শিরোনাম
Advertisement
মুক্তস্বর

থাপ্পড় কাণ্ড-৪

উহারা প্রচার করুক হিংসা-বিদ্বেষ আর নিন্দাবাদ

Advertisement

একটা দিক থেকে আমি দেশের আলেম সমাজের সঙ্গে পুলিশের চরম মিল খুঁজে পাই। এই দেশের কেউই চান না, অদ্যাবধি চান নি যে, পুলিশের ঘুষ খাওয়া বন্ধ হোক। ঘুষ-দুর্নীতি চলতে দিতে হবে। এরপর কোনো পুলিশ সদস্য নৈতিক অবস্থান থেকে কথা বললে, প্রভাবশালী কারো অন্যায়- অপরাধের বিষয়ে কোমড় সোজা করে দাঁড়াতে চাইলে, যৌক্তিক অবস্থান গ্রহণ করতে চাইলে এবং সেই কথা বা অবস্থান কারো স্বার্থের প্রতিকূল হলে পত্রপাঠ বলে দিতে হবে- আপনারা তো ঘুষ খান! আপনারা তো মাসোহারা নেন! নিজেরা ঘুষ খাওয়ার সময় এসব কথা মনে থাকে না? ইত্যাদি ইত্যাদি।

থাপ্পড় কাণ্ড : অন্যায্য ফেসবুক পোস্টের জন্য আমরা অনুতপ্ত হব কি?

নিজেদের অন্যায়-অপরাধের বিশাল সাম্রাজ্য নির্বিঘ্নে পরিচালনার স্বার্থে পুলিশকে দুর্নীতিগ্রস্ত বানিয়ে রাখার কোনো বিকল্প নাই। অন্যদিকে হুজুরদের সমস্যা আরো প্রকট, আরো গুরুতর। বিশাল প্রভাবশালী একটা আদর্শিক হেটার গ্রুপ আছে তাদের, যারা কখনোই চান না মাদরাসায় ধর্ষণ বা এ প্রকৃতির যৌন অপরাধগুলো বন্ধ হোক।

দেশের কোনো মাদরাসায় কিছু একটা ঘটার পর সাধারণ মানুষ যখন সেটার প্রতিবাদ ও পুনরাবৃত্তি রোধের দাবিতে সরব হন, সেই হেটার গ্রুপটি তখন সেই প্রতিবাদ ও কারেক্টিভ একশনের দাবিকে ডাইভার্ট করে হুজুরদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও নিন্দামন্দের দিকে চালিত করেন। পুরনো ছবি-ভিডিও, এআই-নির্মিত কন্টেন্ট প্রভৃতি ব্যবহার করে মাঠে নামানুখী গুজব ছড়ানো হয়। ফলত তারা যেভাবে চান, সাধারণ মানুষের আবেগ, অনুভূতি, প্রতিক্রিয়ার ভাষাও ঠিক সেদিকেই যায়।

থাপ্পড়-কাণ্ড ২ : মাদরাসা শিক্ষা ও আলেম-শ্রেণিকে কেন ধ্বংস হতে দেওয়া যাবে না

তাতে লাভ দু’দিক থেকে। মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক- অভিভাবকসহ দেশের আপামর জনসাধারণকে তাদের আসল ও যৌক্তিক দাবি হতে বিচ্যুত করার মাধ্যমে বিচারের দাবিকে দুর্বল করা এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটার সম্ভাবনা জিইয়ে রাখা। পাশাপাশি যা না তা বলে হুজুরদের ইজ্জত কা ফালুদা করার সুযোগ দুভাত ভরে নেওয়া। যা দীর্ঘ মেয়াদে দেশের আলেমদেরকে সমাজ হতে বিযুক্ত ও অপাংক্তেয় করার চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।

ব্যস, কাজ হয়ে গেল। এরপর তাদের প্রত্যাশামাফিক দেশের হাজার হাজার মাদরাসার কোনো একটির কোনো একজন শিক্ষক আবার কোনো দিন কোন এক ঘটনা ঘটাবেন, আবার সঙ্গে সঙ্গে হামলে পড়া হবে- হুজুরেরা বলাৎকারকারী, পায়ুখোর, কওমে লুত ইত্যাদি ইত্যাদি। আমরা সাধারণ মানুষও না বুঝে সেই সুরে সুর মেলাব। এই দুষ্টচক্র কবে বন্ধ হবে!


লেখক : বিসিএস (পুলিশ), এডিশনাল স্পেশাল এসপি (সিআইডি)

এ বিভাগের আরও সংবাদ