Category: প্রধান সংবাদ

  • নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ভুয়া ওয়েবসাইট, ভর্তিতে সতর্কতা

    নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ভুয়া ওয়েবসাইট, ভর্তিতে সতর্কতা

    ২০২৩ সালে অনুমোদনপ্রাপ্ত নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগসহ প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম এখনও শুরু হয়নি।

    অথচ একটি প্রতারক চক্র বিশ্ববিদ্যালয়টির (https://ngstu.ac) নামে একটি ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করেছে। ওয়েবসাইটে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে শিক্ষার্থী ভর্তির অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে যা সম্প্রতি ইউজিসি’র নজরে এসেছে ।

    রবিবার (১৮মে) ইউজিসির বিভাগের পরিচালক ড. শামসুল আরেফিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান।

    তিনি জানান, ইউজিসি’র সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিশ্ববিদ্যালয়টির নামে প্রতারক চক্র কর্তৃক পরিচালিত ওয়েবসাইট পর্যালোচনা করেছে।

    এতে দেখা যাচ্ছে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে ভারতের কোলকাতার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস হিসেবে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও অবকাঠামোর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।

    ভুয়া তথ্য বিভ্রান্ত হয়ে কোন প্রকার আর্থিক লেনদেন কিংবা ভর্তি সংক্রান্ত পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সতর্ক করেছে ইউজিসি।

  • পরিবারসহ এনসিপি নেতা আখতারকে হত্যার হুমকি দিয়ে চিঠি

    পরিবারসহ এনসিপি নেতা আখতারকে হত্যার হুমকি দিয়ে চিঠি

    পরিবার-পরিজনসহ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি ) সদস্য সচিব আখতার হোসেনকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

    শনিবার (১৭ মে) রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

    এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন শনিবার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ডাকযোগে আমার গ্রামের বাড়িতে বুলেট নামে এক ব্যক্তি চিঠি পাঠিয়েছেন। আমার পরিবার-পরিজনকে খুন করার হুমকি দিয়েছে। চিঠির প্রেরকের ছদ্মনাম ‘বুলেট’।

    তবে শুক্রবার (১৬ মে) ডাকযোগে তার গ্রামের বাড়িতে চিঠি পাঠিয়ে এ হুমকি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ডাকযোগে চিঠিটি পান এনসিপি নেতা আখতার হোসেনের বড় ভাই আরিফ হোসেন। আখতার হোসেনের গ্রামের বাড়ি রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায়।

    পোস্টে আখতার উল্লেখ করেন তাকে ও তার পরিবার-পরিজনকে খুন করার হুমকি দেওয়া হয়েছে৷ তিনি আরও লিখেছেন চিঠিটি তার বড় পাই পাওয়ার পর থেকে উদ্বিগ্ন ও চিন্তিত। যেখানে পাবে সেখানে খুন ও ঝামেলায় ফেলা হবে।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, বোনাস লাইফ লিড করতেছি। মৃত্যু কয়েকবার কাছে এসে ফিরে গেছে। মরতে হবে জেনেও প্রতিবাদে পিছপা হইনি, কখনও হবো না। ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ ভরসা।

    বিষয়টি জানতে কথা হয় আখতার হোসেনের বড় ভাই আরিফ হোসেন জানান, আখতারসহ পরিবারের সকলকে হত্যার হুমকি দিয়েছে।

    চিঠিতে লিখেছে, ‘আমাদের গ্রহণ যোগ্যতা নেই, তাই যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই হত্যা করা হবে। আরিফ হোসেন জানান, বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তারা যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছে।

  • মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল, চট্টগ্রামে নারী সমন্বয়ককে অব্যাহতি

    মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল, চট্টগ্রামে নারী সমন্বয়ককে অব্যাহতি

    মাদক সেবন ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালের পর সমালোচনার মুখে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন (বৈছাআ) চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির মুখপাত্র ফাতেমা খানম লিজাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    একইসঙ্গে সংগঠনটির মহানগর সংগঠক শাহরিয়ার সিকদারকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।

    শনিবার (১৭ মে) সংগঠনটির মহানগর কমিটির আহ্বায়ক আরিফ মঈনুদ্দিন ও সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিনের সই করা পৃথক দুটি আদেশে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

    একটি আদেশে বলা হয়, সম্প্রতি ফাতেমা খানম লিজার মাদক সেবন ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের রক্ত ও ত্যাগের ভিত্তিতে গঠিত একটি সংগঠনের প্রতিনিধির এমন আচরণ জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তাই সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে তাকে মুখপাত্র পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।

    আরেকটি আদেশে বলা হয়, সম্প্রতি চাঁদাবাজির অভিযোগে ডবলমুরিং থানায় আটক হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে শাহরিয়ার সিকদারকে সংগঠক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    এসব ঘটনায় সংগঠনটির অভ্যন্তরে ও বিভিন্ন সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সংগঠনের নেতারা জানান, সংগঠনের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে এবং মূল্যবোধ রক্ষায় এ ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের পাঁচ দাবি, ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

    সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের পাঁচ দাবি, ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

    রাজধানীর সাত কলেজকে একত্রিত করে বিশ্ববিদ্যালয় করার ঘোষণা দেওয়া হলেও নাম প্রস্তাব ছাড়া আর কোনও অগ্রগতি নেই বলে জানিয়েছেন ওইসব কলেজের শিক্ষার্থীরা। দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন নিয়োগসহ পাঁচ দফা দাবি না মানলে ২৪ ঘণ্টার আলিন্টমেটাম দিয়ে আগামী ১৯ মে থেকে আবারও মাঠে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

    শনিবার (১৭ মে) ইডেন মহিলা কলেজে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এ কথা জানানো হয়।

    শিক্ষার্থীদের পক্ষে যৌথভাবে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর টিমের সদস্য তানজিমুল আবিদ ও জাফরিন আক্তার।

    সংবাদ সম্মেলনে জাফরিন আক্তার বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষার অধিকারটুকু চাই। আমরা আর রাজপথে নামতে চাই না। আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম ছেড়ে পড়ার টেবিলে ফিরে গিয়েছি। তবে রাষ্ট্র বারবার আমাদের পড়ার টেবিল ছেড়ে রাজপথে ফিরতে বাধ্য করেছে। আগামী রোববারের মধ্যে যদি অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি না হয়, তাহলে সোমবার (১৯ মে) থেকে আমরা আবার মাঠের কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো। পরবর্তী এ কর্মসূচি কেমন হবে, সেটা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেব। একই সঙ্গে আমরা বাকি দাবিগুলোর বিষয়েও নজর রাখবো। আমাদের যদি আবার মাঠে নামতে হয়, তাহলে এবার রাজপথ থেকেই নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ নিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরবো।

    সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের দেওয়া পাঁচ দফা দাবি হলো– রবিবারের (১৮ মে) মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে; অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন নিয়োগের পর সেশনজট নিরসনসহ সামগ্রিক বিষয় নিয়ে ও অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার বানাতে হবে; ভুতুড়ে ফলের সমাধান, বিভিন্ন ইস্যুতে অতিরিক্ত ফি আদায় এবং যাবতীয় অসঙ্গতিগুলো স্পষ্টভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে; অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন নিয়োগের পরবর্তী দুই কার্যদিবসের মধ্যে ২৪-২৫ সেশনের ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের উদ্যোগ নিতে হবে, এবং আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়য়ের রূপরেখা, লোগো মনোগ্রাম প্রকাশ করতে হবে। সর্বশেষ আগামী ১৬ জুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয়য়ের অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। একইসঙ্গে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বাজেটে নির্ধারণ করতে হবে।

    শিক্ষার্থীরা বলেন, আগামী রবিবারের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি না হয়, তাহলে ১৯ মে থেকে মাঠের কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন তারা।

  • ঈদের আগে উৎসব ভাতার দাবিতে শিক্ষকদের অবস্থান

    ঈদের আগে উৎসব ভাতার দাবিতে শিক্ষকদের অবস্থান

    আসন্ন ঈদুল আজহার আগেই পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা, বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা প্রদান, শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি বৈষম্য দূর করাসহ শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ।

    শনিবার (১৭ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। অবস্থান কর্মসূচিতে সারাদেশ থেকে দুই শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী অংশ নিয়েছেন।

    আন্দোলনরত শিক্ষকরা বলছেন, তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও অনেকেই গত কয়েক মাসের বেতন পাননি। তাছাড়া তাদের পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা দেওয়া হয় না। বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা। সরকার দাবি না মানলে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন বলেও জানান তারা।

    কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নড়াইলের বলরাটোপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবুল বাসার বলেন, আমি গত এপ্রিল মাসের বেতন পাইনি। অনেক শিক্ষক আছেন যারা গত দু-তিন মাস বেতন পান না। আমাদের বেতন বকেয়া রাখা যাবে না, ঠিকমতো প্রতি মাসে বেতন দিতে হবে। আমাদের দাবি তো যৌক্তিক। যৌক্তিক দাবিতেই আমরা আন্দোলন করছি। দাবি না মানলে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবো।

  • ঢাবির প্রযুক্তি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

    ঢাবির প্রযুক্তি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ‘প্রযুক্তি ইউনিট’-এর অধীনে অধিভুক্ত ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ/ইনস্টিটিউটসমূহের ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (১৭ মে) সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রযুক্তি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ১০ হাজার ৬শ’ ৬জন ভর্তিচ্ছু ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করেন।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

    এ সময় অন্যান্যের মধ্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন ও প্রযুক্তি ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. উপমা কবির এবং প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

  • শিশু আছিয়া হত্যা: হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড, খালাস ৩

    শিশু আছিয়া হত্যা: হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড, খালাস ৩

    আলোচিত মাগুরার চাঞ্চল্যকর শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই মামলায় হিটু শেখের স্ত্রী জাহেদা বেগম, দুই ছেলেকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

    শনিবার (১৭ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান রায় ঘোষণা করেন।

    এর আগে গত ১৩ এপ্রিল আলোচিত মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় বিচার কার্যক্রম। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২৭ এপ্রিল।

    এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দেন ২৯ জন। ছুটির দিন বাদে টানা শুনানি করে ১২ কার্যদিবসে শেষ হয় বিচার।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, আসামির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, মেডিকেল অ্যাভিডেন্স ও সাক্ষীদের জবানবন্দিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে।

    গত ৬ মার্চ মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় আট বছরের শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতাল নেওয়া হয়।

    অবস্থার অনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৩ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে। ঘটনার পর দেশজুড়ে মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

  • সব দাবি মানার আশ্বাসে জবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহার

    সব দাবি মানার আশ্বাসে জবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহার

    চার দফা দাবিতে আন্দোলনরত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সব দাবি সরকার মেনে নেওয়ার আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।

    শুক্রবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ৮টার পর জবি ঐক্য প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

    এসময় জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইছউদ্দীন বলেন, আমরা সরকারের দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণায় সন্তোষ প্রকাশ করেছি। তিনি দাবি আদায়ে সরকারকে টালবাহানা না করার আহ্বান জানান।

    শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে চলে যাওয়ারও আহ্বান জানান অধ্যাপক ড. রইছউদ্দীন। তার ঘোষণার পর অনেক শিক্ষার্থীকে সড়ক ছেড়ে চলে যেতে দেখা যায়। তবে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী তখনও সেখানে অবস্থান করছিলেন।

    এ বিষয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিক ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাফিদ বলেন, জবি ঐক্য থেকে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সে কারণে আমরা এখন চলে যাচ্ছি।

    এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস এম এ ফায়েজের উপস্থিতিতে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালন বাজেট বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাজেট বৃদ্ধির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রথম দাবি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আবাসন সংকট নিরসনে অস্থায়ী হল নির্মাণে খুব দ্রুত এ কাজ শুরু হবে। দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অতি দ্রুত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

    ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা সারা দিন এটা নিয়ে কাজ করেছি। ইউজিসি একটি পরিবার হিসেবে সবাই মিলে সমাধান করতে পারব। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি একসঙ্গে বসে সব সমাধান করব। আপনাদের সব দাবি বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি।

    এসময় ইউজিসি চেয়ারম্যান দাবি আদায়ের জন্য গণঅনশনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান।

    পরে জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইছউদ্দীন বলেন, আমাদের চতুর্থ দাবি ছিল আমাদের ওপর হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। হামলার ঘটনায় পুলিশ দুঃখ প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া সাত দিনের মধ্যে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। এ ছাড়া সরকার আমাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে।

    এর আগে শুক্রবার বিকাল ৩টায় গণঅনশনের বসেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও ওইদিন সকালে কাকরাইলে আন্দোলনস্থলে সমবেশ করেন তারা।

    সরেজমিনে দেখা যায়, দাবি আদায়ে তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলন করছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কিছুক্ষণ পর পর ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। আবার কেউ কেউ ছোট ছোট মিছিল নিয়ে আসছেন কাকরাইল মোড়ে। জানাচ্ছেন আন্দোলনরতদের সঙ্গে সংহতি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এতে মুখরিত হয়ে উঠেছে কাকরাইল মোড়।

    প্রসঙ্গত, গত বুধবার (১৪ মে) সকাল ১১টায় তিন দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের উদ্দেশ্যে লং মার্চ শুরু করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। লং মার্চটি গুলিস্তান, মৎস্য ভবন পার হয়ে কাকরাইল মসজিদের সামনে পৌঁছালে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে লং মার্চে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর। এ সময় ছত্রভঙ্গ করতে গরম পানি ছোড়ে পুলিশ। শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

    পরবর্তীতে রাতে উপদেষ্টা মাহফুজ সামনে এসে ব্রিফিং করতে আসেন। তার ব্রিফিংয়ে অসন্তুষ্ট হন শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা উপদেষ্টা মাহফুজকে উদ্দেশ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। বক্তৃতার একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে একজন তাকে লক্ষ্য করে বোতল ছুড়ে মারেন। এতে উপদেষ্টা মাহফুজ রাগান্বিত হয়ে ব্রিফিং বন্ধ করে চলে যান।

    এছাড়াও গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রইস উদ্দিন। ওইদিন রাতেই তিনি দাবি না মানলে গণঅনশন কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

    এদিকে তিনদফা দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করলেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি হামলার পর শিক্ষার্থীদের আগের তিন দফা দাবির সঙ্গে নতুন আরও এক দাবি যুক্ত হয়েছে।

    শিক্ষার্থীদের বর্তমান চার দফা দাবি ছিল-

    • বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে আবাসন বৃত্তি চালু করা,
    • জবির প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কাটছাঁট না করে অনুমোদন,
    • দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ একনেক সভায় পাস ও বাস্তবায়ন
    • ১৪ মে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অতর্কিত হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
  • উপদেষ্টা মাহফুজকে বোতল নিক্ষেপকারী শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দিল পুলিশ

    উপদেষ্টা মাহফুজকে বোতল নিক্ষেপকারী শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দিল পুলিশ

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের মাথায় পানির বোতল নিক্ষেপকারী শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    শুক্রবার (১৬ মে) দুপুরে তাকে আট করে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে সন্ধ্যায় অভিভাবকের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।

    বোতল ছুড়ে মারা ওই যুবকের নাম ইশতিয়াক হোসেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ১৯তম ব্যাচের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

    তবে জিজ্ঞাসাবাদের ফলে কী তথ্য পাওয়া গেছে কিংবা শিক্ষার্থী কেন তথ্য উপদেষ্টার দিকে বোতল ছুড়ে মেরেছেন—সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

    ডিএমপির মিডিয়া উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়, “তথ্য উপদেষ্টার দিকে পানির বোতল নিক্ষেপের ঘটনায় একজনকে ডিবি কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পরে তাকে তার অভিভাবকের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।”

    উল্লেখ্য, গত ১৪ মে রাতে কাকরাইল মসজিদের সামনে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংলাপে বসেন। আলোচনার এক পর্যায়ে হঠাৎ তার দিকে একটি প্লাস্টিকের পানির বোতল ছুড়ে মারা হয়। ঘটনাটি উপস্থিত সবাইকে হতবাক করে দেয়। তবে এতে উপদেষ্টা গুরুতর আহত হননি।

    ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, বোতল নিক্ষেপের সঙ্গে সঙ্গে এক তরুণ ভিড়ের মধ্যে মিশে যান। তার মুখ আংশিক দৃশ্যমান ছিল। পুলিশ জানায়, আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

  • সম-অধিকারের দাবিতে ‘নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রা’

    সম-অধিকারের দাবিতে ‘নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রা’

    নারীর সম-অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবিতে প্রাণবন্ত নানা আয়োজনে সম্পন্ন হয়েছে ‘নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রা’। অনুষ্ঠানে ব্যানার, লিফলেট, স্লোগান, গান ও কবিতার মাধ্যমে নারীর অধিকার ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের দাবি তুলে ধরা হয়।

    শুক্রবার (১৬ মে) বেলা ৩টার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্যে দিয়ে এ কর্মসূচি শুরু হয়।

    ‘সমতার দাবিতে আমরা’ স্লোগানে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া নারীর প্রতি সহিংসতা ও হয়রানির ঘটনার প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

    এর আগে আজ দুপুর থেকেই বিভিন্ন ব্যানার-প্ল্যাকার্ড হাতে তাদের এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আসতে দেখা যায়।

    আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, হিল উইমেনস ফেডারেশন, টিএসইউ সিপিবি নারী সেল, নারী মুক্তি কেন্দ্র, গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরাম, বিপ্লবী নারী ফোরাম, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক টেক্সটাইল ফেডারেশন, বিবর্তন উদীচী, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি, আদিবাসী ইউনিয়ন, চা শ্রমিক দশ দফা বাস্তবায়ন কমিটি, বস্তিবাসী ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম, গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ইউনিয়নসহ ৫১টি প্রগতিশীল নারী, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক, শ্রমিক ও পেশাজীবী সংগঠন এ কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে অংশ নিয়েছে।

    আয়োজকদের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে এটি হবে নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে এবং নারীর অধিকার রক্ষায় একটি মাইলফলক কর্মসূচি।

    কর্মসূচি শুরুর আগে থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা বয়সী নারীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জড়ো হন। কর্মসূচির শুরুতে সেখানে নারীর অধিকার বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের আর্ট পারফর্মেন্স অনুষ্ঠিত হয়।

    মৈত্রী যাত্রায় আসা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক রেহনুমা আহমেদ বলেন, ‘আমরা নারীর ডাকে সাড়া দিয়ে আজ এখানে এসেছি- সবাইকে এটা জানাতে যে, আমরা আমাদের অধিকার বিষয়ে সচেতন এবং সেই অধিকার আদায়ে আমরা একতাবদ্ধ। এখানে আমরা কারও বিষোদগার করছি না, কোনো চিৎকার বা গালিগালাজ নেই। নারীদের একতা প্রদর্শনের জন্য আজ আমরা এখানে এসেছি।’

    পরে অনুষ্ঠানস্থল থেকে একটি র‌্যালি শুরু হয়ে খামারবাড়ি অভিমুখে যাত্রা করে মানিক মিয়া এভিনিউতে গিয়ে শেষ হয়।

    মিছিল শুরুর পূর্বে নারীদের বিভিন্ন অধিকার সম্বলিত একটি ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়। ঘোষণাপত্রে নারীর বিরুদ্ধে যেকোনও সহিংসতা ও বৈষম্য প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

    ঘোষণাপত্রে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারকে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে আরও সক্রিয় হতে হবে। বিশেষ করে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সহিংসতার হুমকি, নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনকে ঘিরে গুজব ও অপপ্রচার এবং ধর্মীয় মূল্যবোধকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

    ঘোষণায় আরও বলা হয়, যারা নির্বাচনে অংশ নিতে চায় কিংবা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেয়, তাদের স্পষ্টভাবে জানাতে হবে—নারী, শ্রমিক, জাতিগত, ধর্মীয়, ভাষাগত ও লিঙ্গীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার ও মুক্তি সম্পর্কে তাদের অবস্থান কী। আসন্ন নির্বাচনসহ ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধি নিশ্চিত করতে হবে। নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

    ঘোষণাপত্রে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা ও বৈষম্য চালিয়ে যাওয়ার যেকোনও অপচেষ্টা আমরা মেনে নেব না। মৌলিক অধিকার অস্বীকারের ষড়যন্ত্র রুখে দাঁড়ানো হবে। বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রয়াস, সংস্কৃতি ও ধর্মকে দমনমূলক অস্ত্রে পরিণত করার অপচেষ্টা, এবং সংকীর্ণ মনোভাবকে সার্বজনীন করার প্রয়াস কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে।

    সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর নারীনীতি ও অবস্থান আমরা নজরদারিতে রাখবো। যারা ক্ষমতার কাঠামো ব্যবহার করে বৈষম্য ও সহিংসতা জিইয়ে রাখে, সেই কাঠামো ভেঙে দিতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। হুমকির মুখে মাথা নত করবো না, এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে পিছপা হবো না।

    ঘোষণায় আরও বলা হয়, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আজ আমরা এক জরুরি মুহূর্তে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। আমাদের দাবি—একটি গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ, যেখানে বৈষম্যবিরোধিতা ও সাম্যের ভিত্তিতে সব নাগরিকের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

    বাংলাদেশের ইতিহাসে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করে ঘোষণায় বলা হয়, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, তেভাগা, টঙ্ক, নানকার, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, গণঅভ্যুত্থান, ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন, সুন্দরবন রক্ষা, নিরাপদ সড়ক ও ভ্যাটবিরোধী আন্দোলন—প্রতিটিতেই নারীর সাহসী অংশগ্রহণ রয়েছে।

    তবে অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়েও নারীর পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে প্রতিক্রিয়াশীল ও পিতৃতান্ত্রিক শক্তি। সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধা, ব্যক্তিগত আক্রমণ, অনলাইনে হয়রানি, যৌন নিপীড়ন, এবং প্রকাশ্য হামলার মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিসরে নারীর অংশগ্রহণ নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা চলছে।

    নারী অধিকার বিষয়ক সংস্কার-প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গঠিত নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন ৪৩৩টি সুপারিশ পেশ করে। কিন্তু এসব সুপারিশের বিকৃত ব্যাখ্যা দিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা মূল দাবিগুলোকে আড়াল করে। এ ছাড়া কমিশনের সদস্যদের জনসমক্ষে অবমাননা করা হয়েছে।

    অন্তর্বর্তী সরকার এই ন্যাক্কারজনক আচরণের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি—এটি অত্যন্ত হতাশাজনক। এতে স্পষ্ট হয়, সরকারের নির্লিপ্ততা আসলে মৌলিক অধিকারের দাবিদারদের দমন করারই বার্তা বহন করে।

    ঘোষণায় বলা হয়, সংবিধান বা সংস্কৃতির দোহাই দিয়ে নারী ও প্রান্তিক গোষ্ঠীর অধিকার অস্বীকার করা যাবে না। কৃষকের ভূমি-অধিকার থেকে শুরু করে পরিবেশগত ন্যায্যতা—সবকিছুই নারীর অধিকারের সঙ্গে যুক্ত। তাই সমাজের সবচেয়ে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত না করে কোনোভাবেই ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

    সরকার ও ভবিষ্যৎ যেকোনও সরকারের উদ্দেশে বলা হয়—নারী, শ্রমিক, সংখ্যালঘু, হিজড়া ও লিঙ্গীয় বৈচিত্র্যসম্পন্ন নাগরিকদের রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা কোনও শর্তসাপেক্ষ নয়।

    ঘোষণাপত্রে স্পষ্টভাবে বলা হয়, আমাদের লড়াই শুধু নারীর মর্যাদার জন্য নয়, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সংগঠনের অধিকার, ভূমি ও সম্পত্তির অধিকার, যৌন ও প্রজনন স্বাধীনতা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার অধিকার, এবং প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকারের জন্যও।

    পরিবেশ ধ্বংস, বিচারহীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার খর্বের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলোর অনেকটিই এসব মৌলিক দাবির অন্তর্ভুক্ত, ফলে কমিশন বিলুপ্ত করার অপচেষ্টা এবং সদস্যদের প্রতি আক্রমণ নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক।

    ঘৃণা, হুমকি, সংঘবদ্ধ সহিংসতা চালিয়ে এই আন্দোলনকে দমন করার প্রচেষ্টা চলছে—এ অভিযোগ করে প্রশ্ন তোলা হয়, সরকার কাদের তুষ্ট করতে চাইছে? সংখ্যাগরিষ্ঠের উগ্র জাতীয়তাবাদী অংশকে? নাকি সংস্কারের নামে বৈষম্যমূলক কাঠামো টিকিয়ে রাখার পরিকল্পনাকারীদের?

    সবশেষে ঘোষণা দেওয়া হয়—অধিকার চেয়ে নয়, আদায় করেই নিতে হয়। আর সেই লড়াইয়ে ভয় নেই—পিছু হটার কোনও জায়গা নেই।