Category: শিক্ষাঙ্গন

  • সারা দেশে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ আজ

    সারা দেশে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ আজ

    ছয় দফা দাবি আদায়ে আজ রবিবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের সব পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবেন কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাভুক্ত পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের জোট কারিগরি ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ।

    শনিবার (২৬ এপ্রিল) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। কারিগরি ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টেও এ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    গত ২২ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভা করেন কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। সেদিন রাতে আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার ঘোষণাও দেন তারা।

    পরদিন ২৩ এপ্রিল তারা আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা প্রত্যাহার করে ফের কর্মসূচি দেওয়ার কথা জানান। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পলিটেকনিক শিক্ষার্থীরা।

    পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের ৬ দফা দাবিগুলো হলো-

    • জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর পদে ক্রাফট ইনস্ট্রাক্টরদের পদোন্নতির হাইকোর্টের রায় বাতিলসহ ক্রাফট ইনস্ট্রাক্টর পদবি পরিবর্তন। মামলা বা রিট দায়ের করার সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা এবং ২০২১ সালের বিতর্কিত ক্রাফট ইনস্ট্রাক্টর নিয়োগের জন্য নিয়োগবিধি অনতিবিলম্বে বাতিল করা।
    • ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স চার বছর মেয়াদি অব্যাহত রাখা এবং মানসম্মত সিলেবাস ও কারিকুলাম আধুনিক বিশ্বের আদলে প্রণয়ন করা।
    • উপসহকারী প্রকৌশলী ও সমমান (দশম গ্রেড) পদে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং ও মনোটেকনোলজি (সার্ভেয়িং) হতে পাস করা শিক্ষার্থী ছাড়া অন্য কেউ আবেদন করতে পারবে না। এ পদ সংরক্ষিত করতে হবে। প্রাইভেট সেক্টরে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করা ছাত্রদের ন্যূনতম দশম গ্রেডের বেসিক অর্থাৎ ১৬ হাজার টাকা বেতন দিতে হবে।
    • কারিগরি শিক্ষা সংস্কার কমিটি প্রকাশ করে কারিগরি সেক্টর পরিচালনায় পরিচালক, উপ-পরিচালক, অধ্যক্ষ ও দায়িত্বে থাকা সকল পদে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত জনবলকে দায়িত্ব/নিয়োগ দেওয়া।
    • কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের বিতর্কিত সকল নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন এবং কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত জনবল সকল শূন্য পদে পলিটেকনিক ও টিএসসিতে দক্ষ শিক্ষক ও দক্ষ ল্যাব সহকারীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা।
    • ডিপ্লোমা ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং ও মনোটেকনোলজি থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য আধুনিক বিশ্বের আদলে একটি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করার গেজেট পাস করতে হবে। বর্তমানে প্রস্তাবিত চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (নওগাঁ, ঠাকুরগাঁও, নড়াইল, খাগড়াছড়ি) শতভাগ সিট নিশ্চিত করা।
  • আন্দোলনের মুখে ইউআইইউ’র ভিসি, ডিনসহ শীর্ষদের পদত্যাগ

    আন্দোলনের মুখে ইউআইইউ’র ভিসি, ডিনসহ শীর্ষদের পদত্যাগ

    শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে একযোগে পদত্যাগ করলেন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) উপাচার্য, অনুষদের ডিন এবং বিভাগীয় প্রধানরা।

    শনিবার (২৬ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার পর ইউআইইউ’র অফিসিয়াল ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।

    ফেসবুকের ওই পোস্টে ইউআইইউ জানিয়েছে, ‘ইউআইইউ-এর উপাচার্য পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অযৌক্তিক দাবির প্রতিবাদে, সকল ডিন, প্রধান এবং পরিচালকরা যৌথভাবে তাদের প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।’

    পদত্যাগকৃতদের মধ্যে রয়েছেন-সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবুল কাসেম মিয়া, সিএসই বিভাগের প্রধান ড. মুহাম্মদ নুরুল হুদা, ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্স রিসার্চের (আইএআর) নির্বাহী পরিচালক এবং এমেরিটাস অধ্যাপক ড. এম রিজওয়ান খান, স্কুল অব বিজনেজ অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মুসা, স্কুল অফ হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক ড. হামিদুল হক, স্কুল অব সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক ড. হাসান সারোয়ার, মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের (এমএসজে) বিভাগীয় প্রধান ড. শেখ মো. শফিউল ইসলামসহ আরও অনেকে।

    এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক ছাত্রীর বাবা মারা যান। ওই ছাত্রী মিডটার্ম পরীক্ষা পরে দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বরাবর একটি আবেদন করেন। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিলে সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। সেই আন্দোলনের মুখে আজ একযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্টরা একযোগে পদত্যাগ করলেন।

  • ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসিতে প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষক নিয়োগের ১১টি নির্দেশনা

    ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসিতে প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষক নিয়োগের ১১টি নির্দেশনা

    ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ২০২৫ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা (এইচএসসি পরীক্ষা) জন্য প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষক নিয়োগের জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রদান করেছে। eTIF-পূরণের ক্ষেত্রে ১১টি বিধিনিষেধ ও দিকনির্দেশনা মানতে হবে।

    জেনে নিন eTIF-পূরণের ১১টি বিধিনিষেধ ও দিকনির্দেশনা—
    ১. প্রতিষ্ঠানপ্রধানসহ কর্মরত সব শিক্ষকের পরীক্ষার গোপনীয় কাজ সম্পাদনের লক্ষ্যে eTIF পূরণ নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে অনুরোধ করা হয়েছে।

    ২. সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে, প্রধান পরীক্ষক হওয়ার জন্য অনেক শিক্ষক মাস্টার ট্রেইনার না হওয়া সত্ত্বেও eTIF-এর ডেটায় মাস্টার ট্রেইনারের কলাম এন্ট্রি করেছেন, যা গর্হিত অপরাধ। সুতরাং যাঁরা প্রকৃতপক্ষে মাস্টার ট্রেইনার নন, তাঁরা অনতিবিলম্বে eTIF-এর ডেটা থেকে মাস্টার ট্রেইনার কলাম সংশোধন করবেন, নতুবা এরূপ প্রতারণামূলক তথ্য প্রদানের জন্য আপনার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং প্রতিষ্ঠানপ্রধান সত্যায়নকারীর দায় এড়াতে পারবেন না। কারণ, প্রতিষ্ঠানপ্রধান হিসেবে তিনি প্রতিটি শিক্ষকের তথ্য অনুমোদনকারী।

    ৩. আরও দেখা যাচ্ছে, অনেক শিক্ষক তাঁদের পরীক্ষার ফলাফল তথ্য এসএসসি, এইচএসসি, স্নাতক (পাস), স্নাতক (সম্মান), মাস্টার্স, বিএড, এমএড, পিএইচডি ইত্যাদি পরীক্ষায় প্রাপ্ত বিভাগ/শ্রেণি eTIF-এর নির্দিষ্ট কলামে এন্ট্রি না করে ফাঁকা রাখেন, অথচ প্রধান পরীক্ষক, পরীক্ষক হওয়ার ক্ষেত্রে ফলাফলে সুনির্দিষ্ট পয়েন্ট রয়েছে। সুতরাং অবিলম্বে ওই কলামে নিজ নিজ প্রাপ্ত বিভাগ/শ্রেণি এন্ট্রি করবেন।

    ৪. First Joining-এর ক্ষেত্রে অনেকে তাঁর বর্তমান স্কুল/কলেজে যোগদানের তারিখ দিয়ে থাকেন। এ কারণে তাঁর শিক্ষকতার প্রকৃত অভিজ্ঞতার চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। উদাহরণস্বরূপ একজন শিক্ষক একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১০ বছর কর্মরত ছিলেন, পরবর্তী সময়ে বর্তমান প্রতিষ্ঠানে ৫ বছর কর্মরত আছেন, তাহলে তাঁর অভিজ্ঞতা হবে ১৫ বছর, এ ক্ষেত্রে বর্তমান প্রতিষ্ঠানে যোগদানের তারিখ দিয়ে ডেটা এন্ট্রি করলে অভিজ্ঞতা ৫ বছর বিবেচনায় আসবে। সুতরাং তাঁর First Joining হবে প্রথমম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগদানের তারিখ। উল্লেখ্য, প্রতিবছর সার্ভিসের জন্য আলাদা পয়েন্ট রয়েছে।

    ৫. শিক্ষকদের ডেটা পূরণের সময় অবশ্যই সোনালী ব্যাংকের (১৩ ডিজিটের) হিসাব নম্বর প্রদান করতে হবে।

    ৬. খণ্ডকালীন, অনিয়মিত এবং অক্ষম ও গুরুতর অসুস্থ শিক্ষকদের তথ্য eTIF-এ পূরণ করা যাবে না।

    ৭. যে শিক্ষক যে বিষয়ে পাঠদান করান বা করেন শুধু সে বিষয়েই Select করতে পারবেন।

    ৮. কলেজের ক্ষেত্রে শুধু যে বিষয়ে অনার্স, মাস্টার্স করেছেন সে বিষয়েই Select করতে পারবেন।

    ৯. শিক্ষকদের সব সনদ নিয়োগপত্র ইত্যাদি তথ্য–প্রমাণাদি প্রতিষ্ঠানপ্রধানের কাছে সংরক্ষণ করতে হবে। প্রয়োজনে বোর্ড সেগুলো তলব করবে।

    ১০. eTIF পূরণে কোনো তথ্য গোপন বা অসত্য তথ্য সংযোজন করলে এর দায়দায়িত্ব প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে বহন করতে হবে।

    ১১. যেসব শিক্ষক PRL-রত অবস্থায় বা চাকরি ৬০ বছর চলমান (বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে) তাঁরা/তাঁদের ডেটা নিজ দায়িত্বে ডিলিট করতে হবে। যেসব শিক্ষক মৃত্যুবরণ করেছেন, তাঁদের তথ্য প্রতিষ্ঠানপ্রধান মুছে ফেলবেন।

    তথ্য পাঠানোর শেষ তারিখ—
    eTIF–সংক্রান্ত তথ্য আগামী ০১-০৬-২০২৫ তারিখের মধ্যে অবশ্যই পাঠাতে হবে। এরপরে পাঠানো কোনো তথ্য ২০২৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষার জন্য প্রযোজ্য হবে না।

  • শেকৃবির ৯ শিক্ষকের একাডেমিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা

    শেকৃবির ৯ শিক্ষকের একাডেমিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা

    শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) নয় জন শিক্ষককে কোর্স ও পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় একাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৪তম সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শেখ রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের হুমকি-ধামকি, মিথ্যা মামলা দায়ের ও হল ত্যাগে বাধ্য করার মতো কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ৯ জন শিক্ষককে তদন্ত চলাকালীন নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্স ও পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

    নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা হলেন- অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ; অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল হক বেগ, পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগ; অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী, কীটতত্ত্ব বিভাগ; অধ্যাপক ড. নুরজাহান বেগম, কৃষি রসায়ন বিভাগ; অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুল হক কাজল, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড পোভার্টি স্টাডিজ বিভাগ ; অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান, কীটতত্ত্ব বিভাগ; অধ্যাপক ড. অশোক কুমার ঘোষ, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড পোভার্টি স্টাডিজ বিভাগ; অধ্যাপক ড. উদয় কুমার মহন্ত, মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড প্যারাসাইটোলজি বিভাগ; অধ্যাপক ড. মো. সেকেন্দার আলী, কৃষি সম্প্রসারণ ও ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগ।

  • কৃত্রিম খাদ্যে খাঁচায় কোরাল মাছ চাষে বাকৃবি গবেষকের সফলতা

    কৃত্রিম খাদ্যে খাঁচায় কোরাল মাছ চাষে বাকৃবি গবেষকের সফলতা

    স্বাদ ও পুষ্টির কারণে উচ্চমূল্যের সামুদ্রিক মাছ হিসেবে পরিচিত কোরাল বা ভেটকি মাছ। দেশে প্রথমবারের মতো খাঁচায় কৃত্রিম খাদ্য ব্যবহার করে কোরাল মাছ চাষে সফলতা পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহানের নেতৃত্বে গবেষক দল।

    গবেষণায় সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী জাবেদ হাসান। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এবং মৎস্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে সাসটেইনেবল কোস্টাল মেরিন ফিশারিজ প্রজেক্টের (এসসিএমএফপি) আওতায় এ গবেষণা পরিচালিত।

    প্রধান গবেষক ড. মো. শাহজাহান বলেন, এ গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রে ভাসমান খাঁচায় কৃত্রিম সম্পূরক খাদ্য ব্যবহার করে ভেটকি চাষের সম্ভাব্যতা যাচাই করা। দেশের উপকূলীয় তিনটি অঞ্চলে (সাতক্ষীরার মুন্সীগঞ্জ, কক্সবাজারের মহেশখালী এবং ভোলার চর কুকরি-মুকরি) এই গবেষণার মাঠপর্যায়ের কাজ হয়। প্রত্যেক এলাকায় স্থানীয় মৎস্যজীবী সম্প্রদায়কে সম্পৃক্ত করে খাঁচা তৈরি থেকে শুরু করে চাষের প্রতিটি ধাপে তাদের যুক্ত করা হয়।

    খাঁচায় কোরাল মাছের চাষ পদ্ধতি ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে গবেষক ড. মো. শাহজাহান বলেন, ৬.৭ মিটার বৃত্তাকার খাঁচার ধারণক্ষমতা ছিল ৬০ ঘনমিটার। প্রতি ঘনমিটারে ১৫টি করে পোনা মজুত করা হয়। কৃত্রিম সম্পূরক খাদ্য ব্যবহার করে টু-টায়ার চাষ পদ্ধতি অর্থাৎ প্রথমে জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসে নার্সিং (প্রাক-পর্যায় চাষ) এবং পরে খাঁচায় স্থানান্তর করে বড় করার মাধ্যমে এই মাছ চাষ করা হয়।

    ভেটকি মাছ রাক্ষুসী প্রকৃতির হওয়ায় প্রথমে তাদের তেলাপিয়া মাছ কেটে (মাছের মুখের আকার অনুযায়ী) খাওয়ানো হয়। এরপর ধাপে ধাপে বাণিজ্যিক ফিডের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ানো হয় এবং শেষে গবেষণাগারে তৈরি করা উচ্চ ৩৭ শতাংশ প্রোটিনযুক্ত সম্পূরক খাদ্যে অভ্যস্ত করা হয়।

    গবেষণায় দেখা গেছে, কৃত্রিম খাদ্যে মাছের বৃদ্ধি বা পুষ্টিগুণে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বছর শেষে প্রতিটি খাঁচা থেকে গড়ে ৮০০ থেকে ৮৫০ কেজি মাছ উৎপাদিত হয়েছে। প্রতি ঘনমিটারে উৎপাদন হয়েছে ১৩ থেকে ১৭ কেজি। খাঁচায় চাষকৃত মাছের গড় আমিষের পরিমাণ ১৯ গ্রাম, যেখানে সাধারণ কোরালে এই পরিমাণ ১৭ গ্রাম।

    গবেষক ড. মো. শাহজাহান বলেন, খাঁচায় এই মাছ চাষে ১ টাকা বিনিয়োগে প্রায় ১ দশমিক ৭০ টাকা আয় নিশ্চিত করা সম্ভব। তাছাড়া নদীর জায়গা ব্যবহারে কোনো জমি ভাড়া দিতে না হওয়ায় কৃষকদের খরচও কমে আসে। ৫ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত একটি খাঁচা ব্যবহারযোগ্য যেখানে প্রতিবারে প্রায় ১ হাজার কেজি মাছ চাষ করা সম্ভব। বর্তমানে প্লাস্টিক দিয়ে খাঁচা তৈরি করা হলেও, প্রান্তিক চাষিরা চাইলে বাঁশ বা সাধারণ মাছ ধরার জাল দিয়েও কম খরচে এটি তৈরি করতে পারবেন।

    এ পদ্ধতিতে রোগবালাইয়ের আশঙ্কা কম, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি কম এবং মাছের একে অপরকে খেয়ে ফেলার সম্ভাবনাও থাকে না। ০ থেকে ৩৫ পিপিটি (পার্টস পার মিলিয়ন) লবণাক্ত পানিতেও এই মাছ টিকে থাকতে পারে, যা একে উপকূলীয় চাষের জন্য উপযোগী করে তুলেছে।

    খাঁচায় ভেটকি চাষ শুধু মাছ উৎপাদন বাড়াবে না, বরং উপকূলীয় অঞ্চলের দরিদ্র মৎস্যজীবীদের জন্য বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি করবে। প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার করে মেরিকালচারের (সামুদ্রিক মাছচাষ) বিকাশের একটি টেকসই পথ দেখাবে এই প্রযুক্তি। এতে আমাদের মৎস্য উৎপাদন বহুগুণে বাড়বে এবং ব্লু ইকোনমিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ জোরদার হবে।

  • জবি রেজিস্ট্রারের পদত্যাগে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

    জবি রেজিস্ট্রারের পদত্যাগে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ গিয়াস উদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া দায়িত্বে অবহেলা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণে রেজিস্ট্রারের জবাবদিহিতার দাবি জানান তারা।

    বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে শহিদ মিনারের পাদদেশ থেকে মিছিল নিয়ে কাঁঠালতলা ও সাইন্স ফ্যাকাল্টি ঘুরে ভিসি ভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় ভিসি ভবনের সামনে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ গিয়াস উদ্দীনের একটি কুশপুত্তলিকা দাহ করেন তারা। এ সময় বিক্ষোভ মিছিলে বিশ্বিবদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    বিক্ষোভ মিছিলে ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো, রেজিস্ট্রারের গদিতে আগুন জ্বালো একসাথে; ওয়ান টু থ্রি ফোর, রেজিস্ট্রার নো মোর; এক দুই তিন চার রেজিস্ট্রার তুই গদি ছাড়; কুয়েট থেকে শিক্ষা নে, রেজিস্ট্রার তুই গদি ছাইড়া দে; দফা এক দাবি এক, রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ- ইত্যাদি স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।

    বিক্ষোভ সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জবি শাখার আহ্বায়ক মাসুদ রানা বলেন, আপনারা জানেন, ৫ আগস্ট হয়েছিল স্বৈরাচারী মনোভাব ও শাসনের বিরুদ্ধে। কিন্তু এর পরেও ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী, ফ্যাসিস্টের দোসররা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। আমার মনে হয়, হাসিনা দিল্লি থেকে তাদের মদদ দিচ্ছে। তাদেরই একজন এই রেজিস্ট্রার গিয়াস, তার দপ্তরে গেলে তিনি বলেন, বের হয়ে যাও। বদমেজাজি এ ধরনের লোক আমরা প্রসাশনে চাই না।

    সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট সভাপতি ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইভান তাহসীব বলেন, ক্যাম্পাসে একের পর এক চুরির ঘটনায় প্রসাশনের পদক্ষেপ ও নিরাপত্তা চাইতে গিয়ে রেজিস্ট্রারেরর কাছে দায়িত্বহীন বক্তব্য পাই। শিক্ষার্থীদের নিরপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব নাকি তার নয়। রেজিস্টরের এই ঘৃণিত বক্তব্যের প্রতিবাদ করতে হবে। তাকে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। আমরা এর জবাবদিহিতা চাই।

    ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি একেএম রাকিব বলেন, অযোগ্য লোককে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে রাখায় দেশের উন্নতি হয় না। প্রশাসনকে জবাবদিহি করতে হবে, কেন একজন একাডেমিশিয়ানকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে? রেজিস্ট্রার, আপনি সাবধান হয়ে যান, ক্ষমতার হাতই যদি চূড়ান্ত হয় তবে শিক্ষার্থীরা আপনাকে রুখে দিবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমরা রেজিস্ট্রারের অব্যাহতি চাই, অন্যথায় কঠিন কর্মসূচি ঘোষণা করব।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব প্রশাসনের। যে শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন, আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা আলোচনা করে ব্যবস্থা নেব।

  • বার কাউন্সিলের এমসিকিউ পরীক্ষা শুক্রবার, প্রার্থীদের জন্য ৬ নির্দেশনা

    বার কাউন্সিলের এমসিকিউ পরীক্ষা শুক্রবার, প্রার্থীদের জন্য ৬ নির্দেশনা

    বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অধীনে অনুষ্ঠিত আইনজীবী তালিকাভুক্তির এমসিকিউ পরীক্ষা আগামীকাল (২৫ এপ্রিল) শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ঘণ্টাব্যাপী চলবে এ পরীক্ষা।

    রাজধানীর ২৭টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষায় অংশ নেবেন প্রায় সাড়ে ৮ হাজার শিক্ষানবিশ আইনজীবী। এর আগে গত ২৩ এপ্রিল পরীক্ষার আসনবিন্যাস ও নির্দেশনা প্রকাশ করে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। এতে ৬টি নির্দেশনা উল্লেখ করা হয়েছে।

    সেগুলো হলো : এক. বার কাউন্সিল প্রদত্ত এমসিকিউ পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড ব্যতীত কোনো পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

    দুই. প্রার্থীদের সিট প্ল্যান অনুযায়ী নিজ নিজ পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে। এক কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী অন্য কোনো কেন্দ্রে এসে হাজির হলে তার পরীক্ষা ওই কেন্দ্রে গ্রহণ করা সম্ভব হবে না।

    তিন. পরীক্ষাকেন্দ্রে কোনো প্রকার ইলেকট্রনিকস ডিভাইস, মোবাইল ফোন, হিয়ারিং এইড, স্মার্ট ওয়াচ, ডাটা ট্রান্সফার করা যায় এরূপ যেকোনো প্রকার ডিভাইস, নোট বই, খাতা প্রভৃতি সঙ্গে রাখা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। পরীক্ষা চলাকালীন প্রার্থীদের তাদের উভয় কান দৃশ্যমান রাখতে হবে।

    চার. অ্যাডমিট কার্ডে মুদ্রিত প্রার্থীদের জন্য নির্দেশনাসমূহ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। এছাড়াও ওএমআর উত্তরপত্রে মুদ্রিত নির্দেশাবলী সতর্কতার সাথে অনুসরণ করতে হবে।

    পাঁচ. এমসিকিউ পরীক্ষা শুরু হয়ে যাওয়ার পর কোনো প্রার্থীকে পরীক্ষা-কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। একই ভাবে, পরীক্ষা সমাপ্ত হবার পূর্বে কোনো প্রার্থীকে পরীক্ষার কক্ষ/কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।

    ছয়. পরীক্ষা-কেন্দ্রে/কক্ষে কেনো প্রকার অসদুপায় অবলম্বন, দায়িত্বরত ইনভিজিলেটর/শিক্ষক/কেন্দ্র পরিদর্শক/পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত যে কোনো ব্যক্তির সাথে অসদাচরণ, পরীক্ষা-কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ইত্যাদি যে কোনো প্রকার অননুমোদিত/শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজে লিপ্ত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে কেন্দ্র থেকে বহিস্কার/নীরব বহিষ্কার করাসহ ক্ষেত্রমতে দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক আইনগত পদক্ষেপ এবং প্রয়োজনে বার কাউন্সিলের পরবর্তী পরীক্ষায় নিষিদ্ধকরণসহ প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • সব জেলায় স্বতন্ত্র পরীক্ষা কেন্দ্র করবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

    সব জেলায় স্বতন্ত্র পরীক্ষা কেন্দ্র করবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

    দেশের ৬৪ জেলায় স্বতন্ত্র পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। একই সঙ্গে আটটি লার্নিং সেন্টার, একটি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও আটটি আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সেশনজট ও পড়াশোনার ক্ষতি কমাবে এই উদ্যোগ।

    বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এর অগে মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ২৬৮তম সিন্ডিকেট সভায় স্বতন্ত্র পরীক্ষা কেন্দ্র, আঞ্চলিক কেন্দ্র, লার্নিং সেন্টার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বতন্ত্র পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরীক্ষার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ের মাধ্যমিক (এসএসসি) ও উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া পিএসসিসহ অন্য সরকারি ও বেসরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষাও সেখানে সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হবে।

    পরীক্ষা চলাকালীন কলেজগুলোতে দীর্ঘসময় ক্লাস বন্ধ থাকে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যাঘাত ঘটে। স্বতন্ত্র পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করা হলে সেশনজট কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।

    এতে আরও বলা হয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান এবং দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন কোর্সে প্রশিক্ষণের জন্য কুয়াকাটা (পটুয়াখালী), টেকনাফ (কক্সবাজার), রাঙ্গামাটি, হবিগঞ্জ, তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়), শ্যামনগর (সাতক্ষীরা), শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) ও হাতিয়ায় (নোয়াখালী) লার্নিং সেন্টার করা হবে।

    অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য চুয়াডাঙ্গা জেলায় শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণের জন্য ঢাকা, যশোর, কুষ্টিয়া, ঠাকুরগাঁও, নোয়াখালী, পটুয়াখালী, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজার জেলায় আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলেও জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

  • গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা শুরু শুক্রবার, প্রথমদিনে পরীক্ষার্থী ২৩ হাজার

    গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা শুরু শুক্রবার, প্রথমদিনে পরীক্ষার্থী ২৩ হাজার

    গুচ্ছভুক্ত ১৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রথমবর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে শুক্রবার (২৫ এপ্রিল)। এদিন বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকাসহ সারাদেশের ২০টি কেন্দ্রে ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদন করেছেন ২৩ হাজার ৫৪ জন ভর্তিচ্ছু।

    বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা গ্রহণে সবগুলো কেন্দ্রে প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।

    ঢাবিসহ ২০ কেন্দ্রে ভর্তি পরীক্ষা
    ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

    গত ৫ মার্চ থেকে গুচ্ছ ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা চলে ১৭ মার্চ রাত ১২টা পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করেন দুই লাখ ৩৭ হাজার ৭৮৭ ভর্তিচ্ছু। এর মধ্যে বিজ্ঞান শাখার ‘এ’ ইউনিটে এক লাখ ৪২ হাজার ৬৮৮ জন ও মানবিক শাখার ‘বি’ ইউনিটে আবেদন করেন ৭২ হাজার ৪৫ জন। এছাড়া বাণিজ্য শাখার ‘সি’ ইউনিটের ২৩ হাজার ৫৪ জন ভর্তিচ্ছু। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী—আগামী ২ মে মানবিক শাখার ‘বি’ ইউনিট এবং ৯ মে বিজ্ঞান শাখার ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

  • এশিয়ার সেরা ৩০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বাংলাদেশের শূন্য

    এশিয়ার সেরা ৩০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বাংলাদেশের শূন্য

    যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই) বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিং প্রকাশ করে থাকে। এবারও সেই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

    প্রতিষ্ঠানটির ‘২০২৫ সালের এশিয়ার সেরা বিশ্ববিদ্যালয়’ তালিকায় বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে স্থান পেয়েছে মোট ২৪ বিশ্ববিদ্যালয়। এ তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে (বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ)।

    বুধবার (২৩ এপ্রিল) তাদের ওয়েবসাইটে এ র‍্যাংকিং প্রকাশ করে। তালিকায় এশিয়ার ৩৫টি অঞ্চলের ৮৫৩টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিংয়ে এটি ১৩তম সংস্করণ।

    তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এশিয়া অঞ্চলে সেরা ৩০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাংলাদেশের কোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জায়গা হয়নি। তালিকায় ৩০১ থেকে ৩৫০-এর মধ্যে স্থান করে নিয়ে যৌথভাবে দেশসেরা বুয়েট ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

    তালিকায় ৩৫১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে স্থান করে নিয়েছে দেশের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়। সেগুলো হলো- গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় (এনএসইউ)।

    ৪০১-৫০০ এর মধ্যে অবস্থান করছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি), চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)।

    ৫০১-৬০০ এর মধ্যে অবস্থান করছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (এআইইউবি), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)।

    এছাড়া তালিকায় স্থান পেয়েছে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইউ), ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ), ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) ও রাজশাহীতে অবস্থিত বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়।

    এদিকে, ২০২৪ সালে এশিয়ার সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষে ছিল বেসরকারি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি। গতবারের তালিকায় এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম থাকলেও এবার রয়েছে ১২তম স্থানে।

    র‍্যাংকিংয়ে বিরাট পতন হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরও। বিগত র‌্যাংকিংগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রথম কিংবা দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও এবার তলানিতে। প্রকাশিত তালিকায় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান দশম।