নারীর সম-অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় আজ শুক্রবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ‘নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রা’ অনুষ্ঠিত হবে।
সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সভাপতি প্রকৌশলী শম্পা বসু ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট দিলরুবা নূরী এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, নারী বিদ্বেষী কর্মকাণ্ড, ধর্মান্ধ মৌলবাদীগোষ্ঠী নারীর প্রতি অবমাননার প্রতিবাদে সম-মর্যাদা ও সম-অধিকারের দাবিতে শুক্রবার (১৬ মে) বিকেল ৩টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। নেতারা নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রা সফল করার আহ্বান জানান।
নেতারা সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সব সদস্য, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীসহ নারী-পুরুষ নির্বিশেষে গণতন্ত্রমনা সবাইকে এই সমাবেশে অংশ নিয়ে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে বেগবান করার আহ্বান জানান।
এদিকে কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়েছে ৫১টি প্রগতিশীল নারী, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক, শ্রমিক ও পেশাজীবী সংগঠন।
বৃহস্পতিবার (১৫মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির বিষয়ে তথ্য তুলে ধরেন আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত। বক্তব্য দেন গার্মেন্টস শ্রমিকনেতা মোশরেফা মিশু, জলি তালুকদার প্রমুখ।
তাঁরা বলেন, জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে নারীদের সরব উপস্থিতি ও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা ও সামাজিক কাঠামো নারীদের সেই ভূমিকার স্বীকৃতি দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এ ছাড়া নারীরা শ্রমক্ষেত্র থেকে শুরু করে শিক্ষাঙ্গন, সংস্কৃতি ও প্রতিদিনের জীবনে যেভাবে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন, তার মূল্যায়ন এখনো পর্যাপ্ত নয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নারী শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী নারী, যৌনকর্মী ও ক্ষুদ্র জাতিসত্তার নারীদের ওপর যেসব নিপীড়ন চলছে, তার বেশির ভাগই থেকে যাচ্ছে বিচারহীন। পুঁজিবাদী রাষ্ট্রকাঠামো ও ধর্মীয় প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী যৌথভাবে নারীদের প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্যকে আরও শক্তিশালী করছে।
আয়োজকেরা বলেন, ‘নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রা’ কর্মসূচি কেবল নারীদের স্বার্থরক্ষার জন্য নয়; বরং এটি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি আন্দোলনের অংশ। নারীমুক্তি শ্রমিক-মজুরের মুক্তি, জাতিসত্তার অধিকার, বাকস্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গেও জড়িত। তাই এ যাত্রা শুধু নারীরই নয়; বরং সব প্রগতিশীল শক্তির মিলনমঞ্চ।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা সমাজের সব স্তরের মানুষকে এই যাত্রায় শামিল হওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় জানানো হয়, নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রায় সংহতি জানানো সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, নারীমুক্তি কেন্দ্র, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, হিল উইমেনস ফেডারেশন, আদিবাসী ইউনিয়ন, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন, বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চ, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম, বাংলাদেশ নারী জোট, নারী সংহতি, ছাত্র ফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী), তীরন্দাজ, শ্রমিক অধিকার আন্দোলন ইত্যাদি।


