Category: শিক্ষাঙ্গন

  • এতিমখানায় বেড়ে ওঠা ১২ বন্ধুর এসএসসি জয়

    এতিমখানায় বেড়ে ওঠা ১২ বন্ধুর এসএসসি জয়

    ছোটকালেই কেউ হারিয়েছেন বাবাকে। কেউ মাকে। আবার কেউ অবুঝ বয়সেই নিখোঁজ হয়েছিলেন পরিবার থেকে। পরিবারহীন এমন ১২ বন্ধু এবার এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। সবার স্বপ্ন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর।

    অনিশ্চিত পথের জীবন থেকে ওঠে আসা এই ১২ জন কিশোর হলো, কবির হোসেন হৃদয়, সাব্বির হোসেন, সফিকুল ইসলাম, পারভেজ রানা, আব্দুল মজিদ, সুজন আলী, রাকিবুল হাসান, বরজুল রহমান বায়েজিদ, তাপস চন্দ্র রায়, জিহাদ মিয়া, আল আমিন ও হৃদয় কুমার।

    তারা ছোট থেকে বেড়ে ওঠেছেন পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের জলাপাড়া গ্রামে অবস্থিত ‘আহছানিয়া মিশন শিশু নগরীতে’। এ বছর পঞ্চগড় সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে তারা। এসএসসির সফলতায় তাদের যেন বাধভাঙা উচ্ছ্বাস, চোখে নতুন জীবন সাজানোর স্বপ্ন। অনাথ, ছিন্নমুল এবং বঞ্চিত ও হারিয়ে যাওয়া পথশিশুদের সুন্দর ভবিষ্যত গড়তে ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আহছানিয়া মিশন শিশু নগরী।

    জিপিএ-৪.৯৬ অর্জন করা কবির হোসেন হৃদয় জানায়, খুব ছোটবেলায় বাবা ও মায়ের বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকেই অবহেলার শিকার হয়ে পড়ি। এক পর্যায়ে মাত্র ৫ বছর বয়সে মায়ের সঙ্গে অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাই। এসে পথশিশুর পরিচয়ে জীবন শুরু করেন। ২০১৪ সালে কোনো এক রেলস্টেশন থেকে সমাজকর্মীর মাধ্যমে এই শিশু নগরীতে আসি। আমার বাড়ি ‘নারায়ণগঞ্জ’ শুধু এটুকুই মনে আছে।

    জিপিএ-৪.৫৪ পাওয়া আব্দুল মজিদ বলেন, আমার বাড়ি দিনাজপুরে এতটুকু মনে আছে। ছোট বেলায় বাবাকে হারিয়েছি। এরপর ঠাঁই হয় এখানে। এখানে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হই পাশের বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে অষ্টম শ্রেণি পাস করে কারিগরি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হই এবং এ বছর এসএসসি পাস করি।

    জিপিএ-৪.৭৫ পাওয়া সাব্বির হোসেন বলেন, ছোটবেলায় পরিবার থেকে নিখোঁজ হই। আমার জেলার নামও আমি বলতে পারি না। শুধু মনে আছে, বাবার নাম মারুফ, মায়ের নাম ছবি আক্তার।

    জিপিএ-৪.৮২ পাওয়া আব্দুল মজিদ বলেন, আমার বাড়ি লালমনিরহাটের কালিগঞ্জের তুষভান্ডারে। বাবা-মা, পরিবার সবই আছে। খুব ছোটবেলায় পরিবার থেকে হারিয়ে গেলে ঠাঁই হয় এখানে। পরবর্তীতে পরিবারের সন্ধান মিললেও এখানেই থেকে যাই। এসএসসি পাস করবো- এটা ছিল স্বপ্নের মতো। পাশ করেছি, এই অনুভূতি বুঝাতে পারবো না।

    শিশু নগরীর সমাজকর্মী ইউসুফ বলেন, বিভিন্নভাবে বঞ্চিত শিশুদের এখানে ঠাঁই হয়। তাদেরকে এখানে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। এরপর তারা মাধ্যমিকে স্থানীয় স্কুলে ভর্তি হয়।

    শিশু নগরীর কৃষি কর্মকর্তা সেলিম প্রধান বলেন, এখানে শিশুরা নিজের বাড়ির মতোই থাকে, পড়ালেখা করে। এই শিশুদের ১৮ বছর পূর্ণ হলে কর্মমুখী শিক্ষা দিয়ে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে ঢাকা আহছানিয়া মিশন।

    আহছানিয়া মিশন শিশু নগরীর সেন্টার ম্যানেজার দিপক কুমার রায় বলেন, অন্ধকারে পা বাড়ানো শিশুদের আলোর পথে নিয়ে আসে আহছানিয়া মিশন। তাদের সু-নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এই শিশু নগরী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে এখানে বিভিন্ন বয়সি ১৬০ জন শিশু রয়েছে। এ বছর ১২ জন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।

  • এবার গণিতের ভরাডুবিতে এসএসসিতে ফল ‘বিপর্যয়’

    এবার গণিতের ভরাডুবিতে এসএসসিতে ফল ‘বিপর্যয়’

    এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এবার ভয়াবহ ফল বিপর্যয় হয়েছে। বিগত বছরের চেয়ে এবার পাসের হার কমেছে ১৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ। মূলত গণিত বিষয়ে ফেল করার কারণে এবার ফলাফল খারাপ করেছে অধিকাংশ বোর্ড। যে শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীরা গণিত বিষয়ে ভালো করেছে, সেখানে গড় পাসের হারও বেড়েছে। প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এরমধ্যে সবচেয়ে নিচে রয়েছে বরিশাল বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার মাত্র ৫৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জনে ফেল করেছে প্রায় ৪৪ জন।

    বোর্ড সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বরিশাল বোর্ডে এবার ফল বিপর্যয়ের নেপথ্যে গণিতের ভরাডুবি বড় কারণ। এবার বোর্ডটিতে গণিতে পাসের হার ৬৪ দশমিক ৬২ শতাংশ। অর্থাৎ, বরিশাল বোর্ডে প্রতি ১০০ জনে ৩৫ জনই গণিতে ফেল করেছেন। একই অবস্থা ময়মনসিংহ বোর্ডেরও। এ বোর্ডে গড় পাসের হার মাত্র ৫৮ দশমিক ২২ শতাংশ। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ময়মনসিংহ বোর্ডে গণিতে পাসের হার মাত্র ৬৪ দশমিক ২৭ শতাংশ। যার ধাক্কা লেগেছে গড় পাসের হারেও।

    এছাড়া ঢাকা, কুমিল্লা, দিনাজপুর ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডেও গণিতে পাসের হার ৭০ শতাংশের ঘরে। ঢাকা বোর্ডে গণিতে পাস করেছেন ৭৫ দশমিক ১৪ শতাংশ শিক্ষার্থী। কুমিল্লায় ৭২ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ, দিনাজপুরে ৭১ দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং মাদরাসা বোর্ডে ৭৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। ফলে এ বোর্ডগুলোতেও গড় পাসের হার ‘সন্তোষজনক’ হয়নি। তবে পাসের হারে ভালো অবস্থানে থাকা রাজশাহী বোর্ডের পরীক্ষার্থীরা গণিতে বেশ ভালো করেছে। এ বোর্ডে গড় পাসের হার ৭৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ। আর রাজশাহী বোর্ডে গণিতে পাসের হার ৮৬ দশমিক ৫২ শতাংশ।

    দ্বিতীয় স্থানে থাকা যশোর বোর্ডও গণিতে তুলনামূলক ভালো ফল করেছে। এ বোর্ডে গণিত বিষয়ে পাসের হার ৮৫ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। গড় পাসের হারে তৃতীয় অবস্থানে থাকা কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে গণিতে পাসের হার সবচেয়ে বেশি। এ বোর্ডে গণিত বিষয়ে পাস করেছেন ৮৮ দশমিক ৭২ শতাংশ শিক্ষার্থী। এছাড়া গণিতে ৮০ শতাংশের বেশি পাসের হার রয়েছে চট্টগ্রাম (৮১ দশমিক ৫৩) ও সিলেট (৮৩ দশমিক ১৭) বোর্ডে।

    ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক একজন চেয়ারম্যান বলেন, গণিত ও আইসিটিতে কয়েক বছর ধরে বেশি ফেল ইংরেজিতেও ফেল থাকে। তবে এবার ইংরেজি ও আইসিটিতে বেশ ভালো করেছেন শিক্ষার্থীরা। ওদের সর্বনাশ ঘটেছে গণিতে। এজন্য গড় পাস কমেছে। হয়তো অনেকে গণিতে পাস করলেও ফল খারাপ করায় জিপিএ-৫ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অনেক শিক্ষক এখনও গণিত মুখস্ত করান। ছাত্র-ছাত্রীদের তিনি সাজেশন দিয়ে দেন যে এগুলো মুখস্ত করলে তুমি পাস করে যাবে বা ভালো ফল করবে। ফলে তারা গণিত সমাধানে সক্ষম হয়ে ওঠে না। প্রস্তুতিবিহীনভাবে পরীক্ষার হলে যায়। মুখস্ত গণিতের থেকে কিছুটা হেরফের হলেই ভুল করে বসে। আর উত্তর মেলাতে পারে না। গণিতে এ বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে স্কুল পর্যায় থেকে গণিত সমাধানে শিক্ষার্থীদের মনোযোগী হতে হবে। মুখস্ত করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

  • জিপিএ-৫ পেলো বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী জাইমা তানিশা

    জিপিএ-৫ পেলো বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী জাইমা তানিশা

    এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে তাক লাগিয়েছে টাঙ্গাইলের মেয়ে জাইমা জারনাস তানিশা। সে একজন বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। তার এ ফলাফলে মুগ্ধ পরিবার ও এলাকাবাসী। তানিশা ঘাটাইল সদর ইউনিয়নের কমনা পাড়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের মেয়ে। সে ঘাটাইল সালেহা ইউসুফজাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়।

    তানিশার বাবা জামালপুর দেওয়ানগঞ্জের উপজেলা প্রকৌশলী জয়নাল আবেদীন। মা কমলা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাফুজুন নাহার বিউটি। ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্টে প্রতিবন্ধী ও অটিজম শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠান ‌‘প্রয়াস’-এ শিশুশ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে তানিশা।

    তানিশার বিদ্যালয়ের শিক্ষক বাসু দেব পাল বলেন, তানিশা অত্যন্ত মেধাবী। বাকপ্রতিবন্ধী কোনো ব্যাপার নয়, সে আগামীতে আরও সাফল্য অর্জন করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হবে আশা রাখি।

    মা মাফুজুন নাহার বিউটি বলেন, মেয়ের এমন ফলাফলে আমি খুশি। আমার মেয়ে যে জিপিএ-৫ পাবে আমি কখনো কল্পনাও করতে পারেনি। ভালো ফলাফলের জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাই। আমার মেয়ে ছোটবেলা থেকেই মেধাবী। সে কথা বলতে না পারলেও আমাদের ইশারা বুঝতে পারে। আমার মেয়ে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে চায়।

    ঘাটাইল সালেহা ইউসুফজাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, মেয়ে হিসেবে তানিশা নম্র ও ভদ্র। তার অনেক চেষ্টা ছিল। আমরাও আন্তরিক ছিলাম। তার ফলাফলে আমরা আনন্দিত।

  • কারাগার থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস ২ শিক্ষার্থী

    কারাগার থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস ২ শিক্ষার্থী

    রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের অধীনে কারাগার থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন দুই কয়েদি। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য জানা গেছে। এই দুজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজন জয়পুরহাট এবং অপরজন নওগাঁ জেলা কারাগার থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন।

    রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, তারা দুজনেই বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থী ছিলেন। জয়পুরহাট কারাগার থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সিরাজুল ইসলাম জয়পুরহাটের পাঁচবিবির মালিদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তিনি পেয়েছেন জিপিএ-৩.৫। অপরদিকে, নওগাঁ জেলা কারাগার থেকে অংশ নেওয়া রানা হোসেন জেলার মান্দ্রার খোর্দ্দ বান্দাইখাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তিনি পেয়েছেন জিপিএ-৩.৬৭।

    এই বিষয়ে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আরিফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষাবোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় দুজন কারাগার থেকে অংশ নিয়েছিল। তারা দুজনেই পাস করেছে।’

  • আশানুরূপ ফল না পেয়ে কাঁদছে বাবার লাশ রেখে পরীক্ষা দেওয়া মারিয়া

    আশানুরূপ ফল না পেয়ে কাঁদছে বাবার লাশ রেখে পরীক্ষা দেওয়া মারিয়া

    এসএসসি পরীক্ষার দিন ভোরে না ফেরার দেশে চলে যান বাবা। হৃদয়বিদারক সেই মুহূর্তে বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখেই বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশ নেয় মারিয়া আক্তার। আজ বৃহস্পতিবার এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৩.৮৩ পেয়েছে সে। আশানুরূপ ফল না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছে এই সাহসী কন্যা।

    পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের গাবুয়া গ্রামের শহীদ স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার। গত ১০ এপ্রিল, যেদিন এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছিল, সেদিন সকালেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় তার বাবা মামুন হাওলাদার। সেই শোকের ভার নিয়েই বাংলা পরীক্ষায় অংশ নেয় মারিয়া।

    মারিয়া জানায়, বাবা সবসময় চাইতেন আমি যাতে মানুষের মতো মানুষ হই। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। বাবার স্বপ্ন পূরণের জন্যই তার মরদেহ রেখে পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়েছিলাম। কিন্তু যেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, সেভাবে ফল হয়নি। তাই খুব খারাপ লাগছে।

    মারিয়ার ছোট চাচা অলিউল্লাহ বলেন, মারিয়া ছাত্রী হিসেবে খুব ভালো, কিন্তু আমার ভাইয়ের মৃত্যুর কারণে মারিয়া একেবারে ভেঙে পড়ে। আমরা তাকে সাহস দিয়েছি, পাশে থেকেছি। আজ ফলাফল প্রকাশ হয়েছে, প্রত্যাশ অনুযায়ী ফল না পেয়ে কান্নাকাটি করছে। আমাদের ইচ্ছে তাকে ঢাকায় ভালো কোনো কলেজে ভর্তি করবো, সে যতদূর পড়তে চায় তাকে ততদূর পড়াতে চাই।

    বদরপুর শহীদ স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিরদ লাল বৈদ্য বলেন, মারিয়ার মতো পরিস্থিতিতে অন্য কেউ হলে হয়তো পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারত না। সে ছাত্রী হিসেবে খুবই ভালো। ধারণা করেছিলাম জিপিএ ফাইভ না পেলেও কাছাকাছি পাবে। তবে তার বাবার মৃত্যুতে সে কিছুটা ভেঙে পড়েছে তাই প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলাফল অর্জন করতে পারেনি। তবুও আমরা খুশি যে, সে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

  • মুখ দিয়ে লিখে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেল লিতুন জিরা

    মুখ দিয়ে লিখে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেল লিতুন জিরা

    হাত-পা ছাড়া জন্ম নেওয়া সেই অদম্য মেধাবী লিতুন জিরা এসএসসির ফলাফলেও চমক দেখিয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে সে। লিতুন জিরা যশোরের মণিরামপুর উপজেলার সাতনল খানপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান ও জাহানারা বেগম দম্পতির মেয়ে। উপজেলার গোপালপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় সে।

    বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুপুরে ফলাফল প্রকাশের পর উচ্ছ্বসিত লিতুন জিরার পরিবার। ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে লিতুন জিরা জানান, সে আরও ভালোভাবে লেখাপড়া করে চিকিৎসক হতে চায়।

    অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে বলীয়ান লিতুন জিরা একের পর এক পরীক্ষায় মেধা ও প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। ভবিষ্যতে এই মেধাবী ও লড়াকু সন্তান সমাজের পিছিয়ে পড়া ও আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিতে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

    হাবিবুর রহমান ও জাহানারা বেগম দম্পতির দুই ছেলে-মেয়ের মধ্যে ছোট লিতুন জিরা। বড় ছেলে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। লিতুন জিরা পিইসি (প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা) ও জেএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর, প্রাথমিকে বৃত্তি লাভ, শ্রেণির সেরা শিক্ষার্থীর পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চায়ও রেখেছে চমক জাগানো অবদান। তার একাগ্রতা আর অদম্য ইচ্ছা শক্তির কাছে হার মেনেছে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটি বা পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যক্রমেও স্বীকৃতি পেয়েছে সে।

  • ৭ শিক্ষকের ৫ পরীক্ষার্থী, চারজনই ফেল

    ৭ শিক্ষকের ৫ পরীক্ষার্থী, চারজনই ফেল

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলে অবস্থিত আলাতুলি উচ্চ বিদ্যালয়। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক রয়েছেন সাতজন। এখান থেকে চলতি বছরে এসএসসি পরীক্ষা দেয় পাঁচজন। এদের মধ্যে চারজনই অকৃতকার্য হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুপুরে এসএসসির ফল যাচাই করে এই তথ্য জানা গেছে।

    রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আলাতুলি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার পাঁঁচ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তারা সবাই মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে একজন পাস করলেও বাকিরা সবাই ফেল করেছে।

    আলতুলি উচ্চ বিদ্যলয়ের প্রধান শিক্ষক নওশাদুজ্জামান তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের বিদ্যালয়টির এমপিওভুক্ত। সাতজন শিক্ষক রয়েছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক নেই। ফলে ইংরেজি পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

    চাঁপাইনববাগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সালমা আক্তার জানান, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জেলার যেসব বিদ্যালয়ের ফলাফল খারাপ হয়েছে, তাদের পড়ালেখা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি মনিটরিং করা হবে।

  • শিক্ষক সমিতির নেতা মজুমদার স্বপনের স্কুলে সবাই ফেল

    শিক্ষক সমিতির নেতা মজুমদার স্বপনের স্কুলে সবাই ফেল

    কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে একটি প্রতিষ্ঠানের ৩২ শিক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছে। স্কুলটির নাম ইসলামপুর উচ্চ বিদ্যালয়। এটি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় অবস্থিত। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) ফলাফল ঘোষণার পর থেকে জেলাজুড়ে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।

    স্কুলের প্রধান শিক্ষক শহিদুল্লাহ মজুমদার স্বপন উপজেলার প্রধান শিক্ষকদের সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে স্কুলের ১২টা বাজিয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানায়, ‘প্রধান শিক্ষক উপজেলার বড় নেতা। তিনি সারাদিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে মোটরসাইকেলের পেছনে বসিয়ে ঘুরে বেড়ান। তার স্কুলের ফলাফল তাই এত খারাপ হয়েছে। এতে করে আমাদের ক্ষতি হয়েছে। তারতো কিছুই হয়নি। শিক্ষা বোর্ডসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে তদন্তপূর্বক এর বিচার দাবি করছি।

    এ বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক শহিদুল্লাহ মজুমদার স্বপনের স্কুলে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। যার কারণে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    তবে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন নয়ন বলেন, ‘আমি ২০-২৫ দিন আগে সভাপতি হয়েছি। এখনো স্কুল নিয়ে কাজের সুযোগ পাননি। তবে স্কুলের খারাপ ফলাফল সম্পর্কে জেনেছি। প্রতিষ্ঠাতা, শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিয়ে খারাপ ফলের কারণ অনুসন্ধান করা হবে।’

    ৎএ বিষয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর রুনা নাছরিন বলেন, বোর্ডের ১ হাজার ৭৯৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নাঙ্গলকোটের ইসলামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের কেউ পাশ করেনি। আমরা এইচএসসি পরীক্ষা শেষে শিক্ষকদের সঙ্গে বসে এর কারণ অনুসন্ধান করবো।

  • এসএসসি-সমমানে পাসের হার ৬৮.৪৫ শতাংশ, কমেছে জিপিএ-৫

    এসএসসি-সমমানে পাসের হার ৬৮.৪৫ শতাংশ, কমেছে জিপিএ-৫

    চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে গড় পাসের হার ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ, এবার মোট জিপিয়ে-৫ পেয়েছে এক লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। গতবছরের পরীক্ষায় জিপিয়ে-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ১২৯ শিক্ষার্থী। সে হিসাবে এবার জিপিএ-৫ কম পেয়েছে ৪৩ হাজারের বেশি। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রকাশিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল থেকে এ তথ্য জানা যায়।

    গত ১০ এপ্রিল শুরু হওয়া এই পরীক্ষায় মোট ১৯ লাখ ৪ হাজার ৮৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়—যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় এক লাখ কম। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। এ ছাড়া, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৮ দশমিক ০৯ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এই হার ৭৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

    শতভাগ পাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কমেছে ১৯৮৪টি
    চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সারা দেশে শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯৮৪টি। গত বছর অর্থাৎ, ২০২৪ সালে শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৯৬৮টি। সেই হিসেবে এবার শতভাগ পাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কমেছে ১ হাজার ৯৮৪টি।

    ১৩৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি
    চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ১৩৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। অর্থাৎ, এসব প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল করেছে। গত বছর শূন্য পাস করা এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল মাত্র ৫১টি। এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৪টিতে।

    পাসের হার ও জিপিএ-৫, দুদিকেই মেয়েরা এগিয়ে
    আগের তিন বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ ও পাসের হারে এগিয়ে আছে মেয়েরা।পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রী ছিলেন ৯ লাখ ৫২ হাজার ৩৮৯ জন, ছাত্র ৯ লাখ ৫১ হাজার ৬৯৭ জন। এদের মধ্যে ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৪৪৫ জন ছাত্রী ও ৬ লাখ ২৬ হাজার ৯৮১ জন ছাত্র পাস করেছে। এ হিসাবে ছাত্রীদের পাসের হার ৭১ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ এবং ছাত্রদের পাসের হার ৬৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। অপরদিকে, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৭৩ হাজার ৬১৬ জন ছাত্রী এবং ৬৫ হাজার ৪১৬ জন ছাত্র। এবার ছাত্রদের চেয়ে ৮ হাজার ২০০ জন বেশি ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

    পাসের হারে টানা ১০ বছর এগিয়ে ছাত্রীরা
    চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। তার মধ্যে ছাত্রীদের পাসের হার ৭১.০৩ শতাংশ এবং ছাত্রদের পাসের হার ৬৫.৮৮ শতাংশ। সেই হিসাবে এবারও পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। এ নিয়ে টানা ১০ বছর এসএসসিতে পাসের হারে এগিয়ে ছাত্রীরা। বিগত ১১ বছরের এসএসসি ও সমমানের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবশেষ ২০১৫ সালে ছাত্রীদের চেয়ে পাসের হারে এগিয়ে ছিল ছাত্ররা। সে বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ছিল ৮৭ দশমিক ০৪ শতাংশ। তার মধ্যে ছাত্রদের পাসের হার ছিল ৮৭ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং ছাত্রীদের পাসের হার ছিল ৮৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এরপর থেকে প্রতিবছর পাসের হারে এগিয়ে ছাত্রীরা।

    বোর্ডভিত্তিক পাসের হার
    এবার সবচেয়ে বেশি পাস করেছে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা। এ বোর্ডে পাসের হার ৭৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এরপর আছে—যশোর বোর্ড: ৭৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ, কারিগরি বোর্ড: ৭৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ, চট্টগ্রাম বোর্ড: ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ, সিলেট বোর্ড: ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ, মাদরাসা বোর্ড: ৬৮ দশমিক ০৯ শতাংশ, ঢাকা বোর্ড: ৬৭ দশমিক ৫১ শতাংশ, দিনাজপুর বোর্ড: ৬৭ দশমিক ০৩ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ড: ৬৩ দশমিক ৬০ শতাংশ, ময়মনসিংহ বোর্ড: ৫৮ দশমিক ২২ শতাংশ, বরিশাল বোর্ড: ৫৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

    সাধারণ ৯ বোর্ডে পরীক্ষার্থী: ১৪ লাখ ৯০ হাজার ১৪২ জন। তার মধ্যে— ছাত্র: ৭ লাখ ১ হাজার ৫৩৮ জন, ছাত্রী: ৭ লাখ ৮৮ হাজার ৬০৪ জন। এবার সর্বমোট ২ হাজার ২৯১টি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া অংশগ্রহণ করেছে ১৮ হাজার ৮৪টি প্রতিষ্ঠান। মাদরাসা বোর্ডে পরীক্ষার্থী : ২ লাখ ৯৪ হাজার ৭২৬ জন। এর মধ্যে— ১ লাখ ৫০ হাজার ৮৯৩ জন ছাত্র ও ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৩৩ জন ছাত্রী ৭২৫টি কেন্দ্রে, ৯ হাজার ৬৩টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। এছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩১৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসেছে। তারমধ্যে— ১ লাখ ৮ হাজার ৩৮৫ জন ছাত্র এবং ৩৪ হাজার ৯২৮ জন ছাত্রী।

    এবার সবগুলো শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী। তার মধ্যে— ঢাকা বোর্ড: ৩৭ হাজার ৬৮ জন, চট্টগ্রাম বোর্ড: ১১ হাজার ৮৪৩ জন, কুমিল্লা বোর্ড: ৯ হাজার ৯০২ জন, ময়মনসিংহ বোর্ড: ৬ হাজার ৬৭৮ জন, যশোর বোর্ড: ১৫ হাজার ৪১০ জন, বরিশাল বোর্ড: ৩ হাজার ১১৪ জন, দিনাজপুর বোর্ড: ১৫ হাজার ৬২ জন, সিলেট বোর্ড: ৩ হাজার ৬১৪ জন, রাজশাহী বোর্ড: ২২ হাজার ৩২৭ জন। অন্যান্য বোর্ডের ফলাফল— মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড: জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯ হাজার ৬৬ জন, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড: জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪ হাজার ৯৪৮ জন শিক্ষার্থী। এবারের পরীক্ষায় পাসের হার এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় কম।

    এবারের এসএসসি পরীক্ষায় নকল করে বহিষ্কার ৭২১ শিক্ষার্থী
    ২০২৫ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় নকলসহ বিভিন্ন অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে সারা দেশে ৭২১ শিক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছে। তবে এই সংখ্যা গত ছয় বছরের তুলনায় সবচেয়ে কম। ২০২০ সালে যেখানে ১ হাজার ১৫৫ জন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছিল, সেখানে চলতি বছর এই সংখ্যা কমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে।

    ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ২০২০ সালে সর্বোচ্চ ১৪৩ জন শিক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়। প্রতি বছর এই সংখ্যা কমতে কমতে ২০২৫ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ৪১ জনে। একই ধারা কুমিল্লা বোর্ডেও লক্ষ্য করা যায়। ২০২০ সালে যেখানে ৭৭ জন বহিষ্কার হয়েছিল, চলতি বছর সেখানে বহিষ্কৃত হয়েছে ৪৮ জন। বরিশাল বোর্ডে ২০২০ সালের তুলনায় এখন বহিষ্কারের হার অনেকটাই কমে এসেছে—১০২ থেকে ২৮ জনে নেমে এসেছে সংখ্যা। দিনাজপুর বোর্ডেও ১০৫ থেকে কমে ৫৯ জনে ঠেকেছে বহিষ্কারের হার।

    ময়মনসিংহ বোর্ডে যদিও ২০২৩ সালে বহিষ্কারের সংখ্যা ছিল ৮১ জন, চলতি বছর তা কমে ৬৪ জন হয়েছে। রাজশাহী বোর্ডে এ বছর মাত্র ৭ জন বহিষ্কৃত হয়েছে, যা অন্যান্য বোর্ডের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম। যশোর বোর্ডে বহিষ্কৃত হয়েছে ১৫ জন, আর সিলেট বোর্ডে মাত্র ২ জন। চট্টগ্রাম বোর্ডে সর্বনিম্ন বহিষ্কার হয়েছে—শুধু ১ জন। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে এ বছর বহিষ্কৃত হয়েছে ৩২৫ জন শিক্ষার্থী। যদিও ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩৬১ জন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এ বছর বহিষ্কৃত হয়েছে ১৩১ জন। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৮৬ জন, তবে ২০২০ সালে যা ছিল ২২৯ জন।

    অন্যদিকে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৭০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। এরমধ্যে ছাত্রী ৯ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩৯ জন এবং ছাত্র ৯ লাখ ৬১ হাজার ২৩১ জন। সারা দেশের ৩ হাজার ৭১৫টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অবশ্য এর আগে ২০২৪ সালে পরীক্ষার্থী ছিল ২০ লাখ ২৪ হাজার ১৯২ জন। সে তুলনায় ২০২৫ সালে পরীক্ষার্থী কমেছে প্রায় এক লাখ। আর ২০২৪ সালে তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ৪৮ হাজার পরীক্ষার্থী কমেছিল।

    সব বোর্ডেই গণিতে ভরাডুবি
    এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সব বোর্ডেই গণিতে পাসের হার আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অন্যান্য বিষয়ের তুলনায় গণিতেই বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী কৃতকার্য হতে পারেনি। ফলে সব শিক্ষাবোর্ডে গণিতেই ভরাডুবি ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত ফল বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। ১১টি বোর্ডের বিভিন্ন বিষয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো ফল হয়েছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে, যেখানে গণিতে পাসের হার ৮৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। এই ফল অন্যান্য বোর্ডের তুলনায় অনেকটাই ভালো হলেও বাকি সব বোর্ডেই চিত্রটা হতাশাজনক।

    ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে গণিতে পাস করেছে ৭৫ দশমিক ১৪ শতাংশ শিক্ষার্থী। রাজশাহী বোর্ডে এ হার কিছুটা ভালো—৮৬ দশমিক ৫২ শতাংশ। যশোর বোর্ডেও তুলনামূলক ভালো ফল হয়েছে, পাসের হার ৮৫ দশমিক ০২ শতাংশ। তবে কুমিল্লা, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ বোর্ডে ফল অনেকটাই খারাপ। কুমিল্লা বোর্ডে গণিতে পাসের হার ৭২ দশমিক ০১ শতাংশ, দিনাজপুর বোর্ডে ৭১ দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে মাত্র ৬৪ দশমিক ২৭ শতাংশ। বরিশাল বোর্ডে এই হার আরও কম—মাত্র ৬৪ দশমিক ৬২ শতাংশ। চট্টগ্রাম বোর্ডে গণিতে পাস করেছে ৮১ দশমিক ৫৩ শতাংশ শিক্ষার্থী, যা তুলনামূলকভাবে ভালো হলেও আশানুরূপ নয়। সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৮৩ দশমিক ১৭ শতাংশ। এছাড়া, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডেও গণিতে পাসের হার কম, যেখানে ৭৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে।

    বিদেশে পাসের হার ৮৭.৩৫ শতাংশ
    ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এবার গড় পাসের হার ৬৮.৪৫ শতাংশ। ২০২৪ সালে এ পাসের হার ছিল ৮৩.০৪ শতাংশ। এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় বিদেশ থেকে অংশ নিয়েছে ৪২৭ জন। সেখানে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩৭৩ জন, ফেল করেছে ৫৪ জন। বিদেশের পাসের হার শতকরা ৮৭.৩৫ শতাংশ।

  • ইচ্ছামতো তদন্ত রিপোর্ট নয়, ফরম্যাট বাধ্যতামূলক করলো মাউশি

    ইচ্ছামতো তদন্ত রিপোর্ট নয়, ফরম্যাট বাধ্যতামূলক করলো মাউশি

    মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীন তদন্ত কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও নিয়মতান্ত্রিকতা আনতে এবার থেকে নির্ধারিত ফরম্যাটে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এতদিন পর্যন্ত তদন্ত কর্মকর্তারা নিজেদের মতো করে প্রতিবেদন তৈরি করতেন, যার ফলে একাধিক অভিযোগের তদন্তে কাঠামোগত বৈচিত্র্য থাকত এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিভ্রান্তি তৈরি হতো। এসব কারণেই এখন থেকে তদন্ত কার্যক্রমের মানোন্নয়নে ফরম্যাট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    সম্প্রতি মাউশির এইচআরএম ইউনিটের পরিচালক প্রফেসর বি. এম. আব্দুল হান্নানের সই করা এক অফিস আদেশে এমন সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অধিদপ্তর ও এর অধীনস্থ দপ্তরসমূহে পরিচালিত তদন্তের ক্ষেত্রে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এখন থেকে মাউশি নির্ধারিত ফরম্যাট অনুসরণ করতে হবে। এ নির্দেশনা তদন্ত সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

    একইসঙ্গে নির্ধারিত ফরম্যাটে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরির জন্য কাঠামোও নির্ধারণ করা হয়েছে। তাতে প্রতিবেদন শুরুতেই তদন্তের বিষয়, সূত্র, তদন্তের সময়-স্থান, তদন্ত কর্মকর্তার নাম ও পদবিসহ পরিচয় লিখতে হবে। এরপর অভিযোগের প্রেক্ষাপট, তদন্ত পদ্ধতি (সরেজমিন/মাউশি অফিসে), তদন্তকালে উপস্থিত ব্যক্তিদের তালিকা এবং অভিযোগগুলো পর্যায়ক্রমে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

    এছাড়া প্রতিটি অভিযোগের জন্য আলাদা করে অভিযোগকারীর বক্তব্য, অভিযুক্তের বক্তব্য, সাক্ষীদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও প্রমাণাদি তুলে ধরতে হবে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে ‘পর্যালোচনা’ অংশে বিষয়টি বিধিসম্মতভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে এবং সর্বশেষ অংশে অভিযোগ প্রমাণিত কি না—সেই বিষয়ে মতামত দিতে হবে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কোনো ধরনের শাস্তির সুপারিশ প্রতিবেদনে দেওয়া যাবে না।

    তদন্ত ফরম্যাটের সঙ্গে যুক্ত নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, তদন্তের পূর্বে অভিযুক্তকে অভিযোগপত্র সরবরাহ করতে হবে এবং তদন্তকালে সংশ্লিষ্টদের লিখিত বক্তব্য নিয়ে তাতে স্বাক্ষর রাখতে হবে। প্রতিবেদন দুই পৃষ্ঠার দুই পাশেই লিখতে বা প্রিন্ট করতে হবে এবং এর সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তার নিয়োগপত্র, অভিযোগপত্র, নোটিশ অনুলিপি, সাক্ষীদের লিখিত বক্তব্য, উপস্থিতির স্বাক্ষরপত্র, প্রমাণপত্রসহ সব তথ্য সংযুক্ত করতে হবে।

    এছাড়া তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় পৃষ্ঠা নম্বর স্পষ্টভাবে লিখে দিতে হবে এবং তদন্তে বিলম্ব হলে তার কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এই তদন্ত প্রতিবেদন কোনো পক্ষকে সরবরাহ করা যাবে না, এটি তদন্তকারী কর্মকর্তা ও অধিদপ্তরের কাছে সংরক্ষিত থাকবে এবং ভবিষ্যতে আদালতে ব্যবহারের জন্য আর্কাইভ সিস্টেমে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে।

    নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, তদন্ত কমিটিতে ন্যূনতম অভিযুক্তের সমপদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে নেতৃত্বে রাখতে হবে এবং কর্মকর্তাদের তদন্তে কোনো কর্মচারীকে সদস্য করা যাবে না। সাধারণত ১৫ কর্মদিবস সময় দিয়ে তদন্ত সম্পন্ন করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।