Category: প্রধান সংবাদ

  • হাসনাতের গাড়িবহরে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, আল্টিমেটাম

    হাসনাতের গাড়িবহরে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, আল্টিমেটাম

    গাজীপুর নগরে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহর গাড়িতে হামলার ঘটনায় প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এনসিপির ঢাকা মহানগরীর নেতাকর্মীরা।

    আজ রোববার রাত ১০ টার দিকে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপি’র অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।মিছিলটি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, শাহবাগ প্রদিক্ষণ করে পুনরায় এনসিপির প্রধান কার্যালয়ের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশে রূপ নেয়।

    এ সময় বিক্ষোভকারীরা হাসনাত আব্দুল্লাহর ওপর হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা ও আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধের দাবি জানান।

    বিক্ষোভকারীরা বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে এত হত্যা করার পরও আওয়ামী লীগের কোনো অনুশোচনা নাই। অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো উপদেষ্টা ও কোনো রাজনৈতিক দল তাদের পক্ষ নিলে, তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর হুঁশিয়ারি দেয় বিক্ষোভকারীরা।

    আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে হাসনাতের উপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা , আইন উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ঘেরাওয়ের হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন তাঁরা।

  • আড়াই মাস পর কুয়েট খুললেও হচ্ছে না ক্লাস

    আড়াই মাস পর কুয়েট খুললেও হচ্ছে না ক্লাস

    টানা ৭৪দিন পর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) খুললেও কোনো ক্লাস নিচ্ছেন না শিক্ষকরা।

    রোববার (৪ মে) কুয়েটের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষক সমিতি ক্লাস বর্জন করায় হচ্ছে না ক্লাস।

    কুয়েটের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা।

    কুয়েটের ছাত্র কল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল্লাহ ইলিয়াছ আক্তার বলেন, শিক্ষক সমিতি ক্লাস বর্জন করায় কুয়েটে ক্লাস হচ্ছে না।

    শিক্ষকরা ক্লাসে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। আজ ভিসি শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন।
    এদিকে দীর্ঘদিন ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকায় লেখাপড়ায় পিছিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া সেশনজটেরও আশঙ্কা করছেন তারা।

    কুয়েট শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মো. ফারুক হোসেন বলেন, ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী, ভিসিসহ শিক্ষকদের লাঞ্ছনাকারীদের সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরব না। আমরা আমাদের সিদ্ধান্তের কথা নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত ভিসিকে জানিয়ে দিয়েছি।

    প্রসঙ্গত, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েটে শিক্ষার্থীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ভিসি, প্রোভিসি এবং ডিএসডাবলিউর পদত্যাগ দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। ‎দীর্ঘ প্রায় আড়াই মাস টানা আন্দোলন এবং ভিসির পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আমৃত্যু অনশন কর্মসূচির পরিপ্রেক্ষিতে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে অপসারণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

    শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব এ এস এম কাসেম স্বাক্ষরিত দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বৃহস্পতিবার (১ মে) কুয়েটের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হযরত আলী। শুক্রবার (২ মে) রাতে তিনি কুয়েটে পৌঁছান। শনিবার (৩ মে) অনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

  • তুরিন আফরোজের ডক্টরেট ডিগ্রি ভুয়া, জানাল বিশ্ববিদ্যালয়

    তুরিন আফরোজের ডক্টরেট ডিগ্রি ভুয়া, জানাল বিশ্ববিদ্যালয়

    আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের ডক্টরেট ডিগ্রি ভুয়া বলে জানিয়েছে সিডনির ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলস।

    রোববার (৪ মে ) আপিল বিভাগে বাড়ি সংক্রান্ত মামলায় এ তথ্য দাখিল করা হয়েছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী ব্যারিস্টার সাজ্জাদ হায়দার।

    গত ১৩ মার্চ আপিল বিভাগে বাড়ি সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক বলেছেন, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর থাকা অবস্থায় ক্ষমতার সব রকম অপব্যবহার করেছেন। তখন সে ছিল পরাক্রমশালী। এক মুহূর্তের মধ্যে তার মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। উত্তরার বাড়িতে সেই মায়ের থাকার নির্দেশনা প্রার্থনা করছি।

    হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আবেদনের শুনানিতে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে তিনি এসব কথা বলেন।

    গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর উত্তরায় পাঁচতলা বাড়িতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) সাবেক প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজের মা শামসুন্নাহার বেগম এবং তার ভাই শিশির আহমেদ শাহনেওয়াজ আহমেদের বসবাস করা নিয়ে বিচারিক আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ বাতিল করে দেন হাইকোর্ট। এর ফলে ওই বাড়িতে শামসুন্নাহার বেগম ও শাহনেওয়াজের বসবাসের ক্ষেত্রে আর কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

    এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি মো. সেলিমের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।

    আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, আইনজীবী বিএম ইলিয়াস কচি, ব্যারিস্টার মনজুর রাব্বী, ব্যারিস্টার আতিকুল হক। তুরিন আফরোজের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ সাইফুল করিম।

    সেদিন ব্যারিস্টার আতিকুল হক বলেন, রাজধানীর উত্তরায় পাঁচতলা বাড়িতে বসবাসকে কেন্দ্র করে বিচারিক আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ বাতিল করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে ওই বাড়িতে তুরিন আফরোজের মা শামসুন্নাহার বেগম ও শাহনেওয়াজের বসবাসের ক্ষেত্রে আর কোনও আইনগত বাধা নেই।

    তিনি বলেন, রাজধানীর উত্তরার রেসিডেনন্সিয়াল মডেল টাউনের ১১ নম্বর সড়কের ৩ নম্বর সেক্টরের ১৫ নম্বর প্লটের পাঁচতলা বাড়িতে ২০০২ সাল থেকে বসবাস করে আসছিলেন শামসুন্নাহার বেগম এবং তার ছেলে শিশির আহমেদ শাহনেওয়াজ। তবে নিজের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে শামসুন্নাহার বেগম ও শাহনেওয়াজকে ওই বাড়ি থেকে ২০১৭ সালে বের করে দেন তুরিন আফরোজ। পরে ওই বাড়ির ভোগ দখল ও মালিকানা দাবি করে শাহনেওয়াজ ও তুরিন আফরোজ ঢাকার যুগ্ম জেলা জজ আদালতে দুটি দেওয়ানী মামলা দায়ের করে। ২০১৮ সালের ১১ অক্টোবর দুই পক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে ওই বাড়ি ভোগদখলের ক্ষেত্রে স্থিতাবস্থা জারি করে ঢাকার পঞ্চম যুগ্ম জেলা জজ আদালত। এরপর যুগ্ম জেলা জজ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালতে আবেদন করে শাহনেওয়াজ। পরে ২০২৩ সালের ১৯ জানুয়ারি যুগ্ম জেলা জজ আদালতের আদেশ বহাল রাখেন জেলা জজ আদালত। এরপর ২০২৩ সালের মার্চে জেলা জেজ আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন দায়ের করে শাহনেওয়াজ।

    ২০২৩ সালের ২ এপ্রিল বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ উত্তরায় ওই বাড়ি ভোগদখলের ক্ষেত্রে স্থিতাবস্থার আদেশ কেন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হবে, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। পরবর্তী সময়ে আদালত পরিবর্তিত হয়ে মামলাটি বিচারপতি মো. সেলিমের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে আসে। ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ১৯ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি মো. সেলিমের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল যথাযথ (অ্যাবসুলেট) ঘোষণা করে স্থিতাবস্থা বাতিল করে রায় দেন। এর ফলে ওই বাড়িতে শাহনেওয়াজ ও তার মা শামসুন্নাহার বেগমের বসবাসের ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা নেই।

    এখন বাড়ির ভোগ দখল ও মালিকানা দাবি করে দায়ের করা দুটি মামলায় বিচারিক আদালতে স্বাভাবিক নিয়মে চলবে বলে জানান আইনজীবী আতিকুল হক।

    উল্লেখ্য, বিচারিক আদালতের মামলার আরজিতে তুরিন আফরোজ দাবি করেছেন, তুরিনের মা শামসুন্নাহার ১৯৯১ সালে ক্রয়সূত্রে উত্তরার সম্পত্তির মালিক হন। পরের বছর ১৯৯২ সালে শামসুন্নাহার তার স্বামী তসলিম উদ্দিনকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিযুক্ত করেন। পরে ১৯৯৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তসলিম উদ্দিন মেয়ে তুরিন আফরোজকে দান করেন। তবে শামসুন্নাহার ও তার ছেলে শাহনেওয়াজ আদালতে লিখিত জবাব দিয়ে বলেছেন, তসলিম উদ্দিন কখনো তার মেয়ে তুরিন আফরোজকে উত্তরার সম্পত্তি দান করেননি। বরং শামসুন্নাহার তার ছেলে শাহনেওয়াজকে উত্তরার সম্পত্তি ১৯৯৭ সালে দান করে দেন। পরে ওই জমি শাহনেওয়াজের নামে নামজারি করে ১৯৯৯ সালে হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের কাছ থেকে ২৫ লাখ ঋণ নেয়া হয় এবং রাজউকের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মাণ করা বাড়িতে তারা ২০০২ সাল থেকে বসবাস করে আসছিলেন।

  • এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে দেশে ফিরবেন খালেদা জিয়া

    এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে দেশে ফিরবেন খালেদা জিয়া

    যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আগামী ৫ মে দেশে ফিরছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাধারণ একটি ফ্লাইটে তিনি দেশে ফিরবেন বলে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কাতারের আমিরের পাঠানো এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তিনি দেশে ফিরবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    শনিবার (৩ মে) সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ম্যাডাম কাতারের আমিরের পাঠানো এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সোমবার (৫ মে) দেশে আসবেন। তবে সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

    এর আগে শুক্রবার (২ মে) বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেন, চার মাস পর আগামী ৫ মে (সোমবার) লন্ডন থেকে দেশে ফিরবেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ইনশাআল্লাহ ম্যাডাম আগামী ৫ মে সকালে দেশে ফিরবেন। আমরা যতদূর জানি ওনার সঙ্গে দুই বউমা (তারেক রহমানের স্ত্রী জোবাইদা রহমান ও আরাফাত রহমানের স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান) আসার কথা রয়েছে।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, আলহামদুলিল্লাহ আগের চাইতে ডেফিনেটলি ভালো আছেন।  ম্যাডামের দেশে ফেরার ব্যাপারে কাতারের আমিরের কাছ থেকে যে অ্যাম্বুলেন্সটা ওনাকে লন্ডনে নেওয়ার জন্য পেয়েছিলাম সেটা এখন একটু বিলম্বিত হচ্ছে টেকনিক্যাল কারণে… সেজন্য ম্যাডাম ঠিক করেছেন ওইটা (এয়ার অ্যাম্বুলেন্স) যদি শেষ মুহূর্তে না পাওয়া যায় উনি বাংলাদেশ বিমানেই আসবেন। বাংলাদেশ বিমানে সমস্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৪ মে উনি রওনা হলে ইনশাআল্লাহ পরদিন (৫ মে) সকালে দেশে এসে পৌঁছাবেন।

    এদিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসভবন ফিরোজাকে প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। তিনি বলেন, ম্যাডামের বাসভবন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে।

    খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশে ফিরছেন। ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে সবকিছু জানানো হয়েছে।

    লন্ডন থেকে দেশে ফেরার বিষয়টি জানিয়ে গত সপ্তাহে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকে চিঠি দেন। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার লন্ডন ও দোহার বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দেশে ফেরাতে প্রস্তুতি শুরু করে।

    খালেদা জিয়া ২০১৮ সালে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। করোনা মহামারির সময় সরকার তাকে বিশেষ বিবেচনায় কারামুক্তি দেয়। তবে তিনি কার্যত গৃহবন্দি ছিলেন।

    গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের এক আদেশে খালেদা জিয়া মুক্তি পান। এরপর দুর্নীতির যে দুটি মামলায় তিনি কারাবন্দি ছিলেন, সেগুলোর রায় বাতিল করেন আদালত।

    এরপর এ বছরের ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে টানা ১৭ দিন লন্ডন ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন তিনি। এরপর গত ২৫ জানুয়ারি তাকে তারেক রহমানের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। অর্ধযুগের বেশি সময় পর এবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

  • কোন দিকে ঝুঁকছে ইসলামপন্থি দলগুলো?

    কোন দিকে ঝুঁকছে ইসলামপন্থি দলগুলো?

    বাংলাদেশে ইসলামপন্থি দলগুলোর মধ্যে মতের ভিন্নতা, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থাকলেও এখন নির্বাচন লক্ষ্য করে ‘এক বাক্সে ভোট আনার’ স্লোগান তোলা হয়েছে। কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক পাঁচটি দল নির্বাচনি জোট করার তৎপরতা চালাচ্ছে। তবে বড় ইসলামি দল জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান নিয়ে সন্দেহ রয়েছে অন্য দলগুলোর মধ্যে। অন্যতম প্রধান দল বিএনপিও ইসলামি দলগুলোকে কাছে টানার চেষ্টায় রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ইসলামপন্থিদের রাজনীতির মেরুকরণ কোথায় গিয়ে ঠেকবে, এই প্রশ্নে এসব দলের মধ্যেই চলছে নানা আলোচনা।

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের শাসনের পতনের পর জামায়াত এবং অন্যান্য ইসলামী দল ও সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে; অনেক ক্ষেত্রেই তা চোখে পড়ার মতো। এমনকি বিভিন্ন সময় এসব দল ও সংগঠনের শক্তি দেখানোর চেষ্টা ছিল। নির্বাচনের সময় ও সংস্কার প্রশ্নে বিএনপির বিপরীতে জামায়াতসহ বিভিন্ন ইসলামপন্থি দলের পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

    ইসলামী দলগুলোর নেতারা বলছেন, দেশে পট পরিবর্তনের পর রাজনীতিতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ একটা অবস্থান তৈরির সুযোগ এসেছে বলে তারা মনে করছেন। এই সুযোগ কাজে লাগাতে চান তারা। সেজন্য তারা ইসলামপন্থিদের ঐক্য বা একটি জোট গঠনের তাগিদ অনুভব করছেন।

    নির্বাচনি জোট করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিটি আসনে তাদের একক প্রার্থী দেওয়ার কথা বলছে ইসলামপন্থি দলগুলো। তা কতটা সম্ভব হবে, এ নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। যদিও নেতারা বলছেন, তারা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, নির্বাচন এগিয়ে এলে নানা মেরুকরণ হবে এবং অনিশ্চয়তাও আছে।

    বিএনপি ও জামায়াতের কাছে টানার চেষ্টায় অনেক ইসলামি দল দুই বলয়ে ভিড়তে পারে, এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও নাকচ করতে পারছেন না ঐক্যের চেষ্টায় থাকা নেতারা।

    ঐক্যের চেষ্টায় জামায়াতের অবস্থান আসলে কী
    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শাসনের শেষদিকে কোণঠাসা জামায়াত অন্য ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে একটা সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করেছে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তাদের সেই চেষ্টা প্রকাশ্যে এসেছে। কারণ অন্য দল, বিশেষ করে কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক ও ধর্মীয় নেতা বা পীরদের নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে জামায়াতের সম্পর্কের দূরত্ব ছিল।

    জামায়াতের এই দূরত্ব কাটিয়ে ওঠার চেষ্টায় উল্লেখ করা যেতে পারে যে, দলটির আমির শফিকুর রহমান গত ২১শে জানুয়ারি বরিশালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমােনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের সঙ্গে দেখা করেন। সেদিন ইসলামি আন্দোলনের নেতার মধ্যাহ্ণভোজেও অংশ নেন জামায়াতের আমির। দল দুটির শীর্ষ দুই নেতা বরিশালে সাংবাদিকদের সঙ্গেও কথা বলেন। সেদিনই তারা সাংবাদিকদকদের বলেছিলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে ইসলামি দলগুলো ‘একবাক্সে ভোট আনার’ চেষ্টা চালাচ্ছে।

    এরপর জামায়াত নেতারা ঐক্যের ব্যাপারে কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক বিভিন্ন দলের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। তবে ঐক্যের ব্যাপারে দলটির অবস্থানের পরিবর্তন হয়েছে বলে অন্য ইসলামি দলগুলোর নেতারা মনে করছেন। কারণ এখন ঐক্য তৈরি প্রক্রিয়ায় জামায়াত অংশ নিচ্ছে না।

    জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ইসলামী আন্দোলনসহ অন্য দলগুলোর ঐক্য বা জোট করার চেষ্টাকে আমরা সম্মান করি। কিন্তু ওই জোট থাকা না থাকার প্রশ্নে স্পষ্ট কোনো জবাব দেননি তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনীতিতেই নানা মেরুকরণ হচ্ছে। নির্বাচন এগিয়ে এলে আরও মেরুকরণ হবে। ফলে আরও পরে দলগুলোর অবস্থান স্পষ্ট হবে।

    দলটির অন্য একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, কোনো জোটে না গিয়ে জামায়াত স্বতন্ত্র অবস্থানে থেকে দলগতভাবে নির্বাচন করতে চায়। এবার জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসার চিন্তা তাদের মধ্যে রয়েছে। সেজন্য কোনো জোটে না গিয়ে নির্বাচনে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার চিন্তা জামায়াতের ভেতরে আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে। একইসঙ্গে ইসলামপন্থিসহ বিভিন্ন দলকে কাছে রেখে নিজেদের একটা বলয় তৈরির চিন্তা নিয়েও এগোচ্ছে দলটি। আর এমন চিন্তার ক্ষেত্রে জামায়াত গণ-অভ্যুত্থানের ছাত্র নেতৃত্বের দল এনসিপির সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে।

    ইসলামপন্থি দলগুলোর রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা জামায়াতের অবস্থানকে দেখছেন ভিন্নভাবে। তারা বলছেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ এখন রাজনীতির মাঠে নেই। এই দলটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না পেলে বা ভোটে অংশ না নিলে বিএনপি ও জামায়াতের জোট করার প্রয়োজন হবে না। কারণ আওয়ামী লীগের বিরোধিতা থেকেই তারা অতীতে নির্বাচনে জোটবদ্ধ হয়েছে। এখন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা বিবেচনা রেখেই জামায়াত কোনো জোটে না যাওয়ার বিষয় চিন্তা করছে।

    এসব চিন্তা থাকলেও এখন অবস্থান পরিষ্কার করেনি দলটি। ফলে জামায়াতের অবস্থান নিয়ে ইসলামপন্থি অন্য দলগুলোর মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। আর এমন প্রেক্ষাপটে ইসলামী আন্দোলনসহ পাঁচটি দল তাদের ঐক্য প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার তৎপরতা চালাচ্ছে।

    ঐক্যের চেষ্টায় কারা, নির্বাচনি জোট নাকি স্থায়ী জোট?
    জোট গঠনের লক্ষ্যে পাঁচটি দল এরই মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক করেছে। সর্বশেষ গত ২৩শে এপ্রিল তারা বৈঠক করেছে। তারা একটি লিঁয়াজো কমিটিও গঠন করেছে। দুই-একদিনের মধ্যে সেই লিঁয়াজো কমিটির বেঠক হতে পারে।

    ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্বে এই ঐক্যের প্রক্রিয়ায় রয়েছে মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এবং নেজামে ইসলাম। এই পাঁচটি দলেরই নিবন্ধন আছে।

    ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ইসলামি আদর্শ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এবার নির্বাচনে একটা অবস্থান তৈরির চিন্তা থেকে তারা এই ঐক্যের চেষ্টা করছেন। তবে, কোনো স্থায়ী জোট নয়, এটি হবে নির্বাচনি জোট।

    পাঁচটি দল প্রথমে নিজেরা একটি নীতিমালা তৈরি করছে। সেই নীতিমালার ভিত্তিতে তারা অল্প সময়ের মধ্যে জোট গঠনের ঘোষণা দেবে। এই প্রক্রিয়ায় থাকা অন্য একাধিক নেতা জানিয়েছেন, ইসলামি দলের বাইরেও গণঅধিকার পরিষদ ও ডানপন্থি কিছু দলের সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ রয়েছে। তারা এলেও জোটে স্বাগত জানানো হবে।

    যদিও তাদের কাছে জামায়াতের অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়। এরপরও জামায়াত তাদের সঙ্গে ঐক্য করতে চাইলে তাতে আপত্তি নেই। কারণ জামায়াত এখনো তাদের ‘না’ বলেনি। সেজন্য জামায়াতকেও সঙ্গে রাখার চেষ্টা থাকবে বলে ইসলামি দলগুলাের নেতারা বলছেন।

    খেলাফত মজলিসের সহ সভাপতি আব্দুর রব ইউসুফী বলেন, তারা নির্বাচনি জােট গঠন করলে অন্যান্য দলের জন্যও তাদের জোট উন্মুক্ত থাকবে।

    হেফাজতসহ ইসলামি বিভিন্ন ফোরামের নতুন তৎপরতা কেন?
    কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম তেসরা মে ঢাকায় সমাবেশ করছে। সংগঠনটি তেরো দফা দাবি তুলে ২০১৩ সালের পাঁচই মে ঢাকায় শাপলা চত্বরে সমাবেশের মাধ্যমে আলোচনায় আসে। তাদের সেই সমাবেশকে কেন্দ্র করে প্রাণহানির ঘটনার ব্যাপারে এবং দমননীতি চালানোর অভিযোগ রয়েছে সে সময়ের আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে। এবার সেই ঘটনার স্মরণে এবং সংগঠনটির নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে সে সময় দায়ের করা পুলিশের সব মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে তেসরা মে সমাবেশ করার কথা বলছে হেফাজত।

    সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব জালালাউদ্দীন আহমদ বলেন, তাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ২৭০টি মামলা রয়েছে। সেগুলোর প্রত্যাহার চান তারা। অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন নারীর অধিকার নিয়ে বিভিন্ন সুপারিশসহ যে প্রতিবেদন দিয়েছে, সেই প্রতিবেদন ও কমিশনই বাতিলের দাবি তুলেছে হেফাজত। ঢাকার সমাবেশে সেই দাবিকেও তারা সামনে আনবেন বলে জানিয়েছেন জালালউদ্দীন আহমদ।

    হেফাজতে ইসলাম নিজেদের অরাজনৈতিক সংগঠন দাবি করলেও তাদের নেতৃত্বের বেশিরভাগই ইসলামপন্থি বিভিন্ন দলের নেতা। এই সমাবেশের মাধ্যমে সংগঠনটির শক্তি দেখানোর একটা চেষ্টা থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

    • ইসলামি দলগুলোর রাজনীতির পর্যবেক্ষক মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ বলেন, ইসলামি দলগুলোর পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন সংগঠন বা ফোরামের পক্ষ থেকেও তাদের অবস্থানের জানান দিতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। হেফাজতও ঢাকায় জমায়েত করে তারা নতুন করে তাদের অবস্থানের একটা বার্তা দিতে চাইছে।

    বিএনপিও ইসলামি দলগুলোকে কাছে টানছে, কেন
    এখন সক্রিয় থাকা প্রায় সব দলই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ বিরোধী অবস্থানে রয়েছে। নির্বাচন হলে এই দলগুলোর মধ্যে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে, এই ধারণা তৈরি হয়েছে রাজনীতিতে। বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, এই নির্বাচনে তাদের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী যেহেতু নেই, সে কারণে তারা এখন কোনো জোট করতে চান না।

    দলটি এবার স্বতন্ত্র অবস্থানে থেকে দলগতভাবে নির্বাচন করতে চাইছে। তবে আওয়ামী লীগের শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির সঙ্গে আন্দোলন করেছে বাম, ডান ও ইসলামপন্থি বিভিন্ন দল। বিএনপির কাছে ওই দলগুলোর একটা চাওয়া রয়েছে। ফলে এই দলগুলোর জন্য বিএনপি কিছু আসন ছেড়ে দেবে এবং সে ক্ষেত্রে এক ধরনের সমঝোতা হবে। দলটির নেতারা বলছেন, যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলোর বাইরেও ইসলামপন্থি বিভিন্ন দলকে কাছে রাখতে চাইছে বিএনপি। সেজন্য তারা আলোচনাও চালাচ্ছে।

    আর এসব দলকে কাছে রেখে জোটবদ্ধ না হয়ে একটা বলয় তৈরির ক্ষেত্রেও আসন দিতে হবে বিএনপিকে। দলটির সে ধরনের সমঝোতায়ও যেতে পারে বলে মনে হয়েছে।

    নির্বাচনে জামায়াত ছাড়া ইসলামপন্থি অন্য দলগুলোর নেতাদের এককভাবে জয়ী হওয়ার নিশ্চয়তা নেই। ফলে বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা হলে তাদের জেতার সম্ভবনা থাকে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দলগুলোর বেশিরভাগই বিএনপির দিকে ঝুঁকবে এবং তাতে ইসলামপন্থিদের ঐক্যের ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।

    ভোটে ইসলামপন্থিদের প্রভাব কতটা, কেন তাদের নিয়ে টানাটানি
    ইসলামি দলগুলোর অতীতের নির্বাচনের পরিসংখ্যান কিন্তু বেশি নয়। গত তিনটি নির্বাচন ছিল বিতর্কিত। এর আগে ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় নির্বাচনে সব দল অংশ নিয়েছিল। সেই নির্বাচনে জামায়াত অংশ নিয়েছিল বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে। ওই নির্বাচনে জামায়াতের ভোট ছিল চার দশমিক সাত শূন্য শতাংশ। অন্য ইসলামি দলগুলোর ভোটের হার দেখা যায় এক শতাংশেরও নিচে।

    এখন তাদের ভোট বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকেরা বলছেন। কিন্তু এরপরও এসব দলের এককভাবে নির্বাচন করে জয়ী হওয়া বেশ কঠিন। ফলে তাদের দিক থেকে বড় দল বা জোটের সঙ্গে আসন সমঝোতা করার একটা তাগিদ থাকে।

    এছাড়া তাদের কাছে টানার ক্ষেত্রে বিএনপি বা বড় দলগুলোর চিন্তা থাকে তাদের সমর্থনে দলের সংখ্যা বাড়ানো; নিজেদের একটা বলয় তৈরি করা। তবে ভোটের হার কম হলেও ইসলামি দলগুলোর সারাদেশে কিছু ভোট আছে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভোট না থাকলেও ইসলামপন্থি দলগুলো সঙ্গে থাকলে এরও একটা রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। এসব বিবেচনায় এবার বিএনপি ও জামায়াত তাদের পৃথকভাবে কাছে টানার চেষ্টায় রয়েছে। অতীতেও সব দলের অংশগ্রহণে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক যে সব নির্বাচন হয়েছে, সে সব নির্বাচনে বড় দলগুলোর ইসলামি দলগুলোকে কাছে রাখার চেষ্টা আরও বেশি ছিল।

    ইসলামি দলগুলোর মেরুকরণের প্রশ্নে অনিশ্চয়তা কেন?
    দেশে ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে। এর মধ্যে ইসলামি দল ১১টি। নিবন্ধিত ইসলামি দলগুলোর মধ্যেই নানামত রয়েছে। এতে কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক দল যেমন রয়েছে, একইসঙ্গে ধর্মীয় নেতা বা পীরদের দল রয়েছে। সেখানে মাজারকেন্দ্রিক তরিকত ফেডারেশন, সুপ্রিম পার্টির মতো দলও রয়েছে। এছাড়া নিবন্ধিত দলের বাইরে ইসলামি দলের সংখ্যা অনেক। এর কোনো সঠিক পরিসংখ্যান দলগুলোও দিতে পারে না। ফলে ইসলামি সব দলকে এক জায়গায় এনে এক বাক্সে ব্যালট পাঠানো দুরূহ ব্যাপার। এটা এসব দলের নেতাদেরও অনেকে মনে করেন।

    অন্যদিকে, ঐক্যের চিন্তা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। সেখানে নির্বাচিত হয়ে আসা এবং ক্ষমতার কাছাকাছি থাকাটা বড় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। ফলে বেশিরভাগ দলেরই বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতায় যাওয়ার চিন্তা রয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন। বিএনপিও বিভিন্ন দলের সঙ্গে যে আলোচনা চালাচ্ছে, তাতে ইসলামপন্থি অনেক দল অংশ নিচ্ছে। এমনকি যে পাঁচটি দল ঐক্যের চেষ্টা করছে, তাদের একাধিক দল বিএনপির সেই আলোচনায় অংশ নিয়েছে। বড় দল যখন আসন সমঝোতার ভিত্তিতে কাছে রাখতে চাইবে, তখন ঐক্যের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা থাকছে।

    জামায়াত এবং অন্য ইসলামি দলগুলোর কয়েকজন নেতাও বলেছেন, নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে রাজনীতি আরও মেরুকরণ হবে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিন পর্যন্ত মেরুকরণ হতে পারে।

    • বিশ্লেষক শরীফ মুহাম্মদ মনে করেন, ইসলামি দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তারা কোনো জোট করলে সেই জোটও বড় কোনো দল বা জোটের দিকে ঝুঁকবে না, সেটাও নিশ্চিত করে বলা যায় না। ঐক্য চেষ্টা ও দলগুলোর অবস্থান স্থির হতে আরও অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    সূত্র : বিবিসি বাংলা

  • জাকসু নির্বাচন ৩১জুলাই, তফসিল ঘোষণা

    জাকসু নির্বাচন ৩১জুলাই, তফসিল ঘোষণা

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩১ জুলাই।

    বুধবার (৩০ এপ্রিল) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কাউন্সিল কক্ষে জাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।

    জাকসুর নির্বাচনের তফসিল

    উপাচার্য জানান, জাকসুর গঠনতন্ত্রের ৮ এর খ. ধারা অনুযায়ী আগামী ৩১ জুলাই সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) এবং হল সংসদ নির্বাচন একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে।

    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. মোহাম্মদ সোহেল আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রব, জাকসু পরিবেশ পরিষদের সদস্য সচিব বিশ্বিবদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনার

    এর আগে গত মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে জাকসুর সার্বিক নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে ‘পরিবেশ পরিষদ: জাকসু নির্বাচন ২০২৫’-এর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি এবং ক্রিয়াশীল শিক্ষার্থী সংগঠনের প্রতিনিধিদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা বৈঠক শেষে বুধবার (৩০ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৫টায় আজকে জাকসুর তফসিল ঘোষণার বিষয়ে সম্মত হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

  • এনসিপি’র কমিটি গঠনের দায়িত্বে আ. লীগ নেত্রীর মেয়ে দোলা

    এনসিপি’র কমিটি গঠনের দায়িত্বে আ. লীগ নেত্রীর মেয়ে দোলা

    ফরিদপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর কমিটি গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন ফরিদপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহামুদা বেগমের মেয়ে সৈয়দা নীলিমা দোলা। দোলা শুধু আওয়ামী লীগ নেত্রীর মেয়ে নয়, তিনি জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোহাম্মদ নাসিরের ভাগ্নিও। তার বাবার নাম সৈয়দ গোলাম দস্তগির। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী।

    গতকাল মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) এনসিপি’র মূখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং সদস্য সচিব আক্তার হোসেনের যৌথ স্বাক্ষরিত এক চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

    ওই চিঠিতে ফরিদপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক করা হয়েছে মো. আব্দিুর রহমানকে এবং সংগঠক করা হয়েছে মো. রাকিব হোসেনকে। এছাড়া, ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচটি জেলা ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, রাজবাড়ী জেলার দুইজন করে ব্যক্তিকে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    চিঠিতে ফরিদপুর অঞ্চলের টিমকে বলা হয়েছে, উক্ত টিমকে উল্লেখিত অঞ্চলের কেন্দ্রীয় কমিটির নিম্মোক্ত সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কমিটির প্রস্তাবনার নির্দেশনার প্রদান করা হল।

    ফরিদপুর জেলার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে যে দু’জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তার একজন হলেন সৈয়দা নীলিমা দোলা।

    সৈয়দা নীলিমা ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংগীত বিভাগে মাস্টার্স করেন। এরপর তিনি কিছুদিন একটি মোবাইল ফোন কোম্পানিতে কাজ করেছেন। বর্তমানে ‘সিনে কার্টেল’ নামে একটি মুভি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বধিকারী।

    জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতির মেয়ে হয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতার হওয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে সৈয়দা নীলিমা দোলা গণমাধ্যমকে জানান, আমার পরিবারের আওয়ামী লীগের রাজনীতি করা সংক্রান্ত কিছু পোস্ট আপনাদের সামনে আসতে পারে। আমি নিজের দিক থেকে একটা ব্যাখ্যা আমার মানুষজন এবং রাজপথের সহযোদ্ধাদের দিয়ে রাখতে চাই।

    তিনি বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন আমি করে আসতেছি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালে সকল আন্দোলনের আমি অতি পরিচিত মুখ। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমার লেখালেখিও পুরোনো। ২০১২ সালে পরিবার ছাড়ার পর রাজপথই আমার আসল পরিবার। জুলাইয়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অন্যতম মামলা তাহির জামান প্রিয় হত্যা মামলা ও একজন প্রতক্ষ্যদর্শী আমি।

    তিনি আরও জানান, সরাসরি ছাত্রলীগ করে অনেকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন। আমি কখনও ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না, তাই আমার নাগরিক কমিটির সদস্য হতে বাধা কোথায় ? তিনি আরও জানান, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা জেনে, বুঝে এবং আমি ‘লিটমাস’ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরেই আমাকে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য করেছেন।

    আওয়ামী লীগ নেত্রীর মেয়ে দায়িত্ব পেয়েছেন জেলার এনসিপি কমিটি গঠনের এ বিষয়ে কোন দৃষ্টিতে দেখছেন জানতে চাইলে ফরিদপুর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব সোহেল রানা জানান, তার (সৈয়দা নীলিমা) পারিবারিক ব্যকগ্রাউন্ড আওয়ামী লীগ। আমরা দেখেছি গত জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে তার মামা গোলাম নাসির কিভাবে আমাদের ওপর নির্বিচার গুলি ছুঁড়েছে। তার মায়ের কর্মকান্ড আমাদের অজনা নয়।

    সৈয়দা নীলিমা দোলার সঙ্গে আমাদের পরিচয় পর্যন্ত নেই মন্তব্য করে সোহেল রানা জানান, আসলে দায়িত্ব দেয়ার আগে সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করে নেয়া হলে ভাল হতো। সঠিক যাচাই-বাছাই করা হলে এ রকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।

  • নর্থ সাউথে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ

    নর্থ সাউথে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ

    নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন যুব ও ক্রীড়া এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

    সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্সের (এসআইপিজি) এক্সিকিউটিভ মাস্টার্স ইন পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্স (ইএমপিজি) প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য তিনি নির্বাচিত হয়েছেন।

    বুধবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, মোট ৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন, যেখানে আসিফ মাহমুদের নাম তালিকার পাঁচ নম্বরে রয়েছে।

    এর আগে, গত ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ইএমপিজি প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষায় আসিফ মাহমুদ সশরীরে অংশগ্রহণ করেন। তার পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

    এ বিষয়ে তখন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের অধীনে পরিচালিত ইএমপিজি প্রোগ্রামের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ২৫ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আসিফ মাহমুদ নামের একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন এবং পরবর্তীতে জানা যায়, তিনি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা

    ইএমপিজি প্রোগ্রামটি মূলত নীতিনির্ধারক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, উন্নয়নকর্মী ও গবেষকদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে পাবলিক পলিসি, প্রশাসনিক দক্ষতা, নেতৃত্ব এবং সুশাসন বিষয়ক সমন্বিত জ্ঞান প্রদান করা হয়।

  • ঢাবির বাসে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫

    ঢাবির বাসে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫

    রাজধানীর উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ক্ষণিকা বাসে হামলার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ।

    বুধবার (৩০ এপ্রিল) উত্তরা জোনের এসি সাদ্দাম হুসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।

    পুলিশ আরও জানায়, হামলায় বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে ঢাবির বাসে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে বাসচালকসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। হামলার ঘটনার পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় যান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান এবং প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ। তারা পুলিশকে হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানান।

  • ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে কুবির ২ শিক্ষকের পদাবনতি

    ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে কুবির ২ শিক্ষকের পদাবনতি

    যৌন নিপীড়ন ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) দুই শিক্ষককে সহকারী অধ্যাপক থেকে প্রভাষক পদে পদাবনতি দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সূত্রে এ বিষয়টি জানা গেছে। এর আগে গতকাল রাতে কুবির ১০৪ তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    পদাবনতি করা দুই শিক্ষক হলেন-ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক আলী রেজওয়ান তালুকদারকে সহযোগী অধ্যাপক থেকে সহকারী অধ্যাপক এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২০ সালে সান্ধ্য কোর্সের শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়ন এবং বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে সহযোগী অধ্যাপক মো. রেজওয়ান তালুকদারের বিরুদ্ধে। এ কারণে বিভাগীয় প্রধানের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় তাকে। এছাড়া, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে তিন শিক্ষার্থীকে নম্বর প্রদান ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠে। পরে ০১ অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদনের স্বার্থে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয় তাকে।

    পদাবনতির বিষয়ে জসিম উদ্দিন বলেন, আমি এখনও পর্যন্ত নোটিশ পাইনি, চিঠিও হাতে আসেনি। সেটা এলে বলতে পারবো।

    এ বিষয়ে জানতে আলী রেজওয়ানকে কল দেওয়া হলে তিনি কল কেটে দেন।

    উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, তাদের বিষয়গুলো সিন্ডিকেট সভায় উঠেছে। সবার সিদ্ধান্ত অনুসারে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু এই সিদ্ধান্ত না, আরও বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সবার সম্মতিক্রমে।