Category: প্রধান সংবাদ

  • শিক্ষার্থী আনাস হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া শুরু

    শিক্ষার্থী আনাস হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া শুরু

    বৈষম‍্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে রাজধানীর চানখাঁরপুলে শিক্ষার্থী শাহরিয়ার খান আনাস হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রবিবার (২৫ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিচার কাজ শুরু হয়।

    এর আগে গত ২০ এপ্রিল এই মামলায় ৮ জনকে অভিযুক্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। সেই প্রতিবেদন ২৫ মে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল করা হয়। এর মধ্য দিয়েই আনাস হত্যা মামলার বিচারিক কাজের সূচনা হলো।

    মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন— ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ আলম ও মো. আখতারুল ইসলাম, রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল, শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন হোসেন, ইমাজ হোসেন ও মো. নাসিরুল ইসলাম। তাদের মধ্যে কয়েকজন পলাতক রয়েছেন।

    মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখাঁরপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে। এতে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদস্যরা এই অভিযানে সরাসরি অংশ নেন।

    তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, আসামি হাবিবুর রহমানসহ অন্য অভিযুক্তরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং অধীনস্তদের গুলি চালানোর নির্দেশ দেন। তাদের সহযোগিতা ও নির্দেশেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আন্দোলন দমন করতে ব্যবহার করা হয় আগ্নেয়াস্ত্র, এপিসি কার, হেলিকপ্টার, ড্রোন ও বিপুল পরিমাণ বুলেট। পুলিশের এই অভিযানে নিহত হন শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদী হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক।

  • একনেকের অনুমোদন পেলেই ঢাবি পাবে আরও ৯টি হল: ভিসি

    একনেকের অনুমোদন পেলেই ঢাবি পাবে আরও ৯টি হল: ভিসি

    একনেকর অনুমোদন পেলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) আরও ৯টি হল পাবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা একটি হল কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে করার প্রস্তাব দিয়েছে। বিষয়টি আমরা বিবেচনায় রেখেছি। একনেক থেকে এটি পাশ হয়ে এলেই আমরা ৯টি হল তৈরির সুযোগ পাবো। নতুন যে হলগুলো নির্মাণ হবে তার মধ্যে একটি হলের নাম কবির নামে রাখা হবে।

    রবিবার (২৫ মে) কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তিনি এ কথা জানান।

    অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, এই মুহূর্তে কবি কাজী নজরুল ইসলামের শিক্ষা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও ঐক্য ধরে রাখতে শিখিয়েছেন। নজরুলের শিক্ষা সার্বজনীন ও চিরন্তন।

    তিনি আরো বলেন বলেন, নজরুলকে বুঝতে এবং তাঁর সাহিত্যের গভীরতা অনুধাবন করতে হলে একজন সত্যিকারের মানুষ হতে হবে। জাতীয় কবিকে তিনি সাম্যের কবি, বিদ্রোহের কবি, প্রেমের কবি, শান্তির কবি ও সব্যসাচী কবি হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ব্যক্তি জীবনেও তিনি বহুমাত্রিক গুণের অধিকারী ছিলেন। তাঁর এই বহুমাত্রিকতা যুগে যুগে আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তিনি আরও বলেন, অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশকিছু হল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁর নামে একটি হলের নামকরণের বিষয়টি আমরা আন্তরিকভাবে বিবেচনায় রেখেছি।

  • লাগাতার কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন প্রাথমিকের শিক্ষকরা

    লাগাতার কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন প্রাথমিকের শিক্ষকরা

    তিন দফা দাবি আদায়ে আগামীকাল সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পূর্ণ দিবস কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে।

    রোববার (২৫ মে) সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক এবং বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা দাবি হলো— কনসালটেশন কমিটির সুপারিশের যৌক্তিক সংস্কার করে সহকারী শিক্ষক পদকে এন্ট্রি পদ ধরে ১১তম (এগারো) গ্রেডে বেতন নির্ধারণ; ১০ বছর ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির জটিলতা নিরসন এবং প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতিসহ দ্রুত পদোন্নতি প্রদান।

    এর আগে তিন দফা দাবি আদায়ে গত ২১ মে থেকে অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করেছেন সহকারী শিক্ষকরা। তার আগে এক ঘণ্টা এবং দুই ঘণ্টা করে পর্যায়ক্রমে কর্মবিরতি পালন করা হয়।

    এছাড়া, তারা বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী শুক্রবার ও শনিবার বিদ্যালয় বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় যেন কেবলমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়, সেই দাবিও জানানো হয়েছে।

  • ২ ছাত্র উপদেষ্টাসহ তিনজনের পদত্যাগ দাবি বিএনপির

    ২ ছাত্র উপদেষ্টাসহ তিনজনের পদত্যাগ দাবি বিএনপির

    অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে দুই ছাত্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি জানিয়েছে বিএনপি। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারও পদত্যাগ দাবি জানিয়েছেন দলটি।

    শনিবার যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ একথা জানান।

    সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, তাদের পদত্যাগের কথা আমরা লিখিত বক্তব্যে জানিয়েছি। আগেও জানিয়েছি। নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং দুই ছাত্র উপদেষ্টার কারণে এ সরকারের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাদেরকে বাদ দেওয়ার জন্য আজকেও লিখিত বক্তব্যে দিয়েছি, মুখেও বলেছি।

    কোনো আশ্বাস পেয়েছেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেই আশ্বাস উনারা দেখবেন। আমরা আমাদের বক্তব্যে দিয়েছি।

    নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন বলেন, সুনির্দিষ্টভাবে এ রকমের কোনো কথা হয়নি। উনি সুনির্দিষ্টভাবে জানাই নাই। আমরা আমাদের দাবি জানিয়েছি। হয়তো বা উনারা উনাদের প্রেসের মাধ্যমে জানাবেন। সেজন্য আমরা উপেক্ষা করব। এখনই কোনো প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রয়োজন নাই। উনার প্রেস কী বলেন, তারপরে আমরা প্রতিক্রিয়া দেব।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে বৈঠকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

  • প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করছেন না: পরিকল্পনা উপদেষ্টা

    প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করছেন না: পরিকল্পনা উপদেষ্টা

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করছেন না বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ।

    তিনি বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা যাচ্ছেন না, তিনি চলে যাবেন বলেননি, অবশ্যই থাকছেন। আমাদের অর্পিত দায়িত্ব বড় দায়িত্ব, এ দায়িত্ব ছেড়ে আমরা যেতে পারবো না।

    শনিবার (২৪ মে) একনেক সভার পর উপদেষ্টা পরিষদের অনির্ধারিত রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে বৈঠকে ১৯ জন উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক হয়।প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করছেন না: পরিকল্পনা উপদেষ্টাঅনির্ধারিত বৈঠক শেষে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা আমাদের সঙ্গেই থাকছেন। উনি বলেননি পদত্যাগ করবেন। অন্য উপদেষ্টারাও থাকছেন। আমাদের যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আমরা সে দায়িত্ব পালন করতে এসেছি।’

    ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, বিভিন্ন জায়গা থেকে কী প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে কার কি প্রতিবন্ধকতা আছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে সংস্কার কাজ এগিয়ে নিতে গেলে কি কি প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে সেগুলো আমরা দেখছি। বড় পরিসরে আগামী নির্বাচন এবং একটা সুশাসিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উত্তরণের জন্য যে ধরনের ক্ষেত্র তৈরি করা দরকার সেই কাজেও কোথা থেকে কি কি প্রতিবন্ধকতা আসছে সেগুলো আমরা চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছি।

    তিনি বলেন, আমরা আহ্বান জানাবো গণঅভ্যুত্থানের সব শক্তিকে রাষ্ট্রের সব সংস্থাকে আমাদের এ লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করার জন্য। এটা তো আমাদের একার দায়িত্ব না। আমাদের এখানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরা স্বপ্রণোদিতভাবে এখানে আসিনি। আমাদের একটা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ দায়িত্ব ছেড়ে আমরা যাবো না। কিন্তু প্রতিবন্ধকতা কোথা থেকে আসছে তা চিহ্নিত করতে চাই। আমরা সকল রাজনৈতিক দল, দেশের প্রশাসন , বিচারবিভাগ, বিভিন্ন সংস্থা সবাই মিলে কাজ করবো। আমাদের কাজ এগিয়ে নেওয়ার জন্য সবার সহযোগিতা চাই।

    জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এর বাইরে আমার কিছু বলার নেই। সব প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করবো।

    পদত্যাগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাজ শেষ না করা পর্যন্ত কেউ কোথাও যাচ্ছি না।’

    নিজের (পরিকল্পনা উপদেষ্টা) পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু কিছু দল যেমন আমার পদত্যাগের সম্বন্ধে কথা বলেছে। আমি উপদেষ্টা পরিষদে জানতে চেয়েছি এটা দলীয়ভাবে বলা হয়েছে কি না? এটা জানানো হয়েছে এটা দলীয় কোনো মতামত নয়। যদি দলীয় মতামত হতো তাহলে এ সরকার তো গণঅভ্যুত্থানের সব শক্তি ও সমর্থনে এসেছে। এ সরকারের ভিত্তিও সেটা। কাউকে নিয়ে কোনো বিতর্ক সৃষ্টি হোক এটা সমীচীন হবে না। আমরা স্বপ্রণোদিতভাবে এখানে আসিনি। এ দায়িত্ব উপভোগ্য কোনো দায়িত্ব না। কাজেই সেরকম হলে যে কেউ পদত্যাগ করতাম। কিন্তু আমাকে বলা হয়েছে দলীয়ভাবে আমার বিষয়ে কোনো কথা আসেনি। আমরা কোথাও যাচ্ছি না।

  • একটি ভাবনা সারারাত জাগিয়ে রেখেছে তাসনিম জারাকে, জানালেন নিজেই

    একটি ভাবনা সারারাত জাগিয়ে রেখেছে তাসনিম জারাকে, জানালেন নিজেই

    জুলাইয়ের বিদ্রোহের পর গত রাতটি অন্যতম কঠিন রাত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা।

    শুক্রবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি।

    তাসনিম জারা লিখেছেন, রাজনৈতিক শক্তিগুলোর ক্ষুদ্র স্বার্থের দ্বন্দ্ব ও পারস্পরিক অবিশ্বাস আমাদের গণতান্ত্রিক রূপান্তরকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলছে। স্বল্পমেয়াদি হিসাব-নিকাশের জন্য এমন এক জাতির আশাকে আমরা ধ্বংস হতে দিতে পারি না, যে জাতি স্বাধীনতার জন্য রক্ত দিয়েছে।

    পোস্টে জারা লেখেন, গত রাত (বৃহস্পতিবার) ছিল জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে অন্যতম কঠিন রাত। একটি ভাবনা যা আমাকে সারারাত জাগিয়ে রেখেছে, সেটিই আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই। এটা দোষারোপের সময় নয়। এটা আত্মসমালোচনার সময়।

    এনসিপির এই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব আরও লেখেন, ইতিহাস আমাদের শেখায়— যারা পরিবর্তনকে ভয় পায়, তারা প্রায়ই বিভাজন ও মেরুকরণকে ব্যবহার করে পুরানো শাসনব্যবস্থাকে নতুন মুখোশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে। আমরা যেন সেটা এখানে ঘটতে না দিই। আমাদেরকে দলাদলির ঊর্ধ্বে উঠতে হবে। এই বিপ্লব ছিল জনগণের। আর সেই জনগণের প্রতিই আমাদের দায়িত্ব— সংযম দেখানো, সংলাপে এগিয়ে আসা এবং ঐক্য ধরে রাখা।

    তিনি আরও লেখেন, এই মুহূর্তটি যেন বিভেদের নয়, বরং ঐক্যের দিকে একটি মোড়বদলের প্রেরণা হয়ে ওঠে।

  • ড. ইউনূস ‘পদত্যাগের বিষয়ে ভাবছেন’ : নাহিদ ইসলাম

    ড. ইউনূস ‘পদত্যাগের বিষয়ে ভাবছেন’ : নাহিদ ইসলাম

    বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করতে পারেন এমন খবর পেয়ে তার সঙ্গে দেখা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার (২২ মে) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গিয়ে তার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন তিনি।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের চলমান পরিস্থিতি, স্যারেরতো পদত্যাগের একটা খবর আমরা আজকে সকাল থেকে শুনছি। তো ওই বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে স্যারের সাথে দেখা করতে গেছিলাম। প্রধান উপদেষ্টা দেশের চলমান পরিস্থিতিতে কাজ করতে পারবেন না এমন শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

    তিনি বলেন, স্যার বলছেন আমি যদি কাজ করতে না পারি… যে জায়গা থেকে তোমরা আমাকে আনছিলা একটা গণ অভ্যুত্থানের পর। দেশের পরিবর্তন, সংস্কার…..। কিন্তু যেই পরিস্থিতি যেভাবে আন্দোলন বা যেভাবে আমাকে জিম্মি করা হচ্ছে। আমিতো এভাবে কাজ করতে পারবো না। তো রাজনৈতিক দলগুলা তোমরা সবাই একটা জায়গায়, কমন জায়গায় না পৌঁছাতে পারো। প্রধান উপদেষ্টাকে পদত্যাগের মতো সিদ্ধান্ত না নিতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    প্রধান উপদেষ্টাকে নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমাদের গণ অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের ভবিষ্যৎ সবকিছু মিলিয়ে উনি যাতে শক্ত থাকেন। এবং সবগুলা দলকে নিয়ে যাতে ঐক্যের জায়গায় থাকেন। সবাই তার সাথে আশা করি কো-অপারেট করবেন। প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানান তিনি।

    তিনি বলেন, হ্যাঁ যদি কাজ করতে না পারেন, থাকবেন, থেকে কী লাভ। এই আলোচনার পরে প্রধান উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামকে জানিয়েছেন ‘পদত্যাগের বিষয়ে ভাবছেন” তিনি। উনি বলছেন, উনি এ বিষয়ে ভাবতেছেন। ওনার কাছে মনে হয়েছে পরিস্থিতি এরকম যে তিনি কাজ করতে পারবেন না।

    পদত্যাগের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার এখনকার মনোভাবের বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, এখন ওনি যদি রাজনৈতিক দল তার পদত্যাগ চায়…. সেই আস্থার জায়গা, আশ্বাসের জায়গা না পাইলে উনি থাকবেন কেন?

    প্রসঙ্গত, আজই অন্তর্বর্তী সরকারের দুইজন উপদেষ্টা এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদত্যাগ বা অব্যাহতি চেয়েছে বিএনপি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে শপথ পড়ানোর চলমান আন্দোলন থেকে আজ দুই উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদের পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। পরে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে বিএনপি এই দুই উপদেষ্টাসহ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানেরও অব্যাহতি দাবি করেছে।

    এদিকে, বিএনপি’র এই দাবির পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের তিনজন উপদেষ্টাকে বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে আখ্যায়িত করে পদত্যাগে বাধ্য করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এনসিপি’র এক শীর্ষ নেতা, তবে তা সংস্কার সুপারিশ বাস্তবায়ন না হলে। এই তিনজন হলেন— আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল, অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে পূর্বের যে কোনো বিভাজনমূলক বক্তব্য ও শব্দচয়নের কারণে দুঃখপ্রকাশ করেছেন।


    বিবিসি বাংলা

  • সাম্য হত্যার বিচার দাবিতে ফের শাহবাগ অবরোধ ছাত্রদলের

    সাম্য হত্যার বিচার দাবিতে ফের শাহবাগ অবরোধ ছাত্রদলের

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে ফের শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছে ছাত্রদল।

    বৃহস্পতিবার (২২ মে) সকাল পৌনে ১১টায় তুমুল বৃষ্টির মধ্যেই পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন তারা।

    এতে শাহবাগ মোড় দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে পার্শ্ব রাস্ত খোলা থাকায় রিকশাসহ কিছু কিছু যানবাহন সেখান দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। এছাড়া অ্যাম্বুলেন্স ও রোগীবহনকারী যানবাহনকে চলাচলে ছাড় দিতে দেখা গেছে।

    এদিকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ‘রক্তের বন্যায়, ভেসে যাবে অন্যায়’, ‘কে বলে রে জিয়া নাই, জিয়া আছে বাংলায়’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায়।

    আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাম্যর হত্যা মামলার তদন্তে গাফিলতির প্রতিবাদে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল ঘাতকসহ সব আসামিকে গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু বিচারে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে তারা শাহবাগে অবস্থান নিয়েছেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিকাল ৫টা পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। শাহবাগ ছাড়াও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালেও তাদের অবস্থান নেয়ার কথা রয়েছে।

    সাম্য হত্যার বিচার দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে শাহবাগ অবরোধ করে আন্দোলন করছে ছাত্রদল।

  • সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চ, শিক্ষক নেতা শেখ কাওছার আটক

    সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চ, শিক্ষক নেতা শেখ কাওছার আটক

    জাতীয়করণের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি থেকে সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চ করার শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বিটিএ) সভাপতি অধ্যক্ষ শেখ কাওছার আহমেদকে আটক করেছে পুলিশ।

    বুধবার (২১ মে) বেলা ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।

    কয়েকদিন ধরে জাতীয়করণসহ বেশ কিছু দাবিতে প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। এরই অংশ হিসেবে বুধবার (২১মে) পূর্বঘোষিত সচিবালয় অভিমুখে লং মার্চ করার সময় শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ শেখ কাওছার আহমেদকে আটক করা হয়।

    আন্দোলনকারী শিক্ষকরা বলছেন, তারা শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে আসন্ন ঈদুল আজহার পূর্বেই পূর্ণাঙ্গ উৎসবভাতা, বাড়িভাড়া ও চিকিৎসাভাতা চাচ্ছেন।

    অবস্থান কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নেতারা অংশ নেন, তারা নিজেদের নানা ‘বৈষম্যের’ কথা তুলে ধরেন।

  • সচিবালয় অভিমুখে মাধ্যমিক শিক্ষকদের লংমার্চ আজ

    সচিবালয় অভিমুখে মাধ্যমিক শিক্ষকদের লংমার্চ আজ

    বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে আজ বুধবার সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চ করবেন মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা। ১২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে এ কর্মসূচি শুরু হবে।

    শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব মো. শামীম আল মামুন জুয়েল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী সর্ববৃহৎ শিক্ষক সংগঠন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ)সহ বেশ কিছু শিক্ষক-কর্মচারী সংগঠনের উদ্যোগে গঠিত শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান সরকারি-বেসরকারি বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে ঈদ-উল আযহার পূর্বেই শতভাগ উৎসব ভাতা, পূর্ণাঙ্গ বাড়ী ভাড়াসহ শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে গত ১৭ মে ২০২৫ শনিবার থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চলছে।

    কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার দুপুর ১২ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে লংমার্চ টু সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে।

    ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বিটিএ) সভাপতি অধ্যক্ষ শেখ কাওছার আহমেদ জানান, ‘দীর্ঘ ২১ বছর পর শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে মাত্র ২৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। বিষয়টি আমাদের সঙ্গে প্রহসন করার মতো। আমরা এটি মানি না। আমরা শতভাগ উৎসব ভাতা চাই। একইসঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের ন্যায় বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা চাই।’