Category: খবর

  • বিশেষ বিসিএসের বিধিমালা সংশোধন

    বিশেষ বিসিএসের বিধিমালা সংশোধন

    বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বয়স, যোগ্যতা ও সরকারি নিয়োগের জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা, ২০১৪ এর সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।

    বুধবার (২৮ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    এতে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ধারা ৫৯ এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার সংবিধানের ১৪০ (২) অনুচ্ছেদের বিধান মোতাবেক সরকারি কর্ম কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বয়স, যোগ্যতা ও সরকারি নিয়োগের জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা, ২০১৪ এর সংশোধন করলো।

    সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, ক্যাডার পদসমূহে নিয়োগের জন্য বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার আওতায় পরীক্ষার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ প্রার্থী সুপারিশ করতে পারবে।

    লিখিত পরীক্ষা ২০০ নম্বর, মৌখিক পরীক্ষা ১০০ নম্বরসহ মোট নম্বর ৩০০।

    লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ বিষয়াবলি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি ২০ নম্বর করে এবং মানসিক দক্ষতা ও গাণিতিক যুক্তিতে ১০ নম্বর করে মোট ১০০ নম্বর। আর সংশ্লিষ্ট ক্যাডার এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পদের জন্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ে পরীক্ষা হবে ১০০ নম্বরের।

    প্রতিটি এমসিকিউ প্রশ্নের সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর পাবেন। ভুল উত্তরের জন্য ০.৫০ নম্বর কর্তন করা হবে।

    লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর কমিশন থেকে নির্ধারিত হবে। মৌখিক পরীক্ষার ন্যূনতম পাস নম্বর ৫০।

    লিখিত পরীক্ষা কেবল ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। তবে প্রার্থী সংখ্যা এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় কমিশনের নিকট প্রয়োজনীয় প্রতীয়মান হলে ঢাকার বাইরে অন্যান্য কেন্দ্রে পরীক্ষা গ্রহণ করা যাবে।

  • কঠোর কর্মসূচিতে যাচ্ছেন ২৫ ক্যাডারের কর্মকর্তারা

    কঠোর কর্মসূচিতে যাচ্ছেন ২৫ ক্যাডারের কর্মকর্তারা

    প্রশাসন ক্যাডারের ‘বৈষম্যমূলক আচরণের’ প্রতিবাদে শিগগিরই কঠোর কর্মসূচির পরিকল্পনা করছেন ২৫টি ক্যাডারের কর্মকর্তারা।

    বুধবার (২৮ মে) দ্বিতীয় দিনের কলমবিরতি পালন শেষে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রশাসন ক্যাডার কর্তৃক বৈষম্যমূলকভাবে বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত ও বিভাগীয় মামলার প্রতিবাদে সারা দেশের বিভিন্ন দফতরে গতকালের মতো আজও কলম বিরতি কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদের আহ্বানে দেশের বিভিন্ন দফতরে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত পরিষদের অন্তর্ভুক্ত সিভিল সার্ভিসের ২৫টি ক্যাডারের কর্মকর্তারা দুই দিনব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করেন।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসন ক্যাডারের সদস্যরা মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরে মারামারি, মিছিল ও জনপ্রশাসনে শোডাউন করেন। সংস্কার কমিশনকে আল্টিমেটাম দেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি শুরু হয় এবং প্রশাসন ক্যাডারের সদস্যরা বাকি ২৫টি ক্যাডারের সদস্যদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। এসব লেখালেখির কারণে ২৫ ক্যাডারের ১২ জন সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে বিষয়টি সমাধানের জন্য আশ্বস্ত করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টিকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তার ওপর সম্প্রতি কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে। অথচ প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা সরকারি বিধি-বিধান বহির্ভূত কার্যকলাপের পরও তাদের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

    পরিষদ জানায়, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন উত্থাপিত প্রতিবেদনে দুর্নীতিমুক্ত জনসেবা নিশ্চিত করার মতো কোনও সুপারিশ দেখা যায়নি। বরং একটি নির্দিষ্ট ক্যাডারের গোষ্ঠী-স্বার্থে পক্ষপাতদুষ্ট সুপারিশ বিদ্যমান। জেলা পরিষদ ভেঙে দিয়ে ডিসিকে জেলার প্রধান এবং তাকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ পদ আপগ্রেডেশনের সুপারিশ করা হয়েছে।

    পরিষদ মনে করে, কোনও গণতান্ত্রিক সমাজে একটি ভৌগোলিক এলাকায় কোনও সরকারি চাকরিজীবী প্রধান হতে পারেন না। তাই জেলা পরিষদকে শক্তিশালী ও কার্যকর করে জনগণের প্রতিনিধিকে জেলার প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দাবি করে পরিষদ।

    এছাড়া জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন তার প্রতিবেদনে উদ্দেশ্যমূলকভাবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিসংখ্যান, ডাক, পরিবার-পরিকল্পনা, কাস্টমস ও ট্যাক্স ক্যাডারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি করেছে। উপসচিব পুলে প্রশাসন ক্যাডারের জন্য ৫০ শাতংশ কোটা রেখে অন্যান্য ২৫টি ক্যাডারের জন্য ৫০ শতাংশ পরীক্ষার ভিত্তিতে নিয়োগের সুপারিশ করেছে, যা জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে পরিষদ মনে করে। আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদের সঙ্গে কোনও রকম আলোচনা ছাড়া এমন সব সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

    সরকারের সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ক্যাডারের পক্ষপাতদুষ্ট নির্যাতনমূলক আচরণের প্রতিবাদে কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হচ্ছে পরিষদ। আলোচনার টেবিলে সমাধানের কমিটমেন্ট পেলেও বাস্তবে তা পরিলক্ষিত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সমস্যার সমাধান না হলে শিগগিরই আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তারা।

    পরিষদের আহ্বানে একই দাবিতে গত ২০ মে ঢাকায় কেন্দ্রিয় শহীদ মিনার চত্বরে পরিষদের অন্তর্ভুক্ত ২৫ ক্যাডারের সদস্যরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

  • ঢাবি শিক্ষার্থীকে হত্যাচেষ্টা: তিন ব্যবসায়ী রিমান্ডে

    ঢাবি শিক্ষার্থীকে হত্যাচেষ্টা: তিন ব্যবসায়ী রিমান্ডে

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে হত্যাচেষ্টা ও মারধরের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার তিন ব্যবসায়ীর এক দিনে করে রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। তিন ব্যবসায়ী হলেন- নজরুল ইসলাম মিলন, মো. চুন্নু মিয়া ও নামজুল।

    মঙ্গলবার (২৭মে) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

    আসামিপক্ষে আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাহিন রেজার তাদের জামিন নামঞ্জুর করে প্রত্যেকের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মে রাত সাড়ে ৮ টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম ও আয়েজুর রহমান কেনাকাটা করতে নিউমার্কেটের চাঁদনি চক মার্কেটে যান। তখন ওই দোকানে কেনাকাটা করতে আসা এক নারী দরকষাকষি করে। এটা নিয়ে দোকানের কর্মচারীরা ওই নারীকে গালিগালাজ করতে থাকেন। তখন দুই শিক্ষার্থী এটার প্রতিবাদ করলে ব্যবসায়ীরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তারা গুরুতর আহত হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ২৭ মে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম নিউমার্কেট থানায় মামলা করেন।

  • জুলাইযোদ্ধারা আদৌ বিষপান করেছেন কিনা তদন্ত হচ্ছে: ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি

    জুলাইযোদ্ধারা আদৌ বিষপান করেছেন কিনা তদন্ত হচ্ছে: ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি

    প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেছেন, জুলাইযোদ্ধা যারা বিষপান করেছেন বলা হচ্ছে– ওনারা আদৌ বিষপান করেছেন কিনা, এটা নিয়ে খোঁজ চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে এটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে যে ওনারা যেটা পান করেছেন, সেটি আসলেই বিষ কিনা।

    মঙ্গলবার (২৭ মে) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে জুলাইযোদ্ধাদের বিষপান প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

    আজাদ মজুমদার বলেন, ‘আমরা সবাই জানি যে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকলে এক ধরনের হতাশা কাজ করে। সরকারের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে—তাদের মানসিকভাবে যতটা সাপোর্ট দেওয়ার। এরপরও কারও মধ্যে যদি কোনও ধরনের হতাশা থাকে, আমরা মনে করি যে সরকারের সংশ্লিষ্ট যারা আছেন—তারা এ বিষয়ে আরও যত্নবান হবেন। তাদের যত বেশি সম্ভব মানসিকভাবে সমর্থন জুগিয়ে যাবেন।’

    প্রসঙ্গত, জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে গত রবিবার আহত চার জন জুলাইযোদ্ধা বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে জানা যায়। পরবর্তীকালে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের আশঙ্কামুক্ত জানান এবং ভর্তি রেখে তাদের পর্যবেক্ষণ করা হয়।

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সাম্য হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৮: পুলিশ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সাম্য হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৮: পুলিশ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী ও স্যার এফ রহমান হল ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যা মামলায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২৭ মে) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    এতে জানানো হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ নিয়ে আজ বিকেল পৌনে ৫টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে ব্রিফ করবেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

    গত ১৩ মে রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় শাহরিয়ার আলম সাম্যকে ছুরিকাঘাত করে একদল দুর্বৃত্ত। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় রাত ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মারা যান তিনি। এরপর ১৪ মে সাম্যের বড় ভাই শরীফুল ইসলাম শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

  • জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৮৮ কর্মকর্তা চাকরি ফিরে পাচ্ছেন

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৮৮ কর্মকর্তা চাকরি ফিরে পাচ্ছেন

    দীর্ঘ ১৩ বছর পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিচ্যুত ৯৮৮ কর্মকর্তা-কর্মচারী আবারও তাদের কর্মস্থলে ফিরতে যাচ্ছেন।

    মঙ্গলবার (২৭ মে) সকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ তাদের চাকরিতে পুনর্বহারের নির্দেশ দেন

    আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জ্যেষ্ঠতার সুযোগ-সুবিধাসহ পুনর্বহাল করতে হবে। অর্থাৎ তাদের চাকরির বয়স, বেতন এবং অন্যান্য সুবিধা পূর্বের মতোই বিবেচনা করতে হবে।

    মামলার ইতিহাস থেকে জানা যায়, ২০০৪ সালের ৩১ আগস্ট জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বাতিল চেয়ে একটি রিট দায়ের করেছিলেন তৎকালীন এমপি অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া। এই রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টে দীর্ঘ শুনানি হয়। এরপর ২০০৬ সালের ২২ আগস্ট হাইকোর্ট রিটটি খারিজ করে দেন।

    তবে ২০১০ সালের ১৫ ডিসেম্বর গাজীপুর-১ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আকম মোজাম্মেল হক পুনরায় রিভিউ আবেদন করেন। সেই রিভিউয়ের ভিত্তিতে ২০১১ সালে আদালতের আদেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৮৮ কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারান।

    চাকরি হারানোর পর অনেকেই চরম মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েন। কেউ কেউ চিকিৎসার অভাবে মারা যান, কেউ পরিবার নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে কাটান।

    চলতি বছর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই চাকরিচ্যুত কর্মচারীরা আবারও তাদের কর্মস্থলে ফেরার দাবিতে সোচ্চার হন। গত ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর তারা চাকরি ফিরে পাওয়ার আন্দোলনে নামেন।

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কর্তৃপক্ষ তাদের এই দাবি আমলে নেয়। পরে ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে চাকরি হারানো এই ৯৮৮ জনকে পুনর্বহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই আদালতে পুনর্বহারের আবেদন করা হয় এবং আজ (মঙ্গলবার) সর্বোচ্চ আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।

  • কলমবিরতি পালন করছেন ২৫ ক্যাডারের কর্মকর্তারা

    কলমবিরতি পালন করছেন ২৫ ক্যাডারের কর্মকর্তারা

    ক্যাডারের বৈষম্য নিরসন, উপসচিব পদে পদোন্নতিতে কোটা বাতিলসহ কয়েক দফা দাবিতে আজ (২৭ মে) মঙ্গলবার থেকে প্রশাসন ছাড়া বাকি ২৫টি ক্যাডারের কর্মকর্তারা কলমবিরতি পালন করছেন। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সারা দেশে দুদিন এ কর্মসূচি পালন করবেন তারা। সোমবার (২৭ মে) আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত ও বিভাগীয় মামলার প্রতিবাদ, পদোন্নতিতে কোটা বাতিল ও সব ক্যাডারের সমতার দাবিতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন তাঁরা। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ অন্যান্য জরুরি সেবা কার্যক্রম এই কর্মসূচির বাইরে থাকবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখির জন্য ২৫ ক্যাডারের ১২ জন সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে বিষয়টি সমাধানের জন্য আশ্বস্ত করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টিকে আটকে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান। পরিষদের দাবি, কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিধান লঙ্ঘনে বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা শাস্তির মুখোমুখি হন না। এমন বৈষম্যের নিরসন দাবি করেছে পরিষদ।

    জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন উপসচিব পদে কোটা নিয়ে যে সুপারিশ করেছে তা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে পরিষদ। বলেছে, কোনো রকম আলোচনা ছাড়াই এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া একটি নির্দিষ্ট ক্যাডারের গোষ্ঠীস্বার্থে উদ্দেশ্যমূলকভাবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিসংখ্যান, ডাক, পরিবার-পরিকল্পনা, কাস্টমস ও ট্যাক্স ক্যাডারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি করা হয়েছে।

  • জুলাইয়ের মধ্যে জাতীয় সনদ তৈরি করা সম্ভব: আলী রীয়াজ

    জুলাইয়ের মধ্যে জাতীয় সনদ তৈরি করা সম্ভব: আলী রীয়াজ

    রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় পর্বের আলোচনার মাধ্যমে জুলাই মাসের মধ্যেই একটি জাতীয় সনদ তৈরি করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

    সোমবার (২৬ মে) ঢাকায় সংসদ ভবনের এল. ডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্য অগ্রগতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে dkdb এসব কথা বলেন। এ সময় কমিশনের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।

    সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে অধ্যাপক আলী রীয়াজ কমিশনের কাজের অগ্রগতি বিষয়ক প্রতিবেদন পাঠ করেন৷ এতে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন থেকে সংস্কার প্রস্তাব সম্পর্কিত ছয়টি কমিশনের প্রতিবেদনের অনুলিপি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজনৈতিক দলগুলোকে পাঠানো হয়। গত ৫ মার্চ কমিশনের চুড়ান্ত প্রতিবেদন থেকে গুরুত্বপূর্ণ ১৬৬টি সুপারিশমালা রাজনৈতিক দল এবং জোটের কাছে মতামত প্রদানের জন্য পাঠানো হয়৷

    যার মধ্যে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত সুপারিশ ছিল ৭০টি, নির্বাচন ব্যবস্থা সংক্রান্ত বিষয়ে ২৭টি, বিচার বিভাগ সংক্রান্ত ২৩টি, জনপ্রশাসন সংক্রান্ত ২৬টি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের সুপারিশ ২০টি৷ পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ প্রশাসনিক স্বিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাস্তবায়ন সম্ভব বলে এই কমিশনের সুপারিশ স্প্রেডশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

    কমিশনের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, দলগুলোর মতামত পাওয়ার পাশাপাশি গত ২০ মার্চ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রথম পর্যায়ের আলোচনা শুরু করে কমিশন এবং ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে গত ১৯ মে পর্যন্ত ঐকমত্য কমিশন মোট ৩৩টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে ৪৫টি অধিবেশন করে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিশনের আলোচনায় অনেক বিষয়ে যেমন ঐকমত্য হয়েছে এবং বেশকিছু বিষয়ে মতভিন্নতাও রয়েছে।

    প্রধান বিচারপতি নিয়োগ, স্থায়ী অ্যাটর্নি সার্ভিস, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, নারীদের জন্য ১০০ আসন, বিদ্যমান পাবলিক সার্ভিস কমিশন পুনর্গঠন করে ৮ সদস্য বিশিষ্ট তিনটি পাবলিক সার্ভিস গঠনসহ অনেকগুলো বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা হয়েছে বলে কমিশনের প্রতিবেদনে জানানো হয়৷ দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা শেষে মতপার্থক্যের বিষয়গুলো সম্পর্কে রাজনৈতিক দলগুলোর চুড়ান্ত অবস্থান জানাতে পারবে বলে আশা করে কমিশন৷

    মতবিনিময়কালে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে দ্বিতীয় পর্বের আলোচনা শুরু করতে চায় কমিশন এবং এই আলোচনা হবে বিষয়ভিত্তিক। তিনি বলেন, সকল বিষয়ে ঐকমত্য হবে না, কিন্তু যেসব মৌলিক বিষয়ে এখনো মতভিন্নতা রয়েছে সেসব বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার জন্যই দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা করবে কমিশন৷ গত ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। আগামী ১৫ আগস্ট এই কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে৷

  • জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কাজে সেনাবাহিনী সম্পৃক্ত হবে না : কর্নেল শফিকুল

    জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কাজে সেনাবাহিনী সম্পৃক্ত হবে না : কর্নেল শফিকুল

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, দেশের স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কোনো কাজের সাথে সম্পৃক্ত হবে না সেনা সদস্যরা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্ন সৃষ্টি কারীদের কঠোরভাবে দমন করা হবে। দেশের স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে সেনাবাহিনী।

    সোমবার (২৬ মে) ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেস-এ আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম এসব কথা বলেন। দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও সমসাময়িক পরিস্থিতি এবং সেনাবাহিনীর দৈনন্দিন আভিযানিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরতে এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজিম-উদ-দৌলা।

    কর্নেল শফিকুল বলেন, সেনাবাহিনী প্রধানের দিকনির্দেশনায় দেশের চরাঞ্চলসহ ৬২টি জেলায় সেনা সদস্যরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন সংস্থা, গণমাধ্যম এবং সাধারণ জনগণের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছে। ভবিষ্যতে জানমালের ক্ষতিসাধন, মব ভায়োলেন্স এবং জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করতে পারে এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এছাড়া সেনাবাহিনী ঐক্যবদ্ধ হয়ে সর্বদা দেশের জনগণের পাশে থেকে সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে বদ্ধপরিকর।

    তিনি বলেন, ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে পশুর হাটে চাঁদাবাজি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সচেষ্ট থাকবে সেনাবাহিনী। ঈদে ঘরমুখো মানুষের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল যানবাহন চলাচল নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী ঈদের আগে ও পরে মিলে দুই সপ্তাহের বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।

    গত ৪০ দিনে সেনাবাহিনী ২৪১টি অবৈধ অস্ত্র ও ৭০৯ রাউন্ড গোলাবারুদ এবং আগস্ট হতে এই পর্যন্ত সর্বমোট ৯ হাজার ৬১১টি অবৈধ অস্ত্র ও ২ লাখ ৮৫ হাজার ৭৬১ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে। এছাড়াও গত এক মাসে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সাথে জড়িত মোট ১ হাজার ৯৬৯ জনকে এবং এই পর্যন্ত সর্বমোট ১৪ হাজার ২৬৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যাদের মধ্যে কিশোর গ্যাং, তালিকাভুক্ত অপরাধী, অপহরণকারী, চোরাচালানকারী, প্রতারক ও দালাল চক্র, চাঁদাবাজ, ডাকাত, ছিনতাইকারী, ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

    গত ২০ মে ভাষানটেক এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে চারটি বিদেশি পিস্তল, ২৮ রাউন্ড গুলিসহ দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হিটলু বাবুসহ তার গ্যাংয়ের ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যার ফলে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ও নিরাপত্তা বিরাজ করছে।

    বিগত ৪০ দিনে যৌথ অভিযানে ৪৮৭ জন মাদক ব্যবসায়ী এবং আগস্ট হতে এই পর্যন্ত মাদকের সাথে সংশ্লিষ্ট ৪ হাজার ৪শ’ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অবৈধ মাদকদ্রব্য, যেমন-ইয়াবা, ফেন্সিডিল, গাঁজা, মদ ইত্যাদি উদ্ধার করা হয়েছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ও নিরাপত্তা বিরাজ করছে।

    ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত শিল্পাঞ্চল এলাকার সার্বিক নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিগত এক মাসে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সেনাবাহিনী দেশের বিভিন্নস্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ভেজাল শিশু খাদ্য উৎপাদন, বাজারজাতকরণ এবং বিপণন এর সাথে জড়িত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এছাড়াও, যশোর ও সাতক্ষীরা জেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ জেলী মিশ্রিত চিংড়িসহ সিন্ডিকেটের সদস্যদের আটক করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর ভেজাল খাদ্যদ্রব্যের বিরুদ্ধে এরূপ অভিযান স্থানীয় জনগণের মাঝে আস্থা সৃষ্টি করেছে।

    জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের সুচিকিৎসা প্রদান। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন সময়ে যারা আহত হয়েছেন, তাদের সুচিকিৎসার জন্য সেনাবাহিনী এই পর্যন্ত ৪ হাজার ৫৯৬ জনকে দেশের বিভিন্ন সিএমএইচে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। যার মধ্যে ৩৬ জন এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    মহাসড়কগুলোতে নির্বিঘ্নে যান চলাচল নিশ্চিত করতে ঢাকাসহ দেশের গুরত্বপূর্ণ বাস স্ট্যান্ড, রেল স্টেশন, লঞ্চ টার্মিনাল ও মহাসড়কে দিন-রাত টহল পরিচালনা, গাড়ির অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য স্পর্শকাতর স্থানে চেকপোস্ট স্থাপনসহ টিকেট কালো বাজারী অথবা অধিক মূল্যে টিকেট বিক্রয় রোধকল্পে এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে যা ঈদ-উল-ফিতর এর মতই মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।

    একই সাথে জনসাধারণকে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোসহ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া গত এক মাসে বেইলী রোডের ক্যাপিটাল সিরাজ টাওয়ার, মতিঝিলের শাহ জালাল ইসলামি ব্যাংক এবং ধামালকোট বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সেনাবাহিনী ফায়ার সার্ভিসের সাথে সমন্বিতভাবে দ্রুততম সময়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে। যার ফলে মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অনেকাংশে হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে।

    ২০২৪ সালের বন্যায় অধিক ক্ষতিগ্রস্ত চারটি জেলায় (কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম) দরিদ্র ও গৃহহীন মানুষের জন্য বিশেষ আবাসন নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৩শ’টি ঘরের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে, যা গত ৩০ এপ্রিল প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক সুবিধাভোগী পরিবারের মাঝে হস্তান্তর করা হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী উক্ত প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের অর্ধেক টাকা দিয়েই প্রকল্পটি সুন্দরভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করেছে যা সকলের দ্বারা ভূয়সী প্রশংসিত হয়েছে এবং সততার অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেশবাসী স্মরণ রাখবে বলে প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

    এপ্রিল ও মে মাসে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল এবং নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট ‘এ’ দল বাংলাদেশ সফর করে। সফরকালীন সময় বেশ কিছু ম্যাচে অংশগ্রহণ করে। উক্ত সময়ে হোটেলে অবস্থান, হোটেল থেকে স্টেডিয়ামে গমনাগমন এবং খেলা চলাকালীন সময়ে বিসিবি, আয়োজক ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, এবং কক্সবাজার জেলায় এফডিএমএন ক্যাম্প এলাকার নিরাপত্তা বিধান করার দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করে যাচ্ছে। বৌদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যগণ ‘বৌদ্ধ পূর্ণিমা ২০২৫’ পালনে সারা দেশের বৌদ্ধ বিহারগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। যার ফলে, গত ৫ মে বৌদ্ধ ধর্মানুসারীগণ আনন্দঘন পরিবেশে ‘বৌদ্ধ পূর্ণিমা ২০২৫’ উদযাপন করতে সক্ষম হয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা ও কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা। সেনাবাহিনী দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখাসহ বিদেশি কুটনৈতিক ব্যক্তি ও দূতাবাসগুলোর সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের কাজে নিয়োজিত রয়েছে।

  • সেই শিক্ষক নাদিরাকে বদলি, তীব্র প্রতিবাদ সামান্তার

    সেই শিক্ষক নাদিরাকে বদলি, তীব্র প্রতিবাদ সামান্তার

    নরসিংদী সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাদিরা ইয়াসমিনকে বদলি করা হয়েছে। তাকে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে বদলি করেছে সরকার। এর আগে তার বিরুদ্ধে ‘ইসলামবিদ্বেষী কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগ তুলে নাদিরার শাস্তি দাবি করে আসছিল হেফাজতে ইসলাম।

    সোমবার (২৬ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এক আদেশে তাকে বদলি করা হয়।

    এদিকে নাদিরা ইয়াসমিনকে বদলির ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। তিনি এই সিদ্ধান্ত বদলের আহ্বান জানিয়েছেন।

    নাদিরা ইয়াসমিনের বদলি আদেশ নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে পোস্ট করে সামান্তা শারমিন বলেন, মবের দৌরাত্ম্যে আত্মসমর্পণ করে নাদিরা ইয়াসমিনের বদলির সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এই সিদ্ধান্ত দ্রুত বদল করা হোক।

    এর আগে গতকাল রবিবার নাদিরা ইয়াসমিনকে অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলাম নরসিংদী জেলা। ওই বিক্ষোভে হেফাজত নেতারা নাদিরার বিরুদ্ধে ইসলামবিরোধী আইনের কথা বলার অভিযোগ করেন।

    বদলি আদেশটি নিজের ফেসবুকে পোস্ট করে নাদিরা ইসলাম লিখেছেন, আমাকে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে। আমার সাথে করা এই আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে রাখলাম।