Category: শিক্ষাঙ্গন

  • পাঠ্যপুস্তকে ভুল সংশোধনে শিক্ষকদের পরামর্শ চাইলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়

    পাঠ্যপুস্তকে ভুল সংশোধনে শিক্ষকদের পরামর্শ চাইলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়

    ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে বিদ্যমান ভুল, অসংগতি এবং পরিমার্জনের প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত করতে দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সুপারিশ চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর ওপর পর্যালোচনা করে নির্ধারিত ছক ও নির্দেশনা অনুসারে সুপারিশ পাঠাতে বলা হয়েছে।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাঠ্যপুস্তককে আরও যথাযথ, নির্ভুল ও আধুনিক করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষকরা এই সুপারিশ সোমবারের (৭ জুলাই) মধ্যে হার্ডকপি ও সফট কপিতে (নিকোশব্যান, ১২ ফন্ট) ই-মেইলের মাধ্যমে (govt.sec2@moedu.gov.bd)- এই ঠিকানায় পাঠাতে পারবেন।

    ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারের সই করা এক অফিস আদেশ সূত্রে জানা গেছে, বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ইসলাম শিক্ষা, হিন্দু ধর্ম, কৃষিশিক্ষা, গার্হস্থ্যবিজ্ঞান এবং শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রচলিত পাঠ্যপুস্তকসমূহ পর্যালোচনা করে সংশোধনের জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধনের প্রস্তাবে অধ্যায়, পৃষ্ঠা, লাইনের সুনির্দিষ্ট তথ্য, কীভাবে লেখা আছে এবং কীভাবে সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে, তা যুক্তিসহ তুলে ধরতে হবে।

    পরিমার্জনের ক্ষেত্রে জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০১২ অনুসারে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিখনফলের আলোকে সুপারিশ দিতে হবে। একই সঙ্গে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের খসড়া পাঠ্যপুস্তক পর্যালোচনার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা কিংবা পেশা– সংক্রান্ত কোনো বৈষম্যমূলক শব্দ, বাক্য, তথ্য কিংবা ছবি থাকলে তা চিহ্নিত করে সুস্পষ্টভাবে সংশোধনের প্রস্তাব দিতে হবে। পাঠ্যপুস্তকে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, দেশপ্রেম, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ ও জাতীয় চেতনাবিরোধী কোনো উপাদান থাকলে সেগুলোও সংশোধনের জন্য উপস্থাপন করতে হবে।

    পর্যালোচনার সময় তথ্যসূত্র যাচাই করে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য হালনাগাদ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলা একাডেমি প্রণীত বাংলা বানান অভিধান অনুসারে প্রয়োজনে বানান সংশোধনের প্রস্তাব দিতেও বলা হয়েছে। পাঠ্যপুস্তকের মূল কাঠামো অপরিবর্তিত রেখে কেবল ভুল সংশোধনের জন্য প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। ছক অনুযায়ী সুপারিশের বাইরেও যদি কোনো মতামত বা পরামর্শ থাকে, সেগুলো আলাদা কাগজে নাম ও সইসহ সফট কপিতে পাঠাতে বলা হয়েছে।

  • জাতীয় জীবনে রাবির গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে : শিক্ষা উপদেষ্টা

    জাতীয় জীবনে রাবির গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে : শিক্ষা উপদেষ্টা

    শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেছেন, জাতীয় জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) একটি গৌরব উজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আগামী দিনগুলোতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। জুলাই মাসে এ ধরণের একটি অনুষ্ঠানে আসতে পেরে, তরুণদের সামনে আসতে পেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যে পরিবেশ সেটি আনন্দের পরিবেশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার যে লক্ষ্য সেটি যাতে ছাত্র থাকাকালীন ও পরেও ধারণ করতে পারে সেই প্রত্যাশা করেন।

    রবিবার (৬ জুলাই) সকালে রাবির ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন-১-এর সামনে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে সেখান থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদিক্ষণ শেষে সিনেটে ভবনের সামনে শেষ হয়। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- রাবির উপাচার্য প্রফেসর সালেহ্ হাসান নকীব ও রেজিস্ট্রার প্রফেসর ইফতেষারুল আলম মাসুদসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

    সভায় বক্তারা বলেন, প্রতিষ্ঠার ৭১ বছর পরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সব লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। শিক্ষার্থীদের খাবার, আবাসন, গবেষণা ও চিকিৎসাসহ নানা খাতে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এ সব সমাধান করে আন্তর্জাতিক মানের বিদ্যাপীঠে উন্নীত করার চেষ্টা চলছে। ২৪ এর বিপ্লবের হাত ধরে সেই অগ্রযাত্রা আরো ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করেন আলোচকরা।

    প্রসঙ্গত, ১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই মাত্র ১৬১ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।শহিদ ড. শামসুজ্জোহার স্মৃতিবিজড়িত এই বিদ্যাপীঠের রয়েছে গৌরব-ঐতিহ্যের সুদীর্ঘ ইতিহাস। বর্তমানে পরিসর বেড়ে ১২টি অনুষদের আওতায় ৫৮টি বিভাগে চার বছর মেয়াদি স্নাতক এবং এক বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তরে প্রায় ৩৮ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল ও পিএইচডিসহ উচ্চতর গবেষণার জন্য ছয়টি ইন্সটিটিউট রয়েছে।

  • উপাচার্যকে শিক্ষার্থীরা বললেন, ‘আপনাকে আমরা বসিয়েছি, নিজের যোগ্যতায় আসেননি’

    উপাচার্যকে শিক্ষার্থীরা বললেন, ‘আপনাকে আমরা বসিয়েছি, নিজের যোগ্যতায় আসেননি’

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতারের কক্ষে তাঁর আসন ঘিরে দাঁড়িয়ে আছেন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। চলছিল বাগ্‌বিতণ্ডা। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি নিজ যোগ্যতায় বসেননি(উপাচার্য পদে), আপনাকে আমরা বসিয়েছি, আপনি আমাদের কথা শুনতে বাধ্য।’ খবর প্রথম আলোর। 

    আজ শনিবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার ৪ মিনিটের একটি ভিডিওতে এমন কথপোকথন উঠে এসেছে।

    জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের পদোন্নতিকে ঘিরে গতকাল শুক্রবার বিকেলে উপাচার্য ইয়াহইয়া আখতারের কার্যালয়ে কয়েকটি ছাত্রসংগঠনের কর্মীরা হট্টগোল করেন। ভিডিওটি সেই সময় কেউ একজন মুঠোফোনে ধারণ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, উপাচার্যের কার্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ভিড়ে দাঁড়ানো অন্তত দুজন শিক্ষার্থী এমন কথা বলেছেন। তাঁদের একজন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা শাখাওয়াত হোসেন ও আরেকজন শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক নেতা ও ইতিহাস বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী তাহসান হাবীব বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কুশল বরণ চক্রবর্তীর পদোন্নতির সাক্ষাৎকার ছিল গতকাল। এই সাক্ষাৎকার বাতিল ও কুশল বরণকে চাকরিচ্যুত করার দাবিতে দুপুরের পর থেকেই প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক খান তালাত মাহমুদকেও ওই অবস্থান কর্মসূচিতে দেখা গেছে। সেখান থেকেই সাড়ে তিনটার দিকে উপাচার্য কার্যালয়ে যান তাঁরা। কথোপকথনের ভিডিওটি সেই সময়কার। ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিও নিয়ে অনেকেই সমালোচনা করছেন। একজন উপাচার্যকে তাঁর কার্যালয়ে ঢুকে এসব কোনো শিক্ষার্থী এভাবে কথা বলতে পারেন কি না, এমন প্রশ্নও রাখছেন অনেকে।

    ভিডিওতে দেখা যায়, ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী তাহসান হাবীব উপাচার্যকে বলছেন, ‘স্যার আপনাকে আমরা বসিয়েছি (উপাচার্য পদে)। আপনি আমাদের কথা মানতে বাধ্য।’ এরপর উপাচার্য বলেন, ‘না’ । উপাচার্যের এই কথার সঙ্গে সঙ্গেই নেতা-কর্মীরা হইচই শুরু করেন। একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সাবেক নেতা শাখাওয়াত হোসেন উপাচার্যকে বলেন, ‘এখানে আপনি নিজ যোগ্যতায় বসেননি।’ এরপর তাহসান হাবীব আবারও বলেন, ‘স্যার আপনাকে আমরা এনে এখানে বসিয়েছি। আপনি এখানে নিজ যোগ্যতায় বসেননি।’ তখন উপাচার্য বললেন, ‘কী করেছি আমি?’ তাহসান তার উত্তরে বললেন, ‘আপনি কেন ফ্যাসিবাদের দোসরদের প্রমোশন দিচ্ছেন। আমাদের রক্তের সঙ্গে, আমাদের বিপ্লবের সঙ্গে বেইমানি করে।’

    এসব নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে নেতা-কর্মীদের যখন তর্কাতর্কি চলছিল, তখন কয়েকজন নেতাকে আঙুল উঁচিয়ে চেঁচামেচি করতেও দেখা গেছে। একপর্যায়ে উপাচার্য উপস্থিত সাংবাদিকদের মুঠোফোনের ক্যামেরা বন্ধ করতে বলেন।

    এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতারের মুঠোফোনে গতকাল রাত থেকে আজ দুপুর পর্যন্ত ১০ বার কল করা হলেও তিনি ধরেননি।

    উপাচার্য নিজের যোগ্যতায় পদে আসেননি, এমন কথা দিয়ে কী বুঝিয়েছেন, জানতে চাইলে সাবেক শিবির নেতা শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘তিনি উত্তেজনার বশে বলে ফেলেছেন। খুব বেশি ভেবেচিন্তে বলেননি।’

    আর ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী তাহসান হাবীব বলেন, উপাচার্যের যোগ্যতা নেই, এমনটি বোঝাতে চাননি। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, ‘উপাচার্য নিয়মতান্ত্রিকভাবে আসেনি। আন্দোলন পেরিয়ে, জুলাইয়ের শহীদদের রক্ত মাড়িয়ে এই প্রশাসন এসেছে। এখন আমাদের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করবেন, জুলাইকে উপেক্ষা করবেন—এই পরিস্থিতি আমরা হতে দিতে চাই না। এই অর্থেই যোগ্যতার কথাটি বলেছি। পরে ভুল বুঝতে পেরে উপাচার্যের কাছে ক্ষমা চেয়েছি, দুঃখ প্রকাশ করেছি।’

    এদিকে তাহসান হাবীব এক সময় ছাত্র অধিকার পরিষদের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এখন আর নেই বলে জানান সংগঠনটির নেতা–কর্মীরা। সংগঠনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক তামজিদ উদ্দিন বলেন, অন্য একটি সংগঠন দ্বারা প্রভাবিত থাকায় সংগঠন থেকে তাহসানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    ৫ আগস্টের আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা তৎকালীন প্রশাসনের পদত্যাগ দাবি করেন। এরপরই একই দিনে পদত্যাগ করেন উপাচার্য, দুই সহ-উপাচার্য, ছাত্র উপদেষ্টা, পরিবহন দপ্তরের প্রশাসক, প্রক্টরিয়াল বডির ১০ সদস্য ও ১৪টি হলের প্রাধ্যক্ষ।

    পরে আবার নতুন উপাচার্য নিয়োগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যান। একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ও কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করেছিলেন তাঁরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী উপাচার্য নিয়োগ হওয়ার কথা সিনেটের মাধ্যমে। তবে এই নিয়ম উপেক্ষা করেই বেশ কয়েকটি মেয়াদে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

  • তিন শ্রেণির বই সংশোধন-পরিমার্জনে নতুন নির্দেশনা

    তিন শ্রেণির বই সংশোধন-পরিমার্জনে নতুন নির্দেশনা

    মাধ্যমিক পর্যায়ের তিনটি শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে ভুল চিহ্নিতকরণ, সংশোধন ও পরিমার্জনে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।

    বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারের সই করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন এসএসসি পর্যায়ের সব প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষকে এ তথ্য পাঠাতে হবে।

    এতে বলা হয়েছে, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকগুলোর ভুল সংশোধনের নিমিত্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের কাছ থেকে সংশোধন ও পরিমার্জনের প্রস্তাব ই-মেইলে প্রেরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। সংযুক্ত ছক ও নির্দেশনা মোতাবেক আগামী ৭ জুলাইয়ের মধ্যে আবশ্যিকভাবে হার্ড কপি ও সফট কপি (NikoshBan, ১২ ফন্ট) govt.sec2@moedu.gov.bd ইমেইলে পাঠাতে হবে।

  • প্রতিটি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ হচ্ছে : শিক্ষা উপদেষ্টা

    প্রতিটি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ হচ্ছে : শিক্ষা উপদেষ্টা

    অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেছেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করতে দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ স্থাপনের কাজ চলছে। আমরা প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে টেকনিক্যাল জ্ঞান সমৃদ্ধ জনশক্তি গড়ে তুলতে চাই। এজন্য কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর করে গড়ে তুলতে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।

    বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সচিবালয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা জানান।

    শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, সারাদেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে ৪৯৩ উপজেলায় টেকনিকাল স্কুল এন্ড কলেজ স্থাপনের কাজ পর্যায়ক্রমে এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। দেশে এবং বিদেশে শ্রমবাজারে চাকরির সুযোগ বাড়াতে যুব সমাজকে টেকনিক্যাল শিক্ষায় শিক্ষিত করার বিকল্প নেই।

    ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার জানান, বিভিন্ন জেলায় এরই মধ্যে ৮৫টি স্কুল তাদের শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া শুরু করেছে। বাকিগুলোর জন্য দ্রুত জমি অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে ভবন নির্মাণসহ শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আগে থেকে ১০০টি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের কার্যক্রম চলছিল। পরে আরো ৩২৯টির জমি অধিগ্রহণসহ সার্বিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আশা করছি কারিগরি অধিদপ্তর সেভাবেই তাদের কার্যক্রম এগিয়ে নিবে যাবে।

    কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব কেএম কবিরুল ইসলাম জানান, সারাদেশে প্রাথমিকভাবে বাস্তবায়নাধীন ১০০টি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের মধ্যে ৭৫টির শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। ১৫টির কাজ শেষ হয়েছে এবং অবশিষ্টগুলোর কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। ফলে আগামী শিক্ষাবর্ষে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজগুলো কারিগরি শিক্ষায় যুক্ত হচ্ছে। প্রতিটি টেকনিক্যাল স্কুলের জন্য তিন একর করে জমি অধিগ্রহণ করা হবে। এবং সেখানে মহিলা শিক্ষার্থীদের জন্য ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হোস্টেল নির্মাণ করা হবে। এছাড়া শিক্ষকদের জন্য ডরমেটরি, প্রিন্সিপালের আবাসিক ভবন এবং একাডেমিক কাম ওয়ার্কসপ ভবন তৈরি করা হবে। ছাত্রদের জন্য কোনো হোস্টেল নির্মাণের বরাদ্দ না থাকলেও আগামীতে ছাত্র হোস্টেল নির্মাণের বিষয়ে সরকার আন্তরিক।

    কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) শোয়াইব আহমাদ খান বলেন, প্রতিটি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে প্রায় ৮৪০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের প্রি ভোকেশনাল এবং নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত কমপক্ষে চারটি করে ট্রেডে পড়াশোনা করানো হবে। এছাড়া এসএসসি (ভোকেশনাল) এবং এইচএসসি (ভোকেশনাল) কোর্সসহ বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রতিটি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে প্রায় ৭৫ জন শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। প্রতি স্কুলে ২০০ আসনে একটি করে ছাত্রী হোস্টেল, শিক্ষক ডরমেটরী, আধুনিক গবেষণাগার থাকবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় কারিগরি শিক্ষার সুযোগ আরও প্রসারিত হবে এবং শিক্ষার্থীরা কর্মসংস্থানের জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ পাবে। প্রতিটি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের চারটি ট্রেড, ল্যাব ও ওয়ার্কশপের যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র কেনা ও সরবরাহ, টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৬ হাজার ৪০০টি স্থায়ী পদ সৃষ্টি এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কাজ সম্পাদনের জন্য বিভিন্ন পদে ৪০০টি জনবলের জন্য পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত কয়েক লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করবে।

    প্রাথমিকভাবে যেসব উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ স্থাপন করা হচ্ছে- ঢাকার ধামরাই ও নবাবগঞ্জ, ফরিদপুরের শালথা, বোয়ালমারী ও ভাঙ্গা, গাজীপুরের কাপাসিয়া, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি ও টুঙ্গিপাড়া, জামালপুরের মাদারগঞ্জ, কিশোরগঞ্জের ইটনা, কুলিয়ারচর ও মিঠামইন, মাদারীপুরের শিবচর, মানিকগঞ্জের শিবালয় ও হরিরামপুর, ময়মনসিংহের ধোবাউড়া ও নন্দাইল, নারায়ণগঞ্জ সদর, নরসিংদীর বেলাবো, নেত্রকোণার দুর্গাপুর, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ও বালিয়াকান্দি, শরিয়তপুরের ভেদরগঞ্জ ও ডামুড্যা, শেরপুরের নালিতাবাড়ি, টাঙ্গাইলের গোপালগঞ্জ ও নাগরপুর, রাজশাহীর চারঘাট ও তানোর, বগুড়ার দুপচাচিয়া, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর, নওগাঁর পত্মীতলা ও সাপাহার, নাটোরের গুরুদাসপুর ও সিংড়া, চাপাইনবাবগঞ্জের নাচাল, পাবনার সাঁথিয়া, সিরাজগঞ্জের শাহাজাদপুর, রংপুরের পীরগঞ্জ, দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ ও নবাবগঞ্জ, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ ও সাঘাটা, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী, লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ, নীলফামারীর ডিমলা ও সৈয়দপুর, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ ও তেতুলিয়া, ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর ও পীরগঞ্জ, বরিশালের আগৈলঝরা ও হিজলা, বরগুণার আমতলী, ভোলার লালমোহন, ঝালকাঠির রাজাপুর, পটুয়াখালীর গলাচিপা, পিরোজপুরের নাজিরপুর, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, রাউজান ও সীতাকুন্ড, বান্দরবনের নাইক্ষংছড়ি, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার কসবা, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ ও কচুয়া, কুমিল্লার বরুড়া, চৌদ্দগ্রাম ও মুরাদনগর, কক্সবাজারের কুতুবদিয়া ও টেকনাফ, ফেণীর ছাগলনাইয়া, নোয়াখালীর চাটখিল, খাগড়াছড়ির দীঘিনালা, লক্ষ্মীপুরের রামগতি, রাঙামাটির কাউখালী, সিলেটের বিয়ানী বাজার ও গোলাপগঞ্জ, হবিগঞ্জের বানিয়াচং ও মাধবপুর, মৌলভীবাজারের রাজনগর ও জুড়ি, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার, খুলনার বটিয়াঘাটা, পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া, বাগের হাটের মোংলা ও রামপাল, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর, যশোরের কেশবপুর, মনিরামপুর ও শার্শা, ঝিনাইদহের শৈলকূপা, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা, মাগুরার মোহাম্মদপুর ও শালিথা, মেহেরপুরের মুজিবনগর, নড়াইলের কালিয়া, সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর।

  • বিয়ের আগে দিন আটক জবি ছাত্রলীগ নেতা

    বিয়ের আগে দিন আটক জবি ছাত্রলীগ নেতা

    নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের শরিফুল ইসলাম সাজিদ নামেন এক নেতাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদল। ওই নেতা জানিয়েছেন, আগামীকাল শুক্রবার তার বিয়ে।

    বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ থেকে তাকে আটক করা হয়।

    আটককৃত ছাত্রলীগ নেতার নাম শরিফুল ইসলাম সাজিদ। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিভাগ ছাত্রলীগের সেক্রেটারি। সাজিদের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের ব্যাংকপাড়া এলাকায়।

    জানা যায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ওই নেতা বিভাগে রিটেক পরীক্ষার জন্য এসেছিলেন। এ সময় ছাত্রদলের নেতারা খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে তাকে আটক করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছাত্রদল নেতাদের ধস্তাধস্তি হয়।

    জবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান খাঁন বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সময়ে তারা আমাদের উপর নির্মম জুলুম-নির্যাতন করেছে। আমাদের বিল্ডিংয়ের আন্ডারগ্রাউন্ডে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন করেছে। তার উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনকে।

    তবে ছাত্রদল নেতাদের অভিযোগ, পরিকল্পনা করেই ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা শরিফুল ইসলাম সাজিদ। বুধবার (২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সাজিদ ইসলাম’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করে লেখা হয়— ‘কাল থেকে একদল তরুণের প্রবেশ হবে যাদের হারানোর কিছুই নেই, না একটা গোঁছানো রুম, না সম্মান, না বন্ধু, না কোনো আপনজন, না সার্টিফিকেট। কিছুই নাই, নাই ভয়, নাই লজ্জা, নাই আবেগ, নাই দরদ। তারা হবে নির্ভিক, তারা হবে ভয়ংকর সুন্দর!!!’

    তবে এই পোস্ট সম্পর্কে সাজিদ জানান, আইডিটি আমার নয়। আমি এমন কোনো পোস্ট করিনি। আগামীকাল (শুক্রবার) আমার বিয়ে, তাই আগামী সপ্তাহে আসতে পারব না বলে আজ এসেছি। আমি এসেছিলাম রিটেক পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে।

    এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. তাজাম্মুল হক বলেন, ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীরা ছাত্রলীগের একাউন্টিং বিভাগের সেক্রেটারিকে ধরে নিয়ে আমাদের প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসে। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও মামলা থাকায় আমরা তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করি।

  • মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়াতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি সক্রিয় করার নির্দেশ মাউশির

    মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়াতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি সক্রিয় করার নির্দেশ মাউশির

    মাদকের ভয়াবহতা রোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেই অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। তাই মাদকবিরোধী সচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরালো করতে দেশের সব স্কুল ও কলেজে গঠিত কমিটিগুলোকে সক্রিয় করার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। নির্দেশনায় প্রতিষ্ঠানভিত্তিক এসব কমিটি যেন কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

    সম্প্রতি, মাউশির মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইং থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ৭ম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাদকের কুফল নিয়ে প্রচার-প্রচারণা বাড়ানো এবং জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি হয়ে পড়েছে। তাই প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যে গঠিত মাদকবিরোধী কমিটির কার্যক্রম দৃশ্যমান হয় করতে সংশ্লিষ্টদের পদক্ষেপ নিতে হবে।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গঠিত কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে বলা হয়েছে, তারা (কমিটি) শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা এবং নিয়মিত প্রচার কার্যক্রমের মাধ্যমে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। একইসঙ্গে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি কলেজ, টিটিসি এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। আর সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় তদারকি ও সহযোগিতার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    এর আগে, ২০২২ সালে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রথমবারের মতো মাদকবিরোধী কমিটি গঠনের কার্যক্রম শুরু করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তার। তখন পরীক্ষামূলকভাবে কিছু স্কুল ও কলেজে এই কমিটি গঠন করা হয়। সফলতার অভিজ্ঞতা থেকে পরে তা দেশব্যাপী বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ধারাবাহিকভাবে কমিটির কাঠামো নির্ধারণ, শিক্ষক-অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হয়।

    উল্লেখ্য, গঠিত মাদকবিরোধী কমিটির প্রধান দায়িত্ব হলো— শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা এবং মাদকবিরোধী একটি ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলা। এ কমিটি স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে নিয়মিতভাবে সচেতনতামূলক সভা, সেমিনার, শ্রেণিভিত্তিক আলোচনার আয়োজন করবে। পাশাপাশি পোস্টার, লিফলেট, স্টিকার বিতরণসহ নানা প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করবে। কমিটির সদস্যরা প্রয়োজনে মাদকসংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা বা সন্দেহভাজন ঘটনার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন। শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে রাখতে পরামর্শ, সহায়তা এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতাও কমিটির অন্যতম কাজের অংশ। এছাড়া, প্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য তারা মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং অন্য শিক্ষকদেরও এই কাজে উদ্বুদ্ধ করবেন।

  • “জুলাই শহীদ স্মৃতি বৃত্তি” চালু করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

    “জুলাই শহীদ স্মৃতি বৃত্তি” চালু করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার স্বীকৃতি স্বরূপ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতি বছর “জুলাই শহীদ স্মৃতি বৃত্তি” প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীর হাতে “জুলাই শহীদ স্মৃতি বৃত্তির” চেক তুলে দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। খবর বাসস। 

    মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে চেক হস্তান্তর করেন তিনি।

    এই বৃত্তির অধীনে বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত বিভিন্ন কলেজ ও ইনস্টিটিউটের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদেরকে এককালীন সহায়তা প্রদান করা হবে।

    এ বছর ৭২৫টি প্রতিষ্ঠানের ২ হাজার ৪০ জন শিক্ষার্থী এই বৃত্তিলাভ করবেন। দেশের প্রায় সোয়া দুই হাজার কলেজ এবং ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর অভিভাবক প্রতিষ্ঠান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। জুলাই অভ্যুত্থাণে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২ জন শিক্ষার্থী শহীদ হয়েছেন।

    প্রধান উপদেষ্টার হাত থেকে বৃত্তি গ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা হলেন—জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজের শিক্ষার্থী হাবীবা আক্তার, তেজগাঁও সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী এস এম আবু তালেব এবং ঢাকা কমার্স কলেজের শিক্ষার্থী খন্দকার মাহমুদুল হাসান।

    বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার বলেন, এক বছর আগে, বাংলাদেশের তরুণেরা দেশের ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সূচনা করেছিল। সেই ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের ফলশ্রুতিতে আমরা, সমগ্র জাতি, অধিকারবঞ্চিত প্রজা থেকে নতুন করে অধিকারভোগী নাগরিকে পরিণত হতে পেরেছি।

    তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রকে এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক, জনবিচ্ছিন্ন ও দমনমূলক প্রতিষ্ঠান থেকে পরিবর্তন করে জনগণের মঙ্গলের জন্য তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা পরিচালিত এক সংবেদনশীল ও জবাবদিহি মূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের গুরু দায়িত্ব বর্তমান সরকারের কাঁধে এসে পড়েছে।

    “আমাদের এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমনভাবে পুনর্গঠন করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে স্বৈরাচার আর কখনও এ দেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থান পালনের এইদিনে আমরা সেই জাতীয় প্রত্যাশাকে সম্মানের সঙ্গে স্মরণকরি,” বলেন তিনি।

    প্রায় ১৫ বছরের শাসনামলে, বিশেষ করে শেষ এক দশকে, যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল তারা অবৈধভাবে জনগণের উপর শাসন চালিয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ সকল নাগরিক অধিকার হরণ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “তারা গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নিপীড়নের সংস্কৃতি চালু করেছে, এবং বছরের পর বছর বিনা বিচারে নাগরিকদের বন্দি করে রেখেছে। তারা সংসদ, বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছে।”

    তিনি বলেন, “একের পর এক নির্বাচনের নামে প্রহসন অনুষ্ঠান করেছে। এমনকি শেষ পর্যায়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমন করতে রাষ্ট্রীয় ও দলীয় বাহিনী ব্যবহার করে তারা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে। পতিত সরকারের সেই সদস্যদের এবং তাদের সহযোগীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয় কাজ আমরা শুরু করতে পেরেছি।”

    “আর সেই নতুন বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার এক বিশাল ভূমিকা রয়েছে। সমাজে বৈষম্য নিরসন ও সমতা আনয়নে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। সীমিত সময়ের মধ্যেও এই সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আমরা এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে সকল স্তরের মানুষ—শিশু থেকে শুরু করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী পর্যন্ত—জ্ঞান, ন্যায় ও নৈতিকতার চর্চায় অংশ নিতে পারে,” বলেন তিনি।

    তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের শুধু একটি নতুন দেশ দিয়েছে তা নয়, নতুন স্বপ্নও দেখিয়েছে। আমাদের তরুণেরা যেন কেবল এই দেশকেই নয় বরং নেতৃত্ব দিতে পারে বিশ্বমঞ্চেও— সেই প্রস্তুতি গড়ে তুলবে শিক্ষা।

    চেক প্রদান অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানউল্লাহ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. লুৎফর রহমান এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ টি এম জাফরুল আযম উপস্থিত ছিলেন।

  • ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা ১৮জুলাই

    ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা ১৮জুলাই

    ৪৮তম বিসিএসের (বিশেষ) পরীক্ষার লিখিত পরীক্ষার (এমসিকিউ টাইপো) তারিখ ঘোষণা করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। আগামী ১৮ জুলাই (শুক্রবার) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।

    মঙ্গলবার (১ জুলাই) সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাসুমা আফরীনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরীক্ষার হল, আসন ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাসমূহ যথাসময়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের ওয়েবসাইট এ এবং টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

    গত ২৭ মে পিএসসি থেকে ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয় ১ জুন থেকে, যা চলে ২৫ জুন পর্যন্ত।

    আগামী ১৮ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে প্রিলিমিনারি (এমসিকিউ) পরীক্ষা। এরপর ফল প্রকাশ হবে ২১ জুলাই।

    পরে দ্রুত মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে ২২ সেপ্টেম্বর চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করবে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।

    এই বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে মোট ৩ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে সহকারী সার্জন দুই হাজার ৭০০ জন এবং সহকারী ডেন্টাল সার্জন ৩০০ জন।

  • গৌরবের ১০৫ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

    গৌরবের ১০৫ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

    আজ ১ জুলাই। বাংলাদেশের গৌরব আর ইতিহাসের ধারক-বাহক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১০৫ বছরে পদার্পণ করেছে। ১৯২১ সালে যাত্রা শুরু করা এই বিদ্যাপীঠ দেশের জ্ঞান, রাজনীতি, সংস্কৃতি ও সামাজিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে। আজকের দিনটি উদ্‌যাপন করতে বর্ণিল সাজে সেজেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। দিনব্যাপী নানা আয়োজনে শিক্ষার্থীদের মুখেও বইছে উৎসবের আমেজ।

    পূর্ববঙ্গের অবহেলিত জনগণের শিক্ষা ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয় বরাবরই ছিল বাঙালির আত্মবিকাশের কেন্দ্র। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে সর্বশেষ ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার ও সরকার পতন আন্দোলনের সূতিকাগারও এই বিশ্ববিদ্যালয়।

    তবে গৌরবের এই দীর্ঘ পথচলায় নানা কাঠামোগত সংকট ও রাজনৈতিক প্রভাব বিশ্ববিদ্যালয়টির অগ্রযাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষণা ও প্রযুক্তির ঘাটতিও রয়েছে দৃশ্যমানভাবে। সদ্য ঘোষিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ হাজার ৩৫ কোটি টাকার বাজেটে গবেষণায় বরাদ্দ মাত্র ২১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের ২ দশমিক ০৮ শতাংশ।

    তবে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ‘কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং ২০২৫’-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উঠে এসেছে ৫৮৪তম অবস্থানে—যা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। এখন সময় এসেছে প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণার ওপর জোর দেওয়ার।” তিনি আরও জানান, রাজনীতিকে শিক্ষার পথে অন্তরায় না করে বরং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যবহার করার প্রত্যাশা তার।

    দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা

    ‘বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মাণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মসূচিতে উপাচার্য কার্জন হল, কলা ভবন ও ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র ঘিরে সাজসজ্জা উদ্বোধন করেন সকাল ১০টায়। এরপর হয় শোভাযাত্রা, পতাকা উত্তোলন, কেক কাটা ও আলোচনাসভা।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলোতে যান চলাচল সীমিত করে বিকল্প পথ ব্যবহারের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন।

    প্রধান উপদেষ্টার শুভেচ্ছা

    বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা বাণী দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা ইতিহাসে অমলিন। এবারের প্রতিপাদ্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। আমি আশা করি, এই প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতেও বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষা দিয়ে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণে নেতৃত্ব দেবে।”

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৪ বছরের পথচলা কেবল এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নয়, এটি এক জাতির জাগরণের ইতিহাস। নতুন শতকে পা দিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় আজও অগ্রণী ভূমিকায়, তবে সামনে পথ অনেক দীর্ঘ। শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে ধ্বনিত হওয়া প্রত্যাশাই যেন নতুন অধ্যায়ের সূচনার বার্তা—একটি গবেষণাভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও রাজনীতিমুক্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের।