Author: প্রিয় ক্যাম্পাস ডেস্ক

  • দেশের ১৩৫ কলেজে নতুন অধ্যক্ষ

    দেশের ১৩৫ কলেজে নতুন অধ্যক্ষ

    দেশের ১৩৫টি সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ পদে বদলিভিত্তিক পদায়ন দেওয়া হয়েছে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ পৃথক ৩টি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এসব পদে নিয়োগ দিয়েছে। এর মধ্যে দুটি প্রজ্ঞাপনে ৪৯ জন করে এবং আরেকটি প্রজ্ঞাপনে ৩৭ জনকে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা জানানো হয়।

    মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. মাহবুব আলম এসব প্রজ্ঞাপনে সই করেন।

    অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পাওয়া বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের এসব কর্মকর্তাকে ১৭ এপ্রিলের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে। না হয় ওই তারিখ থেকে তারা তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য হবে।

    বদলি আদেশগুলো দেখতে ক্লিক করুন নিচে দেওয়া লিংকগুলোতে।

    বদলি বিজ্ঞপ্তি-১

    বদলি বিজ্ঞপ্তি-২

    বদলি বিজ্ঞপ্তি-৩

  • ৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল ৩০ জুনের মধ্যে

    ৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল ৩০ জুনের মধ্যে

    ৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল আগামী ৩০ জুনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম।

    মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) পিএসসির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, আমরা ৪৪তম বলে বিসিএস দ্রুত শেষ করার জন্য সবচেয়ে গুরত্ব দিয়ে কাজ করছি। ৪৪তম বিসিএসের ভাইভা ১৭ জুনের মধ্যে শেষ করা হবে। ভাইভা শেষে ৩০ জুনের মধ্যে ৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে।

    এদিকে ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা পেছানোর দাবি জানিয়েছেন একদল চাকরিপ্রার্থী। এ দাবি নিয়ে পিএসসি চেয়ারম্যান বলেন, যারা পড়াশোনা করছে তারা সবাই তৈরি। তারা অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছে। আমি মনে করি তারা দুই সপ্তাহ পরীক্ষা পেছানোর জন্য বসে নেই। একই সিলেবাসে দুইটা পরীক্ষা। একটা সিলেবাস পড়েই পরীক্ষা দেওয়া যাচ্ছে। এক্ষেত্রে পরীক্ষা পেছানোর দাবিটা মনে হয় না যৌক্তিক

  • ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ালেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তারা

    ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ালেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তারা

    গাজায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী কর্তৃক মুক্তিকামী ফিলিস্তিনি জনগণের উপর অব্যাহত গণহত্যা পরিচালনা ও চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুর ক্যাম্পাসে একাডেমিক ভবনের সম্মুখস্থ চত্বরে সর্বস্তরের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর অংশগ্রহণে কালো ব্যাজ ধারণ এবং শান্তিপূর্ণ মৌন অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।

    কর্মসূচির নেতৃত্ব প্রদান করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

    এ সময় উপাচার্যের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোঃ লুৎফর রহমান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ নূরুল ইসলাম, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এ টি এম জাফরুল আযম, বিভিন্ন অনুষদের ডিন (ভারপ্রাপ্ত), রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের বিভাগীয় প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন ।

  • প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগে থাকছে না নারী কোটা

    প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগে থাকছে না নারী কোটা

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ৬০ শতাংশ নারী কোটা বাতিল হচ্ছে। এর সঙ্গে পোষ্য কোটাও বাতিল করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রস্তাবিত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’-এর খসড়া থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

    জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ৬০ শতাংশ নারী কোটার প্রচলন রয়েছে। বাকি ৪০ শতাংশের মধ্যে ২০ শতাংশ পোষ্য এবং পুরুষ কোটা ২০ শতাংশ। কোটানির্ভর নিয়োগপ্রক্রিয়ায় মেধার মূল্যায়ন হয় না বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অনেকে ৬৫ নম্বর পেয়েও চাকরি পেয়ে যান, আবার অনেকে ৭৫ পেয়েও বাদ পড়েন। এ বৈষম্য দূর করতে নতুন বিধিমালা তৈরি করছে সরকার।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, উচ্চ আদালতের রায় মেনে কোটা থাকবে মাত্র ৭ শতাংশ। বাকি ৯৩ শতাংশ নিয়োগ হবে মেধার ভিত্তিতে। যে ৭ শতাংশ কোটা থাকবে, তার মধ্যে থাকবে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী কোটা।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘গত ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে সহকারী শিক্ষকের নিয়োগযোগ্য শূন্য পদ ৮ হাজারের বেশি। নতুন নিয়োগ বিধিমালা চূড়ান্ত হলে আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হতে পারে।’

    এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে আগের কোটা ব্যবস্থা থাকছে না। উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী কোটাব্যবস্থা চালু থাকবে। এছাড়া সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে থেকে প্রধান শিক্ষক পদে যোগ্য প্রার্থী পাওয়া সাপেক্ষে শতভাগ পদোন্নতির ব্যবস্থা করার প্রস্তাব করা হয়েছে নতুন নিয়োগবিধিতে।

  • ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ গ্রেফতার

    ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ গ্রেফতার

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

    সোমবার (৭ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর রোডের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ।

    রাত ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন উত্তর-পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজকে হেফাজতে নিয়েছি। আমরা এখনো তার বাসায় আছি। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগে মামলা আছে।

    দেশের অন্যান্য জায়গায়ও তার বিরুদ্ধে মামলা থাকতে পারে।

  • এসএসসি পরীক্ষার্থীদের শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি

    এসএসসি পরীক্ষার্থীদের শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি

    এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই সময়ের মধ্যে আপনি যদি সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারেন, তবে পরীক্ষার ফলাফল অনেক ভালো হতে পারে।

    এখানে কিছু বিস্তারিত পরামর্শ দেওয়া হলো, যেগুলো আপনার প্রস্তুতিকে আরও কার্যকরী করে তুলবে:

    ১. পুনরায় রিভিশন 

    • গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলোর রিভিশন: পরীক্ষা কাছাকাছি চলে আসলে পুরো সিলেবাস পড়ার সময় কমে যায়, তবে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো রিভাইজ করুন। প্রতিটি বিষয়ের জন্য প্রধান মূলনীতি, সূত্র বা কৌশলগুলো মনে রাখুন।
      • গণিত ও বিজ্ঞান: সূত্র, নিয়ম, সমীকরণ এবং সমস্যার সমাধান কিভাবে করতে হয়, এগুলো বারবার করতে থাকুন।
      • বাংলা, ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষা: ছোট ছোট নোটস তৈরি করুন। প্রবন্ধ বা সৃজনশীল লেখা এবং কাব্যাংশের মূল পয়েন্টগুলো রিভাইজ করুন।
    • কনসেপ্ট ক্লিয়ার করা: বিশেষত যদি কোন বিষয় নিয়ে কিছুটা সন্দেহ থাকে, তখন সেগুলোর কনসেপ্ট পুরোপুরি ক্লিয়ার করে নিন। শিক্ষক বা সহপাঠীদের সাথে আলোচনা করে বুঝে নিন।

    ২. পূর্ববর্তী প্রশ্নপত্র দেখা

    • প্রশ্নের ধরন বুঝুন: প্রতি বছর পরীক্ষা প্রশ্নের ধরন প্রায় একই থাকে। আগের বছরের প্রশ্নপত্র দেখে আপনি জানতে পারবেন কোন ধরনের প্রশ্ন বেশি আসে, যেমন:
      • বর্ণনা প্রশ্ন: বাংলা, ইংরেজি বা অন্যান্য বিষয়ে বর্ণনামূলক প্রশ্ন আসে, যেমন ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কারণ’ বা ‘কোনো বিশেষ বিজ্ঞানী সম্পর্কে’।
      • চিত্র বিশ্লেষণ: গণিত বা বিজ্ঞান বিষয়ে কোনো চিত্র বা গ্রাফের মাধ্যমে প্রশ্ন করা হয়।
      • সংক্ষেপে উত্তর: ছোট প্রশ্নগুলো খুব সঠিকভাবে দিতে হবে।
    • প্র্যাকটিস করে দেখুন: পুরানো প্রশ্নগুলো দেখে দেখুন, এবং সময়মতো সেগুলোর উত্তর দিন। এটি আপনার টাইম ম্যানেজমেন্টের জন্য সহায়ক হবে।

    ৩. টাইম ম্যানেজমেন্ট 

    • পরীক্ষার দিনে কীভাবে সময় ব্যবহার করবেন:
      • প্রথমে প্রশ্নপত্র দেখে বুঝে নিন কোন প্রশ্নগুলোর উত্তর আপনি দ্রুত দিতে পারবেন। সহজ প্রশ্নগুলো আগে করুন, যাতে সময় বাঁচানো যায়।
      • যদি কোনও প্রশ্নে আটকে যান, তবে সেই প্রশ্ন রেখে অন্য প্রশ্নে চলে যান। পরে সময় পেলে সেটি আবার চেষ্টা করুন।
      • অনুশীলন: আপনি মক টেস্ট দিলে সঠিকভাবে সময় কিভাবে পরিচালনা করতে হয় সেটা আয়ত্তে আনতে পারবেন।
    • প্রতিটি প্রশ্নের জন্য সময় নির্ধারণ করুন: যদি ৩ ঘণ্টার পরীক্ষা হয়, তবে ১ ঘণ্টা প্রতি পত্র বা প্রশ্নের জন্য সময় দিয়ে রাখুন।

    ৪. মেন্টাল প্রস্তুতি

    • পরীক্ষার চাপ মোকাবেলা: পরীক্ষার সময় অস্থিরতা এবং উদ্বেগ সাধারণ বিষয়। নিজের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখুন।
    • পরীক্ষা শুরুর আগে কিছু সময় শান্তভাবে বসে থাকুন, গভীর শ্বাস গ্রহণ করুন এবং চাপ কমানোর চেষ্টা করুন।
    • স্বস্তি বজায় রাখা: প্রতিদিন কিছু সময় বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। অতি চাপ নেওয়া বা অতিরিক্ত পড়াশোনা করা আপনার মনোযোগ কমিয়ে দিতে পারে। একটু হাঁটাহাঁটি বা প্রিয় কিছু কাজ করলে মন ভালো থাকে।

    ৫. স্বাস্থ্য এবং খাবার 

    • সুস্থ থাকার জন্য ভালো খাবার: পড়াশোনার জন্য আপনার শরীর সুস্থ থাকতে হবে। তাই ভিটামিন, প্রোটিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ খাবার খেতে চেষ্টা করুন। ফলমূল, ডিম, দুধ, শাকসবজি বেশি খাবেন।
    • পর্যাপ্ত ঘুম: পরীক্ষা দেওয়ার আগের রাতে যথেষ্ট ঘুম নিন, কারণ ঘুমের অভাবে আপনার মস্তিষ্ক সঠিকভাবে কাজ করবে না এবং ফোকাস হারিয়ে ফেলবেন।
    • পানি পান করা: শরীরে পানির অভাবও আপনাকে অস্থির বা ক্লান্ত করে দিতে পারে, তাই পানি খাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

    ৬. গণনা এবং মৌলিক বিষয়গুলো দেখে নেয়া 

    • গণিত এবং বিজ্ঞান: গণিতের জন্য সমস্ত সূত্র এবং নিয়মগুলো রিভাইজ করুন। উদাহরণস্বরূপ, অ্যালজেব্রা, জ্যামিতি, ত্রিকোণমিতি এবং গাণিতিক প্রশ্নগুলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
    • বিজ্ঞান বিষয়ে বিভিন্ন নীতিমালা এবং সূত্রগুলি গুরুত্ব সহকারে দেখে নিন।
    • ইংরেজি এবং অন্যান্য ভাষা: ইংরেজির গ্রামার এবং রচনাশৈলী রিভাইজ করুন। গত বছরগুলোর প্রবন্ধ এবং সৃজনশীল লেখার ধরন দেখে অভ্যস্ত হন।

    ৭. মক টেস্ট

    • পদক্ষেপ ১: পরীক্ষার মতো বাস্তব পরিবেশে মক টেস্ট দিন। এইভাবে আপনি পরীক্ষার দিন প্রকৃত পরীক্ষার পরিবেশে মানিয়ে নিতে পারবেন।
    • পদক্ষেপ ২: মক টেস্টের পর আপনার ফলাফল বিশ্লেষণ করুন। আপনি কোথায় ভুল করছেন, বা কোন প্রশ্নের ক্ষেত্রে বেশি সময় ব্যয় করছেন, তা দেখে সংশোধন করুন।

    ৮. বিশেষজ্ঞের সহায়তা 

    • শিক্ষক এবং সহপাঠীদের সাহায্য নিন: যদি কোনো বিষয়ে সমস্যা থাকে, তবে আপনার শিক্ষক বা সহপাঠীদের কাছে জানতে পারেন। অনেক সময় আপনারা একসাথে পড়লে কোনো বিষয় পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে।
    • অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ: যদি সম্ভব হয়, তবে টিউটরের মাধ্যমে কিছু অতিরিক্ত প্রস্তুতি নিন, বিশেষ করে যে বিষয়গুলোতে আপনি দুর্বল।

    ৯. নির্ধারিত বিষয়বস্তু 

    • বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পড়ুন: কোন বিষয়টি বা বিষয়গুলোর উপর আপনি বেশি দুর্বল, সেগুলোতে মনোযোগ দিন।
    • যেমন, গণিতের কোনো বিশেষ সমস্যা অথবা ইংরেজির রচনা বিষয়, আপনি যেগুলোর জন্য ঝুঁকি অনুভব করছেন, সেগুলো তাড়াতাড়ি ঠিক করে নিন।

    ১০. পরীক্ষা হলে কিভাবে মনোযোগ দিবেন 

    • পরীক্ষা চলাকালীন মনোযোগ এবং স্থিরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে প্রশ্নপত্রটি ভালো করে পড়ুন এবং বুঝে সঠিকভাবে উত্তর দিন।
  • রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হবে তো!

    রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হবে তো!

    বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১৩ লাখ রোহিঙ্গার মধ্য থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার জনকে মিয়ানমার ফেরতযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার গণমাধ্যম শাখা। তদুপরি আরও ৭০ হাজারের চিহ্নিতকরণ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে ওই শাখা থেকে জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চরম অনিশ্চয়তায় থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে এটি নিঃসন্দেহে একটি আশাব্যঞ্জক খবর। এখন কথা হচ্ছে, মিয়ানমারে ফেরতযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত এ রোহিঙ্গাদের বাস্তব প্রত্যাবাসন কবে থেকে শুরু হয়ে কবে নাগাদ শেষ হবে এবং অনুরূপ প্রক্রিয়ায় বাকিদের চিহ্নিতকরণ ও প্রত্যাবাসনের কাজ কবের মধ্যে সম্পন্ন হবে? আগামী বছরের ঈদের আগে সম্পন্ন হবে তো, যেটি প্রধান উপদেষ্টা জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরের সময় ঘোষণা করেছেন।

    মিয়ানমার কর্তৃক রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অংশবিশেষকে ফেরতযোগ্য হিসেবে চিহ্নিতকরণের পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে মনে হতে পারে যে, উল্লিখিত শরণার্থীরা হয়তো সহসাই নিজ দেশে ফিরে যাবে। তবে সাদা চোখে এমনটি মনে হলেও আন্তর্জাতিক কূটনীতির ভাষা ও মারপ্যাঁচ এতটাই জটিল ও রহস্যময় যে, প্রকৃতপক্ষে ওই শরণার্থীরা কবে স্বদেশে ফিরে যেতে পারবে, তা শুধু প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হওয়ার পরই নিশ্চিত বলা সম্ভব। তবে আশা করব যে, এটি অবশ্যই প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা অনুযায়ী আগামী বছরের ঈদের আগে সম্পন্ন হবে। কিন্তু বাস্তবে হবে তো? এমনটি জিজ্ঞেস করার কারণ একাধিক, যা নিয়ে এখানে খানিকটা আলোচনা করছি।

    রোহিঙ্গা সমস্যার বিষয়ে ন্যূনতম খোঁজখবর রাখেন এমন ব্যক্তিমাত্রই জানেন, রোহিঙ্গা ও অন্যান্য আরও কিছু জাতিগত সমস্যার কারণে মিয়ানমারে এখন অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অধিক মাত্রায় রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিতিশীলতা বিরাজমান। মিয়ানমারের অন্যান্য রাজ্যের কথা বাদ দিয়ে শুধু রোহিঙ্গা অধ্যুষিত আরাকানের বিষয়ে বলতে গেলেও স্বীকার করতে হবে যে, সেখানকার অবস্থা এখন অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অধিক নাজুক। বিদ্রোহী আরাকান লিবারেশন আর্মি (এএলএ) এবং অন্যান্য আরও কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় আরাকানসহ মিয়ানমারের অন্যত্রও ব্যাপক অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও মিয়ানমারে স্থিতিশীল পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা; অতঃপর সেখানে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন বস্তুত সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তার ওপর সেখানে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের ফলে এটি আরও খানিকটা সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়েছে বৈকি! এ অবস্থায় মিয়ানমার ফেরতযোগ্য রোহিঙ্গাদের তালিকা তৈরির কথা বললেও বাস্তবে এ শরণার্থীদের তারা সহসাই ফিরিয়ে নেবে কি না, সে ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

    রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে যে দেশটি এই মুহূর্তে মিয়ানমারের ওপর সবচেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হয়, সেটি হচ্ছে চীন। যদি ধরেও নেওয়া হয় যে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক চীন সফরকালে এ বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাহলেও ১৩ থেকে ১৪ লাখ শরণার্থী রোহিঙ্গার সে দেশে ফিরে যেতে বেশ লম্বা একটা সময় লেগে যাবে। কারণ রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর আগে সেখানকার পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে মিয়ানমার সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সেখানে এখনো অনেক কাজ করতে হবে। রাখাইন প্রদেশ এখন বলতে গেলে সাম্প্রদায়িক হানাহানি ও লুণ্ঠন-উত্তর এক বিধ্বস্ত জনপদ, যেখানে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার কোনো পরিবেশই নেই—ন্যূনতম নিরাপত্তা তো নেই-ই। ফলে সেখানে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার মতো পরিবেশ সৃষ্টি করতে হলে সেখানকার একাধিক রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে ও দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনতে হবে। উল্লেখ্য, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ফেলে আসা বাড়িঘর, জমিজমা ও সহায়সম্পত্তির অধিকাংশই এখন অপরাপর বর্মীদের দ্বারা জবরদখল হয়ে আছে। ফলে রোহিঙ্গাদের সেখানে ফিরিয়ে নেওয়ার আগে সরকার কর্তৃক ওইসব পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা করতে হবে।

    মিয়ানমারের সামরিক সরকার এবং দেশটির স্থানীয় জনগণের মধ্যকার একটি বড় অংশই রোহিঙ্গাদের সে দেশের স্থায়ী নাগরিক হিসেবে তো নয়ই, এমনকি রোহিঙ্গা হিসেবেও মানতে রাজি নয়। তাদের ভাষায় রোহিঙ্গারা হচ্ছে অভিবাসী মুসলমান। বস্তুত তাদের এ ধরনের আন্তঃসাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব থেকে সৃষ্ট সংঘাতের কারণেই রোহিঙ্গাদের পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে হয়েছে। এ অবস্থায় তাদের সে দেশে ফেরত পাঠাতে হলে সর্বাগ্রে সে দেশের সরকার কর্তৃক তাদের ওই দেশের স্থায়ী নাগরিক হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে হবে এবং তা দিলেই শুধু তাদের পক্ষে সে দেশে ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে। নইলে এ ধরনের প্রত্যাবাসন কখনোই স্থায়ী বা টেকসই হবে না। কিন্তু কথা হচ্ছে, মিয়ানমার সরকার কি সেটি করতে রাজি হবে কিংবা বিশ্বসম্প্রদায় কি তা করতে তাদের রাজি করাতে পারবে? তদুপরি এ ক্ষেত্রে এটাও মনে রাখা দরকার যে, রোহিঙ্গা সমস্যার সঙ্গে শুধু মিয়ানমারের নিজস্ব জাতিগত সমস্যাই জড়িয়ে নেই—এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক রাজনীতির নানা হিসাব-নিকাশও অন্তরাল থেকে নানাভাবে কাজ করছে। ফলে বিশ্বরাজনীতির ওইসব কূটচাল অতিক্রম করে রোহিঙ্গাদের সে দেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতিদানের ব্যাপারে মিয়ানমার সরকারকে রাজি করানোর কাজটি যথেষ্টই জটিল ও কষ্টসাধ্য।

    মোটকথা, আরাকান ছেড়ে ১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণের বিষয়টি শুধু নাফ নদী পার হয়ে পশ্চিম পাড়ে চলে আসার মতো সরল বিষয় নয় এবং তাদের ফিরে যাওয়ার সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে এর চেয়েও অধিক জটিলতা। তদুপরি এর সঙ্গে যুক্ত আন্তর্জাতিক স্বার্থান্বেষী পক্ষের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। ফলে এরকম একটি জটিল সমীকরণের মুখে দাঁড়ানো রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান রাতারাতি হয়ে যাবে, এমনটি মনে করার কোনো কারণ নেই। বিষয়টি আমরা সাধারণ মানুষ যতটা বুঝি, তার চেয়ে অনেক ভালো বোঝেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এবং তার চেয়েও অধিক বোঝেন বিশ্বসমাজের সঙ্গে নিত্য ওঠাবসার অভিজ্ঞতায় হৃদ্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। কিন্তু এতসব বুঝেও গত ১৪ মার্চ জাতিসংঘ মহাসচিবের পাশে বসে তিনি বলেছেন, ‘রোহিঙ্গারা যেন আগামী বছর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে তাদের নিজ বাড়িতে ফিরে গিয়ে ঈদ উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে জাতিসংঘের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করছি।’ (প্রথম আলো, ১৫ মার্চ, ২০২৫)। এ অবস্থায় মিয়ানমার যে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরতযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করার কথা জানাল, তা ওই বক্তব্যের সঙ্গে খুবই ধারাবাহিকতাপূর্ণ। কিন্তু কথা হচ্ছে, এটি কি সত্যি সত্যি ১৪ লাখ রোহিঙ্গার পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন প্রক্রিয়া, নাকি এদের মধ্য থেকে প্রতীকী কতিপয়কে পুনর্বাসন করে সেটিকেই সাফল্য হিসেবে দেখানোর কোনো কূটনৈতিক কৌশল?

    সে যাই হোক, থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক বিমসটেক সম্মেলনের পার্শ্ব বৈঠকে বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধি (হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ) ড. খলিলুর রহমানকে মিয়ানমারের উপ-প্রধানমন্ত্রী উ থান সোয়ে ১ লাখ ৮০ হাজার ফেরতযোগ্য রাখাইন শরণার্থীর তালিকা তৈরির তথ্য দিয়েছেন মর্মে গণমাধ্যমকে যা জানানো হয়েছে, সেটি নিঃসন্দেহে উৎসাহব্যঞ্জক। আর এ ধারাবাহিকতায় ১৩ লাখ শরণার্থী রোহিঙ্গা যদি আগামী বছরের ঈদ তাদের আরাকানের নিজ বাড়িতে করতে পারে, তাহলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটি হবে বিশ্ব শান্তির পক্ষে বিজয়লাভের অন্যতম বড় ঘটনা। কিন্তু বাস্তবে সত্যি সত্যি তেমনটি হয় কি না, সেটিই দেখার বিষয়।

    • লেখক: অ্যাজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, সাবেক পরিচালক, বিসিক, শিল্প মন্ত্রণালয়
  • ‘পুরাতন’ নিয়ে নতুনভাবে ঋতুপর্ণা

    ‘পুরাতন’ নিয়ে নতুনভাবে ঋতুপর্ণা

    চলতি মাসের ১১ তারিখ মুক্তি পাচ্ছে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের নতুন সিনেমা ‘পুরাতন’। যার প্রচারণা নিয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন টালিউডের নামকরা এই অভিনেত্রী।

    সম্প্রতি সিনেমাটির ট্রেলার প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে নতুনভাবে ঋতুপর্ণাকে পেয়েছে দর্শক। প্রকাশিত ট্রেলারে দেখা যায় অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর তার মায়ের চরিত্রে অভিনয় করছেন। যাকে নিয়েই তার রাজ্যের চিন্তা। যার জন্য তিনি বিয়ের সিদ্ধান্তও নিতে পারেননি। তবে ঋতুপর্ণা সম্পর্কে আছেন অভিনেতা ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত। এরপর একটা সময় বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তারা দুজন। তারপরই ঋতুপর্ণার মাকে নিয়ে সংসারে বাধতে থাকে নানা জটিলতা। এ নিয়েই এগিয়ে যাবে সিনেমার গল্পটি।

    এদিকে ‘পুরাতন’ সিনেমার হাত ধরে শর্মিলা ঠাকুরের বাংলা ছবিতে দীর্ঘদিন পর প্রত্যাবর্তন হচ্ছে, যা নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত এ কিংবদন্তি। ভারতীয় এক গণমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘এটিই হয়তো আমার শেষ বাংলা ছবি। কারণ আমার শরীর খুব একাটা ভালো না। আগের মতো কাজ করার শক্তি এখন পাই না। তাই সেভাবে আমাকে সিনেমায় দেখতে পাচ্ছে না দর্শক। এ ছাড়া ঋতু খুব পেশাদার মানুষ। তাই ওর প্রস্তাব আমি না করতে পারিনি। শুটিং সেটে ও আমার খুব যত্ন নিয়েছে। তবে প্রযোজকের বাইরেও ও সহ-অভিনেত্রী হিসেবে দুর্দান্ত। আমি ওকে পছন্দ করি। ওর সঙ্গে কাজ করতে পেরে ভালো লেগেছে।’

    মুক্তির দোরগোড়ায় থাকা ঋতুপর্ণার ‘পুরাতন’ সিনেমাটিতে তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনার দায়িত্বেও আছেন। এটি পরিচালনা করেছেন সুমান ঘোষ। শেষ সময়ে সিনেমাটি নিয়ে তুমুল ব্যস্ততা যাচ্ছে অভিনেত্রীর। সেইসঙ্গে বেশ আশাবাদী ঋতুপর্ণা। তার মতে, এ মুভির গল্পই দর্শককে মুগ্ধ করবে। এ ছাড়া এর গান এরই মধ্যে প্রশংসিত হচ্ছে।

  • গর্ভাবস্থায় স্ট্রোক করে ববি শিক্ষার্থীর মনির মৃত্যু

    গর্ভাবস্থায় স্ট্রোক করে ববি শিক্ষার্থীর মনির মৃত্যু

    গর্ভাবস্থায় স্ট্রোক করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী হাসপি ইসলাম মনি নামের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান উন্মেষ রয় বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘হাসপি ইসলাম সোমবার (৭ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে স্ট্রোক করে হাসপাতালে মারা যান। তিনি নয় মাসের গর্ভবতী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় প্রাথমিকভাবে এসব তথ্য জানা গেছে। আমরা বাংলা বিভাগ থেকে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।’

    জানা গেছে, হাসপি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলায়। তিনি বরগুনা সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক ও বরগুনা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে মাধ্যমিক পাশ করেন।

    এদিকে হাসপির মৃত্যুতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়েরভিসি ড. শুচিতা শরমিন এক শোক বার্তায় মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

  • ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা ৪৪’র ভাইভার পরে নেওয়ার দাবি

    ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা ৪৪’র ভাইভার পরে নেওয়ার দাবি

    ৪৪তম বিসিএসের ভাইভা শেষে এবং ৪৫তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন প্রার্থীরা। দাবি আদায়ে আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিএসসির সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রার্থীরা।

    সোমবার (০৭ এপ্রিল) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান চাকরিপ্রত্যাশীরা।

    এর আগে রোববার প্রার্থীরা বিসিএসের জট নিরসন ও ৪৪ থেকে ৪৭তম বিসিএসের বিষয়ে সুস্পষ্ট রোডম্যাপের দাবিতে পিএসসি সচিবালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন এবং কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেন আন্দোলনকারীরা।

    সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে ইমতিয়াজ আহমেদ সিয়াম বলেন, “আমরা প্রতিনিধিরা ভেতরে গিয়ে কমিশন সভায় উপস্থিত হলে, তাঁরা আমাদের দাবি জানতে চান। আমরা আমাদের দাবির মূলভাব ব্যক্ত করি ও স্মারকলিপি প্রদান করি। আমরা একই সাথে ৪৪,৪৫,৪৬,৪৭তম বিসিএসের বাস্তবতা তুলে ধরি। জট নিরসনে আমাদের সংস্কার দাবি জোরালোভাবে ব্যক্ত করি। এরপর সদস্য স্যারেরা আমাদের নানান যুক্তি দিয়ে আটকে দিতে থাকেন। তাঁরা বলেন যে, ‘আপনরা আজকে না আসলেও আমাদের একটা রোডম্যাপ ছিল, হয়ত দ্রুত এর বহিঃপ্রকাশও পেতে।

    তখন আমাদের জানানো হয় যে, ৪৪ এর ভাইভা কার্যক্রম অবিলম্বে রুটিন প্রকাশ করে শুরু করা হবে এবং মে মাসে তারা ৪৪ শেষ করতে না পারলেও জুনে অবশ্যই শেষ করবেন এবং ৮ মে থেকে লিখিত পরীক্ষা শুরু হবে এবং একই সাথে লিখিত ও ভাইভা চলবে বলে আমাদের জানান এবং এই পরিকল্পনা তাঁদের পূর্ব-স্থিরকৃত। আমরা সেখানে সমস্বরে বিনীত অনুরোধ জানাই যে, ‘স্যার এটা কোনভাবেই সম্ভব না এবং স্যার আপনারা জানেন যে বিসিএস-এ সাধারণত একই প্রার্থী একাধিক বিসিএসে অংশগ্রহণ করে থাকে। একই সাথে ভাইভা এবং লিখিত হলে প্রার্থীরা মারাত্মক অসুবিধায় পড়বেন। তাদের প্রস্তুতিতে বিঘ্ন ঘটবে ও মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়বেন’।

    তখন তাঁরা আমাদের বলেন যে, ‘পড়া সবই এক, প্রিলি-রিটেন-ভাইভা একই পড়া’। আমরা বিরোধিতা করলেও তাঁরা আমলে নিচ্ছিলেন না। আমরা এও বলি যে স্যার এত দ্রুত সময়ের মধ্যে ৩টা বিসিএসের আয়োজন নিঃসন্দেহে আমাদের উপর চরম মানসিক চাপ ও নানান বাস্তবতার ব্যাপার। আমরা এখন কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থিটি নই। আমরা এখন বাস্তবতার কষাঘাতে নিমজ্জিত জীবন অতিবাহিত করছি। তাই, সুপরিকল্পনা ব্যতীত কোন সিদ্ধান্ত আমাদের মানা অসম্ভব এবং আমাদের জন্য সেটা অমানবিকও বটে।”

    তিনি আরো বলেন, পিএসসি এখন একটা প্রিলি-রিটেন প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। এভাবে তাঁরা বিসিএসকে একটা জটলার ভাগাড়ে পরিণত করেছেন। আমরা পিএসসিকে জানিয়ে দিতে চাই আপনারা ভুলবেন না এই পিএসসি জুলাইয়ের তাজা রক্তের উপর ভেসে আছে। আমরা এটাও স্মরণ করাতে চাই জুলাই অভ্যুত্থান যারা শুরু করেছিলেন তাঁরা প্রায় সবাই ছিলেন চাকরি প্রার্থী মূলত বিসিএস-প্রার্থী, যাদের অধিকাংশ এখন দেশসেবায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছেন।

    পিএসসির কর্মকাণ্ড ‘জুলাই চেতনার সাথে অসমঞ্জস্য’ মন্তব্য করে সিয়াম আরও বলেন, “পিএসসির এই অমানবিক সিদ্ধান্ত আমরা প্রত্যাখ্যান করলাম। আমরা আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাব। আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, ৪৬তম লিখিত পরীক্ষা হুট করে নেওয়া যাবে না।

    এসময় মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) সকালে পিএসসি সচিবালয়ের সামনে দাবি আদায়ে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেন ইমতিয়াজ আহমেদ সিয়াম।

    পরে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের মূল দাবি হল বিসিএসের যে জট লেগে গেছে ৪৪, ৪৫, ৪৬ ও ৪৭তম মধ্যে; বিসিএসের কার্যক্রমগুলো ধারাবাহিকভাবে চলুক। একটা শেষ করে আরেকটা অগ্রগতি হোক। একটার মাঝে যাতে আরেকটা ওভার ল্যাপিং না করে।

    “আমরা চাচ্ছি যে, ৪৪তম বিসিএসের প্রায় ৬ হাজার প্রার্থীর ভাইভা বাকি আছে। তাদের ভাইভা শেষ করতে পিএসসির (৪৬তম লিখিত পরীক্ষা শুরুর) নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বড়জোড় অতিরিক্ত এক মাস বেশি সময় লাগবে। ৪৪তমর ৭০ শতাংশের বেশি প্রার্থী ৪৬তম লিখিত পরীক্ষাও দেবেন। তাদের ৪৪ এর মৌখিক পরীক্ষা শেষ করে ৪৬ এর লিখিততে বসার সুযোগ করে দেওয়া হোক। যাতে সে দুটো পরীক্ষা কম্ফোর্টেবলি দিতে পারেন। একমাসের ব্যবধানে তারা যদি দুইটা পরীক্ষা কম্ফোর্টেবলি দিতে পারে, আর এক মাস এক মাস করে যদি তাহলে আমাদের কোন পরীক্ষা জটও লাগলো না, প্রার্থীরা দাবি-দাওয়া নিয়ে রাস্তায়ও নামলো না।”

    প্রসঙ্গত, বর্তমানে ৪৪তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা চলছে। ২০২১ সালে আবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা এই বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা এক দফায় শুরু হলেও গত ১৮ নভেম্বর তা বাতিল ঘোষণা করে পিএসসি। পরে গত ২২ ডিসেম্বর থেকে ফের পরীক্ষাটি শুরু হয়।

    প্রথম দফায় মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের ৮ মে। মাঝে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কারণে তা প্রথম দফায় এবং সরকার পতনের পর ওই বছর ২৫ অগাস্ট দ্বিতীয় দফায় তা স্থগিত করা হয়।

    আগে ৩ হাজার ৯৩০ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। এতে মোট ১১ হাজার ৭৩২ জনের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। ‘ন্যায্যতা বজায় রাখতে প্রার্থীদের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে’ এ পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছিল বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।

    ৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর প্রকাশ করেছিল পিএসসি। ২০২৩ সালের ১৯ মে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২ লাখ ৬৮ হাজার ১১৯ জন প্রার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। ওই বছরের ৬ জুন প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়।

    প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১২ হাজার ৭৮৯ জন লিখিত পরীক্ষায় বসেন গত বছরের বছর ২৩ জানুয়ারি, যা শেষ হয় ৩১ জানুয়ারি। লিখিত পরীক্ষার ফল এখনও প্রকাশিত হয়নি। পিএসসি গত নভেম্বরে জানিয়েছে, কমিশন সব উত্তরপত্র তৃতীয় পরীক্ষকের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

    ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা আগামী ৮ মে থেকে শুরুর ঘোষণা ইতোমধ্যে দিয়েছে কমিশন। দুই দফায় প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশ করার পর উত্তীর্ণ ২১ হাজার ৩৯৭ জন প্রার্থী এ বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন।

    ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর ৪৬তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি, যার প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২০২৪ সালের ২৬ এপ্রিল। প্রিলিমিনারিতে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৫৬১ প্রার্থী অংশ নিয়েছিলেন। ওই বছর ৯ মে প্রিলিমিনারি প্রকাশিত ফলে উত্তীর্ণ হন ১০ হাজার ৬৩৮ জন।

    গত বছরের ২৮ অগাস্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সরকার পরির্তনের পর অস্থির সময়ের কারণে ২৫ অগাস্ট তা স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

    ‘বৈষম্য দূরীকরণে’ প্রথম দফায় প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণদের সঙ্গে আরও সমসংখ্যক প্রার্থীকে উত্তীর্ণ করে ফের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে বলে গত ১৮ নভেম্বর ঘোষণা দেয় পিএসসি।

    পরে গত ২৭ নভেম্বর আগে উত্তীর্ণ ১০ হাজার ৬৩৮ জনের সঙ্গে আরও ১০ হাজার ৭৫৯ প্রার্থীকে উত্তীর্ণ করে ৪৬তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল ফের প্রকাশ করেছে পিএসসি।

    ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা আগামী ২৭ জুন (শুক্রবার) অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে পিএসসি। ৩ হাজার ৪৮৭টি ক্যাডার এবং ২০১টি নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ দিতে গত ২৮ নভেম্বর ৪৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি জারি করে পিএসসি।

    গত ১০ ডিসেম্বর সকালে ১০টা থেকে অনলাইনে এ বিসিএসের আবেদনগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ৯ ডিসেম্বর তা স্থগিত করে পিএসসি।

    পরে গত ২৬ ডিসেম্বর ৪৭তম বিসিএসের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে, ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষা থেকে আবেদন ফি ও মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর কমানো হয়। এ বিসিএসে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ২০০ থেকে কমিয়ে ১০০ করা হয়েছে। ফলে মোট নম্বর ১১০০ থেকে পরিবর্তন করে ১০০০ করা হয়েছে। এ বিসিএসে প্রথমবারের মতো আবেদনের বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করা হয়। ২৯ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় এ বিসিএসের আবেদন, চলে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।