Category: খবর

  • ছাত্রদল নেত্রী ইপ্সিতাকে হত্যা করল কে?

    ছাত্রদল নেত্রী ইপ্সিতাকে হত্যা করল কে?

    ভোলা সরকারি কলেজের ছাত্রদল নেত্রী সুকর্ণা আক্তার ইপ্সিতার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত ১৭ জুন লঞ্চযোগে ঢাকায় যাওয়ার পথে ইপ্সিতা লঞ্চের তৃতীয় তলা থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন। এর ৪ দিন পর ২০ জুন লক্ষ্মীপুরসংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

    ইপ্সিতার পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ, ইপ্সিতা লঞ্চে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। পরে তাকে লঞ্চ থেকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
    জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ইপ্সিতাকে এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী সমর্থকরা সরাসরি হুমকি প্রদান করেছে বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রদল। সোমবার এ অভিযোগ তুলে এক বিবৃতিতে ছাত্রদল জানায়, ইপ্সিতার মৃত্যুর পরেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের উল্লাস লক্ষণীয়। সে ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারকে অবশ্যই এই হত্যাকাণ্ডের অন্তরালের প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও খুনীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে ছাত্রদল নেত্রী ইপ্সিতার আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার শোকসন্তপ্ত পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনার উন্মোচন ও হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ছাত্রদল।

    ইস্পিতার বাবা জানান, তার মেয়ে বাড়ি থেকে টিউশনি করতে যাওয়ার কথা বলে বের হয়। এরপর লঞ্চে এক তরুণীর নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার খবর পেয়ে তিনি কর্ণফুলী লঞ্চের ভোলা অফিসে যান। সেখানে ছবির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, ঝাঁপ দেওয়া তরুণীই তার মেয়ে। তিনি বলেন, মেয়েটি ‘জসিম’ নামে এক ব্যক্তির নামে বুকিং দেওয়া কেবিনে উঠেছিল। ভাড়া চাইলে সে জানায়, বুকিং দেওয়া ব্যক্তি পরিশোধ করবে। এরপর মোবাইল ফোনে কারও সঙ্গে উত্তেজিতভাবে কথা বলার পরই সে নদীতে ঝাঁপ দেয়।

    মাসুদ রানা অভিযোগ করেন, ‘আমার মেয়ে কেন ঢাকাগামী লঞ্চে উঠল, তা তদন্তে বের করা দরকার। প্রশাসন মোবাইল ট্র্যাকিং ও কললিস্ট বিশ্লেষণ করলেই বিস্তারিত জানা যাবে। কেউ তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে থাকলে, বা হত্যা করে থাকলে তার বিচার চাই।’

    কর্ণফুলী-৪ লঞ্চের সুপারভাইজার নান্টু বাবু জানান, ইলিশা ঘাট ছাড়ার পর কালিগঞ্জ অতিক্রম করে কিছু দূর গেলে খবর আসে এক তরুণী তৃতীয় তলা থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। লঞ্চ ফিরে গিয়ে উদ্ধারচেষ্টা চালায়। একবার তরুণীকে নদীতে ভাসতে দেখা গেলেও কাছে যাওয়ার আগেই সে চোখের আড়াল হয়ে যায়। কোস্টগার্ডকে জানিয়ে লঞ্চ আবার ঢাকার পথে রওনা দেয়।

    ব্রাদার্স নেভিগেশন কম্পানির ব্যবস্থাপক আলাউদ্দিন জানান, ঘটনার পর লঞ্চে থাকা অন্য এক নারী ৯৯৯-এ ফোন করে জানান, ওই তরুণী ধর্ষণের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পরে মুন্সিগঞ্জে লঞ্চটি পৌঁছালে পুলিশ দুইজন স্টাফ ও অভিযোগকারী নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়। প্রাথমিকভাবে তাদের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    লক্ষ্মীপুর মজুচৌধুরী ঘাট নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. আজিজুল হক জানান, উদ্ধারের সময় মরদেহে কালচে দাগ ছিল। নিহতের বাবা বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

    লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল মোন্নাফ বলেন, নৌ-পুলিশের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন।

  • এইচএসসি কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে প্রবেশ নিষিদ্ধ: ডিএমপি

    এইচএসসি কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে প্রবেশ নিষিদ্ধ: ডিএমপি

    সারাদেশে একযোগে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামী বৃহস্পতিবার (২৬ জুন)। ঢাকা মহানগরীর কেন্দ্রগুলোতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। নিষেধাজ্ঞায় পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ছাড়া জনসাধারণের প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

    সোমবার (২৩ জুন) ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এ আদেশ আগামী ২৬ জুন থেকে শুরু হয়ে পরীক্ষা চলাকালীন দিনগুলোতে বলবৎ থাকবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের এইচএসসি, এইচএসসি (ভোকেশনাল), এইচএসসি (বিএম/বিএমটি), ডিপ্লোমা ইন কমার্স ও আলিম পরীক্ষা আগামী ২৬/০৬/২০২৫ তারিখ হতে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। যেহেতু পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া নিশ্চিত করা প্রয়োজন, সেহেতু আমি নিম্নস্বাক্ষরকারী ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স (অর্ডিন্যান্স নং-III/১৯৭৬) এর ২৮ ও ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে পরীক্ষা কেন্দ্রসমূহের ২০০ (দুইশত) গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী এবং পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ব্যতীত জনসাধারণের অনধিকার প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করছি।

    চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ফরম পূরণ করেছেন ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন পরীক্ষার্থী।

    বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্যমতে, এবার মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ১৮ হাজার ১৫ জন ও ছাত্রী ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬ জন।

  • শাবির ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় দুই যুবকের ৪ দিনের রিমান্ড

    শাবির ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় দুই যুবকের ৪ দিনের রিমান্ড

    সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই শিক্ষার্থীর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

    সোমবার (২৩ জুন) দুপুরে অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক হারুন রশিদ এ আদেশ দেন। রিমান্ড শুনানিকালে দুই আসামি আদনান ও স্বাগত দাস পার্থ উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি সিলেট ভয়েসকে নিশ্চিত করেছেন কতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক।

    এর আগে, রোববার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) মুহাম্মদ শামছুল হাবিব আসামিদের পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    উল্লেখ্য, ঈদের পূর্বে সিলেটের রিকাবীবাজারে একটি কনসার্টে যাওয়ার পূর্বে অচেতন করে সহপাঠী কর্তৃক ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলে গত বৃহস্পতিবার (১৯মে) অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। এতে অভিযোগ তুলেন সহপাঠী ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত তারা আদনান ও স্বাগত দাস পার্থের বিরূদ্ধে। শুধু যৌন নির্যাতন নয়, তা ভিডিও ধারণ করে নিয়মিত অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীকে ব্লাকমেইল করছিলো বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

    এ ঘটনায় প্রাথমিক সত‍্যতা পাওয়ায় ১৯ মে রাতেই দুইজনকে আটক করে পুলিশ। পরে ২০ জুন সিলেট কোতোয়ালী থানায় আটক ২ জন ও অজ্ঞাতসহ ৫ জনের বিরূদ্ধে মামলা মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী।

  • ‘জুলাই শহীদ’ ও ‘জুলাই যোদ্ধা’র স্বীকৃতি দিয়ে অধ্যাদেশ জারি

    ‘জুলাই শহীদ’ ও ‘জুলাই যোদ্ধা’র স্বীকৃতি দিয়ে অধ্যাদেশ জারি

    ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছে সরকার। অধ্যাদেশে আহতদের তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানে শহীদ এবং আহত ব্যক্তিদের যথাক্রমে ‘জুলাই শহীদ’ এবং ‘জুলাই যোদ্ধা’র স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৭ জুন) এ অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

    প্রতারণার মাধ্যমে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং আহতদের দেওয়া সুযোগ-সুবিধা নিলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই লাখ টাকা জরিমানা বা নেওয়া আর্থিক সহায়তার দ্বিগুণ পরিমাণ অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে অধ্যাদেশে।

    অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো ব্যক্তি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য বা যে কোনো শ্রেণির আহত জুলাই যোদ্ধা না হওয়া সত্ত্বেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা জ্ঞাতসারে কোনো মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য প্রদান বা তথ্য গোপন করে বা বিভ্রান্তিকর কাগজাদি দাখিল করে নিজেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য বা আহত জুলাই যোদ্ধা দাবি করে কোনো চিকিৎসা সুবিধা বা আর্থিক সহায়তা বা পুনর্বাসন সুবিধা দাবি করেন বা গ্রহণ করেন- তাহলে তিনি অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে তাকে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা জরিমানা বা নেওয়া সুবিধা বা আর্থিক সহায়তার দ্বিগুণ পরিমাণ জরিমানা দিতে হবে।’

    পুনর্বাসনের বিষয়ে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে শহীদ হয়েছেন এমন ব্যক্তির পরিবারের এক বা একাধিক সদস্য এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের অনুকূলে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। এসব কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে- শিক্ষা বা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি; তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক উপার্জনমুখী কাজের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা; যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা; আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সহজ শর্তে ঋণ বা এমন সুবিধাদি প্রদান এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান।

  • সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে ৯৪% পথশিশু: কারিতাসের গবেষণা

    সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে ৯৪% পথশিশু: কারিতাসের গবেষণা

    দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রায় ৯১ শতাংশ সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে রয়েছেন। এই জনগোষ্ঠী চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিনযাপন করছে এবং জীবিকার তাগিদে তাদের শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিযুক্ত করছেন। এছাড়া, সরকার দেশের সুবিধাবঞ্চিত ও পথ শিশুদের জন্য হাতেগোনা কয়েকটি কর্মসূচী গ্রহণ করলেও পথশিশুদেরও প্রায় ৯৪ শতাংশ সরকারের কোনরকমের সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। পথে বেড়ে উঠা শিশুদের ৫৮ শতাংশেরই জন্ম সনদ নেই যার ফলে তারা শিক্ষার অধিকারসহ সরকার বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন বলে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কারিতাস বাংলাদেশ এর এক জরিপে উঠে এসেছে।

    মঙ্গলবার (১৭ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে কারিতাস বাংলাদেশ আয়োজিত মিডিয়া পরামর্শ সভায় জরিপের ফলাফল তুলে ধরা হয়। ঢাকা, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী শহরের ৬৬৭ জন পথশিশু ও বস্তি এলাকায় বসবাসরত ১,২৪৬ টি পরিবারের ওপর জরিপ পরিচালিত হয়।

    কারিতাস বাংলাদেশের এডভোকেসি অফিসার রবিউল আলম জরিপের ফলাফল তুলে ধরে বলেন, জরিপে অংশগ্রহণকারী পথশিশুদের ৫৮.২ শতাংশ (৩৮৮ জন) শিশুর জন্মসনদ নেই। জন্মসনদ না থাকা এইসব শিশুদের ৭১.৪ শতাংশ নিজের পিতামাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর জানে না। যার ফলে জন্ম নিবন্ধন করতে তারা নানা সমস্যার মধ্যে পড়ছেন। জরিপের পথশিশুদের শিক্ষার বিষয়েও হতাশাজনক চিত্র উঠে আসে। জরিপে অংশ নেওয়া মোট শিশুদের মধ্যে ৫১.৬ শতাংশ বর্তমানে স্কুল/মাদ্রাসায় পড়ছে না। সরকারে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে অংশগ্রহণকারী শিশুর সংখ্যা মাত্র ৫.৭ শতাংশ (৩৮-জন); বাকি প্রায় ৯৪.৩ শতাংশ পথশিশু সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে রয়েছেন।

    সমীক্ষায় অংশ নেওয়া বস্তি এলাকায় বসবাসরত ১,২৪৬টি পরিবারের মধ্যে ৯২.৭ শতাংশ পরিবার নিম্নবিত্ত শ্রেণির (১২,৫০০ টাকার নিচে আয়), এবা এসব পরিবারের ৯১.৭ শতাংশ কোনো সরকারি সুরক্ষা সুবিধা পায়নি। এসব পরিবারগুলোর মধ্যে ৩৮.১ শতাংশে পথশিশু হয়ে যায়। বস্তি এলাকায় বসবাসরত ৪৪.৪ শতাংশ পরিবারের সব শিশুদের জন্মসনদ থাকলেও ৩২.৯ শতাংশ পরিবারের কোনো শিশুরই জন্মসনদ নেই বলে জরিপে উঠে আসে।

    সভায় পথশিশুদের প্রতিনিধিরা হিসেবে তারা নিজেদের জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রতিদিনের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।

    তারা বলেন, ‘আমরা সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া ও অবহেলিত অংশ। আমাদের খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আমরা নানা সময়ে হয়রানি ও সহিংসতার শিকার হই। সরকার যদি আমাদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ না করে, তবে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। আমরা চাই-ভাতার আওতায় আমাদের অন্তর্ভুক্তি, জন্মসনদ প্রদান, নিরাপদ আশ্রয়, মানসম্মত শিক্ষা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা।’

    রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে আসা এক পথশিশু বলেন, মা-বাবা মারামারি করতো। খাবার পেতাম না। এক পর্যায়ে মা-বাবা ডিভোর্স হয়ে গেলে অসহায় হয়ে পড়ি। এখন আমাদের একটাই দাবি, জন্ম সনদ চাই। সরকারের সুযোগ সুবিধা চাই।

    সভায় কারিতাস বাংলাদেশ পক্ষে সংস্থার পরিচালক (কর্মসূচী) দাউদ জীবন দাশ সরকার ও বেসরকারি সংস্থার প্রতি কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরে বলেন, পিতামাতাহীন শিশুদের জন্ম নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজকরণ এবং প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ওয়ার্ড ভিত্তিক ক্যাম্পেইন চালিয়ে শতভাগ জন্ম নিবন্ধন নিশ্চিতকরণ; শিশু জন্মের পরপরই হাসপাতাল/কমিউনিটি ক্লিনিকে জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন করার ব্যাবস্থা চালু করা; পথশিশুদের রাস্তা থেকে ফেরাতে বিশেষ কর্মসূচি চালু করা, যার মধ্যে শর্তযুক্ত ভাতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে যাতে পরিবার শিশুর জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখে; শিশুশ্রম বন্ধ এবং শিশুশ্রম ও অন্যান্য কারণে ঝরে পড়া শিশুদের শনাক্ত করে তাদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা; পথশিশুদের শিক্ষা গ্রহনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা যাতে করে এসব শিশুরা বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে শিক্ষা চলমান। রাখে, দারিদ্র্য জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা ভাতার পরিমাণ বাস্তবসম্মতভাবে বৃদ্ধি করা ও আবেদন প্রক্রিয়া সহজকরণ।

    দাউদ জীবন দাশ বলেন, সরকারের নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় যে অল্পসংখ্যক পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী আছেন তারা যে ভাতা পাচ্ছেন তা খুবই নগণ্য। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় মাসিক ৫০০-৬৫০ টাকা ভাতা কখনো বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী নয়। অন্যদিকে পথ ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচীও হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি। দেশে যে পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা রয়েছেন তাদের ভালোমন্দ দেখার দায়িত্ব পরিবার ও রাষ্ট্রের। আমরা যদি এসব শিশুদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে ব্যার্থ হয়ে যাই তাহলে রাষ্ট্র হিসেবে আমরা অনেকাংশেই পিছিয়ে যাব। তাই তাদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে অবিলম্বে সরকারসহ আমাদের সবার নজর দিতে হবে।

    সভায় অন্যান্যের মধ্যে, কারিতাস বাংলাদেশ এর এসডব্লিউভিসি সেক্টরের ইনচা সেক্টরের ইনচার্জ চন্দ্র মনি চাকমা, প্রোগ্রাম অফিসার কুসুম গ্রেগরি, অসীম ক্রুজ ও বারাকার প্রোগ্রাম অফিসার আশ্বনী প্রিন্স গমেজসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, পথশিশুদের প্রতিনিধি, অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • মারা গেছেন ৫ রাজাকারকে কুপিয়ে হত্যা করা মুক্তিযোদ্ধা সখিনা

    মারা গেছেন ৫ রাজাকারকে কুপিয়ে হত্যা করা মুক্তিযোদ্ধা সখিনা

    কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার নারী মুক্তিযোদ্ধা সখিনা বেগম (৯৩) মারা গেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় যেসব নারী সাহসিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম সখিনা বেগম। ১৯৭১ সালে দা দিয়ে কুপিয়ে পাঁচ রাজাকারকে হত্যা করেন তিনি। তার এই সাহসিকতার কথা এখনও স্থানীয়দের মুখে মুখে।

    মঙ্গলবার (১৭ জুন) ভোরে বাজিতপুর উপজেলার হিলচিয়া ইউনিয়নের বড়মাইপাড়া গ্রামে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

    মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হিলচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাজহারুল হক নাহিদ।

    জানা যায়, কিশোরগঞ্জের হাওর অধ্যুষিত নিকলী উপজেলার গুরুই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সখিনা বেগম। তার বাবার নাম সোনাফর মিয়া এবং মায়ের নাম দুঃখী বিবি। সখিনা নিঃসন্তান। মুক্তিযুদ্ধের আগেই মারা যান স্বামী কিতাব আলী। নিকলীতে সখিনাকে দেখভাল করার কেউ না থাকায় তিনি বাজিতপুর উপজেলার হিলচিয়ার বড়মাইপাড়া গ্রামে ভাগ্নি ফাইরুন্নেছা আক্তারের কাছে থাকতেন। সেখানেই মঙ্গলবার ভোরে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

    হিলচিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নিয়াজ মামনুন রহমান পুটন বলেন, সখিনা বেগম বড়মাইপাড়া গ্রামে প্রায় ৪০ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। মঙ্গলবার ভোর ৫টার সময় তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। আমাদের বাড়ির পাশে তার বসবাস থাকায় ছোটকাল থেকেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বলতেন। তিনি খেতাবপ্রাপ্ত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।

    নিকলী উপজেলার গুরুই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. তোতা মিয়া বলেন, গুরুই গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা সখিনা বেগমকে দেখভাল করার জন্য কেউ না থাকায় তিনি বাজিতপুর হিলচিয়া ভাগ্নির কাছে থাকতেন। সেখানে মারা গেছেন। মঙ্গলবার আসর নামাজ বাদ গুরুই ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে সখিনা বেগমের গ্রামে শাহী মসজিদের পাশে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

    উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে সখিনা বেগম নেমে পড়েন সশস্র যুদ্ধে। মুক্তিযুদ্ধে সখিনা বেগমের ভাগ্নে মতিউর রহমান সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিয়ে হানাদার পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকারদের হাতে শহীদ হোন। ভাগ্নের অকালমৃত্যু সখিনাকে প্রতিশোধপরায়ণ করে তোলে।

    মুক্তিযুদ্ধের সময় সখিনা বেগম গুরুই এলাকায় বসু বাহিনীর নেতৃত্বাধীন মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে রাঁধুনির কাজ করতেন। কাজের ফাঁকে রাজাকারদের গতিবিধির বিভিন্ন খবর সংগ্রহ করে মুক্তিযোদ্ধাদের জানাতেন।

    একপর্যায়ে তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। পরে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে আসেন। আসার সময় সেখান থেকে নিয়ে আসেন একটি ধারালো দা। পরে সেই দা দিয়েই নিকলীর পাঁচ রাজাকারকে কুপিয়ে হত্যা করেন। সখিনা বেগমের ওই দা বর্তমানে ঢাকায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।

  • জুলাইয়ের মধ্যেই জাতীয় সনদ চূড়ান্ত করা যাবে: আলী রীয়াজ

    জুলাইয়ের মধ্যেই জাতীয় সনদ চূড়ান্ত করা যাবে: আলী রীয়াজ

    জাতীয় ঐকমত্য গঠনের লক্ষ্যে জুলাই মাসের মধ্যেই একটি জাতীয় সনদ তৈরি করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ।

    মঙ্গলবার (১৭ জুন) দুপুরে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে কমিশনের দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনায় এ কথা জানান তিনি।

    আলী রীয়াজ বলেন, ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, জুলাই মাসের মধ্যেই জাতীয় সনদ তৈরি করা সম্ভব হবে। এ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যেভাবে সহযোগিতা করছে, তাদের প্রতি আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।

    আলী রীয়াজ বলেন, ‘আমরা আশা করছি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে, আমাদের পক্ষে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। আমরা চেষ্টা করছি সমস্ত বিষয়গুলোতে আমরা সবাই একমত না হলেও সামগ্রিকভাবে বিভিন্ন বিষয়ে মতে আসতে পারি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘সমস্ত বিষয়ে আমরা হয়তো একমত হতে পারব না। তবে জাতি ও রাষ্ট্রের স্বার্থে অন্তত কিছু বিষয়ে এক জায়গায় আসতে পারলে সেটাই হবে আমাদের অর্জন।’

    আলোচনায় অংশ নিয়েছেন বিএনপি, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, নাগরিক ঐক্য, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলনসহ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা। তবে অংশ নিতে দেখা যায়নি জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতাকে।

    জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে উপস্থিত রয়েছেন আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী, সফররাজ হোসেন, বদিউল আলম মজুমদার, ইফতেখারুজ্জামান প্রমুখ।

  • চক্ষুবিজ্ঞানে বিশৃঙ্খলা: প্রকৃত আহতরা ফেরারি

    চক্ষুবিজ্ঞানে বিশৃঙ্খলা: প্রকৃত আহতরা ফেরারি

    জুলাই আন্দোলনে চোখে গুলিবিদ্ধ হয়ে রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে। এরই মধ্যে আহতদের অনেকেই চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন। অনেকে সুস্থ হলেও বাড়ি না ফিরে হাসপাতালে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। নানা ঘটনা প্রবাহে ঈদুল আজহার আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সবাইকে বাড়ি ফেরার পরামর্শ দেয়। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সবাই বাড়ি ফিরে যায়। কিন্তু ঈদ শেষে আবার তারা হাসপাতালে আসলে পূর্বের বিশৃঙ্খলার জন্য কর্তৃপক্ষ আর তাদের হাসপাতালে রাখতে অস্বীকৃতি জানায়। খবর দৈনিক মানবজমিনের। 

    কর্তৃপক্ষ জানায়, ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা শেষ হওয়ায় গত ৪ঠা আগস্ট অনেককে ছাড়পত্র দেয়া হয়। কিন্তু তারা সেটি ছিঁড়ে ফেলে হাসপাতালে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। ঈদের পর সবাই একসঙ্গে হাসপাতালে ঢুকতে চাইলে তাদের বাধা দেয়া হয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রকৃত আহতরাও ভোগান্তিতে পড়ছেন। যাদের পলাতক উল্লেখ করে হাসপাতালে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে প্রকৃত আহতদের ৮ জন গতকাল জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের দ্বারস্থ হন। ফাউন্ডেশন থেকে দুইজনকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তির পরামর্র্শ দেয়া হয়। বাকি ছয় জনকে ৫০০ টাকা করে দিয়ে বাড়িতে ফেরার পরামর্শ দেন ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কামাল আকবর।

    জুলাই আন্দোলনে হবিগঞ্জ মডেল থানার সামনে ১৮ই জুলাই গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় মো. রিমন মিয়া। আহতের পর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে গত বছরের ২০শে জুলাই চক্ষুবিজ্ঞান হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখান থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেন। পরবর্তীতে আবার সমস্যা হলে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা নেন তিনি। গত ২৯শে এপ্রিল রিমন চক্ষুবিজ্ঞান হাসপাতালে আবার ভর্তি হন। চিকিৎসকরা জানায়, একটি চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বল বসাতে হবে। কিন্তু ২৮শে মে হাসপাতালটির কর্মচারীদের সঙ্গে রোগীদের স্বজন ও জুলাই আন্দোলনে আহতদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এই ঘটনার পর হাসপাতালের সবধরনের সেবা বন্ধ হয়ে যায়। ঈদ শেষে ১২ই জুন আবার হাসপাতালে ঢুকতে চাইলে বাধাপ্রাপ্ত হন রিমন।

    তিনি বলেন, হাসপাতালে ঢুকতে না পেরে আমি দুই দিন হোটেলে থেকেছি। পূর্বে আমি যেহেতু পিজি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলাম তাই শুক্রবার রাতে হাসপাতালটিতে যাই থাকার জন্য। কিন্তু সকালে আমাকে আনসার সদস্যরা হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়। তিনি বলেন, আমার কাছে আর কোনো টাকা নেই। সারাদিন কিছু খাইনি। ঢাকা থেকে বাড়িতে যাওয়ার টাকাও নেই। উপায় না পেয়ে আমরা কয়েকজন আহত জুলাই ফাউন্ডেশনে আসি। আমাদের দুইজনের চোখের অবস্থা দেখে সিইও স্যার আমাদের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তির জন্য যাওয়ার পরামর্শ দেন। রিমন বলেন, আমরা জুলাই আন্দোলনে প্রকৃত আহত। অথচ চিকিৎসার জন্য আমাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে।

    রানা হোসেন নামে আরেক আহত বলেন, জুলাই আন্দোলনে চোখে গুলিবিদ্ধ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছি। পরে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভর্তি হই। ঈদের আগে আমাকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। হাসপাতালের পরিচালক প্রফেসর ডা. খায়ের আহমেদ চৌধুরী ঈদের আগে বোর্ড বসিয়ে সিদ্ধান্ত দেয় যে, আহতরা ঈদে বাড়িতে যেতে পারবে। ঈদের পরে আবার পুনরায় ভর্তি হয়ে চিকিৎসাসেবা নিবে। কিন্তু কয়েকটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে হাসপাতালের চিকিৎসকসহ সবাই হাসপাতালে আসে না। পরে আমি কোনো ছাড়পত্র না নিয়েই ময়মনসিংহে যাই। কিন্তু চোখে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে মঙ্গলবার হাসপাতালে আসলে আমাকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। আমি উত্তরায় আরেক জুলাই যোদ্ধার বাসায় আশ্রয় নিয়ে চিকিৎসার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। জুলাই ফাউন্ডেশনে আসলে ৫০০ টাকা দিয়ে আমাকে বাড়িতে চলে যেতে বলা হয়। তিনি বলেন, চোখে প্রচণ্ড ব্যথায় আমি রাতে ঘুমাতে পারি না। আমার চক্ষু পরোপুরি বাতিল হওয়ার পথে। আমাদের চিকিৎসার কাগজপত্র ও ফাইল হাসপাতাল আটকে রেখেছে। যাযাবরের মতো ঢাকা শহরে ঘুরে বেড়াচ্ছি। কী করবো কিছুই বুঝতে পারছি না।

    ইমরান হোসেন নামে আরেক আহত বলেন, হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জানে আলমের পরামর্শে ঈদে বাড়িতে যাই। কিন্তু ঈদের পরে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে এসে দেখি কোনো চিকিৎসক নেই। একটু পরে দুইজন আহত বাইরে যায় ওষুধ আনতে। কিন্তু তারা যখন হাসপাতালে ঢুকতে যায় তাদের আর ঢুকতে দেয়া হয়নি।

    পুলিশ বাধা দিয়ে বলে, জানে আলম স্যারের নির্দেশ যারা ঈদে বাড়িতে গেছে তারা আর হাসপাতালে ঢুকতে পারবে না। তারা সবাই পলাতক হিসেবে গণ্য হবে। গতকাল পুলিশ আমাকে জোর করে হাসপাতাল থেকে বের করে দিয়েছে। তিনি বলেন, আমাকে কোনো ছাড়পত্র দেয়া হয়নি। আমার কোনো চিকিৎসা লাগলে সিএমএইচ কিংবা ইস্পাহানী হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কিন্তু জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনে আসলে আমাদের সবার হাতে ৫০০ টাকা করে দিয়ে বাড়ি ফিরতে বলা হয়।

  • দুদকের মামলায় কারাগারে যবিপ্রবির সাবেক ভিসি অধ্যাপক সাত্তার

    দুদকের মামলায় কারাগারে যবিপ্রবির সাবেক ভিসি অধ্যাপক সাত্তার

    দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. আব্দুস সাত্তারকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

    সোমবার (১৬ জুন) দুপুরে যশোরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে তিনি আত্মসমার্পন করে জামিনের আবেদন করলে বিচারক শেখ নাজমুল আলম জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অধ্যাপক সাত্তার দুদকের করা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের মামলার আসামি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল।

    এই মামলার অপর দুই আসামি হলেন— যবিপ্রবির উপ-পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) আব্দুর রউফ ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাবেক উপ-উপাচার্য ড. কামাল উদ্দিন।

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, অবৈধভাবে নিয়োগ এবং সরকারি ৬১ লাখ ৩১ হাজার ৭৩২ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৩ সালের ২১ আগস্ট প্রফেসর ড. আব্দুস সাত্তারসহ ৩ আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদক যশোরের তৎকালীন উপপরিচালক আল-আমিন। মামলার তদন্ত শেষে উল্লিখিতদের অভিযুক্ত ৩ জনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি আদালতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক। আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

    পরবর্তীতে তাদের মধ্যে দুই আসামি আব্দুর রউফ ও ড. কামাল উদ্দিন জামিনে মুক্তি পান। আজ সাবেক ভিসি আদালতে আত্মসমার্পন করে জামিনের আবেদন করলে তা বাতিল হয় ও তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

    মামলা সূত্রে জানা গেছে, যবিপ্রবিতে ২০০৯ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে আবেদন করেন আসামি আব্দুর রউফ। নিয়োগের জন্য গঠিত তিন সদস্য বিশিষ্ট বাছাই বোর্ডের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন উপাচার্য প্র. ড. আব্দুস সাত্তার। বাছাই বোর্ডের আরেক সদস্য ছিলেন ইবির উপ উপাচার্য ড. কামাল উদ্দিন। একই বছরের ২২ আগস্ট মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। এ সময় আরও তিন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। কিন্তু কাউকে পাস করানো হয়নি। বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে আব্দুর রউফের কোনো পূর্ব-অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও বাছাই বোর্ড অবৈধভাবে তাকে প্রথমে সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে সেকশন অফিসার (গ্রেড-১, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

    তথ্যমতে, রিজেন্ট বোর্ড সভাপতি হিসেবে সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. আব্দুস সাত্তার উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই তাকে সেকশন অফিসার হিসেবে নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। আব্দুর রউফ সেকশন অফিসার পদে অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে কর্মরত থাকা অবস্থায় সিলেকশন গ্রেডসহ বিভিন্ন সুবিধাপ্রাপ্ত হয়ে বিভাগীয় প্রার্থীর সুবিধা নিয়ে ২০১৪ সালে সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে এবং ২০২১ সালে উপপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত।

    অবৈধ নিয়োগের কারণে ২০০৯ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত তিনি বেতন-ভাতা বাবদ মোট ৬১ লাখ ৩১ হাজার ৭৩২ টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে বাদী মামলায় উল্লেখ করেন।

    প্রসঙ্গত, অবৈধভাবে শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) সাবেক দুই ভিসি আব্দুস সাত্তার ও আনোয়ার হোসেনসহ চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা চলমান রয়েছে।

  • একটি ক্ষেপণাস্ত্র, একটি জীবনের সমাপ্তি

    একটি ক্ষেপণাস্ত্র, একটি জীবনের সমাপ্তি

    ‘আমি পুড়ে যাই,
    আমি বিবর্ণ হয়ে যাই,
    আমি এক নীরব তারা হয়ে উঠি,
    যে তোমার আকাশে ধোঁয়া হয়ে যায়…’

    নিজের নোট বইয়ে ইরানের তরুণ কবি পারনিয়া আব্বাসির লেখা শেষ কয়েকটি পঙতি। আর ক’দিন পরেই নিজের ২৪তম জন্মদিন পালন করতেন তিনি। কিন্তু ইসরাইলের এক হামলায় ২৩-এই থেমে গেছে তার কলম। গত শুক্রবার ভোরে তেহরানে পারনিয়ার পরিবারের সব সদস্য নিহত হয়েছেন।

    পারনিয়ার বান্ধবী মরিয়ম জানান, ক্ষেপণাস্ত্রটি পারনিয়াদের ভবনের ঠিক মাঝখানে আঘাত হানে। যে কারণে ভবনের পুরো একটি অংশ ধসে পড়ে, ভবনের আরও বেশ কয়েকজন বাসিন্দা নিহত হয়েছেন।

    প্রিয় বান্ধবীর এমন মৃত্যুতে মরিয়ম বাকরুদ্ধ। কান্নাজড়ানো গলায় মরিয়ম জানান, ‘সে সবই ছিল। একজন কবি, একজন শিক্ষক ও একজন কন্যা। মাত্র কয়েক দিন আগে ব্যবস্থাপনায় স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল। ইরানের মেল্লি ব্যাংকের কেন্দ্রীয় শাখায় নিজের চাকরি ধরে রাখতে সে ভর্তি স্থগিত রেখেছিল।’

    পারনিয়াদের ধসে পড়া ভবনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোড়ন তুলেছে। ওই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একটি গোলাপি রঙের ম্যাট্রেস, সেটির এক প্রান্ত রক্তে ভেসে যাচ্ছে, রক্তের ওপর কয়েক গোছা চুল, যেন কংক্রিটের চাদর মুড়ি দিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে কেউ।

    ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে সবার প্রথমে পারনিয়ার মৃতদেহ বের করে আনেন উদ্ধারকর্মীরা। এরপর আনা হয় তার ভাই পারহামের মৃতদেহ, ১৬ বছরের এ কিশোরের জীবন সবে শুরু হয়েছিল।

    পারনিয়ার বাবা অবসরে যাওয়া শিক্ষাকর্মী আর মা মেল্লি ব্যাংকের সাবেক কর্মীর মৃতদেহ তখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। কয়েক ঘণ্টা পর ভারী যন্ত্রপাতি এনে কংক্রিটের স্তূপ সরিয়ে তাদের মৃতদেহ বের করা হয়।

    মুখে শুধু সামরিক ও পরমাণু স্থাপনায় হামলার কথা বললেও আদতে ফিলিস্তিন, লেবানন, ইয়েমেনের মতো ইরানেও নিরপরাধ সাধারণ মানুষের ওপরই হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল। তাদের হাতে ফিলিস্তিনের পাঁচ বছরের শিশু হিন্দ রাজাবের ছোট্ট শরীর যেমন গুলিতে ঝাঁঝরা হয়েছিল, তেমনি তরুণ পারনিয়ার কবিতার নোট বইও রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে।