Category: শিক্ষাঙ্গন

  • শাবিপ্রবির হলে গলাকাটা দুই বিড়ালছানা, তদন্তে প্রশাসন

    শাবিপ্রবির হলে গলাকাটা দুই বিড়ালছানা, তদন্তে প্রশাসন

    সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সৈয়দ মুজতবা আলী হলের একটি ওয়াশরুম থেকে গলাকাটা অবস্থায় দুইটি মৃত বিড়ালছানা উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (১১ জুন) সকালে হলের ক্লিনাররা ওয়াশরুমের ফ্লোরে কাগজের কার্টনে মোড়ানো অবস্থায় বিড়ালছানা দুটির মরদেহ দেখতে পান।

    ওই ঘটনার ছবি ও বিবরণ হলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে শেয়ার করার পর বিষয়টি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই এ হত্যাকাণ্ডকে ‘নৃশংস’ ও ‘বিকৃত মানসিকতার পরিচয়’ বলে আখ্যা দিয়ে দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তির দাবি জানান।

    ঘটনার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সৈয়দ মুজতবা আলী হলের সহকারী প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর আমরা ইতিমধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ করে অপরাধীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা শুরু করেছি। আশা করছি খুব দ্রুত তাকে শনাক্ত করে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা নিতে পারব।’

  • শুরু হচ্ছে ৭ কলেজে ভর্তির আবেদন, থাকছে ‘সেকেন্ড টাইম’

    শুরু হচ্ছে ৭ কলেজে ভর্তির আবেদন, থাকছে ‘সেকেন্ড টাইম’

    রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী সাত সরকারি কলেজে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির আবেদন শিগগিরই শুরু হচ্ছে। এবার শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর হচ্ছে, দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার (সেকেন্ড টাইম) সুযোগ রাখা হচ্ছে। ভর্তি প্রক্রিয়ার যাবতীয় প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    ঢাকা কলেজ, তিতুমীর কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেছা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ এবং কবি নজরুল সরকারি কলেজ-এই সাতটি কলেজে প্রতিবছর ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে প্রায় চল্লিশ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হন।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাত কলেজকে ঘিরে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামে একটি স্বতন্ত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের উদ্যোগ চলমান। তবে প্রশাসনিক রূপরেখা চূড়ান্ত না হওয়ায় ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। যদিও শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

    সাত কলেজের প্রশাসক এবং ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক একেএম ইলিয়াস বলেন, শিক্ষার্থীদের যেন কোনো দুর্ভোগ না হয়, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক। শিগগিরই ভর্তি আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। এবারের ভর্তি প্রক্রিয়ায় সেকেন্ড টাইমের সুযোগ রাখা হচ্ছে-এটি অনেক শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিবেচনাধীন। তবে এই রূপান্তর প্রক্রিয়া চললেও শিক্ষাবর্ষ ও ভর্তি কার্যক্রম শিগগিরই শুরু করতে আমরা প্রস্তুত।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যারা ইতোমধ্যে ভর্তির জন্য আবেদন করেছেন, তাদের বিষয়ে জানতে চাইলে সাত কলেজের প্রশাসক বলেন, ভর্তিচ্ছুদের উদ্বেগের কিছু নেই। যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সাত কলেজে ভর্তির জন্য আগে আবেদন করেছেন, তাদের সেই আবেদনই সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। নতুন করে আবেদনের কোনো প্রয়োজন হবে না। আমরা আগের আবেদনগুলো আমাদের ডাটাবেজে সংরক্ষণ করেছি এবং সেগুলোর ভিত্তিতেই ভর্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের যেন একটিবারের জন্যও নতুন করে আবেদন করতে না হয় বা দ্বিধায় না পড়তে হয়, সে বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। কারিগরি কোনো সমন্বয় দরকার হলে, সেটি আমরা অভ্যন্তরীণভাবে করব। শিক্ষার্থীদের যেন বাড়তি ভোগান্তি বা অর্থনৈতিক চাপ না পড়ে, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

    তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রক্রিয়া থাকলেও শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা কোনোভাবেই ব্যাহত হবে না। বরং আমরা চেষ্টা করছি আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনার, যাতে ভর্তিচ্ছুরা নতুন যাত্রার শুরুতেই ইতিবাচক অভিজ্ঞতা পান। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এবারের ভর্তি পরীক্ষায় আসন সংখ্যায় পরিবর্তন আসতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কর্তৃপক্ষ বলছে, সার্বিক বাস্তবতা বিবেচনায় আসন সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে।

  • মাত্র ৯ মাসেই কুরআনের হাফিজ ৭ বছরের শিশু মুহাম্মদ

    মাত্র ৯ মাসেই কুরআনের হাফিজ ৭ বছরের শিশু মুহাম্মদ

    মায়ের কাছে পড়ে মাত্র নয় মাসে পবিত্র কুরআনের হাফিজ হয়েছে সাত বছরের এক শিশু। তার নাম মুহাম্মদ। বাড়ি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার সাতবাড়ীয়া গ্রামে। বাবার নাম মুফতি আবদুল্লাহ আমজাদ।

    হাফিজ মুহাম্মদের মা আলেমা মাছুমা জান্নাত ‘মাছুমা জান্নাত মহিলা মাদরাসা’ নামে একটি মাদরাসা পরিচালনা করেন। এখানে মা ও নানির কাছেই পবিত্র কুরআনের হাফিজ হয়েছে সে।

    শিশু মুহাম্মদের বাবা মুফতি আবদুল্লাহ আমজাদ বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের পুরো পরিবারই পবিত্র কুরআনের সঙ্গে যুক্ত। মুহাম্মদের নানা-নানি, মা সবাই হাফিজ । আমার স্ত্রীও ওর নানির কাছ থেকে হিফজ সম্পন্ন করেছে। মুহাম্মদ যেটা করেছে, এর শুকরিয়া আদায় করে শেষ করা যায় না। আমার স্বপ্ন আমার সন্তান একজন প্রকৃত আলেম ও দাঈ হোক এবং একজন বিশ্বসেরা হাফিজ হয়ে দেশের নাম উজ্জ্বল করুক।

    ছোট্ট শিশু মুহাম্মদের হিফজ সম্পন্ন উপলক্ষে মঙ্গলবার (১০ জুন) ওই মাদরাসায় একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিস্ময়বালক মুহাম্মদের মাথায় সম্মননা পাগড়ি পরিয়ে দেন বরেণ্য আলেম ও তার স্বজনরা।

  • ২ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি

    ২ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি

    খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য (ভিসি) পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উপাচার্য পদে আগ্রহী প্রার্থীদের ২৬ জুন বিকাল ৫টার মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য সব কাগজপত্রসহ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব বরাবর আবেদন পাঠাতে হবে। এছাড়াও আগ্রহীদের প্রার্থীদের পিএইচডি ডিগ্রি ও আন্তর্জাতিক জার্নালে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গবেষণা প্রকাশ হতে হবে। প্রার্থীর বয়স ন্যূনতম ৪৫ বছর হতে হবে।

    উপচার্য পদে নিয়োগের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা শিক্ষাগত যোগ্যতা সর্ম্পকে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি। আর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি থাকতে হবে।

    পেশাগত অভিজ্ঞতা সর্ম্পকে বলা হয়েছে, কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পদে ন্যূনতম ২০ বছরের শিক্ষকতা অথবা ৫ বছরের গবেষণাসহ ন্যূনতম ১৫ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা।

    প্রশাসনিক কাজে অভিজ্ঞতা সর্ম্পকে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিচালনা-ব্যবস্থাপনা, বিশেষত শিক্ষা পরিকল্পনা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, ছাত্র কল্যাণ ও একাডেমিক কাজে নেতৃত্বদানের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

    প্রকাশনা ও গবেষণা সর্ম্পকে বলা হয়েছে, বিদেশি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক-প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জার্নালে (কিউ-১ থেকে কিউ-৪ শ্রেণিভূক্ত) উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রকাশনা-গবেষণাগ্রন্থ-পাঠ্যপুস্তক।

  • এসএসসির ফলপ্রকাশ ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে

    এসএসসির ফলপ্রকাশ ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে

    আগামী ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবির।

    আজ বুধবার (১১ জুন) তিনি সাংবাদিকদের জানান, পরীক্ষকরা খাতা মূল্যায়ন শেষে বোর্ডে পাঠাতে শুরু করেছেন। অনেক খাতা এখনো আসা বাকি। সবগুলো খাতা পাওয়ার পর নম্বর ইনপুট দেওয়াসহ অন্যান্য কাজ করতে কিছুটা সময় লাগবে। এটি শেষ হওয়ার পর ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় বলা যাবে।

    এবার খাতা নিতে কিছুটা বিলম্ব হলেও পরীক্ষকরা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে খাতা নিয়ে গেছেন। এটি নিয়ে তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। আমরা আশা করছি ৬০ দিনের মধ্যেই ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলেন, বোর্ড চেয়ারম্যান।

    চলতি ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১৪ লাখ ৯০ হাজার ১৪২ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৭ লাখ এক হাজার ৫৩৮ জন এবং ছাত্রী ৭ লাখ ৮৮ হাজার ৬০৪ জন। দুই হাজার ২৯১টি কেন্দ্রে ১৮ হাজার ৮৪টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।

    মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী রয়েছে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৭২৬ জন। এর মধ্যে ছাত্র এক লাখ ৫০ হাজার ৮৯৩ জন এবং ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৩৩ জন ছাত্রী। এই বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা ৭২৫টি। প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯ হাজার ৬৩টি।

    কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সর্বমোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩১৩ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৮ হাজার ৩৮৫ এবং ছাত্রী ৩৪ হাজার ৯২৮ জন।

  • করোনা বাড়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫ দফা নির্দেশনা

    করোনা বাড়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫ দফা নির্দেশনা

    করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়ায় বাংলাদেশেও সতর্কতা জোরদার করেছে সরকার। এই প্রেক্ষাপটে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি মানা নিশ্চিত করতে পাঁচ দফা নির্দেশনা পালনের আহ্বান জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

    গতকাল সোমবার (৯ জুন) রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আজাদ খান বলেন, করোনার নতুন উপধরনের সংক্রমণ প্রতিরোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে। একইসথে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেসব বিষয় মানার কথাও বলা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে নিয়মিত সাবান ও পানি দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়া। এছাড়া, জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং বাইরে বের হলে মাস্ক পরা। যদি কোনো আক্রান্ত ব্যক্তি আশপাশে থাকে, তবে তার থেকে অন্তত তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখা। অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ, মুখ ও নাক স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকা। হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু অথবা কনুই দিয়ে মুখ ও নাক ঢেকে রাখা।

    এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায়ও বলা হয়েছে, দেশের আন্তর্জাতিক প্রবেশপথগুলোতে থার্মাল স্ক্যানার ও ডিজিটাল থার্মোমিটারের মাধ্যমে আগত যাত্রীদের তাপমাত্রা পরীক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত মাস্ক, গ্লাভস ও পিপিই মজুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসাথে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গুরুতর হলে নিকটস্থ হাসপাতালে যেতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে আইইডিসিআরের হটলাইনে (০১৪০১-১৯৬২৯৩) যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

  • ১০ মাসে ২২৭ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন

    ১০ মাসে ২২৭ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন

    আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে গত ১০ মাসে দেশের ২২৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করেছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। ইতিহাসে এই প্রথম এত কম সময়ে এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম বদলের নজির তৈরি হয়েছে। নাম পরিবর্তনের এ প্রক্রিয়ায় বাদ পড়েছে শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাদের পরিবারের সদস্য এবং আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট নেতাদের নাম।

    সরকারি সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ৪ জুন ২৪টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণে এখন ‘ব্যক্তিনির্ভরতা’ বাদ দিয়ে ‘স্থানীয়তা’ ও ‘গণগ্রাহ্যতা’কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পূর্ববর্তী সরকার যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম রাজনৈতিক ও পারিবারিকভাবে নির্ধারণ করেছিল, সেগুলোর নাম এখন সংশ্লিষ্ট জেলা, উপজেলা বা এলাকা অনুযায়ী পুনর্নামকরণ করা হচ্ছে।

    ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর প্রজ্ঞাপন জারি করে ছয়টি সরকারি মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তন করা হয়। এর মধ্যে— কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ, মানিকগঞ্জের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ’ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ, ফরিদপুরের নাম হয় ‘ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ’।

    ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দেশের ১৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলার নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন নাম নির্ধারণ করা হয়। যেমন– নেত্রকোনার ‘শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়’ এখন ‘নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়’ এবং কিশোরগঞ্জের ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়’ এখন ‘কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে পরিচিত।

    এরপর ১৫ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ (বিএসএমএমইউ) তিনটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে অধ্যাদেশ জারি করা হয়। বিএসএমএমইউর নাম হয় ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’, খুলনার শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম হয় ‘খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’ এবং সিলেটের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম হয় ‘সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’।

    এছাড়া ২৯ মে দেশের ৩৭ জেলার ৬৮টি সরকারি কলেজের নাম পরিবর্তনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ ডিগ্রি কলেজের নাম বদলের সিদ্ধান্ত এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করায় সরকারের সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানান, এ কলেজের নাম পরিবর্তন করা হবে না।

    কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণেও এসেছে বড় পরিবর্তন। ১৩ এপ্রিল ১৫টি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের নাম থেকে শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ নেতা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নাম বাদ দেওয়া হয়। ২৪ এপ্রিল নাম বদল হয় আরও ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের, যার মধ্যে রয়েছে ১৬টি স্কুল, তিনটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ২টি কলেজ। প্রাথমিক স্তরেও ব্যাপক নাম পরিবর্তন হয়েছে। গত ১০ মাসে মোট পাঁচ দফায় ৭৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করা হয়। সর্বশেষ ১৮ মে ১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

    নাম পরিবর্তনের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, জাতীয় প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নামকরণ কোনো ব্যক্তি কিংবা রাজনৈতিক দলকে কেন্দ্র করে হওয়া উচিত নয়। এটি হওয়া উচিত দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ভূগোলকে ভিত্তি করে। আমরা সেই দর্শনেই কাজ করছি।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার সুবাদে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নানা স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণ হয়েছিল দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে। অন্তর্বর্তী সরকারের এ উদ্যোগকে তারা দেখছেন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘অরাজনৈতিকীকরণ’-এর একটি অংশ হিসেবে। তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, এটি কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি রাজনৈতিক বার্তা। এতে করে অন্তর্বর্তী সরকার নিজেদের পক্ষ থেকে ‘নিরপেক্ষতা’ এবং ‘অরাজনৈতিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার’ পক্ষপাত প্রদর্শন করছে।

    প্রসঙ্গত, ২০০৯ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকার তাদের শাসনামলে বিভিন্ন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত প্রতিষ্ঠানের নামকরণে একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক ও পারিবারিক চিহ্ন যুক্ত করেছে। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নামে অসংখ্য স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, সেতু, রাস্তা, বিমানবন্দর, স্টেডিয়াম, গবেষণা কেন্দ্র, এমনকি প্রকল্প ও ভবনের নামকরণ করা হয়।

  • ঐচ্ছিক বিষয় সংযোজন বাধ্যতামূলক করেছে বিটিইবি

    ঐচ্ছিক বিষয় সংযোজন বাধ্যতামূলক করেছে বিটিইবি

    এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমে দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য ঐচ্ছিক বিষয় সংযোজন বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (বিটিইবি)।

    আগামী ৩ জুলাইয়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের ঐচ্ছিক বিষয় সংযোজন সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে বোর্ড। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিষয় না যোগ করলে প্রবেশপত্রে তা অন্তর্ভুক্ত হবে না এবং শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

    সম্প্রতি বিটিইবির কারিকুলাম ও আইসিটি বিভাগের পরিচালক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. অলি মাসুদ করিমের সই করা এক সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে যারা নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে এবং বর্তমানে দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত, তাদের রেজিস্ট্রেশন কার্ডে যদি ঐচ্ছিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত না থাকে, তাহলে তারা সে বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। প্রবেশপত্রে বিষয়টির উল্লেখ না থাকলে পরীক্ষাকেন্দ্রে অংশগ্রহণও করা যাবে না। এমনকি পরবর্তীতে কোনো জটিলতা দেখা দিলে তার দায় সম্পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে বহন করতে হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে হুঁশিয়ার করা হয়েছে।

    ঐচ্ছিক বিষয় সংযোজনের জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ২২ জুন থেকে ৩ জুলাইয়ের মধ্যে বোর্ডের ই-সেবা প্ল্যাটফর্ম (www.bteb.gov.bd, http://www.bteb.gov.bd) অথবা btebesheba.gov.bd)–এ লগইন করে ‘Optional Subject Add’ মেনু ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।

    এসএসসি (ভোকেশনাল) পর্যায়ে ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে: উচ্চতর গণিত-২ (বিষয় কোড: ৫১৩২১), কৃষি শিক্ষা-২ (৫১৩২২), জীববিজ্ঞান-২ (৫১৩২৩) ও বেসিক ট্রেড-২ (৫১৩২৪)। আর দাখিল (ভোকেশনাল) পর্যায়ে রয়েছে: উচ্চতর গণিত-২ (৫১৩২১), কৃষি শিক্ষা-২ (৫১৩২২), জীববিজ্ঞান-২ (৫১৩২৩), ইসলামের ইতিহাস-২ (৫১৩২৫) এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়-২ (৫১৩২৬)। শিক্ষার্থীরা এসবের মধ্য থেকে একটি ঐচ্ছিক বিষয় নির্বাচন করতে পারবে, যা রেজিস্ট্রেশন কার্ড এবং পরবর্তীতে প্রবেশপত্রে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি ‘অতীব জরুরি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিষয় সংযোজন না করলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার প্রতিষ্ঠান প্রধানকে নিতে হবে।

  • হার্ভার্ডে বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রবেশ স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন

    হার্ভার্ডে বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রবেশ স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন

    বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় হার্ভার্ডে বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রবেশে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আপাতত ৬ মাস কার্যকর থাকবে স্থগিতাদেশ, পরে এর মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে। খবর রয়টার্স। 

    বুধবার হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই স্থগিতাদেশ জারি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চীনসহ বিভিন্ন দেশ এবং কট্টরপন্থার সঙ্গে অবৈধ সংযোগ রক্ষা করে চলেছে হার্ভার্ড। এই বিদেশিরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে তথ্য ও গবেষণার ফলাফল চুরি, সেসবের অপব্যবহারের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট।”

    গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল আদালতের একজন বিচারক বলেছিলেন যে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যেন বিদেশি শিক্ষার্থীদের আর ভর্তি করতে না পারে, সেজন্য শিগগিরই একটি ইনজাংশান বা নিষেধাজ্ঞা আদেশ জারি করবেন তিনি। তিনি এই বক্তব্য প্রদানের এক সপ্তাহের মাথায় হার্ভার্ডে বিদেশি শিক্ষার্থী প্রবেশে স্থগিতাদেশ দিলেন ট্রাম্প।

    প্রসঙ্গত, হার্ভার্ড যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রাচীন, ঐতিহ্যবাহী এবং সমৃদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয় হার্ভার্ড। শিক্ষা ও গবেষণার মান বিবেচনায় বিশ্বের শীর্ষ ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অন্যতম এই বিশ্ববিদ্যালয়। হার্ভার্ডের মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ হাজার ৩৮৬ জন এবং এই শিক্ষার্থীদের এক চতুর্থাংশই বিদেশি।

    ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্টের শপথ নেওয়ার কিছু দিন পর ‘হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর দেয় না’ অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানটির শত শত কোটি ডলারের সরকারি-বেসরকারি অনুদান আটকে দেন ট্রাম্প। তারপর গত ২২ মে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েম ঘোষণা করেন যে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রাম’ প্রকল্পের বৈধতা বাতিল করবে তার মন্ত্রণালয়। এই প্রোগ্রাম বা প্রকল্পের আওতাতেই বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি করত হার্ভার্ড।

    ক্রিস্টি নোয়েমের এই ঘোষণা পর তার বিরুদ্ধে মামলা করে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কৃর্তৃপক্ষ। মামলার কিছুদিন পরই এই স্থগিতাদেশ দিলেন ট্রাম্প।

    এদিকে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাম্পের এই স্থগিতাদেশ জারির পর একে ‘আইন বহির্ভূত প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ’ উল্লেখ করেছে হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষ। বুধবার এক বিবৃতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, “হার্ভার্ড তার বিদেশি শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা প্রদান অব্যাহত রাখবে।”

  • ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে প্রতিশোধমূলক বলছে হার্ভার্ড

    ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে প্রতিশোধমূলক বলছে হার্ভার্ড

    আগামী ছয় মাস হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী আসতে পারবেন না। গতকাল বুধবার এক নির্বাহী আদেশ জারি করে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তকে প্রতিশোধমূলক বলে আখ্যা দিয়েছে হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষ।

    হার্ভার্ডের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘এটি প্রশাসনের নেওয়া আরেকটি বেআইনি ও প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ, যা (যুক্তরাষ্ট্রের) সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে পাওয়া হার্ভার্ডের অধিকারের লঙ্ঘন।’

    হার্ভার্ড তাদের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবে বলেও ওই বিবৃতিতে বলেছেন হার্ভার্ডের মুখপাত্র।

    এদিন আরও একটি নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প ১২টি দেশের নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। আগামী সোমবার থেকে এটি কার্যকর হবে। এই নিষেধাজ্ঞার মধ্য দিয়ে নিজের প্রথম মেয়াদের অন্যতম বিতর্কিত পদক্ষেপের পুনরাবৃত্তি ঘটালেন রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট।

    নতুন এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে আফগানিস্তান, মিয়ানমার, চাদ, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান ও ইয়েমেনের নাগরিকরা।

    এছাড়া ট্রাম্প আরও সাতটি দেশের ওপর আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। দেশগুলো হলো বুরুন্ডি, কিউবা, লাওস, সিয়েরা লিওন, টোগো, তুর্কমিনিস্তান ও ভেনেজুয়েলা।

    কয়েক সপ্তাহ ধরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর একের পর এক ‘শাস্তিমূলক’ ব্যবস্থা গ্রহণ করে যাচ্ছেন ট্রাম্প। কয়েক দফায় বিশ্ববিদ্যালয়টির বেশির ভাগ অনুদান বন্ধ করে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির ওপরও নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

    ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় হার্ভার্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশ্ববিদ্যালয়টির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার সময় বিভিন্ন অভিযোগও তুলছেন। হার্ভার্ডে ডেমোক্র্যাট ও কট্টর বামপন্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থও হয়েছে হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষ।