Category: খবর

  • সম-অধিকারের দাবিতে ‘নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রা’

    সম-অধিকারের দাবিতে ‘নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রা’

    নারীর সম-অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবিতে প্রাণবন্ত নানা আয়োজনে সম্পন্ন হয়েছে ‘নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রা’। অনুষ্ঠানে ব্যানার, লিফলেট, স্লোগান, গান ও কবিতার মাধ্যমে নারীর অধিকার ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের দাবি তুলে ধরা হয়।

    শুক্রবার (১৬ মে) বেলা ৩টার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্যে দিয়ে এ কর্মসূচি শুরু হয়।

    ‘সমতার দাবিতে আমরা’ স্লোগানে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া নারীর প্রতি সহিংসতা ও হয়রানির ঘটনার প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

    এর আগে আজ দুপুর থেকেই বিভিন্ন ব্যানার-প্ল্যাকার্ড হাতে তাদের এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আসতে দেখা যায়।

    আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, হিল উইমেনস ফেডারেশন, টিএসইউ সিপিবি নারী সেল, নারী মুক্তি কেন্দ্র, গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরাম, বিপ্লবী নারী ফোরাম, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক টেক্সটাইল ফেডারেশন, বিবর্তন উদীচী, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি, আদিবাসী ইউনিয়ন, চা শ্রমিক দশ দফা বাস্তবায়ন কমিটি, বস্তিবাসী ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম, গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ইউনিয়নসহ ৫১টি প্রগতিশীল নারী, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক, শ্রমিক ও পেশাজীবী সংগঠন এ কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে অংশ নিয়েছে।

    আয়োজকদের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে এটি হবে নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে এবং নারীর অধিকার রক্ষায় একটি মাইলফলক কর্মসূচি।

    কর্মসূচি শুরুর আগে থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা বয়সী নারীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জড়ো হন। কর্মসূচির শুরুতে সেখানে নারীর অধিকার বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের আর্ট পারফর্মেন্স অনুষ্ঠিত হয়।

    মৈত্রী যাত্রায় আসা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক রেহনুমা আহমেদ বলেন, ‘আমরা নারীর ডাকে সাড়া দিয়ে আজ এখানে এসেছি- সবাইকে এটা জানাতে যে, আমরা আমাদের অধিকার বিষয়ে সচেতন এবং সেই অধিকার আদায়ে আমরা একতাবদ্ধ। এখানে আমরা কারও বিষোদগার করছি না, কোনো চিৎকার বা গালিগালাজ নেই। নারীদের একতা প্রদর্শনের জন্য আজ আমরা এখানে এসেছি।’

    পরে অনুষ্ঠানস্থল থেকে একটি র‌্যালি শুরু হয়ে খামারবাড়ি অভিমুখে যাত্রা করে মানিক মিয়া এভিনিউতে গিয়ে শেষ হয়।

    মিছিল শুরুর পূর্বে নারীদের বিভিন্ন অধিকার সম্বলিত একটি ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়। ঘোষণাপত্রে নারীর বিরুদ্ধে যেকোনও সহিংসতা ও বৈষম্য প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

    ঘোষণাপত্রে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারকে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে আরও সক্রিয় হতে হবে। বিশেষ করে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সহিংসতার হুমকি, নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনকে ঘিরে গুজব ও অপপ্রচার এবং ধর্মীয় মূল্যবোধকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

    ঘোষণায় আরও বলা হয়, যারা নির্বাচনে অংশ নিতে চায় কিংবা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেয়, তাদের স্পষ্টভাবে জানাতে হবে—নারী, শ্রমিক, জাতিগত, ধর্মীয়, ভাষাগত ও লিঙ্গীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার ও মুক্তি সম্পর্কে তাদের অবস্থান কী। আসন্ন নির্বাচনসহ ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধি নিশ্চিত করতে হবে। নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

    ঘোষণাপত্রে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা ও বৈষম্য চালিয়ে যাওয়ার যেকোনও অপচেষ্টা আমরা মেনে নেব না। মৌলিক অধিকার অস্বীকারের ষড়যন্ত্র রুখে দাঁড়ানো হবে। বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রয়াস, সংস্কৃতি ও ধর্মকে দমনমূলক অস্ত্রে পরিণত করার অপচেষ্টা, এবং সংকীর্ণ মনোভাবকে সার্বজনীন করার প্রয়াস কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে।

    সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর নারীনীতি ও অবস্থান আমরা নজরদারিতে রাখবো। যারা ক্ষমতার কাঠামো ব্যবহার করে বৈষম্য ও সহিংসতা জিইয়ে রাখে, সেই কাঠামো ভেঙে দিতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। হুমকির মুখে মাথা নত করবো না, এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে পিছপা হবো না।

    ঘোষণায় আরও বলা হয়, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আজ আমরা এক জরুরি মুহূর্তে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। আমাদের দাবি—একটি গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ, যেখানে বৈষম্যবিরোধিতা ও সাম্যের ভিত্তিতে সব নাগরিকের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

    বাংলাদেশের ইতিহাসে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করে ঘোষণায় বলা হয়, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, তেভাগা, টঙ্ক, নানকার, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, গণঅভ্যুত্থান, ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন, সুন্দরবন রক্ষা, নিরাপদ সড়ক ও ভ্যাটবিরোধী আন্দোলন—প্রতিটিতেই নারীর সাহসী অংশগ্রহণ রয়েছে।

    তবে অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়েও নারীর পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে প্রতিক্রিয়াশীল ও পিতৃতান্ত্রিক শক্তি। সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধা, ব্যক্তিগত আক্রমণ, অনলাইনে হয়রানি, যৌন নিপীড়ন, এবং প্রকাশ্য হামলার মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিসরে নারীর অংশগ্রহণ নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা চলছে।

    নারী অধিকার বিষয়ক সংস্কার-প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গঠিত নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন ৪৩৩টি সুপারিশ পেশ করে। কিন্তু এসব সুপারিশের বিকৃত ব্যাখ্যা দিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা মূল দাবিগুলোকে আড়াল করে। এ ছাড়া কমিশনের সদস্যদের জনসমক্ষে অবমাননা করা হয়েছে।

    অন্তর্বর্তী সরকার এই ন্যাক্কারজনক আচরণের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি—এটি অত্যন্ত হতাশাজনক। এতে স্পষ্ট হয়, সরকারের নির্লিপ্ততা আসলে মৌলিক অধিকারের দাবিদারদের দমন করারই বার্তা বহন করে।

    ঘোষণায় বলা হয়, সংবিধান বা সংস্কৃতির দোহাই দিয়ে নারী ও প্রান্তিক গোষ্ঠীর অধিকার অস্বীকার করা যাবে না। কৃষকের ভূমি-অধিকার থেকে শুরু করে পরিবেশগত ন্যায্যতা—সবকিছুই নারীর অধিকারের সঙ্গে যুক্ত। তাই সমাজের সবচেয়ে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত না করে কোনোভাবেই ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

    সরকার ও ভবিষ্যৎ যেকোনও সরকারের উদ্দেশে বলা হয়—নারী, শ্রমিক, সংখ্যালঘু, হিজড়া ও লিঙ্গীয় বৈচিত্র্যসম্পন্ন নাগরিকদের রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা কোনও শর্তসাপেক্ষ নয়।

    ঘোষণাপত্রে স্পষ্টভাবে বলা হয়, আমাদের লড়াই শুধু নারীর মর্যাদার জন্য নয়, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সংগঠনের অধিকার, ভূমি ও সম্পত্তির অধিকার, যৌন ও প্রজনন স্বাধীনতা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার অধিকার, এবং প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকারের জন্যও।

    পরিবেশ ধ্বংস, বিচারহীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার খর্বের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলোর অনেকটিই এসব মৌলিক দাবির অন্তর্ভুক্ত, ফলে কমিশন বিলুপ্ত করার অপচেষ্টা এবং সদস্যদের প্রতি আক্রমণ নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক।

    ঘৃণা, হুমকি, সংঘবদ্ধ সহিংসতা চালিয়ে এই আন্দোলনকে দমন করার প্রচেষ্টা চলছে—এ অভিযোগ করে প্রশ্ন তোলা হয়, সরকার কাদের তুষ্ট করতে চাইছে? সংখ্যাগরিষ্ঠের উগ্র জাতীয়তাবাদী অংশকে? নাকি সংস্কারের নামে বৈষম্যমূলক কাঠামো টিকিয়ে রাখার পরিকল্পনাকারীদের?

    সবশেষে ঘোষণা দেওয়া হয়—অধিকার চেয়ে নয়, আদায় করেই নিতে হয়। আর সেই লড়াইয়ে ভয় নেই—পিছু হটার কোনও জায়গা নেই।

  • উড্ডয়নকালে খুলে পড়ল বিমানের চাকা, ঢাকায় নিরাপদে অবতরণ

    উড্ডয়নকালে খুলে পড়ল বিমানের চাকা, ঢাকায় নিরাপদে অবতরণ

    কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়নকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক উড়োজাহাজের একটি চাকা খুলে পড়ে গেছে। তবে শিশুসহ ৭১ যাত্রী নিয়ে ওই ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।

    শুক্রবার (১৬ মে) দুপুর ২টা ১৭ মিনিটে এটি ঢাকায় নিরাপদে অবতরণ করে বলে জানিয়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) এবিএম রওশন কবীর।

    খুলে পড়ে যাওয়া বিমানের চাকা। ছবি সংগৃহীত

    তিনি বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে থেকে আকাশে ওড়ার পরই পেছনের একটি চাকা খুলে নিচে পড়ে যায়। ফ্লাইটটির ইমারজেন্সি ঘোষণা করা হয়েছে।

    পরে পেছনের এক চাকাতে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ছাড়াই বিমানটি জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানান তিনি।

    এর আগে শুক্রবার (১৬ মে) দুপুর দুইটার দিকে শাহজালাল বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করেছে বিজি ৪৩৬ (ড্যাশ ৮-৪০০) ফ্লাইটটি।

    বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের ফ্লাইটটির পাইলট উড্ডয়নের পরপরই ঢাকার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে (এটিসি) জানান, তিনি জরুরি অবতরণ করতে চাচ্ছেন। পাইলটের বার্তা পাওয়ার পরপরই ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর জরুরি অবতরণের প্রস্তুতি নেয়। প্রস্তুত রাখা হয় ফায়ার সার্ভিস।

  • নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দামের বাবা মারা গেছেন

    নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দামের বাবা মারা গেছেন

    নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল হক মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

    বৃহস্পতিবার (১৫ মে) রাত আড়াইটার পঞ্চগড়ের বোদা সাতখামার নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও তিন কন্যা সন্তান রেখে গেছেন।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরহুমের নামাজের জানাজা শুক্রবার (১৬ মে) বিকেল সাড়ে ৪টায় বোদা উপজেলার এগারো মাইল প্রামানিক গোরস্থানে মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

    প্রসঙ্গত, বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল হক দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। তিনি বোদা পাইলট হাই স্কুল এন্ড কলেজের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক আলহাজ আলাউদ্দিন আহমেদের চতুর্থ সন্তান ছিলেন।

    তিনি জীবদ্দশায় ঠাকুরগাঁও জেলায় মুন্সিরহাট হাই স্কুলের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সুনামের সঙ্গে অবসর গ্রহণ করেন।

  • মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ‘নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রা’ আজ

    মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ‘নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রা’ আজ

    নারীর সম-অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় আজ শুক্রবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ‘নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রা’ অনুষ্ঠিত হবে।

    সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সভাপতি প্রকৌশলী শম্পা বসু ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট দিলরুবা নূরী এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা জানান।

    বিবৃতিতে বলা হয়, নারী বিদ্বেষী কর্মকাণ্ড, ধর্মান্ধ মৌলবাদীগোষ্ঠী নারীর প্রতি অবমাননার প্রতিবাদে সম-মর্যাদা ও সম-অধিকারের দাবিতে শুক্রবার (১৬ মে) বিকেল ৩টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। নেতারা নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রা সফল করার আহ্বান জানান।

    নেতারা সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সব সদস্য, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীসহ নারী-পুরুষ নির্বিশেষে গণতন্ত্রমনা সবাইকে এই সমাবেশে অংশ নিয়ে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে বেগবান করার আহ্বান জানান।

    এদিকে কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়েছে ৫১টি প্রগতিশীল নারী, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক, শ্রমিক ও পেশাজীবী সংগঠন।

    বৃহস্পতিবার (১৫মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির বিষয়ে তথ্য তুলে ধরেন আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত। বক্তব্য দেন গার্মেন্টস শ্রমিকনেতা মোশরেফা মিশু, জলি তালুকদার প্রমুখ।

    তাঁরা বলেন, জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে নারীদের সরব উপস্থিতি ও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা ও সামাজিক কাঠামো নারীদের সেই ভূমিকার স্বীকৃতি দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এ ছাড়া নারীরা শ্রমক্ষেত্র থেকে শুরু করে শিক্ষাঙ্গন, সংস্কৃতি ও প্রতিদিনের জীবনে যেভাবে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন, তার মূল্যায়ন এখনো পর্যাপ্ত নয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নারী শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী নারী, যৌনকর্মী ও ক্ষুদ্র জাতিসত্তার নারীদের ওপর যেসব নিপীড়ন চলছে, তার বেশির ভাগই থেকে যাচ্ছে বিচারহীন। পুঁজিবাদী রাষ্ট্রকাঠামো ও ধর্মীয় প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী যৌথভাবে নারীদের প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্যকে আরও শক্তিশালী করছে।

    আয়োজকেরা বলেন, ‘নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রা’ কর্মসূচি কেবল নারীদের স্বার্থরক্ষার জন্য নয়; বরং এটি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি আন্দোলনের অংশ। নারীমুক্তি শ্রমিক-মজুরের মুক্তি, জাতিসত্তার অধিকার, বাকস্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গেও জড়িত। তাই এ যাত্রা শুধু নারীরই নয়; বরং সব প্রগতিশীল শক্তির মিলনমঞ্চ।

    সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা সমাজের সব স্তরের মানুষকে এই যাত্রায় শামিল হওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় জানানো হয়, নারীর ডাকে মৈত্রী যাত্রায় সংহতি জানানো সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, নারীমুক্তি কেন্দ্র, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, হিল উইমেনস ফেডারেশন, আদিবাসী ইউনিয়ন, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন, বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চ, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম, বাংলাদেশ নারী জোট, নারী সংহতি, ছাত্র ফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী), তীরন্দাজ, শ্রমিক অধিকার আন্দোলন ইত্যাদি।

  • ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের দুই নেতাসহ গ্রেফতার ৮

    ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের দুই নেতাসহ গ্রেফতার ৮

    খুলনায় ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে চাঁদা দাবির অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই নেতাসহ নয় জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের দুই নেতাসহ আট জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (১৫ মে) দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

    এর আগে সকালে এ ঘটনায় খালিশপুর থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বাপ্পী সরকার। বুধবার রাতে খুলনা মহানগরের খালিশপুর থানার বাপ্পি সরকারের বাসা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন খুলনা মহানগর শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক রায়হান (২৫), মহানগরের সহকারী মুখপাত্র এসএম শামাউন ইশমাম (২২), তাদের সহযোগী সোহেল শেখ (২৩), শেখ সাজ্জাদ (২০), নাঈমুর রহমান (২১), শেখ রাকিবুল ইসলাম (২৩), মোহিদুল ইসলাম রাজন (২৩) ও তৌহিদুল ইসলাম শাওন (২২)। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে খালিশপুর থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলার আরেক আসামি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন খুলনা মহানগরের নির্বাহী সদস্য মনিরুজ্জামান টিপু পলাতক।

    খালিশপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোবহান বলেন, ‘রাতে মহানগরের বাস্তহারা কলোনির বাসিন্দা বাপ্পি সরকারের বাসায় গণ্ডগোল চলছে জানতে পেরে সেখানে যায় পুলিশ। সেখান থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগে আট জনকে আটক করে থানায় আনা হয়। পরে মামলা হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

    ব্যবসায়ী বাপ্পী সরকারের স্ত্রী শাহানাজ বেগম বলেন, ‘বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আট-নয় জন যুবক আমাদের বাসায় উপস্থিত হন। এ সময় তারা নিজেদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা ও সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে ঘরে ঢোকেন। এরপর বাপ্পি সরকারকে বলে আপনি আওয়ামী লীগকে টাকা দেন এবং আপনার কাছে অস্ত্র আছে। তারা বলে আমাদের বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ অবগত আছে। বাঁচতে হলে তাদের পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। আমার স্বামী টাকা দিতে অস্বীকার করলে মারধর করে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। পরে আমার ও সন্তানদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে ওই আট জনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।’

    খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‌‌‘ঘটনাস্থল থেকে আট জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা হয়েছে। দুপুরে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

    এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের খুলনা মহানগরের সদস্যসচিব জহুরুল তানভীর বলেন, ‌‘আমরা কোনও ধরনের অপরাধকে সমর্থন করি না। চাঁদা দাবির অভিযোগে গ্রেফতার রায়হান মহানগরের যুগ্ম আহ্বায়ক। তাই বলে আমরা তার পক্ষে নই। প্রশাসন তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের বিচার করবে। আমরা কোনও ধরনের চাঁদা দাবিতে জড়িতদের প্রশ্রয় দেবো না। যারাই সংগঠনের পরিচয়ে অপরাধ করবে তাদের পুলিশের হাতে তুলে নেওয়ার জন্য স্থানীয় লোকজনকে বারবার বলে আসছি আমরা।’

  • জুলাইয়ের শহীদ পরিবার, আহতদের পুর্নবাসন অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন

    জুলাইয়ের শহীদ পরিবার, আহতদের পুর্নবাসন অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার এবং আহত ছাত্র-জনতার কল্যাণ ও পুর্নবাসন অধ্যাদেশের খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৫ মে) অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

    সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে- ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার এবং আহত ছাত্র-জনতার কল্যাণ ও পুর্নবাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া পুনর্গঠনসহ সার্বিক পর্যালোচনার জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়; স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাবৃন্দের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে বলে জানানো হয়েছে।

    বৈঠকে ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে এই অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।

  • মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে ২১ মে

    মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে ২১ মে

    আগামী বছরগুলোতে আরও বড় সংখ্যায় বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালয়েশিয়া। এর মধ্যে প্রায় ২০ হাজারের অধিক শ্রমিক যাবে বিনা খরচে।

    বৃহস্পতিবার (১৫ মে) দুপুরে মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাশুসন ইসমাইল ও মানবসম্পদ মন্ত্রী স্টিভেন সিম চি কেওয়ের সঙ্গে এক যৌথ সভায় মিলিত হন  প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং আইন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

    বৈঠকে শ্রমিক নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সারওয়ার আলম বলেন, ‘মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে একটি ইতিবাচক ফলাফল এসেছে। ২১ মে ঢাকায় যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

    মালয়েশিয়ায় অবৈধ কর্মীদের নিয়মিতকরণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে আশাবাদী এবং মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এই বিষয়ে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

  • সাম্য হত্যা: গ্রেপ্তার আসামি তামিমের বাড়িতে আগুন

    সাম্য হত্যা: গ্রেপ্তার আসামি তামিমের বাড়িতে আগুন

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাত্রদল নেতা সাম্য হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তামিম হাওলাদারের গ্রামের বাড়িতে আগুন দিয়েছে স্থানীয় একদল বিক্ষুব্ধ জনতা।

    বুধবার (১৪ মে) সন্ধ্যায় মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নে ব্রাহ্মন্দী এলাকায় তার বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।

    মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক মো. শেখ আহাদুজ্জামান বলেন, সন্ধ্যায় আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট পাঠানো হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই দুটি বসতঘর পুড়ে যায়।

    এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কে বা কারা আগুন দিয়েছে তাৎক্ষণিক তা জানা যায়নি।

    জানতে চাইলে মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) কর্মকর্তা আদিল হোসেন বলেন, ঘটনা তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এর আগে মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে রাজধানীর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছুরিকাঘাতে খুন হন ছাত্রদল নেতা সাম্য।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে পড়তেন তিনি। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী এফ রহমান হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায়।

    পুলিশের ভাষ্য, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় আরেক মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লাগার জেরে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সাম্যকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এ ঘটনায় সকালে নিহতের বড় ভাই শরীফুল ইসলাম শাহবাগ থানায় ১০-১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন।

    এরমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর কারাগার পাঠানো হয়েছে। তারা হলেন- মো. তামিম হাওলাদার, সম্রাট মল্লিক এবং মো. পলাশ সরদার।

    এর মধ্যে তামিম হাওলাদারের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নে ব্রাহ্মন্দীতে। ওই এলাকার এরশাদ হাওলাদারের ছেলে তিনি।

  • পুলিশের লাঠিচার্জে ৬ ঘণ্টা পর শাহবাগ ছাড়ল নার্সিং শিক্ষার্থীরা

    পুলিশের লাঠিচার্জে ৬ ঘণ্টা পর শাহবাগ ছাড়ল নার্সিং শিক্ষার্থীরা

    রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখা ডিপ্লোমা নার্সিং শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এতে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে অবস্থান নিয়েছেন।

    বুধবার (১৪ মে) রাত ৯টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ শুরু করে। শিক্ষার্থীরা কিছুটা প্রতিরোধ করতে চাইলে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। পুলিশের লাঠিচার্জে অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

    অবরোধের সাড়ে ৬ ঘণ্টা পর সড়ক ছেড়েছেন আন্দোলনকারীরা। এতে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

    এর আগে, দুপুর ২টা ১০ মিনিটে উচ্চ মাধ্যমিকের পর প্রচলিত ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি এবং ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি কোর্স দুটিকে স্নাতক সমমান (ডিগ্রি পাস কোর্স) হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অবরোধে ফলে শাহবাগ মোড় দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।

    এতে ভোগান্তিতে পড়ে শাহবাগসহ আশপাশের সড়কে থাকা যাত্রীরা। বাধ্য হয়ে অনেকেই আশপাশের সড়ক ব্যবহার শুরু করে। এতে চাপ বাড়ে পাশের সড়কগুলোতে।

    দাবি আদায়ে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে মহাসমাবেশ শেষে তারা মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ শাহবাগ থানার সামনে তাদের ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়। পরে শিক্ষার্থীরা পুলিশের ব্যারিকেড সরিয়ে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয়।

  • দুপুর থেকে নার্সিং শিক্ষার্থীদের শাহবাগ অবরোধ

    দুপুর থেকে নার্সিং শিক্ষার্থীদের শাহবাগ অবরোধ

    নার্সিং ডিপ্লোমাকে ডিগ্রি সমমানে উন্নীত করার দাবিতে আজ দুপুরে কয়েকশ নার্সিং শিক্ষার্থী ঢাকার শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। অবরোধের ফলে ব্যস্ততম মোড়টিতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়, দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা প্রথমে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমবেত হন।

    দুপুর দেড়টার দিকে তারা মিছিল নিয়ে শাহবাগের দিকে অগ্রসর হন। শাহবাগ থানার সামনে পুলিশ তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড সরিয়ে শাহবাগ মোড়ে যায়।

    আন্দোলনকারীদের অবরোধের কারণে শাহবাগ মোড় দিয়ে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেলে অনেক যাত্রীকে বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের দিকে যেতে দেখা যায়।

    এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর জানান, নার্সিং শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রেখেছেন। পুলিশ শান্তিপূর্ণভাবে আলোচনা করে তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।