Category: প্রধান সংবাদ

  • সাবেক এমপি কণ্ঠশিল্পী মমতাজ গ্রেফতার

    সাবেক এমপি কণ্ঠশিল্পী মমতাজ গ্রেফতার

    আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ও শিল্পী মমতাজ বেগমকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

    সোমবার রাত পৌনে ১২টায় রাজধানীর ধানমন্ডির স্টার কাবাবের পেছনের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    জনপ্রিয় লোকগানের শিল্পী মমতাজ বেগম একাধিকবার মানিকগঞ্জ–২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন।

  • রাজু ভাস্কর্যে জাতীয় সংগীত গেয়ে ঢাবি শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ

    রাজু ভাস্কর্যে জাতীয় সংগীত গেয়ে ঢাবি শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ

    শাহবাগে জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গেয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

    সোমবার (১২ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিতে ছাত্রদল, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ, ছাত্র ফেডারেশনসহ বাম অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।

    এর আগে, সন্ধ্যার পর থেকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে জড়ো হয়ে শিক্ষার্থীরা “একাত্তরের শহিদেরা, লও লও সালাম”, “চব্বিশের শহিদেরা, লও লও সালাম”, “একাত্তরের বাংলায়, রাজাকারের ঠাঁই নাই”, “আমার সোনার বাংলায়, রাজাকারের ঠাঁই নাই”, “পাকিস্তানের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান”সহ নানা স্লোগান দেন।

    উল্লেখ্য, গত ১০ মে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করাসহ তিন দাবিতে শাহবাগে অবরোধ চলাকালে জাতীয় সংগীত গাইতে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় তারা “ভুয়া ভুয়া” চিৎকার করতে থাকে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি।

    জাতীয় সংগীত অবমাননার ওই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে আজ রাজু ভাস্কর্যে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়ার এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

  • আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে সরকার

    আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে সরকার

    স্বৈরশাসন ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার যে দাবি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও জনগণের পক্ষ থেকে উঠেছে তা সরকার গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। এ ব্যাপারে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ইতোমধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করেছে, তাদের সাথে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

    শুক্রবার (৯ মে) দুপুরে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজে এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে— আওয়ামী লীগের নেতা ও সমর্থকদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিষয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন সরকার বিবেচনায় রাখছে। সে পর্যন্ত সকলকে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানাচ্ছে। উল্লেখ্য যে, ইতোমধ্যে সরকার জনদাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রচলিত আইনের অধীনে সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করেছে।

    এছাড়া, সরকারের পক্ষ থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    ফ্যাসিবাদী সরকারের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও হত্যা মামলার আসামি আবদুল হামিদের বিদেশ গমন সম্পর্কে জনমনে ক্ষোভের বিষয়ে সরকার অবগত। এ ঘটনার সাথে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনগত ব্যবস্থা নিতে সরকার বদ্ধপরিকর।

    উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকারী আবদুল হামিদ বুধবার দিবাগত রাতে দেশ ত্যাগ করার পর বৃহস্পতিবার রাত থেকে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে অবস্থান করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা। শুক্রবার জুমার নামাজের পর সেখানে সমাবেশ শুরু হয়েছে।

  • ভারত-পাকিস্তান সংঘাত, বাংলাদেশের অবস্থান কী হবে?

    ভারত-পাকিস্তান সংঘাত, বাংলাদেশের অবস্থান কী হবে?

    ভারত-পাকিস্তান সংঘাত হচ্ছে এমন এক সময়, যখন দেশ দুটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ‘স্পর্শকাতর’ অবস্থায় রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তারা বলছেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের টানাপোড়েন রয়েছে।আর দীর্ঘ সময় পর পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক তৈরি করছে বাংলাদেশ। ফলে কোনো দিকে ঝুঁকে পড়লে, সেটা বাংলাদেশের জন্য নেতিবাচক হবে। অন্যদিকে, সংঘাত যদি প্রলম্বিত হয় এবং এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়, তাহলে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের জন্য এর প্রভাব বেশি হবে। প্রশ্ন হচ্ছে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অবস্থান কী হবে?

    নিরাপত্তা বিশ্লেষক, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ন ম মুনীরুজ্জামান বলেছেন, বাংলাদেশ সরকারের বক্তব্য-বিবৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থানে থাকা প্রয়োজন। কোনো পক্ষের প্রতি সমর্থন প্রকাশ পেলে, তা অন্য পক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যদিও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম যে প্রতিক্রিয়া এসেছে, তাতে অবশ্য সতর্ক অবস্থানই প্রকাশ পেয়েছে।

    ভারত-পাকিস্তান, দুই দেশকেই সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য কূটনৈতিকভাবে উত্তেজনার অবসান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ঢাকা। দেশ দুটির সঙ্গে সম্পর্কের বিষয় ছাড়াও বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানিসহ ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আকাশপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়বে, সে ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তুতি কী আছে-এ প্রশ্নও রয়েছে বিশ্লেষকদের।

    বাংলাদেশের সতর্ক অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন
    বাংলাদেশে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের শাসনের পতনের পর গঠিত হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। শুরু থেকেই এ সরকারের সঙ্গে ভারত সরকারের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। অন্তর্বর্তী সরকারের নয় মাসেও সেই টানাপোড়েন কমার কোনো ইঙ্গিত নেই।

    তবে দেড় দশকেরও বেশি সময় পর পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক তৈরি করছে বাংলাদেশ। এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় সাবেক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা দেশ দুটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে ‘স্পর্শকাতর অবস্থায়’ বলে উল্লেখ করছেন। তারা বলছেন, এখন দুই দেশের সংঘাতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার যদি পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকে পড়ে, তাহলে ভারতের সঙ্গে এ সরকারের সম্পর্কে আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    আবার ভারতের দিকে ঝুঁকলেও সমস্যা পড়তে হবে বাংলাদেশকে। কারণ এর প্রভাব পড়তে পারে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে। এছাড়া বর্তমানে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারত বিরোধী শক্তিগুলোর প্রভাব বেড়েছে; তারা অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে। তাদের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

    এমন বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত-পাকিস্তানের এই সংঘাতে বাংলাদেশের সতর্ক ও নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন। নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মুনীরুজ্জামানের পাশাপাশি চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বাস্তবতাকে বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলছেন।

    তারা মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক অবস্থানে থেকে কৌশল ঠিক করতে হবে। অতীতেও বিভিন্ন সময় ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সরকারগুলো সতর্ক ও কূটনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকার চেষ্টা করেছে। এমনকি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শাসনের সময়ও যখন ২০১৯সালে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা, সংঘাত হয়েছিল, বাংলাদেশের সেই সরকারও সতর্ক ও নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে বক্তব্য-বিবৃতি দিয়েছিল বলে বিশ্লেষকেরা বলছেন। যদিও আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।

    ভারত-পাকিস্তান পরিস্থিতিতে নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থানের ব্যাপারে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক নীতিনির্ধারকরা বলছেন, তারা পরিস্থিতির প্রভাব ও বাস্তবতা সম্পর্কে সতর্ক থেকেই প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন।

    কী বলতে চাইছে বাংলাদেশ
    বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ দুই দেশকেই সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। গতকাল বুধবার অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেছেন, উভয়পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি বাংলাদেশ মনে করে কূটনৈতিক দিক থেকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত। ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা নিরসন করে শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল অবস্থানে ফিরে আসবে বলে বাংলাদেশ আশা করে।

    বুধবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো একটি বিবৃতিও দেওয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যেকার পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ। সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। উভয় দেশকে বাংলাদেশ অনুরোধ করেছে যেন তারা শান্ত থাকে, ধৈর্য প্রদর্শন করে এবং পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে, এমন পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত থাকে।’বাংলাদেশ আশা করছে, আঞ্চলিক শান্তি, উন্নতি এবং স্থিতিশীলতার জন্য কূটনৈতিকভাবে এই উত্তেজনার অবসান হবে।

    বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন, ভারত, পাকিস্তানের এই সংঘাতে বাংলাদেশে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। এরপরও বংলাদেশের পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে ভারতের আকাশপথে কোনো সমস্যা হয় কি না, সেটা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

    বাংলাদেশের জন্য প্রভাব বেশি হবে কেন
    ভারত-পাকিস্তানের যে অঞ্চলে সংঘাত হচ্ছে, সেই অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত নেই। ফলে বাংলাদেশের জন্য এই সংঘাতের সরাসরি কোনো প্রভাব দেখছেন না বিশ্লেষকদের অনেকে। তবে সংঘাত যদি প্রলম্বিত হয় এবং পরিস্থিতি যুদ্ধে রুপ নেয়, তখন দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা প্রশ্নে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, বিশ্লেষকেরা এমন আশঙ্কার কথাও বলছেন। আর অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হলে এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের ওপরই প্রভাব বেশি পড়বে। এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জেনারেল মুনীরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের তিন দিকেই ভারতের সীমান্ত। সেটি নিরাপত্তার দিক থেকে একটি বড় বিষয়।

    এছাড়া আকাশপথে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য ভারত ও পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে হয়। এই বাণিজ্য এবং যাত্রীবাহী বিমান চলাচলেও প্রভাব পড়বে। আকাশপথ নিরাপত্তার প্রশ্নে বিকল্প রুট ব্যবহার করতে হবে। ইতিমধ্যে বুধবার ঢাকামুখী ও ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া কয়েকট ফ্লাইট পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার না করে ভিন্ন রুটে চলাচল করেছে। এতে এসব ফ্লাইটের গন্তব্যে পৌঁছুতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে আকাশপথে চলাচলে সময় বেশি প্রয়োজন হবে, অন্যদিকে আমদানি-রপ্তানিতে ব্যয় বাড়বে। তখন পণ্যের দাম বাড়বে এবং এর প্রভাব পড়বে ভাক্তা পর্যায়ে। এ অঞ্চলের অন্য দেশগুলোও সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির ক্ষেত্রে চাপে পড়তে পারে বলেও বিশ্লেষকেরা মনে করেন। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কেউ কেউ আবার বাংলাদেশের জন্য ভিন্ন একটা বিষয় তুলে ধরছেন।

    তারা বলছেন, বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তের সাথে ভারতের সাতটি অঙ্গরাজ্য আছে। সেগুলোতে যদি ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের কোনো প্রভাব পড়ে এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখন এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদশে। ফলে নিরাপত্তার প্রশ্নে উদ্বেগের বিষয় এখানে রয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা এবং নিরাপত্তার প্রশ্নে বাাংলাদেশের প্রস্তুতি রাখাা প্রয়োজন বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

    সংঘাতের প্রভাবের প্রশ্নে বাংলাদেশের প্রস্তুতি কতটা
    ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিবৃতি যে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে, তাতে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি ভারত পাকস্তানের সংঘাত যাত না বাড়ে, সেজন্য দুই দেশকেই সংযত হতে বলা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বাংলাদেশের এই বক্তব্যকে রুটিন বিবৃতি হিসেবে দেখছেন। তাদের কথায়, সাধারণত কূটনৈতিক দিক থেকে এ ধরনের বিবৃতি দেওয়া হয়। কিন্তু পরিস্থিতির প্রভাব সামলাতে কী প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বা কৌশল কী হচ্ছে-সেটা বলেনি বাংলাদেশ সরকার।

    যদিও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেছেন, আমদানি, রপ্তানি ও আকাশপথে চলাচলে কী প্রভাব পড়তে পারে, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং একটা প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। তবে আসলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তুতি কতটা আছে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে বিশ্লেষকদের।

  • ছাত্রলীগের পর এবার ছাত্রদলের ‘প্রচার সম্পাদক’ সাকিব আল হাসান

    ছাত্রলীগের পর এবার ছাত্রদলের ‘প্রচার সম্পাদক’ সাকিব আল হাসান

    কলেজ ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক ছিলেন সাকিব আল হাসান রাফি। সংগঠনটি নিষিদ্ধ হলেও এখনও কমিটি বহাল। সম্প্রতি কলেজটিতে কমিটি ঘোষণা করেছে ছাত্রদল। সেই কমিটিতেও আছে সাকিব আল হাসান রাফির নাম। পদও আছে আগের মতোই ‘প্রচার সম্পাদক’।

    এমন ঘটনা ঘটেছে পটুয়াখালীর মহিপুর থানার মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ছাত্রদলের নেতারা।

    গত ৬ মে কলেজ শাখা ছাত্রদলের ১০ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়।

    জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শামীম চৌধুরী ও সদস্য সচিব জাকারিয়া আহম্মেদ কমিটির অনুমোদন দেন।
    কমিটিতে সাকিব আল হাসান রাফি ছাড়াও আরো দুই-একজনের বিরুদ্ধে বিগত সময়ে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    বিষয়টি নিয়ে গতকাল বুধবার কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন কলেজ ছাত্রদলের নতুন কমিটির একাংশ। সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র সহসভাপতি রাইসুল ইসলাম রুপু বলেন, ‘এই কমিটিতে যারা বছরের পর বছর ছাত্রদলের রাজনীতি করেছে, তাদের মূল্যায়ন হয়নি।

    একটি পক্ষ চক্রান্ত করে বিতর্কিত লোকজনকে বসিয়েছে। আমরা এই কমিটি বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।’

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নতুন সভাপতি রবিউল ইসলামও। তিনি বলেন, ‘ফেসবুকে যে ছবিগুলো ছড়ানো হয়েছে, সেগুলো আমাকে দিয়ে জোর করে তোলা হয়েছিল। আমি অনেক আগে থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এসব ছবি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ।’

  • প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্তঃবিভাগ অনলাইন বদলি কার্যক্রম শুরু আজ

    প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্তঃবিভাগ অনলাইন বদলি কার্যক্রম শুরু আজ

    আজ থেকে শুরু হচ্ছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের আন্তঃবিভাগ অনলাইন বদলি কার্যক্রম। যা চলবে আগামী ২৩ মে পর্যন্ত। এসময়ের মধ্যে নির্ধারিত সময়সূচি ও নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষকরা অনলাইনে বদলির আবেদন করতে পারবেন। যা পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন স্তরে যাচাই ও অনুমোদনের মধ্য দিয়ে বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। বুধবার (৭ মে) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) মাহফুজা খাতুনের সই করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গত ৬ মের একটি নির্দেশনার ভিত্তিতে বদলি কার্যক্রমের সময়সূচি ও নিয়মাবলির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৮ মে থেকে ১০ মে পর্যন্ত সহকারী শিক্ষকরা অনলাইনে বদলির আবেদন করতে পারবেন। পরবর্তী ধাপে প্রধান শিক্ষক, সহকারী উপজেলা বা থানা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা বা থানা শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং বিভাগীয় উপপরিচালক পর্যায়ক্রমে যাচাই ও অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করবেন। এই অনলাইন বদলি কার্যক্রমের পুরো প্রক্রিয়া ২৩ মের মধ্যে শেষ হবে। আর ২০ মে আবেদনগুলোর স্বয়ংক্রিয় মনোনয়ন সম্পন্ন হবে এবং ২১ মে থেকে ২৩ মে পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এসব আবেদন যাচাই করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন।

    প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, বদলির জন্য শিক্ষকরা সর্বোচ্চ তিনটি বিদ্যালয় পছন্দক্রমে নির্ধারণ করতে পারবেন। তবে কেউ চাইলে একটি বিদ্যালয়ও নির্বাচন করতে পারবেন। একবার বদলির আদেশ জারি হলে তা বাতিলের জন্য পরবর্তীতে কোনো আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না। এক্ষেত্রে, বদলি কার্যক্রমের যাচাই-বাছাই সম্পূর্ণরূপে ‘সমন্বিত অনলাইন বদলি নির্দেশিকা ২০২৩’ অনুসরণ করে করতে হবে। আবেদন যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সতর্কতার সঙ্গে আবেদন ও কাগজপত্র যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাচাই শেষ করা আবেদন পরবর্তীতে আর পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকবে না।

    অন্যদিকে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ২১৬টি উপজেলা ও থানায় ইতোমধ্যেই ১০ শতাংশের বেশি শিক্ষক অন্যান্য উপজেলা থেকে বদলি হয়ে এসেছেন। তাই এসব উপজেলা বর্তমানে আন্তঃবিভাগ অনলাইন বদলির আওতাভুক্ত থাকবে না। তবে বাকি ২৭১টি উপজেলা ও থানায় এই কার্যক্রম চলমান থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

  • প্রতারণার অভিযোগে নারী চিকিৎসককে টেনে-হিঁচড়ে সড়কে এনে মারধর

    প্রতারণার অভিযোগে নারী চিকিৎসককে টেনে-হিঁচড়ে সড়কে এনে মারধর

    কুষ্টিয়ায় শারমিন সুলতানা নামের এক নারী চিকিৎসককে তার চেম্বার থেকে টেনে-হিঁচড়ে সড়কে এনে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। প্রতারণার নানা অভিযোগ এনে একদল নারী ওই চিকিৎসককে মারধর করেন। পরে পুলিশ এসে চিকিৎসককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

    সোমবার (৫ মে) দুপুরে শহরের লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। চিকিৎসক শারমিন সুলতানার স্বামীও কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অর্জন দাস আগরওয়ালা সড়কে লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়মিত রোগী দেখেন চিকিৎসক শারমিন সুলতানা। আজ দুপুরে চেম্বারে আসার পর আগে থেকে সেখানে অবস্থান করা একদল নারী তার ওপর হামলা করে। ৬-৭ জন নারী এতে অংশ নেয়। এ সময় চেম্বার থেকে টেনে-হিঁচড়ে সড়কের ওপর নিয়ে আসে তারা।

    হামলার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ৫ মিনিটের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ৬-৭ জন নারী ভুক্তভোগী চিকিৎসক শারমিন সুলতানাকে টেনে-হিঁচড়ে সড়কের ওপর নিয়ে আসছে। সেখানে তাকে মারধর করা হচ্ছে।

    নারীদের কয়েকজন অভিযোগ করে, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে বিদেশে লোক পাঠানো ও চাকরি দেওয়ার কথা বলে তাদের মাধ্যমে টাকা নেন ওই চিকিৎসক। পরে চাকরি দিতে পারেননি ওই নারী চিকিৎসক। আবার টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না। এ কারণে তাকে ধরতে এসেছেন তারা।

    লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কয়েকজন কর্মচারী জানান, তারা ঠেকানোর চেষ্টা করলে ওই নারীরা হামলা চালায়। স্থানীয়রা ইন্ধন দিয়ে নারীদের দিয়ে হামলা চালিয়েছে। চিকিৎসককে বেদম মারধর করা হয়েছে। তাদের যদি কোনো অভিযোগ থাকে পুলিশকে জানাতে পারত।

    এ দিকে হামলার সময় পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে কুষ্টিয়া মডেল থানা থেকে পুলিশের একটি দল এসে চিকিৎসক শারমিন সুলতানাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে চিকিৎসকরা ভিড় করেন।

    চিকিৎসক শারমিন সুলতানার স্বামী কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মাসুদ রানা বলেন, ‘আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। আমার স্ত্রী কোনো দিন মেহেরপুরে যাইনি। ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক আমার স্ত্রীকে রোগী দেখার জন্য কল করে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই ওইসব নারীরা বসেছিল। এরপর তারা হামলা করে। আমি খবর শুনে সেখানে গেলে আমার ওপরও হামলার চেষ্টা চালানো হয়। আমি সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

    কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, নারী চিকিৎসককে মারধর করা হচ্ছে এমন খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনাস্থল থেকে নারী চিকিৎসককে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। যেসব অভিযোগে তার ওপর হামলা হয়েছে তার স্বপক্ষে কোনো কাগজপত্র আছে কি-না সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • দাওরার সনদের নিয়ে ধর্ম উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক

    দাওরার সনদের নিয়ে ধর্ম উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক

    ‘দাওরায়ে হাদীস’ সনদধারীদেরকে সরকারি বেসরকারি কর্মক্ষেত্রগুলোতে চাকরির সুযোগ প্রদানের এবং দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ প্রদান এবং দাওরায়ে হাদীসের সনদের মান কার্যকর করার বিষয়ে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ.ফ.ম. খালিদ হোসেনের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন আল-হাইআতুল উলইয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের নয় সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রতিনিধিদল।

    আজ (৫ মে) সোমবার দুপুর ২টায় সচিবালয়ে ধর্ম উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। হাইআতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা শায়খ সাজিদুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ছিলেন হাইআতুল উলইয়ার সদস্য মাওলানা মুফতি আরশাদ রাহমানী, হাফিজ মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন আহমদ গহরপুরী, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা আব্দুল বছীর, মুফতি মোহাম্মাদ আলী এবং মাওলানা নেয়ামাতুল্লাহ আল ফরীদী।

    এর আগে বেলা ১১টায় সংস্থাটির কার্যালয়ে ‘দাওরায়ে হাদীসের সনদ কার্যকরকরণ বিষয়ক সাবকমিটি’র সভায় সভাপতির বক্তব্যে হাইআতুল উলইয়ার চেয়ারম্যান মাওলানা মাহমুদুল হাসান বলেন, কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স) উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা দেশের আদর্শ নাগরিক। দেশের সেবা করার সুযোগ এবং দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তাদের একটি ন্যায্য অধিকার ও ন্যায়সঙ্গত দাবি।

    ‘দাওরায়ে হাদীসের সনদ কার্যকরকরণ বিষয়ক সাবকমিটি’ দাওরায়ে হাদীস সনদধারীদেরকে দেশসেবায় চাকরির সুযোগ দিতে প্রাথমিকভাবে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রগুলোকে চিহ্নিত করে :

    • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষক পদে নিয়োগদান;
    • ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বিভিন্ন ইসলামী গবেষণা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগদান;
    • মডেল মসজিদসহ সরকারি মসজিদ এবং সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহের মসজিদের ইমাম ও খতিব পদে নিয়োগদান;
    • সামরিক, আধাসামরিক বাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীতে ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগদান;
    • জেলখানার ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগদান;
    • মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজি) পদে নিয়োগদান।

    সাবকমিটির সভায় কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স) উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদেরকে উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ‘ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি’ বিষয়ে এমফিল ও পিএইচডি করার এবং ‘ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি’ ব্যতীত অন্য যে কোন বিষয়ে মাস্টার্সে ভর্তির সুযোগদান অতীব প্রয়োজনীয় মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় প্রাথমিকভাবে সরকারের ধর্ম উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের এবং পরবর্তীতে শিক্ষা উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

    হাইআতুল উলইয়ার উপরোক্ত প্রস্তাবনাগুলোকে স্বাগত জানান ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ.ফ.ম. খালিদ হোসেন। ‘দাওরায়ে হাদীসের সনদ কার্যকরকরণ বিষয়ক সাবকমিটি’র অদ্যকার সভায় কওমি মাদরাসার স্বকীয়তা ও বৈশিষ্ট অক্ষুন্ন রাখার উপর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। কওমি মাদরাসাগুলোকে সব ধরনের সরকারী হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত রাখতে সভায় দারুল উলূম দেওবন্দের আট মূলনীতি কঠোরভাবে পালনের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।

  • আজ থেকে টানা কর্মবিরতিতে প্রাথমিকের শিক্ষকরা

    আজ থেকে টানা কর্মবিরতিতে প্রাথমিকের শিক্ষকরা

    ১১তম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা দাবিতে সারা দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা টানা কর্মবিরতিতে। ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’ এ কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে।

    আজ সোমবার (৫ মে) থেকে তাদের এ কর্মসূচি শুরু হবে। এ কর্মসূচি চলবে আগামী ১৫ মে পর্যন্ত। প্রথম দফায় তারা প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করবেন।

    এর আগে, গত ২৪ এপ্রিল গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে সরকারের কাছে দাবি-দাওয়া জানিয়েছিলেন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের নেতারা। সেখানে তারা ৪ মে’র মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ৫ মে থেকে সারাদেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টানা কর্মবিরতির ঘোষণা দেন।

    বেঁধে দেওয়া সময়ে দাবি মেনে না নেওয়ায় সোমবার থেকে সহকারী শিক্ষকরা এক ঘণ্টার কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ঐক্য পরিষদের অন্যতম নেতা মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সারাদেশে ৬৫ হাজার ৬২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে পৌনে ৪ লাখের মতো শিক্ষক আছেন। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকদের বর্তমান বেতন ১১তম গ্রেড। আর সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১৩তম গ্রেড।

    এর আগে গত ১৩ মার্চ উচ্চ আদালত এক রায়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩০ হাজার প্রধান শিক্ষককে দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তার মর্যাদা দেন। সেইসঙ্গে তাদের বেতন ১০ম গ্রেডে নির্ধারণের নির্দেশ দেন।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, আদালতের নির্দেশে প্রধান শিক্ষকদের বেতন গ্রেড এক ধাপ উন্নীত হয়েছে। এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড এক ধাপ উন্নীত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে সরকার গঠিত কমিটির প্রতিবেদনেও সুপারিশ রয়েছে।

  • হাসনাতের গাড়িতে হামলায় আটক ১২

    গাজীপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং তার সহযোগীদের ওপর হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন ১২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে, সোমবার (৫ মে) সকাল পর্যন্ত তাদের কাউকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।

    গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, আটককৃতদের রবিবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং সোমবার সকালে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।

    এর আগে, হাসনাত আব্দুল্লাহর গাড়িতে হামলার ঘটনায় ৪ জনকে আটকের কথা জানায় জিএমপি কমিশনার ডিআইজি ড. মো. নাজমুল করিম খান।

    আটকদের মধ্যে দু’জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন- গাজীপুর মহানগর যুবলীগের সদস্য মো. নিজাম উদ্দিন এবং কাশিমপুর থানার শেখ রাসেল শিশু কিশোর পরিষদের সভাপতি মাসুম আহমেদ দিপু। তবে আটক বাকি দু’জনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    পুলিশের দাবি, নিজাম উদ্দিন গাজীপুর মহানগরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগ নেতা। এছাড়া মাসুম কাশিমপুর থানার শেখ রাসেল শিশু কিশোর পরিষদ নামের একটি সংগঠনের সভাপতি।

    রবিবার সন্ধ্যায় এক ফেসবুক পোস্টে হাসনাতের ওপর হামলার কথা জানান এনসিপি’র আরেক মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। হাসনাতের লোকেশন জানিয়ে তাকে উদ্ধারে দলের নেতাকর্মীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আহ্বান জানান তিনি।

    এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানান, ঢাকার দিকে আসার সময় গাজীপুরে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় পেছন থেকে ১০-১২টা মোটরসাইকেল এসে হাসনাতের ওপর হামলা করে। এতে তিনি আহত হন। এখন হাসনাত ঢাকায় ফিরছেন।