Category: বিনোদন

  • এবার মিউজিক ভিডিওতে বুবলী

    এবার মিউজিক ভিডিওতে বুবলী

    ঢালিউড অভিনেত্রী শবনম বুবলীকে এবার দেখা যাবে ‘ময়না’ শিরোনামের একটি গানের মিউজিক ভিডিওতে। এরইমধ্যে রাজধানীর বিএফডিসিতে কাজটির শুটিংও শেষ হয়েছে।

    গানটির ভিডিও পরিচালক তানিম রহমান অংশু জানান, আসিফ ইকবালের কথায় গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন কোনাল। আর সুর-সংগীত করেছেন কলকাতার আকাশ সেন। কিছুদিনের মধ্যে গানটি গানচিল মিউজিকের ব্যানার থেকে প্রকাশ হবে।

    সিনেমা ওয়েব ফিল্মে দেখা গেলেও এর আগে কখনও মিউজিক ভিডিওতে দেখা যায়নি বুবলীকে। ওই জায়গা থেকে ময়না এবারই প্রথম মিউজিক ভিডিওতে নাম লেখালেন অভিনেত্রী।

    বড় পর্দায় বুবলীর আরও তিনটি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি অনুদানের ছবি ‘সর্দার বাড়ির খেলা’ (পরিচালক রাখাল সবুজ), ‘পিনিক’ (পরিচালক জাহিদ জুয়েল), এবং ‘শাপলা শালুক’ (পরিচালক রাশেদা আক্তার)।

  • জাপানে সেরা রুনা খানের ‘নীলপদ্ম’

    জাপানে সেরা রুনা খানের ‘নীলপদ্ম’

    নিউইয়র্কে সুচিত্রা সেন আন্তর্জাতিক বাংলা চলচ্চিত্র উৎসবে রুনা খান অভিনীত ‘নীলপদ্ম’ সিনেমার ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয়েছিল। চলতি বছর ঢাকা আন্তজার্তিক চলচ্চিত্র উৎসবেও সিনেমাটি প্রদর্শিত হয়। এবার জাপানের টোকিও লিফট অব চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৫-এ সেরা পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমার পুরস্কার জিতে নিয়েছে নীলপদ্ম।

    সিনেমাটির অন্য একটি দৃশ্যে অপু ও রুনা। ছবি: সংগৃহীত

    পুরস্কারপ্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে সিনেমাটির নির্মাতা তৌফিক এলাহি বলেন, ‘টোকিও লিফট অব ফেস্টিভ্যালে নীলপদ্ম সিলেকশনে ছিল। জুরিরা সিনেমাটিকে নানানভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করে মার্কিং করছিলেন। সমস্ত আপডেটই ইমেইল যোগে পাচ্ছিলাম। কিন্তু সিনেমাটি যে নির্বাচিত বহু সিনেমাকে পেছনে ফেলে সেরা ফিচার ফিল্ম হিসেবে পুরস্কৃত হবে, সেটা ভাবিনি।’
    যোগ করে তিনি বলেন, ‘নীলপদ্ম আমার গবেষণাধর্মী নির্মাণ। কর্তৃপক্ষ আমাকে ইমেইলের মাধ্যমে আগেই বিষয়টি জানিয়েছেন, কিন্তু ইমেইল চেক করতে দেরি হলো বলে বিষয়টি এখন জানাতে পারছি। এটি নীলপদ্মর প্রথম সম্মান। এটি শুধু আমার একার প্রাপ্তি নয়, এই ছবির আর্টিস্ট, কলাকুশলীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রাপ্তি।’

    নিউইয়র্কের মেয়র প্রার্থী মামদানি গায়ক নাকি অভিনেতা?নিউইয়র্কের মেয়র প্রার্থী মামদানি গায়ক নাকি অভিনেতা?

    নীলপদ্ম’র কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন রুনা খান। বিভিন্ন চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন রাশেদ মামুন অপু, রোকেয়া প্রাচী, সুজাত শিমুল, শাহেদ আলী, একে আজাদ সেতু প্রমুখ।

    দৌলতদিয়ার যৌনকর্মীদের জীবন, সামাজিক পরিচয় ও অধিকারের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে নীলপদ্ম। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম। ঈদুল আজহায় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আইস্ক্রিনে মুক্তি পেয়েছে এটি।

  • বারবার কেন সংসার ভাঙে, জানালেন শ্রাবন্তী

    বারবার কেন সংসার ভাঙে, জানালেন শ্রাবন্তী

    দুর্দান্ত অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকহৃদয়ে জায়গা করে নিলেও ব্যক্তিজীবন নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চ্যাটার্জির।

    শ্রাবন্তী ব্যক্তিজীবনে তিনবার বৈবাহিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন। কোনো সম্পর্কই দীর্ঘদিন টিকে উঠেনি। সবশেষ তৃতীয় বিয়েবিচ্ছেদ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। পরবর্তীতে অবশ্য একাধিকবার নতুন সম্পর্কে জড়ানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নানা জটিলতা কাটিয়ে উঠে নিজেকে প্রতিবারই শক্ত অবস্থানে রেখেছেন। এখন প্রশ্ন উঠেছে, আবারও কি বিয়ে করবেন? বিয়েতে কী বিশ্বাসী তিনি, আর কেনই বা আগের সম্পর্কগুলো ডিভোর্সে গড়িয়েছে?

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখিত এসব ব্যাপারে খোলামেলা কথা বলেছেন টালিউড তারকা শ্রাবন্তী। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী এ অভিনেত্রী বলেন, আমি এখনো বিয়েতে বিশ্বাস করি। কেননা, আমি আমার মা-বাবাকেও দেখেছি। আমি মনে করি যারা বিয়ে করেছেন, তারা ভালো থাকুন। তাদের যেন একে অপরের প্রতি স্বচ্ছতা বজায় থাকে। আর কেন বিয়ে করব না? এটা তো যুগ যুগ ধরে দেখে আসছি।

    এ অভিনেত্রীর কোনো বৈবাহিক সম্পর্কই স্থায়িত্ব লাভ করেনি। কেন স্থায়িত্ব হয়নি, এ ব্যাপারে শ্রাবন্তী বলেন, আমার যেটি ভুল ছিল, আমি জীবনে ভুল মানুষ বেছে নিয়েছিলাম। যা হয়তো আমার আরও ভালো করে বুঝে তবেই সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত ছিল। আমি একটু বেশিই ইমোশনাল মানুষ। এ ক্ষেত্রে আমার মনে হয়, আবেগে না ভেসে আরও বাস্তব বুদ্ধি দিয়ে জীবনকে ভেবে দেখা উচিত ছিল। বলব, নিজের ভালো থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নিজের সম্মান যেখানে বজায় থাকবে, সেখানে এগিয়ে যাওয়া উচিত।

    টালি তারকা আরও বলেন, জীবন একটাই, এ জন্য লোকে কী বলছে না বলছে তা দেখে সেদিকে যাওয়া ঠিক নয়। নিজের মন যা বলে, যা করলে মনে হয় ভালো হবে সেটিই করা উচিত। কেননা, কেউ পরিপূর্ণভাবে কারো জায়গা অনুভব করতে পারে না। এ জন্য সবার আগে নিজেকে নিজের ভালোবাসা উচিত।

    প্রসঙ্গত, বয়স ১৮ হওয়ার আগেই নির্মাতা রাজীব কুমার বিশ্বাসকে বিয়ে করেছিলেন শ্রাবন্তী। ওই সংসারে ছেলে ঝিনুক ওরফে অভিমন্যুর জন্ম হয়। এরপর ২০১৬ সালে রাজীবের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় তার। পরে নতুন করে প্রেমে পড়েন অভিনেত্রী। কৃষাণ ব্রিজের সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে হয়। কিন্তু এ বিয়েও টিকেনি।

    মাত্র একবছর পরই বিচ্ছেদ হয়। তারপর তৃতীয়বার রোশন সিংকে বিয়ে করেন। অনেকটা চুপিসারে বিয়ে করলেও বছর ঘোরার আগেই সমস্যা দেখা দেয় তাদের। আলাদা থাকতে শুরু করেন তারা। এরপর দীর্ঘদিন আইনি প্রক্রিয়া চলতে থাকে এবং সবশেষ চলতি বছরের এপ্রিলে আইনিভাবে বিচ্ছেদ হয় রোশন-শ্রাবন্তীর।

  • কণ্ঠশিল্পী কনার বিবাহবিচ্ছেদ

    কণ্ঠশিল্পী কনার বিবাহবিচ্ছেদ

    দীর্ঘ ১ যুগের সম্পর্ক বিচ্ছেদে গড়িয়েছে নন্দিত কণ্ঠশিল্পী দিলশাদ নাহার কনার। বেশ কয়েক বছর ধরে সংসার ভালো যাচ্ছিল না এই গায়িকার।

    বুধবার (১৭ জুন) রাতে সংসার ভাঙার বিষয়টি তাই তো সোশ্যাল মিডিয়ায় অকপটে স্বীকার করলেন কনা। কনার ফেসবুক পোস্টটি হুবুহু তুলে ধরা হলো-

    তিনি লিখেছেন, ‘আমি আপনাদের ভালোবাসার কনা। জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে – সবই আল্লাহর ইচ্ছা। ঠিক তেমনি যেকোনো বিচ্ছেদ ও হয় তাঁরই ইশারায়।’

    পোস্টে জনপ্রিয় এই সংগীত শিল্পী আরও লেখেন, ‘আমার সকল শুভাকাঙ্ক্ষী এবং প্রিয়জনদের উদ্দেশ্যে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমি জানাচ্ছি যে, দীর্ঘ ছয় বছরের বিবাহিত জীবনের পর আমি এবং গোলাম মোহাম্মাদ ইফতেখার গহিন গত ১৬ জুন, ২০২৫ তারিখে আমাদের বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন করেছি। এটি আমাদের দুজনের জন্যই একটি অত্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল, এবং আমরা উভয়ই পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমেই এই পথে হেঁটেছি।’

    সবশেষে অভিনেত্রী লেখেন, ‘আমরা একে অপরের প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল থাকব। জীবনের এই নতুন অধ্যায়ে আমরা দুজনেই যেন শান্তিতে এবং সম্মানের সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারি, তার জন্য আপনাদের সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।

    এই মুহূর্তে আমি আমার গানের কাজে মনোনিবেশ করতে চাই,যেই কাজের মাধ্যমেই আমি এতোদূর পর্যন্ত আসতে পেরেছি।

    তাই আশা করি আপনারা আমার এই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাবেন এবং সবসময় আমাকে যেভাবে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় আগলে রেখেছেন, ভবিষ্যতেও সেভাবেই রাখবেন।

    আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’

    প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ৭ বছর চুপিসারে চুটিয়ে প্রেম করার পর ২০১৯ সালের ২১ শে এপ্রিল ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করেন এই গায়িকা। কনার বরের নাম গোলাম মো. ইফতেখার, গহীন নামে অনেকেই চেনেন। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী। তাদের বিয়েটা নীরবেই হয়েছিল।

    কনা ও গোলাম মো. ইফতেখার

    সম্প্রতি গোলাম মো. ইফতেখার ও কনা আনুষ্ঠানিক বিবাহ বিচ্ছেদ হলেও কনা দীর্ঘদিন থেকে মো. শাহরিয়ার সাঈদ (শুভ্র) নামের এক গিটারিস্টের সঙ্গে চুপিসারে চুটিয়ে প্রেম করছেন। দীর্ঘদিন ধরেই তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্কও রয়েছে বলে একাধিক গণমাধ্যমক নিশ্চিত হয়েছে।

  • শ্রীলঙ্কায় কী করছেন বিদ্যা সিনহা মিম

    শ্রীলঙ্কায় কী করছেন বিদ্যা সিনহা মিম

    কোরবানির ঈদের ছুটিতে শ্রীলঙ্কার মন মাতানো প্রকৃতিতে হারিয়ে গিয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম। পাহাড়, হ্রদ আর সবুজে ঘেরা রিসোর্টে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তই তিনি ভাগ করে নিচ্ছেন তার অনুসারীদের সঙ্গে।

    প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ শ্রীলঙ্কার কন্দালামা হ্রদের পাশে অবস্থিত একটি অভিজাত রিসোর্টে স্বামী সনি পোদ্দারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন মিম। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ছবিগুলোর একটিতে দেখা যাচ্ছে—রিসোর্টের ইনফিনিটি পুলে সাঁতার কাটছেন তিনি, একপাশে পাহাড় আর অন্যপাশে হ্রদ। প্রকৃতির মাঝে নিজেকে বিলীন করে দিয়েছেন এই তারকা, যেন বাস্তব আর স্বপ্নের মাঝে মিশে গিয়েছেন।

    ছবির সঙ্গে দেওয়া ক্যাপশনেও ধরা পড়ে সেই আবেশ। মিম লিখেছেন, ‘যখন প্রকৃতি তোমার হাতের তালুতে পুরোপুরি এসে যায়।’

    মিমের ভ্রমণপ্রেম নতুন কিছু নয়। আগের ঈদে থাইল্যান্ডে কাটানো সময়ের ছবিও ভাইরাল হয়েছিল। এবার গন্তব্য শ্রীলঙ্কা, সঙ্গে জীবনসঙ্গী—যা ভক্তদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

    এদিকে, অভিনেত্রী হিসেবে বিদ্যা সিনহা মিমকে সর্বশেষ দেখা গেছে রায়হান রাফীর পরিচালনায় ২০২২ সালের ‘দামাল’ ছবিতে। তার আগে একই পরিচালকের ‘পরাণ’ সিনেমায় দুর্দান্ত অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। যদিও ‘পরাণ’-এর পর আরও অনেক প্রস্তাব পেলেও পছন্দসই স্ক্রিপ্ট না পাওয়ায় নতুন প্রজেক্টে এখনও নাম লেখাননি তিনি।

  • কলকাতায় ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’তে জয়া আহসান

    কলকাতায় ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’তে জয়া আহসান

    এবারের ঈদুল আজহায় দেশে মুক্তি পেয়েছে দুই বাংলার নন্দিত অভিনেত্রী জয়া আহসান অভিনীত দুটি সিনেমা। একটি রায়হান রাফীর ‘তাণ্ডব’, অন্যটি তানিম নূরের ‘উৎসব’। দুটি সিনেমাই দারুণ সাড়া ফেলেছে। হলে দর্শক টানছে। এই দুটি সিনেমায় সম্পূর্ণই ব্যতিক্রমী দুই আমেজ নিয়ে দর্শকের সামনে এসেছেন গুণী এই অভিনেত্রী।

    ঈদ উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই ভারতের টালিগঞ্জে নতুন সিনেমার শুটিং শুরু করলেন অভিনেত্রী। গত শনিবার মহরতের মধ্য দিয়ে কলকাতায় শুরু হয়েছে কৌশিক গাঙ্গুলীর ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমার দৃশ্যাধারণ। সেখানে যোগ দিয়েছেন তিনি।

    এ সিনেমার প্রথম পর্ব ‘অর্ধাঙ্গিনী’র মতো এবারও জয়ার সঙ্গে অভিনয় করবেন কৌশিক সেন ও চূর্ণী গাঙ্গুলী। এ তিনজনের সঙ্গে নতুন পর্বে যুক্ত হচ্ছেন ইন্দ্রাশিস রায়।

    সুমনের (কৌশিক) অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে তাঁর সাবেক স্ত্রী শুভ্রা (চূর্ণী) ও বর্তমান স্ত্রী মেঘনার (জয়া) দেখা হওয়া এবং টানাপোড়েনকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল অর্ধাঙ্গিনীর প্রেক্ষাপট। আগের ঘটনার বছর দুয়েক পর একটা বিয়েকে কেন্দ্র করে আবার মুখোমুখি হন সুমন, শুভ্রা ও মেঘনা। নতুন সিনেমায় অভিনয় প্রসঙ্গে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘কৌশিকদার সঙ্গে আমরা খুব এনজয় করে কাজ করি।

    এবারও তেমনটি হবে। কাজের ক্ষেত্রে প্রতিদিন আলাদা অভিজ্ঞতা হয়। নিজেকে আরও উন্নত করি অভিনেত্রী হিসেবে। এতে আবারও আমার সহশিল্পী হিসেবে চূর্ণী গাঙ্গুলীকে পাচ্ছি। তার মতো অভিনেত্রীকে সহশিল্পী হিসেবে পাওয়া মানে নিজের চরিত্রের আরও উত্তরণ ঘটা। আশা করছি, বেশ ভালো অভিজ্ঞতা নিয়ে সিনেমার কাজ শেষ করতে পারব।’

    আজও অর্ধাঙ্গিনীর শুটিংয়ে যোগ দেওয়ার আগের দিন পর্যন্ত জয়া ঢাকায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন ঈদের দুই সিনেমার প্রচারে। হলে হলে ঘুরছেন তিনি। দর্শকের ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন তিনি।

    এ বিষয়ে জয়া বলেন, “সিনেপ্লেক্সের ভেতরেও ‘তাণ্ডব’ দেখার সময় দর্শক যেভাবে শিস বাজাচ্ছে, হাততালি দিচ্ছে, সেটাতেই বলে দেয় সিনেমাটি মানুষের কতটা ভালোবাসা পাচ্ছে। আর ‘উৎসব’ নিয়ে ফিডব্যাকটা পাচ্ছি খানিকটা অন্যরকন ইমোশনাল। হল থেকে বেরিয়ে অনেক দর্শক বলছে, সিনেমাটি অনেক দিন থেকে যাবে মানুষের মনে। দর্শক আসলে ভালো গল্পের সিনেমা দেখতে চায়। এটি বারবারই প্রমাণ হচ্ছে। দুটি সিনেমা নিয়েই আমি খুব আনন্দিত।”

    জানা গেছে, চলতি বছরেই মুক্তি পাবে জয়া অভিনীত ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমাটি। সিনেমাটি নিয়ে বেশ আশাবাদী এই অভিনেত্রী।

  • কোথায় ঈদের ছুটি কাটালেন রুনা খান

    কোথায় ঈদের ছুটি কাটালেন রুনা খান

    ঈদ এলেই দেশের তারকারা অনেকেই অবসর কাটাতে পরিবার নিয়ে বেড়াতে বের হন। সেই তালিকায় রয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুনা খানও। কাজের ব্যস্ততা থেকে কিছুটা বিরতি নিয়ে এবারের ঈদে তিনি পাড়ি জমিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে, সেখানে পরিবার নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন অভিনেত্রী।

    বছরজুড়ে একাধিক নাটক ও ওয়েব কনটেন্টে অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন রুনা। এবারের ঈদেই মুক্তি পাচ্ছে তার অভিনীত কয়েকটি কাজ। তবে দর্শকের অপেক্ষার মাঝেই তিনি ছুটি কাটাচ্ছেন নিজের মতো করেই।

    বুধবার নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে নিউইয়র্কে তোলা একগুচ্ছ ছবি শেয়ার করেন রুনা খান। ছবিতে তাকে দেখা গেছে অলিভ গ্রিন রঙের স্লিভলেস ফ্লেয়ারি ট্যাঙ্ক টপ ও হালকা নীল রঙের ফেডেড ওয়াশ ডেনিম শর্টসে। সঙ্গে যুক্ত ছিল ‘হাডসন নদীর তীরে..’ ক্যাপশন এবং হ্যাশট্যাগে লেখা—‘হলিডেস’, ‘ফ্যামিলি ট্রিপ’, ও ‘নো-মেকআপ’।

    সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে অমিতাভ রেজার পরিচালনায় ওয়েব সিরিজ ‘বোহেমিয়ান ঘোড়া’, যেখানে রুনার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে সমালোচক ও দর্শকের কাছে। আসন্ন ঈদে মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার আরও দুটি প্রজেক্ট—ওয়েব সিরিজ ‘পাপ কাহিনী’ এবং চলচ্চিত্র ‘নীলপদ্ম’। তাই ধারণা করা হচ্ছে, এসব কাজ শেষ করে খানিকটা বিশ্রাম নিতে ও পরিবারকে সময় দিতেই এই সফরে গেছেন তিনি।

    রুনা খানের শেয়ার করা ছবিগুলো ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাড়া ফেলেছে। নেটিজেনদের অনেকে তার স্বতঃস্ফূর্ত ভঙ্গি ও অনাড়ম্বর উপস্থিতির প্রশংসা করেছেন।

  • জীবন যুদ্ধে হেরে গেলেন তানিন সুবহা

    জীবন যুদ্ধে হেরে গেলেন তানিন সুবহা

    অবশেষে জীবন যুদ্ধে হেরে গেলেন চিত্রনায়িকা তানিন সুবহা (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘ আট দিন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) থাকার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অভিনেত্রীর লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়। এরপর কর্তব্যরত চিকিৎসক মঙ্গলবার (১০ জুন) সন্ধ্যা ৭টা ৫৭ মিনিটে মৃত্যু তানিনের মৃত্যু ঘোষণা করেন।

    এর আগে গত ৮ জুন অভিনেত্রীর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে যায়। তবে হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তানিনের অবস্থা মুমূর্ষু হলেও মারা যাওয়ার খবরটি সঠিক নয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৩১ বছর। ১৯৯৪ সালের ৫ মে মাদারীপুর জন্ম গ্রহণ করেন এই অভিনেত্রী।

    গত ২ জুন হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়লে আফতাবনগর নিকটস্থ একটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরলে ফের সন্ধ্যার দিকে অসুস্থ হয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে বনশ্রীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিলে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়।

    এরপর অবস্থার আরও অবনতি হলে পরবর্তীতে ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ছিলে এই চিত্রনায়িকা।

    ২০১৫ সালে আজাদ কালাম পরিচালিত ‘জমজ’ নাটকের মাধ্যমে তানিন সুবহার মিডিয়ায় অভিষেক ঘটে, যেখানে তিনি মোশাররফ করিমের বিপরীতে অভিনয় করেন। এরপর ‘আলাল দুলাল’, ‘সেয়ানা জামাই’, ‘ম্যারেজ মিডিয়া ডটকম’সহ আরও বেশকিছু নাটকে অভিনয় করেন তিনি।

    তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘অবাস্তব ভালোবাসা’, ‘মাটির পরী’, ‘স্বপ্নের সাথী’, ‘দেমাগ’ ও ‘তুই আমার’। বর্তমানে তার বেশ কয়েকটি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

  • বাসর রাতে স্বামীর টাক দেখে অজ্ঞান হিমি

    বাসর রাতে স্বামীর টাক দেখে অজ্ঞান হিমি

    বাসর রাতে নিলয় আলমগীরের চরিত্র ফরহাদের টাক দেখে অজ্ঞান হয়ে যায় শিলার চরিত্রে অভিনয় করা জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। এমন মজার দৃশ্য নিয়ে আসছে ঈদের বিশেষ নাটক ‘টাক কোনো সমস্যা না’।

    জুলফিকার ইসলাম শিশিরের রচনা ও পরিচালনায় এই নাটকটি প্রচারিত হবে আরটিভিতে ঈদের পঞ্চম দিন রাত ৮টায়।

    গল্পে দেখা যাবে, ফরহাদ একজন বেকার যুবক, যিনি মাথার টাক ঢাকতে আলগা চুল ব্যবহার করেন। এলাকার মেয়েরা কেউই টাক দেখে তাকে পছন্দ না করায় তিনি দুলাভাইয়ের এলাকায় গিয়ে বিয়ের চেষ্টা শুরু করেন এবং চুল গজানোর চিকিৎসাও চালিয়ে যান।

    অন্যদিকে শিলা রূপে-গুণে অনন্যা হলেও অত্যন্ত অহঙ্কারী এবং চুলহীন, অসুন্দর ছেলেদের তীব্র অবজ্ঞা করে। এক চ্যালেঞ্জে পড়ে সে ঘোষণা দেয়, ‘চুলওয়ালা হ্যান্ডসাম ছেলে’ বিয়ে করেই দেখাবে।

    অবশেষে শিলা ভুল করে আলগা চুল লাগানো ফরহাদকে ভালোবেসে এক টাকা দেনমোহরে বিয়ে করে। কিন্তু বাসর রাতে ফুলের ঘ্রাণে হাঁচি দিয়ে ফরহাদ যখন নিজের টাক ফাঁস করে ফেলে, তখনই অজ্ঞান হয়ে যায় শিলা।

    জ্ঞান ফিরে কান্নাকাটি, অপমান, বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত – সব মিলিয়ে কাহিনিতে আসে একের পর এক মোড়।

    শিলার মুখে দুর্ঘটনায় গরম তেল পড়ে সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পর সেই অহঙ্কার ভেঙে যায়।

    সেই সময় ফরহাদ বলে, ‘আমি তোমার চেহারাকে নয়, তোমার মনকে ভালোবেসেছি’। এ কথায় শিলা আবেগে ভেসে যায়।

    আয়ুষ্মান খুরানা ও ইয়ামি গৌতম অভিনীত বলিউড কমেডি ছবি ‘বালা’র সাথে বেসিক গল্পের মিল থাকলেও নাটকটির দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা ভিন্নতা আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    চুল, সৌন্দর্য আর সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে নির্মিত এই নাটকটি হাস্যরস আর আবেগের মিশেলে দর্শকদের জন্য হয়ে উঠবে এক ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা।

  • হুমায়ূন আহমেদের ঈদের নাটকের সেই সময়টা কেমন ছিলো?

    হুমায়ূন আহমেদের ঈদের নাটকের সেই সময়টা কেমন ছিলো?

    আচ্ছা, হুমায়ূন আহমেদের ঈদের নাটক কোন চ্যানেলে দেখাবে? নাম কী এবারের নাটকের? অভিনয় করেছেন কে কে? সময়টা কখন? আশি, নব্বই দশক বা পরবর্তী সময়েও দর্শকের মধ্যে এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খেতো ঈদ আসলেই। কারণ তখন ঈদ মানেই ছিল জনপ্রিয় লেখক, নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের নাটক। শুধু ঈদ নয়, হুমায়ূন আহমেদের নাটকবিহীন দেশের কোনো উৎসব যেন অপূর্ণ থাকতো।

    হুমায়ূন আহমেদের নাটকের যাত্রা শুরু হয়েছিল দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় চ্যানেল বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মাধ্যমে। নব্বই দশকের শেষ দিকে দেশের স্যাটেলাইট চ্যানেল যাত্রা শুরু করলে তখন সেখানেও প্রচার হতো হুমায়ূন আহমেদ নির্মিত নাটক। ওই সময় ঈদ উৎসব মানেই ছিলো জনপ্রিয় এই কথা সাহিত্যিকের নির্মাণ। এমনও হয়েছে, একসঙ্গে একাধিক চ্যানেলে প্রচার হয়েছে এই লেখক ও নির্মাতার নাটক।

    ঈদ ছাড়াও হুমায়ূন আহমেদের নাটক নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ-মাতামাতির কথাও শোনা যায়। এমন কথাও প্রচলিত আছে, তার নাটক প্রচারের সময় এমনভাবে রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যেতো যেন দেশে কারফিউ চলছে। শুধু তাই নয়, হুমায়ূন আহমেদ নির্মিত নাটকের চরিত্রের ফাঁসির প্রতিবাদে মিছিল হয়েছে এমন ঘটনার সাক্ষীও দেশের টিভি দর্শক।

    যেভাবে নাটকের জগতে এলেন হুমায়ূন
    গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাক্ষাৎকার এবং নাটকের সঙ্গে যুক্ত অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৭০ এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনে ঈদের বিনোদননির্ভর, বা যাকে বলা চলে হাসির নাটক, সেরকম নাটক লেখা শুরু করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা আমজাদ হোসেন।

    ১৯৭৫-৭৬ সালের দিকে এক ঈদের নাটকের জন্য তিনি ‘জব্বর আলী’ নামে একটি চরিত্র তৈরি করেন, যা পরবর্তীতে ঈদের সময় নানামাত্রিক গল্পে টেলিভিশনের পর্দায় উঠে আসে। আশির দশকের শুরু পর্যন্ত জব্বর আলী প্রবল জনপ্রিয়তা পায়। কিন্তু একই বিষয়ের পুনরাবৃত্তির কারণে এটির জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ে বলে জানান অনেকে। ঠিক ওই সময়ের আর্বিভাব ঘটে হুমায়ূন আহমেদের।

    তখন বাংলাদেশ টেলিভিশনে জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করতেন নওয়াজীশ আলী খান। তিনি হুমায়ূন আহমেদের শুরু প্রসঙ্গে বলেন,’আমরা তখন বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী বিভিন্ন গল্প নিয়ে নাটক নির্মাণ করতাম। সেরকম একটি গল্প ছিলো শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খাঁর লেখা ‘পাখির বিদায়’। সেই গল্পের নাটকটির শুটিং করার জন্য আমরা ধানমন্ডিতে তার (হুমায়ূন আহমেদের) বাড়ি ‘দখিন হাওয়া’ তে যাই। ইব্রাহিম খাঁ ততদিনে মারা গেছেন। তার ছেলেরা বাস করতেন সেই বাড়িতে।

    তিনি আরো বলেন, তিনি এই বাড়ির বড় জামাতা। অর্থাৎ ইব্রাহিম খাঁ ছিলেন হুমায়ূন আহমেদের দাদা শ্বশুর। ততদিনে হুমায়ূন আহমেদের দুটি উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ এবং ‘শঙ্খনীল কারাগার’ প্রকাশ পেয়েছে এবং তুমুল জনপ্রিয় হয়েছে। দুটি উপন্যাসই আমার পড়া ছিল। তাই আমি তাকে তখনই অনুরোধ করি টেলিভিশেন নাটক লেখার জন্য। তবে শুরুতে হুমায়ূন আহমেদ রাজি হননি। তাকে রাজি করাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েও অনুরোধ করেন। ওই সময়ে হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী গুলতেকিন খানও তাকে রাজি করাতে বেশ সহযোগিতা করেছিলেন।

    তিনি দাবি করেন, হুমায়ূন আহমেদের প্রথম দুটি নাটক করা সম্ভব হয়নি। তবে তার জমা দেয়া তৃতীয় নাটক ‘প্রথম প্রহর’ প্রথম প্রচারিত হয় বাংলাদেশ টেলিভিশনে। এটি ১৯৮৩-৮৪ দিকের ঘটনা বলে জানান তিনি। তবে সেটি ঈদের নাটক ছিল না। বাংলাদেশ টেলিভিশনে হুমায়ূন আহমেদের লেখা যত নাটক প্রচার হয়েছে সবচেয়ে বেশি হয়েছে আমার মাধ্যমে। সব নাটকের মহড়া এবং শুটিংয়ের সময় হাজির থাকতেন তিনি। ওই সময়ও তিনি চিত্রনাট্য ও সংলাপ পরিবর্তন করতেন। কোনো নাট্যকারকে এতটা সময় দিয়ে কাজ করতে দেখিনি।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করেন হুমায়ূন আহমেদের নাটকের বড় বৈশিষ্ট ছিল মধ্যবিত্ত পরিবারের গল্প, যেখানে মা-বাবা ভাইবোন, কাজের ছেলে বা মেয়ে থাকতেন। প্রতিটি মানুষের আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট তিনি তুলে ধরতেন। সবগুলো মিলিয়ে তিনি একটা মজার প্লট তৈরি করতেন। সহজেই সব শ্রেণির মানুষ নাটকের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে পারতেন। এটাই সফলতার বড় কারণ। জানা যায়, বিটিভির স্টুডিওতে হুমায়ূন আহমেদের নাটকের শুটিং হতো দুই দিন। একদিন বাইরে করতে হতো। তারপর এটি সম্পদনা করে প্রচার হতো বিটিভিতে।

    সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করেন, একদিন হঠাৎ’ নামের নাটকটি হুমায়ূন আহমেদের লেখা প্রথম ঈদের নাটক। বিটিভিতে নাটকটির প্রযোজক ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। একই প্রযোজকের সঙ্গে এইসব দিনরাত্রি ধারাবাহিক তখন তুমুল জনপ্রিয় নাটক। তখনই এই দুজন মিলে তৈরি করেন ‘একদিন হঠাৎ’ নামের ঈদের বিশেষ নাটক।

    বেসরকারি টিভিতে হুমায়ূন আহমেদ কাল
    সময়টা এমন ছিল, টিভিতে ঈদের বিশেষ নাটক মানেই ছিল হুমায়ূন আহমেদের নাটক। ঈদের বিশেষ নাটক প্রচার হওয়ার পরপরই সারাদেশে আলোচনা শুরু হয়ে যেত। কে ভালো করেছেন, কার অভিনয় দারুণ হয়েছে, কার অভিনয় আরেকটু ভালো হতে পারতো–– এই নিয়ে চলত নানা আলোচনা-সমালোচনা এবং এই আলোচনা চলতো অনেক দিন। এমনও হয়েছে, ঈদের নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমেই অনেক নতুন অভিনয় শিল্পী রীতিমতো তারকাখ্যাতি পেয়ে যেতেন।

    ঈদের নাটক প্রসঙ্গে এক লেখায় হুমায়ূন আহমেদ বলেছিলেন, মুস্তাফিজুর রহমান সাহেবের ফাঁদে পড়ে এক ঈদে হাসির নাটক লিখতে রাজি হলাম। সবাই খাল কেটে কুমির আনে, আমি খাল কেটে অক্টোপাস নিয়ে এলাম। এই অক্টোপাস আমাকে আট পায়ে আঁকড়ে ধরল। বাংলাদেশের মানুষদের ঈদের দিনে হাসানো আমার পবিত্র এবং মহান দায়িত্ব হয়ে গেল। যেকোনো দায়িত্বের সঙ্গে টেনশন থাকে, সেই দায়িত্ব যদি মহান হয়, টেনশন ‘মহা’ হয়ে যায়। আমি দুঃস্বপ্ন দেখতে শুরু করি রোজার শুরুতেই। স্ক্রিপ্ট লিখি, স্ক্রিপ্ট পছন্দ হয় না। আবার লিখি, আবার লিখি। বিটিভির রিহার্সেল রুমে রিহার্সেল হয়। প্রতিবারই আমি উপস্থিত থাকি। রিহার্সেল শুনে নাটক কাটাকুটি করি। প্রযোজক বিরক্ত হয়ে বলেন, এত কাটাকুটি করলে কীভাবে হবে? প্রতিদিন নতুন সংলাপ দিলে আর্টিস্ট কীভাবে মুখস্থ করবে?

    বেসরকারি চ্যানেলের সঙ্গে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন এভাবে, আগে একটা নাটক লিখতাম। টেনশন এক নাটকে সীমাবদ্ধ থাকত। এখন এক ঈদে পাঁচ-ছয়টা করে নাটক লিখতে হয়। আমি নিজে প্রচারের দিন কোনো নাটকই দেখতে পারি না। কোনটা দেখব? দর্শকেরাও নাটক দেখেন না। তাঁরা দেখেন বিজ্ঞাপন।

    তবে এসব ছাপিয়েও জনপ্রিয় হয়েছে হুমায়ূন আহমেদের নাটক। তার ঈদ নাটকের জনপ্রিয় সিরিজ ‘তারা তিনজন’। ২০০২ সালের এক ঈদে ‘পক্ষীরাজ’ নামের নাটকটি প্রচারের পরই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন এই নাটকের তিন চরিত্র ডা. এজাজুল ইসলাম, ফারুক আহমেন ও স্বাধীন খসরু।

    নাটকটিতে এই তিন অভিনেতার রসায়ন নির্মাতা ও কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের খুব পছন্দ হয়। তখনই নির্মাতা সিদ্ধান্ত নেন এই তিনজনকে নিয়ে একটি নাটক বানাবেন। পরের ঈদের জন্য নির্মাণ করেন ‘তারা তিনজন’। ২০০০ সালের এক ঈদে নাটকটি প্রথম প্রচারিত হয়। পরে দর্শক চাহিদার কারণেই তৈরি হয় তারা তিনজন–এর সিকুয়েল। একে একে তারা তিনজন ‘টি-মাস্টার’, ‘তারা তিনজন ঝামেলায়’, ‘তারা তিনজন হে পৃথিবী বিদায়’, ‘তারা তিনজন এবং ঝুনু খালা’সহ এই সিরিজের ১১টি নাটক প্রচারিত হয়।

    হুমায়ূন আহমেদের নাটক প্রসঙ্গে বেসরকারি টিভি চ্যানেল চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, “বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরে হুমায়ূন আহমেদ প্রথম প্যাকেজের আওয়াত যে নাটক নির্মাণ করেন সেটা আমাদের চ্যানেলে প্রচার হয়। নাটকটির নাম সম্ভবত ‘নীতু তোমাকে ভালোবাসি’। তারপর থেকে যে কোনো উৎসবেই প্রচার হতো এই গুণীর নাটক। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও চ্যানেল আইতে একসঙ্গে একই সময়ে প্রচার হতো হুমায়ূন আহমেদের নাটক। সব মিলিয়ে শতাধিক নাটক রয়েছে চ্যানেলে আইয়ের কাছে। তার মৃত্যুর পর অনেককে দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের গল্প দিয়ে নাটক নির্মাণের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সেটি তার মতো হয়নি।

    যা বলছেন অভিনয়শিল্পীরা
    হুমায়ূন আহমেদের নাটকে নিয়মিত অভিনয় করতেন অভিনেতা ফারুক আহমেদ ও ডা. এজাজুল ইসলাম। ঈদের নাটকেও নিয়মিত দেখা যেতো তাদের। তাদের দাবি, হুমায়ূন আহমেদের নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমেই খ্যাতি পেয়েছেন তারা। অভিনেতা ফারুক আহমেদ বলেন, ঈদ আসলেই হুমায়ূন আহমেদের নাটক দু-তিনটি চ্যানেলে প্রচার হতো। বেশিরভাগ নাটকেই অভিনয় করতাম আমি। ওই সময় নাটক প্রচারের পরপরই সোরগোল পড়ে যেতো। রাস্তাঘাটে বের হতে পারতাম না।

    হুমায়ূন আহমেদের প্রায় শ’ খানেক নাটকের অভিনেতা ডা. এজাজুল ইসলাম বলেন, ওই সময়ের ঈদের নাটকসহ হুমায়ূন আহমেদের সব নাটক যেমন জনপ্রিয় ছিল, এখনো সমান জনপ্রিয়। এখনো মানুষ ৩০ বছর আগের নাটক দেখেন এই জনপ্রিয়তার কারণেই। এখন যেমন হাসির নাটক, প্রেমের নাটক, উড়াধুরা নাটক হয় সেসব হুমায়ূন স্যারের এক নাটকেই পাওয়া যেতো। হুমায়ূন আহমেদের নাটক শুধু ওই সময় প্রাসঙ্গিক ছিল এমন না, এটি শত বছর পরও মানুষ পছন্দ করবেন। এবং সব বয়সীদের কাছে সবসময় একইরকম জনপ্রিয় হবে।

    হুমায়ুন আহমেদের নাটকে অভিনয় করা প্রসঙ্গে আরেক অভিনেতা মাহফুজ আহমেদ বলেন, আমি ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটক থেকে শুরু করে অসংখ্য নাটকে অভিনয় করেছি। তার নাটকে অভিনয় করাটাই একটা ঈদের আনন্দ দিতো। তিনি একমাত্র লেখক যিনি নাটকের দর্শক বিশেষ করে উচ্চ, মধ্য ও নিম্নবিত্তকে সুক্ষভাবে বুঝতেন এবং তুলে আনতেন। নাটকে এটা সাধারণত দেখা যায় না। এ কারণে আমার মনে হয় হুমায়ূন আহমেদের বিকল্প একমাত্র হুমায়ূন আহমেদ।


    সূত্র : বিবিসি বাংলা