জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স প্রথমবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আজ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (অনার্স) প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষা আজ শনিবার (৩১ মে) বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উপকূলীয় ১৬টি জেলার কোনো শিক্ষার্থী যদি এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারে, সেক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শুক্রবার (৩১ মে) রাজধানীর ধানমন্ডিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়- এবার এমসিকিউ পরিক্ষা পদ্ধতিতে একশ নম্বরের মধ্যে বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান ২০ নম্বর করে থাকবে ও গ্রুপভিত্তিক বিষয়ে থাকবে ৪০ নম্বর।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এস এম আমানুল্লাহ লিখিত বক্তব্যে জানান, গুনগত পরিবর্তন ও সংস্কারের অংশ হিসেবে স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মিনিমান স্ক্যানিং করে ভর্তি করা প্রয়োজন। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ফের পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে। দেশের সাতটি বিভাগের ৮৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে এই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশ নেবেন প্রায় সাড়ে ৫ লাখ শিক্ষার্থী।

তিনি জানান, সিলেবাসে আসবে পরিবর্তন। কারিকুলামে যুক্ত হবে আইসিটি ও ইংরেজি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষার সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। কেন্দ্রসমূহের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিবদের নিয়ে মিটিংও করা হয়েছে। বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র নির্ধারণও করা হয়েছে এবং তার তালিকা প্রকাশ করা হযেছ। তালিকায় অনুযায়ী ঢাকা বিভাগে সর্বাধিক ২৪৭টি কেন্দ্র রয়েছে। এরপর খুলনা বিভাগে ১৫৬টি, রাজশাহী বিভাগে ১৪৩টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩৪টি, রংপুর বিভাগে ৯৬টি, বরিশাল বিভাগে ৫৯টি এবং সিলেট বিভাগে ৪৪টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে সরকারি কলেজ ছাড়াও স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকারি কলেজ ছাড়াও অনেক স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে-পরীক্ষা পদ্ধতি অনুযায়ী, এক ঘণ্টা সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের এমসিকিউ ভিত্তিক ১০০ নম্বরের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। মেধাতালিকা প্রস্তুতে ভর্তি পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বরের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষার জিপিএর ৪০ শতাংশ এবং এইচএসসি পরীক্ষার জিপিএর ৬০ শতাংশ যুক্ত করে মোট ২০০ নম্বরের ভিত্তিতে ফলাফল নির্ধারণ করা হবে। ভর্তিচ্ছুদের অবশ্যই পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও এইচএসসি রেজিস্ট্রেশন কার্ড সঙ্গে আনতে হবে।

পরীক্ষায় সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা গেলেও মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।

উপকূলীয় ১৬টি জেলার বিপদাপন্ন আবহাওয়া পরিস্থিতিকে অনেকটা উপেক্ষা করে পরীক্ষা গ্রহণে অনড় থাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এর আগে এই পরীক্ষা দুবার পিছিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা অনুসারে এ ভর্তি পরীক্ষাটি ৩ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। পরে নির্ধারিত এ তারিখ থেকে পিছিয়ে ২৪ মে এবং পরে আরও এক সপ্তাহ পিছিয়ে ৩১ মে পুনঃনির্ধারণ করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৪-১৫ সেশনের পর বন্ধ হয়ে যায় ভর্তি পরীক্ষা। এরপর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে ভর্তি করা হতো। কিন্তু দীর্ঘ ১২ বছর পর পুনরায় ভর্তি পরিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্নাতকে ভর্তি করা হচ্ছে ।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *