Category: খবর

  • শপথ ছাড়াই মেয়রের ‘আসনে’ বসলেন ইশরাক!

    শপথ ছাড়াই মেয়রের ‘আসনে’ বসলেন ইশরাক!

    আদালত থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে রায় দেওয়ার পর নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করলেও দীর্ঘদিনে শপথ নিতে পারেননি বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। শপথের ব্যবস্থা করতে নানা ধরনের কর্মসূচিও পালন করছেন ইশরাক হোসেন ও তার অনুসারীরা। এসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ইশরাক একাধিকবার বলেছেন, মেয়র হিসেবে শপথ পড়ানোর আয়োজন না করলে নিজেই তার কর্মী সমর্থক ও দক্ষিণ সিটির বাসিন্দাদের নিয়ে শহীদ মিনারে শপথ আয়োজন করবেন। এবার শপথ ছাড়াই মেয়রের আসনে বসে গেলেন ঢাকার প্রয়াত মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন।

    সোমবার (১৬ জুন) নগর ভবনের কনফারেন্স রুমে একটি সভা করেছেন ইশরাক হোসেন। নগর ভবনে এটিই তার প্রথম সভা। যেই সভার ব্যানারে ইশরাক হোসেনের নামের সঙ্গে ‘মাননীয় মেয়র’ লেখা রয়েছে। আর সাধারণত সভায় মেয়র যে আসনে বসেন সেখানেই তিনি বসেছেন।

    জানা গেছে, নগর ভবনের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে পরিচ্ছন্ন ঢাকা ও নাগরিক সেবা নিশ্চিতকল্পে এই সভার আয়োজন করা হয়।

    ওই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। ব্যানারে তার নামের আগে ‘মাননীয় মেয়র, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন’ লেখা রয়েছে। সভায় ইশরাক হোসনকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও ক্রেস্ট প্রদান করতে দেখা গেছে কয়েকজনকে।

    এর আগে রোববার ইশরাক হোসেন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা করে ঘোষণা দেন, জনগণের দৈনন্দিন সেবা, আমাদের তত্ত্বাবধানে চালু থাকবে। এছাড়া প্রধান ফটকে তালা দেওয়া থাকবে।

    এদিকে সোমবারও ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটির (ডিএসসিসি) মেয়রের দায়িত্ব দেওয়ার দাবিতে নগর ভবনের সামনে আবারও অবস্থান নেন তার সমর্থকরা। পরে বেলা ১১টার পর নগর ভবনে আসেন ইশরাক হোসেন।

    ঘোষণা অনুযায়ী, জরুরি সেবার চালু রাখতে ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দেন তিনি।

    এদিকে শপথ ছাড়া তার এভাবে কাজ করা নিয়ে অনেকে সমালোচনা করছেন। কেউ আবার আদালতের নির্দেশের পরেও শপথ নিয়ে জটিলতা করায় সরকারের সমালোচনা করছেন।

  • ২৪২ আরোহীর মধ্যে ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেন রমেশ

    ২৪২ আরোহীর মধ্যে ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেন রমেশ

    এ যেন এক রীতিমতো অলৌকিকই ঘটনা। কারণ ঘণ্টাখানেক আগেই ভারতের আহমেদাবাদে পুলিশ কমিশনার জানিয়েছিলেন, বিধ্বস্ত এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানের কোনো আরোহী বেঁচে নেই। আর ঘন্টাখানেক পরে সেই কমিশনারই জানালেন ২৪২ আরোহীর মধ্যে মাত্র এক জন বেঁচে গেছেন।

    প্রাণে বেঁচে যাওয়া যাত্রী বিশ্বাস কুমার রমেশ একজন ব্রিটিশ নাগরিক। ভারতে এসেছিলেন মাত্র কয়েকদিনের জন্য— পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি তার বড় ভাই অজয় কুমার রমেশ (৪৫)-এর সঙ্গে যুক্তরাজ্যে ফেরার উদ্দেশে আহমেদাবাদ থেকে বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ফ্লাইটে উঠেছিলেন।

    গুরুতর আঘাত নিয়ে তিনি এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, কিন্তু তার চোখে লেগে আছে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের স্মৃতি।

    তিনি বলেন, ‘আমি যখন জ্ঞান ফিরে পাই, তখন চারদিকে শুধু মরদেহ। ভয়ে আমার হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। উঠে দাঁড়িয়ে দৌড়ে বাঁচার চেষ্টা করি। চারপাশে ছিল বিমানের ছিন্নভিন্ন ধ্বংসাবশেষ। কেউ একজন আমাকে ধরে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেয় এবং সেখান থেকে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।’ যখন তিনি কথা বলছিলেন তখনো তার হাতে বোর্ডিং পাসটি ছিল।

    রমেশ হাসপাতালের বেডে শুয়েও একটি অনুরোধ বারবার জানিয়ে যাচ্ছেন— ‘আমার ভাই অজয়কে খুঁজে দিন…।’ বিশ্বাস জানান, তার ভাই অজয় কুমার রমেশ বিমানে তার সঙ্গে ছিলেন। তবে তারা আলাদা সারিতে বসেছিলেন।

    রমেশ বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে দিউ ঘুরতে গিয়েছিলাম। খুব আনন্দের সফর ছিল। ও আমার সঙ্গে ফিরছিল যুক্তরাজ্যে, কিন্তু এখন ওকে খুঁজে পাচ্ছি না। কোথায় গেল ও? কেউ দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন।’

    হাসপাতালের অন্যত্র, এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে থাকা যাত্রীদের পরিবার ও বন্ধুজন তাদের প্রিয়জনদের খুঁজছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন প্রাক্তন গুজরাট মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানীর পরিবারও, যিনি ওই ফ্লাইটে ছিলেন।

    আগে রুপানীর সহকারী ছিলেন সৈলেশ মণ্ডলিয়া, তিনি হাসপাতালে এসে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর খোঁজ করছিলেন।

    তিনি হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেন, ‘আমরা তাকে খুঁজছি। যদি কিছু খবর পাও, আমাকে জানান।’

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১২ জুন) দুপুর ১টা ৩৯ মিনিটে আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের গ্যাটউইকের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার। বিমানে মোট ২৪২ জন আরোহী ছিলেন। যার মধ্যে ছিলেন যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা। কিন্তু উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিধ্বস্ত হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়।

    এয়ার ইন্ডিয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিমানটিতে ছিলেন ১৬৯ জন ভারতীয়, ৫৩ জন ব্রিটিশ, সাতজন পর্তুগিজ এবং একজন কানাডিয়ান নাগরিক। ফ্লাইট এআই১৭১ আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের গেটউইক যাচ্ছিল। সংবাদমাধ্যম নিউজ-১৮ জানিয়েছে, ২৩০ যাত্রী, ২ পাইলট ও ১০ কেবিন ক্রু নিয়ে ভয়াবহভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে বিমানটি।

    পুলিশ কমিশনার জি.এস. মালিক জানিয়েছেন, বিমানের এক জন যাত্রী জীবিত বলে জানা গেছে। তিনি ১১-এ আসনের যাত্রী ছিলেন। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

  • বিমান যাত্রীদের বেঁচে নেই কেউ, বিধ্বস্তে হোস্টেলে থাকা ৫ মেডিকেল শিক্ষার্থীরও মৃত্যু

    বিমান যাত্রীদের বেঁচে নেই কেউ, বিধ্বস্তে হোস্টেলে থাকা ৫ মেডিকেল শিক্ষার্থীরও মৃত্যু

    ভারতের গুজরাটের আহমেদাবাদে দুই শতাধিক যাত্রী নিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়া উড়োজাহাজটি চিকিৎসকদের হোস্টেলের ওপর বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে পাঁচ মেডিকেল শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি, এপি ও বিবিসির।

    এছাড়াও আহমেদাবাদ সিটি পুলিশ কমিশনার জিএস মালিক জানান, দুর্ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে বিমানটির কোনো আরোহী বেঁচে নেই। এটি আছড়ে পড়েছে আবাসিক এলাকায়। এতে স্থানীয় কিছু মানুষও হয়ত মারা গেছে। সব মিলিয়ে কতজনের মৃত্যু হয়েছে সেটি নিরূপণ করা হচ্ছে।

    স্থানীয় রাজনীতিবিদ দর্শনা ভাঘেলা বলেন, বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের ফ্ল্যাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘যখন উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয় তখন আমি অফিসে ছিলাম। আমরা অনেক চিকিৎসককে উদ্ধার করেছি।’

    আহত এক ব্যক্তির মা জানান, তাঁর ছেলে জীবন বাঁচাতে দুই তলা থেকে ঝাঁপ দিয়েছে।

    ভারতে দুই শতাধিক যাত্রী নিয়ে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, বহু হতাহতের শঙ্কাভারতে দুই শতাধিক যাত্রী নিয়ে


    ভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় আজ বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট বিধ্বস্ত হয়েছে। ফ্লাইটটি আহমেদাবাদ থেকে লন্ডন যাচ্ছিল। বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের ৫ মিনিটের মধ্যেই এটি বিধ্বস্ত হয়।

    বিমান বিধ্বস্তের কিছুক্ষণ পর ওই ফ্লাইটে থাকা যাত্রীদের তালিকাও প্রকাশ করেছে এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ। এতে বলা হয়েছে, এয়ার ইন্ডিয়ার বিধ্বস্ত এআই ১৭১ ফ্লাইটে ১৬৯ ভারতীয় নাগরিক, ৫৩ ব্রিটিশ নাগরিক, কানাডীয় এক নাগরিক ও পর্তুগালের সাতজন নাগরিক ছিলেন।

    এক বিবৃতিতে এয়ার ইন্ডিয়া বলেছে, আহমেদাবাদের সরদার প্যাটেল বল্লভভাই বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩৮ মিনিটে উড্ডয়নের পরপরই দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে এআই ১৭১ ফ্লাইট।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের গ্যাটউইকের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করা এআই১৭১ ফ্লাইটটি আজ উড্ডয়নের পরপরই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩৮ মিনিটে আহমেদাবাদ থেকে উড্ডয়ন করা বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারের ওই ফ্লাইটে মোট ২৪২ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্য ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৬৯ জন ভারতীয়, ৫৩ জন ব্রিটিশ, ১ জন কানাডীয় ও ৭ জন পর্তুগিজ নাগরিক।’’

  • ভারতে যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত, শতাধিক হতাহতের শঙ্কা

    ভারতে যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত, শতাধিক হতাহতের শঙ্কা

    ভারতের গুজরাটের আহমেদাবাদে দুই শতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় শতাধিক যাত্রী হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    ভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট বিধ্বস্ত হয়েছে। ফ্লাইটটি আহমেদাবাদ থেকে লন্ডন যাচ্ছিল। বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই এটি বিধ্বস্ত হয়।

    ফ্লাইটটিতে ২৪২ জন আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে ২৩০ জন যাত্রী ও ১২ জন ক্রু ছিলেন।

    এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এআই ১৭১ ফ্লাইটটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। তবে কী কারণে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা, প্রাথমিকভাবে তা জানা যায়নি।

    আহমেদাবাদের পুলিশ কমিশনার জানান, আহমেদাবাদ বিমানবন্দরের কাছে মেঘানিনগর এলাকায় উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয় ৷ বিমানটি ভেঙে পড়ার পরেই আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের অন্তত সাতটি ইঞ্জিন এবং প্রায় এক ডজন অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছেছে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তারা বিমানবন্দর এলাকা থেকে বেশ কিছু লোককে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখেছেন। গুজরাট রাজ্য পুলিশ কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আহমেদাবাদ বিমানবন্দরে উড্ডয়নের সময় এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।

    বিমান দুর্ঘটনার ঘটনা সম্পর্কে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পুলিশ কমিশনারের সাথে কথা বলেছেন। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন।

  • প্রধান বিচারপতির বাসভবন ও হাইকোর্ট এলাকায় সভা–সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা

    প্রধান বিচারপতির বাসভবন ও হাইকোর্ট এলাকায় সভা–সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা

    প্রধান বিচারপতির বাসভবন ও সুপ্রিমকোর্ট চত্বরসংলগ্ন এলাকায় সব ধরনের সভা–সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। আগামী শনিবার (১৪ জুন) থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

    আজ বৃহস্পতিবার (১২ জুন) ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাদ আলীর স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

    গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, জনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স (অর্ডিন্যান্স নং-III/৭৬) এর ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে আগামী ১৪ জুন (শনিবার) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির সরকারি বাসভবন, বিচারপতি ভবন, জাজেস কমপ্লেক্স, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের প্রধান গেট, মাজার গেট, জামে মসজিদ গেট, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ ও ২ এর প্রবেশ গেট, বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট ভবনের সম্মুখে সব ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শন ইত্যাদি নিষিদ্ধ করা হলো।

    এছাড়া, বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আদায় ও প্রতিবাদ কর্মসূচির নামে যখন-তখন সড়ক অবরোধ করে যান চলাচলে বিঘ্ন না ঘটানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধও করা হয়েছে গণবিজ্ঞপ্তিতে।

  • গাজীপুরে এনসিপি নেতা পরিচয়ে ছাত্রলীগ নেতাকে অপহরণ, সাড়ে ৫ লাখ টাকায় মুক্তি

    গাজীপুরে এনসিপি নেতা পরিচয়ে ছাত্রলীগ নেতাকে অপহরণ, সাড়ে ৫ লাখ টাকায় মুক্তি

    গাজীপুরের শ্রীপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা পরিচয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকে তুলে নিয়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ পাওয়া গেছে। দাবি করা টাকার মধ্যে সাড়ে ৫ লাখ আদায়ের দুদিন পর মুক্তি পান ওই ছাত্রলীগ নেতা। অপহরণের বিষয়টি স্বীকার করলেও অভিযুক্তরা এনসিপির কেউ নয় বলে দাবি এনসিপির উপজেলা নেতাদের।

    এ ঘটনায় বুধবার (১১ জুন) দুপুরে শ্রীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন অপহৃত ছাত্রলীগ নেতা আল রিয়াদ আদনান অন্তরের স্ত্রী ইসরাত হাজান আঁখি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল বারিক।

    গত ২৮ মে বুধবার রাত ৯টার দিকে শ্রীপুর পৌর শহরের মাওনা চৌরাস্তা এলাকার মালেক মাস্টার মার্কেটের সামন থেকে অপহরণের ঘটনা ঘটে। অপহৃত ছাত্রলীগ নেতা আল রিয়াদ আদনান অন্তর (৩৫) শ্রীপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল হোসেনের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক সহ-সম্পাদক ছিলেন। অভিযুক্তরা হলেন—মো. উজ্বল হোসাইন (২২), আলিফ মোড়ল (২০), কাইফাত মোড়ল (২৪) মারুফ খান (২২) ও মিঠুন (২০) ।

    অপহৃত ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রী ইসরাত হাজান আঁখি বলেন, ‘গত ২৮ মে স্থানীয় মাওনা চৌরাস্তা এলাকার মালেক মাস্টার মার্কেট থেকে মেয়ের ওষুধ কিনে অটোরিকশায় বাসায় ফিরছিলেন আমার স্বামী অন্তর। এসম হঠাৎ করে অভিযুক্তরা এসে নিজেদের এনসিপির নেতা পরিচয়ে অটোরিকশার সামনে দাঁড়িয়ে গতিরোধ করে। এরপর তাকে টেনে-হিঁচড়ে মারধর করতে করতে স্থানীয় ইয়াকুব আলী মাস্টার টাওয়ারের পেছনে নিয়ে হাত-পা বেঁধে একটি সদ্য নির্মিত ঘরে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন শুরু করে।’

    ইসরাত হাজান আঁখি আরও বলেন, ‘ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ রয়েছে। এসময় অভিযুক্ত আলিফ মোড়ল স্বামীকে ব্যাপক নির্যাতন করে আমাকে ফোন দেয়। এসময় অপর প্রান্ত থেকে স্বামী শুধু বলে আমাকে বাঁচাও। এসময় অভিযুক্তরা ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তাৎক্ষণিকভাবে ২৯ মে ভোররাত ৪টার দিকে এমসি বাজার এলাকায় মুক্তিপণের ২ লাখ টাকা নিয়ে গেলে অভিযুক্ত আলিফ মোড়লসহ দুটি মোটরসাইকেলে এসে ২ লাখ টাকা ও মোবাইল ফোনের বক্স ও কাগজপত্র নিয়ে যায়। এরপর ওরা স্বামীকে ছেড়ে দিলেও মুক্তিপণ দাবি করে। এরপর আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে ধারদেনা করে আমার শ্বশুর আরও ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা দিলে ২৯ মে রাত ১০টার দিকে এমসি বাজার এলাকায় একটি নির্জন স্থানে ফেলে অভিযুক্তরা আমাদের জানায়। যার কথোপকথন আমাদের মোবাইল ফোনে অডিও ভিডিও রেকর্ড রয়েছে।’

    আখি বলেন, ‘বিষয়টি স্থানীয় এনসিপির নেতা-কর্মীদের জানানোর পর এনসিপি শ্রীপুর উপজেলার একটি ফেসবুক পেজ থেকে অভিযুক্তরা তাদের কেউ নয় বলে জানায়। তারা অপরাধী, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নিতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ করেছে। পাশাপাশি তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতার কথা জানিয়েছে।’

    এদিকে, ঘটনার পর অভিযুক্ত আলিফ মোড়ল তার নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্টে অপহরণের কথা স্বীকার করেছেন। পাশাপাশি দুদফা ৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ নিজের মোটরসাইকেল গিয়ে নিয়ে এসেছেন। ১০ হাজার টাকা ভাগ পাওয়ার কথা তুলে ধরেছেন তার ফেসবুক পোস্টে।

    জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির শ্রীপুর উপজেলার আহ্বায়ক প্রার্থী আবু রায়হান মেজবাহ বলেন, ‘অভিযুক্তরা কেউ এনসিপির নেতা নয়। পুলিশে বলা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিতে। ইতিমধ্যে এনসিপি বিষয়টি পরিষ্কার করছে। ৫ তারিখের পর ওরা এসে যোগ দেয়। মিছিলের সামনে এসে ছবি তুলে পোস্ট করলেই নেতা হওয়া যায় না। তারা প্রকৃতপক্ষে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য।

    শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, ভুক্তভোগীর স্ত্রী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে বাদী বা ভিকটিমের ফোন বন্ধ থাকায় এখনো তাদের বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

  • চাঁদে যাওয়ার প্রশিক্ষণ নিলেন প্রথম বাংলাদেশি নারী

    চাঁদে যাওয়ার প্রশিক্ষণ নিলেন প্রথম বাংলাদেশি নারী

    প্রথমবার মহাকাশে পা রাখবেন কোনো এক বাংলাদেশি। এও কী ভাবা যায়! আবার তিনি যদি হন নারী, তাহলে তো বিস্ময়ের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। তেমনি এক বিস্ময় জাগানিয়া নাম রুথবা ইয়াসমিন। না, তিনি এখনও মহাকাশে যাননি। তবে যাওয়ার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এক বুক স্বপ্ন নিয়ে যিনি মহাকাশ ভ্রমণের জন্য তিন দিনের একটি প্রশিক্ষণ নেন। স্পেস নেশন আয়োজিত ‘মুন পাইওনিয়র মিশন’-এর প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন এই বাংলাদেশি পদার্থবিদ ও প্রকৌশলী। গত ১৬ এপ্রিল স্পেস নেশন জানায়, তাদের প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া বেশির ভাগ সদস্যই নারী এবং রুথবা তাদের একজন।

    স্বপ্নপূরণের ঘোষণা : ১৬ এপ্রিল স্পেস নেশন যখন ‘মুন পাইওনিয়র মিশন’-এর সদস্যদের নাম ঘোষণা করে, তখন তা সামাজিক মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করে। মূলত এটি একটি নারীকেন্দ্রিক মহাকাশ মিশন, যেখানে একজন পুরুষ সদস্যও রয়েছেন। এই বিশেষ দলে রয়েছেন রুথবা, যিনি নিজেকে শুধু একজন বাংলাদেশি নারী হিসেবে নয়, বরং এক আন্তর্জাতিক কণ্ঠস্বর হিসেবে মহাকাশে যাওয়ার চেষ্টায় এগিয়ে রয়েছেন। ঘটনাটি যেন আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে, যখন এর ঠিক দুই দিন আগে, ১৪ এপ্রিল, পপ গায়িকা কেটি পেরি ব্লু অরিজিন-এর একটি অল-ফিমেল ক্রু নিয়ে মহাকাশে যাত্রা করেন। দুটি ভিন্ন ঘটনা, একটি অভিন্ন বার্তা- মহাকাশ এখন আর পুরুষদের একচেটিয়া ক্ষেত্র নয়।

    কীভাবে এই যাত্রা শুরু? ঢাকার স্কলাস্টিকা স্কুলে পড়া রুথবা ইয়াসমিন সেই মেয়ে, যার মাথায় ছিল প্রশ্ন আর হৃদয়ে ছিল অজানাকে জানার আকাঙ্ক্ষা। ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের মাউন্ট হোলিওক কলেজ থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক (সাথে গণিতে মাইনর) করেন রুথবা। এরপর কোভিড-১৯ মহামারির সময় বাংলাদেশে ফিরে এসে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে ডেটা সায়েন্সে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। ২০২৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ আলাবামা থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স করে নিজের অধ্যয়নকে আরও বিস্তৃত করেন।

    গবেষণা থেকে মহাকাশ প্রশিক্ষণ : মহাকাশ আবহাওয়া নিয়ে গবেষণাই তাকে মহাকাশযাত্রার প্রশিক্ষণে আগ্রহী করে তোলে। তিনি বিশেষভাবে গবেষণা করেন ‘জিওম্যাগনেটিক স্টর্ম’বা চৌম্বকীয় ঝড় নিয়ে, যা পৃথিবীর আয়নমণ্ডল ও চৌম্বকক্ষেত্রকে প্রভাবিত করে। এখান থেকেই স্বপ্ন দেখেন একজন মহাকাশচারী হওয়ার।

    প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা : রুথবার মুন পাইওনিয়র মিশনে ভূমিকা ছিল EVA (Extra Vehicular Activity) স্পেশালিস্ট হিসেবে। এটি সেই দায়িত্ব, যেখানে তাকে মহাকাশ স্যুট পরে চাঁদের পৃষ্ঠে হাঁটা, রেডিয়েশন প্রতিরোধক ব্যবস্থা নেওয়া এবং চাঁদের মাটি থেকে সম্পদ আহরণের (ISRU – In-Situ Resource Utilization) কাজ করতে হয়। প্রশিক্ষণের সময় ক্রুদের Moon Base এবং Mission Control—দুই দলে ভাগ করা হয়। রুথবা প্রথমে EVA স্পেশালিস্ট হিসেবে Moon Base-এ কাজ করেন এবং পরে Mission Control-এ একজন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে অন্যদের গাইড দেন। একটি লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমে সমস্যার সময় পুরো টিমকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

    মহাকাশে নারীর উপস্থিতি : ‘মাত্র ১১ শতাংশ মহাকাশচারীই নারী’—রুথবা এই পরিসংখ্যানকে হতাশাজনক না ভেবে এক প্রেরণার উৎস হিসেবে দেখেন। তার মতে, এটি পরিবর্তনের সময়। তিনি বলেন, “NASA-এর নারী বিজ্ঞানীরা যেভাবে অ্যাপোলো মিশনে ভূমিকা রেখেছেন, তেমনি ভবিষ্যতের জন্য আরও নারীদের দরকার যারা বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও অনুসন্ধানকারী হিসেবে মহাকাশ জগতে নেতৃত্ব দেবে।”

    মহাকাশে টিকে থাকার চাবিকাঠি : মহাকাশে স্বাস্থ্য রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘুম, পুষ্টিকর হালকা খাবার, পানি পান—এসব নিয়ম মেনে চলতে হয়। সেখানে গোসল হয় না, বরং স্পঞ্জ বাথ, নন-রিন্স শ্যাম্পু এবং পার্সোনাল হাইজিন কিট ব্যবহার করা হয়। রুথবার মতে, মহাকাশে একাকিত্ব কাটাতে ব্যক্তিগত কিছু জিনিস সঙ্গে রাখা, ফিটনেস ট্রেনিং এবং টিম বন্ডিং অপরিহার্য। কঠোর রুটিন, বিশ্রাম ও সামাজিক সংযোগ মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখে।

    ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা : স্পেস নেশন, আর্টেমিস ও লুনার সারফেস অপারেশনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে রুথবা ভবিষ্যতের মিশনের জন্য মানসিকভাবে তৈরি। তিনি গবেষণা, চন্দ্রপৃষ্ঠে নমুনা সংগ্রহ এবং নতুন প্রযুক্তি পরীক্ষার মাধ্যমে অবদান রাখতে চান। তার স্বপ্ন এখন আরও বড়: আমি চাই চাঁদে পা রাখা প্রথম বাংলাদেশি নারী হতে—এটি হবে শুধু আমার জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের এবং বৈশ্বিক মহাকাশ গবেষণার এক ঐতিহাসিক অধ্যায়।

    রুথবার স্বপ্ন নতুনদের অনুপ্রেরণা হতে পারে : রুথবা ইয়াসমিন বলেন, আমি প্রশিক্ষণ থেকে যা শিখেছি, তা আমাকে ভবিষ্যতে মহাকাশ অভিযানে প্রস্তুত করবে। আমি বাংলাদেশের প্রথম নারী হিসেবে চাঁদে পা রাখতে চাই এবং মহাকাশ অনুসন্ধানে একটি ঐতিহাসিক অবদান রাখতে চাই।

  • সিরাজগঞ্জে রবীন্দ্র কাছারি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর, দর্শনার্থীকে মারধর

    সিরাজগঞ্জে রবীন্দ্র কাছারি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর, দর্শনার্থীকে মারধর

    সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র কাছারি বাড়িতে এক দর্শনার্থীকে আটকে মারধরের ঘটনায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

    মঙ্গলবার (১০ জুন) দুপুরে কাছারি বাড়ির অডিটোরিয়াম ও কাস্টোডিয়ানের অফিস কক্ষে দরজা-জানালায় ভাঙচুর চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা।

    স্থানীয়রা জানান, ঈদের দ্বিতীয় দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শহরের রুপপুর মহল্লার প্রবাসী শাহনেওয়াজ হোসেন ও তার স্ত্রী সুইটি খাতুন কাছারিবাড়িতে প্রবেশ করেন।পরবর্তীতে মোটরসাইকেল পার্কিং-এর টিকিট সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টাফদের সঙ্গে শাহনেওয়াজের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে কাস্টোডিয়ান হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্টাফরা শাহনেওয়াজকে আটক করে মারধর করেন।

    এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শাহনেওয়াজ কাস্টোডিয়ান হাবিবুর রহমান, কর্মচারী শরিফুজ্জামান সরকার, সিরাজুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, মুজিবুর রহমান ও আব্দুল মমিনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

    শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আছলাম আলী হামলার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঈদের দ্বিতীয় দিন এক দর্শনার্থীর করা অভিযোগের তদন্ত চলছে। তবে আজ হঠাৎ বিক্ষুব্ধরা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

    উল্লেখ্য, ১৮৪০ সালে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর শাহজাদপুরের জমিদারি কিনে নিলে কাছারিবাড়িটি তাদের মালিকানায় আসে। জমিদারি তদারকিতে মাঝেমধ্যে এই বাড়িতে অবস্থান করতেন রবীন্দ্রনাথ। ১৯৬৯ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বাড়িটিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করে।

  • বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সীমানা চিহ্নিত করা হবে : পরিবেশ উপদেষ্টা

    বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সীমানা চিহ্নিত করা হবে : পরিবেশ উপদেষ্টা

    পানি সম্পদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে পূর্বাচলে বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সীমানা চিহ্নিত করা হবে। এখানে মোটামুটি একটা সতেজ বনই আছে। এখন এ বনের সীমানা চিহ্নিত করা জরুরি এবং দ্রুতই এটা করা হবে। আমরা চেষ্টা করব, প্রধানত শাল গাছের চারা দিয়ে বনটাকে ফিরিয়ে আনা। এই এলাকার যে ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য, এটা একটা গড় এলাকা।

    মঙ্গলবার (১০ জুন) ঢাকায় পূর্বাচলে বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চল পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. ছানাউল্ল্যা পাটওয়ারী, বিশিষ্ট বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ আলী রেজা খান, সামাজিক বন বিভাগ ঢাকা অঞ্চলের বন সংরক্ষক হোসাইন মুহম্মদ নিশাদ, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ঢাকা বিভাগীয় কর্মকর্তা শারমিন আক্তারসহ বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, এটা এমন একটা ফরেস্ট হতে পারে যেটা ঢাকাবাসীরা মনে করবে যে এটা তাদের কাছাকাছি আছে, তারা এসে এটা দেখবে। আমাদের শিল্পায়ন এসব কিছুর কারণে আসলে এখানে শালবনটা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিল। রাজউকের পূর্বাচল দ্বিতীয় পেজের ভিতরে রাজউক এ বনটিকে ঢুকিয়ে ফেলেছিল কিন্তু আমরা বহু কষ্ট করে, আইনি লড়াই করে এই বনটুকুকে বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছি, যা কিনা ১৪৪ একরের মতো হবে।

    রিজওয়ানা হাসান বলেন, এখানে যেটুকু ফাঁকা জায়গা আছে সেখানে আমরা চেষ্টা করব যাতে প্রাকৃতিক উপায়ে যেন শালবনটা ফেরত আসে। এছাড়া এখানে ফাঁকা জায়গাটা যেন বেদখল হতে না পারে সেজন্য প্রাকৃতিক আবহে কিছু শাল গাছের চারা ফাঁকা জায়গাগুলোতে রোপন করা হবে। আর, শালের যে কূল আছে সেখান থেকে যেন আপনিআপনিই বনটা পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

    তিনি আরো বলেন, এই এলাকাটা আগে থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে বন হিসেবে চিহ্নিত করা ছিল। নতুন করে এখন এটাকে বিশেষ জীববৈচিত্র্য এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। বনে জায়গার ভিতরে প্রথাগত বনবাসী না হলে অন্য কারো থাকার কোনো সুযোগ নেই, ফলে এ বনের জায়গার মধ্যে যারা অবৈধ দখলদার আছে তাদেরকে দ্রুতই বনের জায়গা ছেড়ে দিতে হবে।

  • বিশ্বে সন্তান জন্মের হার নজীরবিহীনভাবে কমে গেছে : জাতিসংঘ

    বিশ্বে সন্তান জন্মের হার নজীরবিহীনভাবে কমে গেছে : জাতিসংঘ

    বিশ্বে সন্তান জন্মের হার নজীরবিহীনভাবে কমে গেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে ইউএনএফপিএ সতর্ক করে বলেছে, বিশ্বজুড়ে শত শত কোটি মানুষ এখন চাইলেও ইচ্ছেমতো সন্তান নিতে পারছেন না। এর পেছনে কারণ হিসেবে সংস্থাটি বলছে, সন্তান লালন-পালনের খরচ আর উপযুক্ত সঙ্গীর অভাব।

    ইউএনএফপিএর নির্বাহী পরিচালক ড. নাটালিয়া ক্যানেম বলেন, বিশ্ব এক নজিরবিহীন জন্মহার হ্রাসের দিকে এগোচ্ছে। জরিপে অংশ নেওয়া অধিকাংশ উত্তরদাতা দুটি বা তারচেয়ে বেশি সন্তান চান। কিন্তু তাঁরা মনে করেন, তাঁরা যে পরিবার গড়তে চান, তা তৈরি করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না এবং সেটিই এখন সবচেয়ে বড় সংকট।

    সংস্থাটি মোট ১৪টি দেশে ১৪ হাজার মানুষের ওপর একটি জরিপ চালিয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি পাঁচজনের একজন বলেছেন, তাঁরা তাঁদের ইচ্ছেমতো সন্তান নিতে পারেননি বা ভবিষ্যতেও পারবেন না বলে মনে করেন। এই জরিপে যে ১৪টি দেশের মানুষ অংশ নিয়েছিল—দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ইতালি, হাঙ্গেরি, জার্মানি, সুইডেন, ব্রাজিল, মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নাইজেরিয়া। যে দেশগুলোর মোট জনসংখ্যা বিশ্ব জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ।

    উচ্চ, মধ্যম ও নিম্ন আয়ের এবং উচ্চ ও নিম্ন জন্মহারের দেশ মিলিয়ে এই দেশগুলো থেকে জরিপে অংশ নিয়েছেন তরুণ প্রজনন সক্ষম মানুষ থেকে শুরু করে প্রজনন বয়স পার করে আসা ব্যক্তিরাও।

    জরিপটি মূলত একটি পাইলট স্টাডি ছিল, যার ভিত্তিতে চলতি বছরের শেষের দিকে আরও ৫০টি দেশে বড় পরিসরে গবেষণা চালানো হবে। ফলে এর তথ্য ও তত্ত্ব সীমিত। প্রত্যেক দেশের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা এতই কম যে, সেখান থেকে কোনো সার্বিক সিদ্ধান্ত টানা সম্ভব নয়। তবে এই সীমিত উপাত্ত থেকে উঠে আসা চিত্রও বেশ ভয়াবহ। জরিপে অংশ নেওয়া ৫০ বছরের বেশি বয়সী অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৩১ শতাংশ জানিয়েছে, তারা চেয়েছিল তাদের আরও বেশি সন্তান থাকুক, কিন্তু তা সম্ভব হয়নি।

    সব দেশ মিলিয়ে ৩৯ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা তাঁদের সন্তান নেওয়া থেকে বিরত রেখেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষ এ বিষয়ে বেশি সম্মতি জানিয়েছেন। দেশটির ৫৮ শতাংশ মানুষ সায় দিয়েছেন যে তাঁরা আর্থিক সংকটের কারণে অধিক সন্তান নিতে পারছেন না।

    আর ১২ শতাংশ মানুষ জানান, বন্ধ্যাত্ব বা সন্তান ধারণে বিভিন্ন সমস্যার কারণে তাঁরা সন্তান নিতে পারছে না। তবে কিছু দেশে এই হার তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল—থাইল্যান্ডে ১৯ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ১৬ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৫ শতাংশ, নাইজেরিয়ায় ১৪ শতাংশ ও ভারতে ১৩ শতাংশ। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল আরও একটি বিষয় চিহ্নিত করেছে, যেটি অর্থনৈতিক বাধার চেয়েও বড়—সময় না থাকা।

    হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির জনসংখ্যাবিদ অধ্যাপক স্টুয়ার্ট গিয়েটেল-বাস্তেন বলেন, জাতিসংঘ প্রথমবারের মতো কম জন্মহারের বিষয়ে এত জোরালোভাবে কথা বলছে। এই সংস্থা এত দিন মূলত এমন নারীদের গুরুত্ব দিত, যাঁদের প্রয়োজনের চেয়েও বেশি সন্তান ছিল এবং যাঁদের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি অবলম্বন করার দরকার। আমরা চাই এসব দেশ যেন আতঙ্কিত হয়ে ভুল নীতিনির্ধারণ না করে। আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি, কম প্রজনন হার, জনসংখ্যার বার্ধক্য ও স্থবিরতা—এসবকে জাতীয়তাবাদী, অভিবাসনবিরোধী ও লিঙ্গ রক্ষণশীল নীতির অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

    তবে জন্মহারের বাড়া-কমা নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে ইউএনএফপিএ। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক নাটালিয়া বলেন, আমরা এখন যেটা দেখতে পাচ্ছি, তা হলো—অতিরিক্ত জনসংখ্যা বা জনসংখ্যা হ্রাস—দুটি নিয়েই অতিরঞ্জিত বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। মানুষের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ৪০ বছর আগেও চীন, কোরিয়া, জাপান, থাইল্যান্ড ও তুরস্ক মনে করত তাদের জনসংখ্যা অতিরিক্ত। কিন্তু ২০১৫ সালের মধ্যে এসব দেশ প্রজনন হার বাড়াতে চাইল।