Author: প্রিয় ক্যাম্পাস ডেস্ক

  • পাহাড় আর সবুজের মিতালি

    পাহাড় আর সবুজের মিতালি

    গরম টিলা। মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার ঝাঁকছড়া চা বাগানে অবস্থিত একটি নানন্দিক পর্যটন স্পট। এর মনোরম পরিবেশ মুগ্ধ করে সবাইকে। বর্ষাকালে চারদিকে সবুজের কারনে মনে হয় এ যেনো আরেক সাজেক। শুষ্ক মৌসুমও নজর কাড়ে সবার। গরম টিলার দৃশ্য উপভোগ করার উপযুক্ত সময় ভোরের সূর্য উদয় ও শেষ বিকেলের সূর্যাস্ত। ছবিগুলো তুলেছেন নিশীতা মিতু

    শতবর্ষী গাছ
    গরম টিলার যাওয়ার মনোরম রাস্তা
    মনোরম প্রকৃতি
  • ঈদ আনন্দে একগুচ্ছ গল্প : অহর্নিশ

    ঈদ আনন্দে একগুচ্ছ গল্প : অহর্নিশ

    লুনা রুশদী

    আমার ধারণা ছিল নির্বাণ লাভ করে দরবেশ দশায় চলে গেছি, কিন্তু এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি রাতের সব তারাই আছে দিনের আলোর গভীরে। আসন্ন হার্টব্রেকের পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়। নিজেই নিজেকে শান্টিং দিচ্ছি, ছ্যাঁকা খেয়ে ব্যাঁকা হওয়ার জন্য রেডি হও ডিয়ার অথই! প্রথমে টেরই পাইনি, কিন্তু কীভাবে যে সে অক্সিজেনের মতো আলগোছ, অনায়াস এবং অবারিতভাবে আমার সমস্ত সত্তার ওপর রাজত্ব কায়েম করে ফেলল, তা এক রহস্য। এখন আর কিছুই করার নেই। পেটের মধ্যে একটা গিট্টুলাগা ভাব নিয়ে ঘুরে বেড়াতে হবে। টানটান হয়ে থাকতে হবে তার কণ্ঠস্বরের অপেক্ষায়, ঝনঝন করে বাজতে হবে দেখা পাওয়ার আশায়।

    মেলবোর্নের সবচেয়ে সম্ভ্রান্ত এলাকাগুলোর একটা হলো টুরাক। এখানে একটা প্রাচীন বাড়ির দোতলায় এক বেডরুমের গরিব অ্যাপার্টমেন্টে থাকি আমি আর আমার বিড়াল মিউ। আমাদের আর কেউ নেই। বাথরুম স্যাঁতস্যাঁত করে, সিলিংয়ে মোল্ড জমেছে। রান্নাঘর চরম চিপা। প্রায়ই ভাবি অন্য কোথাও উঠে যাব। কিন্তু সামনের ছোট্ট ব্যালকনিটার কারণে পারি না। সেখানে ছায়া দিয়ে রেখেছে একটা জ্যাকারান্ডাগাছ। গরমকালে বেগুনি ফুলে ছেয়ে যাওয়া গাছটা দেখতে দেখতে মনে ভাসে আশির দশকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর ভিসির বাড়ির মাঝখানের আইল্যান্ডে দাঁড়ানো কৃষ্ণচূড়াগাছটা, যার লাল-হলুদ পাপড়ি ছড়িয়ে থাকত রাস্তাজুড়ে আলপনার মতো। এই অনাত্মীয় শহরে গাছটাই আত্মীয়। মায়ের চেয়ে বেশি ছায়া দিয়ে রাখে সে আমাকে।

    গত কয়েক সপ্তাহ রুদ্ধশ্বাস ওড়াউড়ির মধ্যে গেল! এত উচ্ছ্বাস! ৪৮ বছর বয়সে আবার আমি টিনএজার। সপ্তাহখানেক আগে, দোলপূর্ণিমার পরের দিন, সারা রাত না ঘুমিয়েও কিছুতেই এনার্জি কমানো যাচ্ছিল না। ফোন রাখার সময় দেখলাম ছয় ঘণ্টা ধরে বকরবকর করেছি! কী কথা তার সাথে, তাহার সাথে! ইশ্! শাওয়ারে ঢুকেও তার ঘুমজড়ানো কণ্ঠস্বর আর ঘন নিশ্বাসের শব্দে কেঁপে কেঁপে উঠছিলাম। পানির অবিরল স্পর্শে আমার আত্মা বেঁচে উঠছিল। আমার সারা দুনিয়া অয়ন নামের একটা বিন্দুকে কেন্দ্র করে ঘুরপাক খাচ্ছে। যেখানে যখন থাকার কথা সেখানে আর আমি নেই। সেদিনও বের হতে দেরি হলো।

    ধুপুরধাপুর লাফাতে লাফাতে সিঁড়ি দিয়ে নামলাম। অন্যান্য দিন আমি চলি কুচিমুচি হয়ে, মাটিতে চোখ নামিয়ে। সেদিন ফাটা পোস্টার নিকলা হিরো স্টাইলে বিড়ালের চামড়ার জিপার খুলে সিংহ বের হয়ে গটগটায়ে হাঁটছিল যেন বাপের রাস্তা! ততক্ষণে রোদ উঠে গেছে। গাছের কচি পাতার ভেতর থেকে আলো ঠিকরাচ্ছে। পাখিগুলো মহা অস্থির আলাপ শুরু করেছে। ইশ্ অয়ন! কী যে করলেন আপনি আমারে! নিজের মনেই কথা বলছিলাম তার সঙ্গে। হার্টবিটের সঙ্গে তাল রাখার জন্য ঝেড়ে দৌড় দিতে ইচ্ছা করছিল অথবা একপাক নেচে নিতে। হিন্দি সিনেমায় প্রেমে পড়লে কেন আকাশ-বাতাস থেকে গান ভেসে আসে আর নায়ক-নায়িকা কেন এত দৌড়ায় এখন বোঝা যাচ্ছে।

    নাহ্‌, সাবধান হও অথই! আনন্দ সিনেমায় রাজেশ খান্না কী বলেছিল, মনে নেই? ‘বাবুমশাই, এত ভালোবাসা ভালো নয়!’ সে তোমার চেয়ে ১৮ বছরের ছোট। যখন সে সদ্যোজাত, তুমি তখন সাবালক। সে জিয়াউর রহমানের শাসনকাল জানে না, বিটিভির প্রতিটি খবরের আগে রাষ্ট্রপতি লে. জে. হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ‘নতুন বাংলাদেশ গড়ব মোরা’ দেখেনি, গ্রীষ্মের ঝাঁ ঝাঁ রোদে বারান্দায় বসে ডাকপিয়নের জন্য অপেক্ষা কেমন, সে জানে না। এক অধিকল্প বিছিয়ে আছে আমাদের মধ্যে।

    এত সব গরমিলে পার হয়েও তার কণ্ঠস্বর নিরালা-নির্জন দুপুরে দূর থেকে ভেসে আসা নিরবচ্ছিন্ন ঘুঘুর ডাকের মতো একটা বিষণ্ন আপনবোধে আচ্ছন্ন করে আমাকে। প্রচণ্ড জ্বরের ঘোরে ঠান্ডা জলপট্টির মতো প্রশান্তিময় তার স্পর্শ আমি মনে করতে পারি।

    চার সপ্তাহ আগের শনিবারে ব্যালকনিতে ঠিক আমার সামনের চেয়ারটায় সে বসেছিল, যেখানে মিউ এখন গোল্লা পাকিয়ে কান খাড়া করে শুয়ে আছে। হাতে চায়ের মগ, চোখ মেলে দেওয়া রেলিংয়ের ওই পাশে দোদুল্যমান জ্যাকারান্ডাগাছের শাখায়। কী দেখছিল সে? সকালের স্নিগ্ধ মায়াময় বাতাস আলগোছে পরিপাটি বিলি কাটছিল চিরল পাতায়। বেগুনি ফুলগুলোর ছায়া দুলছিল বারান্দাজুড়ে। আমি দেখছিলাম তাকে ঘিরে আলোছায়ার খেলা। চারকোনা কালো ফ্রেমের চশমার ভেতরে গহিন উজ্জ্বল চোখ। বিষণ্ন? অস্থির? একদম কাছ ঘেঁষে তার দিকে মুখ করে বসেছিলাম আমি, তার গায়ের তাপ অনুভব করছিলাম। তার নিশ্বাসের আঁচ এসে লাগছিল কোলের ওপর ফেলে রাখা আমার হাতের ওপরে। বাঁ গালের ওপরে চশমার ফ্রেমটা যেখানে শেষ হয়েছে, তার নিচে, খাড়া ঋজু নাকের ঠিক পাশে, গালের প্রান্ত ছুঁয়ে কালো তিলটা চুম্বকের মতো টানছিল আমাকে।

    আমার দৃষ্টি দিয়ে তাকে স্পর্শ করা সে-ও টের পেয়েছিল। আমার দিকে ফিরে দৃষ্টি ছুঁয়ে থাকল চোখে চোখ ফেলে। যেন আমার মনের বিস্মৃত আর ধুলায় ধূসর তালাগুলো খুলে যাচ্ছে, যা কিছু আমি নিজেও জানি না অথবা ভুলে গেছি, দিনের আলোর মতো সহজে ধরা দিচ্ছে তার কাছে। পেটের ভেতর কয়েক লাখ প্রজাপতি ডানা ঝাপটাচ্ছিল, বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে বেরিয়ে আসছিল কাঁপা কাঁপা নিশ্বাস। ধীর সহজ প্রশ্রয়ের হাসি তার সারা মুখে ছড়িয়ে যাচ্ছিল। সস্নেহ, কোমল, গভীর স্বরে মুখটা সামনে এগিয়ে নিয়ে এসে, ভ্রু সামান্য ওপরে তুলে সে টেনে টেনে উচ্চারণ করেছিল ‘কীইইই!’ চমকে উঠে তার চোখ থেকে সরিয়ে নিয়ে ঝাপসা দৃষ্টি সামনের রাস্তায় পাঁচ বাচ্চাসহ হাঁসের হেলেদুলে হাঁটার দিকে ফোকাস করতে করতে উত্তর দিলাম, ‘কিছু না।’ সে শব্দ করে হেসে উঠে হাতের চায়ের মগ মাটিতে নামিয়ে রেখে চেয়ারে আধশোয়া ভঙ্গিতে বসে জিনস পরা খালি পা মেলে দিল সামনে। আমার লম্বা স্কার্টের ঝুল মিশে যাচ্ছিল তার পায়ের পাতায়। আমরা ভান করলাম খেয়াল করিনি।

    তার চুলে, ঘাড়ে এসে পড়েছিল সূর্যের নরম আলো। কমলা রঙের টি-শার্ট টানটান হয়ে আছে কাঁধ আর বাহুর সীমানায়। টি-শার্টের বুকের কাছে এক জোড়া ঝুলন্ত জুতার ছবি। তার এক পাটিতে লাল-কালো-সবুজে লেখা, ‘ফ্রিডম ইজ আ হিউম্যান রাইট’, আরেক পাটিতে, ‘অল লাইভস আর ইকুয়াল’। জানতে চাইলাম, এই টি-শার্ট ফিলিস্তিনের সমর্থনে কি না।

    প্রশ্ন শুনে একঝটকায় টানটান উঠে বসল সে। একমুহূর্ত আগের শৈথিল্য ঝরে গিয়ে অস্থিরতা দখল নিল তার। ক্রিকেটার উসমান খাজার কথা জানাল আমাকে। পাকিস্তানের সঙ্গে টেস্ট ম্যাচ খেলার সময় বাহুতে তিনি কালো কাপড় বেঁধেছিলেন ফিলিস্তিনের সমর্থনে, প্র্যাকটিসের সময়ে তাঁর জুতায় লেখা থাকত টি-শার্টের এই স্লোগানগুলো। তা নিয়ে আইসিসির নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে টি-শার্ট ডিজাইন করেছেন খাজা। বিক্রির সব অর্থ দিয়ে গাজায় ত্রাণ পাঠানো হবে।

    আমি মুগ্ধ দেখছিলাম তার চোখে-মুখে চাপা রাগ আর অসহায়তা। হাত নাড়ার ভঙ্গি। অস্থির পায়চারি। শক্ত করে চেপে ধরা বারান্দার রেলিংয়ে কাঁপতে থাকা হাতের পাতা। সে যখন বাবার কোলে মৃত শিশুকন্যার কথা বলছিল, তার কপালের পাশের রগ দপদপ করছিল। আমরা রিফাত আলারিরের কবিতা উচ্চারণ করলাম নিশ্বাসদূরত্বে দাঁড়িয়ে। গণমাধ্যমে কেট মিডলটনের অন্তর্ধান নিয়ে তোলপাড়ের সমান্তরালে গাজায় হাজার হাজার শিশুহত্যার বিষয়ে নীরবতার রাজনীতি নিয়ে কথা বললাম। একসঙ্গে রান্না করার সময় ছোটবেলায় ফিরতে ফিরতে দেখলাম আমার আশির দশকের ঢাকা আর তার শূন্য দশকের মফস্‌সল পাশাপাশি স্বাচ্ছন্দ্য।

    সারা দুপুর তাকে পড়ে শোনালাম সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের অনুবাদে নাজিম হিকমতের কবিতা আর রিলকের লেটারস টু আ ইয়াং পোয়েট, ‘একজন মানুষের পক্ষে আরেকজনকে ভালোবাসাই হয়তো জগতের সবচেয়ে কঠিন কাজ…’, সে সোফায় গা এলিয়ে চোখ বন্ধ করে শুনল আমাকে। আমি চেয়ে চেয়ে দেখলাম তার কাঁপতে থাকা চোখের পাতা, চেহারায় খেলে যাওয়া অনন্ত অভিব্যক্তি। সে জানাল, আমার উচ্ছ্বসিত আর আদুরে কণ্ঠস্বর কানের জন্য আরামদায়ক, আমি জানালাম, তার অনিন্দ্যসুন্দর মুখশ্রী চোখের জন্য স্বস্তিকর। তাকে বললাম, মোনাশ ইউনিভার্সিটির একাডেমিকদের ভেতরকার রাজনীতির কথা, সে বলল, মেলবোর্ন ইউনিভার্সিটি ক্রিয়েটিভ রাইটিংয়ে তার স্কলারশিপের কথা। বিকেল গড়াল সন্ধ্যায়, সন্ধ্যা ঢলে পড়ল রাতে। বিদায় নেওয়ার সময় সে আমাকে উপদেশ দিল রাত না জেগে ঠিকঠাক লক্ষ্মী মেয়ের মতো ঘুমাতে, আমি তাকে বললাম সাবধানে রাস্তা পার হতে। সেটা ছিল তার সঙ্গে আমার দ্বিতীয় এবং শেষ দেখা।

    প্রথম দেখা ঠিক তার আগের রাতে। সহকর্মীদের সঙ্গে অফিস শেষে একটা পাবে ঢুকেছিলাম। সেদিন খুব কিছু খাওয়া হয়নি সারা দিন, তার ওপর পেটে তরলের মাত্রা একটু বেশিই হয়ে গিয়েছিল। রাত প্রায় একটা বাজে তখন। সঙ্গের লোকজন যে যার মতো বাড়ি ফিরেছে। আমি টলতে টলতে এসে দাঁড়ালাম ট্যাক্সিস্ট্যান্ডে। খুব অসুস্থ লাগছিল, বমি পাচ্ছিল। চাঁদটা ক্ষয়ে যাচ্ছিল আকাশে। বাতাসে ধুলা, কুয়াশা আর মেলা ভেঙে যাওয়া ক্লান্ত বিষণ্ন গন্ধ। সারা গা গুলাচ্ছিল আর আমি টালমাটাল হয়ে বমি করার জন্য ময়লার ঝুড়ি খুঁজতে খুঁজতে চিৎকার করে জাতীয় সংগীত গাইছিলাম বাংলায়। তখনই সে এসে ধরে ফেলেছিল আমাকে। বারবার জানতে চাইছিল, ঠিক আছি কি না।

    তার গায়ের ওপর ছেড়ে দিলাম নিজেকে। যেন যা কিছু করার সে-ই করবে। বমি করার সময় পরম মমতায় সে আমার কপাল ধরে থাকল। রুমাল ভিজিয়ে মুখ মোছাল। উবারে তার গায়ের ওপর লেপটে ঘুমাতে ঘুমাতে ফিরেছিলাম। আর সে এক হাত দিয়ে জড়িয়ে রেখেছিল আমাকে। এখনো ঘুমের ঘোরে আমি তার গায়ের আনকোরা সুতি শার্টের গন্ধ পাই, তার হার্টবিটের শব্দ এসে কানে বাজে, আর চুলে পাই তার হাতের স্পর্শ, তার গায়ের পরিচ্ছন্ন ঘ্রাণে নিজেকে পবিত্র লাগে।

    আমার মাতাল কণ্ঠে বেসুরো বাংলা গান শুনেই বুঝেছিল আমি বাংলাদেশের। পরের দিন এসেছিল তার কাছে থেকে যাওয়া আমার পার্সটা ফেরত দিতে; এবং তার পরের দিন, অর্থাৎ রোববার দুপুরে ঘুম ভেঙে আমি তার ফোনে মেসেজ পাঠাতে গিয়ে ব্যর্থ হলাম। বারবার ফোন করে ফোন বন্ধ পেলাম। এরপরের তিনটা দিন শ্বাসরুদ্ধ গেল। নিজেকে প্রশ্ন করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছিলাম। খুব কি অশালীন কিছু করেছি আমি? শুক্রবার রাতে যদি করেও থাকি কিছু, তখন তো আমি নিজের নিয়ন্ত্রণে ছিলাম না। শনিবার সারা দিন একসঙ্গে ছিলাম, তাকে তো বিরক্ত মনে হয়নি। তাহলে কেন হঠাৎ একদম চুপ?

    বুধবার ভোররাত তিনটার দিকে আমার হোয়াটসঅ্যাপে একটা ফুলের ছবি এল তার নম্বর থেকে। নিচে লেখা—ফুলের নাম কানাই বাঁশি। আমি ধড়মড় করে উঠে বসে লিখলাম, ‘কই আপনি?’ জানলাম রোববার ভোরের ফ্লাইটেই সে দেশে গেছে, আমাকে নাকি বলতে ভুলে গেছিল। তিন মাস দেশে থাকবে রিসার্চের কাজে। এরপর কয়েকটা সপ্তাহ স্বপ্নের মতো। প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা। সারা রাত জেগে, দিনের বেলা ডিপার্টমেন্টে ঝিমানো। কখনো চুপচাপ ফোন ধরে একজন আরেকজনের নিশ্বাস শুনতাম আর তার সেই গভীর কণ্ঠের, ‘কীইইই!’ একদিন বললাম, ‘অয়ন! আমাকে একটু জড়ায়ে ধরেন তো!’ সে জবাব দিল, ‘সম্মানিতা রাজকন্যা অথই অবন্তিকা, এক সমুদ্র দূর থেকে কীভাবে আপনারে জড়ায়ে ধরব?’ আমি রাগের চোটে তাকে কাঠের টুকরো বলে গালি দিলাম। সে বলল, এই নাম তার ভালো লেগেছে। কারণ, কাঠের টুকরা চিরভাসমান, তার কোনো আশ্রয় নেই।

    • তিন দিন আগে ফোন রাখার পর একটা কবিতা পাঠিয়েছিলাম তাকে—
      তোমাকে আমি তো আপনি করেই বলি
      ঘুমের ভেতরে তুমি হয়ে যাও তুমি
      আজ বলছিলে জীবন কেমন
      জোনাকির মতো উড়ে উড়ে গিয়ে
      নিরেট অন্ধকারের গায়ে
      মিটমিট করে জ্বলে…
      বলতে বলতে হাসছিলে খুব
      কান্নার মতো করে
      কত কথা শুধু মুছে মুছে যায়
      হাসি দিয়ে ঢেকে রাখি
      আমি তো তোমাকে আপনি বলেই ডাকি…

    লেখাটা সে দেখেছে, কিন্তু জবাব নেই। প্রথমে খুব অস্থির ছিলাম। আর আজ, তার চুপ হয়ে যাওয়ার তৃতীয় দিনে অবসাদ ঘিরে রেখেছে আমাকে। আবার শনিবার। দিন ফুরাচ্ছে। পাড়া বেড়িয়ে মিউ ফিরল, আমার পায়ের কাছে বসা। তাকে বললাম, ‘আর কোনো দিন দেখব না, নারে?’ মিউ ঘররর শব্দ করে আমার পায়ের আঙুল নিয়ে খেলে।

    কলিং বেল বাজল, আর বিদ্যুৎ-তরঙ্গ খেলে গেল আমার শরীরে। দরজায় পৌঁছানোর আগেই বুঝলাম, সে এসেছে। এখানে আর কেউ আসে না! দেখি সিঁড়ির রেলিংয়ে পিঠ ঠেকিয়ে সে দাঁড়ানো। আমি কিছুতেই ঠিকঠাক শ্বাস নিতে পারছি না! চোখ উপচে পানি আসছে। এই রকম পানির ফোয়ারা সঙ্গে নিয়ে ঘুরছি? সে আস্তে হেঁটে ঠিক আমার সামনে এল। ‘কী খবর সম্মানিতা রাজকন্যা অথই অবন্তিকা?’

    ‘কেন আমার মেসেজের জবাব দেন নাই!’ এবার ফুঁপিয়ে কান্না শুরু করেছি।

    ‘আহহা! দেখো তো কী করে!’ এক হাতে আমার চিবুক তুলে ধরে চোখ মুছে দিল আরেক হাতে। কাঁধ জড়িয়ে ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বলল, ‘আর কতকাল আপনি করে বলবা? চলো ঘরে যাই, আর ভেসে থাকতে ভাল্লাগে না!’

  • এই সময়ের ধনী লেখকরা

    এই সময়ের ধনী লেখকরা

    সারা বিশ্বে ধনী লেখকের সংখ্যা খুব বেশি নয়, তবু কেউ কেউ তো লিখেই আয়েশি জীবন যাপন করছেন। এখন লেখালেখি শুধু বই ছাপানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ই-বুক, অডিও বুক, পিডিএফ, কিন্ডল, উপন্যাস থেকে সিনেমা, ওটিটি প্ল্যাটফর্মে গল্প বিক্রি করা—এরকম নানা প্ল্যাটফর্ম তৈরি হওয়ায় এখন লেখালেখি করে আয় করার সুযোগও বেড়েছে। ফলে ধনী লেখকদের সংখ্যাও ক্রমশ বাড়ছে।

    প্রভাবশালী মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস প্রায় প্রতি বছর বিশ্বের ধনী লেখকদের তালিকা প্রকাশ করলেও ২০১৯ সালের পর কোনো তালিকা প্রকাশ করেনি। এখানে সাহিত্যবিষয়ক সাময়িকী লিটারেরি হাবের দৃষ্টিতে বিশ্বের শীর্ষ ১৫ ধনী লেখকের তালিকা তুলে ধরা হলো।

    ১. জেমস প্যাটারসন
    জেমস প্যাটারসন সম্ভবত এখন বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় রহস্যোপন্যাস লেখক। তাঁর অ্যালেক্স ক্রস সিরিজের নাম শোনেননি এমন পাঠক খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। তিনি এখন পর্যন্ত শতাধিক বই লিখেছেন। তাঁর বেশির ভাগ বই চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে প্যাটারসনের বই ৪০ কোটির বেশি কপি বিক্রি হয়েছে। লিটারেরি হাব জানয়িছে, জেমস প্যাটারসনের মোট সম্পদের পরিমাণ ১৬০ কোটি মার্কিন ডলার।

    ২. জে কে রাওলিং
    হ্যারি পটার কিংবা জে কে রাওলিং নিয়ে নতুন করে কীই বা বলার আছে। এই একটি সিরিজ রাওলিংকে জীবিত কিংবদন্তিতে পরিণত করেছে। তাঁকে এনে দিয়েছে অর্থ,খ্যাতি ও প্রতিপত্তি। হ্যারি পটার থেকে এখন পর্যন্ত ৮টি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। প্রতিটি চলচ্চিত্র পেয়েছে বিপুল জনপ্রিয়তা। লিটারারি হাব বলছে, জে কে রাওলিংয়ের মোট সম্পদের পরিমাণ ১০০ কোটি ডলার।

    ৩. স্টিফেন কিং
    স্টিফেন কিংয়ের পাঠকদের বলা হয় ‘একনিষ্ঠ ভক্ত’। কারণ তারা সব সময় কিংয়ের বইয়ের জন্য মুখিয়ে থাকেন এবং বই প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাখ লাখ কপি বিক্রি হয়ে যায়। স্টিফেন কিংয়ের প্রকৃত নাম রিচার্ড বাচম্যান। ১৯৭৪ সালে লেখালেখিতে প্রবেশ করার পর ‘স্টিফেন কিং’ ছদ্মনাম নেন তিনি। প্রতি ২০ সপ্তাহ পর পর একটি করে বই প্রকাশ করতে শুরু করেন। ভৌতিক উপন্যাস লেখাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন স্টিফেন কিং। এখন ভৌতিক উপন্যাস বলতেই পাঠক স্টিফেন কিংকে বোঝেন। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৭০ কোটি ৫৯ লাখ মার্কিন ডলার।

    ৪. ড্যানিয়েল স্টিল
    গত কয়েক দশক ধরেই রোমাঞ্চ উপন্যাস বিক্রির শীর্ষে রয়েছে ড্যানিয়েল স্টিলের বইগুলো। তিনি ১৯৭৩ সালে লেখালেখির জগতে প্রবেশ করেন। এরপর থেকে ১৮০টির বেশি বই লিখেছেন। বিশ্বব্যাপী তাঁর বইগুলো ৮০ কোটির বেশি বিক্রি হয়েছে। আর তাঁর উপন্যাস থেকে চলচ্চিত্র হয়েছে ২৩টি। লিটারেরি হাব বলছে, ড্যানিয়েল স্টিলের সম্পদের পরিমাণ ৬০ কোটি মার্কিন ডলার।

    ৫. জন গ্রিশাম
    আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ জন গ্রিশাম। জন গ্রিশাম আইনবিষয়ক থ্রিলার লিখে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। তাঁর জনপ্রিয় বইগুলোর মধ্যে রয়েছে আ টাইম টু কিল, দ্য ফার্ম ও দ্য রেইনমেকার। গ্রিশামের সব কটি বই থেকেই চলচ্চিত্র হয়েছে। বিশ্বজুড়ে তাঁর বই ৩০ কোটির বেশি বিক্রি হয়েছে। গ্রিশামের বর্তমান সম্পদের পরিমাণ ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি।

    ৬. জেফি কিনি
    বর্তমান সময়ের শিশুদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় বইটির নাম ডায়েরি অব আ উইম্পি কিড। এই সিরিজ লিখেই রাতারাতি তারকা বনে গেছেন এবং বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছেন জেফি কিনি। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৪৮ কোটি মার্কিন ডলার।

    ৭. ই এল জেমস
    টোয়াইলাইট-এর ফ্যানফিকশন হিসেবে ফিফটি সেশড অব গ্রে লেখা শুরু করেছিলেন ই এল জেমস। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ২০১১ সালে। এরপরই তো বাজিমাত। টোয়াইলাইট–এর জনপ্রিয়তাকেও ছাড়িয়ে যেতে বসেছে ফিফটি শেডস অব গ্রে। টিকটকের বুকটকে এখন সবচেয়ে আলোচিত উপন্যাস এটি। ই এল জেমসের বর্তমান সম্পদের পরিমাণ ৪৬ কোটি মার্কিন ডলার।

    ৮. জেনেট ইভানোভিচ
    ১৯৭০-এর দশকে লেখালেখির জগতে পা রেখেছিলেন জেনেট ইভানোভিচ। তবে তিনি প্রথম সফলতার দেখা পান ১৯৯৪ সালে ওয়ান ফর দ্য মানি উপন্যাসের মাধ্যমে। এর সাফল্য এতটাই আকাশচুম্বী হয় যে তিনি এই রহস্যোপন্যাস সিরিজ লিখতে বাধ্য হন। এই সিরিজের সর্বশেষ উপন্যাস ডার্টি থার্টি ২০২৩ সালের হ্যালোইনে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৪২ কোটি মার্কিন ডলার।

    ৯. নোরা রবার্টস
    জনপ্রিয়তার দিক থেকে প্রায়ই দন কিহোতের সঙ্গে তুলনা করা হয় নোরা রবার্টসকে। বলা হয়, তিনি ক্রমশ নিজেই নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। রোমাঞ্চ-ফ্যান্টাসি-রহস্য ঘরানার এই লেখক ‘জে ডি রব’ নামেও লিখে থাকেন। এই ছদ্মনামে তাঁর রহস্য সিরিজ ইন ডেথ প্রকাশিত হয়। এখন পর্যন্ত ২৩০টির বেশি উপন্যাস লিখেছেন নোরা বরার্টস। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ৪০ কোটি মার্কিন ডলার, যা তাঁকে বিশ্বের শীর্ষ ধনী লেখকে পরিণত করেছে।

    ১০. সুজানে কলিনস
    দ্য হাঙ্গার গেমস ট্রিলজির জন্য বিখ্যাত হয়ে গেছেন সুজানে কলিনস। ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত এই সিরিজ থেকে চারটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। তাঁর আরেকটি উপন্যাস দ্য ব্যালাড অব সংবার্ডস অ্যান্ড স্নেকস থেকেও ২০২৩ সালে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়েছে। সুজানে কলিনসের সম্পদের পরিমাণ ৩০ কোটি মার্কিন ডলার।

    ১১. ড্যান ব্রাউন
    দ্য ভিঞ্চি কোড নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। এর লেখক ডন ব্রাউনকে নিয়েও নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। ভিঞ্চি কোড ও ড্যান ব্রাউন বিশ্বজুড়ে এতটাই জনপ্রিয় যে ফুটপাতের দোকানিরাও তাঁকে চেনেন। আমাদের দেশেও ভিঞ্চি কোড নিয়ে মাতম কম নয়। ২০০৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর সারা জাগানো দ্য ভিঞ্চি কোড। উপন্যাসটি এখনো বিশ্বের সর্বাধিক বিক্রিত বইগুলোর একটি। এ পর্যন্ত দুবার চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত হয়েছে দ্য ভিঞ্চি কোড। আর বিশ্বব্যাপী বিক্রি হয়েছে ২৫ কোটির বেশি কপি। তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ ২৭ কোটি ১০ লাখ ডলার।

    ১২. দন কিহোতে
    এমন কোনো বইয়ের দোকান সম্ভবত পাওয়া যাবে না, যেখানে দন কিহোতের রহস্য উপন্যাস নেই। ১৯৬৮ সালে প্রথম উপন্যাস প্রকাশের পর থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে লিখে যাচ্ছেন কিহোতে। এ পর্যন্ত ১১০টি উপন্যাস লিখেছেন তিনি। আর তাঁর প্রতিটি বই তুমুল পাঠকপ্রিয়। সেলিব্রেটি নেটওর্থের বরাত দিয়ে লিটারেরি হাব বলছে, দন কিহোতের বর্তমান সম্পদ ২০ কোটি মার্কন ডলার।

    ১৩. রিক রিঅর্ডান
    মামুলি এক স্কুল শিক্ষক থেকে বিশ্বের শীর্ষ ধনী লেখক বনে গেছেন রিক রিঅর্ডান। গত শতকের ৯০-এর দশকের শেষের দিকে একটি ক্রাইম থ্রিলার লিখতে শুরু করেছিলেন তিনি। সেটি শেষ হয় ২০০৫ সালে। কে জানত, বইটি প্রকাশের পর রাতারাতি তাঁর জীবনটাই বদলে যাবে? উপন্যাসটির নাম দ্য লাইটনিং থিফ। প্রকাশের পরপরই মুড়িমুড়কির মতো বিক্রি হতে থাকে বইটি। মার্কিন শিশুদের জীবনে গ্রিক, রোমান আর মিসরীয় পুরাণের অনবদ্য মিশেলের কারণেই হয়তো বইটি চূড়ান্তভাবে আকর্ষণ করেছিল পাঠকদের। রিক রিঅর্ডানের বর্তমান সম্পদের পরিমাণ ১৩ কোটি মার্কিন ডলার।

    ১৪. স্টিফেন মেয়ার
    ২০০৫ সালে একটি বই সারা বিশ্বের কিশোর-তরুণদের মধ্যে ঝড় তুলেছিল। বইটির নাম টোয়াইলাইট। এই একটি বই স্টিফেন মেয়ারকে তারকাখ্যাতি এনে দিয়েছে। আর দিয়েছে প্রভূত অর্থ-প্রতিপত্তি। এরপর মেয়ার আরও তিনিট উপন্যাস এবং পাঁচটি চিত্রনাট্য (চলচ্চিত্রের) লিখেছেন। তাঁর লেখালেখি ঘিরে তৈরি হয়েছে বিপুল ভক্তশ্রেণি। গত ৮ বছরে শুধু বই লিখে মেয়ার আয় করেছেন ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। তাঁর বর্তমান সম্পদের পরিমাণ ১২ কোটি মার্কিন ডলার।

    ১৫. কেন ফলেট
    দ্য পিলার্স অব দ্য আট বইয়ের নাম শোনেননি এমন পাঠক খুঁজে পাওয়া মুশকিল। এই একটিমাত্র বই কেন ফলেটের জীবনকে ঘুরিয়ে দিয়েছে। ১৯৮৯ সালে বইটি লিখেছিলেন কেন ফলেট। বিশ্বব্যাপী তাঁর বই বিক্রি হয় ১৬ কোটি কপি। ১ ডলার করে রয়্যালটি নিলেও তাঁর বছরে রয়্যালিটি দাঁড়ায় ১৬ কোটি ডলার। সন্দেহের কোনো কারণ নেই, ফলেট এর চেয়ে বহুগুণ বেশি র​য়্যালটি পেয়ে থাকেন। লিটারেরি হাব বলছে, কেন ফলেটের বর্তমান সম্পদ ৬ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার।

  • বুকারের দীর্ঘ তালিকায় দক্ষিণ ভারতীয় বানু মুশতাক

    বুকারের দীর্ঘ তালিকায় দক্ষিণ ভারতীয় বানু মুশতাক

    দীপা ভাস্তির ইংরেজিতে অনুবাদ করা কন্নড় ভাষার লেখক বানু মুশতাকের ছোটগল্পের সংকলন হার্ট ল্যাম্প ২০২৫ সালের মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কারের দীর্ঘ তালিকাভুক্ত হয়েছে।

    দক্ষিণ ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের নারীদের জীবনের গল্প ফুটিয়ে তোলায় সংকলনটি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এটিকে কন্নড় সাহিত্যের জন্য একটি মাইলফলক বলে মনে করছেন অনেকে।

    দীর্ঘ তালিকা থেকে বুকারের সংক্ষিপ্ত তালিকা ঘোষণা হয় ৮ এপ্রিল। এরপর আগামী ২০ মে চূড়ান্ত বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।

    ৭৭ বছর বয়সী বানু মুশতাক দীর্ঘদিন ধরে প্রান্তিক সম্প্রদায়ের কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত। ১৯৭০ দশকে বন্দয়া সাহিত্য আন্দোলন থেকে উদ্বুব্ধ হয়ে সাহিত্যজীবন শুরু করেন তিনি। তাঁর লেখায় বর্ণ ও শ্রেণি নিপীড়নের কথা উঠে এসেছে বেশি।

    বুকারে মনোনয়ন পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি খুব খুশি। তবে সমাজের বৈষম্য নিয়ে আমার আরও লেখা দরকার।’ আর বিচারকদের মতে, হার্ট ল্যাম্প হলো দক্ষিণ ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের নারী ও মেয়েদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিচ্ছবি।

  • নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্র কেননো দেখছে বিএনপি, কী বলছে এনসিপি-জামায়াত?

    নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্র কেননো দেখছে বিএনপি, কী বলছে এনসিপি-জামায়াত?

    নির্বাচন নিয়ে রাজনীতিতে চলছে নানা গুঞ্জন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজনীতির মাঠ- সর্বত্রই এখন প্রশ্ন; নির্বাচন শেষ পর্যন্ত হবে তো, হলে কবে হবে? যদিও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলছে, নির্বাচন হবে আগামী ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে। জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন দল সরকারের অবস্থানকে সমর্থন করছে। তবে ডিসেম্বরে নির্বাচন চায় বিএনপি। ইদের আগেই বোঝা যাচ্ছিলো যে, ইদের পর রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে পারে। কারণ বিএনপি ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলো, ডিসেম্বরে সংসদ নির্বাচনের দাবিতে প্রয়োজনে রাজপথের কর্মসূচি দেবে তারা।

    দলটি এখন সে পথেই এগোচ্ছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যেই দলের নেতারা একাধিক বৈঠক করেছেন। গত সোমবার হয়েছে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক। এরপর বিএনপি জানিয়েছে, আগামী ১৬ই এপ্রিল তারা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। যেখানে ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ‘রোডম্যাপ দেয়ার আহ্বান’ জানানো হবে।

    প্রধান উপদেষ্টা জবাবে কী বলেন তার ওপর ভিত্তি করেই বিএনপি ঠিক করবে নির্বাচনের রোডম্যাপের দাবিতে তারা সরকারের ওপর কীভাবে চাপ তৈরি করবে, কর্মসূচি কী হবে। আর যদি ডিসেম্বরকে ঘিরেই নির্বাচনের কথা বলা হয়, তাহলে নির্বাচনের প্রস্তুতিতে যাবে দলটি। কিন্তু বিএনপি যখন ডিসেম্বরে নির্বাচনের জন্য এখনই রোডম্যাপ চাইছে, তখন জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্রদের নতুন দল এনসিপি আবার আগামী বছরের জুন পর্যন্ত সরকারকে সময় দেয়ার পক্ষে রয়েছে। তাদের যুক্তি, এই সময়ের মধ্যেই সরকার যেন ‘প্রয়োজনীয় সংস্কার ও গণহত্যার বিচারের’ কার্যক্রম শুরু করতে পারে।

    রোডম্যাপ দিতে বাধা কোথায়- প্রশ্ন বিএনপির
    গত পাঁচই অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর আটই অগাস্ট দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বিএনপি শুরু থেকেই ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে’ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে আসছে। পরে নতুন বছরের শুরুতে বিএনপি নেতারা আগামী জুলাই-অগাস্টের মধ্যেও নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব, এমন কথা বলে আসছিলেন। তবে দলটি আরেকটু পিছিয়ে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে সরকার বলছে সংস্কারের কথা। সংস্কারের জন্য গঠিত বিভিন্ন কমিশনের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর সরকার জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করে।

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন, বড় ধরণের সংস্কার করতে হলে নির্বাচন আগামী বছরের জুনে হতে পারে। আর ছোট আকারের সংস্কার হলে নির্বাচন হতে পারে ডিসেম্বরে। কিন্তু সংস্কারের জন্য ডিসেম্বরের পরে নির্বাচনের আয়োজনের বিরোধী বিএনপি।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা বড় সংস্কার আর ছোট সংস্কার বলতে কী বোঝান, সেটা তো আমরা বুঝি না! কোন সংস্কারই ছোট বা বড় নয়। আমরা বলেছিলাম, নির্বাচনমুখী যেসকল সংস্কার সেগুলো শেষ করে নির্বাচন দিয়ে দিন। কিন্তু এখন বড় সংস্কার বলতে উনি কী বোঝাচ্ছেন, সেটা পরিস্কার করতে হবে। যদি উনি সংবিধান সংস্কারকে বড় সংস্কার মনে করেন তাহলে সেটা আমাদেরকে বলতে হবে। সংবিধথান সংস্কার তো জাতীয় সংসদ ছাড়া হবে না। সংস্কারের জন্য সময়ক্ষেপন করার কোনও যৌক্তিকতা নেই। দেখেন সংবিধান সংস্কার ছাড়া এর বাইরে এমন আর কোনও সংস্কার প্রস্তাব নেই যেটা জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহিত হলে এক থেকে দেড় মাসের বেশি সময় লাগবে। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, এখানে সংবিধান সংশোধনীর যেসব বিষয়ে জাতীয় একমত্য তৈরি হবে সেসব বিষয় চিহ্নিত করে একটা চার্টার করাই যায়। পরবর্তী নির্বাচিত সংসদ সেটা বাস্তবায়ন করবে। এরজন্য নির্বাচন পেছানোর তো দরকার নেই। এগুলো নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য একটা পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত হবে কিন্তু সেজন্য নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা দিতে বাধা কোথায়?

    নির্বাচন বিলম্বিত করার পাঁয়তারা দেখছে বিএনপি
    বিএনপি নির্বাচনের রোডম্যাপ চায়। কিন্তু সরকার রোডম্যাপ ঘোষণা করছে না। বিএনপি এটাকে সন্দেহের চোখে দেখে। যদিও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলছে, আগামী ডিসেম্বর থেকে জুন––এই সাত মাসের মধ্যেই নির্বাচন হবে। সরকার প্রথমে সংস্কারের অ্যাজেন্ডা ঠিক করার জন্য অপেক্ষা করেছে। সংস্কার কমিশনগুলোর রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর সেটা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত চেয়েছে। এরপরের ধাপ হচ্ছে দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা। এই আলোচনা শেষ হলেই বোঝা যাবে সংস্কারের অ্যাজেন্ডা কী হবে এবং কবে, কীভাবে বাস্তবায়ন হবে। এই বিষয়ে ঐকমত্য হলেই সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করবে।

    দেখা যাচ্ছে, জামায়াত, এনসিপির মতো দলগুলো সরকারের এই প্রক্রিয়ায় এবং নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সীমায় আস্থা রাখলেও বিএনপি সাত মাসের এই সম্ভাব্য সময়সীমাকে দেখছে তাদের ভাষায় নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা হিসেবে। ফলে তারা ডিসেম্বরের পরে যেতে চায় না। কিন্তু নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সীমা দেয়ার পরও বিএনপি কেন সেটাকে সন্দেহ করছে?

    এমন প্রশ্নের উত্তরে নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্রের কথা বলছেন বিএনপি নেতারা। জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যেখানে মানুষ গণতন্ত্রের জন্য, গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য রক্ত দিয়েছে, গণঅভ্যুত্থান করেছে, সেখানে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উত্তরণের জন্য যদি এতো অনিশ্চয়তা থাকে, সেটাকে আমরা স্বাভাবিক নয় বলেই মনে করি। আমরা কো-রিলেট করতে চাই যে, কিছু কিছু নতুন রাজনৈতিক দল এবং পুরনো রাজনৈতিক দলের বক্তব্যে নির্বাচন বিলম্বিত করার একটা পাঁয়তারা লক্ষ্য করা যায়। তো সে কারণে সরকারের বক্তব্য এবং তাদের কথা ও কর্মকাণ্ড -সবকিছু বিবেচনা করলে দেখা যায় নির্বাচন নিয়ে একটা অনিশ্চিত পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। সেটা গণতন্ত্রের জন্য কল্যাণকর নয়। কারণ নির্বাচন যতো দেরি হবে, গণতন্ত্র উত্তরণের রাস্তা ততো কঠিন হবে। নির্বাচন কবে হবে সেটা জানতে তারা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সেই সাক্ষাতে কী ফল আসে তার ভিত্তিতেই করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

    অন্য দলগুলো কী বলছে?
    এটা স্পষ্ট যে নির্বাচন পেছানোর চেষ্টা কেউ কেউ করছে- বিএনপির ভেতরে এমন সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এটা আরও জোরালো হয়েছে, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে অনেকেই, বিশেষত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্তত পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। কেউ কেউ প্রধান উপদেষ্টার প্রশংসা করে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথাও জানিয়েছেন। এসব প্রেক্ষাপটেই বিএনপি বলছে, ডিসেম্বরের পরে নির্বাচন নেয়ার চেষ্টা হলে তারা বিরোধিতা করবে, প্রয়োজনে রাজপথে কর্মসূচি পালন করবে। এর বিপরীতে রাজনৈতিক অঙ্গনে যেসব বক্তব্য আসছে, সেগুলো মূলত পাওয়া যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী এবং জুলাই আন্দোলনে অংশ নেয়া ছাত্রদের নেতৃত্বে নবগঠিত দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির নেতাদের বক্তব্যে। এসব দল নির্বাচনের আগে সংস্কার এবং আওয়ামী লীগের বিচারের যে দাবি করছে সেটাকে অনেকেই দেখছেন নির্বাচন বিলম্বিত করার চেষ্টা হিসেবে। তবে জামায়াতে ইসলামী কিংবা এনসিপি অবশ্য বলছে, তারা নির্বাচন পেছানোর পক্ষে নন। বরং সরকারকে সময় দিতে চান ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত।

    জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর মুখপাত্র ও দলটির প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, প্রধান উপদেষ্টা তো বলেই দিয়েছেন জুনের মধ্যে নির্বাচন। তিনি বলেছেন, বেশি সংস্কার চাইলে ইলেকশন হবে জুনে। উনি যেহেতু জুন পর্যন্ত চলে গিয়েছেন, সুতরাং বেশি সংস্কার নিয়েই তো (নির্বাচন) হবে। আর এর পরে নির্বাচন কোন কারণে পেছাবে? এর পরে নির্বাচন যাওয়ার তো কোনো কারণ দেখি না।

    একইরকম মনোভাব জানিয়েছেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, একটা গণঅভ্যুত্থানের পরে সংস্কার হওয়াটাই স্বাভাবিক। ডি‌সেম্বর থেকে জুন -আমরা মনে করি এ সময়ের মধ্যেই সরকার সংস্কার এবং বিচারের দৃশ্যমানতার দিকে সরকার এগুতে পারে। এর মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের যে কার্যক্রম সেটা সম্পূর্ণ করা সম্ভব।

    তবে এনসিপি কিংবা জামায়াত জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাইলেও ডিসেম্বরে নির্বাচন না হলে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। সেক্ষেত্রে যেসব দল জুন পর্যন্ত সরকারকে সময় দিতে চায় তাদের কী হবে? এসব দলও কি তাদের দাবি নিয়ে আন্দোলনে যাবে?

    জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর মুখপাত্র মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, কোনো দলেরই আন্দোলনের পরিস্থিতি দেশে নেই। আন্দোলনটা কার বিরুদ্ধে হবে? আন্দোলনটা তো হবে একটা দাবি আদায়ের জন্য। সেই দাবিটা তুলে ধরা, আলোচনার তো জায়গা আছে, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলা যায়, ঐকমত্য কমিশনে বক্তব্য তুলে ধরা যায়। দ্বিতীয়ত, যদি এমনটা হয় যে কোনো অবস্থাতেই একটা যৌক্তিক দাবি আদায় করা যাচ্ছে না। তখন আপনি জনগনকে জানাতে পারেন। এতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু বাংলাদেশে এই ধরনের কোনো সিচুয়েশন এখনও তৈরি হয়নি।

    দলগুলোর মধ্যে যখন এমন মতভেদ তখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঐকমত্য কমিশন ধারাবাহিকভাবে বৈঠক শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে। এসব বৈঠক এবং দলগুলোর আনুষ্ঠানিক মতামত পাওয়ার পরই সংস্কার এবং নির্বাচনের সময় নিয়ে ঐকমত্যের পথ স্পষ্ট করতে চায় সরকার। কিন্তু তার আগেই বড় দলগুলোর যে মনোভাবে তাতে এটা বোঝা যাচ্ছে যে, সেই ঐকমত্য হয়তো খুব একটা সহজ হবে না।

    সূত্র : বিবিসি বাংলা

  • বজ্রপাতে ভারতে ৮০ জনের মৃত্যু

    বজ্রপাতে ভারতে ৮০ জনের মৃত্যু

    এবার ভারতে বর্ষার মৌসুম আসার আগেই বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে ৮০ জনের। গত ৪৮ ঘণ্টায় ঘন ঘন বজ্রপাতে দেশটির বিহারের একাধিক জেলায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৫৮ জনের। উত্তরপ্রদেশে প্রাণ হারিয়েছেন ২২ জন। এ নিরয়েই দুই রাজ্য প্রশাসনের আশঙ্কা এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

    বিহারের রাজ্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নালন্দা জেলাতেই অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও ভোজপুরে ৫ জন এবং গয়া জেলায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। পটনা, গোপালগঞ্জ, মুঙ্গের, সমস্তিপুর, জেহানাবাদ, মুজাফফরপুর, আরারিয়া এবং বেগুসরাইয়সহ আরও বেশ কয়েকটি জেলায় হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।

    বজ্রপাতে মৃতদের পরিবারকে ৪ লাখ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার।

    শুক্রবার (১১ এপ্রিল) বিহারের প্রশাসন জানিয়েছে, বিহারের বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এই কারণে নালন্দা, মধুবনী, পূর্ব এবং পশ্চিম চম্পারণসহ বিভিন্ন জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    এর আগে গত বুধবার (৮ এপ্রিল) বিহারের চারটি জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

    অন্যদিকে বিহারের প্রতিবেশী রাজ্য উত্তরপ্রদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতজনিত ঘটনায় কমপক্ষে সরকারিভাবে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ত্রাণ কমিশনারের কার্যালয়ের তথ্য অনুসারে, প্রবল বাতাসের কারণে দেওয়াল অথবা ছাদ ভেঙে ও বজ্রপাতে ১৩ জন মারা গিয়েছেন এবং অনেকেই আহত হয়েছেন।

    এছাড়াও বৃষ্টিজনিত অন্যান্য কারণে কানপুর দেহাত, ফতেহপুর, ফিরোজাবাদ, কনৌজ, সন্ত কবির নগর, সীতাপুর, সিদ্ধার্থনগর, আজমগড়, আমেঠি, বারাবাঁকি এবং বালিয়াসহ রাজ্যের ৩৬টি জেলার মধ্যে ১১টিতেই হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।

    উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ মৃতদের পরিবারকে ৪ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন। তিনি ভারী বৃষ্টিপাত এবং বজ্রপাতের কারণে জীবন ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য একটি সমীক্ষা পরিচালনা করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

  • ক্লান্তি পিছু ছাড়ছে না, ভিটামিন ডি স্বল্পতায় ভুগছেন না তো?

    ক্লান্তি পিছু ছাড়ছে না, ভিটামিন ডি স্বল্পতায় ভুগছেন না তো?

    শাহিনুর আক্তার তানিয়া। একটি স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। সকালে স্কুলে ঢুকছেন, বেরোতে বেরোতে বিকেল। আবার ছুটির দিনগুলোতে বাসার কাজের ব্যস্ততা। এদিকে সব সময় ক্লান্ত লাগে, শরীরে বিভিন্ন রকমের ব্যথাও ভোগায় মাঝেমধ্যে। বসে থাকতে থাকতে বাড়ছে ওজনও। চিকিৎসকের কাছে গিয়ে জানতে পারেন, ভুগছেন ভিটামিন ডি-এর অভাবে। যেভাবেই হোক অল্প সময়ের জন্য হলেও শরীরে সূর্যের আলো লাগানো চাই।

    ভিটামিন ডি-কে বলা হয় ‘সানশাইন ভিটামিন’। কারণ এটি সূর্যের আলোয় আমাদের ত্বকে তৈরি হয়। আর এটি অভাব যে কতটা ভোগাতে পারে, তা তানিয়া আক্তারের মতো ভুক্তভোগীরাই ভালো ব্যাখ্যা দিতে পারে। যাদের সকাল—সন্ধ্যা চার দেয়ালের ভেতরে থাকতে হয়, তাদের এই সমস্যায় ভুগতে হয় বেশি।

    দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝে শরীরের চাহিদা অনুযায়ী সূর্যের আলোর সংস্পর্শে আসার সুযোগ সবার হয় না। যার ফলে শরীরের অন্যতম প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান হলেও এর পর্যাপ্ততা সবার শরীরে নেই। আপনার শরীরে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি রয়েছে কি না সেটি বোঝার কিছু উপায় রয়েছে। সেগুলো নিয়েই জানাব এই প্রতিবেদনে।

    ভিটামিন ডি স্বল্পতার লক্ষণগুলো—
    ১. ক্লান্তি ভাব :
    ‘হাউ নট টু ইট আল্ট্রা-প্রসেসড’ বইয়ের লেখক বিশেষজ্ঞ ডায়েটিশিয়ান নিকোলা লুডল্যাম-রেইন বলেন, ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির একটি সম্পর্ক রয়েছে। ২০১৫ সালের এক গবেষণার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারী নার্সদের ওপর চালানো একটি সমীক্ষায় দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের ৮৯ শতাংশের শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি ছিল এবং তারা নিজেরাই ক্লান্তি অনুভবের কথা বলেছেন। ২০১৯ সালের একটি গবেষণায়ও দেখা যায়, ৪৮০ জন বয়স্ক মানুষের মধ্যে ভিটামিন ডি-এর মাত্রার সঙ্গে ক্লান্তির উপসর্গের মিল পাওয়া যায়।

    ২. ঠান্ডা লাগা ও সংক্রমণে বারবার আক্রান্ত হওয়া : গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির কারণে ইমিউন সিস্টেমের কাজ দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। যদি কেউ ঘন ঘন অসুস্থ হন বা বারবার সংক্রমণে ভোগেন এবং এর কোনো নির্দিষ্ট কারণ না জানা থাকে, তাহলে জলদি চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ নেওয়াই ভালো। বিশেষ করে আপনি যদি গর্ভবতী হন বা ৭৫ বছরের বেশি বয়সী হন, তবে এটি আরও জরুরি। অধ্যাপক গ্রসম্যান বলেন, ‘ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি দেখা গেলে যৌক্তিক মাত্রায় সাপ্লিমেন্ট নেওয়াতে কোনো ক্ষতি নেই। যদি রক্তে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা ৫০ এনএমওএল/এল-এর নিচে হয়, তাহলে আমি সাধারণত এক থেকে দুই হাজার আইইউ প্রতিদিন নেওয়ার পরামর্শ দিই।

    ৩. হাড়ে ব্যথা : ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম শোষণ ও হাড়ের গঠন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর ঘাটতি হলে অস্টিওপোরোসিসের মতো হাড়ের রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে অস্টিওপোরোসিস অনেক সময় ধরা পড়ে তখনই, যখন হঠাৎ পড়ে যাওয়ার পর কোনো হাড় ভেঙে যায়। অধ্যাপক গ্রসম্যান বলেন, ‘হাড়ে ব্যথা থাকা মানেই অস্টিওপোরোসিস হয়েছে— তা নয়। কিন্তু যদি হাড়ে ব্যথা থাকে এবং অন্য কোনো কারণ না থাকে, তাহলে আমি পরামর্শ দেব, ভিটামিন ডি-এর মাত্রা ৫০ এনএমওএল/এল-এর নিচে হলে সাপ্লিমেন্ট নেওয়া উচিত। ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি অনেক বেশি হলে ‘অস্টিওমালাসিয়া’ হয়। এই রোগে হাড়ে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ও প্রায়ই পেশিশক্তি কমে যাওয়ার সমস্যা হয়। এটি এটি অস্টিওপোরোসিস থেকে আলাদা।

    ৪. পেশির ক্লান্তি ও ব্যথা : পেশিতে ব্যথার নির্দিষ্ট কারণ সব সময় চট করে বোঝা যায় না, তবে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি এর একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। লুডল্যাম-রেইন বলেন, ভিটামিন ডি পেশির স্বাভাবিক কার্যকারিতায় সহায়তা করে। এর অভাবে পেশির দুর্বলতা ও ব্যথা হতে পারে। ২০১৪ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ব্যথায় ভুগছিলেন, তাঁদের ৭১ শতাংশের শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি ছিল।

    ৫. ক্ষত ধীরে সেরে ওঠা : ডায়েটিশিয়ান লুডল্যাম-রেইন বলেন, ভিটামিন ডি শরীরে প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ করা, সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করা ও ত্বক মেরামতে সহায়তা করে থাকে। তাই ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি থাকলে ক্ষত সেরে উঠতে দেরি হওয়া স্বাভাবিক। ২০১৪ সালের এক গবেষণায় ২২১ জন মানুষের মধ্যে দেখা গেছে, যাদের শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি ছিল, তাদের রক্তে প্রদাহ-সংক্রান্ত উপাদানের মাত্রা বেশি ছিল, যা ক্ষত নিরাময়ে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, ৬০ জন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর পায়ে ক্ষত ছিল। যাঁরা ১২ সপ্তাহ ধরে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নিয়েছিলেন, তাঁদের ক্ষত অন্যদের তুলনায় দ্রুত সেরে গিয়েছে। অধ্যাপক গ্রসম্যান বলেন, কিছু মানুষ বিশেষভাবে ঝুঁকির মধ্যে থাকেন—বয়স্করা, বেশির ভাগ ঘরেই থাকেন এমন মানুষেরা, যাদের গায়ের রং কালো এবং যেসব দেশে সূর্যের আলো কম।

    ৬. চুল পড়া : লুডল্যাম-রেইন জানান, ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি ও চুল পড়ার মধ্যে একটি সম্পর্ক থাকতে পারে, বিশেষ করে অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটা-র মতো রোগে। তিনি বলেন, ‘অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটা একটি অটোইমিউন রোগ, যার ফলে প্রচুর চুল পড়ে যায়। এক গবেষণায় ৪৮ জন রোগী, যাঁরা এই রোগে ভুগছিলেন, তাঁদের ওপর একটি পরীক্ষামূলক ওষুধ হিসেবে কৃত্রিম ভিটামিন ডি ব্যবহার করা হয়েছিল। ১২ সপ্তাহ পরে দেখা যায়, তাঁদের চুল গজানোর হার অনেক বেড়ে গেছে। অন্য একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, যাদের শরীরে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা বেশি ছিল, তাদের চুল পড়ার হার কম ছিল।

    ৭. ওজন বেড়ে যাওয়া : ওজন বাড়ার প্রধান কারণ শরীরের চাহিদার চেয়ে বেশি ক্যালরি গ্রহণ। তবে এতে ভিটামিনের ঘাটতিও প্রভাব ফেলে। অধ্যাপক গ্রসম্যান বলেন, ‘যেসব রোগীর প্রি-ডায়াবেটিস (ডায়াবেটিস হওয়ার আগের অবস্থা) রয়েছে, তাদের ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হলে ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা ধীর গতিতে রূপ নিতে পারে।

    ভিটামিন ডি কেন প্রয়োজন? এই ভিটামিন হাড় সুস্থ রাখে, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা (ইমিউন সিস্টেম) ঠিক রাখে। এমনকি মস্তিষ্কের কোষকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। ভিটামিন ডি একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান যা ক্যালসিয়ামের সঙ্গে মিলে হাড় তৈরি ও হাড়কে শক্ত করে তোলে। পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি থাকলে শরীর ক্যালসিয়াম শোষণ করতে পারে। ঘাটতি হলে হাড় নরম হয়ে যায়। শিশুদের ক্ষেত্রে একে রিকেটস এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অস্টিওমালাসিয়া বলা হয়। এমনকি গবেষণায় দেখা গেছে, কম ভিটামিন ডি-এর মাত্রা ক্যানসার, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, হৃদ্‌রোগ ও রক্তজনিত রোগের সঙ্গেও জড়িত থাকতে পারে।

    ভিটামিন ডি ঘাটতি পূরণের উপায় : ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি পূরণের জন্য বা ঘাটতি যেন না হয় সেটার জন্য সূর্যের আলোর সংস্পর্শে থাকা অনেক বেশি জরুরি। বিশেষ করে সকালের সূর্যের আলোয় সবচেয়ে বেশি ভিটামিন ডি থাকে। যদি সূর্যের আলোতে যাওয়ার সুযোগ না থাকে তাহলে সাপ্লিমেন্ট নিতে পারেন। এ ছাড়া খাবারের মাধ্যমেও শরীরে ভিটামিন ডি বাড়ানো সম্ভব।

    শরীরে ভিটামিন ডি বাড়ানোর কিছু উপায় বলে দিয়েছেন লুডল্যাম-রেইন— ১. ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ দুধ: অনেক আলমন্ড, সয়া, ওট এবং অন্যান্য প্ল্যান্ট বেসড দুধে ভিটামিন ডি যুক্ত করা হয়। সেগুলো পান করতে পারেন। সাধারণ দুধে ভিটামিন ডি থাকে না। ২. ডিমের কুসুম: এটি একটি সমৃদ্ধ উৎস। বিশেষ করে যদি মুরগি মুক্ত বাতাসে থাকে এবং সূর্যালোক পায়। গ্রামাঞ্চলে খোলা জায়গায় লালন-পালন করে বড় করা দেশি মুরগির ডিম এ ক্ষেত্রে বেশি কার্যকরী। ৩. তেলাপিয়া মাছ: তেলাপিয়া মাছ ভিটামিন ডি-এর চমৎকার উৎস। ৪. গরুর মাংস ও যকৃৎও ভিটামিন ডি-এর ভালো উৎস। ৫. ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ সিরিয়াল: অনেক সিরিয়ালে ভিটামিন ডি যুক্ত করা থাকে। সেগুলো খেতে পারেন। এসব খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে আপনি সহজেই ভিটামিন ডি-এর অভাব পূর্ণ করতে পারবেন।

  • বিনা খরচে পড়া যাবে তুরস্কের কোক বিশ্ববিদ্যালয়ে, সুবিধাও অনেক

    বিনা খরচে পড়া যাবে তুরস্কের কোক বিশ্ববিদ্যালয়ে, সুবিধাও অনেক

    উচ্চশিক্ষার জন্য তুরস্কে দুয়ার খুবই সম্ভাবনাময়। প্রতি বছরই বাংলাদেশ থেকে অনেক শিক্ষার্থী দেশটিতে পড়াশোনা করতে যান। সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করতে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে স্কলারশিপসহ নানা সুযোগ-সুবিধাও। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি ইস্তাম্বুলের কোক বিশ্ববিদ্যালয়। বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিবছরের মতো এবার স্কলারশিপ নিয়ে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি করার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে পড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আগামী ১৫ মে’র মধ্যে আবেদন করতে বলা হয়েছে।

    স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে রয়েছে যেসব সুবিধা

    সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ
    মাসিক উপবৃত্তি
    আবাসন সুবিধা
    বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমা
    বৈজ্ঞানিক ইভেন্টে অংশগ্রহণের জন্য ভ্রমণ খরচ প্রদান

    পিএইচডি প্রোগ্রামে থাকছে যেসব সুবিধা
    সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ
    মাসিক উপবৃত্তি
    আবাসন সুবিধা
    বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমা
    ফ্রি এইচজিএস (ফাস্ট ট্রানজিট পাস)
    বৈজ্ঞানিক ইভেন্টে অংশগ্রহণের জন্য ভ্রমণ খরচ

    প্রয়োজন হবে যেসব কাগজপত্র
    পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি/ছবি
    পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত (সিভি)
    একাডেমিক সব সার্টিফিকেট ও মার্কশিট
    ইংরেজি ভাষা দক্ষতা পরীক্ষার সনদ (জিম্যাট/টোয়েফল)
    স্টেটমেন্ট অব পারপাস (এসওপি)
    রেফারেন্স লেটার
    অভিজ্ঞতার প্রমাণপত্র
    তিনটি প্রবন্ধ
    অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টেশন (নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের প্রয়োজনীয়তা অনুসারে)

    আবেদনের প্রক্রিয়া: আগ্রহী শিক্ষার্থীদের কোক বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্ধারিত শর্তাবলি মেনে আবেদন করতে হবে।

  • ঢাবির ইইইতে এমএসসি, জিপিএ ৩.২৫ থাকলে আবেদন

    ঢাবির ইইইতে এমএসসি, জিপিএ ৩.২৫ থাকলে আবেদন

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষে ইইই বিষয়ে এমএসসি প্রোগ্রামে ভর্তির আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এটি দেড় বছর মেয়াদি নিয়মিত প্রোগ্রাম।

    ভর্তির যোগ্যতা
    ১. ব্যাচেলর ডিগ্রি বা সমমান পরীক্ষায় কমপক্ষে সিজিপিএ ৩.২৫ (৪.০০–এর মধ্যে) থাকতে হবে।
    ২. এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫০ (৫ পয়েন্টের মধ্যে) থাকতে হবে।
    ৩. এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম মোট জিপিএ ৮.০০ থাকতে হবে।
    ৪. ও/এ লেভেল বা ব্যাচেলর ডিগ্রিধারী প্রার্থীদের ন্যূনতম সিজিপিএ ৪.০০ পেতে হবে। বিদেশের ব্যাচেলর ডিগ্রিধারী প্রার্থীদের আবেদনের আগে ইইই বিভাগে পেলে যোগাযোগ করতে হবে।
    ৪. কোনো পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগ পেলে হবে না।
    ৫. আবেদনের ফি ২ হাজার ২০০ টাকা।

    আবেদনের জন্য ভিজিট করতে হবে : https://du-eee.admission-aid.com

    ভর্তির বিস্তারিত তথ্য
    ১. আবেদনের শেষ তারিখ: ৮ মে ২০২৫।
    ২. ভর্তির লিখিত পরীক্ষার তারিখ: ২৪ মে ২০২৫, সকাল ১০টা।
    ৩. লিখিত পরীক্ষার ফলাফল: ২ জুন ২০২৫।
    ৪. মৌখিক পরীক্ষার তারিখ: ২১ জুন ২০২৫, সকাল ১০টা।
    ৫. নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৫।
    ৬. ভর্তির তারিখ: ৩০ জুন ২০২৫।
    ৭. ক্লাস শুরুর তারিখ: ২ জুলাই ২০২৫।

    বিস্তারিত তথ্য জানতে ভিজিট করুন ওয়েবসাইট

  • এক্সিকিউটিভ নিবে ডিবিএল গ্রুপ

    এক্সিকিউটিভ নিবে ডিবিএল গ্রুপ

    ইন্টারনাল অডিট বিভাগের জন্য ‘সিনিয়র এক্সিকিউটিভ/এক্সিকিউটিভ’ পদে জনবল নিয়োগ দিবে বহুজাতিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ডিবিএল গ্রুপ। এই পদে নারী ও পুরুষ উভয়ের চাকরির সুযোগ থাকলেও নারী প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে জানানো হয়েছে তাদের নিয়োগ শর্তাবলীতে। আগ্রহী প্রার্থীদের আগামী ১৯ এপ্রিলের মধ্যে আবেদন করতে বলা হয়েছে।

    এই নিয়োগ সম্পর্কিত তথ্যাবলী প্রিয় ক্যাম্পাসের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো

    পদের নাম: সিনিয়র এক্সিকিউটিভ/এক্সিকিউটিভ
    পদসংখ্যা: ০৬ জন
    শিক্ষাগত যোগ্যতা: বিবিএ (এআইএস)
    অভিজ্ঞতা: ০৪ বছর
    বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে
    চাকরির ধরন: ফুল টাইম
    বয়স: নির্ধারিত নয়
    কর্মস্থল: গাজীপুর

    চাকরির জন্য আগ্রহীরা ডিবিএল লিংকে ক্লিক করে আবেদন করতে পারবেন।