Category: শিক্ষা প্রশাসন

  • নীতিমালা প্রকাশ; কলেজে ভর্তিতে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা, নেই গণঅভ্যুত্থান কোটা

    নীতিমালা প্রকাশ; কলেজে ভর্তিতে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা, নেই গণঅভ্যুত্থান কোটা

    চলতি (২০২৫-২৬) শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির চূড়ান্ত নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, অনলাইনে আবেদন, শিক্ষার্থী নির্বাচন ও নিশ্চায়নের পর চূড়ান্ত ভর্তি শুরু হবে।

    নীতিমালা অনুযায়ী, একাদশে ভর্তির ক্ষেত্রে এবারও ৭ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ শতাংশ বীর মুক্তিযোদ্ধা কোটা। শুধু মুক্তিযোদ্ধার পুত্র ও কন্যারা এ কোটা সুবিধা পাবেন। নাতি-নাতনিদের জন্য কোনো ধরনের কোটা নেই। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে আসন শূন্য রাখা যাবে না। শূন্য আসনে মেধারভিত্তিতে সাধারণ প্রার্থীদের ভর্তির সুযোগ দিতে হবে।

    এছাড়া ২ শতাংশ রাখা হয়েছে পোষ্য কোটা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ দপ্তর বা সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানরা এ কোটা সুবিধা পাবেন। বাকি ৯৩ শতাংশ আসনে মেধারভিত্তিতে ভর্তি করা হবে। এ কোটা পদ্ধতি শুধু ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য হবে।

    এদিকে, এবার ঢাকা শিক্ষাবোর্ড জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থী এবং হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের জন্য ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোটা’ রাখার সুপারিশ করে। একই সঙ্গে প্রাসঙ্গিকতা না থাকায় মুক্তিযোদ্ধা কোটা না রাখার বিষয়টি বিবেচনা করতে বলে। এ নিয়ে জাগো নিউজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিতর্ক শুরু হয়। বিতর্কের মুখে চূড়ান্ত নীতিমালায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোটা রাখা হয়নি।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একাদশে ভর্তির নীতিমালায় বলা হয়েছে, ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানের ৯৩ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে, যা মেধারভিত্তিতে নির্বাচন করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং অধীনস্থ দপ্তর-সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশসহ মোট ২ শতাংশ আসন মহানগর, বিভাগীয় ও জেলা সদরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে সংরক্ষিত থাকবে।

    যদি আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হয়, সেক্ষেত্রে তাদের নিজেদের মধ্যে মেধারভিত্তিতে ভর্তির সুযোগ পাবে। আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্তৃক দপ্তর প্রধানের প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিজস্ব দপ্তরের প্রধান হলে সেক্ষেত্রে তার একধাপ ওপরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে।

    বীর মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যাদের ভর্তির জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যাদের আসন নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র বা গেজেটের সত্যায়িত কপি আবেদপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে এবং ভর্তির সময় মূল কপি প্রদর্শন করতে হবে।

    এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ইস্যু করা মুক্তিযোদ্ধা সনদ যথাযথভাবে যাচাই করে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যা পাওয়া না গেলে মেধাতালিকা থেকে শূন্য আসনে ভর্তি করাতে হবে। কোনো অবস্থায় আসন শূন্য রাখা যাবে না।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিব নাম প্রকাশ না করে বলেন, শিক্ষাবোর্ড যে খসড়া নীতিমালা করেছিল, সেখানে কিছু বিষয় রাখা বা বাদ দেওয়া নিয়ে তারা সুপারিশ করেছিলেন। সেগুলো আলোচনা করে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। আমরা চাই না কোনো ধরনের বিতর্ক হোক। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে নীতিমালা করা হয়েছে।

  • প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগের নির্দেশ

    প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগের নির্দেশ

    দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

    সোমবার (১৪ জুলাই) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এক বৈঠকে এ নির্দেশ দেন তিনি। বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়াসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান সম্পর্কে এবং কোন স্কুলগুলো ভালো করছে সে ব্যাপারে মূল্যায়ন জানতে চান।

    মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ-এ এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বৈঠকে উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য অনেক অর্থব্যয় হয়েছে। কিন্তু মূল যে উদ্দেশ্য-শিক্ষার মান বৃদ্ধি, সেটি সাধন হয়নি। আমরা মূল্যায়ন করে স্কুলগুলোকে র‍্যাংকিং করছি। যেসব স্কুলের বাচ্চারা পিছিয়ে আছে তাদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি নিচ্ছি।’

    তিনি জানান, মূল্যায়নে দেখা গেছে যেসব স্কুলের মান ভালো সেখানে প্রধান শিক্ষকের যোগ্যতা ও তার সঙ্গে অন্য সহকর্মীদের সম্পর্ক-ব্যবহার বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে। দেশের ৩২ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান বলেও প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন তিনি।

    বৈঠকে প্রধান শিক্ষক পদে পদায়নের পাশাপাশি নতুন নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘স্কুলগুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কীভাবে যোগ্যদের নিয়ে আসা যায় সে বিষয়টিকে প্রাধান্য দিতে হবে। কয়েকটা ক্যাটাগরি করে দিতে হবে। যারা বহু বছর ধরে শিক্ষকতা করে আসছেন, অভিজ্ঞ তারা প্রাধান্য পাবেন। এর পাশাপাশি তরুণদেরও প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের জন্য সুযোগ দিতে হবে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হবে।’

    সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে সমন্বয় করে অতিদ্রুত বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্নের নির্দেশ দেন তিনি। এর পাশাপাশি শিক্ষকদের বদলির ক্ষেত্রেও নীতিমালায় পরিবর্তন আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

    তিনি বলেন, ‘অনেক সময় এক উপজেলায় নিয়োগ পেয়ে পরে অন্য উপজেলায়, শহরের কাছে কোনো স্কুলে শিক্ষকরা বদলির জন্য চেষ্টা করেন, তারা সুপারিশ-তদবির নিয়ে বিভিন্ন মহলে ঘোরেন। এক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা ও প্রক্রিয়া থাকতে হবে। কেবল ওই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই তিনি বদলি হতে পারবেন।’

    স্কুলগুলোতে মেয়েদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা, স্কুলের অবকাঠামো নারীবান্ধব কি না এসব বিষয়েও জানতে চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘স্কুলের ভবন নির্মাণের সময় কমিটিতে অন্তত একজন নারী স্থপতি রাখতে হবে যাতে নারীবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ হয়। পরিকল্পনায়, চিন্তায়, বাস্তবায়নে মেয়েদের বিষয় আলাদা করে গুরুত্ব দিতে হবে, সব ব্যবস্থা রাখতে হবে।’

    এছাড়া দেশের সব প্রাথমিক স্কুলকে ধারাবাহিকভাবে ইন্টারনেট সংযোগ ও মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ তৈরির বিষয়েও জোর দেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

  • ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট তৈরির নির্দেশ

    ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট তৈরির নির্দেশ

    ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিজের নামে ওয়েবসাইট তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে যাদের এরইমধ্যে ওয়েবসাইট আছে তাদের তথ্য হালনাগাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সারা দেশের সব সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং আঞ্চলিক-জেলা-উপজেলার জন্য প্রযোজ্য হবে।

    আজ (সোমবার) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ইএমআইএস সেল থেকে এমন নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কার্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইট নেই বা থাকলেও তা হালনাগাদ নয়। ফলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় তথ্য বাতায়নের আওতায় (www.bangladesh.gov.bd) সকল সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কার্যালয়কে স্ব-স্ব ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে এবং নিয়মিতভাবে তা হালনাগাদ রাখতে হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অর্থনৈতিক ব্যয় সংকোচনের লক্ষ্যে আলাদা ব্যয়ে ওয়েবসাইট তৈরি না করে জাতীয় তথ্য বাতায়নের নির্ধারিত ফ্রেমওয়ার্কে ওয়েবসাইট তৈরি ও পরিচালনা করতে হবে।

    নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি ওয়েবসাইটে প্রতিষ্ঠান পরিচিতি, পাঠদানের অনুমতি ও স্বীকৃতি, শ্রেণি ও লিঙ্গভিত্তিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা, অনুমোদিত শাখার তথ্য, শিক্ষক-কর্মচারীদের নামসহ পাঠদান রুটিন ও পাঠ্যসূচি, এমপিও সংক্রান্ত তথ্য, যোগাযোগের মোবাইল নম্বর, তথ্য সেবা কেন্দ্রের ঠিকানা, অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তার নাম ও নম্বরসহ সব তথ্য হালনাগাদ রাখতে হবে।

    উল্লেখ্য, আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ওয়েবসাইট তৈরি বা হালনাগাদ করে ওয়েব ঠিকানা www.emis.gov.bd–এর DSHE/EMIS–এর IMS মডিউলে আপলোড করার জন্যও নির্দেশ দিয়েছে মাউশি।

  • শিক্ষক নিয়োগে থাকছেই পুলিশ ভেরিফিকেশন

    শিক্ষক নিয়োগে থাকছেই পুলিশ ভেরিফিকেশন

    বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত কোনো প্রার্থী যদি পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন ফরম জমা না দেন, তবে তাকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হবে না। অর্থাৎ ভেরিফিকেশন ছাড়া নিয়োগের সুযোগ থাকছে না।

    মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়েরের সই করা পরিপত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

    পরিপত্রে বলা হয়েছে, ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিকট থেকে পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য প্রয়োজনীয় পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন ফরম প্রাপ্তির পর তা সরাসরি স্পেশাল ব্রাঞ্চ, পুলিশ অধিদপ্তরে পাঠাবে। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের মধ্যে কেউ পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন ফরম দাখিল না করলে তাকে নিয়োগ সুপারিশের জন্য বিবেচনা করা হবে না।’

    এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    এর আগে বিদ্যমান নিয়মে, এই ভেরিফিকেশন ফরম শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগে পাঠানো হতো। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সে পদ্ধতি আর অনুসরণ করা হবে না।

    পরিপত্রের অনুলিপি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, আইন মন্ত্রণালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

    অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া দ্রুত ও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। কারণ, আগের প্রক্রিয়ায় ধাপে ধাপে পাঠানোর কারণে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হচ্ছিল। তাই এনটিআরসিএকে সরাসরি পুলিশের সঙ্গে যুক্ত করে সময় কমানো এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, এনটিআরসিএ-এর অধীন এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি ও ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তির আলোকে এক লাখ ৮২২ জন শিক্ষক নিয়োগের আবেদন চলছে।

    এ আবেদন চলার মধ্যেই গত বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ পুলিশ ভেরিফিকেশন সংক্রান্ত পরিপত্রটি জারি করেছে।

  • এবার শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ফেসবুকে ‘কঠোর’ নজরদারি

    এবার শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ফেসবুকে ‘কঠোর’ নজরদারি

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পর এবার বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ফেসবুক ব্যবহারে নজরদারি কঠোর করার কথা জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

    ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের অনুশাসন’ না মানলে তা চাকরিবিধি লঙ্ঘন ও অসদাচরণের পর্যায়ভুক্ত অপরাধ হবে বলেও হুঁশিয়ার করা হয়েছে।

    রবিবার (২৯ জুন) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে দেশের সব সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের কাছে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে। সোমবার (৩০ জুন) মাউশির ওয়েবসাইটে এ চিঠি প্রকাশ করা হয়।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০১৫ সালের ১৫ জানুয়ারি ও মাউশি অধিদপ্তরের ২০২০ সালের ২২ অক্টোবরের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের আলোকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারের সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা, সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা-২০১৯ রয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করার ক্ষেত্রে এ নির্দেশ অমান্য করা সরকারি চাকরিবিধির সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন এবং সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা ২০১৮ অনুযায়ী অসদাচরণের পর্যায়ভুক্ত অপরাধ।

    একই সঙ্গে মাউশি অধিদপ্তরের ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর জারি করা এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা যথাযথ অনুসরণ করার জন্য প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরপ্রধানকে বলা হলো। সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ নির্দেশিকা যথাযথভাবে অনুসরণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

  • নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তা, পবিপ্রবির অধ্যাপকের অবনমিত

    নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তা, পবিপ্রবির অধ্যাপকের অবনমিত

    নারী শিক্ষার্থীকে মানসিক নিপীড়ন ও যৌন হেনস্তার অভিযোগে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আবদুল আহাদ বিশ্বাসকে তিন বছরের জন্য সহযোগী অধ্যাপক পদে অবনমিত করা হয়েছে।

    সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ইকতিয়ার উদ্দিনের স্বাক্ষরিত ১৯ জুনের এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

    চাকরি সংক্রান্ত একটি তদন্ত কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে ৩০ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের ৫৫তম সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আদেশ অনুযায়ী, অবনমনকালীন তিন বছর ড. আহাদ বিশ্বাস কোনো ক্লাস নিতে পারবেন না। পরীক্ষার দায়িত্ব, শিক্ষার্থীদের গবেষণার তত্ত্বাবধান কিংবা শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ থেকেও তাকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়া, এ সময় কোনো অসৌজন্যমূলক আচরণ বা পূর্বের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি ঘটলে উপাচার্য তাকে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই চাকরিচ্যুত করতে পারবেন। এই বিষয়ে তার আপিল করার সুযোগও রাখা হয়নি।

    তবে তিন বছর পর নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তিনি পূর্বের পদ ও স্কেলে পশু বিজ্ঞান বিভাগে যোগ দিতে পারবেন। উল্লেখযোগ্য যে, অবনমনকালীন এই সময়সীমা তার সক্রিয় চাকরিকাল হিসেবে গণ্য হবে না।

    গত বছরের ১২ ডিসেম্বর এক নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগ ওঠার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ড. আহাদ বিশ্বাসকে তাৎক্ষণিকভাবে সব শিক্ষা ও পরীক্ষা কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয় এবং সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে।

    ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী। তার অভিযোগে বলা হয়, ওই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে তাকে মানসিকভাবে নিপীড়ন করতেন, ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ ও অপমানজনক মন্তব্য করতেন এবং একাধিকবার যৌন হেনস্তার চেষ্টা করেন। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে।

    এছাড়াও ড. আহাদ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নাম্বার আটকিয়ে দেওয়া, পরীক্ষায় অনৈতিকভাবে নম্বর কেটে দেওয়া এবং টানা ৪-৫ ঘণ্টা ধরে অনলাইন ক্লাস নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। গত বছরের ১৮ নভেম্বর, ২০১৮-১৯ বর্ষের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ নিয়ে রেজিস্ট্রার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।

    এ বিষয়ে ড. আহাদ বিশ্বাসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • প্রশ্নফাঁসের হুমকি ‘সব সময়ই থাকে’, সরকার তৎপর আছে: শিক্ষা উপদেষ্টা

    প্রশ্নফাঁসের হুমকি ‘সব সময়ই থাকে’, সরকার তৎপর আছে: শিক্ষা উপদেষ্টা

    প্রশ্নফাঁস রোধে সরকার তৎপর আছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার। প্রশ্নফাঁসের হুমকি ‘সব সময়ই থাকে’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, দুষ্টু চক্রতো সবসময়  চেষ্টা করবে এগুলো করতে। যেভাবে আমরা এসএসসিটা সামলেছি আশা করি এগুলোও পারবো।

    তিনি বলেন, যতটুকু করণীয়, অনেক আগে থেকেই প্রশ্নপত্রগুলো নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে যাওয়া, সেগুলো হেফাজতে রাখা, পরীক্ষার কিছুক্ষণ আগে সেগুলো সেন্টারগুলোতে নিয়ে আসা-সবকিছু মিলিয়েই ডিটেইলড প্ল্যানিংয়ের মাধ্যমে করা হয়েছে। আমার ধারণা আমরা সফল হবো।

    বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সকালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রথম দিনে রাজধানীর ভাসানটেক সরকারি কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

    এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কেন্দ্রে কোভিড সংক্রামণের ঝুঁকি এড়াতে যতটুকু সম্ভব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তিনি বলেন, করোনার ব্যাপারে রিস্ক যতখানি এভয়েড করা যায়, তার জন্য যে বিধিমালা সেগুলো সেন্টারগুলোকে অনেক আগেই জানানো হয়েছে। সে হিসাবে প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর মুখে মাস্ক রয়েছে। হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং এগুলোর সমস্ত ব্যবস্থা রয়েছে। মোটামুটিভাবে সিটের যে এরেঞ্জমেন্ট সেগুলোও চেষ্টা করা হয়েছে, সেই নীতি অনুসারে। সেদিক থেকে যতটুকু সম্ভব সবই নিশ্চিত করা হয়েছে।

    ডেঙ্গুরোধে কেন্দ্রগুলোকে জমে থাকা পানি, আবর্জনা ও জঙ্গল পরিষ্কার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল বলেও তুলে ধরেন শিক্ষা উপদেষ্টা।

    এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বেশির ভাগ নারী শিক্ষার্থী বলেও তুলে ধরেন শিক্ষা উপদেষ্টা। তিনি জানান, ১২ লাখ ৫১ হাজার পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫০.৬ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী ও ৪৯.৪ শতাংশ পুরুষ শিক্ষার্থী।

    বৃহস্পতিবার সকালে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ শিক্ষার্থী চলতি বছর এ পরীক্ষায় বসছেন।

    নয়টি সাধারণ ও মাদ্রাসা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ১০ অগাস্ট। ১১ থেকে ২৮ অগাস্ট পর্যন্ত চলবে ব্যবহারিক পরীক্ষা।

    আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি ভোকেশনাল ও ডিপ্লোমা ইন কমার্সের তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলবে ১৭ জুলাই পর্যন্ত। ব্যবহারিক পরীক্ষা চলবে ১৮ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত।

    ২০২৩ সালের সংক্ষিপ্ত বা পুনর্বিন্যাসকৃত সিলেবাসে ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা হচ্ছে। সব বিষয়ে পূর্ণ নম্বরে ও পূর্ণ সময়ে এ পরীক্ষা আয়োজন করা হবে বলে আগেই জানিয়েছিল শিক্ষা বোর্ডগুলো।

    নয় শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে যারা এ পরীক্ষায় বসছেন তাদের মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ১৮ হাজার ১৫ জন, ছাত্রী ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬ জন। ৯ হাজার ৩১৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এসব শিক্ষার্থী ২ হাজার ৭৯৭ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছেন।

    চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গতবারের চেয়ে ৮১ হাজার ৮৮২ জন শিক্ষার্থী কমেছে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত বছর নয় সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ছিল ১৩ লাখ ৩২ হাজার ৫২০ জন। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি ও সমান পরীক্ষায় বসছে মোট ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন শিক্ষার্থী।

    সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় বসবে ১০ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৮ জন। ৪ হাজার ৮০৮টি প্রতিষ্ঠানের এসব শিক্ষার্থী ১৬০৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেবে। এইচএসসিতে এবার পরীক্ষার্থী কমেছে ৭২ হাজার ৮৮৩ জন।

    মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় বসবে ৮৬ হাজার ১০২ জন শিক্ষার্থী, তাদের মধ্যে ছাত্র ৪৬ হাজার ৬২৮ আর ছাত্রী ৩৯ হাজার ৪৭৪ জন। ২ হাজার ৬৮২টি মাদ্রাসার এসব পরীক্ষার্থী ৪৫৯টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় বসবে। এবার আলিমের পরীক্ষার্থী কমেছে ১ হাজার ৯৭৪ জন।

    কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ভোকেশনাল, ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ৯ হাজার ৬১১ জন পরীক্ষার্থী; তাদের মধ্যে ৮০ হাজার ১০৩ জন ছাত্র, ২৯ হাজার ৫০৮ জন ছাত্রী। ১ হাজার ৮২৪টি প্রতিষ্ঠানের এ শিক্ষার্থীরা ৭৩৩টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় বসবে। এবার কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী কমেছে ৭ হাজার ২৫ জন।

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ-পদোন্নতির অনিয়ম তদন্তের জন্য তথ্য আহ্বান

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ-পদোন্নতির অনিয়ম তদন্তের জন্য তথ্য আহ্বান

    শিক্ষক নিয়োগ-পদোন্নতির অনিয়ম তদন্তের জন্য তথ্য আহ্বান করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

    বৃহস্পতিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য আহ্বান করা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের উপ-পরিচালক ফররুখ মাহমুদ জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট গত ১৭ মার্চ ২০২৫ তারিখে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

    উল্লিখিত সময়ে শিক্ষক নিয়োগ বা পদোন্নতির ক্ষেত্রে কারও কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তথ্য-প্রমাণসহ তা লিখিত আকারে আগামী ২৫ জুলাই ২০২৫ তারিখের মধ্যে তদন্ত কমিটির সদস্য-সচিব ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বরাবর দাখিল করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ সকলের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

  • শিক্ষার্থীদের হাতে নির্ভুল পাঠ্যবই তুলে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর : শিক্ষা উপদেষ্টা

    শিক্ষার্থীদের হাতে নির্ভুল পাঠ্যবই তুলে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর : শিক্ষা উপদেষ্টা

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার বলেছেন, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি তারিখে নির্ভুল পাঠ্যবই ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে তুলে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। পাঠ্যবই ছাপানোর জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যাতে অতীতের ভুলভ্রান্তিগুলো সংশোধন করে ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে যথাসম্ভব নির্ভুল পাঠ্যবই তুলে দেওয়া যায়।

    বুধবার (২৫ জুন) জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সভাকক্ষে শিক্ষা উপদেষ্টার সভাপতিত্বে শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও পরিমার্জন সংক্রান্ত বিশেষ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    সভায় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর গোলাম দস্তগীর কাজী।

    শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, এনসিটিবির সহায়তায় সংগ্রহকৃত ২০২৫ সালের পাঠ্যপুস্তকসমূহে বানান ও ব্যকরণগত ভুল, ছাপার অসংগতি, তথ্যের বিভ্রাট পরিলক্ষিত হয়। সেই প্রেক্ষিতে শিক্ষাক্রমে বিদ্যমান ১২৩টি পাঠ্যপুস্তক ঢাকায় এবং ঢাকার বাইরে আলাদা-আলাদা বিশেষজ্ঞদের প্যানেল দ্বারা সংশোধন ও পরিমার্জন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে প্রাপ্ত মতামত এনসিটিবি যাচাই-বাছাই ও সংশোধন করে ছাপানোর কাজ করতে হবে। শিক্ষা হলো বৈষম্য দূর করার হাতিয়ার। এই কাজে জনসম্পৃক্ততা প্রয়োজন। সবার সুচিন্তিত মতামত ও বুদ্ধিবৃত্তিক অংশগ্রহণ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি করতে পারে। সে লক্ষ্যে সারা দেশের সব শিক্ষকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

    সভায় শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্পৃক্ত করার ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে সারা দেশের সব শিক্ষক বিদ্যমান ২০২৫ সালের পাঠ্যপুস্তকের বানান ও ব্যকরণগত ভুল, ছাপার অসংগতি, তথ্যের বিভ্রাট সম্পর্কে নির্ধারিত ফরমে, সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্ধারিত ই-মেইলে তাদের মতামত প্রদান করতে পারবেন। অনতিবিলম্বে এনসিটিবি শিক্ষকদের মতামত প্রদানের সুযোগ তৈরির বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

    সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের বলেন, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন এমন শিক্ষকদের মতামত নিয়ে কন্টেন্ট তৈরি করতে হবে। সময় নিয়ে, লাইন বাই লাইন দেখে, আলোচনা করে এটি করা প্রয়োজন। এর পাশাপাশি গণিত ও রসায়নের ক্ষেত্রে সর্বাধুনিক ভার্সনের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

  • বেতন বাড়ছে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের

    বেতন বাড়ছে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের

    সরকারি কর্মচারীদের মতো বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও ‘বিশেষ সুবিধা’ পাবেন। এ সুবিধার আওতায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বাড়বে কমপক্ষে ১ হাজার ৫০০ টাকা।

    সোমবার (২৩ জুন) অর্থমন্ত্রনালয়ের অর্থ বিভাগের উপসচিব (প্রবিধি-৩) মোসাঃ শরীফুন্নেসা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা যায়।

    এতে বলা হয়, এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি মাদ্রাসা ও বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত জাতীয় বেতনস্কেল-এর তুলনীয় গ্রেড-৯ হতে তদুর্ধ্ব গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীগণ আগামী ০১ জুলাই হতে প্রতি বছর ০১ জুলাই তারিখে প্রাপ্য মূল বেতনের ১০% হারে বিশেষ সুবিধা পাবেন।

    আরও বলা হয় গ্রেড-১০ হতে তদনিম্ন গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীগণ আগামী ০১ জুলাই হতে প্রতি বছর ০১ জুলাই তারিখে প্রাপ্য মূল বেতনের ১৫% হারে, তবে ১,৫০০ (এক হাজার পাঁচশত) টাকার কম নয়, ‘বিশেষ সুবিধা’ প্রাপ্য হবেন।

    এর আগে পৃথক এক অফিস আদেশে বিশেষ সুবিধায় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কমপক্ষে ১ হাজার ৫০০ টাকা, অবসরভোগীদের ৭৫০ টাকা বৃদ্ধির কথা জানায় অর্থমন্ত্রনালয়। এতে স্বাক্ষর করেন অর্থমন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব (অর্থবিভাগ) দিলরুবা শাহীনা।

    এমপিও হলো মান্থলি পে-অর্ডার বা মাসিক বেতন আদেশ। এমপিওভুক্ত হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রতি মাসে বেতনের মূল অংশ ও কিছু ভাতা সরকার থেকে পেয়ে থাকেন। আর বাকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকার থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা পান না।

    বর্তমানে দেশে এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২৯ হাজার ১৬৪টি। এগুলোর মধ্যে স্কুল ও কলেজ ২০ হাজার ৪৩৭টি, বাকিগুলো মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন সাড়ে ৫ লাখের মতো।