Category: খবর

  • সাবেক এমপি কণ্ঠশিল্পী মমতাজ গ্রেফতার

    সাবেক এমপি কণ্ঠশিল্পী মমতাজ গ্রেফতার

    আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ও শিল্পী মমতাজ বেগমকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

    সোমবার রাত পৌনে ১২টায় রাজধানীর ধানমন্ডির স্টার কাবাবের পেছনের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    জনপ্রিয় লোকগানের শিল্পী মমতাজ বেগম একাধিকবার মানিকগঞ্জ–২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন।

  • আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে সরকার

    আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে সরকার

    স্বৈরশাসন ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার যে দাবি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও জনগণের পক্ষ থেকে উঠেছে তা সরকার গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। এ ব্যাপারে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ইতোমধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করেছে, তাদের সাথে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

    শুক্রবার (৯ মে) দুপুরে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজে এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে— আওয়ামী লীগের নেতা ও সমর্থকদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিষয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন সরকার বিবেচনায় রাখছে। সে পর্যন্ত সকলকে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানাচ্ছে। উল্লেখ্য যে, ইতোমধ্যে সরকার জনদাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রচলিত আইনের অধীনে সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করেছে।

    এছাড়া, সরকারের পক্ষ থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    ফ্যাসিবাদী সরকারের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও হত্যা মামলার আসামি আবদুল হামিদের বিদেশ গমন সম্পর্কে জনমনে ক্ষোভের বিষয়ে সরকার অবগত। এ ঘটনার সাথে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনগত ব্যবস্থা নিতে সরকার বদ্ধপরিকর।

    উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকারী আবদুল হামিদ বুধবার দিবাগত রাতে দেশ ত্যাগ করার পর বৃহস্পতিবার রাত থেকে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে অবস্থান করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা। শুক্রবার জুমার নামাজের পর সেখানে সমাবেশ শুরু হয়েছে।

  • ছোট থেকে শিশুদের নৈতিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে : গণশিক্ষা উপদেষ্টা

    ছোট থেকে শিশুদের নৈতিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে : গণশিক্ষা উপদেষ্টা

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুরা সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক আচরণও শিখে থাকে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক থাকলে শিশুরা এই বিষয়গুলো সুন্দরভাবে শিখতে পারে। আমাদের লক্ষ্য হলো শিশুরা যেন মাতৃভাষা সুন্দরভাবে বুঝতে পারে, মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে, কথা বলতে ও লিখতে পারে এবং যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগের মতো গাণিতিক ভাষা বুঝতে পারে।

    বৃহস্পতিবার (৮ মে) মিরপুরে পিটিআই মিলনায়তনে ‘মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা’ বিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিট এই সেমিনারের আয়োজন করে। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অংশ নেন।

    গণশিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, যদি আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে যাবে। আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে প্রাথমিক শিক্ষার ওপর। তাই অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তাসহ আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত শিশুদের সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা।

    মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এম সাখাওয়াত হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান এবং বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিটের মহাপরিচালক তসলিমা আক্তার।

  • ভারত-পাকিস্তান সংঘাত, বাংলাদেশের অবস্থান কী হবে?

    ভারত-পাকিস্তান সংঘাত, বাংলাদেশের অবস্থান কী হবে?

    ভারত-পাকিস্তান সংঘাত হচ্ছে এমন এক সময়, যখন দেশ দুটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ‘স্পর্শকাতর’ অবস্থায় রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তারা বলছেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের টানাপোড়েন রয়েছে।আর দীর্ঘ সময় পর পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক তৈরি করছে বাংলাদেশ। ফলে কোনো দিকে ঝুঁকে পড়লে, সেটা বাংলাদেশের জন্য নেতিবাচক হবে। অন্যদিকে, সংঘাত যদি প্রলম্বিত হয় এবং এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়, তাহলে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের জন্য এর প্রভাব বেশি হবে। প্রশ্ন হচ্ছে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অবস্থান কী হবে?

    নিরাপত্তা বিশ্লেষক, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ন ম মুনীরুজ্জামান বলেছেন, বাংলাদেশ সরকারের বক্তব্য-বিবৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থানে থাকা প্রয়োজন। কোনো পক্ষের প্রতি সমর্থন প্রকাশ পেলে, তা অন্য পক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যদিও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম যে প্রতিক্রিয়া এসেছে, তাতে অবশ্য সতর্ক অবস্থানই প্রকাশ পেয়েছে।

    ভারত-পাকিস্তান, দুই দেশকেই সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য কূটনৈতিকভাবে উত্তেজনার অবসান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ঢাকা। দেশ দুটির সঙ্গে সম্পর্কের বিষয় ছাড়াও বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানিসহ ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আকাশপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়বে, সে ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তুতি কী আছে-এ প্রশ্নও রয়েছে বিশ্লেষকদের।

    বাংলাদেশের সতর্ক অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন
    বাংলাদেশে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের শাসনের পতনের পর গঠিত হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। শুরু থেকেই এ সরকারের সঙ্গে ভারত সরকারের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। অন্তর্বর্তী সরকারের নয় মাসেও সেই টানাপোড়েন কমার কোনো ইঙ্গিত নেই।

    তবে দেড় দশকেরও বেশি সময় পর পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক তৈরি করছে বাংলাদেশ। এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় সাবেক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা দেশ দুটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে ‘স্পর্শকাতর অবস্থায়’ বলে উল্লেখ করছেন। তারা বলছেন, এখন দুই দেশের সংঘাতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার যদি পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকে পড়ে, তাহলে ভারতের সঙ্গে এ সরকারের সম্পর্কে আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    আবার ভারতের দিকে ঝুঁকলেও সমস্যা পড়তে হবে বাংলাদেশকে। কারণ এর প্রভাব পড়তে পারে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে। এছাড়া বর্তমানে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারত বিরোধী শক্তিগুলোর প্রভাব বেড়েছে; তারা অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে। তাদের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

    এমন বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত-পাকিস্তানের এই সংঘাতে বাংলাদেশের সতর্ক ও নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন। নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মুনীরুজ্জামানের পাশাপাশি চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বাস্তবতাকে বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলছেন।

    তারা মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক অবস্থানে থেকে কৌশল ঠিক করতে হবে। অতীতেও বিভিন্ন সময় ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সরকারগুলো সতর্ক ও কূটনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকার চেষ্টা করেছে। এমনকি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শাসনের সময়ও যখন ২০১৯সালে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা, সংঘাত হয়েছিল, বাংলাদেশের সেই সরকারও সতর্ক ও নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে বক্তব্য-বিবৃতি দিয়েছিল বলে বিশ্লেষকেরা বলছেন। যদিও আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।

    ভারত-পাকিস্তান পরিস্থিতিতে নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থানের ব্যাপারে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক নীতিনির্ধারকরা বলছেন, তারা পরিস্থিতির প্রভাব ও বাস্তবতা সম্পর্কে সতর্ক থেকেই প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন।

    কী বলতে চাইছে বাংলাদেশ
    বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ দুই দেশকেই সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। গতকাল বুধবার অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেছেন, উভয়পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি বাংলাদেশ মনে করে কূটনৈতিক দিক থেকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত। ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা নিরসন করে শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল অবস্থানে ফিরে আসবে বলে বাংলাদেশ আশা করে।

    বুধবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো একটি বিবৃতিও দেওয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যেকার পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ। সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। উভয় দেশকে বাংলাদেশ অনুরোধ করেছে যেন তারা শান্ত থাকে, ধৈর্য প্রদর্শন করে এবং পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে, এমন পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত থাকে।’বাংলাদেশ আশা করছে, আঞ্চলিক শান্তি, উন্নতি এবং স্থিতিশীলতার জন্য কূটনৈতিকভাবে এই উত্তেজনার অবসান হবে।

    বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন, ভারত, পাকিস্তানের এই সংঘাতে বাংলাদেশে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। এরপরও বংলাদেশের পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে ভারতের আকাশপথে কোনো সমস্যা হয় কি না, সেটা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

    বাংলাদেশের জন্য প্রভাব বেশি হবে কেন
    ভারত-পাকিস্তানের যে অঞ্চলে সংঘাত হচ্ছে, সেই অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত নেই। ফলে বাংলাদেশের জন্য এই সংঘাতের সরাসরি কোনো প্রভাব দেখছেন না বিশ্লেষকদের অনেকে। তবে সংঘাত যদি প্রলম্বিত হয় এবং পরিস্থিতি যুদ্ধে রুপ নেয়, তখন দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা প্রশ্নে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, বিশ্লেষকেরা এমন আশঙ্কার কথাও বলছেন। আর অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হলে এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের ওপরই প্রভাব বেশি পড়বে। এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জেনারেল মুনীরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের তিন দিকেই ভারতের সীমান্ত। সেটি নিরাপত্তার দিক থেকে একটি বড় বিষয়।

    এছাড়া আকাশপথে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য ভারত ও পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে হয়। এই বাণিজ্য এবং যাত্রীবাহী বিমান চলাচলেও প্রভাব পড়বে। আকাশপথ নিরাপত্তার প্রশ্নে বিকল্প রুট ব্যবহার করতে হবে। ইতিমধ্যে বুধবার ঢাকামুখী ও ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া কয়েকট ফ্লাইট পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার না করে ভিন্ন রুটে চলাচল করেছে। এতে এসব ফ্লাইটের গন্তব্যে পৌঁছুতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে আকাশপথে চলাচলে সময় বেশি প্রয়োজন হবে, অন্যদিকে আমদানি-রপ্তানিতে ব্যয় বাড়বে। তখন পণ্যের দাম বাড়বে এবং এর প্রভাব পড়বে ভাক্তা পর্যায়ে। এ অঞ্চলের অন্য দেশগুলোও সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির ক্ষেত্রে চাপে পড়তে পারে বলেও বিশ্লেষকেরা মনে করেন। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কেউ কেউ আবার বাংলাদেশের জন্য ভিন্ন একটা বিষয় তুলে ধরছেন।

    তারা বলছেন, বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তের সাথে ভারতের সাতটি অঙ্গরাজ্য আছে। সেগুলোতে যদি ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের কোনো প্রভাব পড়ে এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখন এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদশে। ফলে নিরাপত্তার প্রশ্নে উদ্বেগের বিষয় এখানে রয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা এবং নিরাপত্তার প্রশ্নে বাাংলাদেশের প্রস্তুতি রাখাা প্রয়োজন বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

    সংঘাতের প্রভাবের প্রশ্নে বাংলাদেশের প্রস্তুতি কতটা
    ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিবৃতি যে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে, তাতে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি ভারত পাকস্তানের সংঘাত যাত না বাড়ে, সেজন্য দুই দেশকেই সংযত হতে বলা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বাংলাদেশের এই বক্তব্যকে রুটিন বিবৃতি হিসেবে দেখছেন। তাদের কথায়, সাধারণত কূটনৈতিক দিক থেকে এ ধরনের বিবৃতি দেওয়া হয়। কিন্তু পরিস্থিতির প্রভাব সামলাতে কী প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বা কৌশল কী হচ্ছে-সেটা বলেনি বাংলাদেশ সরকার।

    যদিও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেছেন, আমদানি, রপ্তানি ও আকাশপথে চলাচলে কী প্রভাব পড়তে পারে, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং একটা প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। তবে আসলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তুতি কতটা আছে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে বিশ্লেষকদের।

  • প্রতারণার অভিযোগে নারী চিকিৎসককে টেনে-হিঁচড়ে সড়কে এনে মারধর

    প্রতারণার অভিযোগে নারী চিকিৎসককে টেনে-হিঁচড়ে সড়কে এনে মারধর

    কুষ্টিয়ায় শারমিন সুলতানা নামের এক নারী চিকিৎসককে তার চেম্বার থেকে টেনে-হিঁচড়ে সড়কে এনে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। প্রতারণার নানা অভিযোগ এনে একদল নারী ওই চিকিৎসককে মারধর করেন। পরে পুলিশ এসে চিকিৎসককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

    সোমবার (৫ মে) দুপুরে শহরের লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। চিকিৎসক শারমিন সুলতানার স্বামীও কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অর্জন দাস আগরওয়ালা সড়কে লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়মিত রোগী দেখেন চিকিৎসক শারমিন সুলতানা। আজ দুপুরে চেম্বারে আসার পর আগে থেকে সেখানে অবস্থান করা একদল নারী তার ওপর হামলা করে। ৬-৭ জন নারী এতে অংশ নেয়। এ সময় চেম্বার থেকে টেনে-হিঁচড়ে সড়কের ওপর নিয়ে আসে তারা।

    হামলার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ৫ মিনিটের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ৬-৭ জন নারী ভুক্তভোগী চিকিৎসক শারমিন সুলতানাকে টেনে-হিঁচড়ে সড়কের ওপর নিয়ে আসছে। সেখানে তাকে মারধর করা হচ্ছে।

    নারীদের কয়েকজন অভিযোগ করে, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে বিদেশে লোক পাঠানো ও চাকরি দেওয়ার কথা বলে তাদের মাধ্যমে টাকা নেন ওই চিকিৎসক। পরে চাকরি দিতে পারেননি ওই নারী চিকিৎসক। আবার টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না। এ কারণে তাকে ধরতে এসেছেন তারা।

    লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কয়েকজন কর্মচারী জানান, তারা ঠেকানোর চেষ্টা করলে ওই নারীরা হামলা চালায়। স্থানীয়রা ইন্ধন দিয়ে নারীদের দিয়ে হামলা চালিয়েছে। চিকিৎসককে বেদম মারধর করা হয়েছে। তাদের যদি কোনো অভিযোগ থাকে পুলিশকে জানাতে পারত।

    এ দিকে হামলার সময় পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে কুষ্টিয়া মডেল থানা থেকে পুলিশের একটি দল এসে চিকিৎসক শারমিন সুলতানাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে চিকিৎসকরা ভিড় করেন।

    চিকিৎসক শারমিন সুলতানার স্বামী কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মাসুদ রানা বলেন, ‘আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। আমার স্ত্রী কোনো দিন মেহেরপুরে যাইনি। ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক আমার স্ত্রীকে রোগী দেখার জন্য কল করে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই ওইসব নারীরা বসেছিল। এরপর তারা হামলা করে। আমি খবর শুনে সেখানে গেলে আমার ওপরও হামলার চেষ্টা চালানো হয়। আমি সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

    কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, নারী চিকিৎসককে মারধর করা হচ্ছে এমন খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনাস্থল থেকে নারী চিকিৎসককে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। যেসব অভিযোগে তার ওপর হামলা হয়েছে তার স্বপক্ষে কোনো কাগজপত্র আছে কি-না সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • হাসনাতের গাড়িতে হামলায় আটক ১২

    গাজীপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং তার সহযোগীদের ওপর হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন ১২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে, সোমবার (৫ মে) সকাল পর্যন্ত তাদের কাউকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।

    গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, আটককৃতদের রবিবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং সোমবার সকালে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।

    এর আগে, হাসনাত আব্দুল্লাহর গাড়িতে হামলার ঘটনায় ৪ জনকে আটকের কথা জানায় জিএমপি কমিশনার ডিআইজি ড. মো. নাজমুল করিম খান।

    আটকদের মধ্যে দু’জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন- গাজীপুর মহানগর যুবলীগের সদস্য মো. নিজাম উদ্দিন এবং কাশিমপুর থানার শেখ রাসেল শিশু কিশোর পরিষদের সভাপতি মাসুম আহমেদ দিপু। তবে আটক বাকি দু’জনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    পুলিশের দাবি, নিজাম উদ্দিন গাজীপুর মহানগরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগ নেতা। এছাড়া মাসুম কাশিমপুর থানার শেখ রাসেল শিশু কিশোর পরিষদ নামের একটি সংগঠনের সভাপতি।

    রবিবার সন্ধ্যায় এক ফেসবুক পোস্টে হাসনাতের ওপর হামলার কথা জানান এনসিপি’র আরেক মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। হাসনাতের লোকেশন জানিয়ে তাকে উদ্ধারে দলের নেতাকর্মীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আহ্বান জানান তিনি।

    এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানান, ঢাকার দিকে আসার সময় গাজীপুরে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় পেছন থেকে ১০-১২টা মোটরসাইকেল এসে হাসনাতের ওপর হামলা করে। এতে তিনি আহত হন। এখন হাসনাত ঢাকায় ফিরছেন।

  • তুরিন আফরোজের ডক্টরেট ডিগ্রি ভুয়া, জানাল বিশ্ববিদ্যালয়

    তুরিন আফরোজের ডক্টরেট ডিগ্রি ভুয়া, জানাল বিশ্ববিদ্যালয়

    আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের ডক্টরেট ডিগ্রি ভুয়া বলে জানিয়েছে সিডনির ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলস।

    রোববার (৪ মে ) আপিল বিভাগে বাড়ি সংক্রান্ত মামলায় এ তথ্য দাখিল করা হয়েছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী ব্যারিস্টার সাজ্জাদ হায়দার।

    গত ১৩ মার্চ আপিল বিভাগে বাড়ি সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক বলেছেন, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর থাকা অবস্থায় ক্ষমতার সব রকম অপব্যবহার করেছেন। তখন সে ছিল পরাক্রমশালী। এক মুহূর্তের মধ্যে তার মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। উত্তরার বাড়িতে সেই মায়ের থাকার নির্দেশনা প্রার্থনা করছি।

    হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আবেদনের শুনানিতে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে তিনি এসব কথা বলেন।

    গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর উত্তরায় পাঁচতলা বাড়িতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) সাবেক প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজের মা শামসুন্নাহার বেগম এবং তার ভাই শিশির আহমেদ শাহনেওয়াজ আহমেদের বসবাস করা নিয়ে বিচারিক আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ বাতিল করে দেন হাইকোর্ট। এর ফলে ওই বাড়িতে শামসুন্নাহার বেগম ও শাহনেওয়াজের বসবাসের ক্ষেত্রে আর কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

    এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি মো. সেলিমের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।

    আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, আইনজীবী বিএম ইলিয়াস কচি, ব্যারিস্টার মনজুর রাব্বী, ব্যারিস্টার আতিকুল হক। তুরিন আফরোজের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ সাইফুল করিম।

    সেদিন ব্যারিস্টার আতিকুল হক বলেন, রাজধানীর উত্তরায় পাঁচতলা বাড়িতে বসবাসকে কেন্দ্র করে বিচারিক আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ বাতিল করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে ওই বাড়িতে তুরিন আফরোজের মা শামসুন্নাহার বেগম ও শাহনেওয়াজের বসবাসের ক্ষেত্রে আর কোনও আইনগত বাধা নেই।

    তিনি বলেন, রাজধানীর উত্তরার রেসিডেনন্সিয়াল মডেল টাউনের ১১ নম্বর সড়কের ৩ নম্বর সেক্টরের ১৫ নম্বর প্লটের পাঁচতলা বাড়িতে ২০০২ সাল থেকে বসবাস করে আসছিলেন শামসুন্নাহার বেগম এবং তার ছেলে শিশির আহমেদ শাহনেওয়াজ। তবে নিজের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে শামসুন্নাহার বেগম ও শাহনেওয়াজকে ওই বাড়ি থেকে ২০১৭ সালে বের করে দেন তুরিন আফরোজ। পরে ওই বাড়ির ভোগ দখল ও মালিকানা দাবি করে শাহনেওয়াজ ও তুরিন আফরোজ ঢাকার যুগ্ম জেলা জজ আদালতে দুটি দেওয়ানী মামলা দায়ের করে। ২০১৮ সালের ১১ অক্টোবর দুই পক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে ওই বাড়ি ভোগদখলের ক্ষেত্রে স্থিতাবস্থা জারি করে ঢাকার পঞ্চম যুগ্ম জেলা জজ আদালত। এরপর যুগ্ম জেলা জজ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালতে আবেদন করে শাহনেওয়াজ। পরে ২০২৩ সালের ১৯ জানুয়ারি যুগ্ম জেলা জজ আদালতের আদেশ বহাল রাখেন জেলা জজ আদালত। এরপর ২০২৩ সালের মার্চে জেলা জেজ আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন দায়ের করে শাহনেওয়াজ।

    ২০২৩ সালের ২ এপ্রিল বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ উত্তরায় ওই বাড়ি ভোগদখলের ক্ষেত্রে স্থিতাবস্থার আদেশ কেন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হবে, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। পরবর্তী সময়ে আদালত পরিবর্তিত হয়ে মামলাটি বিচারপতি মো. সেলিমের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে আসে। ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ১৯ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি মো. সেলিমের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল যথাযথ (অ্যাবসুলেট) ঘোষণা করে স্থিতাবস্থা বাতিল করে রায় দেন। এর ফলে ওই বাড়িতে শাহনেওয়াজ ও তার মা শামসুন্নাহার বেগমের বসবাসের ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা নেই।

    এখন বাড়ির ভোগ দখল ও মালিকানা দাবি করে দায়ের করা দুটি মামলায় বিচারিক আদালতে স্বাভাবিক নিয়মে চলবে বলে জানান আইনজীবী আতিকুল হক।

    উল্লেখ্য, বিচারিক আদালতের মামলার আরজিতে তুরিন আফরোজ দাবি করেছেন, তুরিনের মা শামসুন্নাহার ১৯৯১ সালে ক্রয়সূত্রে উত্তরার সম্পত্তির মালিক হন। পরের বছর ১৯৯২ সালে শামসুন্নাহার তার স্বামী তসলিম উদ্দিনকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিযুক্ত করেন। পরে ১৯৯৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তসলিম উদ্দিন মেয়ে তুরিন আফরোজকে দান করেন। তবে শামসুন্নাহার ও তার ছেলে শাহনেওয়াজ আদালতে লিখিত জবাব দিয়ে বলেছেন, তসলিম উদ্দিন কখনো তার মেয়ে তুরিন আফরোজকে উত্তরার সম্পত্তি দান করেননি। বরং শামসুন্নাহার তার ছেলে শাহনেওয়াজকে উত্তরার সম্পত্তি ১৯৯৭ সালে দান করে দেন। পরে ওই জমি শাহনেওয়াজের নামে নামজারি করে ১৯৯৯ সালে হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের কাছ থেকে ২৫ লাখ ঋণ নেয়া হয় এবং রাজউকের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মাণ করা বাড়িতে তারা ২০০২ সাল থেকে বসবাস করে আসছিলেন।

  • এনসিপি’র কমিটি গঠনের দায়িত্বে আ. লীগ নেত্রীর মেয়ে দোলা

    এনসিপি’র কমিটি গঠনের দায়িত্বে আ. লীগ নেত্রীর মেয়ে দোলা

    ফরিদপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর কমিটি গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন ফরিদপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহামুদা বেগমের মেয়ে সৈয়দা নীলিমা দোলা। দোলা শুধু আওয়ামী লীগ নেত্রীর মেয়ে নয়, তিনি জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোহাম্মদ নাসিরের ভাগ্নিও। তার বাবার নাম সৈয়দ গোলাম দস্তগির। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী।

    গতকাল মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) এনসিপি’র মূখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং সদস্য সচিব আক্তার হোসেনের যৌথ স্বাক্ষরিত এক চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

    ওই চিঠিতে ফরিদপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক করা হয়েছে মো. আব্দিুর রহমানকে এবং সংগঠক করা হয়েছে মো. রাকিব হোসেনকে। এছাড়া, ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচটি জেলা ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, রাজবাড়ী জেলার দুইজন করে ব্যক্তিকে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    চিঠিতে ফরিদপুর অঞ্চলের টিমকে বলা হয়েছে, উক্ত টিমকে উল্লেখিত অঞ্চলের কেন্দ্রীয় কমিটির নিম্মোক্ত সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কমিটির প্রস্তাবনার নির্দেশনার প্রদান করা হল।

    ফরিদপুর জেলার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে যে দু’জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তার একজন হলেন সৈয়দা নীলিমা দোলা।

    সৈয়দা নীলিমা ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংগীত বিভাগে মাস্টার্স করেন। এরপর তিনি কিছুদিন একটি মোবাইল ফোন কোম্পানিতে কাজ করেছেন। বর্তমানে ‘সিনে কার্টেল’ নামে একটি মুভি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বধিকারী।

    জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতির মেয়ে হয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতার হওয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে সৈয়দা নীলিমা দোলা গণমাধ্যমকে জানান, আমার পরিবারের আওয়ামী লীগের রাজনীতি করা সংক্রান্ত কিছু পোস্ট আপনাদের সামনে আসতে পারে। আমি নিজের দিক থেকে একটা ব্যাখ্যা আমার মানুষজন এবং রাজপথের সহযোদ্ধাদের দিয়ে রাখতে চাই।

    তিনি বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন আমি করে আসতেছি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালে সকল আন্দোলনের আমি অতি পরিচিত মুখ। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমার লেখালেখিও পুরোনো। ২০১২ সালে পরিবার ছাড়ার পর রাজপথই আমার আসল পরিবার। জুলাইয়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অন্যতম মামলা তাহির জামান প্রিয় হত্যা মামলা ও একজন প্রতক্ষ্যদর্শী আমি।

    তিনি আরও জানান, সরাসরি ছাত্রলীগ করে অনেকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন। আমি কখনও ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না, তাই আমার নাগরিক কমিটির সদস্য হতে বাধা কোথায় ? তিনি আরও জানান, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা জেনে, বুঝে এবং আমি ‘লিটমাস’ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরেই আমাকে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য করেছেন।

    আওয়ামী লীগ নেত্রীর মেয়ে দায়িত্ব পেয়েছেন জেলার এনসিপি কমিটি গঠনের এ বিষয়ে কোন দৃষ্টিতে দেখছেন জানতে চাইলে ফরিদপুর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব সোহেল রানা জানান, তার (সৈয়দা নীলিমা) পারিবারিক ব্যকগ্রাউন্ড আওয়ামী লীগ। আমরা দেখেছি গত জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে তার মামা গোলাম নাসির কিভাবে আমাদের ওপর নির্বিচার গুলি ছুঁড়েছে। তার মায়ের কর্মকান্ড আমাদের অজনা নয়।

    সৈয়দা নীলিমা দোলার সঙ্গে আমাদের পরিচয় পর্যন্ত নেই মন্তব্য করে সোহেল রানা জানান, আসলে দায়িত্ব দেয়ার আগে সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করে নেয়া হলে ভাল হতো। সঠিক যাচাই-বাছাই করা হলে এ রকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।

  • নর্থ সাউথে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ

    নর্থ সাউথে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ

    নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন যুব ও ক্রীড়া এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

    সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্সের (এসআইপিজি) এক্সিকিউটিভ মাস্টার্স ইন পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্স (ইএমপিজি) প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য তিনি নির্বাচিত হয়েছেন।

    বুধবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, মোট ৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন, যেখানে আসিফ মাহমুদের নাম তালিকার পাঁচ নম্বরে রয়েছে।

    এর আগে, গত ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ইএমপিজি প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষায় আসিফ মাহমুদ সশরীরে অংশগ্রহণ করেন। তার পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

    এ বিষয়ে তখন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের অধীনে পরিচালিত ইএমপিজি প্রোগ্রামের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ২৫ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আসিফ মাহমুদ নামের একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন এবং পরবর্তীতে জানা যায়, তিনি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা

    ইএমপিজি প্রোগ্রামটি মূলত নীতিনির্ধারক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, উন্নয়নকর্মী ও গবেষকদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে পাবলিক পলিসি, প্রশাসনিক দক্ষতা, নেতৃত্ব এবং সুশাসন বিষয়ক সমন্বিত জ্ঞান প্রদান করা হয়।

  • ঢাবির বাসে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫

    ঢাবির বাসে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫

    রাজধানীর উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ক্ষণিকা বাসে হামলার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ।

    বুধবার (৩০ এপ্রিল) উত্তরা জোনের এসি সাদ্দাম হুসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।

    পুলিশ আরও জানায়, হামলায় বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে ঢাবির বাসে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে বাসচালকসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। হামলার ঘটনার পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় যান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান এবং প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ। তারা পুলিশকে হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানান।