রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়ে সংঘর্ষে জড়িয়েছে ঢাকা সিটি কলেজ ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে সংঘর্ষ এবং ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সূত্রপাত হয়।
এ সময় উভয় কলেজের শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে দেখা যায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সংঘর্ষের কারণ জানা যায়নি।
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৭ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়াও আগামী ৪ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে এবং সকল আবাসিক হলসমূহ আগামী ২ মে থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সোমবার (১৪ এপ্রিল) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ১০১তম (জরুরি) সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা ডিভিশনের পাবলিক রিলেশনস অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শাহেদুজ্জামান শেখ স্বাক্ষরিত গণমাধ্যম পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি ঘটে যাওয়া দুঃখজনক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ৯৮তম (জরুরি) সিন্ডিকেট সভায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সিলগালা অবস্থায় সভায় উপস্থাপন করা হয় এবং তদন্ত প্রতিবেদনটি সিন্ডিকেট কর্তৃক গ্রহণ করা হয়। উক্ত ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৭ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পাশাপাশি, তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটির কাছে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করা হয়।
তবে এতে সন্তুষ্ট হননি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। হল না খোলা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এর আগে রোববার (১৩ এপ্রিল) বিকেল ৩টা থেকে তারা সেখানে অবস্থান করছেন।
প্রসঙ্গত, ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি নিয়ে বিরোধের জের ধরে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে শতাধিক আহত হন। এ ঘটনার জেরে ২৫ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম ও আবাসিক হলগুলো বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
বাংলা নববর্ষ ১৪৩১ কে বরণ করতে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) ছিল না কোনো আয়োজন। কোনো আয়োজন না থাকার বিষয়টি খবর প্রকাশ করা হয়েছিল জনপ্রিয় অনলাইন ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম বাহান্ন নিউজে। তবে এই বছর বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ কে বরণ করতে বর্ণিল সাজ ও উৎসবে মেতেছিল হাবিপ্রবি ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে দেশীয় কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের সমারোহে দিনব্যাপী নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উদযাপিত হয়েছে।
এ উপলক্ষ্যে হাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এনামউল্যা’র নেতৃত্বে ১ বৈশাখ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ সকাল ১০ টায় নববর্ষের বর্ণিল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি টিএসসি’র সম্মুখ হতে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ও ক্যাম্পাস সংলগ্ন মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে। উক্ত শোভাযাত্রায় আরো উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম সিকদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর কবির, বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, চেয়ারম্যানবৃন্দ, প্রক্টর, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক সহ বিভিন্ন শাখার পরিচালকবৃন্দ,বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
বিভিন্ন অনুষদ ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সারাদিনব্যাপী বৈশাখী মেলাসহ দেশীয় খাবারের আয়োজন করে। প্রায় ৫০ টি স্টলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভিন্ন স্বাদের খাবার ও উদ্ভাবনী সামগ্রী প্রদর্শন করে। শোভাযাত্রা শেষে উপাচার্য স্টল গুলো ঘুরে দেখেন এবং সকলের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। টিএসসি’র মুক্ত মঞ্চে হাবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় আবহমান বাংলা ও আঞ্চলিকতার উপর “প্রদর্শনী বিতর্ক”।
এছাড়াও, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে বিএনসিসি এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় বাংলার ঐতিহ্যবাহী কাবাডি ও হাড়ি ভাঙ্গা খেলা, হাবিপ্রবি ফিল্ম ক্লাব এর আয়োজনে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, অর্ক সাংস্কৃতিক জোট’র আয়োজনে অর্ক নববর্ষ উৎসব শীর্ষক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মজার স্কুলের শিক্ষার্থীদের পান্তা ভাতের আয়োজন সব মিলিয়ে উৎসবে মেতেছিল সবাই। শুধু তাই নয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে শোভা পেয়েছে আলপনা।
বাংলা নববর্ষ—১৪৩২ উপলক্ষ্যে উপাচার্য এনামউল্ল্যা “বৈষম্য ও বিভেদ ভুলে ন্যায্যতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে উদ্ভাসিত হউক আমাদের জীবন” শিরোনামে সকলের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। পাশাপাশি বাদ যোহর হাবিপ্রবি কেন্দ্রীয় মসজিদে দেশ জাতির সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
বাংলা নববর্ষ উদযাপনের দিন ফিলিস্তিনে চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) একদল শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) সংলগ্ন মাঠে তারা আঁকেন গাজার একটি প্রতীকী মানচিত্র, যার মাধ্যমে তুলে ধরা হয় ইসরায়েলি সহিংসতার চিত্র।
মানচিত্রটির সীমারেখা চিহ্নিত করা হয়েছে সাদা রঙে, আর লাল রঙে দেখানো হয়েছে সেইসব অঞ্চল, যেখানে ইসরায়েলি বাহিনী নৃশংস গণহত্যা চালিয়েছে। মানচিত্রের কেন্দ্রে স্থাপন করা হয় ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকা। শান্তি ও সংহতির প্রতীক হিসেবে সেখানে রোপণ করা হয়েছে একটি জলপাই গাছও।
সোমবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান। উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মাহফুজুর রহমান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ, প্রক্টর, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, এই ব্যতিক্রমী আয়োজন শিক্ষার্থীদের মানবিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও রাজনৈতিক সচেতনতার এক উজ্জ্বল নিদর্শন। যখন একটি জাতি নির্মমভাবে নির্যাতিত হয়, তখন নীরব থাকা নয়—প্রতিবাদ জানানোই সত্যিকারের দায়িত্বশীলতার পরিচয়। শিক্ষার্থীদের এই প্রয়াস আমাদের গর্বিত করে।”
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ বলেন, এমন চিন্তাশীল ও সময়োপযোগী উদ্যোগ আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশ্বাস আরও দৃঢ় করে। এ ধরনের কর্মসূচি তরুণ সমাজকে আরও মানবিক ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।
প্রতিবাদ কর্মসূচির অন্যতম আয়োজক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীরা সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার। পহেলা বৈশাখের আনন্দের মাঝেও আমরা গাজার গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে, ফিলিস্তিনের মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছি। ভবিষ্যতেও সামাজিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে সচেতনতা ছড়াতে আমাদের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
তারিফ হাসান ওরফে মেহেদীর মা জাহানারা বেগম (৫৫) ২০১৪ সাল থেকেই অসুস্থ। ২০২২ সালে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে কথা বলা, চলাফেরার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। বিছানায় শায়িত সেই মা এবার হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। মাকে বাঁচাতে এবার নিজের শিল্পকর্ম ফেসবুকে বিক্রির ঘোষণা দিলেন তারিফ।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তারিফ হাসান মেহেদী চারুকলা অনুষদের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি নেত্রকোনা সদরের ইসলামপুর গ্রামে। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি ষষ্ঠ। গত বছরের জুলাইয়ে ক্যানসারে আক্রান্ত বাবা বকুল মিয়া মারা যান। এর কয়েক মাস পর তাঁর পরিবারের বড় ভাই শাহিন মিয়াও মারা যান। বাবার দেখভাল ও চিকিৎসা চালাতে গিয়ে মাস্টার্স পরীক্ষাও দেওয়া হয়নি তারিফের। তারিফ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুসভার ২০২০ সালের কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ২০২১ সালের কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তারিফ ফেসবুক স্ট্যাটাসে তাঁর নিজের শিল্পকর্মের ছবি দিয়ে লিখেছেন, ‘আমার আম্মাকে বাঁচাতে দয়া করে এগিয়ে আসুন। আজ সকল লজ্জা, ইতস্ততা ভাঙলাম। সারা জীবন মানুষের উপকার করে আজ নিজের উপকারের জন্য আপনাদের কাছে হাত পেতে অনুরোধ করছি। আমার আম্মাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন।’
ফেসবুক স্ট্যাটাসে তারিফ আরও লিখেছেন, ‘কি ভাগ্য আমার! গত বছরের ১৪ জুলাই বাবা ও ৬ নভেম্বর বড় ভাইকে হারিয়েছি। ক্যানসার আক্রান্ত বাবার চিকিৎসা করাতে গিয়ে এখনো ৩৮০০০ টাকার মতো ঋণে জর্জরিত আছি, যা পরিবারের কাউকে বলিনি তাদের চিন্তা হবে। আম্মা ২০১৪ সাল থেকে অসুস্থ। এর মধ্যে ২০২২ সালে ব্রেইন স্ট্রোক করে কথা বলা, চলাফেরার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। বিছানায় শায়িত একটা মানুষকে প্রতিনিয়ত দেখাশোনা করা, চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহ করা এসব করতে করতে আজ আমরা অসহায়। গতকাল আম্মা আবার হার্ট স্ট্রোক করেছেন। জানি না আল্লাহ একটা মানুষকে এভাবে কেন কষ্ট দিচ্ছেন। এখন দ্রুত উন্নত চিকিৎসা করানো দরকার, যার জন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন। ২০১৬ থেকে আম্মার মেডিসিন অন্যান্য মেডিকেল টেস্ট বাবদ ঋণ লাখ টাকার ওপরে।’
নিজের শিল্পকর্ম বিক্রির ঘোষণা দিয়ে তারিফ বলেছেন, ‘আমার আম্মাকে বাঁচাতে আপনারা এগিয়ে আসুন। ডাক্তার বলছেন ৪৩ শতাংশ হার্ট ব্লক হয়ে গিয়েছে। আপনারা আমার এই শিল্পকর্মগুলো কিনে আমার পাশে থাকুন, আমাকে সহযোগিতা করুন। নির্ধারিত দামের থেকে বেশি দামে কিনতে চাইলেও কিনুন।’
তারিফের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারিফরা চার ভাই ও তিন বোন। থাকেন নেত্রকোনা জেলা সদরের একটি গ্রামে। বাবা বকুল মিয়া মাছ ব্যবসায়ী ছিলেন। গত বছর হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে পরীক্ষায় তাঁর শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে। তখন বাবার চিকিৎসায় অনেক টাকা খরচ হয়ে যায়। এতে তখনই তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এর কয়েক মাস পর পরিবারের ভরসা হয়ে ওঠা বড় ভাই শাহিন মিয়া হঠাৎ হৃদ্রোগে মারা যান। এতে তাঁদের পরিবার বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। আর তাঁর মা ২০১৪ সাল থেকেই অসুস্থ। ২০২২ সালে তাঁর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে হাঁটাচলা বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৪ সাল থেকেই মায়ের চিকিৎসায় খরচ হয়ে আসছে। হঠাৎ এই অসুস্থতার মধ্যেই গত শনিবার তিনি হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন। এখন তাঁদের চিকিৎসার মতো কোনো টাকাপয়সা নেই। এ কারণে নিজের কাছে থাকা শিল্পকর্ম বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তারিফ বলেন, বাবার অসুস্থতার কারণে তাঁকে নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করায় মাস্টার্সের চূড়ান্ত পরীক্ষা দিতে পারেননি। তিনি আবার মাস্টার্স করছেন। এরই মধ্যে তাঁর মা আবার গুরুতর অসুস্থ হলেন। তিনি আরও বলেন, তাঁর শিল্পকর্ম সন্তানের মতো। নিজের মায়ের চিকিৎসায় এগুলো বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
দেশের মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের বিশেষ মঞ্জুরির অনুদান দেবে সরকার। এ আবেদনের শেষ সময় ছিল ১৫ এপ্রিল। এখন শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা বিশেষ মঞ্জুরির অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত। আবেদন করতে হবে অনলাইনে। হার্ডকপিতে কোনো আবেদন নেওয়া হবে না।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সময়সীমা বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের পরিচালন বাজেট হতে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের বিশেষ বরাদ্দ প্রদানের নিমিত্ত অনলাইনে আবেদন গ্রহণের সময় অনিবার্য কারনবশত: আগামী ২৫/৪/২০২৫ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলো। ইতোপূর্বে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির শর্তাবলী অপরিবর্তিত থাকবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের আগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসা, দৈব দুর্ঘটনা ও চিকিৎসার খরচের জন্য বিশেষ মঞ্জুরির অনুদান দেওয়া হবে। প্রতিবন্ধী, অসহায়, অস্বচ্ছল ও মেধাবী, অনগ্রসর সম্প্রদায়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অনুদান পেতে অগ্রাধিকার পাবেন।
শর্তাবলিগুলো হলো—
দেশের সরকারি/বেসরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সংযুক্ত/স্বতন্ত্র (অনুদানপ্রাপ্ত/অনুদানবিহীন) ইবতেদায়ী মাদরাসা ও স্বীকৃতিপ্রাপ্ত/এমপিওভুক্ত সরকারি/বেসরকারি কারিগরি/মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মেরামত ও সংস্কার, আসবাব তৈরি, খেলাধুলার সরঞ্জাম ক্রয়, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীবান্ধব প্রতিষ্ঠান গড়ার নিমিত্ত প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং পাঠাগারের উন্নয়নকাজের জন্য মঞ্জুরির আবেদন করতে পারবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অনগ্রসর এলাকার অস্বচ্ছল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অথচ প্রতিষ্ঠানের লেখাপড়ার মান ভালো—এ রূপ প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে। দেশের সব সরকারি/বেসরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সংযুক্ত/স্বতন্ত্র (অনুদানপ্রাপ্ত/অনুদানবিহীন) ইবতেদায়ী মাদরাসা ও স্বীকৃতিপ্রাপ্ত/এমপিওভুক্ত সরকারি/বেসরকারি কারিগরি/মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা তাঁদের জটিল ও ব্যয়বহুল রোগ এবং দুর্ঘটনার জন্য মঞ্জুরির আবেদন করতে পারবেন।
সরকারি/বেসরকারি কারিগরি/মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীগণ জটিল ও ব্যয়বহুল রোগ, দুর্ঘটনা এবং শিক্ষার ব্যয় নির্বাহের জন্য মঞ্জুরির আবেদন করতে পারবেন। তবে এ বিশেষ মঞ্জুরি প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী, দরিদ্র মেধাবী ও অনগ্রসর সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে।
মঞ্জুরি করা অনুদান প্রাপ্তির লক্ষ্যে আগ্রহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের ১ মার্চ থেকে আগামী ২৫ এপ্রিলের মধ্যে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থীদের আর্থিক ও শিক্ষক-কর্মচারী অনুদানের আবেদন ফরম বাটনে ক্লিক করে থেকে অনলাইনে আবেদন দাখিল করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর আর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
সরকারি-বেসরকারি কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী/শিক্ষার্থীদের অনুদানের আবেদনের ক্ষেত্রে নীতিমালায় (নীতিমালাটি ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে) উল্লেখিত সুনির্দিষ্ট কারণসহ প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কমিটির সভাপতি এবং শিক্ষক-কর্মচারী/শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক প্রত্যায়িত প্রমাণপত্র অবশ্যই সংযুক্ত করতে হবে (প্রত্যয়নের নমুনা অনলাইনে দেওয়া থাকবে)।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বরাদ্দ করা অর্থ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব নম্বরে প্রদান করা হবে এবং শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অনুকূলে বরাদ্দ করা অর্থ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রদান করা হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষক-কর্মচারীকে নিজ নিজ মুঠোফোন নম্বর এবং শিক্ষার্থীকে পিতামাতা/অভিভাবকের মুঠোফোন নম্বর (আবেদনের আগেই মুঠোফোন নম্বরটি নগদ সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে) দিতে হবে; আবেদনকারী শিক্ষক-কর্মচারীকে তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং শিক্ষার্থীদের তাঁদের অনলাইন জন্মসনদ এবং পিতামাতা/অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র অবশ্যই সংযুক্ত করতে হবে।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অনুদান পেয়েছেন, সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা এ বছর (চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে) আর্থিক অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদানের আবেদন ফরম’ বাটনে ক্লিক করে অনলাইনে অনুদান পাওয়ার আবেদন করতে হবে।
মহিলা মাদরাসায় ছাত্রীদের হোস্টেলে নাইট ভিশন (রাতের অন্ধকারে দেখা যায় এমন) সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)।
রোববার (১৩ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমজেএফ জানায়, যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারণে ফাতিমাতুজ্জোহরা কওমি মহিলা মাদরাসার ছাত্রাবাসে ১৬টি নাইট ভিশন ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এক অভিভাবক কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
এমজেএফ বলছে, এই ঘটনার মাধ্যমে শিশুদের মানবাধিকার হরণের মত গর্হিত কাজ করা হয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নৈতিকতা এবং ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের প্রত্যাশায় পাঠিয়েছিলেন। অথচ ছাত্রীদের থাকার জায়গায় সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে অভিভাবকদের বিশ্বাস ও সম্মানবোধের মারাত্মক লঙ্ঘন ঘটানো হয়েছে।
এমজেএফের মতে, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়-বরং দেশের অনেক মাদরাসা বা হোস্টেলে এরকম নজিরবিহীন নজরদারি ও অনিয়ম থাকতে পারে। তারা মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দেশের সব আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তদন্ত চালানোর আহ্বান জানিয়েছে। ভিডিওধারণের মাধ্যমে যৌন সহিংসতা ও সাইবার অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। চলতি মাসের শুরুতে বাগেরহাটে এক নারী বিক্রয়কর্মীকে গণধর্ষণ করে সেই ঘটনার ভিডিও ধারণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার গাবতলী এলাকায় এক গৃহবধূ্র শিশুসন্তানকে জিম্মি করে, সেই নারীকে প্রায় এক মাস ধরে ধর্ষণ করার অভিযোগ ওঠে। অভিযুক্তরা ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। গত ১১ এপ্রিল নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্তদের মধ্যে একজন, আশিক দেওয়ান শান্তকে গ্রেপ্তার করেছে।
সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, এটি শুধু গোপনীয়তার লঙ্ঘন নয়-শিশুদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার চরম ক্ষতি করার মত গুরুতর অপরাধ। ছাত্রীদের থাকার ঘরে এমন নজরদারি ব্যবস্থা স্থাপন ভীতিকর ও অগ্রহণযোগ্য। আমরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
এমজেএফের দাবি ও সুপারিশ-
যশোরের ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ ও দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ ও ভুক্তভোগীদের মানসিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও শিশু আইন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজু ও বিচার নিশ্চিত করা
দেশব্যাপী সব মাদরাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হোস্টেলে নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রণয়ণ
নারী ও কন্যাশিশুদের ডিজিটাল হয়রান, নির্যাতন ও সহিংসতা থেকে রক্ষা করতে একটি শক্তিশালী সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ ও মোকাবিলা ব্যবস্থা গড়ে তোলা
ডিজিটাল নিরাপত্তা, গোপনীয়তার অধিকার এবং আইনগত সহায়তার সুযোগ নিয়ে গণসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা
এমজেএফ আহ্বান জানায়, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা এবং মর্যাদার বিষয়ে ভয়ের সংস্কৃতি ও নীরবতা ভেঙে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। সমাজের প্রতিটি মানুষকেই এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।
বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আগামীকাল সোমবার (১৪এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা নববর্ষ-১৪৩২ উদযাপিত হবে। উৎসবমুখর পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের সার্বিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ওইদিন সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ বের করা হবে।
এর আগে সকাল ৮টা থেকে শোভাযাত্রার প্রস্তুতি চলবে। শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ মোড় ঘুরে টিএসসি মোড়, শহীদ মিনার, শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র, দোয়েল চত্বর হয়ে বাংলা একাডেমির সামনের রাস্তা দিয়ে পুনরায় চারুকলা অনুষদে গিয়ে শেষ হবে।
শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা শুধু নীলক্ষেত ও পলাশী মোড় দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পারবেন।
শোভাযাত্রা চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য প্রবেশ পথ ও সংলগ্ন সড়ক বন্ধ থাকবে। শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্য রক্ষার্থে আশপাশ দিয়ে শোভাযাত্রায় প্রবেশ করা যাবে না। শেষ প্রান্ত দিয়ে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণের জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের নিজ নিজ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসন বিভাগ জানিয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুদিনের ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা অব্যাহত রেখে অধিকতর অন্তর্ভুক্তিমূলক করার জন্য লোক-ঐতিহ্য ও ২৪ এর চেতনাকে ধারণ করে আরও বড় পরিসরে এবং বৈচিত্র্যপূর্ণভাবে এবছর শোভাযাত্রায় সর্বজনীন অংশগ্রহণের আয়োজন করা হয়েছে। শোভাযাত্রায় এবছর ২৮টি জাতিগোষ্ঠী, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন দেশের অতিথিবৃন্দ অংশ নেবেন। এই বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রায় এবছর থাকবে ৭টি বড় মোটিফ, ৭টি মাঝারি মোটিফ এবং ৭টি ছোট মোটিফ।
যে পথ দিয়ে হবে আনন্দ শোভাযাত্রার র্যালী
পহেলা বৈশাখ ঘিরে যেসব নির্দেশনা
পহেলা বৈশাখ ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চলাচল নিয়ে এক গুচ্ছ নির্দেশনাও দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।
এতে আরো বলা হয়েছে, পহেলা বৈশাখে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোন ধরনের মুখোশ পরা এবং ব্যাগ বহন করা যাবে না। তবে চারুকলা অনুষদ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত মুখোশ হাতে নিয়ে প্রদর্শন করা যাবে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভুভুজিলা বাঁশি বাজানো ও বিক্রি করা থেকে বিরত থাকার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা চলাকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশের জন্য ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সম্মুখস্থ রাজু ভাস্কর্যের পেছনের গেইট, চারুকলা অনুষদ সম্মুখস্থ ছবির হাটের গেইট এবং বাংলা একাডেমির সম্মুখস্থ রমনা কালী মন্দির সংলগ্ন গেইট বন্ধ থাকবে।
ক্যাম্পাসে নববর্ষের সকল ধরনের অনুষ্ঠান বিকাল ৫টার মধ্যে শেষ করতে হবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, নববর্ষের দিন ক্যাম্পাসে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত প্রবেশ করা যাবে। ৫ টার পর কোনভাবেই প্রবেশ করা যাবে না, শুধু বের হওয়া যাবে।
এছাড়াও নববর্ষ উপলক্ষ্যে আজ রোববার (১৩ এপ্রিল) রবিবার সন্ধ্যা ৭টার পর ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত গাড়ি ছাড়া অন্য কোন গাড়ি প্রবেশ করতে পারবে না। নববর্ষের দিন ক্যাম্পাসে কোন ধরনের যানবাহন চালানো যাবে না এবং মোটরসাইকেল চালানো সম্পূর্ণ নিষেধ।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বসবাসরত কোন ব্যক্তি নিজস্ব গাড়ি নিয়ে যাতায়াতের জন্য শুধুমাত্র নীলক্ষেত মোড় সংলগ্ন গেইট ও পলাশী মোড় সংলগ্ন গেইট ব্যবহার করতে পারবেন।
ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সম্মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেল্প ডেস্ক, কন্ট্রোল রুম এবং অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প থাকবে। হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল মাঠ সংলগ্ন এলাকা, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র সংলগ্ন এলাকা, দোয়েল চত্বরের আশে-পাশের এলাকা ও কার্জন হল এলাকায় মোবাইল পাবলিক টয়লেট স্থাপন করা হবে।
নববর্ষ উপলক্ষ্যে নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা ও আর্চওয়ে স্থাপনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বন্ধ থাকা খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েটে) ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তবে কর্তৃপক্ষ তাদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়েছে। ছাত্রদের প্রবেশ ঠেকাতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ নিয়ে কুয়েটে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আজ রোববার (১৩ এপ্রিল) দুপুর ২টায় শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ও হলে প্রবেশ করবেন বলে জানিয়েছেন।
কুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে আজ ‘লং মার্চ টু কুয়েট’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থীরা। শনিবার (১২ এপ্রিল) রাতে খুবি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ফেসবুক পেজে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি নিয়ে বিরোধের জের ধরে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েট ক্যাম্পাসে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। এ ঘটনার পর ২৫ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রম ও আবাসিক হলগুলো বন্ধ ঘোষণা করেছিল কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, শিক্ষার্থীরা গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রোববার দুপুর ২টায় বন্ধ থাকা কুয়েট ক্যাম্পাসে ঢুকে হলে ওঠার ঘোষণা দিয়ে আসছেন। তা ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একাধিক সভা, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি, বিজ্ঞপ্তি জারি ও অভিভাবকদের মোবাইলে এসএমএস দিয়ে শিক্ষার্থীদের কুয়েটে না পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, হল বন্ধ থাকায় লেখাপড়া বিঘ্নিত হচ্ছে। অনেকের টিউশনিসহ আয়ের উৎস নষ্ট হচ্ছে। তারা শান্তিপূর্ণভাবে একসঙ্গে ক্যাম্পাসে ঢুকবেন। তারা যাতে ক্যাম্পাসে ফিরতে না পারেন সেজন্য কুয়েট কর্তৃপক্ষ নানা তৎরপতর চালাচ্ছে। এমনকি কুয়েট প্রশাসন বাইরের একজনকে উস্কানি দিয়ে তাকে দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করিয়েছে।
কুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে বন্ধ থাকা ক্যাম্পাসে না ফেরে সেজন্য শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদেরকে বিভিন্নভাবে বোঝানো হয়েছে। বিষয়টি বিভাগীয় কমিশনার ও পুলিশ কমিশনারকেও অবহিত করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (নর্থ) আবুল বাশার মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, কুয়েটের পরিস্থিতি তারা অবগত আছেন। ক্যাম্পাসের ২টি গেটে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রায়’ প্রদর্শনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদ কর্তৃক নির্মিত দানবীয় ফ্যাসিস্টের প্রতীকী মোটিফ পোড়ানোর ঘটনা তদন্তের জন্য ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শনিবার (১২ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খানকে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হক, আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোসাদ্দেক হোসেন কামাল এবং সহকারী প্রক্টর ড. এ কে এম নূর আলম সিদ্দিকী।
সহকারী প্রক্টর মো. ইসরাফিল প্রাং কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।