প্রশ্নফাঁস রোধে সরকার তৎপর আছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার। প্রশ্নফাঁসের হুমকি ‘সব সময়ই থাকে’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, দুষ্টু চক্রতো সবসময় চেষ্টা করবে এগুলো করতে। যেভাবে আমরা এসএসসিটা সামলেছি আশা করি এগুলোও পারবো।
তিনি বলেন, যতটুকু করণীয়, অনেক আগে থেকেই প্রশ্নপত্রগুলো নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে যাওয়া, সেগুলো হেফাজতে রাখা, পরীক্ষার কিছুক্ষণ আগে সেগুলো সেন্টারগুলোতে নিয়ে আসা-সবকিছু মিলিয়েই ডিটেইলড প্ল্যানিংয়ের মাধ্যমে করা হয়েছে। আমার ধারণা আমরা সফল হবো।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সকালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রথম দিনে রাজধানীর ভাসানটেক সরকারি কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কেন্দ্রে কোভিড সংক্রামণের ঝুঁকি এড়াতে যতটুকু সম্ভব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তিনি বলেন, করোনার ব্যাপারে রিস্ক যতখানি এভয়েড করা যায়, তার জন্য যে বিধিমালা সেগুলো সেন্টারগুলোকে অনেক আগেই জানানো হয়েছে। সে হিসাবে প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর মুখে মাস্ক রয়েছে। হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং এগুলোর সমস্ত ব্যবস্থা রয়েছে। মোটামুটিভাবে সিটের যে এরেঞ্জমেন্ট সেগুলোও চেষ্টা করা হয়েছে, সেই নীতি অনুসারে। সেদিক থেকে যতটুকু সম্ভব সবই নিশ্চিত করা হয়েছে।
ডেঙ্গুরোধে কেন্দ্রগুলোকে জমে থাকা পানি, আবর্জনা ও জঙ্গল পরিষ্কার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল বলেও তুলে ধরেন শিক্ষা উপদেষ্টা।
এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বেশির ভাগ নারী শিক্ষার্থী বলেও তুলে ধরেন শিক্ষা উপদেষ্টা। তিনি জানান, ১২ লাখ ৫১ হাজার পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫০.৬ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী ও ৪৯.৪ শতাংশ পুরুষ শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার সকালে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ শিক্ষার্থী চলতি বছর এ পরীক্ষায় বসছেন।
নয়টি সাধারণ ও মাদ্রাসা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ১০ অগাস্ট। ১১ থেকে ২৮ অগাস্ট পর্যন্ত চলবে ব্যবহারিক পরীক্ষা।
আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি ভোকেশনাল ও ডিপ্লোমা ইন কমার্সের তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলবে ১৭ জুলাই পর্যন্ত। ব্যবহারিক পরীক্ষা চলবে ১৮ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত।
২০২৩ সালের সংক্ষিপ্ত বা পুনর্বিন্যাসকৃত সিলেবাসে ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা হচ্ছে। সব বিষয়ে পূর্ণ নম্বরে ও পূর্ণ সময়ে এ পরীক্ষা আয়োজন করা হবে বলে আগেই জানিয়েছিল শিক্ষা বোর্ডগুলো।
নয় শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে যারা এ পরীক্ষায় বসছেন তাদের মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ১৮ হাজার ১৫ জন, ছাত্রী ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬ জন। ৯ হাজার ৩১৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এসব শিক্ষার্থী ২ হাজার ৭৯৭ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছেন।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গতবারের চেয়ে ৮১ হাজার ৮৮২ জন শিক্ষার্থী কমেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত বছর নয় সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ছিল ১৩ লাখ ৩২ হাজার ৫২০ জন। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি ও সমান পরীক্ষায় বসছে মোট ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন শিক্ষার্থী।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় বসবে ১০ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৮ জন। ৪ হাজার ৮০৮টি প্রতিষ্ঠানের এসব শিক্ষার্থী ১৬০৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেবে। এইচএসসিতে এবার পরীক্ষার্থী কমেছে ৭২ হাজার ৮৮৩ জন।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় বসবে ৮৬ হাজার ১০২ জন শিক্ষার্থী, তাদের মধ্যে ছাত্র ৪৬ হাজার ৬২৮ আর ছাত্রী ৩৯ হাজার ৪৭৪ জন। ২ হাজার ৬৮২টি মাদ্রাসার এসব পরীক্ষার্থী ৪৫৯টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় বসবে। এবার আলিমের পরীক্ষার্থী কমেছে ১ হাজার ৯৭৪ জন।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ভোকেশনাল, ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ৯ হাজার ৬১১ জন পরীক্ষার্থী; তাদের মধ্যে ৮০ হাজার ১০৩ জন ছাত্র, ২৯ হাজার ৫০৮ জন ছাত্রী। ১ হাজার ৮২৪টি প্রতিষ্ঠানের এ শিক্ষার্থীরা ৭৩৩টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় বসবে। এবার কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী কমেছে ৭ হাজার ২৫ জন।

Leave a Reply