সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক বছরের বেশি সময় ধরে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে চলা বিক্ষোভ এবং ক্রমবর্ধমান জন–অসন্তোষের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুসিচ। এক দশকের বেশি সময় ধরে দেশটি শাসন করা ভুসিচকে এবারই প্রথম এত বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর সার্বিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
গতকাল রোববার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ভুসিচ বলেন, অক্টোবরের আগাম নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য তিনি প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পদত্যাগে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ৯ বছর মেয়াদে তাঁর সরকার শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে। আমি প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পদত্যাগ করছি। আগামীকাল (সোমবার) সকালে আমি আমার দায়িত্ব পার্লামেন্ট স্পিকারের কাছে হস্তান্তর করব। এই ভবনে আজই আমার শেষ সন্ধ্যা।
সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির (এসএনএস) প্রার্থী হিসেবে ২০১৪ সালে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন ভুসিচ। তার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি সার্বিয়ার রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করে যাচ্ছেন। দেশটিতে তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না থাকায় পার্লামেন্ট নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চাইছেন তিনি।ভুসিচের পদত্যাগ কার্যকর হলে তাঁর ঘনিষ্ঠ মিত্র পার্লামেন্ট স্পিকার আনা ব্রনাবিচ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগপর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ভুসিচ বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের শেষ দিকের তিনি ৪৯ জনকে ক্ষমা করেছেন। তাঁদের মধ্যে বিক্ষোভের ঘটনায় দণ্ডিত ২৩ জনও রয়েছেন।
২০২৪ সালের ১ নভেম্বর সার্বিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর নোভি সাদের একটি রেলস্টেশনে কংক্রিটের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। এরপর শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে কয়েক দশকের মধ্যে সার্বিয়ায় সবচেয়ে বড় কয়েকটি বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। সেসব বিক্ষোভে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। বিক্ষোভকারীরা সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বচ্ছতার অভাব এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ করেছেন। ভুসিচ ও তাঁর মিত্ররা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, বিক্ষোভকারীরা যেসব সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন, সেগুলোর জন্য তাঁরা দায়ী নন।
‘স্টুডেন্টস উইন’ ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এবার পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। তাদের সমর্থন দিচ্ছে কয়েকটি বিরোধী দল, যার মধ্যে ডেমোক্রেটিক পার্টিও রয়েছে। একসময় সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ দলটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ‘স্টুডেন্টস উইন’ ২৫০ জন প্রার্থীর যে তালিকা দিয়েছে, সেখানে বেশির ভাগই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পেশাজীবী। তাঁদের নির্বাচনী ইশতেহারে অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ নিয়ে তদন্ত, দুর্নীতি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং সরকারি অর্থ ব্যবহারে আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
কয়েকটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের সমর্থনপুষ্ট এই আন্দোলন ভুসিচের সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভুসিচের মেয়াদ আগামী বছর শেষ হওয়ার কথা ছিল। সার্বিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করলে সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। এর অর্থ হলো, এ বছরের শেষ হওয়ার আগেই সার্বিয়ার জনগণকে দুবার ভোট দিতে হবে।





