Author: প্রিয় ক্যাম্পাস ডেস্ক

  • শরীরে কোন বিষয়গুলো ঘটলে মানুষ হঠাৎ করে মারা যায়?

    শরীরে কোন বিষয়গুলো ঘটলে মানুষ হঠাৎ করে মারা যায়?

    জীবনে চলার পথে আমরা অনেক সময় মানুষকে বলতে শুনি, ‘ইশ! লোকটা হঠাৎ করে মরে গেল!’ অনেক সময় আমরা শুনি যে কেউ হয়তো ঘুমের মাঝেই ‘হঠাৎ করে’ মারা গেছেন। কোনও প্রকার পূর্বসংকেত না থাকায় এগুলোকে আমাদের কাছে ‘হঠাৎ করে মারা যাওয়া’ তথা অপ্রত্যাশিত মৃত্যু মনে হলেও চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী এর সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ আছে। মানুষ এভাবে মারা যায় মূলত কিছু শারীরবৃত্তীয় ব্যর্থতার কারণে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক আর শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যাগুলো হঠাৎ মৃত্যুর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। এই প্রতিবেদনে এমন কিছু বিষয় সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়েছে, যা হঠাৎ মৃত্যুর কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও মেডিকেল জার্নালের তথ্য বিশ্লেষণ করে এর প্রতিকার নিয়েও বলা হয়েছে।

    হৃদরোগ
    মানুষের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় অঙ্গ হৃৎপিণ্ড। হৃদপিণ্ডের চেয়ে হার্ট শব্দটিই আমাদের কাছে চেনা এখন। হার্ট বা হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালিত হওয়ার জন্য হার্টে পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ দরকার হয়। হার্টে রক্ত সরবরাহকারী রক্তনালী যদি বন্ধ হয়ে যায় এবং এর ফলে যদি রক্ত হার্টে পৌঁছাতে না পারে, তাহলে হার্টের মাংসপেশিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায় না। আর তখনই হয় হার্ট অ্যাটাক।

    ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মে‌ডি‌সিন বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ বলেন, হয় কার্ডিয়াক ফেইলিউরে, অথবা রেস্পিরেটরি ফেইলিউরে মারা যাবে। অর্থাৎ, হঠাৎ মৃত্যুর পিছনে ওই দু’টোর যে কোনও একটি কারণ থাকবেই। হার্টের পেশীগুলো অকার্যকর হয়ে গেলে হঠাৎ মৃত্যু হতে পারে। অথবা, হৃদস্পন্দন কমে গেলে কিংবা ধমনী ব্লক হয়ে গেলেও মানুষ তৎক্ষণাৎ মারা যেতে পারে। হার্ট অ্যাটাক বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হওয়ার কয়েক মিনিটের মাঝে যদি রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া না হয়, তাহলে তা নিশ্চিত মৃত্যু ডেকে আনতে পারে।

    ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, হার্ট অ্যাটাকের মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে সিপিআর বা কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন দিলে রোগীর বেঁচে যাওয়ার কিছুটা হলেও সম্ভাবনা থাকে। সিপিআর বিশ্ব জুড়ে বহুল প্রচলিত এক জরুরি চিকিৎসা পদ্ধতি। কেউ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারালে, তার হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেলে বা শ্বাস প্রশ্বাস চালু না থাকলে, সেই ব্যক্তিকে সিপিআর দিতে হয়। তবে হার্ট অ্যাটাকের কিছু লক্ষণ রয়েছে যেগুলো দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এসব লক্ষণগুলো হচ্ছে– বুকের মাঝ বরাবর ব্যথা, বুকের মাঝ বরাবর ব্যথা, কাশি ও শ্বাসকষ্ট, এবং বমি বমি ভাব ও বমি।

    রেস্পিরেটরি ফেইলিউর
    হঠাৎ মৃত্যুর আরেকটি খুব সাধারণ কারণ হলো রেস্পিরেটরি ফেইলিউর বা শ্বাসযন্ত্রের ব্যর্থতা। আমাদের শ্বাসযন্ত্র যখন পর্যাপ্ত অক্সিজেন গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয় অথবা, শরীর থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড যথাযথভাবে বের করতে পারে না, তখন এই জটিলতা তৈরি হয়।

    ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, এটি চিহ্নিত করার কিছু পূর্ব লক্ষণ আছে। যেমন– শ্বাসকষ্ট বা দ্রুত শ্বাস নেওয়া, ঠোঁট বা আঙুলের ডগা নীল হয়ে যাওয়া, ক্লান্তি, বিভ্রান্তি, অজ্ঞান হয়ে পড়া, অতিরিক্ত ঘাম, অস্থির বোধ করা, মাথা ব্যথা, দৃষ্টি আচ্ছন্ন হয়ে যাওয়া, ইত্যাদি।

    ডা. আজাদ বলেন, এ ক্ষেত্রে “প্রতিটা মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে ভালো হয়, রোগীকে ছয় মিনিটের মধ্যে হাসপাতালে এনে ব্যবস্থা নিতে পারলে। কিন্তু সেটি তো সম্ভব না।”

    প্রথমত, এত অল্প সময়ের মাঝে রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা প্রায় অসম্ভব। আর আনলেও প্রাথমিক পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে সমস্যা চিহ্নিত করতেও অনেকটা সময় চলে যায়।

    ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক বলছে, যদি দ্রুত চিকিৎসা না হয়, তাহলে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে। যারা এই সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়, তাদের প্রতি তিন জনের মাঝে একজন মৃত্যুবরণ করে।

    পালমোনারি এম্বোলিজম
    হঠাৎ মৃত্যুর আরেকটি বড় কারণ হলো পালমোনারি এম্বোলিজম বা ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধা। উদাহরণ হিসাবে ডা. আজাদ বলেন, অনেক সময় দেখবেন যে কেউ নামাজে সিজদা করতে গিয়ে পড়ে গেছেন এবং মারা গেছেন। এরকম অবস্থাকে বলে পালমোনারি এম্বোলিজম।

    এর অর্থ, ফুসফুসের রক্তনালী ব্লক হয়ে গেছে। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, দ্রুত চিকিৎসা না করালে পালমোনারি এম্বোলিজমের কারণে হৃদযন্ত্র, ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে মৃত্যুও হতে পারে। এই প্রতিষ্ঠানের তথ্য বলছে, প্রায় ৩৩ শতাংশ পালমোনারি এম্বোলিজমে আক্রান্ত মানুষ চিকিৎসা শুরু করার আগেই মারা যায়। বিশ্বব্যাপী হার্ট ও রক্তনালীর যেসব সাধারণ রোগ আছে, এটি সেগুলোর অন্যতম। হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের পরেই হলো পালমোনারি এম্বোলিজমের স্থান।

    শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই বছরে নয় লাখ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়। এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগে শরীরে কিছু লক্ষণ দেখা দেয়। যেমন– হঠাৎ করে শ্বাস নিতে সমস্যা হওয়া, দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস চলা, প্রচুর ঘাম হওয়া, চিন্তিত বোধ করা, অজ্ঞান হওয়া ইত্যাদি। পাশাপাশি কারও কারও বুক, বাহু, পিঠ, কাঁধ, গলা অথবা চোয়ালে তীব্র ব্যথা হতে পারে। ব্যথার তীব্রতা এত বেশি যে প্রতিবার শ্বাস নেওয়ার সাথে সাথে তা বাড়তে থাকে।

    যারা ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, বা অন্যান্য হার্টের ব্যাধিতে আক্রান্ত কিংবা যাদের পরিবারে রক্ত জমাট বাঁধাসহ এসব রোগের ইতিহাস আছে, তারা পালমোনারি এম্বোলিজমে আক্রান্তের ঝুঁকিতে থাকে। এছাড়া, বয়স যদি ৬০ বছরের বেশি হয় বা কারও ওজন যদি অতিরিক্ত হয়, তাহলে তারাও ঝুঁকিতে থাকে।

    স্ট্রোক
    স্ট্রোকের সাথে অনেকে হার্ট অ্যাটাককে গুলিয়ে ফেলেন। কিন্তু দু’টি বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা। স্ট্রোক মূলত মানুষের মস্তিষ্কে আঘাত হানে। ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মস্তিষ্কের কোনও অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে মস্তিষ্কের কোষগুলো মরে গেলে স্ট্রোক হয়। এই স্ট্রোক বিশেষত হেমোরেজিক স্ট্রোক, হঠাৎ মৃত্যুর আরেকটি প্রধান কারণ। সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য শরীরের প্রতিটি কোষে রক্ত সঞ্চালন প্রয়োজন। কারণ এই রক্তের মাধ্যমেই শরীরের কোষে কোষে অক্সিজেন পৌঁছায়। কোনও কারণে মস্তিষ্কের কোষে যদি রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হয়, রক্তনালী বন্ধ হয়ে যায় বা ছিঁড়ে যায় তখনই স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়।

    দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা না গেলে রোগীর পঙ্গুত্বের পাশাপাশি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। স্ট্রোকের লক্ষণ একেকজনের ক্ষেত্রে একেকরকম হয়। অনেকে স্ট্রোক হওয়ার কিছুক্ষণ পর স্বাভাবিক হয়ে যান। এ কারণে আর চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না।

    ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেছিলেন, কারও মধ্যে স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দেয়ার সাথে সাথে বিন্দুমাত্র সময়ক্ষেপণ না করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

    স্ট্রোকের লক্ষণগুলোর মাঝে উল্লেখযোগ্য হলো– আচমকা শরীরের কোনও একটা দিক অবশ হয়ে যাওয়া, চোখে ঝাপসা/ অন্ধকার দেখা, কথা বলতে অসুবিধা হওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়া, হঠাৎ কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বাজ পড়ার মতো তীব্র মাথাব্যথা, জিহ্বা অসাড় হয়ে মুখ বেঁকে যাওয়া, শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাওয়া/জ্ঞান হারানো, বমি বমি ভাব, বমি, খিঁচুনি, ইত্যাদি।

    এ ধরণের লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে বিছানায় বা মেঝেতে কাত করে শুইয়ে দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে হবে, দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বব্যাপী যত অসংক্রামক ব্যাধি আছে, সেগুলোর মধ্যে মৃত্যুর দিক থেকে হৃদরোগের পরেই স্ট্রোকের অবস্থান। উন্নত বিশ্বের তুলনায় নিম্ন আয়ের দেশে স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি বলে মত সংস্থাটির।

    প্রতিরোধের উপায় কী?
    হঠাৎ মৃত্যু অনেক কারণে হতে পারে এবং একেক কারণের জন্য সমাধানও একেক রকম। তবে ডা. আজাদ বলেন, সামগ্রিকভাবে বললে এর একমাত্র সমাধান সুশৃঙ্খল জীবন, যেগুলোর কথা বলা হলো, এই অবস্থাগুলো একবার হলে বার বার হয়। তাই, ধরা পড়ার সাথে সাথে সতর্কতা নেওয়া যেতে পারে। তবে অনেক সময় সতর্ক থাকলেও মারা যেতে পারে। ডাক্তাররা এই হঠাৎ মৃত্যু’র বিষয়গুলো নিয়ে খুব ভয়ে থাকে, কারণ এসবের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগীর আর্টিফিশিয়াল লাইফ সাপোর্ট প্রয়োজন হয়।

    কিন্তু বেশিরভাগ রোগীই সেই সুবিধাটা পায় না। ফলে, অপ্রত্যাশিত মৃত্যু নেমে আসে। তবে এই পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়, সেজন্য তিনি সুশৃঙ্খল জীবনাচরণের প্রতি জোর দিয়েছেন। “নিয়ম সবার জন্য সমান। যার ডায়াবেটিস আছে, তার জন্যও যা নিয়ম, হার্টের রোগীর জন্যও একই নিয়ম। তা হলো– ডিসিপ্লিনড লাইফস্টাইল, ব্যালেন্সড ডায়েট, এক্সারসাইজ।”

    সেইসাথে, ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করার পরামর্শ দিয়েছেন সবাইকে তিনি। তিনি বলেছেন, যে শরীরের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যও ঠিক রাখতে হবে। অর্থাৎ, “ইমোশনকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রোগী শেষ মুহূর্তে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। কিন্তু এর পরিবর্তে সমস্যা বড় হওয়ার আগেই, অর্থাৎ শুরুতেই চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করা দরকার।

  • রাতে ঘুম না আসলে যেসব কাজগুলো করতে নেই

    রাতে ঘুম না আসলে যেসব কাজগুলো করতে নেই

    বিছানায় এপাশ-ওপাশ করছেন, কিন্তু ঘুম আসছে না? মাঝ রাতে চট করে ঘুম ভেঙে গেলো, এরপর আর চোখের পাতা এক হচ্ছে না? নিদ্রাহীনতা বা অনিদ্রা এমন এক সমস্যা, যে সমস্যায় অনেকেই জীবনের কোনো না কোনো সময় ভুগেছেন বা এখনও ভুগে চলেছেন। অনিদ্রা কারও কারও জন্য প্রবল সমস্যা হিসেবেও আবির্ভূত হয় কোনো কোনো ক্ষেত্রে। মানুষ কেন অনিদ্রায় ভোগে –এর পেছনে বেশকিছু কারণ থাকে। বার্ধক্যের প্রভাব, রাতে বার বার প্রস্রাব, মেনোপজ বা রজোনিবৃত্তি বা রাতের পালার কাজ –এরকম নানা বিষয় অনিদ্রা সৃষ্টির ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। এসব সমস্যার ক্ষেত্রে কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে সেটাও জানা থাকা জরুরি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের কয়েকটি পরামর্শ খুঁজে রয়েছে।

    অনিদ্রায় বিশেষজ্ঞরা নিজেরা কী করেন?
    সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ড. ফেইথ অর্চার্ড বলছিলেন, আমি ঘুমাতে পারছি না, এর খুব স্বাভাবিক কারণ হতে পারে আমার মস্তিস্ক কোনো কারণে বিরক্ত হয়ে আছে অথবা আমি খুব দুশ্চিন্তা করছি। এরকম হলে আমি একটি বই নিয়ে পড়তে শুরু করি এবং একটু হালকা অনুভব করার আগ পর্যন্ত পড়তে থাকি। লন্ডনের রয়াল ব্রম্পটন হাসপাতালের স্লিপ মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং ব্রিটিশ স্লিপ সোসাইটির প্রেসিডেন্ট ড. অ্যালি হায়ার বলেন, আমি যখনই অনিদ্রায় ভুগি এর প্রধান কারণ হয় আমার স্বামী বিছানায় বার বার পাশ ফিরছে বা জোরে জোরে নাক ডাকছে। তাই আমি স্লিপ ডিভোর্স পদ্ধতি বেছে নেই এবং অন্য একটি ঘরে ঘুমাতে চলে যাই। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্লিপ মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক কলিন ইসপি বলেন, ঘুম না আসলে আমি বিছনা ছেড়ে উঠে যাই এবং আবার নতুন করে এসে শুই। এটা একটা রিবুট সিস্টেমের মতো কাজ করে। সাধারণত মাথায় কোনো চিন্তা ঘোরাফেরা করার কারণেই অনিদ্রা দেখা দেয় এবং এটা বেশিরভাগ লোকের ক্ষেত্রেই সত্যি।

    অনিদ্রার উপসর্গ কী?
    কলিন ইসপির মতে, যদি ঘুম না আসার সমস্যা এক রাতের পর কয়েকদিন ধরে হতে থাকে এবং এরপর কয়েক সপ্তাহে গড়ায়, এভাবে তিন মাস বা তার বেশি সময় পার হয়ে যায়, তাহলে আমরা এই অবস্থাকে অনিদ্রা বা ইনসমনিয়া বলি। অনিদ্রার সমস্যাটি কয়েক ধরনের হতে পারে বলে ব্যাখ্যা করে ড. অর্চার্ডি বলছেন, ঘুম না আসা প্রাথমিক উপসর্গ। কিন্তু বাস্তবে আরও কিছু লক্ষণ রয়েছে। মাঝরাত পর্যন্ত জেগে থাকা, এক বার ঘুম ভাঙলে আর ঘুম না আসা, ভোর পর্যন্ত জেগে থাকার পর আর ঘুম না আসা এগুলোও অনেকের জন্য অনিদ্রা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ড. হেয়ারের মতে, অনিদ্রার লক্ষণগুলো খুবই সাধারণ এবং ৫০ শতাংশ মানুষের জন্য তা একইরকম। সপ্তাহে যদি তিন রাত ঘুমানোর ক্ষেত্রে কারও সমস্যা হয় এবং তিন মাসের বেশি সময় ধরে এটা চলে, আর রাতে ঘুম না আসার কারণে দিনের কাজে প্রভাব পড়লে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।

    অনিদ্রা সৃষ্টির আগে মস্তিষ্কে কী ঘটে?
    ঘুমে ঢলে পড়া ও ঘুম থেকে জেগে ওঠার পেছনে দুটি প্রক্রিয়া কাজ করে। ড. অর্চার্ড বলেন, যে হরমোনের কারণে ঘুম সৃষ্টি হয় এবং সারা দিনের কর্মযজ্ঞের ফলে শরীরে যে চাপের তৈরি হয়–– এই দুটি প্রক্রিয়ারই পাশাপাশি চলা উচিত। এর মধ্যে কোনো একটার ব্যতিক্রম ঘটলে সমস্যা হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, দিনের বেলায় বা বিকেলে এক দফা ঘুমিয়ে নিলে রাতের বেলায় ঘুম আসা কঠিনও হতে পারে। এর বাইরেও অনিদ্রার পেছনে বাহ্যিক যেসব কারণ কাজ করে তার মধ্যে অন্যতম হলো- দুশ্চিন্তা।

    অধ্যাপক কলিন ইসপি বলেন, ঘুমের ওপর আমরা দারুণভাবে নির্ভরশীল। নানা কিছুর বিবর্তন ঘটলেও ঘুমের ওপর নির্ভরতার পরিবর্তন হয়নি। বরং বলা চলে মানুষ হিসেবে আমাদের মস্তিষ্ক অপেক্ষাকৃত বড় ও জটিল প্রকৃতির, এর বিশ্রামের জন্যই তুলনামূলক বেশি ঘুমের প্রয়োজন। বিপদ বা যে কোনো ধরনের হুমকির জন্য আমাদের মস্তিষ্কে যে এক ধরনের সতর্কতা তৈরি হয়, যেটা আমাদের ঘুমকে তাড়ানোর কাজ করে, এই প্রবণতাও বিবর্তনের সঙ্গে পাল্টায়নি। দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ আমাদের মস্তিষ্কে এমন একটা অনুভূতি তৈরি করে, যা আমাদের মনে করতে বাধ্য করায়–– জেগে না থাকলেই বিপদ!

    ড. হেয়ার বলছেন, আমি এটা বলবো না যে নির্দিষ্ট প্রকৃতির লোকেরাই অনিদ্রায় ভোগেন, তবে এটাও ঠিক যে দুরারোগ্য ব্যাধি বা মারাত্মক ব্যাথা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ঘুমের সমস্যা হয়। এছাড়া দুশ্চিন্তা, হতাশা, উদ্বেগসহ অন্যান্য মানসিক সমস্যার মিথস্ক্রিযার কারণেও অনিদ্রা সৃষ্টি হতে পারে।

    ঘুমের পেছনে মানুষের বয়সও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে জানান অধ্যাপক ইসপি। বয়সের সাথে সাথে দেহঘড়িও পাল্টে যায়। কত সময় ধরে ঘুম হবে এবং তা কতটা গভীর হবে তা এই দেহঘড়ির ওপরও নির্ভর করে। বয়স বাড়তে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই ঘুমে ব্যঘাত ঘটতে থাকে। একজন কিশোরের জন্য দেরি করে ঘুমিয়ে দেরি করে ওঠায় যতটা না সমস্যা হয়, কিন্তু একজন বয়স্ক মানুষের জন্য আগে আগে ঘুমিয়েও একবার তা ভেঙে গেলে হয়তো আবার ঘুমানোর জন্য বেগ পেতে হয়।

    ঘুমের ওপর জিনগত প্রভাবও কাজ করে। অধ্যাপক ইসপি যেমন বলছেন, খুব সহজেই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়া বা উত্তেজিত হয়ে পড়ার মতো বংশগত উপসর্গ থাকে। এর সঙ্গে ঘুমের ব্যাঘাতের সম্পর্ক থাকতে পারে। এছাড়া আপনি সকাল সকাল উঠে কাজ শুরু করছেন এবং রাতে দ্রুত ঘমিয়ে পড়ছেন কিনা, বা বেলা করে উঠে কাজ শুরু করে শেষ রাত পর্যন্ত জেগে থাকছেন কিনা–– এরকম প্রত্যাহিত অভ্যাসও ঘুমের আলাদা প্যাটার্ন তৈরি করে। তবে অনিদ্রার পেছনে একাধিক ও নানা রকম কারণ থাকতে পারে বলেই তার অভিমত।

    ঘুমাতে না পারলে কী করা উচিত?
    মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে আমাদের কী করা উচিত? এ নিয়ে কিছু কুসংস্কার রয়েছে বলে জানান অধ্যাপক ইসপি। তিনি বলেন. সকালের দিকে আমাদের ঘুমের প্রবণতা কমে আসতে থাকে। আবার ঘুম ভেড়ে গেলে আমি আবার হয়তো ঘুমাতে পারবো না––এরকম একটা দুশ্চিন্তার আপনার ঘুম নষ্ট করতে পারে। আমার অভিজ্ঞতা বলে, জোর করে কেউ ঘুমাতে পারেন না। স্বাভাবিকভাবেই ঘুম এসে যায়, এর বাইরে যখনই আপনি ঘুমানোর জন্য জোর করে চেষ্টা করবেন- তখনই সমস্যার শুরু হয় বলে আমি সন্দেহ করি। বিশ্বাস করুন আর না করুন, সবচেয়ে ভালো উপায় হলো––ঘুম না আসলে জেগে থাকার সিদ্ধান্তই নেওয়া। ঘুমকে স্বাভাবিকভাবে আসতে দিতে পারেন আপনি ।

    খুব সহজ কতগুলো নিয়ম অনুসরণ করে জীবনের একটি ভালো রুটিন করে নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন ড. অর্চার্ড। একটি নির্দিষ্ট সময়েই শুতে যাওয়া এবং একটি নির্দিষ্ট সময়েই উঠে পড়ার ওপর মনোযোগ দেওয়া উচিত। একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ঘুমানোও গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্য দিয়ে মস্তিষ্ককে একটা বার্তা দেওয়া যায় যে এখানেই ঘুমাতে হবে। সোফায় বা চেয়ারে ঘুমিয়ে যাওয়া যেমন উচিত না, আবার বিছানায় বসে কাজ করাও ঠিক না, পরামর্শ এই বিশেষজ্ঞের।

    শোয়ার পর ঘুম না আসলে বিছানা ছেড়ে উঠে যাওয়া উচিত এবং আধা ঘণ্টার মতো অন্য কোনো কাজ করার পর আবার বিছানায় ফেরত যাওয়া যেতে পারে বলে মন করেন ড. হেয়ার।

    ঘুমের ওষুধ খাওয়া কি ঠিক?
    ড. হেয়ার বা অধ্যাপক ইসপি, এই দুইজনেরও কেউই ও ধরনের ওষুধ খাওয়ার পক্ষপাতি নন। বরং তারা পরামর্শ দিচ্ছেন এক ধরনের মনোবৈজ্ঞানিক থেরাপির যা মানুষকে তার চিন্তাধারা ও আচরণ পাল্টাতে সাহায্য করবে। এর ফলে অনিদ্রার সমস্যারও উপশম হবে। এ ধরনের থেরাপি (কগনেটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি) ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে সুফল বয়ে আনে এবং ৫০ শতাংশ মানুষ অনিদ্রা থেকে পুরোপুরি মুক্তি পান বলে জানান ড. হেয়ার।

    অধ্যাপক ইসপি বলছেন, এরকম থেরাপি যে ওষুধের চেয়ে বেশ কাজে দেয় সেটা অনেক রোগীই বিশ্বাস করতে চান না। স্লিপ রেস্ট্রিকশন থেরাপি নামে একটি পদ্ধতির পরামর্শ দেই আমরা। এর মাধ্যমে অনিদ্রার রোগীকে একটু দেরি করে ঘুমাতে যাওয়া এবং সকালে একটু আগে আগে ঘুম থেকে উঠতে বলা হয়।

    কিছু মানুষ অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন, শোয়ার আগে ম্যাগনেসিয়াম জাতীয় ওষুধ খেয়ে তারা ঘুমের ক্ষেত্রে সুফল পেয়ছেন। কিন্তু ড. অর্চার্ড বলছেন, এই বিষয়টি বড় কোনো গবেষণায় প্রমাণিত নয়, বরং ছোটো আকারের কিছু জরিপে এর কথা বলা হয়েছে।

    মেলাটোনিনের বিষয়টা কী? অনেক দেশে এ ধরনের হরমোনের ওষুধ ফার্মেসিতে গেলেই পাওয়া যায়, আবার কোথাও কোথাও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী কেনা সম্ভব। এ বিষয়ে ড. হেয়ার বলছেন, এই বিষয়টাও অনেকটা ম্যাগনেসিয়ামের ব্যবহার ও তার প্রভাবের মতোই। অনেক সময় হয়তো রোগী মন রক্ষায় এসব ওষুধ লিখে দেন চিকিৎসকরা।

    ঘুমের ওপর আরো যেসব বিষয় প্রভাব ফেলে—
    ঘুমের আগে কোনো স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকেন? টেলিভিশন, কম্পিউটার নাকি মোবাইল ফোন––কোনটার দিকে তাকিয়ে আছেন সেই যন্ত্রটা নয়, বরং কী রকম আলো আপনার চোখে প্রবেশ করছে এটাই এক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ড. অর্ডার্ড বলছেন, আপনি স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কী করছেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ। হয়তো আপনি ফোনের দিতে তাকিয়ে এমন কিছু দেখছেন যেটা আপনার মস্তিষ্ককে শান্ত করছে, এটায় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটবে না। কিন্তু এমন কিছু যদি দেখেন যা আপনার মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করে, সেটা অবশ্যই ঘুম বিঘ্নিত করতে পারে।

    অনিদ্রার ওপর মেনোপজ, নাইট শিফট বা এলকোহলের কোনো প্রভাব আছে? থাকলে এগুলো কীভাবে প্রভাব ফেলে? ড. হেয়ার বলছেন, মেনোপজ বা রজোবিরতি নারীদের জন্য কঠিন সময় নিয়ে আসে এবং এর কারণে ঘুম বিঘ্নিত হতে পারে। মেনোপজের কারণে হট ফ্ল্যাশ হয় এবং এটা ঘুম ব্যাহত করতে পারে। হরমোনের পরিবর্তন, বার বার মানসিক অবস্থার পরিবর্তন বা মুড চেঞ্জ এগুলো মেনোপজের সঙ্গেই আসে। তবে সংসার বা পরিবারিক চাপসহ অন্যান্য চাপও নারীর শরীরের ওপর এসময় প্রভাব ফেলে।

    এলকোহলের বিষয়ে ড. অর্চার্ড বলেন, ঘুমের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রার গভীরতার যে প্যাটার্ন তৈরি হয়, এটা বদলে দিতে পারে এলকোহল। এর আরও কয়েক ধরনের প্রভাব আছে। এলকোহল পান করার পর বারবার টয়লেটে যেতে হতে পারে; শরীরের পেশীগুলো শিথিল হয়ে নাক ডাকার প্রবণতা চলে আসছে পারে; হরমোনের ওপর এলকোহলের প্রভাব থাকায় আবার এটি ঘুম আসা না আসাকেও বদলে দিতে পারে।

    নাইট শিফটের ধকল কীভাবে সামলানো সম্ভব এ ব্যাপারে ড. হায়ার বলেন, এ ক্ষেত্রে যে দিন নাইট শিফট নেই সেসব দিনগুলোতে স্বাভাবিক সময়ে ঘুমের চেষ্টা করতে হবে, পাশাপাশি ছোটো ছোটো ঘুম দিয়ে অভাবটা পূরণ করে নিতে হবে।

    সূত্র : বিবিসি বাংলা

  • ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নাম এবার ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’

    ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নাম এবার ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’

    নানা বিতর্কের পর অবশেষে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র নাম পাল্টে দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এবার ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নামে বের হবে এই শোভাযাত্রাটি।

    শুক্রবার (১১ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

    নতুন নামের ঘোষণা দেন চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা প্রমুখ।

    চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখ বলেন, এবার নববর্ষ উদযাপনে একপেশে সংস্কৃতি চর্চা থেকে বেরিয়ে এসে ইনক্লুসিভ সাংস্কৃতিক চর্চা হবে।

  • রুয়েটে পিএইচডি কোর্স, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও সুযোগ

    রুয়েটে পিএইচডি কোর্স, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও সুযোগ

    রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইআইসিটি) ও ইনস্টিটিউট অব এনার্জি অ্যান্ড ইনভায়রনমেন্ট স্টাডিজে (আইইইএস) পিএইচডি/এমএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং/এম ইঞ্জিনিয়ারিং/পিজিডি কোর্সে ভর্তিতে আবেদন চলছে। প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য কয়েকটি শর্তে আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত ফরমে অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে ১০০০ টাকা পরিশোধ করতে হবে।

    আবেদনের শর্ত হলো—
    ১.আইআইসিটি ও আইইইএসে এমএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং/এম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তির জন্য প্রার্থীদের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে জিপিএ-৫.০০-এর মধ্যে কমপক্ষে ৩.৫০ পেয়ে পাস করতে হবে (ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোমাতে জিপিএ-৪.০০-এর মধ্যে ২.৭৫ পেয়ে পাস করতে হবে) ও কোনো স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান/ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনে চার বছর মেয়াদি বিএসসি (ইঞ্জিনিয়ারিং/ সায়েন্স) বা সমতুল্য ডিগ্রিতে সিজিপিএ-৪.০০-এর মধ্যে ২.৭৫ পেতে হবে এবং পিএইচডি কোর্সে ভর্তির জন্য সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনে সিজিপিএ-৪.০০-এর মধ্যে ৩.০০ পেয়ে এমএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং বা সমতুল্য ডিগ্রি থাকতে হবে।

    অথবা, সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনে পিজিডি (পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা) ডিগ্রিধারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি, ইঞ্জিনিয়ারিং/ বিএসসি, এজি/বিএসসি, অর্থনীতি অথবা বিএসসি/ বিএসসি ডিগ্রি/ এমএ অথবা এমএসসি অথবা এমএসএস ডিগ্রি/আর্কিটেক্টে ব্যাচেলর ডিগ্রি বা সমতুল্য ডিগ্রিতে সিজিপিএ-৪.০০ এর মধ্যে ২.৭৫ পেতে হবে।

    ২. আইআইসিটি ও আইইইএসে পিজিডি (IICT ও IEES-এ PGD (Post Graduate Diploma) কোর্সে ভর্তির জন্য প্রার্থীদের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বা সমতুল্য পর্যায়ে যেকোনো একটিতে জিপিএ-৫.০০-এর মধ্যে কমপক্ষে ৩.৫০ পেয়ে পাস করতে হবে, তবে কোনো পরীক্ষাতে জিপিএ-৫.০০-এর মধ্যে ৩.০০-এর নিচে/তৃতীয় বিভাগ গ্রহণযোগ্য নয় এবং কোনো স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান/ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং/বিএসসি এজি/বিএসসি ইকোনমি অথবা বিএসসি/ বিএসসি ডিগ্রি/ এমএ অথবা এমএসসি অথবা এমএসএস ডিগ্রি/ ব্যাচেলর আর্কিটেক্ট ডিগ্রি বা সমতুল্য ডিগ্রিতে ৪.০০-এর মধ্যে ২.৫০ পেতে হবে।

    ৩. দরখাস্তের সঙ্গে এসএসএল (SSL) সার্ভিসের মাধ্যমে ১০০০/ (এক হাজার) টাকা পরিশোধ করতে হবে।

    ৪. বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনের মাধ্যমে ভর্তি ফরম পূরণ করে ২০/০৩/২০২৫ থেকে ১২/০৪/২০২৫ মধ্যে আবেদন করতে হবে। সব পরীক্ষার সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট/মার্কসিটের সত্যায়িত ফটোকপি এবং সিলেবাস/কারিকুলামের সত্যায়িত ফটোকপি ওয়েবসাইট লিংকে জমা দিতে হবে। তবে পাবলিক প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হতে পাস করা শিক্ষার্থীদের সিলেবাস/কারিকুলামের ফটোকপি জমা দিতে হবে না।

    ৫. সব নির্বাচিত প্রার্থীকে (স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উপযুক্ত বলে গণ্য হলে) পিজিডির নির্ধারিত ভর্তি ফি ১২,০০০/- (বারো হাজার) টাকা এবং পিএইচডি/এমএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং/এম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নির্ধারিত ফি ১৮,৫০০/- (আঠারো হাজার পাঁচ শ) টাকা প্রদান করে ৩০/০৪/২০২৫ মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হবে এবং শিক্ষা শাখায় কাগজপত্রাদি জমা দিতে হবে।

    ৬. চাকরিরত প্রার্থীকে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।

    ৭. প্রার্থী ইতিপূর্বে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে থাকলে ভর্তির সময় ভর্তি বাতিলের সনদ জমা দিতে হবে।

    ৮. চাকরিরত প্রার্থী নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সম্মতিক্রমে খণ্ডকালীন ছাত্র হিসেবেও ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

    ৯. চাকরিরত পিএইচডি প্রার্থীকে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে এক বছরের ছুটি নিতে হবে।

    ১০. বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা ভর্তি-ইচ্ছুক প্রার্থীদের ক্ষেত্রে নিম্নের বিষয়গুলো প্রযোজ্য হবে। (ক) বিশ্ববিদ্যালয়টি ইউজিসি কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে। (খ) রুয়েটের সঙ্গে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস ও ক্রেডিট সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

    • আবেদন শুরু : ২০ মার্চ থেকে
    • আবেদন শেষ : আগামী শনিবার, ১২ এপ্রিল
    • যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল
    • ভর্তি পরীক্ষা : ১৯ এপ্রিল
    • ফলাফল প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল
    • ক্লাস শুরু : আগামী ৩ মে
    • আবেদনের জন্য ওয়েবসাইটের লিংক
  • ডিটেনশন আইনে কারাগারে অভিনেত্রী মেঘনা আলম

    ডিটেনশন আইনে কারাগারে অভিনেত্রী মেঘনা আলম

    রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বাসা থেকে আটকের পর অভিনেত্রী মেঘনা আলমকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মিস আর্থ বাংলাদেশ-২০২০ বিজয়ী এ মডেলকে ডিটেনশন আইনে ৩০ দিনের জন্য কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

    বৃহস্পতিবার রাতে শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন। শুক্রবার আদালত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    ছবি মডেলের ফেসবুক থেকে নেয়া

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে ১০টায় মেঘনা আলমকে আদালতে হাজির করে ডিবি পুলিশ। পরে ডিবি পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

    ডিএমপির জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার তালেবুর রহমান বলেন, মেঘনা আলমকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে পাঠায় ডিবি। তবে কী অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি তিনি।

    আদেশের বরাতে আদালতের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২ (এফ) ধারায় জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থি ক্ষতিকর কাজ থেকে বিরত করার জন্য এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, বিশেষ ক্ষমতা আইনের ৩(১) ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে মেঘনা আলমকে কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ আটকাদেশ স্বাক্ষরের দিন থেকে ৩০ দিন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রাখার আদেশ দেওয়া হয়। পরে তাঁকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়।

    বুধবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে মেঘনা আলমের লাইভ চলার মধ্যেই তার অভিযোগ অনুযায়ী বাসার ‘দরজা ভেঙে’ পুলিশ পরিচয়ধারীরা ভেতরে প্রবেশের পরপরই লাইভটি বন্ধ হয়ে যায়। ১২ মিনিটের বেশি সময় ধরে চলা লাইভটি এরপর ডিলিটও হয়ে যায়। ডিটেনশন আইনে সরকার কোনো ব্যক্তিকে আদালতের আনুষ্ঠানিক বিচার ছাড়াই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আটক বা বন্দি করতে পারে। এ ধরনের আইন সাধারণত জননিরাপত্তা, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে প্রয়োগ করা হয়।

    মডেল ও মিস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মেঘনা আলম ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর মিস আর্থ বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন।

    তাকে আটকের বিষয়ে ভাটারা থানার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বুধবার মেঘনা আলমকে আটকের জন্য বসুন্ধরা এলাকায় এসেছিলেন। সঙ্গে ভাটারা থানার পুলিশ সদস্যরাও ছিলেন। প্রথমে তিনি দরজা খুলতে চাননি। পরে তাকে আটক করে মিন্টো রোডে নিয়ে যাওয়া হয়।

  • অলিম্পিকে ৬ দলের ক্রিকেট, বাংলাদেশের কী হবে

    অলিম্পিকে ৬ দলের ক্রিকেট, বাংলাদেশের কী হবে

    ১২৮ বছর বিরতি দিয়ে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ফিরছে ক্রিকেট। এটা আগেই ঠিক হয়ে ছিল। গতকাল রাতে ঠিক হলো—কয়টি দল অংশ নেবে অলিম্পিক ক্রিকেটে। আগামী অলিম্পিকে ক্রিকেটের সোনার জন্য পুরুষ ও নারী বিভাগে ৬টি করে দলের অংশগ্রহণের কথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি)।

    তবে কীসের ভিত্তিতে কোন ছয় দল অলিম্পিকের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেবে সে সম্পর্কে কিছুই জানায়নি আইওসি। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর বাইরেও ৯০ টির মতো আইসিসি সহযোগী সদস্য রয়েছে, যারা টি-টোয়েন্টি খেলে। একটি নির্দিষ্ট সময়ের টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে নারী ও পুরুষ ক্রিকেটের দলগুলো নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়েছে আইসিসি। তেমনটা হলে হয়তো কপাল পুড়তে পারে বাংলাদেশের। কারণ টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ কখনোই সেরা ছয়ে থাকতে পারেনি। বর্তমানে র‍্যাঙ্কিংয়ের নয়ে আছে বাংলাদেশ পুরুষ দল। একই অবস্থায় আছে মহিলা দলও।

    আয়োজক হওয়ার সুবাদে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি খেলতে পারে ক্রিকেটে। সেক্ষেত্রে বাকি পাঁচটি দলের খেলার সুযোগ থাকবে। অলিম্পিক গেমসে ক্যারিবিয়ান দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো আলাদা আলাদা পতাকাতলে অংশ নেয়। কিন্তু অলিম্পিক গেমসের ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতিনিধিত্ব কারা করবে তা ঠিক করারও ব্যাপার আছে। ১৯০০ প্যারিস অলিম্পিকে প্রথম ও সবশেষ হয়েছিল ক্রিকেট। ফ্রান্সকে হারিয়ে সোনা জিতেছিল গ্রেট ব্রিটেন।

    ফুটবলে দলের সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইওসি। ছেলেদের ফুটবলে এত দিন ১৬টি দেশ খেলত। ৪টি কমিয়ে ১২ দল অংশ নেবে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে। মেয়েদের ফুটবলে অবশ্য থাকছে ১৬টি দল।

  • অপরূপ সৌন্দর্যের ‘নীলফক্কি’

    অপরূপ সৌন্দর্যের ‘নীলফক্কি’

    বার্ড ফটোগ্রাফির শুরুতে অনেক পাখির নাম শুনেছি। সব পাখিই যে এক জায়গায় দেখা যাবে তা নয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আবাসস্থল। ফটোগ্রাফারদের নির্দিষ্ট পাখিটিকে খুঁজতে হলে সেই অঞ্চলগুলোতেই যেতে হয়। তাতে যেমন সময়ের প্রয়োজন, তেমনি ব্যয় হয় অর্থও। তবে যে পাখিটি এখনও চোখে লেগে আছে সেটি হলো ‘নীলপাখি’, যা নীলফক্কি বা হালতি নামেও পরিচিত। আবার ‘সবুজ-হৃদয় বনসুন্দরী’ বা ‘সবুজাভ সুমচা’ও ডাকা হয়। এটির ইংরেজি নাম ‘গ্রিন-ব্রেস্টেড পিটা’ বা ‘হুডেড পিটা’। বৈজ্ঞানিক নাম ‘পিটা সোরডিডা’ (মুলার, ১৭৭৬)।

    পাখিটির নামকরণ করেছেন শ্রদ্ধেয় সাজাহান সরদার ও রেজা খান স্যার। বাংলাদেশের বাগেরহাট অঞ্চলে এদের নাম ‘ছোট হালতি’। নীলফক্কি বাংলাদেশের দুর্লভ পরিযায়ী পাখি। গ্রীষ্মকালে খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের চিরসবুজ বনে দেখা যায়। এ ছাড়া ভারত, নেপাল, ভুটান, ভিয়েতনাম, চীন ও থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এদের বিস্তৃতি রয়েছে।

    অপরূপ সৌন্দর্য ও রূপ নিয়ে বনে উড়ে বেড়ায়। যে কেউ প্রথম দেখায় পাখিটির মায়ায় পড়ে যাবেন। ফটোগ্রাফারদের প্রতিটি ছবির পেছনে একটি গল্প থাকে। আমার প্রতিটি ছবিই একেকটি গল্প। অনেক বছর ধরেই পাখিটিকে খুঁজছিলাম। কিন্তু দেখা পাইনি। তবে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে যখন বন্যপ্রাণী গবেষক ও আলোকচিত্রী আদনান আজাদ আসিফের সঙ্গে সাতছড়ি যাওয়ার সময় গাড়িতে বসে পাখিটি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, আদনানের কাছে পাখিটির চরিত্র ও বর্ণনা শোনার পর মুগ্ধ হয়েছিলাম। তারপর থেকে পাখিটির সন্ধানে ছিলাম। পাখিটির ছবি তোলার জন্য সেই বছরই ফের সাতছড়ি গেলাম।

    সেবার গহীন বনের ভেতর সারা দিন পাখিটিকে খোঁজার পর শূন্য হাতে ঢাকায় ফিরতে হলো। আজ থেকে পাঁচ বছর আগে অর্থাৎ ২০১৭ সালে পাখিটি প্রথম দেখি। কিন্তু ছবি তুলতে পারিনি। পাখিটি দেখার পর থেকেই প্রেমে পড়ি। পরবর্তী বছরগুলোতেও পাখিটির ছবি তুলতে না পারায় ফিরে আসি। এরই মাঝে ২০২০ সালে করোনা মহামারি গোটা বিশ্বকে থমকে দেওয়ায় সে বছর আর যাওয়া হলো না। কিছুটা অপ্রাপ্তি ও আফসোস ছিল দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে। যারা পাখির ছবি তোলেন একমাত্র তারাই উপলব্ধি করতে পারেন এমন পরিস্থিতি কতটা কষ্টের।

    মজার বিষয় হচ্ছে, এর পরের বছর অর্থাৎ ২০২১ সালেও পাখিটির অপেক্ষায় ছিলাম। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সবকিছু ওলট-পালট করে দিলে মনটা খারাপ হয়ে গেল। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যাওয়ারও কোনো সুযোগ ছিল না। সবকিছু মিলে সে বছরও আশা ছেড়ে দিলাম। কারণ এরা গ্রীষ্মকালীন পরিযায়ী পাখি। এপ্রিল মাসের শেষের দিকে আমাদের দেশে দেখা যায়। জুন মাসজুড়ে অবস্থান করে। একমাত্র এই প্রজাতির পরিযায়ী পাখিরা বাংলাদেশে প্রজনন করে। ছানা বড় করে নিজ দেশে ছানাসহ উড়ে যায়।

    তবে স্থানীয় গাইড হারেস মামা ও রাসেল দেববর্মার একটা ফোন কল সব বদলে দেয়। ওদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ চলতে থাকে। ওরা পর পর তিন দিন পাখিটির টেরিটরি ও গতিবিধি লক্ষ্য রাখে ও ছবি তোলে। ওদের শতভাগ সুবজ সংকেত পাওয়ার পর আমার ফুপাতো ভাই কিসমত খোন্দকারকে সঙ্গী করে চলে গেলাম পাখির সন্ধানে। মাত্র ৩০ মিনিট বনের ভেতর অবস্থান করে পাখিটির ছবি তুললাম। আরেকটা স্বপ্নপূরণ করে দুই ভাই মনের সুখে ঢাকায় ফিরলাম। এই পাখিটি যোগ হওয়ায় আমার পাখি সংগ্রহের সংখ্যা ৪৫০-এ দাঁড়াল।

    নীলফক্কির দৈর্ঘ্য ১৯ সেন্টিমিটার ও ওজন ৬৫ গ্রাম। ‘পিট্টিডি’ গোত্র বা পরিবারের অন্তর্গত পিটাগনের এক প্রজাতির ছোট বনচর পাখি। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির কালচে ডানা ও কাঁধ নীলপট্টির হয়। ডানার বাইরের কালচে অংশে সাদা পট্টি থাকে। বুক বগল ও পালক উজ্জ্বল সবুজ-নীল বর্ণের। লেজতল উজ্জ্বল লাল রঙের। মাথার চাঁদি তামা রঙের। মাথাসহ ঘাড়ের পেছনের অংশ কালো। চোখ কালচে-বাদামি। ঠোঁট কালো। পা ও পায়ের পাতা কালচে। ছেলে ও মেয়েপাখির চেহারা অভিন্ন।

    সবুজাভ সুমচা চিরসুবজ বন, আর্দ্র ঝরাপাতা বন ও ঘন ঝোপ-জঙ্গলে বিচরণ করে। সচরাচর একা বা জোড়ায় থাকে। পরিযায়নের সময় দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঝরাপাতা উল্টিয়ে এরা খাদ্য খুঁজে বেড়ায়। খাদ্য তালিকায় রয়েছে নানা জাতের কীট। খাবারের সন্ধানে এরা মাটিতে নামে। অন্য সময় গাছের ডালেই থাকে। এরা নীরবে গাছের ডালে বসে থাকে ও বনসুন্দরীর মতন এদের খাটো লেজ ঘন ঘন ওঠা-নামা করে। মেয়েপাখির দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ছেলেপাখিদের ডাকের প্রতিযোগিতা হয়। আর সেই সময় পাখিটি সহজেই নজরে পড়ে।

    এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত এদের প্রজননকাল। এই পাখির বাসা বানানোর পদ্ধতিটা বনসুন্দরীর মতন নয়। বনসুন্দরী শাল বা গজারি গাছের উঁচুতে কাঠি ও সরু ডাল দিয়ে বাসা বানায়। অথচ এরা ঝোপের নিচে বা বাঁশঝাড়ের গোড়ায় মাটিতে ঘাস ও পাতা দিয়ে আলগা বলের মতন বাসা বানায়। নিজেদের বানানো বাসায় মেয়েপাখিটি ৪-৫টি ডিম পাড়ে। উভয়ে ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায়। বাবা-মা দুজনেই সংসারের কাজ করে।

    লেখক : বন্যপ্রাণী-বিষয়ক আলোকচিত্রী

  • এক ভ্রমণে নয়নাভিরাম ৪ সমুদ্রসৈকত

    এক ভ্রমণে নয়নাভিরাম ৪ সমুদ্রসৈকত

    নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে ঘেরা সমুদ্রসৈকত। যেখানে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যায় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য। চোখ জুড়ানো আর দৃষ্টিনন্দন ওই সমুদ্রসৈকতের নাম জাহাজমারা, তুফানিয়া, সোনারচর ও চরহেয়ার। সৈকতের তটরেখায় লাল কাঁকড়ার দলবেঁধে ছোটাছুটি। ঢেউয়ের গর্জন। সবুজ বনাঞ্চল। গাছে গাছে পাখির কলকাকলি।

    পর্যটনের অপার সম্ভাবনায় ঘেরা সৈকত চারটির ভৌগোলিক অবস্থান নদী ও সাগরবেষ্টিত পটুয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালীতে। ৩০ কিলোমিটার দূরের সৈকত কুয়াকাটার চেয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে রাঙ্গাবালীর পর্যটন স্পটগুলো এগিয়ে। কিন্তু যাতায়াতে সময় বেশি হওয়ায় পিছিয়ে ছিল এখানকার পর্যটন সম্ভাবনা। রাঙ্গাবালীর সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগমাধ্যম একমাত্র নৌপথ। তবুও অসংখ্য পর্যটক প্রাকৃতিক সান্নিধ্য পেতে এখানে ছুটে আসেন।

    সৌন্দর্যমণ্ডিত পর্যটন স্পটের নিদর্শন : অপরূপ সৌন্দর্য নিয়ে জেগে থাকা ‘সোনারচরে’ সোনা নেই ঠিকই, কিন্তু আছে সোনালি আভা। সূর্যের রশ্মি যখন সৈকতের ওপর পড়ে, তখন দূর থেকে মনে হয়, সত্যিই সোনার আবির্ভাব হয়েছে এখানে। মনে হবে প্রলেপ দেওয়া হয়েছে স্বর্ণের। সোনারচর উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নে সাগরের কোলঘেঁষে অবস্থিত। বনবিভাগের দেওয়া তথ্যমতে, সুন্দরবনের পরই আয়তনের দিক থেকে এটি বৃহত্তম বনাঞ্চল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সুবিশাল সমুদ্রসৈকত।

    সৌন্দর্যের কমতি নেই ‘জাহাজমারা’ দ্বীপেও। দ্বীপটির ভৌগোলিক অবস্থান মৌডুবি ইউনিয়নে। জাহাজমারার কাছেই আরও দুটি দ্বীপ রয়েছে। একটির নাম ‘তুফানিয়া’ অন্যটির ‘চরহেয়ার’। যেখানে আছে নিবিড় সবুজের সমারোহ। সৈকতে অগণিত লাল কাঁকড়ার ঝাঁক। আছে দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত। বনবিভাগের ঘন ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। জেলে নৌকার বহর।

    যেভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা পর্যন্ত যাবেন। ভাড়া জনপ্রতি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। গলাচিপা সদর থেকে সড়কপথে ১৫ থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে পানপট্টি কিংবা বোয়ালিয়া ঘাটে যাবেন। সেখান থেকে স্পিডবোট কিংবা লঞ্চে রাঙ্গাবালী যাবেন। ভাড়া জনপ্রতি ১৫০ টাকা ও ৬০ টাকা। এ ছাড়াও ঢাকার সদরঘাট থেকে সন্ধ্যা ৬টায় দোতলা লঞ্চ ছেড়ে আসে রাঙ্গাবালীর উদ্দেশে। ভাড়া সিঙ্গেল কেবিন ১ হাজার ৩০০ ও ডাবল ২ হাজার ৫০০।

    যেখানে রাত্রিযাপন করবেন : খুব সকালে সৈকত ঘুরে দেখার জন্য বেরিয়ে পড়তে হবে। সৈকত দর্শন শেষে সোনারচর লাগোয়া চরমোন্তাজ ইউনিয়নে থাকার জন্য আবাসিক রেস্ট হাউস রয়েছে। এ ছাড়াও উপজেলা শহরে আবাসিক হোটেল এবং জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় থাকা যাবে।

    অবকাঠামো উন্নয়ন : চার সমুদ্রসৈকতের একটিতেও নেই হোটেল-মোটেল। তবে সম্প্রতি বেসরকারিভাবে জাহাজমারা সমুদ্রসৈকতে কটেজ নির্মাণাধীন রয়েছে। পর্যটকদের সুবিধার জন্য সোনারচর, জাহাজমারা, তুফানিয়া ও চরহেয়ারে পন্টুন স্থাপন করা জরুরি। একই সঙ্গে হোটেল-মোটেল ও রেস্ট হাউসসহ আধুনিক অবকাঠামো তৈরি করলে পর্যটকদের এসব দ্বীপে আসার আগ্রহ আরও বেড়ে যাবে। প্রশাসনের তথ্য বলছে, রাঙ্গাবালীর চারটি পর্যটন স্পট নিয়ে ট্যুরিস্ট জোন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। যা ইত্যেমধ্যে ঘুরে গিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • সুন্দরবনে ইকো কটেজ

    সুন্দরবনে ইকো কটেজ

    ঘরে বসে সুন্দরবনের পাখপাখালির ডাক। পায়ে হেঁটে বনের অপার সৌন্দর্য উপভোগ, নিরাপত্তার সঙ্গে নিশিযাপন। মানসম্মত খাবার গ্রহণ। স্বল্প খরচে লোকালয় থেকে খুব কাছে ভ্রমণ করেই বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন উপভোগের সুযোগ। এসব সুবিধা নিয়েই সুন্দরবনের বিভিন্ন পয়েন্টে পর্যটকদের জন্য গড়ে উঠেছে রিসোর্ট। তেমন দুটি ইকো কটেজের তথ্য থাকছে আজ।

    বনলতা ইকো কটেজ : এই ইকো কটেজের মূল উদ্দেশ্য হলো সুন্দরবনের প্রাকৃতিক আকর্ষণ এবং সুস্থ জীবনযাপনের সমন্বয়ে আদর্শ একটি আবাস স্থান সরবরাহ করা। ট্যুর গ্ৰুপ টিজিবির তত্ত্বাবধানে মোংলার ঢাংমারিতে অবস্থিত কটেজটি ইতোমধ্যে পর্যটকদের মাঝে সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছে। ডিসেম্বর জুড়ে ৩০ শতাংশ ডিসকাউন্ট চলছে এই কটেজে। সুন্দরবনের বিলাসবহুল ইকো রিসোর্টে কাটুক আপনার সুন্দরতম মুহূর্তগুলো। ডিসকাউন্টের পর রুম ভাড়া নন-এসি ২ হাজার ৮০০ টাকা, এসি রুম ৩ হাজার ৫০০, ইকো রুম ৩ হাজার ৬০০ ও ইকো স্পেশাল ৪ হাজার ২০০ টাকা। বিস্তারিত জানতে- ০১৯১১-৫২০৬২৫।

    এছাড়াও খুলনার দাকোপ উপজেলার বানিশান্তা ইউনিয়নের ঢাংমারি গ্রামের সুন্দরী ইকো রিসোর্ট, কয়রার বানিয়াখালীতে নিশিকুরি রিসোর্ট, ইরাবতী ইকো রিসোর্টসহ সুন্দরবনের আশপাশের এলাকায় বেশকিছু কমিউনিটি ট্যুরিজম গড়ে উঠেছে। করপোরেট, কাস্টমাইজড, ফ্যামিলি, স্টুডেন্ট, বাইকার সব ধরনের ট্যুরিস্টরা এখানে আসতে পারেন।

    সুন্দরবনের কূলে সম্পূর্ণ ইকো সিস্টেমে তৈরি কটেজ থেকে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে হারিয়ে যাওয়া, ভয় ভয় অনুভূতি নিয়ে বনের ছোট খালে নৌকা ট্রিপ, ফিরে এসে কটেজের ফলগাছ থেকে বিভিন্ন জাতের দেশীয় ফল, পুকুরে অবাধ সাঁতার, বড়শি-জাল দিয়ে পুকুর অথবা ঘেরে মাছ ধরা, গ্রাম্য হাট, জেলেপল্লী ঘুরে সন্ধ্যায় কটেজের বিচ চেয়ারে বসে সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা যায় বাদাবন ইকো কটেজে থেকে। রাতে খোলা আকাশের নিচে তাঁবুতে থেকে চাঁদ-তারার লুকোচুরির সঙ্গে বারবিকিউ পার্টি বেশ জমে যায়।

    বাদাবন ইকো কটেজ : সুন্দরবনঘেঁষা গ্রামটির নাম দক্ষিণ চিলা। গ্রামের মানুষ সুন্দরবনকে বলে বাদাবন। লিটন জমাদ্দারও তার পরিবেশবান্ধব কটেজের নাম রেখেছেন ‘বাদাবন’। ২০১৮ সালে যাত্রা শুরু করে লিটনের বাদাবন ইকো কটেজ। শুরুতে দুই ঘরের কটেজে ৮-১০ জন থাকতে পারতেন। দিন দিন পর্যটক বাড়তে থাকে। লিটনও কটেজের সংখ্যা বাড়ান। বাদাবনে এখন ৩৫ থেকে ৪০ জন পর্যটক থাকতে পারেন।

    বাদাবন ইকো কটেজটি বাগেরহাট জেলার মোংলার দক্ষিণ চিলায়। ঢাকা থেকে মোংলার বাস আছে। বাস থেকে নেমে মোংলা নদী পার হতে হবে। তারপর ১০ কিলোমিটার পিচঢালাই পথ। বাদাবনের দুই দিন এক রাতের প্যাকেজ জনপ্রতি ৩ হাজার ৮০০ টাকা। প্যাকেজের মধ্যেই থাকা-খাওয়া, সুন্দরবনে বেড়ানো, স্থানীয় মানুষের জীবনযাপন উপভোগের সুবিধা। বিস্তারিত জানার জন্য যোগাযোগ করুন- ০১৯২৬৯৪৩৬০৮ নম্বরে।

  • সীতাপ জলপ্রপাত : পাহাড়-জলের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য

    সীতাপ জলপ্রপাত : পাহাড়-জলের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য

    ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে ইকো ট্যুর গাইড শ্যামল দেববর্মাসহ একদল রোমাঞ্চপ্রিয় পর্যটক ঢুকে পড়েন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে। কুরমা বন বিটের গভীর অরণ্যে ভারতীয় সীমান্তে তারা খুঁজে পান হামহাম জলপ্রপাত। অসম্ভব সৌন্দর্যময় এ জলপ্রপাতটি এরপর দেশের ভ্রমণপিপাসুদের হৃদয়পটে স্থান করে নেয়।

    এর ঠিক এক বছর পর ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষদিকে একই বন বিটের গভীর অরণ্যে একটি জলপ্রপাতের সন্ধান পাওয়া যায়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় একদল পর্যটকের খুঁজে পাওয়া এ জলপ্রপাতের নাম দেওয়া হয় ‘সীতাপ জলপ্রপাত’। যদিও হামহামের মতো এতটা আলোচনায় আসেনি এ জলপ্রপাত, পায়নি তেমন একট প্রচার-প্রচারণাও। তারপরও এটি দেখতে প্রতিদিনই দেশি-বিদেশি পর্যটকের আনাগোনা লক্ষণীয়।

    হামহাম জলপ্রপাতের কাছেই অবস্থিত এ জলপ্রপাত উচ্চতার দিক থেকে হামহামের চেয়ে কম। তবে এটির সৌন্দর্য হামহামের চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়। বর্ষা মৌসুমে জলপ্রপাতটির ওপর থেকে প্রচণ্ড শব্দে গড়িয়ে পড়ে ঝরনাধারা। তখন গড়িয়ে পড়া পানির শব্দ শুনে মনে হয় পাহাড়ের কান্না চলছে। এটি মৌলভীবাজার জেলার চতুর্থ জলপ্রপাত। এর আগের তিনটি জলপ্রপাত হলো মাধবকুণ্ড, পরীকুণ্ড ও হামহাম জলপ্রপাত।

    সিলেট বন বিভাগের আওতাধীন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কুরমা বন বিটের আয়তন ৭ হাজার ৯৭০ একর। এ বন বিট এলাকার পশ্চিম দিকে চাম্পারায় চা-বাগান, পূর্ব-দক্ষিণে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্ত। কুরমা বন বিটের পাশে শ্রমিকপল্লী কলাবনপাড়া পেরিয়ে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার গহিন অরণ্যের অভ্যন্তরেই অবস্থান সীতাপ জলপ্রপাতের। এটি থেকে হামহাম জলপ্রপাতের দূরত্ব আরও চার কিলোমিটার।

    দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বাস, ট্রেন বা অন্য কোনো যানবাহনে মৌলভীবাজার জেলা সদর বা শ্রীমঙ্গল উপজেলা শহরে এসে সহজেই যাওয়া যায় সীতাপ জলপ্রপাতে। তবে মৌলভীবাজার জেলা সদর না হয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা সদর থেকে একটু হলেও সহজসাধ্য। শ্রীমঙ্গল শহরের ভানুগাছ সড়কে চাম্পারায় চা বাগানগামী জিপ গাড়ি পাওয়া যায়। জিপ গাড়িতে করে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রবেশ মুখে নুরজাহান চা বাগানের সাইনবোর্ড থেকে ডানে মোড় নিয়ে লেবু-আনারস-চা বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে আঁকাবাঁকা পীচঢালা ও ইট সলিং পাহাড়ি রাস্তা ধরে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মাধবপুর চা বাগানের ভেতর দিয়ে পৌঁছতে হবে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ হামিদুর রহমান সড়কে। এ সড়ক ধরে পাত্রখোলা চা বাগানের বামের পাহাড়ি সড়ক ধরে ধলাই নদ পেরিয়ে পৌঁছতে হবে কুরমা ঘাটে।

    কুরমা ঘাট থেকেই শুরু মাটির রাস্তা। এ রাস্তা ধরে এগিয়ে গেলেই পাওয়া যাবে চাম্পারায় চা বাগান। চাম্পারায় চা বাগানের চা তৈরির কারখানা ডানে রেখে সোজা রাস্তা ধরে এগিয়ে যেতে হবে। অল্পক্ষণের মধ্যে পৌঁছে যাবেন কলাবন চা শ্রমিক পাড়ায়। সেখান থেকে আরেকটু সামনেই আদিবাসী ত্রিপুরাপাড়া ‘তৈইলং’। তৈইলং পাড়ায় পৌঁছে হামহাম অথবা সীতাপ যেখানেই যান না কেন হালকা পোশাক পরিধান বিশেষ করে হাফপ্যান্ট বা থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট পরিধান করলে যাত্রা হবে কিছুটা সহজসাধ্য।

    তৈইলংপাড়া থেকে দুটো কাঠের তৈরি সেতু পার হয়ে জারুল ও বেতবাগান পেছনে ফেলে প্যাড নামক স্থানে গেলে পুকুরের মতো জলাশয়টি বামে রেখে ডানে মোড় নিতে হবে। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছতে হবে দুর্গম পাহাড়ি অরণ্যের সীতাপ জলপ্রপাতে। কলাবন চা শ্রমিকপাড়া থেকে সীতাপ জলপ্রপাত পর্যন্ত রাস্তাটি অত্যন্ত পিচ্ছিল। সীতাপে যেতে কখনও পাহাড়ি পাথুরে ছড়া, কখনও বিশালাকার বাঁশবন, কাঁটাবন ইত্যাদি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পাড়ি দিতে হবে। এ ছাড়া ঘন ঝোপঝাড় তো রয়েছেই।

    পানিতে ভেজা পাথরের পথ পাড়ি দিতে নিতে হবে কাঠ বা বাঁশের তৈরি লম্বা লাঠি। পিচ্ছিল পাথরের পথে হাঁটা অত্যন্ত কঠিন কাজ। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ছড়ায় মাঝেমধ্যে কোমর সমান পানি পাবেন। তাই অত্যন্ত সাবধানতার সঙ্গে ধীরে ধীরে হাঁটতে হবে। পাহাড়ের ভেতরে প্রবেশের পর সূর্যের দেখা মেলা অনেকটা দুরূহ। অন্ধকারাচ্ছন্ন ও শীতল এ পথে সাবধানতা অবলম্বন না করলে নেমে আসতে পারে দুর্ভোগ। পড়তে পারেন কোনো দুর্ঘটনায়। এ ছাড়া পথ হারানোর ভয়তো সবসময়ই রয়েছে। যাতে করে রোমাঞ্চকর এ ভ্রমণ হতে পারে বিব্রতকর অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ।

    তবে শত প্রতিকূলতা জয় করে সীতাপ জলপ্রপাতে পৌঁছতে পারলে আপনার দেহ-মনে প্রশান্তির ছোঁয়া লাগবেই। এ জলপ্রপাতের ওপর থেকে নেমে আসা স্বচ্ছ পাহাড়ি জল অবশ্যই মুগ্ধতায় ভরিয়ে দেবে। এখানকার নয়নাভিরাম ও মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশ সবার মন কেড়ে নেয়। তবে হামহাম বা সীতাপ যে জলপ্রপাতেই যান না কেনÑ ট্যুর গাইডের সহায়তা নিলে ভ্রমণ হবে নিরাপদ। শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, কলাবনপাড়া চা শ্রমিকপল্লী অথবা তৈইলং ত্রিপুরাপল্লীতে ট্যুর গাইড পাওয়া যায়।

    সীতাপ জলপ্রপাত যেতে হলে জিপ গাড়ি বা সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে যাওয়া যাবে চাম্পারায় চা বাগান পর্যন্ত। জিপ ভাড়া ২৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া ১৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে। পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে, সেখান থেকে হাঁটা পথ। তবে এ জলপ্রপাতে যেতে হলে শ্রীমঙ্গল থেকে খুব ভোরে রওনা হলেই ভালো। নতুবা দিনের আলো থাকতে ফিরে আসা অত্যন্ত কষ্টকর হবে।