলমান বিসিএস পরীক্ষার জট নিরসন নিয়ে তোলা দাবির মধ্যে রয়েছে- জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে ৪৪তম বিসিএসের সব ভাইভা সম্পন্ন করে ৩০ জুনের মধ্যে ৪৪তমের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা। ৪৫তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল জুনের ৩০ তারিখের মধ্যে ঘোষণা করা এবং ২০২৫ সালের মধ্যেই ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল সম্পন্ন করা। জুনের শেষ সপ্তাহ অথবা জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে ৪৬তম বিসিএসের লিখিত শুরু করা। এই সময়কালের মধ্যে সম্ভব না হলে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ অথবা আগস্টের প্রথম সপ্তাহে লিখিত পরীক্ষা শুরু করা। শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি গ্রহণ ও মানসিক স্বাস্থ্য বিবেচনায় বিসিএস লিখিত ও ভাইভার মধ্যে ন্যূনতম গ্যাপ থাকতে হবে। ৪৬তম লিখিত পরীক্ষা সম্পন্নের পর এক মাসের মধ্যে ৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নেওয়া।

  • রেকর্ড গড়া জয় দিয়ে যাত্রা শুরু বাংলাদেশের

    রেকর্ড গড়া জয় দিয়ে যাত্রা শুরু বাংলাদেশের

    নারীদের ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে রেকর্ড গড়া জয় দিয়ে শুরু বাংলাদেশের। বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) পাকিস্তানের লাহোরে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ২৭১ রানের রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল।

    টার্গেট তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশি বোলারদের তোপের মুখে পড়ে ২৮ ওভার ৫ বলে ৯৩ রানেই অলআউট হয় থাইল্যান্ড নারী ক্রিকেট দল। ১৭৮ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পায় বাংলাদেশ।

    এর আগে আইরিশ নারীদের বিপক্ষে ১৫৪ রানের ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড ছিল বাংলাদেশের।

    আজ লাহোরের সিটি ক্রিকেট গ্রাউন্ড স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। শুরুটা ভালো হয়নি। ইশমা তানজিম বিদায় নেন দুই অঙ্কে পা রাখার আগেই।

    তবে ফারজানা হকের সঙ্গে শারমিনের ১০৪ রানের জুটি সে ধাক্কাটা সামাল দেয় বাংলাদেশ। ৮২ বলে ৫৩ রান করে ফেরেন ফারজানা।

    বাংলাদেশ এরপর আর হোঁচট খায়নি। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১৩৮ বলে ১৫২ রান যোগ করেন নিগার সুলতানা ও শারমিন। তাতেই সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ।

    ইনিংসের শেষ বলে আউট হন নিগার সুলতানা, তার ঠিক আগে ৮০ বলে ১৫টি চার আর এক ছক্কার সাহায্যে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ৭৯ বলে সেঞ্চুরি করে প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন।

    নিগার সুলতানা জ্যোতির সেঞ্চুরির দিনে ১২৬ বলে ১১টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৯৪ রানে অপরাজিত ছিলেন শারমিন আক্তার।

    এর আগে বাংলাদেশের দলীয় সবচেয়ে বড় স্কোর ছিল ২৫২ রানের। ২০২৪ সালের নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সেই রেকর্ড গড়েছিল বাংলাদেশ।

    আজ টার্গেট তাড়া করতে নেমে ২৮ ওভার বলে ৫ দলীয় ৯৩ রানে অলআউট হয় থাইল্যান্ডের নারী ক্রিকেটাররা। পাঁচটি করে উইকেট শিকার করেছেন ফাহিমা খাতুন ও জান্নাতুলি ফেরদৌস।