Category: প্রধান সংবাদ

  • যুবশক্তির আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা

    যুবশক্তির আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুব সংগঠন ‘জাতীয় যুবশক্তি’র আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে দলটি।

    শুক্রবার (১৬ মে) বিকেলে রাজধানীর গুলিস্তানের আবরার ফাহাদ এভিনিউতে দলটির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আহ্বায়ক কমিটির নতুন নেতাদের নাম ঘোষণা করেন।

    ঘোষিত কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এ্যাড মো. তরিকুল ইসলাম, সদস‍্য সচিব হয়েছেন ডা. জাহিদুল ইসলাম এবং মুখ‍্য সংগঠক হয়েছেন ইন্জি. ফরহাদ সোহেল।

    জানা গেছে, দলটির আহ্বায়ক কমিটির পূর্নাঙ্গ কমিটি হবে ১৩১ সদস‍্যের।

    এর আগে বিকেলে জাতীয় সংগীত ও কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান শুরু হয়।

    অনুষ্ঠানের মঞ্চে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন ডকুমেন্টারি প্রচার করা হয়। গণঅভ্যুত্থানের সময়ের বিভিন্ন স্লোগানের পাশাপাশি মঞ্চে গান পরিবেশন করা হয়।

  • গণঅনশনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

    গণঅনশনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

    তৃতীয় দিনের মতো চার দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখের কাকরাইল মোড়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা।

    শুক্রবার (১৬ মে) বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে গণঅনশন কর্মসূচি শুরু করেন তারা। এতে যোগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীরা।

    এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন শিক্ষক সমিতির মুখপাত্র ও ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মোর্শেদ ভূইঁয়া। তিনি বলেন, আমরা যখন ক্যাম্পাস থেকে এসেছি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এখান থেকে ফিরবো না। এই মুহূর্ত থেকে আমাদের গণঅনশন শুরু হলো।

    এর আগে বিকাল ৩টায় সমাবেশে ‘জবি ঐক্যের’ পক্ষ থেকে গণঅনশনের ঘোষণা দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহতাব লিমন। তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলন এমন জায়গায় এসে পৌঁছেছে আমাদের আর পেছনে ফেরার জায়গা নেই। আমরা বিকেল সাড়ে তিনটায় অনশন কর্মসূচি শুরু করব। বিজয় না নিয়ে আমরা ফিরছি না।

    এর আগে শুক্রবার সকালে কাকরাইলে আন্দোলনস্থলে সমবেশ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা।

    সরেজমিনে দেখা যায়, দাবি আদায়ে তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলন করছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কিছুক্ষণ পর পর ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। আবার কেউ কেউ ছোট ছোট মিছিল নিয়ে আসছেন কাকরাইল মোড়ে। জানাচ্ছেন আন্দোলনরতদের সঙ্গে সংহতি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এতে মুখরিত হয়ে উঠেছে কাকরাইল মোড়।

    ‘ইউজিসির কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’ ‘আমার ভাই আহত কেন, মাহফুজ তুই জবাব দে’ ‘আমার বোন আহত কেন, মাহফুজ তুই জবাব দে’, ‘১, ২, ৩, ৪ ক্যাম্পাস আমার অধিকার, ‘বৈষম্যের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ক্ষমতা না জনতা জনতা, জনতা জনতা’।

    এছাড়া ‘তুমি কে, আমি কে? জবিয়ান জবিয়ান’, সিন্ডিকেটের আস্তানা ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও, জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’, দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত, ‘রক্ত লাগলে রক্ত নে, তবু মোদের হল দে’, ‘আইসা পড়ছি যমুনা, খালি হাতে যামু না’, ‘পুলিশ দিয়ে আন্দোলন, বন্ধ করা যাবে’সহ নানা স্লোগান দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

    প্রসঙ্গত, গত বুধবার (১৪ মে) সকাল ১১টায় তিন দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের উদ্দেশ্যে লং মার্চ শুরু করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। লং মার্চটি গুলিস্তান, মৎস্য ভবন পার হয়ে কাকরাইল মসজিদের সামনে পৌঁছালে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে লং মার্চে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর। এ সময় ছত্রভঙ্গ করতে গরম পানি ছোড়ে পুলিশ। শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

    পরবর্তীতে রাতে উপদেষ্টা মাহফুজ সামনে এসে ব্রিফিং করতে আসেন। তার ব্রিফিংয়ে অসন্তুষ্ট হন শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা উপদেষ্টা মাহফুজকে উদ্দেশ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। বক্তৃতার একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে একজন তাকে লক্ষ্য করে বোতল ছুড়ে মারেন। এতে উপদেষ্টা মাহফুজ রাগান্বিত হয়ে ব্রিফিং বন্ধ করে চলে যান।

    এছাড়াও গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রইস উদ্দিন। ওইদিন রাতেই তিনি দাবি না মানলে গণঅনশন কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

    এদিকে তিনদফা দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করলেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি হামলার পর শিক্ষার্থীদের আগের তিন দফা দাবির সঙ্গে নতুন আরও এক দাবি যুক্ত হয়েছে।

    শিক্ষার্থীদের বর্তমান চার দফা দাবি হলো-

    • বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে আবাসন বৃত্তি চালু করা,
    • জবির প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কাটছাঁট না করে অনুমোদন,
    • দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ একনেক সভায় পাস ও বাস্তবায়ন।
    • ১৪ মে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অতর্কিত হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
  • উপদেষ্টা মাহফুজকে বোতল ছোঁড়া সেই জবি ছাত্র আটক, ডিবিতে জিজ্ঞাসাবাদ

    উপদেষ্টা মাহফুজকে বোতল ছোঁড়া সেই জবি ছাত্র আটক, ডিবিতে জিজ্ঞাসাবাদ

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আন্দোলনের মধ্যে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকে উদ্দেশ্য করে ভরা পানির বোতল ছুড়ে মারা সেই যুবককে আটক করেছে ডিবি পু্লিশ। বর্তমানে ডিবি কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

    শুক্রবার (১৬ মে) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ তালিবুর রহমান।

    তিনি জানিয়েছেন, ‘এ ঘটনায় একজন যুবককে আটক করা হয়েছে। তাকে ডিবি কার্যালয়ে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে তার অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

    এর আগে বুধবার রাতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে যান উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। কিছু সময় পর হঠাৎই একটি ভরা পানির বোতল উড়ে এসে তার মাথায় পড়ে। এরপর কথা শেষ না করেই চলে যান মাহফুজ।

    জানা গেছে, বোতল ছুড়ে মারা ওই যুবকের নাম ইশতিয়াক হোসেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ১৯তম ব্যাচের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

    যদিও এ ঘটনায় ওই যুবকের দাবি, তিনি মাহফুজকে উদ্দেশ্য করে বোতল ছুড়ে মারেননি। আন্দোলনের তাৎক্ষণিক উত্তেজনায় বোতলটি তিনি উপরের দিকে মেরেছিলেন, দুর্ভাগ্যক্রমে সেটি উপদেষ্টার মাথায় গিয়ে পড়ে।

  • উড্ডয়নকালে খুলে পড়ল বিমানের চাকা, ঢাকায় নিরাপদে অবতরণ

    উড্ডয়নকালে খুলে পড়ল বিমানের চাকা, ঢাকায় নিরাপদে অবতরণ

    কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়নকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক উড়োজাহাজের একটি চাকা খুলে পড়ে গেছে। তবে শিশুসহ ৭১ যাত্রী নিয়ে ওই ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।

    শুক্রবার (১৬ মে) দুপুর ২টা ১৭ মিনিটে এটি ঢাকায় নিরাপদে অবতরণ করে বলে জানিয়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) এবিএম রওশন কবীর।

    খুলে পড়ে যাওয়া বিমানের চাকা। ছবি সংগৃহীত

    তিনি বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে থেকে আকাশে ওড়ার পরই পেছনের একটি চাকা খুলে নিচে পড়ে যায়। ফ্লাইটটির ইমারজেন্সি ঘোষণা করা হয়েছে।

    পরে পেছনের এক চাকাতে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ছাড়াই বিমানটি জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানান তিনি।

    এর আগে শুক্রবার (১৬ মে) দুপুর দুইটার দিকে শাহজালাল বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করেছে বিজি ৪৩৬ (ড্যাশ ৮-৪০০) ফ্লাইটটি।

    বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের ফ্লাইটটির পাইলট উড্ডয়নের পরপরই ঢাকার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে (এটিসি) জানান, তিনি জরুরি অবতরণ করতে চাচ্ছেন। পাইলটের বার্তা পাওয়ার পরপরই ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর জরুরি অবতরণের প্রস্তুতি নেয়। প্রস্তুত রাখা হয় ফায়ার সার্ভিস।

  • জবি শিক্ষক সমিতির সঙ্গে বৈঠকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়-ইউজিসি

    জবি শিক্ষক সমিতির সঙ্গে বৈঠকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়-ইউজিসি

    চার দফা দাবিতে টানা তিনদিন ধরে আন্দোলনরত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের দাবিকে কেন্দ্র করে শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে মিটিংয়ে বসেছেন বৈঠকে বসেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নেতারা।

    শুক্রবার (১৬ মে) দুপুরে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কার্যালয়ে এই বৈঠকে অংশ নেন জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইস উদ্দিন, ড. বেলাল হোসাইনসহ একটি প্রতিনিধি দল।

    এর আগে শুক্রবার সকালে কাকরাইলে আন্দোলনস্থলে সমবেশ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। জুমার পর থেকে আন্দোলরত শিক্ষার্থীদের গণঅনশন কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা।
    সরেজমিনে দেখা যায়, দাবি আদায়ে তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলন করছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কিছুক্ষণ পর পর ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। আবার কেউ কেউ ছোট ছোট মিছিল নিয়ে আসছেন কাকরাইল মোড়ে। জানাচ্ছেন আন্দোলনরতদের সঙ্গে সংহতি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এতে মুখরিত হয়ে উঠেছে কাকরাইল মোড়।

    ‘ইউজিসির কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’ ‘আমার ভাই আহত কেন, মাহফুজ তুই জবাব দে’ ‘আমার বোন আহত কেন, মাহফুজ তুই জবাব দে’, ‘১, ২, ৩, ৪ ক্যাম্পাস আমার অধিকার, ‘বৈষম্যের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ক্ষমতা না জনতা জনতা, জনতা জনতা’।

    এছাড়া ‘তুমি কে, আমি কে? জবিয়ান জবিয়ান’, সিন্ডিকেটের আস্তানা ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও, জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’, দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত, ‘রক্ত লাগলে রক্ত নে, তবু মোদের হল দে’, ‘আইসা পড়ছি যমুনা, খালি হাতে যামু না’, ‘পুলিশ দিয়ে আন্দোলন, বন্ধ করা যাবে’সহ নানা স্লোগান দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

    প্রসঙ্গত, গত বুধবার (১৪ মে) সকাল ১১টায় তিন দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের উদ্দেশ্যে লং মার্চ শুরু করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। লং মার্চটি গুলিস্তান, মৎস্য ভবন পার হয়ে কাকরাইল মসজিদের সামনে পৌঁছালে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে লং মার্চে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর। এ সময় ছত্রভঙ্গ করতে গরম পানি ছোড়ে পুলিশ। শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

    পরবর্তীতে রাতে উপদেষ্টা মাহফুজ সামনে এসে ব্রিফিং করতে আসেন। তার ব্রিফিংয়ে অসন্তুষ্ট হন শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা উপদেষ্টা মাহফুজকে উদ্দেশ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। বক্তৃতার একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে একজন তাকে লক্ষ্য করে বোতল ছুড়ে মারেন। এতে উপদেষ্টা মাহফুজ রাগান্বিত হয়ে ব্রিফিং বন্ধ করে চলে যান।

    এছাড়াও গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রইস উদ্দিন।

    শিক্ষার্থীদের প্রথম তিন দফা দাবি হলো-বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে আবাসন বৃত্তি চালু করা, জবির প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কাটছাঁট না করে অনুমোদন, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ একনেক সভায় পাস ও বাস্তবায়ন। এদিকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি হামলার শিক্ষার্থীদের আগের তিন দফা দাবির সঙ্গে নতুন আরও এক দাবি যুক্ত হয়েছে। ১৪ মে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অতর্কিত হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

  • সাম্য হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

    সাম্য হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সকল আসামীর অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তারে প্রশাসনকে আগামী ৪৮ ঘণ্টা আল্টিমেটাম দিয়ে শাহবাগ থানা ঘেরাও করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

    শুক্রবার (১৬মে) বেলা সাড়ে ১১টায় ‘জাস্টিস ফর সাম্য’ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সাম্য হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষ করে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগ থানা ঘেরাও করে।

    এসময় তারা ‘আমার ভাই মরলো কেন? প্রশাসন জবাব চাই,’ ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস, জাস্টিস, জাস্টিস’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’ ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন,’ প্রভৃতি স্লোগান দেন।

    এর আগে রাজুতে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের দাবি খুবই স্পষ্ট- আমরা সাম্য হত্যার সঠিক বিচার চাই। কিন্তু, একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে প্রশাসন কীভাবে ঘুমায়? সেটা আমাদের মাথায় আসেনা। সেদিনের ঘটনায় বাংলা অ্যাকাডেমির সিসি ক্যামেরা, শমরিতা হাসপাতালের সিসি ক্যামেরা দেখলেই তো স্পষ্ট হওয়া যায় কারা খুনি। কিন্তু প্রশাসন কেন লুকাচ্ছে এসব? তাদের উদ্দেশ্যটা কী? তারা এটা নিয়ে প্রহসন চালাচ্ছে।

    আরেক শিক্ষার্থী বলেন, যদি সাম্যের আসামিদের গ্রেপ্তার না করা হয় তবে আমরা শাহবাগ থানার সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দিবো। আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার করতে হবে। আমার ভাইয়ের লাশের সাথে মকারি করা চলবে না।

    ঘেরাও চলাকালে বিক্ষোভকারীদের একটি প্রতিনিধিদল থানায় গিয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন।

    শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মনসুর সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা থানায় এসে তাদের দাবি জানিয়েছেন। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং আশ্বস্ত করেছি। এরপর তারা ফিরে গেছেন।’

    এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, অপরাধীদের গ্রেপ্তারে তাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

  • মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ‘নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রা’ আজ

    মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ‘নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রা’ আজ

    নারীর সম-অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় আজ শুক্রবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ‘নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রা’ অনুষ্ঠিত হবে।

    সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সভাপতি প্রকৌশলী শম্পা বসু ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট দিলরুবা নূরী এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা জানান।

    বিবৃতিতে বলা হয়, নারী বিদ্বেষী কর্মকাণ্ড, ধর্মান্ধ মৌলবাদীগোষ্ঠী নারীর প্রতি অবমাননার প্রতিবাদে সম-মর্যাদা ও সম-অধিকারের দাবিতে শুক্রবার (১৬ মে) বিকেল ৩টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। নেতারা নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রা সফল করার আহ্বান জানান।

    নেতারা সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সব সদস্য, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীসহ নারী-পুরুষ নির্বিশেষে গণতন্ত্রমনা সবাইকে এই সমাবেশে অংশ নিয়ে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে বেগবান করার আহ্বান জানান।

    এদিকে কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়েছে ৫১টি প্রগতিশীল নারী, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক, শ্রমিক ও পেশাজীবী সংগঠন।

    বৃহস্পতিবার (১৫মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির বিষয়ে তথ্য তুলে ধরেন আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত। বক্তব্য দেন গার্মেন্টস শ্রমিকনেতা মোশরেফা মিশু, জলি তালুকদার প্রমুখ।

    তাঁরা বলেন, জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে নারীদের সরব উপস্থিতি ও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা ও সামাজিক কাঠামো নারীদের সেই ভূমিকার স্বীকৃতি দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এ ছাড়া নারীরা শ্রমক্ষেত্র থেকে শুরু করে শিক্ষাঙ্গন, সংস্কৃতি ও প্রতিদিনের জীবনে যেভাবে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন, তার মূল্যায়ন এখনো পর্যাপ্ত নয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নারী শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী নারী, যৌনকর্মী ও ক্ষুদ্র জাতিসত্তার নারীদের ওপর যেসব নিপীড়ন চলছে, তার বেশির ভাগই থেকে যাচ্ছে বিচারহীন। পুঁজিবাদী রাষ্ট্রকাঠামো ও ধর্মীয় প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী যৌথভাবে নারীদের প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্যকে আরও শক্তিশালী করছে।

    আয়োজকেরা বলেন, ‘নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রা’ কর্মসূচি কেবল নারীদের স্বার্থরক্ষার জন্য নয়; বরং এটি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি আন্দোলনের অংশ। নারীমুক্তি শ্রমিক-মজুরের মুক্তি, জাতিসত্তার অধিকার, বাকস্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গেও জড়িত। তাই এ যাত্রা শুধু নারীরই নয়; বরং সব প্রগতিশীল শক্তির মিলনমঞ্চ।

    সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা সমাজের সব স্তরের মানুষকে এই যাত্রায় শামিল হওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় জানানো হয়, নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রায় সংহতি জানানো সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, নারীমুক্তি কেন্দ্র, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, হিল উইমেনস ফেডারেশন, আদিবাসী ইউনিয়ন, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন, বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চ, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম, বাংলাদেশ নারী জোট, নারী সংহতি, ছাত্র ফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী), তীরন্দাজ, শ্রমিক অধিকার আন্দোলন ইত্যাদি।

  • জবি শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জামায়াতের

    জবি শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জামায়াতের

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্র ও শিক্ষকদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    বৃহস্পতিবার (১৫ মে) রাতে দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি মাওলানা এ টি এম মা’ছুম এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান।

    বিবৃতিতে বলা হয়, কয়েক দিন ধরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা আবাসন–সংকটসহ কিছু দাবিতে আন্দোলন করছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

    ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে। শিক্ষাঙ্গনে অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি হওয়াটা কারও জন্যই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    মাওলানা এ টি এম মা’ছুম বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় ভুগছেন। বিশেষ করে আবাসন–সংকটের সমাধানে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

    তিনি বলেন, অতীতের কোনো সরকারও এসব সমস্যা সমাধান করেনি। তাই ছাত্র ও শিক্ষকরা তাদের ন্যায্য দাবির পক্ষে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।

    এ অবস্থায় ছাত্র–শিক্ষকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করা সরকারের দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল শিক্ষা পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ছাত্র-শিক্ষকদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

  • সকালে জবিয়ান সমাবেশ, জুম্মার পর গণঅনশন

    সকালে জবিয়ান সমাবেশ, জুম্মার পর গণঅনশন

    শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে আজ শুক্রবার জুম্মার নামজের পর থেকে গণঅনশন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

    বৃহস্পতিবার (১৫ মে) রাত ১২টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন নেতৃবৃন্দের মতামতের ভিত্তিতে ‘জবি ঐক্যের’ পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইছউদ্দীন এ ঘোষণা দেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কাকরাইল মোড়েই অবস্থান করবেন শিক্ষার্থীরা।

    অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন বলেন, আমরা সরকারের নিকট আমাদের অধিকার আদায়ের দাবি জানিয়েছিলাম। তারা আমাদের উপর হামলা চালিয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বেধড়ক মেরেছে কিন্তু আমাদের অধিকারের বিষয়ে কোন কর্নপাত করেনি। এমনকি ৩৫ ঘন্টা পার হলেও কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি প্রশাসন। সরকার থেকে কোন বার্তা আসেনি।

    তিনি বলেন, দাবি আদায়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কাল (আজ শুক্রবার) জুম্মার পরে গণঅনশন শুরু করবে। এতে সকল সাবেক ও বর্তমান জবিয়ানদের অংশ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিন শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে আন্দোলন স্থলে শুরু হবে জবিয়ান সমাবেশ শুরু হবে।

    একই সাথে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির আন্দোলনে পুলিশ কতৃক শিক্ষক শিক্ষার্থী, সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ১৪ মে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কালো দিবস পালনের ঘোষণা দেন তিনি।

    তিনি বলেন, এই রাজ পথেই আমরা কাল জুম্মার নামাজ আদায় করবো। আমি সকল সাবেক বর্তমান জবিয়ানদের আহ্বান জানাই এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার।

    এসময় শিক্ষার্থীরা ‘আবাসন চাই, বঞ্চনা নয়’, ‘বাজেট কাটছাঁট চলবে না’, ‘হামলার বিচার চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

    এর আগে গত বুধবার (১৪ মে) সকাল ১১টায় তিন দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের উদ্দেশ্যে লং মার্চ শুরু করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। লং মার্চটি গুলিস্তান, মৎস্য ভবন পার হয়ে কাকরাইল মসজিদের সামনে পৌঁছালে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে লং মার্চে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর। এ সময় ছত্রভঙ্গ করতে গরম পানি ছোড়ে পুলিশ। শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

    পরবর্তীতে রাতে উপদেষ্টা মাহফুজ সামনে এসে ব্রিফিং করতে আসেন। তার ব্রিফিংয়ে অসন্তুষ্ট হন শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা উপদেষ্টা মাহফুজকে উদ্দেশ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। বক্তৃতার একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে একজন তাকে লক্ষ্য করে বোতল ছুড়ে মারেন। এতে উপদেষ্টা মাহফুজ রাগান্বিত হয়ে ব্রিফিং বন্ধ করে চলে যান।

    এদিকে শিক্ষার্থীদের আগের তিন দফা দাবির সঙ্গে নতুন আরও এক দাবি যুক্ত হয়েছে। ১৪ মে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অতর্কিত হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

    এছাড়াও গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রইস উদ্দিন।

    তিনি বলেন, আমরা এখানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকার নিয়ে এসেছি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি আদায়ের জন্য এসেছি। আমাদের ওপর নির্বিচারে পুলিশ হামলা চালিয়েছে। এটি সম্পূর্ণ অন্যায়। আমরা কারও বিরুদ্ধে এখানে কথা বলতে আসিনি এবং কোনো ষড়যন্ত্র করতেও আসিনি। আমাদের অধিকার চাইতে এসেছি। দাবি আদায় না করে আমরা ঘরে ফিরবো না। দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন চলবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষা-পরীক্ষা কার্যক্রম চলবে না, দাবি আদায় করে আমরা ঘরে ফিরবো।

    শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি হলো-বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে আবাসন বৃত্তি চালু করা, জবির প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কাটছাঁট না করে অনুমোদন, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ একনেক সভায় পাস ও বাস্তবায়ন।

  • জার্মান ইউনিভার্সিটি বন্ধ ঘোষণা

    জার্মান ইউনিভার্সিটি বন্ধ ঘোষণা

    গাজীপুরে অবস্থিত জার্মান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। তবে কি কারনে বিশ্ববিদ্যালয়টি বন্ধ ঘোষণা করা হলো তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    বৃহস্পতিবার (১৫ মে) বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানানো হয়েছে। ৬ষ্ঠ জরুরি সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘অনিবার্য কারণবশত’ এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত সকল ছাত্রছাত্রী এবং কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জানানো যাচ্ছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। আগামী শুক্রবার (১৬ মে) থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।