Author: প্রিয় ক্যাম্পাস ডেস্ক

  • কাঁদো মুসলিম জাহান | সিবগাতুর রহমান

    কাঁদো মুসলিম জাহান | সিবগাতুর রহমান

    কাঁদো মুসলিম জাহান

    কাঁদো, মুসলিম জাহান কাঁদো।
    ব্যথাতুর ওই হৃদয়টা উজাড় করে
    আজ তোমার ভাইয়ের জন্য কাঁদো।
    যে শিশুটি আজই জন্ম নিয়েছিল
    একটি বারও যার দেখা হয়নি
    দীর্ঘ নয়মাস আপন জঠরে নিরাপদে
    আগলে রাখা দুঃখিনী মায়ের মুখ,
    সেই অবুঝ শিশুটির জন্য কাঁদো।
    কাঁদো, মুসলিম জাহান কাঁদো।

    কাঁদো, মুসলিম জাহান কাঁদো।
    প্রত্যেক মুসলমান তো ভাই-ভাই;
    যার জন্য বিলাপ করে বুক ভাসাবে
    নির্মম-নিষ্ঠুরতায় ঠাসা এ দুনিয়ায়;
    এমন আপনজন আর কেউ নেই।
    মমতায় দু’ফোটা জল ফেলার মতো
    আপন কোনো চোখ আর বাকি নেই।
    তোমার সেই ভাইয়ের জন্য কাঁদো।
    কাঁদো, মুসলিম জাহান কাঁদো।

    কাঁদো, মুসলিম জাহান কাঁদো।
    মা-বোনের ক্ষুধা নিবারণে রিলিফের
    গাড়ির আশায় পথ চেয়ে বসে থাকা
    নিষ্পাপ শিশুটির রক্তাক্ত ছিন্নভিন্ন
    নিথর দেহের টুকরো দেখে কাঁদো।
    মানব ধর্মের তীর্থভূমি মৃত্যু নগরীতে
    পরিণত হওয়া অচেনা অচিন্তনীয়
    ধ্বংসস্তূপের অবয়ব দেখে কাঁদো।
    কাঁদো, মুসলিম জাহান কাঁদো।

    কাঁদো, মুসলিম জাহান কাঁদো।
    সাত আসমান আর সাত জমিন
    বিদীর্ণ করা চিৎকার দিয়ে কাঁদো।
    তোমার এই চিৎকারে কেঁপে উঠুক
    সর্বশক্তিমান খোদার আরশ।
    কাঁদো, মুসলিম জাহান কাঁদো।

  • বৈশাখ নিয়ে বিপুল চন্দ্র রায়ের দুই কবিতা

    বৈশাখ নিয়ে বিপুল চন্দ্র রায়ের দুই কবিতা

    হে বৈশাখ

    • হে বৈশাখ তুমি
      অনন্ত প্রকৃতির অবিশ্রান্ত প্রকাশ।
      হে বৈশাখ তোমার অভিষেকে
      তৃষ্ণাকাতর হাজার বুক;
      মেটাও তৃষ্ণা লাগুক পানির সুখ।
      উঠুক ঝড় বুকের মধ্যে
      ঝরুক কালবৈশাখী ঝড়।
    • হে মহাকাল!
      কাল বৈশাখের তাণ্ডবে কাঁপে
      অত্যাচারীর দল।
      আমি সেই বৈশাখ
      নবরূপে নতুন সাজে বৈশাখ।

    নব দীপ্ত সন

    • যতই আসুক নব দীপ্ত সন,
      পুরোনোকে বিদায় দিতে চায় না মন।
      পুরোনা বছর সব স্মৃতি আজ
      হৃদয় ফ্রেমে তুলে রাখা ছবি।
      নতুন ভোরে নতুন আলোয়,
      নতুন রবির আবির্ভাব তিথি।
      নতুন আলোয় আলোকিত,
      জীবনের নব অধ্যায় আজি।
  • ৪৬ শিক্ষক নিয়োগ দেবে বুয়েট, আবেদন ফি ৬০০

    ৪৬ শিক্ষক নিয়োগ দেবে বুয়েট, আবেদন ফি ৬০০

    বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) বিভিন্ন বিভাগে স্থায়ী এবং অস্থায়ী ভিত্তিতে ৪৬ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ২০ এপ্রিল পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

    পদের বিবরণ-

    • চাকরির ধরন : স্থায়ী/অস্থায়ী
      প্রার্থীর ধরন : নারী-পুরুষ
      কর্মস্থল : ঢাকা

    আবেদনের ঠিকানা : রেজিস্ট্রার, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা-১২০৫।

    আবেদনের নিয়ম : আগ্রহীরা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এর মাধ্যমে আবেদনের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তরিত জানতে পারবেন।

    আবেদন ফি : সোনালী ব্যাংক বুয়েট শাখায় ৬০০ টাকার ব্যাংক ড্রাফট/পে-অর্ডার করতে হবে। টাকা জমার রশিদ অবশ্যই আবেদনপত্রের সঙ্গে পাঠাতে হবে।

    আবেদনের শেষ সময় : ২০ এপ্রিল ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

  • ডুয়েটে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদে চাকরির সুযোগ

    ডুয়েটে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদে চাকরির সুযোগ

    গাজীপুরে অবস্থিত ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় জনবল নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। এতে শিক্ষক–কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগ করা হবে। আবেদনের শেষ তারিখ আগামী ২৪ এপ্রিল। চাইলে আপনিও আবেদন করতে পারেন।

    ১. কম্পট্রোলার। পদসংখ্যা: ১। বেতন স্কেল: ৫৬,৫০০-৭৪,৪০০/- (গ্রেড-৩)

    ২. সহযোগী অধ্যাপক। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। পদসংখ্যা: ১। বেতন স্কেল: ৫০,০০০-৭১,২০০/- (গ্রেড-৪)

    ৩. সহযোগী অধ্যাপক, রসায়ন বিভাগ। পদসংখ্যা: ১। বেতন স্কেল: ৫০,০০০-৭১,২০০/- (গ্রেড-৪)

    ৪. সহযোগী অধ্যাপক, মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগ। পদসংখ্যা: ১। বেতন স্কেল: ৫০,০০০-৭১,২০০/- (গ্রেড-৪)

    ৫. প্রভাষক। ক) পুরকৌশল বিভাগ: ২টি। খ) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগ: ২টি। গ) যন্ত্রকৌশল বিভাগ: ২টি। ঘ) টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ: ২টি। ঙ) ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ: ২টি। চ) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ: ৩টি। ছ) ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড ম্যাটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ: ৩টি। প্রভাষক পদের বেতন স্কেল: ২২,০০০-৫৩,০৬০/- (গ্রেড-৯)

    ৬. ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি। পদসংখ্যা: ১টি। বেতন স্কেল: ৪৩,০০০-৬৯,৮৫০/- (গ্রেড-৫)

    ৭. ইনস্ট্রুমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার, প্রকৌশল অফিস। পদসংখ্যা: ১। বেতন স্কেল: ২৯,০০০-৬৩,৪১০ /- (গ্রেড-৭)

    ৮. পাবলিকেশন কাম ইনফরমেশন অফিসার, পরিচালক (গবেষণা ও সম্প্রসারণ) অফিস। পদসংখ্যা: ১। বেতন স্কেল: ২২,০০০-৫৩,০৬০/- (গ্রেড-৯)

    ৯. ড্রাফটিং ইনস্ট্রাক্টর, আর্কিটেকচার বিভাগ। পদসংখ্যা: ১। বেতন স্কেল: ২২,০০০-৫৩,০৬০/- (গ্রেড-৯)

    ১০. ডকুমেন্টশন অফিসার, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি। পদসংখ্যা: ১। বেতন স্কেল: ২২,০০০-৫৩,০৬০/- (গ্রেড-৯)

    ১১. সেকশন অফিসার। ক) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ: ১টি পদে। খ) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ: ১টি পদে। গ) ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল: ১টি পদে।ঘ) রেজিস্ট্রার অফিস (কাউন্সিল শাখা-১, শিক্ষা শাখা-১): ২টি পদে। বেতন স্কেল: ২২,০০০-৫৩,০৬০/- (গ্রেড-৯)

    ১২. সিনিয়র ট্রান্সপোর্ট অফিসার, পরিচালক (যানবাহন) অফিস। পদসংখ্যা: ১। বেতন স্কেল: ২২,০০০-৫৩,০৬০/- (গ্রেড-১)

    ১৩. টেকনিক্যাল অফিসার, পুরকৌশল বিভাগ। পদসংখ্যা: ১। বেতন স্কেল: ২২,০০০-৫৩,০৬০/- (গ্রেড-৯)।

    ১৪. প্রকিউরমেন্ট অফিসার, পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অফিস। পদসংখ্যা: ১। বেতন স্কেল: ২২,০০০-৫৩,০৬০/- (গ্রেড-৯)

    ১৫. পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কর্মকর্তা, পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অফিস। পদসংখ্যা: ১। বেতন স্কেল: ২২,০০০-৫৩,০৬০/- (গ্রেড-৯)

    ১৬. সহকারী টেকনিক্যাল অফিসার, যন্ত্রকৌশল বিভাগ। পদসংখ্যা: ২। বেতন স্কেল: ১৬,০০০-৩৮,৬৪০/- (গ্রেড-১০)

    ১৭. ড্রাফটস্ম্যান, যন্ত্রকৌশল বিভাগ। পদসংখ্যা: ১। বেতন স্কেল: ১৬,০০০-৩৮,৬৪০/- (গ্রেড-১০)

    ১৮. উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), প্রকৌশল অফিস। পদসংখ্যা: ১। বেতন স্কেল: ১৬,০০০-৩৮,৬৪০/- (গ্রেড-১০)

    ১৯. সিনিয়র অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট কাম কম্পিউটার অপারেটর, রেজিস্ট্রার অফিস। পদসংখ্যা: ১। বেতন স্কেল: ১১,০০০-২৬,৫৯০/- (গ্রেড-১৩)

    ২০. টেকনিশিয়ান। ক) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগ: ১টি পদে। খ) যন্ত্রকৌশল বিভাগ: ১টি পদে। বেতন স্কেল: ১১,০০০-২৬,৫৯০/- (গ্রেড-১৩)

    ২১. ড্রাইভার। পরিচালক (যানবাহন) অফিস। পদসংখ্যা: ২টি। বেতন স্কেল: ৯,৭০০-২৩,৪৯০/- (গ্রেড-১৫)

    ২২. অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট কাম কম্পিউটার অপারেটর। পদসংখ্যা: ১। বেতন স্কেল: ৯৩০০-২২,৪৯০/- (গ্রেড-১৬)

    ২৩. প্লাম্বার, প্রকৌশল অফিস। পদসংখ্যা: ১। বেতন স্কেল: ৯,৩০০-২২,৪৯০/- (গ্রেড-১৬)

    ২৪. সাব-স্টেশন অ্যাটেনডেন্ট/জেনারেটর অপারেটর, প্রকৌশল অফিস। পদসংখ্যা: ১। বেতন স্কেল: ৯,০০০-২১,৮০০/- (গ্রেড-১৭)

    ২৫. ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট। ক) পুরকৌশল বিভাগ: ১টি। খ) যন্ত্রকৌশল বিভাগ: ২টি। গ) কম্পিউটার সেন্টার: ১টি।বেতন স্কেল: ৮,৫০০-২০,৫৭০/- (গ্রেড-১৯)

    ২৬. বাবুর্চি, বিজয় ২৪ হল। পদসংখ্যা: ১। বেতন স্কেল: ৮,৫০০-২০,৫৭০/- (গ্রেড-১৯)

    ২৭. অফিস সহায়ক। ক) পুরকৌশল বিভাগ: ১টি। খ) বিজ্ঞান অনুষদ: ১টি গ) রেজিস্ট্রার অফিস: ১টি। বেতন স্কেল: ৮,২৫০-২০,০১০/- (গ্রেড-২০)

    ২৮. সহকারী বাবুর্চি, বিজয় ২৪ হল।পদসংখ্যা: ২। বেতন স্কেল: ৮,২৫০-২০,০১০/- (গ্রেড-২০)

    ২৯. সীক বয়, বিজয় ২৪ হল। পদসংখ্যা: ১। বেতন স্কেল: ৮,২৫০-২০,০১০/- (গ্রেড-২০)

    ৩০. পরিচ্ছন্নতাকর্মী, পরিচালক (ছাত্রকল্যাণ) দপ্তর। পদসংখ্যা: ১। বেতন স্কেল: ৮,২৫০-২০,০১০/- (গ্রেড-২০)

    আবেদনের শর্ত : ১. আগ্রহী প্রার্থীকে আগামী ২৪/৪/২০২৫ তারিখ বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। ২. আবেদনকারী প্রার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে Create Applicant Account–এ ক্লিক করে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে প্রার্থিত পদের আবেদনপত্র Submit করতে হবে। এরপর How to pay বাটনে ক্লিক করে পেমেন্ট–সম্পর্কিত নির্দেশনা মেনে প্রার্থীকে প্রার্থিত পদের জন্য আবেদন ফি বাবদ ১ থেকে ১৮তম পদের জন্য ২০০/- টাকা, ১৯ থেকে ২৩তম পদের জন্য ১০০/- টাকা এবং ২৪ থেকে ৩০তম পদের জন্য ৫০/- টাকা নগদ মোবাইল ব্যাংকিংয়ে জমা দিতে হবে। ৩. ১ থেকে ৪ নম্বর পদের জন্য ১০ সেট, ৫ থেকে ১৮ নম্বর পদের জন্য ৭ সেট এবং ১৯ থেকে ৩০ নম্বর পদের জন্য ৫ সেট করে পূর্ণাঙ্গ আবেদনপত্র ২৪ এপ্রিল অফিস চলাকালে বিকেল ৪টার মধ্যে সরাসরি অথবা ডাকযোগে ‘রেজিস্ট্রার, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর’–এর বরাবর পৌঁছাতে হবে।

    নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদনের পদ্ধতিসহ এখানে বিস্তারিত দেখুন…

  • মিমের নজরকাড়া লুকে মুগ্ধ ভক্তরা

    মিমের নজরকাড়া লুকে মুগ্ধ ভক্তরা

    ঢাকাই চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম। বিভিন্ন সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি সক্রিয় থাকেন মডেলিংয়েও। বিভিন্ন সময় নানান রূপে-অবতারে নিজেকে মেলে ধরতে পছন্দ করেন; ছুটি-ছাটার মধ্যে থাকলে উড়াল দেন দেশের বাইরে। সেখানেও নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন এই নায়িকা।

    সম্প্রতি তার ফেসবুক পেইজে কিছু ছবি ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে শেয়ার করেছেন। যেখানে দেখা যায়, থাইল্যান্ডে অবস্থিত সাদা মন্দিরে যাবার পর মিম ফটোশুট করেছেন। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে শেয়ার করেছেন।

    ছবি শেয়ার করে অভিনেত্রী ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘সাদা মন্দির।’ সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন ভালোবাসারা ইমোজি। অফ শোল্ডার বেল স্লিভ ড্রেসে নজরকাড়া লুকে বেশ হাসিখুশি ভাবে ধরা দিয়েছেন তিনি।

    কমেন্ট বক্সেও ভক্ত-অনুরাগীরা বেশ প্রশংসা করেছেন। একজন লিখেছেন, ‘আপনাকে অনেক সুন্দর লাগছে, অসাধারণ জায়গা সাথে মনোরম পরিবেশ।’ আরেকজনের কথায়, ‘সব সময় আপনাকে অনেক ভালো লাগে।’

  • কেনো ছাত্র খরায় ভুগছে মফস্বলের কওমি মাদরাসাগুলো?

    কেনো ছাত্র খরায় ভুগছে মফস্বলের কওমি মাদরাসাগুলো?

    দক্ষিণাঞ্চলের একটি উপজেলা সদরে অবস্থিত কওমি মাদরাসাটিতে সর্বোচ্চ জামাত শরহে বেকায়া। সেই জামাতে সর্বসাকুল্যে ভর্তি হয়েছেন তিনজন। ভর্তির সময়সীমা শেষ হওয়ার পথে। আরও এক-দুজন ভর্তি হতে পারেন- এমন আশা করছেন মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। অথচ এর আগের জামাত শরহে জামিতে ছাত্র সংখ্যা ছিল ৯ জন। তিন ভাগের দুই ভাগ ছাত্রই এবার আর ভর্তি হয়নি। তাদের কেউ জেলা সদরে, আবার কেউ চলে গেছেন রাজধানী ঢাকায়।

    মফস্বলের একটি কওমি মাদরাসার চিত্রই এটি নয়। বেশির ভাগ মাদরাসা এ ধরনের ছাত্র খরায় ভুগছে। নিচের জামাতে ছাত্রসংখ্যা মোটামুটি থাকলেও উপরের ক্লাস যত বাড়তে থাকে তত ছাত্রসংখ্যা কমতে থাকে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের জন্য খুবই বিব্রতকর। নিজেদের হাতেগড়া ছাত্রদের এভাবে চলে যাওয়ায় আক্ষেপের শেষ নেই তাদের।

    সিরাজগঞ্জের একটি মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা ফজলুর রহমান বলছিলেন, যেসব ছাত্রকে তারা অতিরিক্ত যত্ন নিয়ে পড়াশোনা করান, প্রত্যাশা থাকে তাদের দ্বারা ভালো ফলাফল হবে, তারা প্রতিষ্ঠানের মুখ উজ্জ্বল করবে, তাদের বেশির ভাগকেই আর ধরে রাখা যায় না। ‘কেউ চলে গেলে আমরা কী করতে পারি’ অনেকটা আক্ষেপের সুরে বলছিলেন তিনি।

    কিন্তু মফস্বলের কওমি মাদরাসাগুলোতে এভাবে দিন দিন ছাত্র খরা প্রকট হচ্ছে কেন? এর পেছনে কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে, মফস্বলের মাদরাসাগুলোর পড়াশোনার মান দিন দিন কমে যাচ্ছে। ছাত্ররা উপযুক্ত খোরাক না পেয়ে সেখানে আর থাকছে না। কিছু ব্যতিক্রম বাদে বেশির ভাগ মাদরাসা পুরো বছর ছাত্রদের নিয়মতান্ত্রিকভাবে পড়াশোনার টেবিলে ধরে রাখতে পারে না। ভালো শিক্ষক থাকলেও তাদের অন্যান্য ব্যস্ততা থাকায় ছাত্র গড়ার প্রতি সেভাবে মনোযোগ দিতে পারেন না।

    তাছাড়া মফস্বলের মাদরাসাগুলোর একটি বড় অংশ ছাত্রদের পুরোপুরি আবাসিকের ব্যবস্থা করতে পারে না। অনেকে বাড়ি থেকে এসে পড়াশোনা করেন। কেউ কেউ লজিং থেকে পড়েন। এতে একটা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। ছাত্ররা পড়াশোনায় ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ পেয়ে যায়।

    মাওলানা আতিকুল্লাহ আগে মফস্বলের একটি মাদরাসায় কিছুদিন খেদমত করলেও এখন ঢাকার একটি প্রাইভেট মাদরাসায় পড়ান। তিনি মফস্বলের মাদরাসাগুলোর সমস্যার কথা তুলে ধরে বলছিলেন, সেখানে উস্তাদদের বেশির ভাগই বাইরে ব্যস্ত থাকেন। কেউ মসজিদে ইমামতি করেন, কেউ অন্য কোনো পেশার সঙ্গে জড়িত। পুরো সময়টা মাদরাসায় থেকে ছাত্রদের পেছনে সময় দেওয়ার মতো উস্তাদের সংখ্যা কম। তাছাড়া যোগ্য উস্তাদেরও সংকট রয়েছে মাদরাসাগুলোতে। সবচেয়ে বড় হলো, ছাত্ররা ফাঁকিবাজি করে, সেটা ধরার মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা মফস্বলের মাদরাসাগুলোতে নেই।

    তবে কেউ কেউ মনে করেন, এখনকার ছাত্রদের মধ্যে ঢাকা বা শহরমুখিতা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। প্রতিটি ছাত্রই এক পর্যায়ে শহরমুখি হয়ে পড়ে। ফলে ভালো পড়াশোনা হলেও তাদের মন আর গ্রামে টিকে না। এই প্রবণতা বন্ধ না করলে মফস্বলের মাদরাসাগুলো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

    তবে কওমি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে জড়িতরা মনে করেন, মফস্বলের মাদরাসাগুলোর কর্মপদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাদের আপডেট হতে হবে। তারা যদি ২০/৪০ বছর আগের ধারায় এখনও চলতে চায় তাহলে সংকটে পড়বে। এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, এখনকার ছাত্ররা অনেক আপডেট। তাদের হাতে হাতে মোবাইল-ইন্টারনেট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে গোটা দুনিয়াই তাদের সামনে থাকে। তারা গ্রামের মাদরাসাগুলোতে নিজেদের খোরাক না পেয়ে শহরমুখি হয়।

    বিশ্লেষকরা বলেন, মফস্বলের মাদরাসাগুলোকে পড়াশোনার মানের ব্যাপারে সর্বোচ্চ জোর দিতে হবে। ছাত্রদের সার্বক্ষণিক নেগরানির আওতায় এনে, মানসম্মত পড়াশোনা নিশ্চিত করতে হবে। পরীক্ষায় কীভাবে ভালো করতে পারে সেই টিপসও তাদের দিতে হবে। প্রয়োজনীয় কিছু টিপসের অভাবে মফস্বলের মাদরাসাগুলোতে অনেক ভালো পড়াশোনার পরও অনেক ছাত্র ভালো ফলাফল করতে পারে না।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাধারণত উপরের জামাত ছাত্ররা মফস্বলের মাদরাসায় পড়তে চায় না। এজন্য উপরের জামাত খোলা রাখলে সেখানে মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। নামকাওয়াস্তে ক্লাস খুলে রাখলে চলবে না। প্রয়োজনে ছাত্র না পেলে ক্লাস কমিয়ে দেওয়া উচিত বলে মনে করেন কেউ কেউ। তাদের বক্তব্য হলো, যথাযথ খোরাক দিতে না পারলে ছাত্র ধরে রাখা যাবে না।

    তবে অনেকে উদাহরণ দিয়ে বলছেন, ভালো পড়াশোনা হলে গ্রাম পর্যায়ের মাদরাসাতেও ছাত্রদের ভিড় লাগে। চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ কিংবা উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে অজপাড়া গাঁয়েও অনেক মাদরাসা এমন আছে, দূর-দূরান্ত থেকে ছাত্রদের ভিড় লেগে যায়। এজন্য যেসব মাদরাসা মফস্বলে থেকেও ভালো করছে, তাদের থেকে শিক্ষা নিয়ে অন্যদেরও সেভাবেই মাদরাসা পরিচালনা করা উচিত।

  • ভালোবাসায় ভাসছেন ইধিকা

    ভালোবাসায় ভাসছেন ইধিকা

    কলকাতার ছোটপর্দা পেরিয়ে অভিনেত্রী ইধিকা পাল বড়পর্দায় পা রাখেন ‘প্রিয়তমা’ সিনেমার মাধ্যমে। যেখানে তিনি ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করে বাজিমাত করেন। হিমেল আশরাফের পরিচালনায় ২০২৩ সালের ২৯ জুন মুক্তিপ্রাপ্ত এ ছবিতে ইধিকার প্রাণবন্ত ও চঞ্চল চরিত্রটি দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেয় খুব সহজেই।

    এরপর থেকেই দর্শকের মনে প্রশ্ন জাগতে থাকে, আবার কবে দেখা যাবে শাকিব-ইধিকা জুটিকে? অবশেষে সে অপেক্ষার অবসান ঘটে এবারের ঈদুল ফিতরে মুক্তিপ্রাপ্ত যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র ‘বরবাদ’-এর মাধ্যমে। মেহেদী হাসান হৃদয়ের পরিচালনায় তৈরি এ সিনেমায় ফের একসঙ্গে কাজ করে রুপালি পর্দায় ঝড় তুলেছেন তারা। প্রিয়তমার সফল জুটির রসায়ন কাজে লাগিয়ে বরবাদে নতুন মাত্রা আনেন নির্মাতা, আর ইধিকা তার ওপর ভরসার প্রতিদান দেন দারুণভাবে। ছবির ‘নিঃশ্বাস’, ‘চাঁদমামা’ ও ‘দ্বিধা’র মতো গানগুলো যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছে, তেমন প্রশংসিত হয়েছে ইধিকার পরিণত অভিনয়।

    প্রিয়তমার পর বরবাদে দর্শক সাড়ায় ইধিকা পাল বলেন, প্রিয়তমায় কাজের অভিজ্ঞতাটা একদম আলাদা, কারণ ওটা ছিল আমার প্রথম সিনেমা। খুবই আবেগের। যেহেতু প্রথম সিনেমা ছিল, তাই এ ভাবনাটা মাথায় ছিল যে আমাকে খুব ভালো করতে হবে, যেন দর্শকের ভালোবাসাটা পাই আমি। কিন্তু বরবাদের ক্ষেত্রে ভাবনাটা এমন ছিল যে, আমাকে আরও ভালো করে কাজ করতে হবে, যাতে আগের পারফরম্যান্স থেকে এক ধাপ হলেও ভালো হয়।

    তিনি বলেন, আমাকে ঘিরে দর্শকের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, সে প্রত্যাশা পর্যন্ত যেন ছুঁতে পারি, এমনটাই মাথায় ছিল বরবাদে কাজ করার সময়। আর শাকিব খানের সঙ্গে এটা ছিল আমার দ্বিতীয় ছবি। এ জুটিকে দর্শক যে ভালোবাসা দিয়েছেন, বরবাদে যেন সে ভালোবাসা আরও বেড়ে যায়, এমনটাও ভাবনায় ছিল আমার।

    ইধিকা বলেন, সব মিলিয়ে বরবাদ মুক্তির পর যে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে তাতে এটা বলতে পারি, আমার যা যা প্রত্যাশা ছিল তার সবই পূরণ হয়েছে। আমি বাংলাদেশের সব দর্শকের প্রতি ভীষণ কৃতজ্ঞ। তাদের ভালোবাসার কাছে আমি ঋণী হয়ে রইলাম।

  • সংস্কার নিয়ে কোন দল কী চায়, কী চায় না? আপত্তি কোথায়?

    সংস্কার নিয়ে কোন দল কী চায়, কী চায় না? আপত্তি কোথায়?

    রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে পরিবর্তন বা সংস্কারের প্রশ্নে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বড় রকমের ভিন্নমত বা পাল্টাপাল্টি অবস্থান দেখা যাচ্ছে। যদিও অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন তাদের সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে ঐকমত্য তৈরির লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। কিন্তু তাতে ভিন্নমত বা মতপার্থক্য দূর হওয়ার কোনো ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের নেতৃত্বে গঠিত দল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবের সঙ্গে একমত। তারা আবার নতুন সংবিধান ও গণপরিষদ নির্বাচন চাইছে। বিএনপিসহ বেশিরভাগ দল থেকে একেবারে বিপরীত অবস্থান নতুন এই দলটির।

    প্রশ্ন হচ্ছে, মৌলিক বিষয়গুলোতে সংস্কারের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করা কি আদৌ সম্ভব? জাতীয় ঐকমত্য কমিশন অবশ্য হাল ছাড়তে চায় না। এই কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, দলগুলোর সঙ্গে চলমান আলোচনায় তারা ভিন্নমতের কারণ জানার চেষ্টা করছেন। একইসঙ্গে তাদের সংস্কারের প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা রয়েছে।

    বড় দলগুলো যখন একে অপরের বিপরীত অবস্থান নিচ্ছে, তখন সংবিধান ও রাষ্ট্র পরিচালনা সম্পর্কিত মৌলিক বিষয়গুলোয় ঐকমত্য বেশ কঠিন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, দলগুলো তাদের দলীয় রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে যেতে পারছে না।

    গত বছরের ৫ অগাস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর গঠিত অর্ন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের প্রস্তাব তৈরির জন্য ১১টি কমিশন গঠন করে। এর মধ্যে সংবিধান, বিচারবিভাগ, নির্বাচন ব্যবস্থা, দুর্নীতি দমন কমিশন, জনপ্রশাসন, ও পুলিশ-এ সব বিষয়ে ছয়টি সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। মূলত সংবিধান সংস্কারের স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আপত্তি, ভিন্নমত বা মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।

    বিএনপি, জামায়াতের ভিন্নমত কোন ক্ষেত্রে : সংবিধান ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি পারিবর্তনের প্রশ্নেই বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়েছে। সংবিধান সংস্কার কমিশন সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্র’ অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে। এ ব্যাপারে কমিশনের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ একটি বহুত্ববাদী, বহুজাতি, বহুধর্মী, বহুভাষী ও বহু সংস্কৃতির দেশ, যেখানে সব সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। কমিশনের এই প্রস্তাবের সঙ্গে একমত নয় বিএনপি। ভিন্নমত পোষণ করে দলটি বলেছে, সংবিধানের ৮, ৯, ১০ ও ১২ অনুচ্ছেদ পঞ্চদশ সংশোধনীর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার পক্ষে তারা।

    সংবিধানের ৮ অনুচ্ছেদে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা হয়েছে। আর অনুচ্ছেদ ৯, ১০, ও ১২-এ জাতীয়তাবাদ, সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও ধর্মনিরপেক্ষতা নীতি বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। বিএনপি কি তাহলে ধর্মনিরপেক্ষতায় ফিরে যেতে চায়––এমন প্রশ্নও তুলছেন দলটির সমালোচকরা। আর এই সমালোচনার মুখে বিএনপি বলেছে, তারা তাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনের সময় আনা পঞ্চম সংশোধনীতে ফিরে যেতে চায়। সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীতেই সর্বশক্তিমান ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের কথা বলা হয়েছে।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ তাদের দলের পক্ষে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাছে মতামত তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, তারা মূলনীতিতে পরিবর্তন চান না, সেটাই তারা বলেছেন। সেখানে পঞ্চদশ সংশোধনীর আগের অবস্থায় এবং পঞ্চম সংশোধনীতে ফিরে গেলে সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের কথা থাকছে; ধর্মনিরপেক্ষতার বিষয় আসছে না।

    এই মূলনীতি সংস্কারের প্রশ্নে বিএনপির বিপরীত অবস্থান নিয়েছে তাদের এক সময়ের জোট শরিক জামায়াতে ইসলামী। দলটি সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবের সঙ্গে একমত পোষণ করেছে। জামায়াত শুধু একটি শব্দ ‘বহুত্ববাদ’ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তারা এর পরিবর্তে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস, ধর্মীয় এবং সামাজিক মূল্যবোধ, এই শব্দগুলো যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে।

    এই ইস্যুতে অন্য ইসলামী ও বামপন্থিদলগুলোও বিএনপি এবং জামায়াতকে অনুসরণ করে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। তবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির পরিবর্তন না করে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীতে ফিরে যাওয়ার যে কথা বিএনপি বলছে, সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে বিএনপির অবস্থান কী হবে-এই আলোচনাও উঠছে। কারণ ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করা হয়েছে সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে। এমন সমালোচনার জবাবে বিএনপি নেতাদের বক্তব্য হচ্ছে, তারা রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির প্রশ্নে পঞ্চম সংশোধনীতে ফিরে যাওয়ার কথা বলছেন। কিন্তু অষ্টম সংশোধনী বাতিলের কথা বলছেন না তারা।

    সাংবিধানিক কমিশন, জরুরি অবস্থা ঘোষণা নিয়েও মতভেদ : বিএনপিসহ বিভিন্ন দল জাতীয় সাংবিধানিক কমিশন গঠনে সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবের পক্ষে নয়। রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে এমন কমিশন গঠনের ব্যাপারে জামায়াতেরও আপত্তি রয়েছে। সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, জাতীয় সাংবিধানিক কমিশনের (এনসিসি) সিদ্ধান্তক্রমে রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারবেন। এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। দলটির নেতারা বলেছেন, জরুরি অবস্থা জারির সঙ্গে সরকারের নির্বাহী কর্তৃত্বের বিষয়টি সম্পর্কিত, সেকারণে এ ক্ষমতা সরকার ও সংসদের বাইরে অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে থাকা সংগত হবে না।

    এছাড়া জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হলে সে সময় নাগরিকদের কোনো অধিকার রদ বা স্থগিত করা যাবে না এবং আদালতে যাওয়ার অধিকার বন্ধ বা স্থগিত করা যাবে না। তাই সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪১(খ) এবং অনুচ্ছেদ ১৪১(গ) বাতিল হবে–– এমন সুপারিশও করেছে সংবিধান সংস্কার কমিশন। এ প্রশ্নেও আপত্তি জানিয়েছে বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, নাগরিকদের কোনো অধিকার রদ বা স্থগিত না করে জরুরি অবস্থা জারির কী উদ্দেশ্য থাকতে পারে, প্রস্তাবিত সুপারিশে তা বোধগম্য নয়।

    সংস্কারে মত দিলেও নতুন সংবিধান চায় এনসিপি : জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি থেকে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দিয়ে ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্র’ অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশের সঙ্গে একমত পোষণ করেছে। তবে সংবিধান সংস্কার কমিশন রাষ্ট্রের নাম পরিবর্তনের যে সুপারিশ করেছে, তাতে আপত্তি জানিয়েছে এনসিপি। এখন রাষ্ট্রের নাম রয়েছে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’। সেখানে পরিবর্তন এনে ‘নাগরিকতন্ত্র’ ও ‘জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ’ শব্দগুলো ব্যবহারের সুপারিশ করেছে সংস্কার কমিশন।

    এনসিপি ‘প্রজাতন্ত্র’ ও ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ বহাল রাখার পক্ষে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং অন্যান্য দলগুলোও রাষ্ট্রের নাম পরিবর্তন চায় না। তবে এনসিপি বর্তমান সংবিধান বাতিল করে নতুন সংবিধান চাইছে। সেজন্য তারা গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি তুলেছে। দলটির ব্যাখ্যা হচ্ছে, নির্বাচন একবারই হবে। সেই নির্বাচনে যারা জয়ী হবে, তারা প্রথমে গণপরিষদ গঠন করে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করবে।

    এই নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই পরে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অর্থাৎ তাদের দিয়েই সংসদ গঠিত হবে। এনসিপি’র এই দাবির সঙ্গে বিএনপি, জামায়াতসহ বেশিরভাগ দলই একমত নয়। এই ইস্যুতেই অন্যান্য দলের সঙ্গে এনসিপি’র মতপার্থক্য বেশি। অবশ্য এনসিপি’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেন, তারা তাদের দাবি নিয়ে এগোবেন। সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে যে সিদ্ধান্ত নেবে, সে ব্যাপারে তাদের সমর্থন থাকবে।

    প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, উচ্চকক্ষ গঠনের প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি : সরকারের মেয়াদ চার বছর করার প্রস্তাবে এখন সক্রিয় সব দলেরই আপত্তি রয়েছে। তারা পাঁচ বছর মেয়াদের কোনো পরিবর্তন চায় না। একই ব্যক্তি একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা ও দলীয় প্রধানের পদে থাকতে পারবেন না বলে সংস্কার কমিশন যে প্রস্তাব করেছে, এ নিয়ে বড় আপত্তি বিএনপির। দলটির বক্তব্য হচ্ছে, এটি রাজনৈতিক দলের নিজেদের সিদ্ধান্তের বিষয়। এ ব্যাপারে পরিবর্তন বা সংস্কারের কোনো প্রয়োজন নেই। জামায়াত অবশ্য বলছে, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী এক ব্যক্তি হতে পারেন। দলীয় প্রধান অন্য কেউ থাকতে পারেন।

    টানা দুই মেয়াদের বেশি এক ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না, এই প্রস্তাব বিএনপির ৩১ দফায় ছিল। কিন্তু দলটি সেখান থেকে সরে এসেছে। তারা এখন এক ব্যক্তির টানা তিন বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা বলছে। তবে বামপন্থি দলগুলো ও অন্যান্য ইসলামী দল সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবের সঙ্গে একমত। তারা মনে করে, এক ব্যক্তি তিন পদে থাকার কারণে ‘একনায়ক’ বা ‘স্বৈরাচার’ হওয়ার সুযোগ থাকছে।

    অন্যদিকে, জাতীয় সংসদ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করার প্রস্তাবে ভিন্নমত নেই দলগুলোর। প্রস্তাব হচ্ছে, সংসদের নিম্নকক্ষে আসন থাকবে ৪০০, নির্বাচন হবে বর্তমান পদ্ধতিতে। এর মধ্যে ১০০ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তারা নির্বাচিত হবেন সরাসরি ভোটে। আর উচ্চকক্ষে আসন থাকবে ১০৫টি। নির্বাচন হবে আনুপাতিক পদ্ধতিতে। সংসদের দুই কক্ষ মিলিয়ে মোট আসন হবে ৫০৫টি। উচ্চকক্ষ গঠনের প্রক্রিয়া এবং ১০০ নারী আসনে সরাসরি ভোট নিয়েও আপত্তি রয়েছে বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের।

    সংসদ সদস্যদের ভোটের স্বাধীনতা দিতে চায় না দলগুলো : বিদ্যমান সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা আছে, সংসদ সদস্যরা নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিতে পারবেন না। তাতে এ-ও বলা আছে, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি যদি ওই দল থেকে পদত্যাগ করেন বা সংসদে ওই দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তাহলে সংসদে তার আসন শূন্য হবে। এটি সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে রয়েছে। ফলে সংসদে কোনো আইন পাসের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলা ছাড়া বিপক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই।

    সংবিধানের এই ৭০ অনুচ্ছেদ পরিবর্তনের বিষয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা হয়েছে। কিন্তু যে দলগুলো ক্ষমতায় বা বিরোধীদলে থেকেছে, তারা কখনও পরিবর্তন চায়নি। এখনো এ ব্যাপারে পরিবর্তন আনার সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবে আপত্তি দলগুলোর। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং এমনকি এনসিপি সংসদ সদস্যদের নিজ দলের বিরুদ্ধে গিয়ে অনাস্থা প্রস্তাবে ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা দিতে চায় না।

    কমিশনের প্রস্তাব হচ্ছে, অর্থবিল ছাড়া অন্য যেকোনো বিষয়ে সংসদের নিম্নকক্ষের সদস্যদের নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে। এর সঙ্গে একমত নয় এই দলগুলো। তারা চায়, অর্থবিলের মতো আস্থা ভোটের ক্ষেত্রেও সংসদ সদস্যরা স্বাধীন থাকবেন না। সংসদ সদস্যদের নিজ দলের অবস্থানের পক্ষেই থাকতে হবে।

    ঐকমত্য কি সম্ভব? সংবিধান ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসহ স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতেই মতভেদ রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পাশাপাশি রাজনীতিকদেরও অনেকে বলছেন, সংস্কারের এসব বিষয়ে ঐকমত্য বা এক অবস্থানে দলগুলোকে আনা বেশ কঠিন। বিএনপির মিত্র জোট গণতন্ত্র মঞ্চেরই অন্যতম শীর্ষ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, মূল বিষয়গুলোতে ঐকমত্য হওয়ার সম্ভবনা কম বলেই মনে করেন তিনি।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ব্যাখ্যা করছেন ভিন্নভাবে। তারা মনে করেন, মৌলিক বা স্পর্শকাতর নয়, এমন বিষয়গুলোতে ঐকমত্য হতে পারে। সে অনুযায়ী ঐকমত্য কমিশন হয়তো সরকারের প্রতিশ্রতি অনুযায়ী জুলাই চার্টার তৈরি করতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রের মূল বিষয়গুলোতে ভিন্নমত, বিতর্কের অবসান না হলে সংস্কার অর্থবহ কতটা হবে, সেই প্রশ্ন থেকে যাবে। লেখক ও বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, দলগুলো তাদের দলীয় রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অবস্থান নিচ্ছে। সেজন্য ঐকমত্য হওয়া বেশ কঠিন।

    ঐকমত্য হলেও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা কি সম্ভব? বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন ও কমিউনিস্ট পার্টিসহ বেশিরভাগ দল এখন নির্বাচন সর্ম্পকিত প্রয়োজনীয় সংস্কার করে ভোট চাইছে। আর এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদসহ কয়েকটি দল সামগ্রিক সংস্কার শেষ করার পর নির্বাচনের কথা বলছে। যে দলগুলো ন্যুনতম সংস্কার করে নির্বাচন চাইছে, তারা বলছে–– বাকি সংস্কার করবে নির্বাচিত সরকার।

    বিএনপির ক্ষমতায় যাওযাটা এখন সময়ের ব্যাপার, ভােট হলেই তারা ক্ষমতায় যাবে–– এমন একটা মনোভাব দলটির সবপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে। ফলে দলটির পক্ষ থেকেই জোর দিয়ে বলা হচ্ছে, নির্বাচিত সরকার এসে বাকি সংস্কারগুলো করবে। কিন্তু কোনো দল নির্বাচিত হয়ে এসে প্রস্তাবিত সংস্কার কাজ কতটা বাস্তবায়ন করবে, এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেই সন্দেহ রয়েছে। যাদের ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা নেই, তাদের দিক থেকেই এই সন্দেহ বেশি।

    এমন পরিস্থিতিকে অন্তর্বর্তী সরকার এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনও বিবেচনায় নিচ্ছে। সে কারণে যে বিষয়গুলোতে ঐকমত্য হবে, তা নিয়ে জুলাই চার্টার তৈরি করার কথা বলা হচ্ছে এবং তাতে দলগুলোর নেতাদের স্বাক্ষর করতে হবে।

    জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে তারা দলগুলোর সঙ্গে প্রথম পর্যায়ের আলোচনা শেষ করবেন। এই আলোচনায় তারা ঐকমত্য ও দ্বিমতের বিষয়গুলো চিহ্নিত করবেন। এর ভিত্তিতে জুলাই চার্টার বা অঙ্গীকারনামা তৈরি করবেন তারা।

    এছাড়া বাস্তবায়নের জন্য চাপ রাখতে চার্টারের কোনো আইনগত ভিত্তি দেওয়ার সুযোগ আছে কি না, সেটাও ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, অঙ্গীকার ও চাপ থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা প্রয়োজন।

    সূত্র : বিবিসি বাংলা

  • বাংলাদেশী শিক্ষকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফেলোশিপ টিইএ

    বাংলাদেশী শিক্ষকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফেলোশিপ টিইএ

    ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য ফুলব্রাইট টিচিং এক্সিলেন্স অ্যান্ড অ্যাচিভমেন্ট (টিএই) প্রোগ্রামে ফেলোশিপের জন্য আবেদন আহ্বান করেছে ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস। এই ফেলোশিপ মাধ্যমিক স্কুলশিক্ষকদের জন্য ছয় সপ্তাহের একটি বিনিময় কার্যক্রম। ২০২৬ সালের জানুয়ারি অথবা সেপ্টেম্বরে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষকেরা এই ফেলোশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন আগামী ১২ এপ্রিল ২০২৫, শনিবার পর্যন্ত।

    যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটের ব্যুরো অব এডুকেশনাল অ্যান্ড কালচারাল অ্যাফেয়ার্সের পৃষ্ঠপোষকতায় ফুলব্রাইট টিএই প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করছে ওয়াশিংটন ডিসি-ভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান আইআরইএক্স। এ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকেরা তাঁদের শিক্ষাবিষয়ে বিশেষ জ্ঞান ও দক্ষতা উন্নয়ন, শিক্ষাদানের দক্ষতা জোরদার করা এবং যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নিজেদের জ্ঞান বাড়ানোর অনন্য সুযোগ পাবেন। ২০২৬ সালের বসন্ত অথবা শরৎ মৌসুমে বাংলাদেশের শিক্ষকেরা যুক্তরাষ্ট্রে জ্ঞান ও দক্ষতা উন্নয়ন, শিক্ষাদানের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রোগ্রামে অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে যোগ দেবেন।

    প্রোগ্রামটির কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে অংশগ্রহণকারীদের নিজ দেশের পরিবেশে কোর্সের কাজ, শিক্ষাদানের পদ্ধতি, পাঠ পরিকল্পনা, শিক্ষাদানের কৌশল, সেই সঙ্গে ইন্টারনেট, ওয়ার্ড প্রসেসিং ও শিক্ষাদানের সরঞ্জাম হিসেবে কম্পিউটারের ব্যবহারবিষয়ক নিবিড় প্রশিক্ষণ। ছয় সপ্তাহের এই কার্যক্রমের আওতায় অংশগ্রহণকারীদের আমেরিকার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে আরও রয়েছে কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দুই সপ্তাহের শিক্ষানবিশির সুযোগ। তা ছাড়া, মহামারির অবস্থা সাপেক্ষে কার্যক্রমের পুরো সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক স্থানগুলোয় ভ্রমণের সুযোগ ও শিক্ষাবিষয়ক সহায়তা প্রদান করা হবে শিক্ষকদের।

    ফেলোশিপের আর্থিক সুবিধা— ফেলোশিপের আওতায় আর্থিক সুবিধাদির মধ্যে রয়েছে জে-১ ভিসার জন্য সহায়তা, যাত্রা শুরুর আগে ঢাকায় পরিচিতিমূলক অনুষ্ঠান, যুক্তরাষ্ট্রের ফিরতি ও অভ্যন্তরীণ বিমান ভাড়া, ওয়াশিংটন ডিসিতে স্বাগতজ্ঞাপক ও পরিচিতিমূলক অনুষ্ঠান, শিক্ষা কার্যক্রমের ফি, আবাসন (সাধারণত কার্যক্রমের সঙ্গীদের সঙ্গে ভাগাভাগি করা) ও খাবার, দুর্ঘটনা ও স্বাস্থ্যবিমা, শিক্ষানবিশি স্কুলে যাতায়াত (প্রয়োজন হলে), *বইপত্র/পেশাগত উন্নয়ন ভাতা, যুক্তরাষ্ট্রে ফুলব্রাইট টিইএ কার্যক্রমের আওতায় আমন্ত্রক বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে সমাপনী সেমিনার, দুই সপ্তাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শিক্ষককে আতিথেয়তা দান এবং কার্যক্রমপরবর্তী বিভিন্ন অনুদানের জন্য আবেদনের সুযোগ।

    কাদের আবেদনের সুযোগ— আবেদনকারীকে নিম্নোক্ত শর্তাবলি পূরণ করতে হবে।
    সমাজবিদ্যা, নাগরিক শিক্ষা, গণিত, বিদেশি ভাষা হিসেবে ইংরেজি ও বিজ্ঞান বিষয়ে মাধ্যমিক পর্যায়ের পূর্ণকালীন শিক্ষক হিসেবে পাঁচ বছর বা ততোধিক সময় ধরে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। শিক্ষকদের অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। বাংলাদেশি বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে। নেতৃত্বদানের দৃষ্টান্তমূলক যোগ্যতা থাকতে হবে। এই ফেলোশিপ কার্যক্রম শেষে ন্যূনতম পাঁচ বছর শিক্ষকতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করতে হবে। ইংরেজিতে লেখা ও কথা বলায় পারদর্শী হতে হবে।  যুক্তরাষ্ট্রে স্বাধীনভাবে কাজকর্ম চালানোর জন্য ইংরেজি ভাষায় পর্যাপ্ত দক্ষতা থাকতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও পেশাগত ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট ও কার্যকরভাবে বিভিন্ন ধারণা প্রকাশে সক্ষম হতে হবে। ওয়ার্ড প্রসেসিং, সাধারণ ফাইল ব্যবস্থাপনা ও মাইক্রোসফট অফিস বিষয়ে পরিচিতিসহ কম্পিউটার চালনার সাধারণ দক্ষতা থাকতে হবে। অনলাইন আবেদন পেশ করতে হবে।

    আবেদন কীভাবে করতে হবে  https://fulbright.irex.org/ –এ একটি আবেদন ফরম পাওয়া যাবে। তত্ত্বাবধায়ক সুপারভাইজার কর্তৃক পূরণ করা ইন্সটিটিউশনাল সাপোর্ট অ্যান্ড রেফারেন্স ফরম (আইএসআরএফ) পূরণ করে পাঠাতে হবে। ছুটির অনুমোদন ফরম (এলএএফ) https://fulbright.irex.org/ থেকে পুরণ করতে হবে। অনলাইন আবেদনে অসুবিধা হলে DhakaUSExchanges@state.gov. ই–মেইল করতে পারবেন আগ্রহীরা।

    কারা যোগ্য হবেন না— এ কার্যক্রমট শুধু মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুলের বর্তমান শিক্ষকদের জন্য। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা, শিক্ষা প্রশাসক, পূর্ণকালীন শিক্ষক–প্রশিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বেসরকারি পর্যায়ে ইংরেজি ভাষা প্রশিক্ষকেরা (টিউটরেরা) আবেদনের জন্য যোগ্য হবেন না।

    TOEFL বা IELTS লাগবে কি— উক্ত কার্যক্রমের জন্য ইংরেজি ভাষায় জোরালো দক্ষতা প্রয়োজন বিধায় সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত প্রার্থীদের জন্য TOEFL বা IELTS পরীক্ষা সম্পন্ন করা আবশ্যক হবে। ফুলব্রাইট এ কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য কাগজ-কলমে দেওয়া আইইএলটিএস পরীক্ষার স্কোর ৬.০ বা তার বেশি অথবা ইংরেজি ভাষা পরীক্ষায় সমমানের স্কোর থাকতে হবে। বৈধ স্কোরধারী প্রার্থীদের পুনরায় পরীক্ষা দেওয়া আবশ্যক হবে না। আমেরিকান সেন্টার আবশ্যক সকল পরীক্ষার আয়োজন করবে।

    আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদনের সব নির্দেশনা ও জমার নির্দেশিকা অনুসরণ করতে হবে। সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত প্রার্থীদের ইংরেজিতে অনুষ্ঠিতব্য একটি সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হবে। যোগ্যতার শর্তাবলি পূরণে ব্যর্থ আবেদনগুলো বাছাই কমিটির কাছে পাঠানো হবে না। আইএসআরএফ (ISRF) ও এলএএফ (LAF) ফরমসহ আবেদন ফরম এখানে পাওয়া যাবে। আগে যাঁরা আবেদন করেছিলেন, তাঁরা আবার আবেদন করতে পারবেন। তবে পূর্বে আবেদন করা প্রার্থীদের মনে রাখতে হবে যে এটি একটি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এবং সব প্রার্থীকেই কঠোর বাছাইপ্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে।

  • হাত-পা ছাড়া জন্ম নেয়া লিতুন জিরা এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী

    হাত-পা ছাড়া জন্ম নেয়া লিতুন জিরা এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী

    যশোরের মণিরামপুরে ‘হাত-পা ছাড়াই জন্ম নেওয়া’ সেই মেধাবী লিতুন জিরা এ বছর এসএসসি পরীক্ষা যোগ দিয়েছেন। এ যেন অদম্য ইচ্ছাশক্তির বলে বলীয়ান হয়ে মেধা ও প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন তিনি। জিরা সমাজের পিছিয়ে পড়া ও আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিতে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। মণিরামপুর উপজেলার গোপালপুর স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন লিতুন জিরা। উপজেলার নেহালপুর স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছেন তিনি।

    বৃহস্পতিবার প্রথম দিনে ইউএনও নিশাত তামান্না পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে লিতুন জিরাকে দেখে অভিভূত হন। লিতুন জিরা’র এগিয়ে যাওয়ার পথে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাসও দেন তিনি।

    যশোরের মণিরামপুর উপজেলার সাতনল খানপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান ও জাহানারা বেগম দম্পতির দুই ছেলে-মেয়ের মধ্যে ছোট লিতুন জিরা। বড় ছেলে ঢাকার একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়ছেন। লিতুন জিরা পিইসি (প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা) ও জেএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর, প্রাথমিকে বৃত্তি লাভ, শ্রেণীর সেরা শিক্ষার্থীর পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চায়ও রেখেছেন চমক জাগানো অবদান।

    লিতুন জিরার একাগ্রতা আর অদম্য ইচ্ছা শক্তির কাছে তার শারীরিক প্রতিবন্ধকতা হার মেনেছে। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি বা পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যক্রমেও স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি।

    জানা যায়, অদম্য ইচ্ছা শক্তির বলে বলীয়ান হয়ে সব বাঁধা টপকে গিয়ে সমাজের ৮/১০জন প্রতিভাবান স্বাভাবিক শিশুর মতোই এগিয়ে চলেছেন লিতুন জিরা। বরং এক্ষেত্রে স্বাভাবিক শিশুর চেয়েও দৃঢ়তার সাথে এগিয়ে চলেছেন লিতুন জিরা। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে পর পর দুই বছর লিতুন জিরা উপজেলা পর্যায় মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন, ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের রচনা প্রতিযোগিতায় জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন, একই সালে জাতীয় শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতায় গোল্ড মেডেল অর্জনসহ একই বছরের ৪ জানুয়ারি লিতুন জিরা খুলনা বেতারে গান গাওয়ার সুযোগ পান।

    লিতুন জিরার মা জাহানারা বেগম বলেন, জন্মের পর মেয়ে লিতুন জিরার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় অনেক রাত চোখের পানিতে ভাসিয়েছেন। যার দুই হাত-পা নেই; সেই মেয়ে বড় হয়ে কীইবা করতে পারবে-এমন অজানা শংকায় আঁতকে উঠতেন তিনি। বড় হওয়ার সাথে সাথে মেয়ের পড়া-লেখার প্রবল আগ্রহ এবং মেধার স্বাক্ষরতায় সেই আশঙ্কা আজ আশার আলোয় রূপ নিয়েছে তার কাছে।

    বাবা কলেজ শিক্ষক হাবিবুর রহমান বলেন, তিনি যে কলেজে চাকরি করেন, দীর্ঘ ১৯ বছরেও সেটি এমপিওভুক্ত হয়নি। তারপরও ছেলে-মেয়েদের কখনো অভাব বুঝতে দেননি। হাটা-চলা করতে না পারা লিতুন জিরার সেই শিশু বয়স থেকে কর্দমাক্ত পথ মাড়িয়ে ঝড়-বর্ষা মাথায় নিয়ে হুইল চেয়ারে করে প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়ে গেছেন তিনি। মেয়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।

    মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিশাত তামান্না বলেন, সমাজে এমন শিশু বিরল। তার চোখে দেখা লিতুন জিরার অদম্য মেধা ও ইচ্ছা শক্তির কথা শুনে অভিভূত হয়েছেন। তিনিও লিতুন জিরার ভবিষ্যতে এগিয়ে যাওয়া পথে অনুপ্রেরণার অংশীজন হতে চান।