Category: শিক্ষাঙ্গন

  • ৭ কলেজে বসছে ‘হেল্প ডেস্ক’

    ৭ কলেজে বসছে ‘হেল্প ডেস্ক’

    রাজধানীর সাতটি কলেজে শিক্ষার্থীদের সেবামূলক কাজ সহজীকরণের লক্ষ্যে ‘হেল্প ডেস্ক’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে স্থাপন করা ডেস্কে গিয়ে একাডেমিক ও প্রশাসনিক যেকোনো সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান পাবেন। ঈদুল আজহার ছুটির পর এ উদ্যোগ দৃশ্যমান হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

    সম্প্রতি সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ ও সাত কলেজের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসক অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে হেল্প ডেস্ক চালুর বিষয়ে জানানো হয়েছে। সাত কলেজে নতুন প্রশাসকের এ উদ্যোগ প্রতিটি কলেজ কর্তৃপক্ষ নিজ ক্যাম্পাসে বাস্তবায়ন করবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা একাডেমিক সংক্রান্ত সকল কার্যাবলীর (ভর্তি, প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশন, সাময়িক সনদপত্র ও সনদপত্র) জন্য প্রায়ই কোনো না কোনো কলেজের শিক্ষার্থীকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শাখায় যেতে হয়। অনেক সময় ওই শিক্ষার্থীকে আক্ষরিক বা দাপ্তরিক ত্রুটির জন্য কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে অসুবিধা হয়। এ ক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রয়োজনীয় সেবা নিজ প্রতিষ্ঠানে থেকে প্রাপ্তির জন্য ও বর্ণিত বিষয়টি বিবেচনাপূর্বক সকল শিক্ষার্থীকে সেবামূলক কাজ সহজীকরণের লক্ষ্যে একটি হেল্প ডেস্ক স্থাপন জরুরি। বিজ্ঞপ্তিতে প্রত্যেক কলেজের উপাধ্যক্ষ বা জ্যেষ্ঠতম শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে একটি হেল্প ডেস্ক স্থাপন করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

    এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। সরকারি বাঙলা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তুহিন আলম বলেন, অতীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসে সেবা নিতে গিয়ে আমরা অনেক হয়রানির শিকার হয়েছি। সেখানে নিজের প্রাপ্য সেবাটুকু তো মিলতোই না, উল্টো তাদের কর্তৃপক্ষের ভুলের জন্যও আমাদের ভুগতে হয়েছে। আমাদের জন্য এখন নতুন প্রশাসক নিয়োগ হয়েছে। এ প্রশাসন শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করবে। নতুন প্রশাসনের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে আমরা হয়তো এ ডেস্ক পেতে যাচ্ছি। এটা প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এ উদ্যোগ কার্যকর করা গেলে আমাদের ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে। এটা দ্রুত দৃশ্যমান করতে হবে। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজও দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে।

    হেল্প ডেস্কের বিষয়ে অধ্যাপক ইলিয়াস বলেন, ঈদের ছুটির পর থেকে হেল্প ডেস্কের কার্যক্রম দৃশ্যমান হবে। এরপর আমরা প্রতিটি কলেজে এ ডেস্কের কার্যক্রম তদারকি করবো। যে উদ্দেশ্যে এ ডেস্ক স্থাপন করা হচ্ছে, সেটা যেন কার্যকর করা যায়। এটা কার্যকর করা গেলে পূর্বে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক ও প্রশাসনিক যেসব জটিলতার মধ্যে পড়তেন, সেটা অনেকটাই কেটে যাবে। তাদের সমস্যা নিয়ে নিজ ক্যাম্পাস থেকে আর বাইরে আসতে হবে না, নিজ ক্যাম্পাসের এ ডেস্কের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে।

    এর আগে, গত ১৮ মে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াসকে সাতটি সরকারি কলেজের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি হতে পৃথকীকরণের জন্য সম্প্রতি গৃহীত সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগরীর ৭টি সরকারি কলেজের শিক্ষা/ভর্তি কার্যক্রম চলমান রাখা ও উক্ত কলেজসমূহের জন্য বিকল্প একটি স্বতন্ত্র/উপযুক্ত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠনের প্রক্রিয়া তরান্বিত করা প্রয়োজন। অধ্যাপক ইলিয়াসকে শর্তসাপেক্ষে তাঁর মূল পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের নিমিত্ত সাত কলেজের অন্তর্বর্তীকালীন সমন্বিত প্রশাসনিক কাঠামোর প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হলো।

  • মাস্টার্স শেষ পর্বের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬৯.২৫ শতাংশ

    মাস্টার্স শেষ পর্বের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬৯.২৫ শতাংশ

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২ সালের মাস্টার্স শেষ পর্ব পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ আজ বুধবার (৪ জুন)। বিকাল ৬টায় এ ফলাফল প্রকাশিত হবে।

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারা দেশের ১৮০টি কলেজের ১ লক্ষ ৯৫ হাজার ৫৯১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে পাশ করেছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৪৯ জন। পাসের হার ৬৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। পরীক্ষার ফলাফল http://recentresult.nu.ac.bd/ অথবা http://result.nu.ac.bd/ ওয়েবসাইটে আজ বিকাল ৬.০০টা থেকে পাওয়া যাবে।

  • ঈদের পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফল

    ঈদের পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফল

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল ঈদুল আজহার ছুটি শেষে প্রকাশ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছুটির কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। এছাড়া সাড়ে ৫ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থীর তথ্য যাচাই ও মূল্যায়ন করতে সময় প্রয়োজন।

    সোমবার (২ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফল ঈদের পরে প্রকাশ করা হবে। কারণ, গতকাল (রোববার) থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি হয়ে গেছে। এছাড়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি। সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

    এর আগে শনিবার (৩১ মে) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দেশের ৬৪টি জেলার ৮৭৯টি কেন্দ্রে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেয় ৫ লাখ ৪৮ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী। আট বছর পর এবার আবারও ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

    প্রথমবারের মতো ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে এসএসসি ও এইচএসসির ফলাফলের ভিত্তিতে ভর্তি কার্যক্রম চালু হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর এবার বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) পদ্ধতিতে ১০০ নম্বরের পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। পাস নম্বর ধরা হয়েছে ৩৫। প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর দেওয়া হবে এবং ভুল উত্তরের জন্য কোনো নম্বর কাটা হবে না।

    মেধাতালিকা প্রস্তুতের জন্য এমসিকিউ অংশের নম্বরের সঙ্গে এসএসসির ফলাফলের ৪০ শতাংশ ও এইচএসসির ৬০ শতাংশ যোগ করে ২০০ নম্বরের ভিত্তিতে চূড়ান্ত নম্বর গণনা করা হবে।

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বর্তমানে দেশের ৮৮১টি কলেজে স্নাতক (সম্মান) কোর্স চালু আছে। এর মধ্যে ২৬৪টি সরকারি এবং ৬১৭টি বেসরকারি। ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে সম্মান কোর্সে ভর্তিযোগ্য আসন ছিল ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৮৫টি।

    ডিগ্রি (পাস) কোর্সে এক হাজার ৯৬৯টি কলেজে ৪ লাখ ২১ হাজার ৯৯০টি আসন রয়েছে। ভর্তি পরীক্ষায় সব বিষয়ে সর্বোচ্চ ৮টি করে কোটা আসন সংরক্ষিত থাকবে— যার মধ্যে রয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, আদিবাসী, প্রতিবন্ধী ও পোষ্য কোটা।

  • প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমছে

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমছে

    আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে। গত অর্থবছরের (২০২৪-২৫) চেয়ে এ খাতে ৩ হাজার ৪১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ কমানো হয়েছে। 

    সোমবার (২ জুন) বিকেল ৩টায় ৭ লাখ ৮৯ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা শুরু করেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।

    প্রস্তাবিত বাজেটে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য ৩৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত অর্থবছর (২০২৪-২৫) এ খাতে প্রস্তাবিত বরাদ্দ ছিল ৩৮ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা। সেই হিসাবে বরাদ্দ কমেছে ৩ হাজার ৪১৬ কোটি টাকা।

    যদিও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় বাজেট কমিয়ে ৩৫ হাজার ১২৩ কোটি টাকা করা হয়।

    প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯৫ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা। গত অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৯৪ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে শিক্ষায় বরাদ্দ বেড়েছে ৯৩৫ কোটি টাকা।

    অর্থ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, গত কয়েক বছর ধারাবাহিকভাবে মাদরাসায় শিক্ষার্থী ভর্তি বেড়েছে। এ খাত দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। ফলে এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে।

  • শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়ছে  ৯৩৪ কোটি টাকা

    শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়ছে ৯৩৪ কোটি টাকা

    আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে মাত্র ৯৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। বরাদ্দ থাকছে ৯৫ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৯৪ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। যা সংশোধিত বাজেটে এসে দাড়াঁয় ৮৪ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা।

    সোমবার (২ জুন) বিকেল ৩টায় ৭ লাখ ৮৯ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

    প্রস্তাবিত বাজেটে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য ৩৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) এ খাতে প্রস্তাবিত বরাদ্দ ছিল ৩৮ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা। সেই হিসাবে বরাদ্দ কমেছে ৩ হাজার ৪১৬ কোটি টাকা। যদিও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় বাজেট কমিয়ে ৩৫ হাজার ১২৩ কোটি টাকা করা হয়।

    এদিকে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুটি বিভাগে প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় ৩ হাজার ৪৫৬ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষায় ৮৯৫ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে।

    আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে বরাদ্দ বাড়িয়ে ৪৭ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৪৪ হাজার ১০৮ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের তুলনায় ৩ হাজার ৪৫৬ কোটি টাকা বেশি। যদিও গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতের বরাদ্দ দাঁড়িয়েছিল ৩৯ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা।

    এছাড়া কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ পেয়েছে ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা, যা আগের বছরের মূল বাজেটে ছিল ১১ হাজার ৭৮৩ কোটি টাকা। যদিও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা খাতের জন্য বরাদ্দ দাঁড়ায় ৯ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, গত কয়েক বছর ধারাবাহিকভাবে মাদরাসায় শিক্ষার্থী ভর্তি বেড়েছে। এ খাত দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। ফলে এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে।

  • সিকৃবির ৬টি আবাসিক হলের নাম পরিবর্তন

    সিকৃবির ৬টি আবাসিক হলের নাম পরিবর্তন

    সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) ছয়টি আবাসিক হলের নাম পরিবর্তন ও সংশোধন করা হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. আসাদ উদ দৌলার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

    ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বৈষম্যবিরোধী চেতনায় উজ্জীবিত শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত কমিটির সুপারিশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮তম সিন্ডিকেট সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ নাম পরিবর্তনের আদেশ জারি করা হয়।

    নতুন প্রশাসনিক আদেশে বলা হয়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে তিনটি আবাসিক হলের নাম পরিবর্তন ও তিনটি হলের নাম পুনর্বহাল করা হয়েছে। ভেটেরিনারি কলেজ সময়ের নামকরণকৃত এম. সাইফুর রহমান হল, শহীদ জিয়া হল ও দূররে সামাদ রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে বিগত ফ্যাসিস্ট প্রশাসন শাহ এ এম এস কিবরিয়া হল, হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী হল ও সুহাসিনী দাস হল নামে নতুন নামকরণ করে। বর্তমানে ভেটেরিনারি কলেজ আমলের প্রতিষ্ঠিত নাম পুনর্বহাল করে এম সাইফুর রহমান হল, শহীদ জিয়া হল ও দূররে সামাদ রহমান হল নামকরণ করা হয়েছে।

    এছাড়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, আব্দুস সামাদ আজাদ হল, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তন করে যথাক্রমে হজরত শাহজালাল (রহ.) হল, জেনারেল এম এ জি ওসমানী হল ও সুহাসিনী দাস হল নামকরণ করা হয়েছে।

    সিকৃবি ভিসি ও সিন্ডিকেটের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. আলিমুল ইসলাম বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই কলেজ আমলের প্রতিষ্ঠিত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে নামকরণকৃত হলসহ ভেটেরিনারি কলেজ ও সিকৃবির স্বপ্নদ্রষ্টা সাবেক সফল মন্ত্রী মরহুম এম. সাইফুর রহমান ও তাঁর সুযোগ্য সহধর্মিণীর নামে প্রতিষ্ঠিত হলের নাম পরিবর্তন করে।

    দীর্ঘ ১৬ বছর পর তাদের নামে প্রতিষ্ঠিত হলের নাম পুনর্বহাল করাসহ ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী ও দুর্নীতিবাজদের নামে নামকরণকৃত হল সমূহের নাম পরিবর্তন করে সার্বজনীন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নামে হলসমূহের নামকরণ করা হয়েছে।

  • তহবিল সংকটে ইউনিসেফ: চাকরি হারালেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১২’শ শিক্ষক

    তহবিল সংকটে ইউনিসেফ: চাকরি হারালেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১২’শ শিক্ষক

    তহবিল সংকট প্রকট আকার ধারণ করায় টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১ হাজার ২০০ শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এতে ক্যাম্পের ৪ লাখ শিশু ও কিশোর শিক্ষা ঝুঁকিতে পড়েছে। নতুন তহবিল সংগ্রহ করা না গেলে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‌‘ইউনিসেফ তাদের তহবিল সংকটের কারণে ক্যাম্পের লার্নিং সেন্টার চালানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে। সব মিলিয়ে ক্যাম্পে ৪ লাখের মতো শিক্ষার্থী আছে। আর প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ২০০ বাঙালি শিক্ষকের চাকরি চলে গেছে। অন্যদের বেতন পরিশোধ করার মতো অবস্থায় ইউনিসেফ নেই। বাকি শিক্ষকদের পর্যায়ক্রমে চাকরিচ্যুতির বিষয় জানানো হবে। বিষয়টি নিয়ে ইউনিসেফ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তহবিল না পেলে এই সংকট থেকে বের হওয়ার কোনো উপায় দেখছি না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পের লার্নিং স্কুলে মিয়ানমারের কারিকুলাম অনুসরণ করে পড়ানো হয়। সাধারণত বাঙালি শিক্ষকরা ইংরেজি পড়ান। কারও চাকরি চলে যাচ্ছে, এটা তার পরিবার এমনকি আমাদের জন্যও দুঃখজনক।’

    প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের শিশু তহবিল-ইউনিসেফ রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা করতে ক্যাম্পে দীর্ঘদিন ধরে ‘লার্নিং স্কুল’ পরিচালনা করে আসছে। ইউনিসেফের তহবিলে দেশীয় বেশ কয়েকটি এনজিও প্রকল্পের মাধ্যমে স্কুলগুলো চালাচ্ছিল। সব মিলিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিদ্যায়তনে ৮ হাজার শিক্ষক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪ হাজার বাঙালি ও ৪ হাজার রোহিঙ্গা শিক্ষক। এদের মধ্যে বৃহস্পতিবার আকস্মিকভাবে ১ হাজার ২০০ বাঙালি শিক্ষককে চাকরিচ্যুতির বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়। বিনা নোটিশে চাকরি হারানোর প্রতিবাদে রোববার উখিয়া ও টেকনাফে বিক্ষোভ করেছেন চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা।

    এদিকে গত শনিবার দিনভর উখিয়া শহীদ মিনার চত্বরে চাকরিচ্যুত করার প্রতিবাদে ও পুনরায় চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। বিক্ষোভকারী শিক্ষকরা জানান, ‘বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে পরিচালিত রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য স্কুলগুলোতে স্থানীয় ও রোহিঙ্গা উভয় সম্প্রদায়ের শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছিল। তবে হঠাৎ করে অর্থ সংকটের কারণ দেখিয়ে শুধু স্থানীয় ১ হাজার ২৫০ জন শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়। যেখানে রোহিঙ্গা শিক্ষকরা বহাল আছেন। আরও প্রায় ৩ হাজার শিক্ষককে ছাঁটাইয়ের প্রস্তুতি চলছে।’ এভাবে চললে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ পরিচালনাকারী কোনো এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংস্থার গাড়ি প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

    এ বিষয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চাকরি পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। ভুক্তভোগী শিক্ষকরা বলেন, ‘রোহিঙ্গা শিক্ষকরা যদি কাজ করতে পারেন তাহলে আমরা কেন পারব না? শুধু আমাদেরই চাকরিচ্যুত করা হলো। এ বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নেব না।’ মাস পাঁচেক আগে বেতন বৈষম্য নিয়ে আন্দোলন করার কারণ তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

    উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘ইউনিসেফের অর্থায়নে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এনজিও ক্যাম্পে শিক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে। কিন্তু অর্থ সংকটের কারণে শিক্ষা প্রকল্পটি বন্ধ করার প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়টি ইউনিসেফ চিঠিযোগে সরকারকে অবহিত করেছে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত প্রকল্প চালানোর অর্থ তাদের রয়েছে বলে চিঠিতে বলা হয়েছিল। এর প্রতিবাদে দুইদিন ধরে শিক্ষকরা প্রতিবাদ করছেন।’

    রোববার ইউনিসেফ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট মোকাবেলায় ইউনিসেফ যে কার্যক্রম চালায়, তার তহবিল সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে শরণার্থী শিবিরগুলোর ৮৩ শতাংশ শিক্ষার্থীর ওপর। এসব শিক্ষার্থী ইউনিসেফ সহায়তাপুষ্ট শিক্ষাকেন্দ্রে পড়াশোনা করে।

    এদিকে গতকাল শনিবার ইউনিসেফ এক বিবৃতিতে বলছে, নতুন তহবিল গঠন এবং নতুন করে কার্যক্রম সাজানোর ‘নিরলস প্রচেষ্টা’ চালানোর পরও তহবিল সংকটের কারণে সংস্থাটিকে কিছু ‘কষ্টদায়ক’ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষকদের সহায়তা স্থগিত করার মতো বিষয়। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ১ হাজার ১৭৯ জন স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষকের সঙ্গে ইউনিসেফের চুক্তি শেষ হবে। এই স্বেচ্ছাসেবকরা মূলত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সদস্য।

    ইউনিসেফ বলছে, শিক্ষা কেন্দ্রগুলো চলতি জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এরপর এসব কেন্দ্র খোলার বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করবে নতুন তহবিল পাওয়ার ওপর।

  • মুসলিম এডুকেশন সোসাইটির আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত

    মুসলিম এডুকেশন সোসাইটির আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত

    “বাংলাদেশে ইসলামিক স্কুলিং: মানোন্নয়ন ও কর্মপরিকল্পনা” শীর্ষক আর্ন্তজাতিক সেমিনার করেছে মুসলিম এডুকেশন সোসাইটি বাংলাদেশ।

    শনিবার (৩১ মে) জাতীয় মসজিদ  বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মুসলিম এডুকেশন সোসাইটির নির্বাহী কো-চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সাইফুর রহমান।

    সেমিনারে ইসলামিক স্কুল ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়ন ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন দেশি ও বিদেশী বক্তারা।

    বক্তব্য রাখেন, ভারতের মিল্লাত ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিষদের সদস্য মুহাম্মদ সিদ্দীক, মাওলানা আইয়ুব আনসারী নদভী, ডা. ফুযাইল ইয়ায, কো-অর্ডিনেটর ড. মোশাররফ হোসাইন ও সদস্য মাওলানা সাইফুদ্দিন নদভী।

    আরও বক্তব্য রাখেন, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. আব্দুল আউয়াল, দারুর রাশাদের শিক্ষাসচিব মাওলানা লিয়াকত আলী, গাজীপুর ডুয়েটের অধ্যাপক ড. বশীর আহমেদ, এশিয়ান ইউনিভার্সিটির সাবেক অধ্যাপক মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক নদভী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের অধ্যাপক ড. মুফতী মুহাম্মদ গোলাম রব্বানী ও লেখক মুফতী জহির ইবনে মুসলিম প্রমুখ।

  • ঢাবি ব্যবসায় শিক্ষা শাখার পুনঃভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের বিষয় পছন্দ ফরম পূরণের শেষ সোমবার

    ঢাবি ব্যবসায় শিক্ষা শাখার পুনঃভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের বিষয় পছন্দ ফরম পূরণের শেষ সোমবার

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ব্যবসায় শিক্ষা শাখার পুনঃভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের বিষয় পছন্দ ফরম ২ জুনের মধ্যে পূরণ করতে হবে।

    শনিবার রাতে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মাহমুদ ওসমান ইমাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়েছে।

    ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীদের পুনঃ ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল গত ২৬ মে প্রকাশ করা হয়েছে।

    ১ থেকে ১ হাজার ২০০ মেধাক্রমধারী শিক্ষার্থী এবং কোটায় উত্তীর্ণ সকল আবেদনকারীকে আগামী ২ জুনের মধ্যে এসআইএফ ফরম পূরণ করতে হবে এবং বিষয় পছন্দক্রম অনলাইনে দাখিল করতে হবে।

    নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে বিষয় পছন্দক্রম ফরম পূরণ না করলে পরবর্তীতে কোনোভাবেই মেধাক্রমের সুযোগ বহাল থাকবে না।

  • যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কী বিকল্প আছে?

    যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কী বিকল্প আছে?

    ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে বন্ধের পরিকল্পনা করায় উদ্বেগ এবং অনিশ্চয়তায় ভুগছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ছাত্র-ছাত্রীরা। মার্কিন প্রশাসনের এই জাতীয় পরিকল্পনার কারণ হলো, তাদের পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থী ও ফরেন এক্সচেঞ্জ ভিসার আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে থাকা অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। খবর বিবিসি বাংলার। 

    সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অভিজাত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কড়া অবস্থান নিতে দেখা গিয়েছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত করার পরিকল্পনা সেই পদক্ষেপেরই একটা অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘অত্যাধিক উদারপন্থি’ বলে মনে করেন।

    ক্যাম্পাসে ইহুদি-বিদ্বেষ মোকাবিলা করার জন্য যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না– এমন অভিযোগ তুলে তিনি সম্প্রতি হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক ছাত্র ভর্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। এরপর আদালতের দ্বারস্থ হয় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। আপাতত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওই নিষেধাজ্ঞায় স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।

    কারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে?
    বিদেশি শিক্ষার্থীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহকারী সংস্থা ‘ওপেন ডোরস’ বলছে, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ২১০টিরও বেশি দেশের ১১ লাখেরও বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী মার্কিন কলেজগুলোতে ভর্তি হয়েছিল। ওপেন ডোরস-এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী যান ভারত থেকে। তাদের তথ্য বলছে, তিন লাখ ৩৩ হাজারের-এরও বেশি ভারতীয় শিক্ষার্থী গত বছর বিভিন্ন মার্কিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছেন।

    এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পরেই চীন থেকে সবচেয়ে বেশি ছাত্র-ছাত্রী পড়তে আসেন। গত বছর প্রায় দুই লাখ ৮০ হাজার পড়ুয়া যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি হয়েছেন। এর পরেই রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম, নাইজেরিয়া, বাংলাদেশ, ব্রাজিল এবং নেপাল।

    এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চলতি সপ্তাহের বুধবার ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প প্রশাসন কমিউনিস্ট পার্টির সাথে সম্পর্কিত অথবা জটিল বিষয়ে লেখাপড়া করছে এমন চীনা শিক্ষার্থীদের ভিসা আগ্রাসীভাবে বাতিল করবে। এই পরিকল্পনারই অংশ হিসেবে, ভবিষ্যতে চীন ও হংকং যারা মার্কিন ভিসার জন্য আবেদন করবেন তাদের “কড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা” জন্য মানদণ্ডেরও সংশোধন করা হবে। তবে এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করছেন এমন কতজন চীনা শিক্ষার্থী প্রভাবিত হতে পারেন তা স্পষ্ট নয়।

    চীন জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের এই জাতীয় পদক্ষেপের তারা “দৃঢ় বিরোধিতা” করছে। পাশাপাশি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আরও গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য আহ্বান জানিয়েছে সে দেশ। ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যেই বেশ কিছু বিদেশি ছাত্রকে ‘ডিপোর্ট’ করার পদক্ষেপ নিয়েছে। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভিসাও বাতিল করেছে।

    মার্চের শেষে, মার্কো রুবিও জানিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারীদের দমন করার উদ্দেশ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র কমপক্ষে ৩০০জন বিদেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করেছে। তবে তারা কোন কোন দেশের, তা বলেননি।

    এদিকে বুধবার, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় আদালতে দায়ের করা একটা মামলায় জানিয়েছে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পঠন-পাঠনের জন্য ওই প্রতিষ্ঠানের সার্টিফিকেশন বাতিল করলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আদালতে যে আবেদনের জমা দেওয়া হয়েছে, সেখানে হার্ভার্ডের আন্তর্জাতিক অফিসের পরিচালক মৌরিন মার্টিন জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নেওয়া এই পদক্ষেপ শিক্ষার্থী এবং স্কলারদের ‘মানসিক যন্ত্রণা’ দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, শিক্ষার্থীরা ‘গ্র্যাজুয়েশন সেরেমোনি’ (স্নাতক হওয়ার পর সার্টিফিকিট দেওয়ার জন্য যে অনুষ্ঠান) এড়িয়ে যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বাতিল করছে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে অন্য কলেজে স্থানান্তর হওয়ার চেষ্টাও করছে।

    আদালতের দায়ের করা আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু কিছু শিক্ষার্থী এই আশঙ্কায় ভুগছেন যে দেশে ফিরতে হলে তারা সেখানে সক্রিয় সংঘাত বা রাজনৈতিক নিপীড়নের মুখোমুখি হতে পারেন।

    পশ্চিম ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত উচ্চ আন্তর্জাতিক শিক্ষা ক্ষেত্রের একজন বৈশ্বিক কৌশলবিদ অধ্যাপক এমেরিটাস উইলিয়াম ব্রুস্টেইন। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এর প্রভাব মারাত্মক হবে। হার্ভার্ড হয়ত (বিষয়টা সামাল দিতে) পারবে, মানে বিষয়টা কঠিন সেটা বটে, কিন্তু পেরে যাবে। কিন্তু আমার উদ্বেগের বিষয় হলো আমাদের পাবলিক ইউনিভার্সিটিগুলোকে নিয়ে। তারা শিক্ষার্থীদের ফি থেকে আসা আয়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর বেশি মাত্রায় নির্ভরশীল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে থাকা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ে তাদের যে বৈচিত্র্যময় দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করেন- সেখানেই মূলত এর (ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপের) প্রভাব পড়বে।

    কী বিকল্প রয়েছে?
    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কানাডা, যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়াও বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। কিন্তু অভিবাসন আইনে নাটকীয় পরিবর্তনের ফলে ইদানীং সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমাতে বদ্ধপরিকর কানাডা। উদাহরণস্বরূপ, অন্য দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘প্রুফ অফ ফান্ড’ (ব্যয়ভার চালানোর জন্য যথেষ্ট অর্থ রয়েছে কি না) -এর পরিমাণ বাড়িয়েছে। অভিবাসনের ওপর রাশ টানার জন্য কানাডায় যে চেষ্টা চলছে, এটা কিন্তু তারই একটা অংশ।

    যুক্তরাজ্য যেখানে অক্সফোর্ড এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন নামীদামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, তারাও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ কমিয়ে আনছে। শিক্ষার্থী ভিসায় বিধিনিষেধ চালু হয় ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে। এর ফলে স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীরা তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাজ্যে আনার অধিকার হারিয়ে ফেলেন। অন্যদিকে, নতুন শিক্ষার্থীদের তাদের কোর্স শেষ হওয়ার আগে ওয়ার্ক ভিসায় স্যুইচ করা থেকে বিরত করা হয়।

    বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আকর্ষণকারী দেশের মধ্যে অন্যতম অস্ট্রেলিয়াও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবেদনের ওপর লাগাম টেনেছে। সে দেশে কোভিডের আগে সামগ্রিক অভিবাসনের যে স্তর ছিল সেই মাত্রায় আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। অধ্যাপক ব্রুস্টেইন বলেন, এর ফলে শিক্ষার্থীদের নিজেদের দেশেই থেকে যেতে হতে পারে কারণ আরও বেশি সংখ্যক দেশ তাদের নিজস্ব শিক্ষা ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করছে। আবার তাদের হয়তো তা না-ও করতে হতে পারে।”

    কোন কোন দেশ সুযোগ দিচ্ছে?
    আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে অনেক দেশই একটা সুযোগ হিসেবে দেখছে। এর কারণ তহবিলের একটা উল্লেখযোগ্য অংশের জন্য তারা বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর নির্ভর করে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রায়শই বিপুল পরিমাণে টিউশন ফি দিতে হয়।

    জন লি হংকংয়ের প্রধান নির্বাহীর দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি বলেছেন, যেসব শিক্ষার্থী “মার্কিন নীতির কারণে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন, পড়াশোনা করতে অসুবিধা হচ্ছে, অথবা মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন তাদের স্বাগত জানাবে হংকং। যারা হংকংয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চান তাদের জন্য সরকার এবং স্থানীয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সব রকমভাবে সাহায্য ও ব্যবস্থা করবে।

    মালয়েশিয়ার সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়সহ এশিয়ার অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের তাদের দেশে পড়াশোনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। সানওয়া বিশ্ববিদ্যালয় গোষ্ঠীর সিইও সামাজিক মাধ্যম ‘লিংকডইন’-এ লিখেছেন, আমাদের অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির (এএসইউ) সঙ্গে পার্টনারশিপ রয়েছে। আমরা হার্ভার্ড থেকে প্রাপ্ত আপনাদের সমস্ত ক্রেডিট এএসইউ-তে স্থানান্তরিত করতে পারি। আমাদের নিজস্ব সান-ইউ ডিগ্রি প্রোগ্রামগুলোতেও স্থানান্তর করার জন্য ব্যবস্থা করতে পারি যা (এই ডিগ্রি) আপনাদের ল্যাংকাস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অতিরিক্ত ব্রিটিশ সার্টিফিকেশনও এনে দেবে।

    আমেরিকার বাইরে যারা বিকল্প খুঁজছেন এমন ছাত্র ছাত্রীদের কাছে জার্মানিও ক্রমে একটা জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। জার্মান একাডেমিক এক্সচেঞ্জ সার্ভিস-এর পূর্বাভাস অনুসারে, ২০২৫ সালে সে দেশে চার লক্ষেরও বেশি আন্তর্জাতিক স্কলার থাকবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। গত বছরের মার্চ মাসে, জার্মানি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করার অনুমতি দেওয়ার জন্য নতুন ব্যবস্থাও চালু করেছে। এর আগে ওই কাজের সীমা ছিল সপ্তাহে দশ ঘণ্টা। যদিও বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ‘প্রুফ অফ ফান্ড’-এর পরিমাণও বাড়িয়েছে। তবে তা বৃদ্ধি কানাডা বা অস্ট্রেলিয়ার মতো অতটা নাটকীয় নয়।

    অধ্যাপক ব্রুস্টেইন বলেন, গত ১৫ বছরে উচ্চশিক্ষার বৈশ্বিক বাজারে মৌলিক পরিবর্তন এসেছে। তাই তাই কিন্তু এখন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে অনেক বিকল্প রয়েছে। মালয়েশিয়ায় অনেকই বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষস্থানীয়। আমার মনে হয় অস্ট্রেলিয়ার কথা এখনো ভাবা যেতে পারে। ফ্রান্সে এমন এমন শীর্ষ অধ্যাপকদের আকর্ষণ করার জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হচ্ছে, যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন। তাই আমার মনে হয় ইউরোপের কথাও বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে আমি পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কী ঘটছে তার ওপর জোর দেই, কারণ এটাই বিশ্বের সবচেয়ে গতিশীল ক্ষেত্র।

    অন্য দেশের শাখা-ক্যাম্পাস
    এই প্রসঙ্গে অধ্যাপক ব্রুস্টাইন একটা উল্লেখযোগ্য বিষয়ের কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শাখা-ক্যাম্পাস’-এর ধারণা এখন আরও বেশি পরিমাণে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আমি জানি ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় এমনটা (শাখা ক্যাম্পাস) রয়েছে এবং তার একটা দীর্ঘ ইতিহাসও রয়েছে। মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও এর চল আছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যা ঘটছে তা সত্ত্বেও, ভারত ও চীনে ইলিনয় ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি কাজ করছে।

    হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে, আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, কোরিয়া, সেনেগাল এবং ব্রাজিলসহ ৫০টারও বেশি দেশের তালিকা রয়েছে যেখানে তাদের অনুমোদিত প্রোগ্রামে পঠনপাঠনের সুযোগ রয়েছে। তবে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই তালিকার মধ্যে একটাতে স্থানান্তর করতে পারবে কি না সেই বিষয়ে এখনো কিছু ঘোষণা করা হয়নি।