Category: শিক্ষাঙ্গন

  • দীর্ঘ ছুটির পর খুলেছে প্রাথমিক বিদ্যালয়

    দীর্ঘ ছুটির পর খুলেছে প্রাথমিক বিদ্যালয়

    ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি শেষে আজ মঙ্গলবার (২৪ জুন) খুলেছে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়। সারাদেশে সাড়ে ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় এক কোটি শিশু শিক্ষার্থী শুরু করেছে ক্লাস।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত শিক্ষাপঞ্জিতেও এ ছুটির বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

    শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, জুনের শুরু থেকে ২১ দিনের লম্বা ছুটিতে যায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো। গত ৩ জুন থেকে এ ছুটি শুরু হয়। এ ছুটি চলে ২৩ জুন পর্যন্ত। সেই হিসাবে সোমবার (২৩ জুন) ছুটি শেষ হয়েছে। আর মঙ্গলবার (২৪ জুন) ক্লাস শুরু হবে।

    ঈদের ছুটি শেষে গত ১৩ জুন সরকারি-বেসরকারি কলেজগুলো খুলে দেওয়া হয়। ওইদিন থেকে কলেজে যথারীতি ক্লাস চলছে।

    এরপর ২২ জুন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্লাস শুরু হয়। এছাড়া ছুটিতে থাকা মাদরাসাগুলো খুলবে আগামী ২৬ জুন।

    এদিকে, করোনাভাইরাস ও ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ায় মাস্ক পরে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করছে।

  • ঢাবিতে এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তির আবেদনপত্র আহ্বান

    ঢাবিতে এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তির আবেদনপত্র আহ্বান

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফরমে আবেদনপত্র আহবান করা হয়েছে। প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট বিভাগ/ইনস্টিটিউটের শিক্ষকদের মধ্য থেকে তত্ত্বাবধায়ক নির্বাচন করতে হবে এবং তত্ত্বাবধায়কের অধীনে ও মাধ্যমে এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য আবেদন করতে হবে।

    ঢাবির গণসংযোগ দফতরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।

    এতে বলা হয়েছে, আগামী ৩০ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে (https://du.ac.bd) আবেদন ফরম ডাউনলোড করা যাবে। ভর্তি ফরমের ফিস বাবদ এক হাজার টাকা আগামী ৩০ জুন জুনের মধ্যে জনতা ব্যাংক টিএসসি শাখায় জমা দিতে হবে।

    আরও জানানো হয়েছে, আবেদনপত্র যথাযথভাবে পূরণ করে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যান/ইনস্টিটিউটের পরিচালকের অফিসে জমা দিতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে ফিস বাবদ টাকা জমার রশিদের মূলকপি, সকল পরীক্ষা পাশের সনদ ও নম্বরপত্রের ফটোকপি ও সম্প্রতি তোলা ১ (এক) কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক/বিভাগের চেয়ারম্যান/ইনস্টিটিউটের পরিচালক কর্তৃক সত্যায়িত করে জমা দিতে হবে। এছাড়া, গবেষণার একটি রূপরেখা (Synopsis) জমা দিতে হবে।

    যারা আবেদন করতে পারবেন
    পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়/ইউজিসি স্বীকৃত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়/বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক/স্নাতক (সম্মান) মাস্টার্স ডিগ্রি প্রাপ্ত হলে প্রয়োজনীয় শর্তপূরণ সাপেক্ষে আগ্রহী প্রার্থীরা সরাসরি এমফিল প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারবেন বলেও জানিয়েছে জনসংযোগ বিভাগ।

    বলা হয়েছে, এম.বি.বি.এস./সমমান ডিগ্রিধারী প্রার্থীগণ তাদের ডিগ্রির সঙ্গে সম্বন্ধযুক্ত সংশ্লিষ্ট বিভাগে/ইনস্টিটিউটে আবেদন করতে পারবেন। প্রার্থীদের শিক্ষা জীবনের সকল পরীক্ষায় ২য় বিভাগ/শ্রেণি এবং সিজিপিএ/জিপিএ পদ্ধতিতে ৫.০০ স্কেলে ন্যূনতম ৩.৫০ এবং ৪.০০ স্কেলে ন্যূনতম ৩.০০ থাকতে হবে। প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত ও হিজড়া প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সকল পরীক্ষায় ন্যূনতম দ্বিতীয় বিভাগ/শ্রেণি থাকতে হবে এবং সিজিপিএ/জিপিএ পদ্ধতিতে ৫.০০-এর মধ্যে ৩.০০ এবং ৪.০০-এর মধ্যে ২.৫০ থাকতে হবে।

    বাংলাদেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতীত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিদেশ থেকে স্নাতক/স্নাতক (সম্মান) ও মাস্টার্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ভর্তির ক্ষেত্রে আবেদনপত্র গ্রহণের পূর্বে তাদের অর্জিত ডিগ্রির সমতা নিরূপণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সমতা নিরূপণ কমিটির আহ্বায়কের (ডিন, ফার্মেসী অনুষদ, মোকাররম হোসেন খন্দকার বিজ্ঞান ভবন সংলগ্ন) নিকট আবেদন করতে হবে।

    মানতে হবে যেসব নিয়ম
    ঢাবি গণসংযোগ দফতর বলছে, চাকুরিরত প্রার্থীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের অনাপত্তিসহ ১ (এক) বছরের ছুটি নিয়ে এমফিল প্রোগ্রামে যোগদান করতে হবে। যোগদান পত্রের সঙ্গে ছুটির অনুমোদন পত্র জমা দিতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এক্ষেত্রে ছুটি নেয়ার প্রয়োজন নেই।

    তবে বিশ্বদ্যিালয় কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে অনুমতি নিয়ে গবেষণায় যোগদান করতে হবে। ভর্তি ফি জমা দেয়ার ৩(তিন) মাসের মধ্যে ছুটির অনুমোদন পত্র জমা না দিলে রেজিস্ট্রেশনের বিষয় বিবেচনা করা হবে না।

    আবেদনকারী যদি কোনো উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অথবা গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকেন, সেক্ষেত্রে বিভাগের/ইনস্টিটিউটের একাডেমিক কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট অনুষদ সভার সুপারিশের ভিত্তিতে একাডেমিক পরিষদ তা শিথিল করতে পারে।

  • দেশের ১৫০ উপজেলায় শুরু হচ্ছে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি

    দেশের ১৫০ উপজেলায় শুরু হচ্ছে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি

    দেশের ৬২ জেলার ১৫০টি উপজেলায় চালু হতে যাচ্ছে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি। এর মধ্যে ১৩৫টি উপজেলা অতি উচ্চ বা উচ্চ দারিদ্র্যপ্রবণ, যেখানে একসঙ্গে শিক্ষা ও পুষ্টি সংকটে রয়েছে। বাকি ১৫টি উপজেলা অপেক্ষাকৃত নিম্ন দারিদ্র্যপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত। খবর বাসসের।

    এই কর্মসূচির আওতায় ১৯ হাজার ৪১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত হবে।

    স্কুল ফিডিং কর্মসূচিটি আগামী জুলাই থেকে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। যদি কোনো কারণবশত নির্ধারিত সময়ে শুরু করা না যায় তবে আগস্ট থেকে এই কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

    গত ২১ জুন, শনিবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের যুগ্মসচিব ও স্কুল ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুটি পৃথক প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসূচীটি সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ও বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে।

    এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে স্কুল চলাকালে শিক্ষার্থীদের মাঝে পুষ্টিসমৃদ্ধ ফর্টিফাইড বিস্কুট, ইউএইটটি মিল্ক, বনরুটি, সিদ্ধ ডিম, কলা ও স্থানীয় মৌসুমি ফল প্রদান করা। সপ্তাহের রোববারে বনরুটি ও সিদ্ধ ডিম, সোমবার বনরুটি ও ইউএইচটি দুধ, মঙ্গলবার বনরুটি ও সিদ্ধ ডিম, বুধবার ফর্টিফাইড বিস্কুট ও কলা বা স্থানীয় মৌসুমি ফল এবং বৃহস্পতিবার বনরুটি ও সিদ্ধ ডিম প্রদান করা হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের আট বিভাগের ৬২ জেলার ১৫০টি উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর জন্য স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

    উপজেলাগুলো হল-ঢাকা নবাবগঞ্জ, গাজীপুর সদর ও টংগী, নরসিংদী সদর, বেলাবো, মনোহরদী, পলাশ, রায়পুরা, শিবপুর, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম, বাজিতপুর, ভৈরব, করিমগঞ্জ, কটিয়াদী, কুলিয়ারচর, মিঠামইন, নিকলী ও তারাইল, নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ সদর, মানিকগঞ্জের দৌলতপুর ও ঘিওর, টাঙ্গাইলের সখীপুর, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ও বালিয়াকান্দি, ফরিদপুর সদর, ভাঙ্গা, বোয়ালমারী, চরভদ্রাসন, নগরকান্দা ও সালথা, মাদারীপুর সদর, ডাসার, কালকিনি, রাজৈর ও শিবচর, শরীয়তপুর সদর, গোসাইরহাট ও জাজিরা, কুমিল্লার বরুড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর ও নাসিরনগর, চাঁদপুর সদর, হাইমচর, মতলব দক্ষিণ ও উত্তর, ফেনীর সোনাগাজী, নোয়াখালীর সূবর্ণচর, লক্ষ্মীপুরের রামগতি, চট্টগ্রামের আনোয়ারা, রাঙামাটির বিলাইছড়ি, খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি, পাবনার বেড়া, বগুড়ার সারিয়াকান্দি, নাটোরের গুরুদাসপুর, রাজশাহীর গোদাগাড়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, ভোলাহাট, গোমস্তাপুর ও শিবগঞ্জ, নওগাঁর বাদলগাছি, জয়পুরহাটের কালাই, যশোরের অভয়নগর, ঝিকরগাছা ও কেশবপুর, সাতক্ষীরার শ্যামনগর, নড়াইলের কালিয়া, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা, মাগুরার শ্রীপুর, খুলনার পাইকগাছা, বাগেরহাটের শরণখোলা, ঝিনাইদহের শৈলকূপা, বরিশালের বাকেরগঞ্জ, বানারীপাড়া, গৌরনদী, হিজলা, মুলাদী ও উজিরপুর, ঝালকাঠির কাঠালিয়া ও নলছিটি, পিরোজপুর সদর, ইন্দরকান্দি, কাউখালী, মঠবাড়িয়া ও নেছারাবাদ, ভোলার বোরহানউদ্দিন, দৌলতখান, মনপুরা ও তজুমুদ্দিন, বরগুনার তালতলী, সিলেটের গোলাপগঞ্জ, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও শ্রীমঙ্গল, হবিগঞ্জের বাহুবল, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্বরপুর, ছাতক, জগন্নাথপুর, জামালগঞ্জ, শাল্লা ও শান্তিগঞ্জ, ময়মনসিংহের ফুলপুর, ধুবাউড়া, গৌরীপুর, হালুয়াঘাট ও ঈশ্বরগঞ্জ, জামালপুরের বকশীগঞ্জ, মেলান্দহ ও সরিষাবাড়ি, শেরপুরের নকলা ও নালিতাবাড়ি, নেত্রকোণা সদর, আটপাড়া, বারহাট্টা, দুর্গাপুর, খালিয়াজুড়ী, মদন ও মোহনগঞ্জ।

    ইতোমধ্যে উভয় প্রকল্পের জন্য প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। প্রতিটি উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে স্থানীয় প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি তদারকি কমিটি গঠিত হবে, যারা কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করবে।

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সপ্তাহে পাঁচ দিন শিক্ষার্থীরা আলাদা আলাদা খাদ্য পাবে। শিক্ষার্থীদের একটি করে সিদ্ধ ডিম, ১২০ গ্রাম ওজনের বনরুটি, ২০০ মিলিলিটার ইউএইচটি দুধ, ৭৫ গ্রাম ওজনের একটি বিস্কুট ও ১০০ গ্রাম ওজনের একটি কলা অথবা স্থানীয় মৌসুমি ফল দেওয়া হবে। প্রস্তাবিত খাদ্য তালিকায় মোট এনার্জির ২৫ দশমিক নয় শতাংশ, মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ৩২ দশমিক দুই শতাংশ, প্রোটিনের ১৬ দশমিক চার শতাংশ ও ফ্যাটের ২১ দশমিক সাত শতাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো, শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করা, শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি বাড়ানো, ঝরে পড়া রোধ করা, অপুষ্টিজনিত সমস্যা হ্রাস ও শিক্ষায় মনোযোগ ধরে রাখা। একইসঙ্গে এটি সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়ক হবে। তিন বছর মেয়াদি এই প্রকল্প শিক্ষার্থীদের শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এই কর্মসূচি সম্প্রসারণের।

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান বলেছেন, ‘স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামে ডিম, বনরুটি ও কলার মতো খাবারের প্রয়োজন রয়েছে। অনেক পরিবার আর্থিক অক্ষমতার কারণে এসব প্রয়োজনীয় খাদ্য তাদের সন্তানদের দিতে পারে না। তাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো, শিশুদের দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ে ধরে রাখা, দুপুরে তাদের ক্ষুধা নিবারণ করা এবং অপুষ্টির প্রতিকার করা।’

    উল্লেখ্য, ২০০১ সালে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)’র আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশে প্রথম স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সূচনা হয়ে তা ২০১০ সাল পর্যন্ত চলমান ছিল। এরপর ২০১০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় আরো একটি পৃথক স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু ছিল, যার আওতায় শিক্ষার্থীদের শুধু উচ্চমানসম্পন্ন বিস্কুট সরবরাহ করা হতো। নতুন প্রকল্পটি আগের চেয়ে আরও উন্নত ও পুষ্টিনির্ভর এবং এটি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব রাখবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

  • জানাজায় যাওয়ার পথে অপহরণের শিকার ববি শিক্ষার্থী

    জানাজায় যাওয়ার পথে অপহরণের শিকার ববি শিক্ষার্থী

    চাচার জানাজায় যোগ দিতে বাড়ি ফেরার পথে অপহরণের শিকার হয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আসাদ।

    সোমবার (২৩ জুন) বরিশাল থেকে গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ যাওয়ার পথে মাদারীপুরে সকাল ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই শিক্ষার্থীর বড় চাচা মারা যাওয়ায় ভোর ৬টায় বরিশাল থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা হয়ে তিনি মাদারীপুর পর্যন্ত বাসে যান। সেখানে বাসস্ট্যান্ডে নেমে ঝিনাইদহের গাড়ি খুঁজছিলেন। এ সময়ে একটি মাইক্রোবাস ঝিনাইদহ যাচ্ছে বলে তাকে জানায়। সে মাইক্রোবাসে ওঠার পরে কিছু দূর গিয়ে অপহরণকারীরা তাকে জিম্মি করে।

    এরপর পরিবারের সঙ্গে ০১৫১৮৪৯৫৬০৯ নম্বর থেকে যোগাযোগ করে মুক্তিপণ দাবি করে। পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে থাকা টাকা, মোবাইল ও মানিব্যাগ রেখে দূরে একটি সড়কের ওপর নামিয়ে দিয়ে যায়।

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সোনিয়া খান সনি বলেন, মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে বরিশাল থেকে ঝিনাইদহের বাড়ি যাওয়ার পথে মাদারীপুরে আটকিয়ে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে, এমন ঘটনা জেনে সঙ্গে সঙ্গে মাদারীপুর থানা পুলিশকে কল করি। শিক্ষার্থীকে অপহরণকারীরা ছেড়ে দিয়েছে। তার সঙ্গে কথা হয়েছে। সে নিরাপদে বাড়ি ফিরছে। বাড়ি থেকে ফেরার পরে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • রাজনীতিতে জড়িত হওয়ার বিষয়ে শিক্ষকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ শিক্ষা উপদেষ্টার

    রাজনীতিতে জড়িত হওয়ার বিষয়ে শিক্ষকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ শিক্ষা উপদেষ্টার

    বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে—এমন রাজনীতিতে জড়িত হওয়ার বিষয়ে শিক্ষকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার)।

    তিনি বলেছেন, কেউ যদি মনে করেন আমি রাজনীতি করব, অবশ্যই আপনি রাজনীতির অঙ্গনে চলে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ছেড়ে দিন। কারণ, রাজনীতিতে যোগ্য লোকের দরকার আছে। সেখানে আপনি সম্মান পাবেন। কিন্তু পঙ্কিল রাজনীতি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আনবেন না।

    সোমবার (২৩ জুন) দুপুরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (বিশ্ববিদ্যালয় দিবস) উপলক্ষে আয়োজিত একাডেমিক এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    অনুষ্ঠানে ২০ জন শিক্ষককে ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড, রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড এবং ৩১ শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। শিক্ষকদের হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন শিক্ষা উপদেষ্টা।

    নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মুহাম্মদ ইসমাইলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হায়দার আলী, জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ।

    বিগত সরকারের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘বিগত দিনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক নিয়োগ হতো না। সেখানে ভোটার নিয়োগ হতো। এ ধরনের বাস্তবতা আমরা পার হয়ে এসেছি। আমাদের সবকিছুকে ঢেলে সাজাতে হবে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। আমরা দেখেছি, যেখানে ৩০-৪০টা ক্লাস নেওয়ার কথা, সেখানে আমাদের বন্ধু শিক্ষকেরা ৪-৫টা ক্লাস নিতেন। দেরি করে ক্লাসে ঢুকে সময়ের আগে বেরিয়ে আসতেন।

    বিগত সরকারের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গণরুম প্রথা এবং নানা অব্যবস্থার কথা বলতে গিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যে গণরুম বছরের পর বছর থেকেছে, তা নিয়ে শিক্ষক হিসেবে আমরা কিছুই করতে পারিনি। এর প্রতিবাদ পর্যন্ত আমরা করতে পারিনি। সেই ধরনের বাস্তবতার মধ্যে আমরা ছিলাম। সকালে যখন ক্লাসে ছাত্ররা আসত, তখন অনেককে দেখতাম ঝিমিয়ে পড়তে। জানতে চাইলে বলতে, বড় ভাইয়েরা তাদের প্যারেড করতে বলেছে।

    শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল সমতাভিত্তিক সমাজ তৈরির। কিন্তু যে রাষ্ট্র আমরা পেলাম, সে রাষ্ট্রে সমতাভিত্তিক সমাজ হয়নি। আমরা নাগরিক ছিলাম। কিন্তু নাগরিক থেকে বানানো হয়েছে অধিকারহীন প্রজায়। কোনো অধিকার আমাদের ছিল না। গত ১৭ বছরে শিক্ষাকে দুমড়েমুচড়ে ফেলা হয়েছে। এখন মেধাকে যদি আমরা লালন করতে পারি এবং তাকে স্বীকৃতি দিতে পারি, তাহলে দেশের অগ্রযাত্রা কেউ ঠেকাতে পারবে না। কিছুদিন আগে ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ হয়েছে। এখন আবার মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধ শুরু হচ্ছে। নানা রকম সংকট চলছে বিশ্বজুড়ে। এ রকম অস্থির বিশ্বে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।

  • শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে : গণশিক্ষা উপদেষ্টা

    শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে : গণশিক্ষা উপদেষ্টা

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেছেন, শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীরা যদি নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে বড় হয়ে ওঠে তবে সে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। যদি সুনাগরিক না হতে পারে তবে সে শিক্ষার কোনো মূল্য নেই, বরং এতে দেশের ক্ষতি হবে।

    বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) রাজশাহী প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) মিলনায়তনে ‘প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন অংশিজনের সঙ্গে মতবিনিময় সভা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন।

    গণশিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, নৈতিকতা শিক্ষার একটি ভালো উপায় হচ্ছে- বিভিন্ন মানুষের গল্প ও কাহিনি। পাশাপাশি, নৈতিক জীবন-যাপনে অভ্যস্ত করে গড়ে তোলা। এক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারণ, শিশুরা অন্যদেরকে আদর্শ হিসেবে দেখে বেড়ে ওঠে। তাই, প্রতিটি শিক্ষককে শিক্ষার্থীদের কাছে নিজেকে আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি, বিদ্যালয়গুলো নৈতিকভাবে পরিচালনা করতে হবে। যথাযথভাবে মাতৃভাষা ও গণিত শিক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করেন। শিক্ষার্থীরা যেন সমাজ ও প্রকৃতির প্রতি একাত্মবোধ নিয়ে বেড়ে উঠতে পারে সে বিষয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দৃষ্টি দেয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

    রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আফিয়া আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান, রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ কামরুল হাসান, রাজশাহী বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো. সানাউল্লাহ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক টুকটুক তালুকদার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম আনোয়ার হোসেন।

  • মৌলিক অধিকারের মধ্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধিকার : শিক্ষা উপদেষ্টা

    মৌলিক অধিকারের মধ্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধিকার : শিক্ষা উপদেষ্টা

    শিক্ষা উপদেষ্টা ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেছেন, আমাদের মৌলিক অধিকারের মধ্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। বর্তমান সরকারের শ্বেতপত্র-সহ বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনার আলোকে ভবিষ্যতে এ অধিকারগুলোর বিষয়ে জনসাধারণের জন্য কাজ করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    মঙ্গলবার (১৭ জুন) ঢাকায় বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি (এফপিএবি)-এর অডিটোরিয়ামে ‘ফিউচার ন্যাশন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। এফপিএবি’র সভাপতি মাসুদ মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আশরাফী আহমদ।

    শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, পত্র পত্রিকায় এসেছে এইচএসসি পরীক্ষায় অনুপস্থিতির একটি কারণ বাল্যবিবাহ। বাল্যবিবাহের কারণে অনেক ছাত্রী স্কুল ও কলেজ থেকে ঝরেপড়ে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে হলে পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের সকল স্তরের জনগণকে সচেতনতার সাথে কাজ করতে হবে। রাষ্ট্রের একার পক্ষে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ সম্ভব না। ছাত্র-ছাত্রীদের যাতে বাল্যবিবাহ না হয়, শিক্ষকদের দায়িত্বের সাথে এ বিষয়ে কাজ করতে হবে।

    তিনি বলেন, আলোচনায় ওঠে এসেছে ডেলিভারির ক্ষেত্রে যেখানে শতকরা ১০ ভাগ সিজারের প্রয়োজন হয়, সেখানে শতকরা ৫০ ভাগ সিজার হয়ে থাকে। এটাকে বন্ধ করতে হবে। এক্ষেত্রে ডাক্তারদের বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনকে ভূমিকা রাখতে হবে। সরকার এটা বন্ধ করতে গেলে হইচই পড়বে—বলা হবে সরকার ডাক্তারদের কাজে বাধা দিচ্ছে। এক্ষেত্রে ডাক্তারদের ভূমিকা রাখতে হবে। আমরা এক সময়ে গ্রামের প্রান্তিক এলাকায় ফ্যামিলি প্ল্যানিংয়ের কার্যক্রম অনেক দেখতে পেতাম কিন্তু এখন আর আগের মতো কার্যক্রম দেখা যায় না।

    তিনি আরো বলেন, আমরা প্রজা হয়ে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম আমাদের জীবন চলে যাবে নাগরিক হিসেবে না, প্রজা হিসেবে। সেখান থেকে আমাদের উদ্ধার করেছে তরুণ প্রজন্ম, শ্রমজীবী মানুষ ও রাজনৈতিক দলসমুহ। বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে এখন আমরা নাগরিক হিসেবে কথা বলছি। অধিকার বিবর্জিত প্রজা থেকে এখন আমরা সমৃদ্ধ নাগরিকে পরিণত হয়েছি। বিভিন্ন অস্থিরতা থাকলেও একটা সুন্দর সময় আমাদের এখন দ্বারে উপনীত হয়েছে। তাই তরুণদের প্রতি চড়াও না হয়ে তাদের সিদ্ধান্তের ও পছন্দের প্রতি আমাদের সম্মান থাকতে হবে। তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের গুরুত্বের সাথে কাজ করতে হবে।

  • সাত কলেজে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি শিগগির, পরীক্ষা আগস্ট-সেপ্টেম্বরে

    সাত কলেজে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি শিগগির, পরীক্ষা আগস্ট-সেপ্টেম্বরে

    রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হতে পারে। এজন্য শিগগির ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

    বুধবার (১৮ জুন) এ নিয়ে সভা ডেকেছে সরকারি সাত কলেজের অন্তর্বর্তী প্রশাসন। এ সভা থেকে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

    মঙ্গলবার (১৭ এপ্রিল) সাত কলেজের অন্তর্বর্তী প্রশাসক ও ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আগামীকাল আমাদের একটি মিটিং রয়েছে। সেখানেই ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এখন আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার ভর্তি পরীক্ষা। আগস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে চলতি জুন মাসে অথবা জুলাইয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে।

    সাত কলেজ সূত্র জানিয়েছে, এ বছর সেকেন্ড টাইম পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে কিছু শর্তজুড়ে দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে আসন সংখ্যা কিছুটা কমানো হতে পারে।

  • গুচ্ছভুক্ত ১৯ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাথমিক ভর্তি শুরু ২২ জুন

    গুচ্ছভুক্ত ১৯ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাথমিক ভর্তি শুরু ২২ জুন

    ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছভুক্ত ১৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাথমিক ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে আগামী রোববার (২২ জুন)।

    সোমবার (১৬ জুন) গুচ্ছভুক্ত ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে মিটিং শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গুচ্ছের আহ্বায়ক ও মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ।

    অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ বলেন, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছভুক্ত ১৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য বিভাগ পছন্দক্রমসহ আবেদনের সময়সীমা শেষ হয় গত ১২ জুন। গুচ্ছের প্রাথমিক ভর্তি কার্যক্রম (নন-প্রাকটিক্যাল বিষয়) প্রথম ধাপ ২২ জুন শুরু হয়ে ২৮ জুন পর্যন্ত চলবে। অপরদিকে বিশেষায়িত বিষয়গুলোর (চারুকলা, সংগীত, নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা, চলচ্চিত্র ও মিডিয়া এবং শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান) প্রাকটিক্যাল পরীক্ষা ও কোটার ভেরিফিকেশন শুরু হবে ২১ জুন থেকে ২৮ জুনের মধ্যে। ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে ৩০ জুনের মধ্যে।

    তিনি আরও বলেন, চূড়ান্ত ভর্তি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে ২৮ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত। ক্লাস শুরু করার সম্ভাব্য দিন নির্ধারিত হয়েছে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে।

  • এইচএসসি পেছানোর দাবিতে লং মার্চের ডাক একদল পরীক্ষার্থীর

    এইচএসসি পেছানোর দাবিতে লং মার্চের ডাক একদল পরীক্ষার্থীর

    আগামী ২৬ জুন থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন একদল পরীক্ষার্থী।

    ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৭ জুন) বেলা ১১টায় রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড় থেকে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের দিকে লং মার্চ করবেন তারা। এরপর শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচি করা হবে।

    তারা বলছেন, করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার পরও স্বাস্থ্যঝুঁকি উপেক্ষা করে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত ‘অমানবিক’। এজন্য তারা বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নামছেন।

    সোমবার (১৬ জুন) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন তারা। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যাম্পেইন চালাচ্ছেন তারা।

    বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীরা জানান, এদিন একই সঙ্গে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা ও দিনাজপুর বোর্ডের শিক্ষার্থীরাও নিজ নিজ শহরে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন।

    শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, এ কর্মসূচি হবে তাদের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি। এরপরও দাবি না মানলে দেশজুড়ে বৃহত্তর ছাত্র আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

    আন্দোলনকারীদের তিন দফা হলো-
    ১. এইচএসসি-২০২৫ সালের পরীক্ষা পেছাতে হবে।

    ২. জুলাই মাসজুড়ে আন্দোলন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা, নিরাপত্তা, লোডশেডিং ও বন্যার কারণে দুই-তিন মাসের পড়াশোনার ক্ষতি পূরণে সময় দেওয়া।

    ৩. এমসিকিউ (বহুনির্বাচনি) ও সিকিউ (লিখিত) মিলিয়ে পরীক্ষায় পাসের ব্যবস্থা করা। একই সঙ্গে শিক্ষা বোর্ডের ঘোষিত ৩৩ দফা নির্দেশনা বাতিল করা।

    আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি সূত্র জানায়, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন ফরম পূরণ করেছেন ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন পরীক্ষার্থী। এবার মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ১৮ হাজার ১৫ জন ও ছাত্রী ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬ জন।

    যদিও এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর মাত্র এক সপ্তাহ আগে; অর্থাৎ আগামী ১৮-১৯ জুন ফের ফরম পূরণের সুযোগ দিয়েছে ঢাকা বোর্ড। ফলে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে।