Category: খবর

  • আগামী এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচন : প্রধান উপদেষ্টা

    আগামী এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচন : প্রধান উপদেষ্টা

    আগামী বছরের এপ্রিল মাসের প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় ঈদুল আযহা উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমাদের ওপর আপনাদের অর্পিত ম্যান্ডেট ন্যূনতম হলেও বাস্তবায়ন করে যেতে পারব। সে বিবেচনায় ও ইতিহাসে সবচেয়ে অবাধ, সুষ্ঠু, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য সকল পক্ষের সঙ্গে আমরা আলোচনা করেছি। পাশাপাশি, বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন সংক্রান্ত চলমান সংস্কার কার্যক্রম পর্যালোচনা করে আমি আজ দেশবাসীর কাছে ঘোষণা করছি যে আগামী জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধের যে কোনো দিন অনুষ্ঠিত হবে। এই ঘোষণার ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন উপযুক্ত সময়ে আপনাদের কাছে নির্বাচনের বিস্তারিত রোডম্যাপ প্রদান করবে। আমরা এমন নির্বাচন চাই যা দেখে অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মা তৃপ্তি পাবে, তাদের আত্মা শান্তি পাবে। আমরা চাই আগামী নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোটার, সবচেয়ে বেশি প্রার্থী ও দল অংশ নিক। এটা সবচেয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হিসেবে জাতির কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকুক।

    দেড়যুগ পরে দেশে সত্যিকারের একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল সংসদ গঠিত হবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিপুল তরুণ গোষ্ঠী এবার জীবনে প্রথম ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবে। এসব লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আমরা জাতির কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ। আমি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই, আপনারা সকল রাজনৈতিক দল এবং আপনাদের এলাকার প্রার্থীদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার আদায় করে নেবেন যেন আগামী সংসদের প্রথম অধিবেশনেই যেসব সংস্কার প্রশ্নে ঐকমত্য অর্জিত হয়েছে তা কোনো প্রকার কাটাছেঁড়া ছাড়াই যেন তাঁরা অনুমোদন করেন।

    তিনি বলেন, আপনারা ওয়াদা আদায় করে নেবেন যে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নে কখনও কোনো প্রকার আপস করবেন না এবং দেশের বাইরের কোনো শক্তির কাছে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেবেন না। আপনারা তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি আদায় করে নেবেন এই মর্মে যে তারা কখনোই, কোনো অবস্থাতেই আপনাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করবেন না।’

    জাতীয় নির্বাচন কবে হবে সে বিষয়ে দেশবাসীর আগ্রহ রয়েছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন,‘আগামী জাতীয় নির্বাচন কখন হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানার জন্য রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যে বিপুল আগ্রহ রয়েছে। আমি বারবার বলেছি এই নির্বাচন ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। এই সময়ের মধ্যে দেশে নির্বাচন উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টির জন্য যা যা করা দরকার, সরকার তাই করছে। এখানে মনে রাখা জরুরি, বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে যতবার গভীর সংকটে নিমজ্জিত হয়েছে তার সবগুলোরই প্রধান কারণ ছিল ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন।

    ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বারবার ক্ষমতা কুক্ষিগত করার মধ্য দিয়ে একটি রাজনৈতিক দল বর্বর ফ্যাসিস্টে পরিণত হয়েছিল। এই ধরনের নির্বাচন যারা আয়োজন করে তারা জাতির কাছে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যায়। এমন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে দল ক্ষমতায় আসে তারাও জনগণের কাছে ঘৃণিত হয়ে থাকে। এ সরকারের একটি বড় দায়িত্ব হলো একটি পরিচ্ছন্ন, উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ, বিপুলভাবে অংশগ্রহণের পরিবেশে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠান করা।

    অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আমাদের দায়িত্ব হলো এমন একটি নির্বাচন আয়োজন করা যাতে করে দেশ ভবিষ্যতে নতুন সংকটে না পড়ে। এজন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। যেই প্রতিষ্ঠানগুলো নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত সেগুলোতে যদি সুশাসন নিশ্চিত করা না যায় তাহলে ছাত্র-জনতার সকল আত্মত্যাগ বিফলে যাবে। সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন এই তিনটি ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে আমরা দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলাম। সে বিবেচনায় আগামী রোজার ঈদের মধ্যে সংস্কার ও বিচারের বিষয়ে আমরা একটি গ্রহণযোগ্য জায়গায় পৌঁছতে পারবো বলে বিশ্বাস করি। বিশেষ করে মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার- যা কি না জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি আমাদের সম্মিলিত দায়- সে বিষয়ে আমরা দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পারব।

    ড. ইউনূস দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, আমি আপনাদের আবারও স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, এবারের নির্বাচন শুধু শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করার বিষয় নয়। এটা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার নির্বাচন। এই নির্বাচনে পরিচিত দলগুলোই থাকবে। তাদের পরিচিত মার্কাগুলোই থাকবে। কিন্তু ভোটারকে বের করে আনতে হবে যে এই মার্কার পেছনে আপনার কাছে ভোটপ্রার্থীরা কতটুকু ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার জন্য প্রস্তুত। কে কতটা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমরা যারা এই নির্বাচনে ভোটার হবো তারা অত্যন্ত সৌভাগ্যবান এবং সৌভাগ্যবতী। আমরা একটা অনন্য ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনের সুযোগ ও দায়িত্ব পাচ্ছি। আমরা জাতির নতুন যাত্রাপথ তৈরি করে দেয়ার দায়িত্ব পাচ্ছি। আমরা নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি সৃষ্টির মহান সুযোগটা পাচ্ছি। আমাদের সুচিন্তিত ভোটের মাধ্যমেই নতুন বাংলাদেশ নির্মিত হবে। শহীদদের রক্তদান সার্থক হবে। আশা করি, বিষয়টা নিয়ে চিন্তাভাবনা করেই সবাই ভোটকেন্দ্রে যাবো এবং দৃঢ় প্রত্যয়ে ভোট দেবো। এখন থেকে ভাবনা চিন্তা শুরু করুন। আলোচনা শুরু করুন। এখন থেকে আপনাদের ভোটের গুরুত্বটা বুঝে নিন। আপনার এবারের ভোটের গুরুত্ব ঐতিহাসিক মানদণ্ডে দেখা হবে।

  • সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

    সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

    আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে আজ দুপুর এ তথ্য জানানো হয়। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে এই ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

    প্রেস উইং জানিয়েছে, পবিত্র ঈদ উল আযহা উপলক্ষ্যে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

    এদিকে শুক্রবার সকালে জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানিয়েছেন, জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাতে নামাজ আদায় করবেন প্রধান উপদেষ্টা। সেই জামাতটি অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৭টায়। এছাড়া এই জামাতে আরও নামাজ আদায় করবেন প্রধান বিচারপতিসহ অন্যান্য বিচারপতি, উপদেষ্টা, ঢাকার মুসলিম দেশের কূটনীতিক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।

  • আইসিসির বিচারকদের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা

    আইসিসির বিচারকদের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা

    আবারও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এবার তাদের নিশানায় পড়েছেন চারজন বিচারক, যারা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র ইসরাইলের বিরুদ্ধে তদন্তের অনুমোদন দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ নিষেধাজ্ঞার কথা জানান।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আইসিসি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিষ্ঠান, যা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত, অভিযোগ ও বিচার পরিচালনার অবাধ ক্ষমতা দাবি করছে। এটি আমাদের সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি।’

    নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া চার বিচারক হলেন- সলোমি বালুংগি বসা (উগান্ডা); লুস দেল কারমেন ইবানেজ কারানজা (পেরু); রেইন আলাপিনি গাঁসু (বেনিন); বেটি হোলার (স্লোভেনিয়া)।

    নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তাদের সব সম্পদ ও সম্পত্তি জব্দ করা হবে এবং মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সঙ্গে কোনো আর্থিক বা পেশাদার সম্পর্ক রাখতে পারবে না।

    কোন তদন্তের কারণে এই পদক্ষেপ? ১. আফগানিস্তানে যুদ্ধাপরাধ তদন্তঃ বিচারক বসা ও কারানজা ২০২০ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনী ও সিআইএ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ তদন্তের অনুমোদন দিয়েছিলেন।আফগানিস্তান আইসিসির সদস্য রাষ্ট্র হওয়ায় আদালত নিজেকে এখতিয়ারভুক্ত মনে করে। ২. ইসরাইলের বিরুদ্ধে মামলাঃ বিচারক গাঁসু ও হোলার ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন।

    এ মামলায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ইচ্ছাকৃত হামলার অভিযোগ রয়েছে, যাকে জাতিসংঘের কিছু বিশেষজ্ঞ ‘গণহত্যার লক্ষণ’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন।

    এদিকে আইসিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতাকে খর্ব করার চেষ্টা। এটি তাদের উৎসাহিত করে যারা মনে করে তারা কোনো জবাবদিহিতার আওতায় পড়বে না।’

    এর আগে, ২০১৯ ও ২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও আইসিসির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন প্রধান প্রসিকিউটর ফাতু বেনসৌদা এবং আরেক কর্মকর্তা ফাকিসো মোচোচোকোকো তখন নিষেধাজ্ঞার শিকার হন। তবে, ২০২১-২০২৪ সালে বাইডেন প্রশাসন এসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়।

    এবার দ্বিতীয় মেয়াদে আবার প্রেসিডেন্ট হয়ে ট্রাম্প ‘বিস্তৃত নির্বাহী আদেশ’ জারি করেন, যেখানে যে কেউ আইসিসির তদন্তে সহায়তা করলে তার ওপর নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেওয়া হয়। এতে আইসিসি প্রসিকিউটর করিম খান-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়, যিনি ইসরাইলের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এরপর তার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তাকে তদন্ত থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ আইসিসিকে ভয়ভীতি দেখানোর কৌশল এবং এটি দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক বিচারের ন্যায্যতা ও কার্যকারিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

    কারণ: আইসিসির আদেশ কার্যকর করতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আইসিসির সদস্য নয়, তাই তারা আইসিসির এখতিয়ার মানে না। কিন্তু আফগানিস্তান ও ফিলিস্তিন সদস্য হওয়ায় আদালত তাদের ভূখণ্ডে সংঘটিত অপরাধের তদন্তে আইনগতভাবে সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্ক পুনরায় দৃঢ়ীকরণ

    এদিকে এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট জানান দিল যে, ইসরাইলকে আন্তর্জাতিক তদন্ত থেকে রক্ষার জন্য তারা সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক এবং আইনি দুই পথেই তা ঠেকানোর চেষ্টা করছে। মুলত যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। আইসিসি তার নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা ধরে রাখতে পারবে কিনা—তা নির্ভর করবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সম্মিলিত প্রতিক্রিয়ার ওপর।

  • ঈদের ছুটিতে রাতের ঢাকার নিরাপত্তায় থাকবে ৫০০ পেট্রোল টিম

    ঈদের ছুটিতে রাতের ঢাকার নিরাপত্তায় থাকবে ৫০০ পেট্রোল টিম

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেছেন, একটি ঈদ জামাতও নিরাপত্তার বাইরে থাকবে না। ঈদের ছুটিতে রাতের ঢাকার নিরাপত্তায় ৫০০টি ও দিনে ২৫০টি পেট্রোল টিম থাকবে।

    শুক্রবার (৬ জুন) সকালে জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

    রাজধানীবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৭টায়। এখানে একত্রে ৩৫ হাজার মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করতে পারবেন। প্রধান উপদেষ্টা, প্রধান বিচারপতিসহ অন্যান্য বিচারপতি, উপদেষ্টা, ঢাকার মুসলিম দেশের কূটনীতিক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। ঈদগাহে ৪টি পুরুষ ও ১টি নারী গেইটসহ মোট ৫টি গেইট দিয়ে মুসল্লিরা ঈদ জামাতে প্রবেশ করতে পারবেন।

    জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ঈদ জামাতের ব্যাপারে তিনি বলেন, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মোট ৫টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তারমধ্যে প্রথম জামাত শুরু হবে সকাল ৭টায়। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের প্রধান জামাত বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর ঢাকা মহানগরীতে মোট ১১৮টি ঈদগাহ এবং ১৬২১টি মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও মহানগরীতে শিয়া ও কাদিয়ানি সম্প্রদায় কর্তৃক ৮টি এবং সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ৩টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

    ডিএমপি কমিশনার বলেন, জাতীয় ঈদগাহ, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ এবং ঢাকার অন্যান্য স্থানে অনুষ্ঠিতব্য ঈদ জামাতের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ একটি সমন্বিত, সুদৃঢ় ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাত উপলক্ষ্যে পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশের এলাকায় ইতোমধ্যেই সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং ঈদগাহ ময়দানে স্থাপিত অস্থায়ী পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, ঈদগাহ ময়দানে আসার প্রধান তিনটি রাস্তার প্রবেশ মুখে অর্থাৎ মৎস্য ভবন ক্রসিং, প্রেস ক্লাবের সামনে ও হাইকোর্ট ক্রসিংয়ে ব্যারিকেড ও তল্লাশির ব্যবস্থা থাকবে। ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশপথ সমূহে আর্চওয়ের মাধ্যমে সব মুসল্লিকে প্রবেশ করতে হবে। এছাড়াও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে ও ম্যানুয়ালি তল্লাশির ব্যবস্থা থাকবে। নারীদের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থা, প্রবেশপথ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশের এলাকা এসবির সুইপিং টিম এবং সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড দ্বারা সুইপিং করা হবে। ডিএমপির সোয়াট ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। ডিবি ও সিটিটিসির পর্যাপ্ত সংখ্যক সদস্য সাদা পোশাকে মোতায়েন থাকবে এবং পুরো এলাকায় আলাদা নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য ইতোমধ্যেই ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। নিরাপত্তা প্রদানে নিয়োজিত অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম কেন্দ্রিক একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যান্য ঈদগাহের ক্ষেত্রে ডিএমপির প্রতিটি ক্রাইম বিভাগ আয়োজক সংস্থার সাথে সমন্বয় করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মহানগরীর একটি ঈদ জামাতও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাইরে থাকবে না।

    নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে তল্লাশি কার্যক্রমে সহযোগিতা করার জন্য নগরবাসীকে অনুরোধ করছি। ঈদ জামাতে কোনো প্রকার ব্যাগ, ধারালো বস্তু বা দাহ্য পদার্থ সঙ্গে না আনার জন্য অনুরোধ করছি। ঈদ জামাত শেষে তাড়াহুড়ো না করে সুশৃঙ্খলভাবে বের হবেন। সন্দেহজনক কিছু মনে হলে অনতিবিলম্বে নিকটস্থ পুলিশ সদস্যকে জানাবেন।

    এ সময় তিনি নগরবাসীকে ঈদের ছুটির সময় মহানগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে নগরবাসীর সহায়তা প্রত্যাশা করে ডিএমপির পক্ষ থেকে যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সেগুলো মেনে চলারও আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি কোরবানির পশুর বর্জ্য সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ও যেকোনো সহায়তায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এবং পুলিশ কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

    ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাতের নিরাপত্তায় ৫০০ পেট্রোল টিম থাকবে, দিনে ২৫০টি থাকবে। পাশাপাশি গাড়ি, ফুট পেট্রোল ও মোবাইল পেট্রোল থাকবে। আমরা সবাইকে সজাগ করছি, যে অফিসাররা অফিসে থাকেন, বাইরে কম বের হন, তাদেরকেও দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। তারা সুপারভিশন করার জন্য মাঠে থাকবেন। আশা করি কোনো সমস্যা হবে না। এছাড়া সড়কে চেকপোস্ট তল্লাশি থাকবে।

  • দেশে ফের করোনার হানা, একজনের মৃত্যু

    দেশে ফের করোনার হানা, একজনের মৃত্যু

    দেশে ফের হানা দিয়েছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। অনেকদিন করোনা আক্রান্তের খবর শোনা না গেলেও গত কয়েকদিন ধরে পরীক্ষানিরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্তের খবর পাওয়া গেছে। এরই ধারবাহিকতায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে ২১টি নমুনা পরীক্ষায় তিনজনের শরীরে এই ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৫ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনা বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিটি পুরুষ। তার বয়স ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে। এ নিয়ে দেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ২৯ হাজার ৫০০ জন। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ লাখ ৫১ হাজার ৭৩৯ জন।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল বুধবার (৪ জুন) সকাল ৮টা থেকে আজ বৃহস্পতিবার (৫ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষার অনুপাতে শনাক্তের হার ১৪ দশমিক দুই নয় শতাংশ। এই সময়ে করোনা থেকে তিনজন সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত এই ভাইরাস থেকে সুস্থ হয়েছে ২০ লাখ ১৯ হাজার ৩৬০ জন।

  • ১৭ মা পেলেন পপ অফ কালারের ‘সুপারমম অ্যাওয়ার্ড’

    ১৭ মা পেলেন পপ অফ কালারের ‘সুপারমম অ্যাওয়ার্ড’

    মায়ের অপরিসীম ভালোবাসা আর অনন্য অবদানের প্রতি সম্মান জানাতে ‘সুপারমম অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ প্রদান করেছে নারীকেন্দ্রিক ফেসবুক প্ল্যাটফর্ম পপ অফ কালার।

    সম্প্রতি মাল্টিপারপাস হল,পক হাভ,পান্থপথে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ১৭ জন নারীকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। টিংকার’স টি এর সৌজন্যে অনুষ্ঠিত আয়োজনটি হয়ে ওঠে মা-সন্তানদের মিলনমেলা।

    এই বছরের আয়োজনে সারাদেশ থেকে নির্বাচিত ১৭ জন মাকে তাদের সন্তানদের মনোনয়নের ভিত্তিতে সম্মানিত করা হয়েছে। কেউ নিজের মাকে নিয়ে লিখেছেন, কেউবা লিখেছেন মা হিসেবে নিজের অনুভূতি। মা–সন্তানের সম্পর্ক, সংগ্রামের গল্প, ত্যাগ ও ভালোবাসার উজ্জ্বল সাক্ষ্য বহন করে এমন অসংখ্য আবেদন থেকে বাছাই করা হয়েছে নির্বাচিতদের।

    এবার সুপারমম অ্যাওয়ার্ড জয়ী ১৭ জন শ্রদ্ধেয় মা হলেন- জান্নাতুল ফেরদৌস, মোনিয়া সুলতানা, গোলাম সাদিয়া আফরিন পিলু, কাজী নওশীণ লায়লা , তানিয়া আহমেদ বেলী, নিলুফার হক, হাসিনা বিনতে হাবিব, শামসুন নাহার, আনিসা ফাতেমা, শিরিন আখতার, ওয়াসেকা তাসনিম, শাকিলা বেগম, নার্গিস সুলতানা, নাজমুন নাহার, তাজকেরা বেগম পারুল, তাশরীবা তাওসিক এবং নাহার।

    এ বিষয়ে পপ অফ কালার এর কর্ণধার টিংকার জান্নাত মিম বলেন, ‘প্রতিটি মা-ই জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে তার সন্তানদের জন্য নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসা, ত্যাগ, সংগ্রাম আর আত্মদানের প্রতীক। সেই অপরিসীম ভালোবাসা ও অনন্য অবদানের প্রতি সম্মান জানাতে আমাদের এই আয়োজন। আমরা একটি অনন্য, আবেগঘন ও বাস্তবভিত্তিক স্বীকৃতি প্রদানের উপলক্ষ হতে চেয়েছি।

    ‘এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা সমাজকে মনে করিয়ে দিতে চাই—প্রত্যেকটি মা-ই একজন ‘সুপারমম’। এ সম্মাননা ছিল শুধু তাদের জন্য, যারা দিনের পর দিন নিঃশব্দে নিজেদের জীবনের প্রতিটি অধ্যায় সন্তানদের জন্য উৎসর্গ করেছেন’ যোগ করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা নিজেদের জীবনের গল্প বলেন। না পাওয়া, কষ্টের কিংবা মানসিক যন্ত্রণার অনুভূতিগুলো ভাগ করে নেন সবার সঙ্গে। ফলে পুরোটা সময় জুড়ে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে মায়েদের সন্মাননা প্রদান করা হয় ও শুভেচ্ছা উপহার।

    এই মহতী আয়োজনের টাইটেল স্পন্সর হিসেবে যুক্ত হয়েছে টিংকার’স টি (Tinker’s Tea), যারা শুধু একটি চা ব্র্যান্ড নয়, বরং সমাজে ইতিবাচক প্রভাব তৈরির এক প্রতিশ্রুতিশীল নাম।

    এই আয়োজন শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি ছিল মায়েদের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এক অনবদ্য প্রয়াস।

  • শেখ মুজিবসহ চার নেতাকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়নি: উপদেষ্টা ফারুক ই আজম

    শেখ মুজিবসহ চার নেতাকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়নি: উপদেষ্টা ফারুক ই আজম

    ক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, মো. মনসুর আলী ও এএইচএম কামরুজ্জামান মুক্তিযোদ্ধা।

    বুধবার (৪ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে এ কথা জানান তিনি।

    ফারুক ই আজম বলেছেন, মুজিবনগর সরকারে যারা ছিলেন, তারাও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হবে। যারা সশস্ত্রভাবে মুক্তিযুদ্ধ করেছে, যারা পরিচালনা করেছে তারা মুক্তিযোদ্ধা। তবে ওই সরকারের কর্মকর্তা, কর্মচারীরা সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হবেন।

    তিনি আরও বলেছেন, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রসহ কূটনীতিকরা সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা। সহযোগী মানে এ নয় যে তাদের সম্মান ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।

    উপদেষ্টা বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধার নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করে তা জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইনের সংশোধিত অধ্যাদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকলেও এটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে।

    ফারুক ই আজম বলেন, ১৯৭২ সালে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞাই বাস্তবায়ন করেছে। ২০১৮ ও ২০২২ সালে এটা পরিবর্তন করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী দুইয়েরই সম্মান, মর্যাদা, সুযোগ-সুবিধা একই থাকবে। জাতিগতভাবে মুক্তিযুদ্ধ না করলে আমরা স্বাধীন হতে পারতাম না। মুক্তিযুদ্ধের চেয়ে গৌরব আমাদের জাতির ইতিহাসে আর কিছু হয়নি।

    এর আগে মঙ্গলবার (৩ জুন) রাতে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল অধ্যাদেশ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।

  • ঈদের দিন বন্ধ থাকবে মেট্রোরেল

    ঈদের দিন বন্ধ থাকবে মেট্রোরেল

    রাজধানী ঢাকার দ্রুততম ও আধুনিক বাহন মেট্রোরেল চলাচল পবিত্র ঈদুল আজহার দিন অর্থাৎ ৭ জুন বন্ধ থাকবে।

    বুধবার (৪ জুন) ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক (প্রশাসক) এ কে এম খায়রুল আমিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আগামী ০৭ জুন (শনিবার) পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে মেট্রো ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে ঈদের পরদিন অর্থাৎ রোববার (৮ জুন) সকাল ৮টা থেকে ৩০ মিনিট থেকে মেট্রোরেল চলবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আগামী সোমবার (৯ জুন) থেকে সরকারি ছুটির দিনের সময়সূচি অনুযায়ী মেট্রোরেল চলাচল করবে।

  • তাজউদ্দিনের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বাতিল হয় কীভাবে প্রশ্ন সারজিসের

    তাজউদ্দিনের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বাতিল হয় কীভাবে প্রশ্ন সারজিসের

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম তাজউদ্দিন আহমদের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বাতিলের বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

    বুধবার (৪ জুন) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “তাজউদ্দিন আহমদ মাঠে থেকে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বাতিল হয় কীভাবে?”

    সারজিস আলম তার পোস্টে মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, মন্ত্রণালয়ের উচিত ছিল “মুক্তিযোদ্ধার নামে সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার জন্য আওয়ামী আমলে যারা নতুন করে মুক্তিযোদ্ধা সেজেছেন এবং ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তাদেরকে খুঁজে বের করে তাদের মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিল করা।”

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, “মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে ইচ্ছাকৃতভাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছে বন্দি হয়ে বিজয়ের পর পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের জেলে বন্দি ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকলেও মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তিনি সরাসরি মাঠে ছিলেন না।”

    সারজিস আলমের মতে, ” মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মাঠে থেকে যারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় সরাসরি অবদান রেখেছেন তাদেরকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাতিল করার মতো অপ্রয়োজনীয় কাজ কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

    তিনি ইতিহাসের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে বলেন, “ইতিহাস যেন কখনো ক্ষমতাসীনদের পক্ষের না হয়। ইতিহাসকে ইতিহাসের মতো করেই চলতে দেওয়া উচিত।”

  • বঙ্গবন্ধুসহ ৪ শতাধিক নেতার মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বাতিল

    বঙ্গবন্ধুসহ ৪ শতাধিক নেতার মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বাতিল

    শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদসহ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী চার শতাধিক রাজনীতিবিদের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বাতিল হয়ে গেছে। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) অধ্যাদেশে এসব নেতাদের পরিচয় ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার রাতে বীর মুক্তিযোদ্ধার নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করে জামুকা আইনের সংশোধিত অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার।

    সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, প্রবাসী মুজিবনগর সরকারের সদস্যরা হবেন ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিভাগ থেকে এ অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এতে কারও নাম না থাকলেও নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী উল্লেখিত নেতাদের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বাতিল হয়ে গেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

    অধ্যাদেশ অনুযায়ী, শুধু মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারই নন, আরও চার শ্রেণির স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এই চার শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধা হলেন প্রথমত, যেসব বাংলাদেশি পেশাজীবী বিদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশেষ অবদান রেখেছেন এবং বিশ্ব জনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।

    দ্বিতীয়ত, যারা মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত বাংলাদেশ সরকারের (মুজিবনগর) অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারী বা দূতসহ অন্যান্য সহকারী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তৃতীয়ত, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সব শিল্পী ও কলাকুশলী এবং দেশ ও দেশের বাইরে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে দায়িত্ব পালনকারী সব বাংলাদেশি সাংবাদিক। চতুর্থত, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল।

    বাতিল হওয়া জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন ২০২২ অনুযায়ী বঙ্গবন্ধুসহ প্রবাসী সরকারের এমএনএ বা এমপিএ এবং উল্লিখিত চার শ্রেণির সবাই বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে স্বীকৃত ছিলেন। নতুন অধ্যাদেশে তাদের মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী করার ফলে তাদের বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিচিতি বাতিল হয়ে গেল।