গভীর রাতে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা

গভীর রাতে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। তিনি বলেছেন, ওইদিন রাতে (২১ জুলাই) মাইলস্টোন স্কুলের ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের উন্নত চিকিৎসার বিষয়ে অনেক রাত পর্যন্ত সিঙ্গাপুরের সঙ্গে কথা হচ্ছিল।

বুধবার (২৩ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রসঙ্গত, রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ২২ ও ২৪ জুলাইয়ের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার (২১ জুলাই) দিনগত রাত আড়াইটার দিকে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ফেসবুক পোস্টে ২২ জুলাইয়ের পরীক্ষা স্থগিতের কথা জানান।

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, আমরা (উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা) সে বিষয়ে কথা বলে অনেক রাতে বাসায় ফিরছিলাম। রাতে যখন বাসায় ফিরছি তখনই পরীক্ষার বিষয়টা সামনে আসলো। কেউ কেউ চাচ্ছিলেন পরীক্ষা হউক আবার অনেকে জানতে চাচ্ছিলেন পরীক্ষা হবে কিনা এবং সেই প্রক্রিয়ায় কয়েকজন উপদেষ্টার সাথেও আমাদের কথা হয়। এ ধরনের একটা বিষয়ে হুট করে সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না এবং এককভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকারও কারো নেই। এভাবে একটি পরীক্ষা নিতে হলে যেমন একটি রোল আপ করতে হয় তেমনি পরীক্ষা পেছাতে হলেও রোল ডাউন করতে হয়। তাছাড়া পরীক্ষার প্রশ্নপত্র যেহেতু সারাদেশে পৌঁছানোর একটা বিষয় ছিল এবং এ বিষয়ে মাঠপর্যায়ের প্রশাসনকেও জানাতে হয় প্রশ্নপত্র ফিরিয়ে আনা ইত্যাদি।

তিনি আরো বলেন, সব বিষয় ভেবে চিন্তে আমাদেরকে হয়তো পরীক্ষা স্থগিত করতে একটু সময় নিতে হয়েছে। তাও সেটা আমি মনে করি যথা সময়েই হয়েছে। অনেকে বলেন, পরীক্ষা না নেয়ার সিদ্ধান্তটা মনে হয় অনেক আগেই নেওয়া যেত এ ধারণাটা আসলেই ঠিক না। ডিউ প্রসেস ফলো করে পরীক্ষা পেছানো হয়েছে। অনেকে বলেছিলেন পরীক্ষা নেয়ার জন্য সেটাও আমাদের বিবেচনায় নিতে হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা আমার পদত্যাগের দাবি করলেও বিষয়টা প্রধান উপদেষ্টার এখতিয়ার। দুর্ঘটনার পর কোনো অব্যবস্থাপনা হয়নি। তাই তিনি নিজে থেকে পদত্যাগ করবেন না। শিক্ষা সচিবকে কেনো প্রত্যাহার করা হয়েছে, তা তার জানা নেই। তবে মাইলস্টোনের শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *