শিরোনাম
Advertisement
ক্যাম্পাসের বাইরে

৩৯৫ চরে নেই মাধ্যমিক বিদ্যালয়, প্রাথমিকেই থামছে শিক্ষার স্বপ্ন

Advertisement

কুড়িগ্রামের নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলে মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ সীমিত থাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরোনোর পরই ঝরে পড়ছে অনেক শিক্ষার্থী। নদী পারাপারের খরচ, দীর্ঘ যাতায়াত, দারিদ্র্য ও নিরাপত্তার উদ্বেগের কারণে অনেকে পড়াশোনা ছেড়ে যুক্ত হচ্ছে কৃষিকাজ ও শিশুশ্রমে। অন্যদিকে, অনেক কিশোরীর শিক্ষাজীবন থেমে যাচ্ছে বাল্যবিয়ের কারণে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলার চার শতাধিক চর ও দ্বীপচরের মধ্যে মাত্র পাঁচটিতে এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। আরও দুটি চরে রয়েছে মাদরাসা। ফলে বাকি ৩৯৫টি চরে মাধ্যমিক শিক্ষার কোনো প্রতিষ্ঠান নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

চরাঞ্চলের মেয়েদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সমস্যা কমাতে সাইকেল দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবীব দুলু। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, চরাঞ্চলে শিক্ষার সংকট কাটাতে শুধু যাতায়াতের ব্যবস্থা নয়, প্রয়োজন কাছাকাছি এলাকায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তা।

রাজারহাট উপজেলার চর বিদ্যানন্দের আয়েশা খাতুনের (১৪) স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার। নদী পেরিয়ে বিদ্যানন্দ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়তেন তিনি। কিন্তু ২০১৭ সালে নদীভাঙনে বিদ্যালয়টি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর নাজিমখান ইউনিয়নের তালতলায় স্থানান্তর করা হয়। দূরত্ব বেড়ে যাওয়ায় আর বিদ্যালয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি তার। সেখানেই থেমে যায় আয়েশার শিক্ষাজীবন।

একই এলাকার আলামিনের (১৭) অভিজ্ঞতাও প্রায় একই। কাউনিয়া উপজেলায় গিয়ে পড়াশোনা করতে প্রতিদিন যাতায়াতেই খরচ হতো প্রায় ১০০ টাকা। কৃষক বাবার পক্ষে সেই ব্যয় বহন করা সম্ভব হয়নি। এসএসসি পাস করলেও আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি তিনি। পরে পরিবারের সিদ্ধান্তে আয়েশার সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

নদীভাঙনে শুধু বসতভিটা বা বিদ্যালয়ই হারিয়ে যায় না, অনেক সময় থেমে যায় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নও।

  • প্রাথমিকের পরই ধরতে হচ্ছে লাঙল

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার খাসের চরের বাসিন্দা ইব্রাহীমের (১৪) কথায় উঠে এসেছে চরাঞ্চলের শিক্ষাসংকটের চিত্র। ২০২২ সালে আলী আমজাদ প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে ব্রহ্মপুত্রের ওপারে মোল্লারহাট বাজারসংলগ্ন একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীও ভর্তি হয়। চর থেকে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সহজ ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীরা মিলে নৌকা ভাড়া করেছিলেন। জনপ্রতি মাসে খরচ হতো ৩০০ টাকা। কিন্তু কিছুদিন পর অনেকের পক্ষেই সেই ব্যয় বহন করা সম্ভব হয়নি। কেউ তাঁতের কাজে যুক্ত হয়েছে, অনেক মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ইব্রাহীম এখন বাবা ও চাচাদের সঙ্গে কৃষিকাজ করেন। ইব্রাহীমের ভাষায়, “চরের মানুষ স্কুল পড়ি কি হোবে! চরে তো হাই স্কুল নাই। প্রাইমারি পাশের পর ফির লাঙল ধরা নাগে। তার চেয়ে আগে থাকি লাঙলের কাজ শেখা ভাল”।

  • নৌকা ভাড়ার অভাবে ঝুঁকিতে মেয়েদের শিক্ষা

চরাঞ্চলে মাধ্যমিক শিক্ষার সংকট সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে মেয়েদের ওপর। দূরের বিদ্যালয়ে যাতায়াত, নৌকা ভাড়া, নিরাপত্তার উদ্বেগ ও পারিবারিক চাপের কারণে অনেক কিশোরী পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছে না। চর বিদ্যানন্দের হাসিনুর খাতুনের (১৭) ইচ্ছা ছিল আরও পড়াশোনা করে কৃষক বাবার কষ্ট দূর করার। কাউনিয়া উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়তেন তিনি। কিন্তু প্রতিদিন যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ১০০ টাকা জোগাড় করতে না পারায় বন্ধ হয়ে যায় তার পড়াশোনা। এখন তার বাবা মেয়ের বিয়ের জন্য পাত্র খুঁজছেন। হাসিনুর বলেন, “আমার অনেক ইচ্ছা ছিল আরও লেখাপড়া করে কৃষক বাবার কষ্ট দূর করার”। একই চরের আপেল মিয়া (১৬) জানান, পারিবারিক খরচ ও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক মেয়েকে অল্প বয়সেই বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষ্য, “বাল্যবিবাহ করতে না চাইলেও পারিবারিক খরচ ও অবস্থায় জোর করে বাল্যবিবাহ দেয়”। চরাঞ্চলের এসব অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, শিক্ষার সুযোগের অভাবের সঙ্গে শিশুশ্রম ও বাল্যবিয়ের ঝুঁকির গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

  • ১২ জনের মধ্যে টিকে আছেন মাত্র চারজন

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার রলাকাটার চরের ফাতেমা খাতুন (১৬) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়তে ব্রহ্মপুত্র পেরিয়ে যাত্রাপুরে যেতেন। চিড়াখাওয়া, ঝুনকারচর ও ভগবতিপুর চরের আরও ১২ জন মেয়ের সঙ্গে তাকে দূরের বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হয়েছিল। চর থেকে যাত্রাপুরে যেতে সময় লাগত দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। নৌকায় যাওয়া-আসায় খরচ হতো ৪০ টাকা। তার ওপর ছিল বিদ্যালয়ের বেতন ও টিউশন ফির চাপ। কখনো সময়মতো নৌকা না পাওয়ায় বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর আগেই দুই-তিনটি ক্লাস শেষ হয়ে যেত। ফাতেমা বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় পাসের পর চিড়াখাওয়া, ঝুনকারচর, ভগবতিপুর চরের ১২ জন মেয়েসহ যাত্রাপুরে ভর্তি হই। অথচ সে বছর আমাদের আশপাশের তিন-চারটি চরের অন্তত শতাধিক মেয়ে প্রাথমিক স্কুল সমাপনী পরীক্ষায় পাস করে। প্রাথমিক পাস করে ১২ জন মেয়ে মাধ্যমিকে ভর্তি হলেও বর্তমানে চারজন আছি। বাকিদের বিয়ে হয়ে গেছে। এসএসসি পরীক্ষার ছয় মাস আগে আমার বান্ধবী মহিমা আক্তারের (১৬) বিয়ে হয়ে গেল।

এবার মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন ফাতেমা। তবে তার অনেক সহপাঠীর মতো ঝরে পড়তে হয়নি তাকে। উলিপুরের আইরমারীর চরের শিমু আক্তারের (১২) অভিজ্ঞতাও একই রকম। চরে মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় ঘোগাদহ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার জন্য নানির বাড়িতে থাকতে হচ্ছে তাঁকে। যাদের শহর বা বিদ্যালয়ের কাছাকাছি এলাকায় আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে থাকার সুযোগ নেই, তাদের অনেকেই পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে বলে জানায় শিমু।

  • মেয়েদের সাইকেল দেওয়ার পরিকল্পনা মন্ত্রীর

চরাঞ্চলের মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে সাইকেল দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবীব দুলু। ২১ অক্টোবর কুড়িগ্রামের রাজারহাটে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হরিজন, রবিদাস ও বেদে সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে শাড়ি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, ‘চরাঞ্চলে যাতায়াতের অসুবিধা ও নিরাপত্তার উদ্বেগের কারণে অনেক অভিভাবক মেয়েদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠাতে চান না। এতে অল্প বয়সেই অনেক মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়। চরের যেসব মেয়ে যাতায়াতের সমস্যার কারণে লেখাপড়া করতে পারে না, তাদের জন্য আমার মন্ত্রণালয় থেকে সাইকেল দেওয়া হবে। তারা সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যেতে পারবে। এতে তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও সাহস তৈরি হবে।’ তবে চরাঞ্চলের যেসব শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন নদী পার হতে হয়, তাদের ক্ষেত্রে সাইকেল কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, নদী পারাপারের নিরাপদ ব্যবস্থা ও কাছাকাছি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা না হলে শুধু সাইকেল দিয়ে শিক্ষার প্রতিবন্ধকতা দূর করা কঠিন।

  • নিজ চরে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন যুবক

চরাঞ্চলে শিক্ষার সংকটের মধ্যেও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন যাত্রাপুর ইউনিয়নের রলাকাটার চরের বাসিন্দা মো. মনির হোসেন। এলাকার শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া ঠেকাতে ২০১৮ সালে কুড়িগ্রাম সোসাইটির অর্থায়নে প্রতিষ্ঠা করেন রলাকাটার চর আদর্শ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। রংপুরের কারমাইকেল কলেজ থেকে প্রাণিবিদ্যা বিভাগে স্নাতকোত্তর শেষ করে শহরে না থেকে নিজ এলাকায় ফিরে আসেন তিনি। এলাকার শিক্ষিত যুবক বেলাল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। মনির হোসেন জানান, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর শিক্ষার্থীদের জন্য বই সংগ্রহ করতে তাঁকে সমস্যায় পড়তে হয়। উপজেলা ও জেলা শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করেও বই সংগ্রহ করতে পারেননি। পরে প্রথম আলো চর আশার পাঠশালার প্রধান শিক্ষকের সহযোগিতায় আগের বছরের পুরোনো বই সংগ্রহ করে পাঠদান শুরু করেন। কুড়িগ্রাম জেলার চরগুলো শহরের মূল ভূখণ্ড থেকে নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন। এসব চরের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে আরও উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। কুড়িগ্রামের বৃহৎ একটি অংশকে বাদ দিয়ে উন্নয়ন কখনো সম্ভব নয়। পাঁচ লাখ মানুষের শিক্ষার মান উন্নয়নে পাঁচ-দশটি স্কুল দিয়ে কী সম্ভব? কাছাকাছি কয়েকটি চর নিয়ে একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়গুলো যাচাই-বাছাই করে এমপিওভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

  • তিন কিলোমিটারের মধ্যে বিদ্যালয় না থাকলে প্রতিষ্ঠার সুযোগ

কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী তিন কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে বিদ্যালয় না থাকলে নতুন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুযোগ রয়েছে। জেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংকট রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা গেলে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া কমবে এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও সহায়তা মিলবে। সম্প্রতি সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভগবতিপুর চরে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। প্রথম আলো ট্রাস্টের অর্থায়নে প্রথম আলো চরেও একটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান চলছে। চরাঞ্চলে বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা নন-এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শন করে এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করা হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার জানান, জেলায় বর্তমানে ১ হাজার ৩৮২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ২০২৫ সালে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫ হাজার ৪৫২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে বৃত্তি পেয়েছে ১ হাজার ৪৫ জন। তিনি বলেন, “চরাঞ্চলের শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ চলছে। চরের সব বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে”।

  • চরাঞ্চলের শিক্ষার উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের দাবি

জেলা চর উন্নয়ন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইয়েদ আহমেদ বাবু বলেন, “কুড়িগ্রাম নদীভাঙনকবলিত জেলা। এখানে সাড়ে চার শতাধিক চর ও দ্বীপচর রয়েছে”। এসব এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, জেলার বড় একটি অংশের মানুষ চরাঞ্চলে বসবাস করায় শিক্ষা ও অর্থনীতিতে পিছিয়ে রয়েছে কুড়িগ্রাম। অনেক শিশু প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়। আর যারা দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে, তাদের অনেকে মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগের অভাবে ঝরে পড়ে। এর ফলে মেয়েদের বাল্যবিবাহ বাড়ছে এবং ছেলেরা শিশুশ্রমে যুক্ত হচ্ছে। চরাঞ্চলের শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনতে প্রয়োজনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের নীতিমালায় পরিবর্তন এনে প্রতিটি চরে প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কাছাকাছি কয়েকটি চর নিয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে শিক্ষার সংকট তাই শুধু বিদ্যালয়ের অভাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত নদীভাঙন, যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতা, দারিদ্র্য ও সামাজিক নিরাপত্তার উদ্বেগ। শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া ঠেকাতে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের সহায়তা, নিরাপদ যাতায়াত এবং বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।-প্রতিদিনের বাংলাদেশ

এ বিভাগের আরও সংবাদ