এই বিশ্ব সংস্থার সংস্কার এবং নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার স্থায়ী প্রতিনিধিত্বের পক্ষে জোরালো অবস্থান তুলে ধরেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, আফ্রিকাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে আনতে হবে। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চলতি অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হয়েছে। এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর অধিবেশনের উদ্বোধনী সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
খলিলুর রহমান বলেন, জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক সদস্যগোষ্ঠী আফ্রিকা। একই সঙ্গে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা কার্যক্রমেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। অথচ নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার কোনো স্থায়ী আসন নেই। আফ্রিকার প্রতিনিধিত্বের দাবি কোনো করুণা নয়; এটি ন্যায়বিচার ও জাতিসংঘের গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন। নিরাপত্তা পরিষদকে আরও স্বচ্ছ ও প্রতিনিধিত্বশীল করার পাশাপাশি বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার উপযোগী করার ওপর জোর দেন তিনি। এ বিষয়ে সাধারণ পরিষদের আন্তসরকারি আলোচনা প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন জানান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি। জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনতে তিনটি বিষয়ে ড. খলিলুর রহমান বলেন—নিজেদের ব্যর্থতা সম্পর্কে স্পষ্ট ও বাস্তববাদী হওয়া, সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং সুশীল সমাজ ও বিজ্ঞানীদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করা।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অগ্রগতি যখন থমকে গেছে, তখন উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়া এবং সামরিক ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। এক বছরে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং উন্নয়নবিষয়ক সংস্থার (ওইসিডি) দেশগুলোর উন্নয়ন সহায়তা ২৩ শতাংশ কমে ১৭৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। বিপরীতে বৈশ্বিক সামরিক ব্যয় প্রায় তিন ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। গাজা, সুদান, ইউক্রেন, মিয়ানমার ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে খলিলুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক আইন এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার নীতি নির্বাচিতভাবে বা পক্ষপাতমূলকভাবে প্রয়োগ করা যাবে না।
যুদ্ধ ও দুর্যোগের মধ্যেও জাতিসংঘের মাঠপর্যায়ের কাজের প্রশংসা করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের কক্সবাজারে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির এবং হাইতিতে জাতিসংঘের মানবিক কার্যক্রমের উদাহরণ দেন। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ইসলামোফোবিয়া, বর্ণবাদ ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার বিষয়েও সতর্ক করে মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদা রক্ষায় এ ধরনের প্রবণতা মোকাবিলার আহ্বান জানান তিনি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং এর আরও উন্নত রূপ কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা নিয়েও সতর্ক করেন তিনি। তাঁর মতে, এসব প্রযুক্তি মানব অগ্রগতির পাশাপাশি মানব সভ্যতার অস্তিত্বের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ ও সামরিক খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার এবং প্রযুক্তিকে ঘিরে সম্ভাব্য বৈশ্বিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা ঠেকাতে দ্রুত নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান খলিলুর রহমান। বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করে বৈজ্ঞানিক প্রমাণভিত্তিক বৈশ্বিক ‘গার্ডরেল’ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।





