Category: শিক্ষা প্রশাসন

  • সকালে পরীক্ষা, রাতে ফল প্রকাশ : তদন্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কমিটি

    সকালে পরীক্ষা, রাতে ফল প্রকাশ : তদন্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কমিটি

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিপ্তরের (ডিআই) একটি নিয়োগের ক্ষেত্রে একই দিন সকালে পরীক্ষা নিয়ে রাতে ফল প্রকাশ করার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রণালয়।

    মঙ্গলবার (১৭ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এই কমিটি গঠনের আদেশ জারি করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন শাখার যুগ্মসচিব বরাদ হোসেন চৌধুরীকে। অন্য সদস্যরা হলেন—বেসরকারি কলেজ শাখার উপসচিব আ. কুদ্দুস এবং সিনিয়র সহকারী সচিব জাবের মো. সোয়াইব। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে মতামতসহ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

    জানা গেছে, গত ৯ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিআইএ–এর কয়েকটি পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ৩ হাজার ১০৫ জন প্রার্থী। ওই রাতেই লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে ডিআইএ কর্তৃপক্ষ, যা নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক বিতর্ক।

    ডিআইএর নিয়োগ পরীক্ষার নথি ঘেঁটে দেখা যায়, ২০২৩ সালের ২১ মে ১০টি পদে ৩০ জন এবং ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর নতুন বিজ্ঞপ্তিতে ১১টি পদে ৩৩ জন নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। দুই দফায় আবেদন করেন মোট ২৪ হাজার ১১২ জন প্রার্থী। তবে পরীক্ষায় অংশ নেন মাত্র ৩ হাজার ১০৫ জন।

    সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে খাতা মূল্যায়ন এবং ফল প্রকাশ—সবই অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়। পরীক্ষার কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন এবং খাতা মূল্যায়নের পুরো দায় ছিল ডিআইএ কর্তৃপক্ষের ওপর। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

    সূত্র জানায়, অডিটর, সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর, উচ্চমান সহকারী ও অফিস সহায়ক—এই চার পদে পরীক্ষা নেওয়া হয়। রাজধানীর তিনটি কেন্দ্রে পরীক্ষা শেষে রাতেই ১৫২ জনের ফল প্রকাশ করা হয়।

    এ নিয়ে চাকরিপ্রার্থীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনেকে অভিযোগ করেন, ডিআইএর বর্তমান পরিচালকের চাকরির মেয়াদ শেষ হতে চলায় তড়িঘড়ি করে নিয়োগ সম্পন্নের চেষ্টা করা হয়। এছাড়া ডিপিসি (ডিপার্টমেন্টাল প্রমোশন কমিটি) কমিটিতে নিয়ম ভেঙে একজন শিক্ষা পরিদর্শককে দায়িত্ব দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

    বিষয়টি নিয়ে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যে ধরনের পদের জন্য এই নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল, সেখানে সাধারণত প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, খাতা মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশের জন্য একটি স্বচ্ছ ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। কিন্তু এখানে সবকিছু এক দিনে—সকালে পরীক্ষা, রাতে ফল প্রকাশ—এটা কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। এতে স্পষ্ট সন্দেহ দেখা দেয়, আগেই কোনো একটি নির্দিষ্ট তালিকা তৈরি ছিল কি না। নিয়োগ কার্যক্রমের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ডিআইএ নিজেরাই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেছে, যার ফলে স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠে এসেছে।

    প্রসঙ্গত, ডিআইএর নিয়োগ নিয়ে এটাই প্রথম বিতর্ক নয়। ২০২৩ সালের বিজ্ঞপ্তির পর থেকে বিভিন্ন সময় হওয়া সব নিয়োগ নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

  • ছেলের এইচএসসির ফল জালিয়াতি: চট্টগ্রাম বোর্ডের সাবেক সচিব কারাগারে

    ছেলের এইচএসসির ফল জালিয়াতি: চট্টগ্রাম বোর্ডের সাবেক সচিব কারাগারে

    ছেলের পরীক্ষার ফল জালিয়াতির মামলায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক সচিব অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র নাথকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

    মঙ্গলবার (১৭ জুন) চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমানের আদালতে হাইকোর্ট থেকে নেওয়া চার সপ্তাহের আগাম জামিনের মেয়াদ শেষে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। শুনানি শেষে বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

    কারাগারে পাঠানোর আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম আদালত পুলিশের পরিদর্শক শাহিনুর আলম বলেন, ‘পাঁচলাইশ থানার একটি জালিয়াতি মামলায় হাইকোর্ট থেকে নেওয়া আগাম জামিনের মেয়াদ শেষে শিক্ষা বোর্ডের সাবেক সচিব অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র নাথ আদালতে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’

    গত ২১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. এ কে এম সামছু উদ্দিন আজাদ নগরীর পাঁচলাইশ থানায় নারায়ণ চন্দ্র নাথসহ চারজনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা করেন।

    মামলার অন্য আসামিরা হলেন- অধ্যাপক নারায়ণের ছেলে নক্ষত্র দেবনাথ (২০), শিক্ষাবোর্ডের সাবেক সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট কিবরিয়া মাসুদ খান (৬১) এবং সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুস্তফা কামরুল আখতার (৬১)।

    ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে এ জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছিল বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। সেই ফলাফল প্রকাশ হয়েছিল ২০২৩ সালের ২৬ নভেম্বর।

    দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৫, ৪৬৬, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ৩৪ ধারা এবং পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০ এর ৫, ৬, ১২ ও ১৩ ধারায় করা ওই মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ফলাফল প্রকাশের আগে যে কোনোসময় আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জালিয়াতি করে নক্ষত্র দেবনাথের ফলাফল পরিবর্তন করেন।

    নক্ষত্র ছাড়া বাকি তিনজন জালিয়াতি সংঘটনের সময় চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে স্ব স্ব পদে দায়িত্বরত ছিলেন।

    নারায়ণ চন্দ্র নাথ ২০১৯ সাল থেকে প্রায় পাঁচ বছর ধরে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে পর্যায়ক্রমে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, সচিব ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    ২০২২ সালে তার ছেলে নক্ষত্র দেবনাথ চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তখন নারায়ণ সচিবের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    ফলাফল ঘোষণার পর অভিযোগ ওঠে, নারায়ণ চন্দ্র নাথ তার ছেলেকে জালিয়াতির মাধ্যমে জিপিএ-ফাইভ পাইয়ে দিয়েছেন। কে বা কারা নক্ষত্রের ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করলে তার মা বনশ্রী দেবনাথ নগরীর পাঁচলাইশ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর ফলে বিতর্ক আরও জোরালো হয়।

    এ অবস্থায় ২০২৪ সালের জুন মাসে জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ৯ জুলাই নারায়ণকে শিক্ষাবোর্ড থেকে সরিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) বিভাগের চট্টগ্রামের পরিচালক পদে বসানো হয়।

    এরপর গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) বিভাগের শৃঙ্খলা অণুবিভাগের সিনিয়র সহকারি সচিব শতরূপা তালুকদারের স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় বলা হয়, তদন্তে নারায়ণ চন্দ্র নাথের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণ পাওয়া গেছে।

    এজন্য নারায়ণের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারি (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী মামলাসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া ও নক্ষত্রের ফলাফল বাতিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    এর ভিত্তিতে জালিয়াতির দায়ে ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর মাউশি’র চট্টগ্রামের পরিচালক পদ থেকে নারায়ণকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। তার ছেলের ফলাফল বাতিল করা হয়। এরপর নারায়ণসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়।

  • দুদকের মামলায় কারাগারে যবিপ্রবির সাবেক ভিসি অধ্যাপক সাত্তার

    দুদকের মামলায় কারাগারে যবিপ্রবির সাবেক ভিসি অধ্যাপক সাত্তার

    দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. আব্দুস সাত্তারকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

    সোমবার (১৬ জুন) দুপুরে যশোরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে তিনি আত্মসমার্পন করে জামিনের আবেদন করলে বিচারক শেখ নাজমুল আলম জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অধ্যাপক সাত্তার দুদকের করা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের মামলার আসামি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল।

    এই মামলার অপর দুই আসামি হলেন— যবিপ্রবির উপ-পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) আব্দুর রউফ ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাবেক উপ-উপাচার্য ড. কামাল উদ্দিন।

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, অবৈধভাবে নিয়োগ এবং সরকারি ৬১ লাখ ৩১ হাজার ৭৩২ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৩ সালের ২১ আগস্ট প্রফেসর ড. আব্দুস সাত্তারসহ ৩ আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদক যশোরের তৎকালীন উপপরিচালক আল-আমিন। মামলার তদন্ত শেষে উল্লিখিতদের অভিযুক্ত ৩ জনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি আদালতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক। আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

    পরবর্তীতে তাদের মধ্যে দুই আসামি আব্দুর রউফ ও ড. কামাল উদ্দিন জামিনে মুক্তি পান। আজ সাবেক ভিসি আদালতে আত্মসমার্পন করে জামিনের আবেদন করলে তা বাতিল হয় ও তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

    মামলা সূত্রে জানা গেছে, যবিপ্রবিতে ২০০৯ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে আবেদন করেন আসামি আব্দুর রউফ। নিয়োগের জন্য গঠিত তিন সদস্য বিশিষ্ট বাছাই বোর্ডের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন উপাচার্য প্র. ড. আব্দুস সাত্তার। বাছাই বোর্ডের আরেক সদস্য ছিলেন ইবির উপ উপাচার্য ড. কামাল উদ্দিন। একই বছরের ২২ আগস্ট মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। এ সময় আরও তিন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। কিন্তু কাউকে পাস করানো হয়নি। বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে আব্দুর রউফের কোনো পূর্ব-অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও বাছাই বোর্ড অবৈধভাবে তাকে প্রথমে সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে সেকশন অফিসার (গ্রেড-১, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

    তথ্যমতে, রিজেন্ট বোর্ড সভাপতি হিসেবে সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. আব্দুস সাত্তার উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই তাকে সেকশন অফিসার হিসেবে নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। আব্দুর রউফ সেকশন অফিসার পদে অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে কর্মরত থাকা অবস্থায় সিলেকশন গ্রেডসহ বিভিন্ন সুবিধাপ্রাপ্ত হয়ে বিভাগীয় প্রার্থীর সুবিধা নিয়ে ২০১৪ সালে সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে এবং ২০২১ সালে উপপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত।

    অবৈধ নিয়োগের কারণে ২০০৯ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত তিনি বেতন-ভাতা বাবদ মোট ৬১ লাখ ৩১ হাজার ৭৩২ টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে বাদী মামলায় উল্লেখ করেন।

    প্রসঙ্গত, অবৈধভাবে শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) সাবেক দুই ভিসি আব্দুস সাত্তার ও আনোয়ার হোসেনসহ চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা চলমান রয়েছে।

  • ‘কারিগরি শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা শিগগিরই’

    ‘কারিগরি শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা শিগগিরই’

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা তৈরির কাজ শিগগিরই শেষ হবে। তবে এ নীতিমালা কবে জারি হবে সে বিষয়ে বলা যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

    সোমবার (১৬ জুন) গণ্যমাধমের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা জানান তিনি।

    কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব বলেন, ‘মাদরাসার বদলি নীতিমালা জারি হয়েছে। সফটওয়্যার তৈরির কাজও চলছে। তবে এ কাজ কবে শেষ হবে সেটি এখনই বলা যাচ্ছে না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘কারিগরিতে এনটিআরসিএর সুপারিশে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকের সংখ্যা কম। তবুও তাদের বদলির ব্যবস্থা করা হবে।’

  • পরীক্ষার দিনই বোর্ডে পাঠাতে হবে এইচএসসির লিখিত উত্তরপত্র

    পরীক্ষার দিনই বোর্ডে পাঠাতে হবে এইচএসসির লিখিত উত্তরপত্র

    ২০২৫ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার প্রতিদিনের লিখিত উত্তরপত্র নিরাপদে জমাদানে কেন্দ্র সংশ্লিষ্টদের জন্য নির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, ঢাকা।

    এতে বলা হয়েছে, পরীক্ষার দিনই উত্তরপত্র বোর্ডে পৌঁছাতে হবে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে, পুলিশের প্রহরায়। যেকোনো কারণে তা সম্ভব না হলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে ট্রেজারি বা থানার মালখানায় জমা রেখে পরবর্তীতে বোর্ডে জমা দিতে হবে নির্ধারিত তারিখে। তবে উত্তরপত্র পাঠাতে কোনো অবস্থাতেই বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।

    বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এসএম কামাল উদ্দিন হায়দারের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর প্রতিদিনই ওই দিনের লিখিত উত্তরপত্র কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে হাতে হাতে পরীক্ষার নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে জমা দিতে হবে। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিজে বা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত কোনো শিক্ষক পুলিশ প্রহরার মাধ্যমে নিরাপদে উত্তরপত্র পৌঁছে দেবেন। যদি হাতে হাতে পাঠানো সম্ভব না হয়, তবে পরীক্ষা শেষ হওয়ার দিনেই রেলওয়ে পার্সেলের মাধ্যমে নির্ধারিত সময় উল্লেখ করে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। তবে কোনো কারণে যদি দিন শেষে উত্তরপত্র পাঠানো না যায়, সেক্ষেত্রে সেগুলো সিলগালা অবস্থায় মালখানায় (ট্রেজারি অথবা থানায়) জমা রাখতে হবে, এবং নির্ধারিত তারিখে পুলিশ প্রহরায় বোর্ডে জমা দিতে হবে।

    লিখিত উত্তরপত্র জমাদানের জন্য বোর্ড চারটি কিস্তিতে তারিখ নির্ধারণ করেছে। প্রথম কিস্তিতে ৫ জুলাই জমা দিতে হবে ২৬, ২৯ জুন এবং ১ ও ৩ জুলাইয়ের পরীক্ষার উত্তরপত্র। দ্বিতীয় কিস্তিতে ১৯ জুলাই জমা দিতে হবে ৭, ১০, ১৩, ১৫ ও ১৭ জুলাইয়ের পরীক্ষার উত্তরপত্র। তৃতীয় কিস্তিতে ২ আগস্ট জমা দিতে হবে ২০, ২২, ২৪, ২৭, ২৮, ৩০ ও ৩১ জুলাইয়ের পরীক্ষার উত্তরপত্র। আর সবশেষ চতুর্থ কিস্তিতে ১১ আগস্ট জমা দিতে হবে ৩, ৪, ৬, ৭ ও ১০ আগস্টের পরীক্ষার উত্তরপত্র। বিষয়টিকে ‘অতীব জরুরি’ হিসেবে উল্লেখ করে বোর্ড কঠোরভাবে জানিয়েছে, কোনো অবস্থাতেই বিকল্প পন্থায় উত্তরপত্র পাঠানো যাবে না।

    প্রসঙ্গত, বোর্ডের প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২৬ জুন শুরু হয়ে চলবে ১০ আগস্ট পর্যন্ত। আর ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১১ থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত।

  • বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসছে রেকর্ডসংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ

    বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসছে রেকর্ডসংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ

    বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় এক লাখের বেশি শিক্ষক নিয়োগে ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে যাচ্ছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ হতে পারে আগামী সোমবার, ১৭ জুন। তবে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে ২২ জুন থেকে। বিজ্ঞপ্তির খসড়া ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং টেকনিক্যাল কোনো জটিলতা না থাকলে নির্ধারিত তারিখেই তা প্রকাশ হবে বলে জানিয়েছে এনটিআরসিএ।

    জানা গেছে, এবারের গণবিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের একটি বড় অংশ অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেও কিছু সীমাবদ্ধতা থাকছে। এনটিআরসিএর নীতিমালা অনুযায়ী, ৩৫ বছরের বেশি বয়সী নিবন্ধনধারীরা এই নিয়োগে আবেদন করতে পারবেন না। এছাড়া যেসব প্রার্থীর নিবন্ধন সনদ তিন বছরের বেশি সময় আগে পাওয়া, তারাও এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হবেন না।

    এই বিষয়ে এনটিআরসিএ সচিব এ এম এম রিজওয়ানুল হক বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের নীতিমালায় বয়সসংক্রান্ত বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। আমরা এমপিও নীতিমালার বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারি না।

    অন্যদিকে, এনটিআরসিএর ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি দেশের শিক্ষা খাতে অন্যতম বৃহৎ নিয়োগ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি ও ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—সব ধরনের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়ার লক্ষ্যে এই গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। পদের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে পাঁচটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তবে এবার তা আরও বড় পরিসরে হচ্ছে।

    আবেদনকারীদের এনটিআরসিএর নির্ধারিত ওয়েবসাইটে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদন করতে হবে ২২ জুন থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে। আবেদনের জন্য প্রার্থীদের অবশ্যই বৈধ শিক্ষক নিবন্ধন সনদ থাকতে হবে এবং বয়স হতে হবে সর্বোচ্চ ৩৫ বছর। এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়ার পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হবে এনটিআরসিএর নিজস্ব সফটওয়্যার ব্যবস্থার মাধ্যমে। এ ব্যবস্থায় প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই, প্রতিষ্ঠানের চাহিদা মিলিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুপারিশ তৈরি করা হবে, যাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।

    উল্লেখ্য, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) হলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, যা দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৫ সাল থেকে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীদের লিখিত, মৌখিক ও প্রিলিমিনারি যাচাইয়ের মাধ্যমে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে থাকে। নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রার্থীদের যোগ্য শিক্ষক হিসেবে প্রত্যয়ন দেওয়া হয়।

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে করোনা প্রতিরোধে মাউশির ৫ নির্দেশনা

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে করোনা প্রতিরোধে মাউশির ৫ নির্দেশনা

    ভারতসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশে করোনার নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়ায় বাংলাদেশেও সতর্কতা জোরদার করেছে সরকার। এই প্রেক্ষাপটে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি মানা নিশ্চিত করতে পাঁচ দফা নির্দেশনা পালনের আহ্বান জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

    সোমবার (৯ জুন) রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আজাদ খান বলেন, করোনার নতুন উপধরনের সংক্রমণ প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে। একইসথে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেসব বিষয় মানার কথাও বলা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে নিয়মিত সাবান ও পানি দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়া। এছাড়া, জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং বাইরে বের হলে মাস্ক পরা। যদি কোনো আক্রান্ত ব্যক্তি আশপাশে থাকে, তবে তার থেকে অন্তত তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখা। অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ, মুখ ও নাক স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকা। হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু অথবা কনুই দিয়ে মুখ ও নাক ঢেকে রাখা।

    সম্প্রতি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায়ও বলা হয়েছে, দেশের আন্তর্জাতিক প্রবেশপথগুলোতে থার্মাল স্ক্যানার ও ডিজিটাল থার্মোমিটারের মাধ্যমে আগত যাত্রীদের তাপমাত্রা পরীক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত মাস্ক, গ্লাভস ও পিপিই মজুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।একইসাথে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গুরুতর হলে নিকটস্থ হাসপাতালে যেতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে আইইডিসিআরের হটলাইনে (০১৪০১-১৯৬২৯৩) যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    উল্লেখ্য, ২০২০ সালের শুরুর দিকে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) শনাক্ত হয়। এর পর থেকে দেশে কয়েক দফায় সংক্রমণ বেড়েছে এবং জনস্বাস্থ্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সরকারিভাবে মাস্ক পরিধান, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, এবং জনসমাগম এড়ানোসহ স্বাস্থ্যবিধি পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে সময়ের সাথে সাথে সংক্রমণ হ্রাস পাওয়ায় এসব বিধিনিষেধ অনেকাংশে শিথিল করা হয়।

    সম্প্রতি দেশে আবারও কোভিড-১৯ সংক্রমণের হার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হতে দেখা গেছে। এরপরই আবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে সরকার।

  • জুলাই থেকে কলেজ পর্যায়ের শিক্ষকদের অনলাইন বদলি শুরু: শিক্ষা উপদেষ্টা

    জুলাই থেকে কলেজ পর্যায়ের শিক্ষকদের অনলাইন বদলি শুরু: শিক্ষা উপদেষ্টা

    আগামী জুলাই থেকে কলেজ পর্যায়ে অনলাইনে শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার।

    বুধবার (৪ জুন) সচিবালয়ে আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৫ এবং মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

    সি আর আবরার বলেন, শিক্ষার্থীদের হাতে সামান্য ভুল নিয়েও বই তুলে দিতে আমার মন সায় দিচ্ছেনা৷ তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যতটা সম্ভব নির্ভুল বই দিতে কাজ করছি।

    উপদেষ্টা বলেন, দেশে বেকার সমস্যা সমাধানে কারিগরি শিক্ষার ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ও নানা উদ্যোগ নিচ্ছে৷ আমরা চামড়া শিল্প, ওষুধ শিল্প, সিরামিক শিল্প সহ নানা খাতের শিল্প বিশেষজ্ঞ ও প্রতিনিধি নিয়েও আলাপ আলোচনা করেছি। আমরা মনে করি কারিগরি শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ সীমিত৷ এ সমস্যা সমাধানে আমরা যথাযথভাবে চেষ্টা করব।

  • যোগ্য উপাচার্য খুঁজতে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিবে সরকার

    যোগ্য উপাচার্য খুঁজতে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিবে সরকার

    পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে দেশের সরকারি বিশ্ববিদয়ালয়ের জন্য যোগ্য উপাচার্যদের খুঁজে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার।

    বুধবার (৪ জুন) সচিবালয়ে আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৫ এবং মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

    তিনি বলেন, উপাচার্য নিয়োগে নানা অসঙ্গতির কারনে আমরা উপাচার্য নিয়োগের জন্য একটি বোর্ড তৈরী করেছি৷ আমরা উপাচার্য নির্বাচনের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিব৷ এতে আগ্রহীরা আবেদন করবেন৷ এরপর যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যোগ্যদের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হবে।

    উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ এখন একটি শিক্ষা ব্যবস্থার সন্ধিক্ষণে দাড়িয়ে আছে৷ আমরা চাই প্রয়ুক্তি এমনভাবে ব্যবহার হোক যেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও সুবিধাভোগী হয়৷ আমরা চাই এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে যেখানে শিক্ষকরা পেশাগত মর্যাদা পায়।

    তিনি আরও বলেন, আমরা এমন এক বেতন ব্যবস্থা সৃষ্টি করা যেন তারা সন্মানজনক বেতন পান৷ আগামী জুলাই থেকে কলেজ পর্যায়ে অনলাইনে শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে৷ আমরা চাই একটা সচ্ছ বদলি প্রক্রিয়া৷ এসব কাজ সম্পন্ন করতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

  • বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হলেন রাবি অধ্যাপক কুদরত-ই-জাহান

    বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হলেন রাবি অধ্যাপক কুদরত-ই-জাহান

    বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম (ববিপ্রবি) উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন অধ্যাপক মো. কুদরত-ই-জাহান।

    মঙ্গলবার (৩ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব এ এস এম কাসেম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১ এর ১০ (১) ধারা অনুযায়ী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কুদরত-ই-জাহানকে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর পদে নিয়োগ প্রদান করা হলো।

    দায়িত্বের বিষয়ে অধ্যাপক কুদরত-ই-জাহান বলেন, ‘আমায় ভরসা করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি মডেল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করবো। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।’

    অধ্যাপক কুদরত-ই-জাহান ২০০৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে লেকচারার হিসেবে যোগদান করেন। এরপর থেকে তিনি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

    প্রসঙ্গত, ২০০১ সালের ১৫ জুলাই সংসদে পাস হওয়া বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম শুরু হয়নি। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ১০ মে সরকার এসআরও জারি করে আইনটি কার্যকর করে। এরপর অবকাঠামো ও প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের কাজ শুরু হয়।