Category: খবর

  • ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহফুজা খানম মারা গেছেন

    ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহফুজা খানম মারা গেছেন

    ডাকসুর একমাত্র নারী ভিপি, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি, একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মাহফুজা খানম আর নেই।

    মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সকালে অসুস্থতা বোধ করলে তাকে রাজধানীর হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    কেন্দ্রীয় খেলাঘরের চেয়ারম্যান ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাহফুজা খানমের নামাজে জানাজা আজ বাদ আছর তেজগাঁও কলেজ ছাত্রাবাস মসজিদে (ইন্দিরা রোডের বাসভবনের পাশে) অনুষ্ঠিত হবে।

    আগামীকাল বুধবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১০ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন এবং রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হবে।

    ডাকসুর ইতিহাসে একমাত্র নারী ভিপি মাহফুজা খানমের জন্ম কলকাতায় ১৯৪৬ সালের ১৪ এপ্রিল। তিনি ১৯৬৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক এবং ১৯৬৭ সালে একই বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন থেকে মনোনয়ন পেয়ে ১৯৬৬-৬৭ মেয়াদে ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন।

    ১৯৬৮ সালে লন্ডন সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ পেলেও তৎকালীন মোনায়েম সরকার তাকে পাসপোর্ট দেয়নি।

    বিভিন্ন সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করা মাহফুজা খানম মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্যও ছিলেন তিনি।

    সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের লেখাপড়ার সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিতদের শিক্ষার আর্থিক তহবিলের জন্য বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৭টি শিক্ষা কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করেছেন মাহফুজা খানম।

    মাহফুজা খানম ৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে প্রখ্যাত আইনজীবী ও সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদকে বিয়ে করেন। তারা দুই পুত্র ও এক মেয়ে সন্তানের জনক-জননী।

    মাহফুজা খানম ২০১২ সালে নারী শিক্ষা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য ‘বেগম রোকেয়া পদক’ লাভ করেন। তিনি ২০১৩ সালের ২৬ আগস্ট ‘অনন্যা শীর্ষ দশ ২০১৩’ পুরস্কার ও সম্মাননা পান। এছাড়াও বাংলাদেশের স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল আর টিভি থেকে ‘জয়া আলোকিত নারী-২০১৭’ পুরস্কার লাভ করেন। ২০২১ সালে শিক্ষা বিভাগে তিনি একুশে পদক লাভ করেন।

  • জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত শিক্ষার্থীদের তথ্য চাইলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত শিক্ষার্থীদের তথ্য চাইলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহে মাঠে নেমেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ, কারিগরি ও মাদরাসাসহ দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে শহীদ ও আহতদের বীরগাথা লিখিত আকারে আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সেবা শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জাবের মো. সোয়াইবের সই করা এক নির্দেশনায় বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী ঘটনা। শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশ নতুন সম্ভাবনার পথে যাত্রা শুরু করেছে। শহীদেরা শুধু শিক্ষার্থী ছিলেন না, তারা ছিলেন পরিবর্তনের মশালবাহী, গণতন্ত্রের সৈনিক। তাদের অবদান চিরকাল স্মরণীয় রাখতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    নির্দেশনায় বলা হয়, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে (সরকারি গেজেট অনুযায়ী) শহীদ ও আহত শিক্ষার্থীদের ছবি ও তথ্যসহ সর্বোচ্চ দুই পাতার একটি প্রবন্ধ প্রস্তুত করে পাঠাতে হবে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান একটি কমিটি গঠন করে প্রবন্ধটি লিখে সম্পাদনা করবেন। হার্ডকপি পাঠানোর পাশাপাশি সফটকপি নিকস বাংলা ১৪ ফন্টে apa@moedu.gov.bd ঠিকানায় ই-মেইল করতে হবে।

    একইসঙ্গে প্রবন্ধের সঙ্গে প্রমাণ হিসেবে প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, সরকারি গেজেট বা অন্যান্য নথি যুক্ত করতে হবে। ই-মেইলে এসব প্রমাণের স্ক্যান কপি সংযুক্ত করতে হবে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানপ্রধান, প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠতম শিক্ষক এবং প্রবন্ধ-সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতির যৌথ স্বাক্ষরসহ প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে।

    নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সরকারি কলেজগুলোকে পৃথকভাবে চিঠি দিয়ে ১৪ আগস্টের মধ্যে ddgovtcollege@gmail.com ঠিকানায় সংশ্লিষ্ট তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। আর পুরো প্রক্রিয়ার ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব বদরুল হাসান লিটন। প্রয়োজনে তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করারও অনুরোধ করা হয়েছে।

  • বিশ্বমানের শিল্প-সংশ্লিষ্ট দক্ষতা অর্জনে তরুণদের প্রস্তুত করতে হবে : শিক্ষা উপদেষ্টা

    বিশ্বমানের শিল্প-সংশ্লিষ্ট দক্ষতা অর্জনে তরুণদের প্রস্তুত করতে হবে : শিক্ষা উপদেষ্টা

    শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার বলেছেন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) খাতকে বৈশ্বিক মানসম্পন্ন, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং অগ্রগামী কর্মশক্তি উন্নয়ন ব্যবস্থায় রূপান্তরের লক্ষ্যে ২০২৫ সালের টিভিইটি বাস্তবায়ন পরিকল্পনা দেশের জন্য এক মাইলফলক।

    রবিবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে টিভিইটি বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ২০২৫-২০৩০ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের প্রধান এডউইন কুককুক। বক্তব্য রাখেন, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলাম, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শোয়াইব আহমাদ খান, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন অনুবিভাগ) সামসুর রহমান খান।

    শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ইউরোপের বেশ কিছু দেশ দক্ষ জনশক্তি নিয়োগে আগ্রহী। একইসঙ্গে দেশীয় শিল্পখাতও দ্রুত অটোমেশন, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং ও সেবা খাতের জন্য টিভিইটি স্নাতকদের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে এই চাহিদা পূরণে বিশ্বমানের শিল্প-সংশ্লিষ্ট দক্ষতা অর্জনে তরুণদের প্রস্তুত করতে হবে।

    তিনি আরো জানান, ২০২৫-২০৩০ সালের টিভিইটি বাস্তবায়ন পরিকল্পনা শ্বেতপত্রের সুপারিশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ও শিল্পের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার, নারী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রবেশাধিকার নিশ্চিতকরণ, সবুজ ও ডিজিটাল দক্ষতা অন্তর্ভুক্তকরণ এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের জন্য চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণের মতো অগ্রাধিকার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

    শিল্প মালিক, নিয়োগকর্তা ও সেক্টর স্কিল কাউন্সিলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষাকে মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানে রূপ দিতে তাদের অভিজ্ঞতা ও অবকাঠামো অপরিহার্য। উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাদের কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে পরিকল্পনার বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদানের আহ্বান জানান উপদেষ্টা।

    শিক্ষা উপদেষ্টা দ্রুত বহুপক্ষীয় জাতীয় ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, পরিকল্পনার স্থানীয় বাস্তবায়ন, চলতি অর্থবছরের কার্যক্রম পরিকল্পনা চূড়ান্তকরণ এবং শক্তিশালী জবাবদিহি ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি পরিকল্পনাটিকে জাতীয় দলিল হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য কারিগরি মাদরাসা শিক্ষা বিভাগকে নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, সময়সীমা ৫ বছর, দায়িত্ব বড়। সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি লক্ষ লক্ষ তরুণের জীবন পরিবর্তন করবে।

  • প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা সহায়তাকারীর : গণশিক্ষা উপদেষ্টা

    প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা সহায়তাকারীর : গণশিক্ষা উপদেষ্টা

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা শাসক নয়, সহায়তাকারীর। আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হচ্ছে জনগণ। তাই দেশের মানুষকে জনসম্পদে পরিণত করতে হবে।

    সোমবার (৪ আগস্ট) রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে রংপুর জেলার বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা-২০২৫’ এ প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    গণশিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাজ হচ্ছে বিদ্যালয়গুলোতে যে সকল সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সমাধানে সহায়তা করা। পাশাপাশি, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্বুদ্ধ করা। যদি সকলেই এই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে পারে, তাহলে প্রাথমিক শিক্ষার প্রকৃত উন্নয়ন ঘটবে।

    রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান ও পরিচালক মোহাম্মদ কামরুল হাসান।

    এর আগে, রংপুর আরডিআরএস সেন্টারে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর আয়োজিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচির রোল-আউট সেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা।

    বাংলাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাভিত্তিক ও গুণগত শিক্ষা অর্জনে সহায়তা করা এবং পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহের মাধ্যমে তাদের পুষ্টিগত অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে এই খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩ দশমিক ১৩ মিলিয়ন শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে ৫ দিন (স্কুল কর্মদিবসে) পুষ্টিকর খাবার বিতরণ করা হবে।

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ ছিলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডব্লিউ এফ পি) বাংলাদেশে স্কুল ফিডিং বিভাগের প্রধান এমা লেফু। অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রকল্পটির পরিচালক মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।

  • গণতন্ত্র চর্চা করলে সমাজের বৈষম্য হ্রাস পায় : গণশিক্ষা উপদেষ্টা

    গণতন্ত্র চর্চা করলে সমাজের বৈষম্য হ্রাস পায় : গণশিক্ষা উপদেষ্টা

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেছেন, গণতন্ত্র চর্চা করলে সমাজের বৈষম্য হ্রাস পায়। তাই বিদ্যালয়, অফিসসহ সমাজের প্রতিটি পর্যায়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে হবে। যদি গণতান্ত্রিক চর্চা সমাজের প্রতিটি স্তরে চালু হয়, তাহলেই রাজনৈতিক স্তরে গণতন্ত্র স্থায়ী হবে।

    বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ঢাকায় মিরপুরে প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর আয়োজিত জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালা-২০২৫ আয়োজনের অংশ হিসেবে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুরস্কার বিতরণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদরা যে কারণে আত্মত্যাগ করেছিলেন, আমাদেরকে সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে হবে। আমরা যদি বৈষম্যহীন একটি রাষ্ট্র গঠনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাই, তাহলেই তাদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো হবে।

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা। অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়েছে। এসময় উপদেষ্টা বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সার্টিফিকেট বিতরণ করেন।

  • শিশুদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে : গণশিক্ষা উপদেষ্টা

    শিশুদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে : গণশিক্ষা উপদেষ্টা

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেছেন, শিশুদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

    বুধবার (৩০ জুলাই) ঢাকায় বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) সমূহে প্রশিক্ষণরত শিক্ষকবৃন্দের বইপড়া কর্মসূচি বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    গণশিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, আমরা চাই শিশুদের শারীরবৃত্তীয় বিকাশের পাশাপাশি তাদের আবেগীয়, বুদ্ধিবৃত্তিক ও দায়িত্ববোধের সুষ্ঠু বিকাশ হোক। এগুলো শুধু পাঠ্যপুস্তক পড়ার মাধ্যমে হয় না। বরং পাঠ্যপুস্তক বহির্ভূত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এই বিকাশ ঘটে। তাই পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি শিশুদের পাঠ্যপুস্তক বহির্ভূত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

    তিনি আরো বলেন, শিশুদের মাঝে বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের পাশাপাশি হৃদয়বৃত্তিক বিকাশের জন্য ভালো সাহিত্য পাঠের বিকল্প নেই। এটা শুধু শিশুদের সাক্ষর করবে না বরং দায়িত্ববোধেরও বিকাশ ঘটাবে। একটি সুস্থ জাতি ও সুস্থ দেশ গঠন করতে হলে দায়িত্ববোধ সম্পন্ন মানুষ গড়ে তুলতে হবে।

    বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির মহাপরিচালক ফরিদ আহমেদ।

  • শিক্ষা বৈষম্য দূরীকরণের হাতিয়ার : শিক্ষা উপদেষ্টা

    শিক্ষা বৈষম্য দূরীকরণের হাতিয়ার : শিক্ষা উপদেষ্টা

    শিক্ষা হচ্ছে বৈষম্য দূরীকরণের হাতিয়ার। সাম্যভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। স্কুলের পাঠ্য বই সংশোধনে অবদান রাখায় ২৬৭ জন শিক্ষককে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখিত পত্রে এভাবেই শিক্ষা সম্পর্কে নিজের অভিমত ব্যক্ত করেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার।

    একইসঙ্গে, পাঠ্যপুস্তক শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের মৌলিক ভিত্তি। একটি সঠিক, যুগোপযোগী ও শিক্ষাবান্ধব পাঠ্যপুস্তক শুধু শিক্ষার মানোন্নয়নে নয়, একটি প্রগতিশীল সমাজ গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইতোমধ্যে ১৫৫ শিক্ষককে লিখিত চিঠি পৌঁছে দেয়া হয়েছে। বাকিদেরকে পর্যায়ক্রমে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ড. এ কে এম তাজকির-উজ-জামান বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) জানান, বর্তমান উপদেষ্টা গত চার মাস আগে যখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেন তখন বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় আসতে থাকে যে এনসিটিবির পাঠ্য বইয়ের ব্যাপক ভুল পরিলক্ষিত হচ্ছে। তখন উপদেষ্টা এনসিটিবির সাথে কয়েকটি বৈঠক করেন। এরপর শুরু হয় এনসিটিপি কর্তৃক প্রণীত পাঠ্য বইয়ের ভুল সংশোধন প্রক্রিয়া।

    তিনটি ধাপে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। প্রথম ধাপে ঢাকার বিভিন্ন স্কুলের যারা অভিজ্ঞ শিক্ষক আছেন তাদের কাছ থেকে অনলাইনে সাজেশন নেওয়া হয় ভুল সংশোধনের জন্য। দ্বিতীয় ধাপে ঢাকার বাইরে থেকে শতাধিক শিক্ষককে ঢাকায় নিয়ে এসে নয়টা পাঁচটা অফিস টাইম এর মধ্যে দুই সপ্তাহ ধরে সরাসরি এনসিটিবি অফিসে এনে পাঠ্যবইয়ের ভুল সংশোধন করানো হয়। তৃতীয় ধাপেও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের কাছ থেকে পাঠ্য বইয়ের সর্বশেষ ভুল সংশোধন করে নেওয়া হয়।

    এসব প্রক্রিয়ায় যে সকল শিক্ষক সম্পৃক্ত ছিলেন তাদেরকে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানানোর জন্যই শিক্ষা উপদেষ্টার এমন উদ্যোগ বলে জানান উপসচিব ড. এ কে এম তাজকির-উজ- জামান। উপসচিব বলেন, এই চিঠি হয়তো শিক্ষকদের আর্থিক কোন উপকারে আসবে না। কিন্তু এটি একটি সম্মানীয় পত্র হিসেবে তাদের কাজের স্বীকৃতির উপযুক্ত প্রমাণ।

    শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে শিক্ষা উপদেষ্টা তাঁর লিখিত বার্তায় বলেছেন, ‘পাঠ্যপুস্তক শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের মৌলিক ভিত্তি। একটি সঠিক, যুগোপযোগী ও শিক্ষাবান্ধর পাঠ্যপুস্তক শুধু শিক্ষার মানোন্নয়নে নয়, একটি প্রগতিশীল সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই প্রেক্ষাপটে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃক প্রণীত পাঠ্যপুস্তকের বিষয়বস্তুর যথার্থতা, ভাষার স্পষ্টতা ও উপস্থাপনগত মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।’

    উপদেষ্টা বলেন, শুধুমাত্র এনসিটিবির নিজস্ব জনবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সারা দেশে আপনাদের এই কাজে যুক্ত করা হয়। শিক্ষকবৃন্দ হলেন শিক্ষার সবচেয়ে বড় অংশীজন। সারাদেশের বৃহৎ অংশীজনে সুচিন্তিত মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে অনলাইনে ই-মেইল এর মাধ্যমেও তথ্য প্রদানের সুযোগ রাখা হয়।

    শিক্ষা উপদেষ্টা লিখিত বার্তায় আরো বলেন, আপনাদের এই অবিরাম প্রয়াসকে আমি একটি ‘জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে শিক্ষক নেতৃত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত’ হিসেবে বিবেচনা করি। আশা করি, ভবিষ্যতেও আপনারা এই মহৎ প্রয়াসে আমাদের পাশে থাকবেন এবং যুগোপযোগী, শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নে গঠনমূলক অবদান রাখবেন। শিক্ষকদের এ অবদান জাতি চিরদিন স্মরণে রাখবে।

  • গভীর রাতে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা

    গভীর রাতে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা

    গভীর রাতে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। তিনি বলেছেন, ওইদিন রাতে (২১ জুলাই) মাইলস্টোন স্কুলের ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের উন্নত চিকিৎসার বিষয়ে অনেক রাত পর্যন্ত সিঙ্গাপুরের সঙ্গে কথা হচ্ছিল।

    বুধবার (২৩ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রসঙ্গত, রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ২২ ও ২৪ জুলাইয়ের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার (২১ জুলাই) দিনগত রাত আড়াইটার দিকে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ফেসবুক পোস্টে ২২ জুলাইয়ের পরীক্ষা স্থগিতের কথা জানান।

    শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, আমরা (উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা) সে বিষয়ে কথা বলে অনেক রাতে বাসায় ফিরছিলাম। রাতে যখন বাসায় ফিরছি তখনই পরীক্ষার বিষয়টা সামনে আসলো। কেউ কেউ চাচ্ছিলেন পরীক্ষা হউক আবার অনেকে জানতে চাচ্ছিলেন পরীক্ষা হবে কিনা এবং সেই প্রক্রিয়ায় কয়েকজন উপদেষ্টার সাথেও আমাদের কথা হয়। এ ধরনের একটা বিষয়ে হুট করে সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না এবং এককভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকারও কারো নেই। এভাবে একটি পরীক্ষা নিতে হলে যেমন একটি রোল আপ করতে হয় তেমনি পরীক্ষা পেছাতে হলেও রোল ডাউন করতে হয়। তাছাড়া পরীক্ষার প্রশ্নপত্র যেহেতু সারাদেশে পৌঁছানোর একটা বিষয় ছিল এবং এ বিষয়ে মাঠপর্যায়ের প্রশাসনকেও জানাতে হয় প্রশ্নপত্র ফিরিয়ে আনা ইত্যাদি।

    তিনি আরো বলেন, সব বিষয় ভেবে চিন্তে আমাদেরকে হয়তো পরীক্ষা স্থগিত করতে একটু সময় নিতে হয়েছে। তাও সেটা আমি মনে করি যথা সময়েই হয়েছে। অনেকে বলেন, পরীক্ষা না নেয়ার সিদ্ধান্তটা মনে হয় অনেক আগেই নেওয়া যেত এ ধারণাটা আসলেই ঠিক না। ডিউ প্রসেস ফলো করে পরীক্ষা পেছানো হয়েছে। অনেকে বলেছিলেন পরীক্ষা নেয়ার জন্য সেটাও আমাদের বিবেচনায় নিতে হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা আমার পদত্যাগের দাবি করলেও বিষয়টা প্রধান উপদেষ্টার এখতিয়ার। দুর্ঘটনার পর কোনো অব্যবস্থাপনা হয়নি। তাই তিনি নিজে থেকে পদত্যাগ করবেন না। শিক্ষা সচিবকে কেনো প্রত্যাহার করা হয়েছে, তা তার জানা নেই। তবে মাইলস্টোনের শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক।

  • ৬৫ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষককে দশম গ্রেডে উন্নীত করতে আইনি নোটিশ

    ৬৫ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষককে দশম গ্রেডে উন্নীত করতে আইনি নোটিশ

    দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব প্রধান শিক্ষককে দশম গ্রেডে উন্নীত করার অনুরোধ জানিয়ে পাঁচ সচিব বরাবর আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকদের পদের সংখ্যা প্রায় ৬৫ হাজার বলে জানিয়েছেন নোটিশদাতা আইনজীবী।

    বুধবার (১৬ জুলাই) আইনসচিব, জনপ্রশাসনসচিব, শিক্ষাসচিব, অর্থসচিব এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাসচিব বরাবর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ সিদ্দিক উল্ল্যাহ মিয়া রেজিস্ট্রি ডাকযোগে ওই নোটিশ পাঠান। নোটিশে প্রধান শিক্ষকদের বিষয়ে সাত দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তা না হলে বিষয়টি আদালতের নোটিশে আনা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আইনজীবী সিদ্দিক উল্ল্যাহ মিয়া বলেন, গ্রেড উন্নীত করা নিয়ে ৪৫ জন প্রধান শিক্ষকের করা রিট নির্দেশনাসহ নিষ্পত্তি করে ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে (প্রশিক্ষিত ও অপ্রশিক্ষিত) দশম গ্রেডে উন্নীত করতে ও দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার মর্যাদা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে, যা খারিজ হয়। এ রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে আবেদন নিষ্পত্তি করে গত ১৩ মার্চ রায় দেন আপিল বিভাগ। ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে (প্রশিক্ষিত ও অপ্রশিক্ষিত) দশম গ্রেডে উন্নীত করতে ও দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার মর্যাদা দেওয়ার নির্দেশ বহাল থাকে।

    সিদ্দিক উল্ল্যাহ মিয়া বলেন, আপিল বিভাগের রায়ের পর ৭ জুলাই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৪৫ জন প্রধান শিক্ষককে দশম গ্রেডে উন্নীত এবং দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা দেয়। তবে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদের সংখ্যা প্রায় ৬৫ হাজার। তাঁরা ওই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অথচ সবাই মামলা না করলেও রায় অনুযায়ী বাকিদের সমান সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যাবে, এমন নজির আছে। যে কারণে সব প্রধান শিক্ষককে দশম গ্রেডে উন্নীত করতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

  • উচ্চশিক্ষায় বিশ্বসেরা শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ১৬৩

    উচ্চশিক্ষায় বিশ্বসেরা শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ১৬৩

    যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থা কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডস (কিউএস) উচ্চশিক্ষা নানা বিষয়ে র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় এবাপর করেছে সেরা শিক্ষার্থীবান্ধব শহরের র‍্যাঙ্কিং ঘোষণা করেছে। কিউএস ২০২৬ সালের তালিকায় দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল শীর্ষে আছে।

    এবারের তালিকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো আগেরবারের (২০২৫ সাল) শীর্ষস্থানে থাকা লন্ডন এখন তৃতীয় স্থানে নেমে এসেছে। দ্বিতীয় স্থানে ওঠে এসেছে টোকিও। র‍্যাংকিংয়ের ইতিহাসে এই প্রথম শীর্ষ দুই শহরই এশিয়ার।

    কোন মানদণ্ডে নির্ধারিত হয় র‍্যাঙ্কিং?
    কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডস (কিউএস) এই র‍্যাঙ্কিং তৈরি করেছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ভিত্তিতে শহরগুলোর মূল্যায়ন করে। যেমন আকর্ষণীয় শহর, জীবনযাত্রার ব্যয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের গুণমান, শিক্ষার্থীদের মধ্য বৈচিত্র্য, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ।

    কিইএস বেস্ট স্টুডেন্ট সিটিজ ২০২৬-এর সেরা ১০ শহর—
    ১. সিউল, দক্ষিণ কোরিয়া, স্কোর ১০০
    ২. টোকিও, জাপান, স্কোর ৯৯.৯
    ৩. লন্ডন, যুক্তরাজ্য, স্কোর ৯৭.১
    ৪. মিউনিখ, জার্মানি, স্কোর ৯৬.৩
    ৫. মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া, স্কোর ৯৫.৭
    ৬. সিডনি, অস্ট্রেলিয়া, স্কোর ৯৪.৭
    ৭. বার্লিন, জার্মানি, স্কোর ৯৩.৩
    ৮. প্যারিস, ফ্রান্স, স্কোর ৯৩.৩
    ৯. জুরিখ, সুইজারল্যান্ড, স্কোর ৯১.৫
    ১০. ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া, স্কোর ৯০.৮।

    এর পরের স্থানে আছে সিঙ্গাপুর (১১তম), কুয়ালালামপুর, মালয়েশিয়া (১২তম), বেইজিং, চীন (১৩তম), তাইপে, তাইওয়ান, (১৪তম) বোস্টন, যুক্তরাষ্ট্র ও এডিনবার্গ, যুক্তরাজ্য (১৫তম)। ঢাকা ১৩৬তম স্থানে

    কেন এশিয়া এগিয়ে?
    শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়ার শহরগুলো এখন শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের মানেই নয় বরং সাশ্রয়ী জীবনযাত্রা, আধুনিক অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক ছাত্রদের জন্য সুযোগ-সুবিধা এবং শক্তিশালী চাকরির বাজারের দিক থেকেও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে। বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এখন অনেক শিক্ষার্থী ইউরোপ বা আমেরিকার পরিবর্তে সিউল, টোকিও, কুয়ালালামপুর কিংবা বেইজিংয়ের মতো শহরকে প্রাধান্য দিচ্ছে।

    শিক্ষার্থীদের জন্য শহর বাছাই এখন শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিংয়ের ওপর নির্ভর করছে না—বরং গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে চাকরির সুযোগ, ব্যয়ের ভারসাম্য এবং অভিজ্ঞতা। আর এই বিবেচনায় এশিয়ার আধিপত্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে দিনকে দিন।