Category: শিক্ষাঙ্গন

  • সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দাবি

    সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দাবি

    সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদ। এক সপ্তাহের মধ্যে সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। দাবি মেনে নেওয়া না হলে কঠোর কর্মসূচি নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    শনিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে নগরের চৌহাট্টা এলাকার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাজী মাসুদ। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত ২৩৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সাবেক উপাচার্য এনায়েত হোসেন তাঁদের চাকরি স্থায়ীকরণের আশ্বাস দিলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৩ সালে দুই দফায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। তবে এখনো নিয়োগপ্রক্রিয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সাবেক উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার গা ঢাকা দেন। পরে রেজিস্ট্রার ৩০ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন এবং ৭ নভেম্বর উপাচার্য ক্যাম্পাসে গেলে তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। প্রশাসনের অনুরোধে ১৫ দিনের মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবিদাওয়া মেনে নেওয়ার আশ্বাসে উপাচার্যকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অস্থায়ী কর্মকর্তা–কর্মচারীদের নিয়োগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন নাজমুল ইসলামকে সভাপতি করে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়।

    পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে ৬ ডিসেম্বর অনিয়মিত নিয়োগপ্রাপ্তদের চাকরি নিয়মিতকরণের লক্ষ্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত ১৯ ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদনপত্র জমা দেন। পরবর্তী সময়ে ৩১ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি তাঁদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়।

    গত বছরের ২০ ডিসেম্বর সাবেক উপাচার্য এনায়েত হোসেন পদত্যাগ করেন। চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি নতুন উপাচার্য হিসেবে ইসমাইল হোসেন পাটোয়ারী যোগ দেন। তিনি যোগ দেওয়ার পর ১৬ মার্চ অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। ২৩ মার্চের সিন্ডিকেট সভায় তদন্ত কমিটির সভাপতি না থাকায় বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়নি। সিন্ডিকেট সভার পর থেকে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ে আর অফিস করেননি। তিনি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের স্বৈরাচারের দোসরদের দিয়ে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

  • উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে মাস্টার্সের সুযোগ

    উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে মাস্টার্সের সুযোগ

    বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপেন স্কুল পরিচালিত মাস্টার অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে (এমডিএস) ৩য় ব্যাচে (জুলাই, ২০২৫) ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    ভর্তির জন্য দরকারি
    ১. টিউটোরিয়াল ক্লাস অনলাইন-অফলাইন পদ্ধতিতে প্রতি শুক্রবার ও শনিবারে পরিচালিত হবে।
    ২. সেমিস্টার শেষে পরীক্ষা বাউবির মেইন ক্যাম্পাস, বোর্ডবাজার, গাজীপুরে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অনুষ্ঠিত হবে।

    প্রোগ্রামের বিস্তারিত তথ্য
    ১. দুই বছর মেয়াদ, চার সেমিস্টার।
    ২. মোট ১৬ কোর্স, ৬৫ ক্রেডিট।
    ৩. এমডিএস প্রোগ্রামের মেয়াদ পাঁচ বছর।

    আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা
    ১.এমডিএস প্রোগ্রামে আবেদন করার ন্যূনতম যোগ্যতা হচ্ছে মানবিক, বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষাসহ যেকোনো বিষয়ে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়/কলেজ থেকে ৩/৪ বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রি অথবা যেকোনো বিষয়ে একটি মাস্টার্স ডিগ্রিসহ ২ বছর মেয়াদি স্নাতক (পাস)।

    ২. শিক্ষাজীবনের যেকোনো পর্যায়ে অনধিক একটি ৩য় বিভাগ/শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএ থাকলেও আবেদন করা যাবে।

    ৩. অতিরিক্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা (পরীক্ষার ফলাফল, মাস্টার্স/উচ্চতর ডিগ্রি) আবেদনকারীর ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে স্কোর হিসেবে যুক্ত হবে।

    আবেদন ফির বিস্তারিত
    ১. আবেদন ফরম ফি : এক হাজার টাকা।
    ২. কোর্স ফি : বার হাজার টাকা।
    ৩. প্রথম সেমিস্টারে মোট ভর্তি ফি : ১৯১০০ টাকা।

    ভর্তিসংক্রান্ত তথ্য
    ১. শুধু অনলাইনে আবেদন করতে হবে।
    ২. আবেদনের ওয়েবসাইট:
    ৩. অনলাইনে আবেদনের শেষ তারিখ: ১৭ জুন ২০২৫।
    ৪. প্রাথমিকভাবে মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৫।
    ৫. ভর্তির মৌখিক পরীক্ষা: ২৭ ও ২৮ জুন ২০২৫।
    ৬. চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের তালিকা প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৫।
    ৭. ভর্তি ফি জমা দিয়ে ভর্তিসম্পন্ন করার তারিখ: ১ থেকে ১২ জুলাই ২০২৫ ।
    ৮. ওরিয়েন্টেশন হবে সরাসরি: ১৮ জুলাই ২০২৫। স্থান: বাউবির মেইন ক্যাম্পাস, বোর্ডবাজার, গাজীপুর।
    ৯ টিউটোরিয়াল ক্লাস: ২৫ জুলাই ২০২৫।

  • জাবির মার্কেটিংয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু, আবেদন শেষ ২৪ এপ্রিল

    জাবির মার্কেটিংয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু, আবেদন শেষ ২৪ এপ্রিল

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) মার্কেটিং বিভাগে ফল সেমিস্টার-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে এমবিএ ইন মার্কেটিং প্রোগ্রামে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আবেদনের শেষ তারিখ ২৪ এপ্রিল।

    কোর্সের বিস্তারিত—
    ১. প্রোগ্রামের মেয়াদ ১৬ মাস।
    ২. আবেদন ফি ১২০০ টাকা।
    ৩. এটা ৪৮ ক্রেডিট ঘণ্টার এমবিএ প্রোগ্রাম।
    ৪. ক্লাস হবে শুক্র ও শনিবার।

    যারা আবেদন করতে পারবেন—
    ১. আবেদনকারীকে যেকোনো বিষয়ে অবশ্যই চার বছরের ব্যাচেলর ডিগ্রি বা তিন বছরের অনার্সসহ মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করতে হবে।
    ২. ব্যাচেলর ডিগ্রিতে সিজিপিএ ২.৫০ পেতে হবে (৪.০০–এর মধ্যে) বা দ্বিতীয় শ্রেণিতে পাস করতে হবে।
    ৩. আবেদন করতে দেখতে পারেন
    ৪. পরীক্ষার সময় প্রার্থীকে সব পরীক্ষার মূল সার্টিফিকেট, ট্রান্সক্রিপ্ট ও অভিজ্ঞতার সনদপত্র অবশ্যই দেখাতে হবে।

    ভর্তি পরীক্ষার বিস্তারিত—
    ১. ভর্তি এমসিকিউ, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে হবে।
    ২. এমসিকিউ নম্বর ৮০। বিষয়: গণিত ৩০, ইংরেজি ৩০, সাধারণ জ্ঞান ১০, বিশ্লেষণের দক্ষতা ১০ নম্বর।
    ৩. লিখিত অংশের নম্বর ১০।
    ৪. মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ১০। মোট নম্বর ১০০।

    ভর্তির দরকারি তারিখ—
    ১. আবেদনের শেষ তারিখ: ২৪ এপ্রিল ২০২৫।
    ২. লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার তারিখ: ২৫ এপ্রিল ২০২৫।
    ৩. লিখিত পরীক্ষার সময়: বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২.১০টা।
    ৪. মৌখিক পরীক্ষার সময়: দুপুর ১২.২০টা থেকে বেলা ১.২০টা।

    বিস্তারিত তথ্য জানতে ভিজিট করুন জাবির ওয়েবসাইট

  • কুবিতে ভর্তি পরীক্ষা ১৯ ও ২৫ এপ্রিল, মানতে হবে ৭টি নিয়ম

    কুবিতে ভর্তি পরীক্ষা ১৯ ও ২৫ এপ্রিল, মানতে হবে ৭টি নিয়ম

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৯ ও ২৫ এপ্রিল ২০২৫। প্রতিটি পরীক্ষার্থীকে অবশ্যই সাতটি নিয়ম মানতে হবে।

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটির এক যৌথ সভায় পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    এই ৭টি নিয়ম হলো-

    ১. পরীক্ষার্থীদের যানজটের কথা বিবেচনা করে এক দিন আগেই কুমিল্লায় অবস্থান করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    ২. পরীক্ষার্থীরদের পরীক্ষা শুরু হওয়ার এক ঘণ্টা আগেই নিজ নিজ কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবে এবং পরীক্ষা শুরু হওয়ার ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে হবে।

    ৩. পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর কোনো পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

    ৪. ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস (মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, ঘড়ি, ক্যামেরা, ট্যাব, এটিএম কার্ড, ব্লুটুথ বা অন্য কোনো ডিভাইস ইত্যাদি ) সঙ্গে রাখতে পারবে না।

    ৫. পরীক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ ব্যাগ সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে পারবে এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস (মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, ঘড়ি, ক্যামেরা, ট্যাব, এটিএম কার্ড, ব্লুটুথ বা অন্য কোনো ডিভাইস ইত্যাদি ) যদি সঙ্গে থাকে, তবে সে গুলো তাদের নিজ নিজ ব্যাগে রেখে ওই ব্যাগ পরীক্ষার হলের সামনের অংশের কর্নারে রেখে পরীক্ষা দিতে পারবে।

    ৬. পরীক্ষার নিরাপত্তার স্বার্থে পরীক্ষার হলে কোনো পরীক্ষার্থীদের কানে কোনো ডিভাইস আছে কি না, তল্লাশি করে দেখা হবে।

    ৭. পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে তালিকাভুক্ত সংশ্লিষ্ট বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ব্যতীত পরিদর্শকসহ অন্য কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না।

    ভর্তির বিস্তারিত তথ্য জানতে ভিজিট করুন ওয়েবসাইট

  • জুলাই হামলায় জড়িতদের শনাক্তে ছায়া তদন্ত কমিটি ঢাবি শিক্ষার্থীদের

    জুলাই হামলায় জড়িতদের শনাক্তে ছায়া তদন্ত কমিটি ঢাবি শিক্ষার্থীদের

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে ১৪ ও ১৫ জুলাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের শনাক্তে গঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে ছায়া তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

    বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতিতে এক সংবাদ সম্মেলন করে ৩৪ সদস্যের এই ছায়া তদন্ত কমিটির ঘোষণা করা হয়।

    শিক্ষার্থীদের তদন্ত কমিটিকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা। তিনি বলেন, তারা যদি এ নিয়ে কাজ করে কিছু তথ্য প্রমাণাদি বের করে, তাহলে তো আমি বলব এটা আমাদের তথ্যানুসন্ধান কমিটির কাজকে সহায়তা করবে।

    সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রেজওয়ান আহম্মেদ রিফাত। তিনি বলেন, ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে হামলার শিকার ও প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে একটি ছায়া তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান কাজ হবে জুলাই–আগস্টে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা। এক মাসের মধ্যে শ্বেতপত্রটি প্রকাশ করা হবে।

    এ সময় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের উপযুক্ত তথ্য–প্রমাণ দিয়ে হামলাকারীদের তালিকা প্রণয়নে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান রেজওয়ান আহম্মেদ। গুগল ফরম হিসেবে https://forms.gle/bZgSD8EVo3nTCZru8 এবং তাদের ফেসবুক পেজ বা টেলিগ্রামে তথ্য–প্রমাণ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। একই সঙ্গে ছায়া তদন্ত কমিটির সঙ্গে কাজ করতে বিভাগভিত্তিক প্রতিনিধি এবং ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করতে কমিটির যেকোনো সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রেজওয়ান আহম্মেদ বলেন, ‘সময় যত যাচ্ছে, তথ্য–প্রমাণ মুছে যাচ্ছে। তাই আমরা একটা শ্বেতপত্র তৈরি করে রেখে দিতে চাই, যেন আগামী প্রজন্ম মনে রাখে যে কারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল। আমরা এটা পরে প্রশাসনের কাছে জমা দেব। প্রশাসন চাইলে আমাদের রিপোর্ট বিবেচনায় নিয়ে তদন্তে নামতে পারে।’ অনলাইনে উসকানি দেওয়া, ফেসবুক মেসেঞ্জারে হামলার বিষয়ে ইন্ধন দেওয়ার ব্যক্তিদেরও এ তালিকায় রাখা হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সর্দার নাদিম মাহমুদ বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হাজারখানের ছাত্রলীগের নেতা–কর্মী হামলা চালান। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটিতে আমরা মাত্র ১২৮ জনের নাম পাই। তাই আমাদের এই উদ্যোগ।’

    ছায়া তদন্ত কমিটির সদস্য যারা : রেজওয়ান আহমেদ রিফাত, নাজিমুদ্দিন সাইফ, স্মৃতি আফরোজ সুমি, মিনহাজুল আলী ঈশান, নুরুল ইসলাম, নাহিদ, ঐতিহ্য আনোয়ার ওহী, রওনক জাহান, জাহেদ হোছাইন, রুহুল আমিন রবিন, আবু মিশাল, সর্দার নাদিম মাহমুদ শুভ, আরিফুর রহমান, আহমেদ তানভীর, মো. আরমান হোসেন, মোনতাকিম তালুকদার, মাহমুদ রিদওয়ান, বায়েজিদ হাসান, এ এ এম মোজাহিদ, মো. দেলোয়ার হোসেন, তাপসী রাবেয়া, রাকিব রহমান, মো. মুঈনুজ্জামান, মুসআব আব্দুল্লাহ খন্দকার, মোহাম্মদ তৌফিকুল ইসলাম, মো. পাভেল আহমদ, নাফিসা তাবাসসুম মিথিলা, পারভেজ গাজী, মো. রুবায়েত হাসান রিমন, ইমরান সাদমান, আবু উবাইদা আব্দুল্লাহ খন্দকার, মো. জহির রায়হান, মো. মারুফ হাসান, মো. তরিকুল ইসলাম ও ওমর ফাইয়াজ তামিম।

  • জকসু নীতিমালা প্রকাশসহ ৮ দফা দাবি জবি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের

    জকসু নীতিমালা প্রকাশসহ ৮ দফা দাবি জবি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের

    তিন কার্যদিবসের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (জকসু) নীতিমালা ও নির্বাচনী রোডম্যাপ প্রকাশ, ফ্যাসিস্ট হামলাকারী ও ইন্ধনদাতাদের বিচারসহ আট দফা দাবি জানিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ।

    বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহীদ রফিক ভবনের নিচে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান। তাদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে, জুলাই আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের সব অ্যাকাডেমিক ফি মওকুফ করা, গত ১৫ বছরে সব নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছ তদন্ত ও প্রতিবেদন প্রকাশ করা।

    দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সম্পন্ন ও অগ্রগতির প্রকাশ এবং ২০ কার্যদিবসের মধ্যে সব দুর্নীতির শ্বেতপত্র উপস্থাপন। শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন। ১৫ দিনের মধ্যে দুটি হলের নির্মাণকাজ শুরু করা। আবাসন বৃত্তি প্রদান ও আনুপাতিক বাজেট বরাদ্দকরণ, সমাবর্তন আয়োজন।

    সংবাদ সম্মেলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র নওশীন নাওয়ার জয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান বৈষম্য, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার শিক্ষার্থীরা। তবুও যথাযথ প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের উত্থাপিত দাবিসমূহের পুঙ্খানুপুঙ্খ বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনের সর্বশেষ উদ্যোগের ভিত্তিতে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি।

    বিশ্ববিদ্যালয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক মেহেদী হাসান বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিলেও ছিটেফোঁটাও বাস্তবায়ন করে নাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসুর রোডম্যাপ ঘোষণা করলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এখনো জকসু নীতিমালা প্রণয়ন শেষ করতে পারেনি। আমরা আগামী তিন দিনের মধ্যে জকসু রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছি।

    সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের নেতা কিশোর সাম্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব সিফাত হাসানসহ সংগঠন দুটির অন্যান্য নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • রাবির ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ

    রাবির ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি–সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

    এ–সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষায় ‘বি’ ইউনিটের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। বিজনেস স্টাডিজ অনুষদভুক্ত ৬টি বিভাগ ও ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট ‘বি’ ইউনিটের অন্তর্ভুক্ত। ভর্তি–সংক্রান্ত রাবি ওয়েবসাইট তে লগইন করে ভর্তি–ইচ্ছুকরা নিজ নিজ ফলাফল দেখতে পারবেন।

    এ জন্য এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষার রোল নম্বর, শিক্ষা বোর্ডের নাম ও পাসের বছর প্রয়োজন হবে। প্রকাশিত ফলাফলে কোনো ভুলভ্রান্তি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা সংশোধন করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করে।

    ‘বি’ ইউনিটে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৪২ হাজার ৪৩৩ জন। এর মধ্যে বাণিজ্য গ্রুপের ১৭ হাজার ৬৮৪ জনের মধ্যে ৬ হাজার ২১৮ জন (৩৫.১৬%) এবং অ-বাণিজ্য গ্রুপে ১৭ হাজার ৪০৩ জনের মধ্যে ৯৫০ (৫.৪৬%) জন উত্তীর্ণ হয়। অ-বাণিজ্য গ্রুপে বিজ্ঞান শাখায় ৬১৮ ও মানবিক শাখায় ৩৩২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে।

    উভয় গ্রুপ মিলিয়ে গড় পাসের হার ২০.৪৩%। পরীক্ষার্থীর প্রাপ্ত সর্বোচ্চ নম্বর বাণিজ্য গ্রুপে ৭৭.৫০ ও অ-বাণিজ্য গ্রুপে ৬০.২৫। এই ইউনিটে মোট আসনসংখ্যা ৫৫৯ (বাণিজ্য গ্রুপ ৩৬৭, অ-বাণিজ্য গ্রুপে বিজ্ঞান শাখায় ১৬৬ ও মানবিক শাখায় ২৬)।

    উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ University of Rajshahi থেকে দেখা যাবে।

  • দিনাজপুরে অন্য রকম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

    দিনাজপুরে অন্য রকম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

    ‘ঢং ঢং ঢং’ শব্দে বেজে উঠল ঘণ্টাধ্বনি। শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়ে মাঠের সবুজ ঘাসে ছোটাছুটি ও হইহুল্লোড় শুরু করল খুদে শিক্ষার্থীরা। একদিকে ভলিবল নিয়ে মাতামাতি, অন্যদিকে চলছে ‘ইচিংবিচিং খেলা’। বিদ্যালয়ের প্রাচীর ঘেঁষে থাকা দোলনায় দুলছে কেউ কেউ। টংঘরের কাঠামোয় বানানো ‘স্লিপারে’ উঠতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে পড়েছে আরও কিছু শিক্ষার্থী। প্রতিটি দলের সঙ্গে আছেন শিক্ষকেরাও। ছোট্ট খেলার মাঠটি যেন হয়ে উঠল আরেকটি শ্রেণিকক্ষ।

    দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার কুশলপুর গ্রামের সুব্রত খাজাঞ্চী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেল এ চিত্র। টিফিনের বিরতিতে সেখানে খেলাধুলায় মেতে উঠেছিল শিক্ষার্থীরা।

    ব্যতিক্রমী পাঠদান, শিশুবান্ধব নির্মল পরিবেশ, সহশিক্ষা কার্যক্রম, ভালো ফলের কারণে স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি রংপুর বিভাগের স্কুলশিক্ষকদের কাছেও পরিচিতি পেয়েছে এই বিদ্যালয়। মাত্র ১০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি গত বছরের ডিসেম্বরে বিভাগের শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্বীকৃতিও পেয়েছে। পাশ দিয়ে যাতায়াতের সময় বিদ্যালয়ের পরিবেশ দেখে থমকে যেতে হয়।

    বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করতেই ইট বিছানো পথের দুই পাশে ঝাউগাছের সারি। সীমানাপ্রাচীরের সঙ্গে চারপাশে নানা রঙের ফুলের গাছ। বিদ্যালয়ের প্রাচীর, ভবনের দেয়াল, এমনকি ভবনের ছাদেও আঁকা হয়েছে বিভিন্ন ফুল, ফল, পশুপাখি, বিশিষ্ট ব্যক্তি, সৌরজগৎ ও মানচিত্রের ছবি। প্রতিটি ছবির পাশে সংশ্লিষ্ট বিষয়বস্তুর নাম লেখা হয়েছে বাংলা ও ইংরেজিতে। দেয়ালগুলো যেন একেকটি বইয়ের পাতা হয়ে ধরা দিয়েছে শিক্ষার্থীদের কাছে। শিক্ষার্থী-উপযোগী এমন পরিবেশ দেখতে স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি আশপাশের জেলা-উপজেলা থেকেও আসছেন শিক্ষক-অভিভাবকেরা।

    বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার গল্প
    ২০১১-১২ অর্থবছরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘বিদ্যালয়বিহীন গ্রামে ১৫০০ প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। শর্ত ছিল, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য কেউ জমি দান করলে ভবন ও শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব নেবে সরকার। এ প্রকল্পের আওতায় কুশলপুর গ্রামে বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ৬৩ শতক জমি দেন অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী বিরাজ খাজাঞ্চী ও সুনীল কুমার সরকার নামের দুই ব্যক্তি। বিরাজের বড় ভাই সুব্রত খাজাঞ্চী ছিলেন দিনাজপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক। ২০০৯ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর নামেই বিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয়।

    একতলা একটি ভবন নির্মাণ শেষে ২০১৪ সালে শিক্ষার্থী ভর্তি ও পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়। প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান জগদীশ চন্দ্র রায়। তিনি জানান, বদরপাড়া ও পুশুনাথপাড়া মিলে কুশলপুর গ্রামে ১৭৬টি পরিবারের বসবাস। পাশাপাশি দুটি গ্রামে দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। এর মধ্যেই সুব্রত খাজাঞ্চী স্কুলটি চালু হয়। শুরুতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে ৩৩ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। তবে উপবৃত্তির আওতায় না আসায় তিন মাসের মাথায় ১১ জন স্কুল ছেড়ে যায়। এমন অবস্থায় অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ ও বিদ্যালয়ের উন্নয়নে অর্থ সংগ্রহের কাজ শুরু করেন প্রধান শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে বাগান করাসহ নানা কার্যক্রম শুরু করেন। ধীরে ধীরে স্থানীয় লোকজনও তাঁর সহযোগী হয়ে ওঠেন। মাত্র ১০ বছর শেষে বিদ্যালয়ে এখন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩২০। শুধু কুশলপুর নয়, আশপাশের পাঁচ-ছয়টি গ্রামের শিশুরাও আসছে এ বিদ্যালয়ে।

    ব্যতিক্রমী পাঠদান
    সেদিন (২০ ফেব্রয়ারি) তৃতীয় শ্রেণির ক্লাসে শিক্ষক নুরুল ইসলাম ভাষা আন্দোলন বিষয়ে পড়াচ্ছিলেন। তিনি প্রজেক্টরে শিক্ষার্থীদের ভাষা আন্দোলন, ভাষাশহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসবিষয়ক বিভিন্ন ছবি দেখাচ্ছেন, সঙ্গে গল্প বলছেন। পাঠদানের শেষে শিক্ষক জানতে চান, একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসবে কি না। শিশুরা সমস্বরে বলে ওঠে, ‘আসব, স্যার।’

    নুরুল ইসলাম বলেন, বাচ্চারা শোনার চাইতে দেখতে বেশি আগ্রহী। যেকোনো বিষয়ের পাঠদানের ক্ষেত্রে আমরা চেষ্টা করি সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ছবি বা উপকরণ তাদের সামনে উপস্থাপন করতে। এতে বাচ্চারা স্মৃতিতে ধরে রাখতে পারে।

    নিচতলার একটি কক্ষে শিশুশ্রেণির ক্লাস। মেঝেতে মাদুর বিছানো। সেখানে শিক্ষক আঁখি আক্তার যেন খেলায় মেতেছেন শিশুদের সঙ্গে। কক্ষে কয়েকটি র‌্যাকে সাজানো নানা ধরনের খেলনা। রয়েছে ইলেকট্রনিক ম্যাজিক শ্লেট, বর্ণমালার বাড়ি-গাড়ি, কাঠ ও প্লাস্টিকের খেলনা বর্ণমালা, সংখ্যা, পাজল বই, বিজ্ঞানবাক্স, রং চেনার জিওমেট্রিক স্টিকার, ছবি আঁকার সামগ্রী, বিল্ডিং ব্লকসহ নানা খেলনা।

    আঁখি আক্তার বলেন, এসব উপকরণ দিয়ে খেলার ছলে বাচ্চাদের বর্ণমালা, রঙের ধারণা দেওয়া ও গণিত শেখানো সহজ হয়। পড়ালেখা এবং স্কুলে আসার প্রতি তাদের আগ্রহ তৈরি হয়।

    বিদ্যালয়ের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে পুরোনো একটি টিনশেড হলরুম। সেখান থেকে হারমোনিয়াম ও তবলার আওয়াজের সঙ্গে ভেসে আসছে ‘এই যে আমার মাতৃভূমি এই যে আমার দেশ,/ এই দেশেরই ধুলোবালি ভালোই লাগে বেশ’। প্রতি বৃহস্পতিবার ভবনের হলরুমে শিক্ষার্থীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক নানা আয়োজন করা হয়। হলরুমের সামনে বড়দের জন্য রয়েছে ফুটবল খেলার মাঠ। স্থানীয় উদ্যোগে সহশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য বিদ্যালয়ে সংগীত ও চারুকারুবিষয়ক দুজন শিক্ষকও নিয়োগ করা হয়েছে।

    পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাম্মির আহমেদ বলে, ‘আমি স্কুল কামাই করি না। স্কুলে অনেকগুলো খেলনাসামগ্রী আছে। খেলাধুলার পাশাপাশি নিয়মিত গান, কবিতা আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তৃতার আয়োজনও হয়। আমাদের স্কুলটা সাজানো-গোছানো একটা পার্কের মতো।’

    স্বল্প সময়ে সফলতা
    শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফল ও অন্যান্য সফলতার প্রসঙ্গ তুলতেই নিজ ডেস্কে বসে ল্যাপটপ খুলে বসলেন প্রধান শিক্ষক। জানালেন, ২০১৭ সালে প্রথমবার বিদ্যালয়ের ১৫ শিক্ষার্থী সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয়। প্রতি শিক্ষার্থীই জিপিএ–৫ পেয়েছে। দুজন সাধারণ গ্রেডে এবং একজন ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিও পায়। ২০১৮ সালে ৩৬ জনের মধ্যে ৩১ জন এবং ২০১৯ সালে ৩৮ জনের মধ্যে ৩৫ জন জিপিএ–৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। ২০২২ সালে বিশেষ বৃত্তি পরীক্ষায় ১০ শতাংশ হারে ওই বিদ্যালয় থেকে ৭ জন অংশ নিয়ে ২ জন ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে।

    শুধু পড়ালেখা নয়, খেলাধুলায়ও সাফল্য এসেছে বিদ্যালয়ে। ২০১৭ সালে ছেলেদের ফুটবল টুর্নামেন্টে জেলা পর্যায়ে রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে বিদ্যালয়টি।

    সহকারী শিক্ষক শাহীনা আক্তার বলেন, ‘কোনো শিক্ষার্থী স্কুলে না এলে তার বাড়িতে যাই, ফোনে মা-বাবার সঙ্গে কথা বলি। তবে এখন অভিভাবকেরাই ফোন করে সন্তান স্কুলে না আসার কারণ জানান। খুবই ভালো লাগে, যখন অন্য স্কুলের শিক্ষকেরা আমাদের স্কুলে আসেন। আমরা একটি ভালো পরিবেশে শিশুদের বেড়ে ওঠাটা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি।’

    প্রাথমিক বিদ্যালয়কে শিক্ষার্থীদের গোড়াপত্তনের জায়গা হিসেবেই মনে করেন প্রধান শিক্ষক জগদীশ চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বেশি সময় দিয়ে, স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতা নিয়ে আমরা স্কুলের প্রতি বাচ্চাদের ভালো লাগা তৈরি করতে পেরেছি। এ গ্রামে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার শূন্য শতাংশ। শিক্ষার্থী বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের সংকট রয়েছে।’

    পাশে আছেন স্থানীয় বাসিন্দারা
    ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠার সময় স্কুলে শুধু একতলা ভবনটিই ছিল। এরপর নির্মাণ করা হয়েছে সীমানাপ্রাচীর, ফটক, শহীদ মিনার, অভিভাবক বিশ্রামাগার, লাইব্রেরি কর্নার, সততা স্টোর, ছাদবাগান, ভবনের ছাদে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মঞ্চ, ওয়াশ ব্লক, মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ। শুধু তা-ই নয়, সপ্তাহে এক দিন শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে স্কুলের পোশাকও দেওয়া হয়। সরকারি বেতনভুক্ত পাঁচজন শিক্ষকের পাশাপাশি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চারজন শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগে অর্থের জোগানসহ নানাভাবে সহযোগিতা করেন বিদ্যালয়ের জমিদাতা পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

    কুশলপুর গ্রামের বাসিন্দা মিঠুন রায় বলেন, শিক্ষকদের আন্তরিকতায় স্কুলটির উন্নতি চোখে পড়ছে। ধীরে ধীরে স্থানীয় অনেকেই তাঁদের পাশে দাঁড়ান। যিনি জমিদাতা আছেন, তাঁর পরিবারের লোকজন সব সময় স্কুলের খোঁজ নেন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, শিশুরা দারুণ নিয়মশৃঙ্খলার মধ্যে বেড়ে উঠছে এখানে।

    মুঠোফোনে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী বিরাজ খাজাঞ্চী বলেন, প্রধান শিক্ষকসহ অন্যরা আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। এলাকার ছেলেমেয়েরা শিক্ষিত হয়ে উঠছে, এটা অনেক বড় আনন্দের। শিক্ষার্থীদের পোশাক, অতিরিক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা প্রদানসহ বিদ্যালয়টিকে সরকারের পাশাপাশি আমরাও শিশুবান্ধব করে তোলার চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতে সব শিক্ষার্থীকে বিশেষ বৃত্তির আওতায় আনার কাজ শুরু করা হয়েছে।

    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিনারা বেগম বলেন, সুব্রত খাজাঞ্চী স্কুলটি উপজেলায় শুধু নয়, রংপুর বিভাগে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। আমরা আশা করছি, জাতীয় পর্যায়ে সেরা স্কুলের স্বীকৃতিও পাবে। বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। আমরা বিদ্যালয়ের ভবন সম্প্রসারণের জন্য অধিদপ্তরে প্রস্তাবও পাঠিয়েছি।

  • কাফনের কাপড় বেঁধে জুমার পর পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের গণমিছিল

    কাফনের কাপড় বেঁধে জুমার পর পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের গণমিছিল

    ছয় দফা দাবি পূরণে সুস্পষ্ট ঘোষণা না পাওয়ায়, আন্দোলনরত পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে, আজ শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) বাদ জুমা দেশব্যাপী একযোগে কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে গণমিছিল করবেন তারা।

    ‘কারিগরি ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশ’ নামক একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে এই কর্মসূচির কথা জানানো হয়েছে। পোস্ট এবং ভিডিওতে উল্লেখ করা হয়, জুমার নামাজের পর সারাদেশের সকল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা ‘৮৭ এর কাফন আন্দোলন’-এর মতো কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে গণমিছিল করবে।

    এর আগে, গত বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠক নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। বৈঠক ফলপ্রসূ না হওয়ায়, তারা তাদের ছয় দফা দাবি আদায়ে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার দুপুর বারোটায় কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কারিগরি শাখা) রেহানা ইয়াসমিনের সাথে পলিটেকনিকের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ১৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আলোচনায় বসেন।

    বৈঠক শেষে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি মাশফিক ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, মন্ত্রণালয় থেকে তারা কোনো আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র বা সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ দেখতে পাননি। তিনি অভিযোগ করেন যে, মন্ত্রণালয় প্রতিটি বিষয়ের অগ্রগতি আটকে রেখেছে।

    মাশফিক ইসলাম আরও বলেন, আজকের আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি। আমাদের ছয় দফা দাবি আদায়ে আমরা শীঘ্রই নতুন বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করব।

    কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের উত্থাপিত ছয় দফা দাবিগুলো হলো-

    ১. জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর পদে ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরদের অবৈধ পদোন্নতির রায় হাইকোর্ট কর্তৃক বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর পদবি পরিবর্তন ও মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করতে হবে। ২০২১ সালে রাতের আঁধারে নিয়োগপ্রাপ্ত ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরদের নিয়োগ সম্পূর্ণভাবে বাতিল এবং সেই বিতর্কিত নিয়োগবিধি অবিলম্বে সংশোধন করতে হবে।

    ২. ডিপ্লোমা ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে যেকোনো বয়সে ভর্তির সুযোগ বাতিলসহ উন্নত বিশ্বের আদলে চার বছর মেয়াদি মানসম্পন্ন কারিকুলাম নিশ্চিত করে একাডেমিক কার্যক্রম পরবর্তী প্রবিধান থেকে পর্যায়ক্রমিক ভাবে সম্পূর্ণ ইংরেজি মাধ্যমে চালু করতে হবে।

    ৩. উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও সমমানের (দশম গ্রেড) পদ চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং ও মনোটেকনোলজি (সার্ভেয়িং) থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকা সত্ত্বেও যেসব সরকারি, রাষ্ট্রায়ত্ত, স্বায়ত্তশাসিত ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নিচের পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

    ৪. কারিগরি সেক্টর পরিচালনায় পরিচালক, সহকারী পরিচালক, বোর্ড চেয়ারম্যান, উপ-সচিব, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও অধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সব পদে কারিগরি শিক্ষা বহির্ভূত জনবল নিয়োগ নিষিদ্ধ করতে হবে এবং তা আইনানুগভাবে নিশ্চিত করতে হবে। এই পদগুলোতে অনতিবিলম্বে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত জনবল নিয়োগ এবং সব শূন্য পদে দক্ষ শিক্ষক ও ল্যাব সহকারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে।

    ৫. কারিগরি শিক্ষায় বৈষম্য ও দুরবস্থা দূর করার পাশাপাশি দক্ষ জনসম্পদ তৈরিতে কারিগরি ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় নামে স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন করতে হবে।

    ৬. পলিটেকনিক ও মনোটেকনিক ইন্সটিটিউট থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগের লক্ষ্যে একটি টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। পাশাপাশি নির্মাণাধীন চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে (নড়াইল, নাটোর, খাগড়াছড়ি ও ঠাকুরগাঁও) পলিটেকনিক ও মনোটেকনিক থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য অস্থায়ী ক্যাম্পাস ও ডুয়েটের আওতাভুক্ত একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে আগামী সেশন থেকে শতভাগ সিটে ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

  • ববির সিন্ডিকেট থেকে অধ্যাপক মুহসিনকে অব্যাহতি, শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ

    ববির সিন্ডিকেট থেকে অধ্যাপক মুহসিনকে অব্যাহতি, শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক মুহসিন উদ্দীনকে সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রতিবাদে সমাবেশ করেছেন একদল শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় এ কর্মসূচি পালিত হয়।

    সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, মুহসিন উদ্দীন বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র অধ্যাপক, যিনি জুলাই আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া শিক্ষকদের একজন। তাঁকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে অব্যাহতি দেওয়া সম্পূর্ণ অনিয়ম ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

    ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিজ আল জাহাঙ্গীর বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় অধ্যাপক মুহসিন উদ্দীন আমাদের পক্ষে ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও ব্যক্তিগত আক্রোশপ্রসূত। তিনি নিজেই পদত্যাগপত্র দিয়েছিলেন, তখন অব্যাহতি দেওয়া যেত। এখন দেওয়া মানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করা।’

    ইংরেজি বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী আতিক আবদুল্লাহ বলেন, ‘উপাচার্য আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমাদের শিক্ষককে যদি মূল্যায়ন করা না হয়, তাহলে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।

    প্রসঙ্গত, গত ১৩ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শুচিতা শরমিনের নির্দেশে রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক নোটিশে অধ্যাপক মুহসিন উদ্দীনের বিরুদ্ধে স্বৈরাচারের দোসরসহ নানা অভিযোগ তুলে তাঁকে সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

    এর আগে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী উপাচার্যের বাসভবনের মূল ফটক ভেঙে ভেতরে ঢুকে বিক্ষোভ করেন। ওই সময় উপাচার্যের বাসভবনে সিন্ডিকেট সভা চলছিল। সভায় উপস্থিত না থেকে অধ্যাপক মুহসিন উদ্দীন শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নেন এবং উপাচার্য সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে।