শিরোনাম
Advertisement
ক্যাম্পাসের ভেতরে

কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের অধিকার সুরক্ষায় নতুন নির্দেশনা জারি বেফাকের

Advertisement

কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের অধিকার ও নিরাপত্তা সুরক্ষা এবং শিক্ষার পরিবেশে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ। এতে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে সহযোগিতা ও অভিযোগ জানানোর জন্য বেফাকের হটলাইন নম্বর ০১৭২৪-৬৩০৬৩২ উল্লেখ করা হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) বেফাকের প্রধান পরিচালক মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।

১. শাসনের সীমা ও নির্দেশনা: শাসনের একমাত্র উদ্দেশ্য সংশোধন ও কল্যাণ; রাগের অবস্থায় বিচার, ফয়সালা বা শাসন-সাজা প্রদান করা নিষিদ্ধ। পড়াশোনায় মনোযোগী বা উশৃঙ্খল শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের অবহিত করতে হবে; মাদ্রাসায় কোনোপ্রকার শারীরিক শাস্তি দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। শাস্তির ক্ষেত্রে ক্রমধারা মানতে হবে: নরম ভাষায় সতর্কতা > মৃদু ভর্ৎসনা > মৌখিক শাসন > অভিভাবককে ডেকে অবহিতকরণ। শিক্ষার্থীকে প্রহার বা কোনো বস্তু দ্বারা আঘাত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মহিলা মাদ্রাসায় দায়িত্বপ্রাপ্ত নারী দায়িত্বশীল/শিক্ষিকা ব্যতীত অন্য কেউ শাসনমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে না। প্রকাশ্যে অপমান, গালমন্দ, কটূ ভাষা বা হেনস্তা করার মতো মানসিক শাস্তি পরিহারযোগ্য। সীমা লঙ্ঘনকারী শিক্ষক/শিক্ষিকা দায়ী থাকবেন এবং প্রমাণিত হলে মাদ্রাসার ইলহাক (অন্তর্ভুক্তি) পর্যন্ত বাতিল হতে পারে।

২. আত্মশুদ্ধি কার্যক্রম: দ্বীনি ইলম অর্জনের পর আল্লাহওয়ালার সোহবতে থেকে তাযকিয়া ও আত্মশুদ্ধি লাভের শর্তে নতুন শিক্ষক নিয়োগ বাঞ্ছনীয়। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য নিয়মিত (সাপ্তাহিক/মাসিক) ইসলাহী মজলিস ও নবনিযুক্তদের জন্য তারবিয়াতি নেজাম চালু করতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত ইসলাহী বয়ান, তা’লীম ও জিকিরের মজলিস রাখতে হবে। অধিকার ও নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ হলে তা দায়িত্বশীল ও অভিভাবকদের জানানোর ব্যাপারে ছাত্র/ছাত্রীদের সচেতন করতে হবে। যৌন হয়রানিমূলক বিষয় ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বশীলদের জানাতে হবে এবং প্রয়োজনে বেফাকের হটলাইনে বা দায়িত্বশীলদের নাম্বারে ফোন করতে হবে। অভিভাবক সমাবেশের মাধ্যমে অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ ও আস্থার সম্পর্ক জোরদার করতে হবে।

৩. শিক্ষার্থীর সুরক্ষার ব্যবস্থা: মুহতামিম, নাজেমে তালীমাত, নাজেমে দারুল ইকামাসহ মূল দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের শিশু ও শিক্ষার্থীর সুরক্ষায় বিশেষ নজর দিতে হবে। প্রয়োজনে কমপক্ষে ২-৩ জন দায়িত্বশীলের সমন্বয়ে তদারকি ও সুরক্ষার বিশেষ ব্যবস্থা করতে হবে। অভিযোগ গ্রহণের সুযোগ রাখতে হবে এবং অনধিক ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে তদন্ত প্রতিবেদন ও গৃহিত পদক্ষেপ লিখিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং নিষ্ক্রিয় থাকলে ইলহাক স্থগিত/বাতিল হতে পারে।

৪. নিয়োগ ও তত্ত্বাবধানে সতর্কতা: শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা, চরিত্র ও বিশ্বস্ততা যাচাই করতে হবে। অতীতে কোনো নৈতিক স্কলন বা অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তিকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। আবাসিক ছাত্র/ছাত্রীদের তত্ত্বাবধানে সিসিটিভির ব্যবস্থা ছাড়াও একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তির উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ