শিরোনাম
Advertisement
রাজস্বর

শিক্ষামন্ত্রী মিলনের পদত্যাগ দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ

Advertisement
ট্রান্সজেন্ডারিজমের পক্ষে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ ও পদত্যাগের দাবিছবি: সংগৃহীত

ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ বিরোধী ট্রান্সজেন্ডারিজমের পক্ষে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের বক্তব্যের প্রতিবাদ ও পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইটে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে এই দাবি জানানো হয়।

বিক্ষোভ মিছিলে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি মো. মিজানুর রহমান বলেন, কুরআনের বিরোধী আইন ও ‘হেফা আইন’ সংসদের মতো জায়গায় পাস করা হয়েছে। যারা এই দেশে ট্যানজেন্টার প্রতিষ্ঠা করতে আসবে, তাদের স্বাধীনতা রক্ষা করার চেয়েও বড় পরিস্থিতিতে মোকাবেলা করতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি বক্তব্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকার আসার পর দেশে কোনো গুম-খুন হয়নি বলা হলেও, সম্প্রতি একজন মেধাবী যুবক ও জাতির মেধাবী বিমান বাহিনীর সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। স্বাধীন রাষ্ট্রে দুই দিন হয়ে গেলেও এই হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার বা কারণ সরকারের পক্ষ থেকে উদঘাটন করা হয়নি।

এ বিষয়ে সরকারের প্রতি আল্টিমেটাম দিয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সেই খুনিকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তারপূর্বক আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

বিক্ষোভ মিছিলে বক্তারা বলেন, ক্ষমতায় আসার আগে বর্তমান সরকার বলেছিল নির্বাচন হয়ে গেলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু নির্বাচন হওয়ার পর সংকট আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্বাচনের পরেই দেশের সরকার জনগণের ৭০ শতাংশ ভোটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেছে।

সরকারের এই ধরনের আচরণকে ‘গণভবনের রায়’ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, এরপর পেট্রোল ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় জনগণ প্রতিবাদ করলেও সরকার তা আমলে নেয়নি, বরং জনগণের প্রতিবারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছে। এভাবে একবার নয়, দুই-দুইবার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এর আগে গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দটি ব্যবহার করে সমালোচনার মুখে পড়েন শিক্ষামন্ত্রী।

এ ঘটনায় আজ শুক্রবার সকালে নিজের ফেসবুক একাউন্টে এক স্ট্যাটাসে মন্ত্রী লেখেন, একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ বলতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী জানান, ওই অনুষ্ঠানে তৃতীয় লিঙ্গের একজন শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর অর্জনকে স্বাগত জানিয়ে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের শিক্ষায় অংশগ্রহণে উৎসাহ দেওয়ার প্রসঙ্গেই তিনি কথা বলেছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রী লেখেন, সমাজে তৃতীয় লিঙ্গের অনেক মানুষ অবহেলা, বঞ্চনা ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মুখোমুখি হন। এসব বাধা পেরিয়ে তাঁদের শিক্ষায় এগিয়ে আসার বিষয়টিই ছিল তাঁর বক্তব্যের মূল কথা।

তিনি বলেন, ‘বক্তব্যের সময় “তৃতীয় লিঙ্গ” বলতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে “ট্রান্সজেন্ডার” শব্দটি ব্যবহার করেছি। এখানে আমার অভিপ্রেত শব্দ ছিল “তৃতীয় লিঙ্গ”।’

এ বিভাগের আরও সংবাদ