Category: শিক্ষাঙ্গন

  • ‘আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী দেশের শিক্ষাব্যবস্থা’, সুইসাইড নোটে শিক্ষার্থী ধ্রুবজিৎ

    ‘আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী দেশের শিক্ষাব্যবস্থা’, সুইসাইড নোটে শিক্ষার্থী ধ্রুবজিৎ

    ‘আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা’ নিজের ব্যক্তি ডায়েরিতে এমন সুইসাইড নোট লিখে আত্মহত্যা করেছেন ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থী ধ্রুবজিৎ কর্মকার (২২)। এ নিয়ে কলেজের ভেতরে-বাইরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    রোববার (১৮ মে) দুপুরে ১টার দিকে ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অমর একুশে হলের ৩০৭ নম্বর কক্ষে এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থী ধ্রুবজিৎ কর্মকার ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের মনোতোষ কর্মকার এবং সুপ্তা কর্মকার দম্পতির ছেলে। তিনি ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসআই) বিভাগের তৃতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষার্থী ছিলেন।

    ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান বলেন, আজ ওই শিক্ষার্থীর পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষার হলে সে নকলসহ ধরা পড়ে। এ সময় দায়িত্বরত শিক্ষকরা তার খাতা নিয়ে তাকে হল থেকে বের করে দেন। এ ঘটনার পর সে তার রুমে গিয়ে আত্মহত্যা করে। বিষয়টি টের পেয়ে তাৎক্ষণিক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    সুইসাইড নোটে শিক্ষার্থী ধ্রুবজিৎ কর্মকার আরও লিখেছেন, ‘সরি মা, বাবা। আমি ধ্রুবজিৎ, সবার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। কার্ডের পিন (…….) টাকাগুলো মাকে দিয়ে দিও। আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা। পরেরবার ফার্মেসি নিয়ে পড়বো। এত চাপ আমার পক্ষে নেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। বিদায়। হরে কৃঞ্চ।’

    সুইসাইড নোটের সত্যতা নিশ্চিত করে অধ্যক্ষ আরও ড. মিজানুর আরো বলেন, ধ্রুবজিৎ কিছুদিন ধরেই হতাশাগ্রস্ত ছিল। হয়ত পরীক্ষায় নকল নিয়ে ধরা পড়ে সে মানসিকভাবে আরও ভেঙে পড়েছিল। ঘটনাটি অত্যান্ত র্মমান্তিক এবং দুঃখজনক। ঘটনাটি তার পরিবারকে জানানো হয়েছে।

    ধ্রুবজিৎ কর্মকারের সহপাঠীরা বলেন, পরীক্ষার হলে নকল নিয়ে ধরা পড়ার পর বহিষ্কারের ভয়ে স্যারদের পায়ে ধরে অনেক কান্নাকাটি করেছিল ধ্রুবজিৎ। এরপরই সে হলে এসে ফ্যানের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। এ সময় হলের রুমমেটরা সবাই পরীক্ষার হলে ছিল।

    এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক সজীব কুমার বাড়ই বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে মৃতদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

  • ইউআইইউ ট্রাস্টি বোর্ডের খোলা চিঠি, শিক্ষার্থীদের কড়া বার্তা

    ইউআইইউ ট্রাস্টি বোর্ডের খোলা চিঠি, শিক্ষার্থীদের কড়া বার্তা

    চলমান সংকটের মধ্যেই ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্টি বোর্ড। এই চিঠিতে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের আগামী ২৬ মের মধ্যে ভর্তি বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করার আহ্বান জানানোসহ নানা বিষয়ে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    রোববার (১৮ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়।

    চিঠিতে ইউআইইউর ট্রাস্টি বোর্ড বলেছে, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা ও পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে সন্তুষ্ট নন, তারা ভর্তি বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ার সুযোগ পাবেন। ২৬ মের মধ্যে আবেদন করলে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না। এই সময়ের মধ্যে আবেদন করলে শিক্ষার্থীদের চলতি সেমিস্টারে পরিশোধ করা টিউশন ফির সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

    চিঠিতে আরও বলা হয়, গত ২৬ এপ্রিল রাতে উপাচার্য ও অন্যান্য শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আটকে রাখার ঘটনায় যারা জড়িত ছিলেন, তাদের চিহ্নিত করতে প্রক্টরিয়াল তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের ডিসিপ্লিনারি কমিটির মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হতে পারে, যার মধ্যে বহিষ্কারও থাকতে পারে। তবে অভিযুক্ত কেউ যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়েন, তাহলে তিনি এই শাস্তির আওতায় পড়বেন না।

    ট্রাস্টি বোর্ড দাবি করেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনা, একাডেমিক, প্রশাসনিক এবং আর্থিক নীতিমালায় কোনো গোপনীয়তা নেই। ভর্তি হওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা এসব তথ্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত থাকেন। অধিকাংশ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও শিক্ষার মানে সন্তুষ্ট। তবে একটি ছোট অংশ একাডেমিক পরিবেশ নষ্ট করছে, যা আমাদের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    চিঠিতে জানানো হয়, ২০০৩ সালে ইউনাইটেড গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত ইউআইইউ ‘গুণগত শিক্ষা ও গবেষণায় উৎকর্ষ’ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। ইউনাইটেড গ্রুপ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও ছাত্রকল্যাণ ফান্ডে প্রতি বছর আর্থিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ইউআইইউ ইন্সটিটিউট ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চকে (আইএআর) প্রতি বছর দুই কোটি টাকা করে পাঁচ বছরে মোট দশ কোটি টাকা সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

    ট্রাস্টি বোর্ড স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আমরা কোনোভাবেই ইউআইইউর একাডেমিক মান রক্ষায় আপস করব না। আমরা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনের পথে কোনো বাধা মেনে নেব না।

    ভর্তি বাতিল করতে আগ্রহীদের নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করে ই-মেইলের (admission_cancellation@uiu.ac.bd) মাধ্যমে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের ই-মেইলে ওই ফর্ম পাঠিয়েছে বলেও জানানো হয়।

    চিঠির শেষাংশে ট্রাস্টি বোর্ড সবার সহযোগিতা কামনা করে বলেছে, আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনের প্রয়াসে অবিচল থাকব এবং কোনো অরাজকতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করতে দেওয়া হবে না।

    গত ২৮ এপ্রিল রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ) উপাচার্যসহ ১১ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তার একযোগে পদত্যাগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ এপ্রিল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

  • সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের পাঁচ দাবি, ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

    সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের পাঁচ দাবি, ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

    রাজধানীর সাত কলেজকে একত্রিত করে বিশ্ববিদ্যালয় করার ঘোষণা দেওয়া হলেও নাম প্রস্তাব ছাড়া আর কোনও অগ্রগতি নেই বলে জানিয়েছেন ওইসব কলেজের শিক্ষার্থীরা। দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন নিয়োগসহ পাঁচ দফা দাবি না মানলে ২৪ ঘণ্টার আলিন্টমেটাম দিয়ে আগামী ১৯ মে থেকে আবারও মাঠে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

    শনিবার (১৭ মে) ইডেন মহিলা কলেজে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এ কথা জানানো হয়।

    শিক্ষার্থীদের পক্ষে যৌথভাবে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর টিমের সদস্য তানজিমুল আবিদ ও জাফরিন আক্তার।

    সংবাদ সম্মেলনে জাফরিন আক্তার বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষার অধিকারটুকু চাই। আমরা আর রাজপথে নামতে চাই না। আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম ছেড়ে পড়ার টেবিলে ফিরে গিয়েছি। তবে রাষ্ট্র বারবার আমাদের পড়ার টেবিল ছেড়ে রাজপথে ফিরতে বাধ্য করেছে। আগামী রোববারের মধ্যে যদি অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি না হয়, তাহলে সোমবার (১৯ মে) থেকে আমরা আবার মাঠের কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো। পরবর্তী এ কর্মসূচি কেমন হবে, সেটা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেব। একই সঙ্গে আমরা বাকি দাবিগুলোর বিষয়েও নজর রাখবো। আমাদের যদি আবার মাঠে নামতে হয়, তাহলে এবার রাজপথ থেকেই নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ নিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরবো।

    সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের দেওয়া পাঁচ দফা দাবি হলো– রবিবারের (১৮ মে) মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে; অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন নিয়োগের পর সেশনজট নিরসনসহ সামগ্রিক বিষয় নিয়ে ও অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার বানাতে হবে; ভুতুড়ে ফলের সমাধান, বিভিন্ন ইস্যুতে অতিরিক্ত ফি আদায় এবং যাবতীয় অসঙ্গতিগুলো স্পষ্টভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে; অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন নিয়োগের পরবর্তী দুই কার্যদিবসের মধ্যে ২৪-২৫ সেশনের ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের উদ্যোগ নিতে হবে, এবং আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়য়ের রূপরেখা, লোগো মনোগ্রাম প্রকাশ করতে হবে। সর্বশেষ আগামী ১৬ জুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয়য়ের অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। একইসঙ্গে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বাজেটে নির্ধারণ করতে হবে।

    শিক্ষার্থীরা বলেন, আগামী রবিবারের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি না হয়, তাহলে ১৯ মে থেকে মাঠের কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন তারা।

  • ঢাবির প্রযুক্তি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

    ঢাবির প্রযুক্তি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ‘প্রযুক্তি ইউনিট’-এর অধীনে অধিভুক্ত ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ/ইনস্টিটিউটসমূহের ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (১৭ মে) সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রযুক্তি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ১০ হাজার ৬শ’ ৬জন ভর্তিচ্ছু ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করেন।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

    এ সময় অন্যান্যের মধ্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন ও প্রযুক্তি ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. উপমা কবির এবং প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

  • সব দাবি মানার আশ্বাসে জবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহার

    সব দাবি মানার আশ্বাসে জবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহার

    চার দফা দাবিতে আন্দোলনরত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সব দাবি সরকার মেনে নেওয়ার আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।

    শুক্রবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ৮টার পর জবি ঐক্য প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

    এসময় জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইছউদ্দীন বলেন, আমরা সরকারের দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণায় সন্তোষ প্রকাশ করেছি। তিনি দাবি আদায়ে সরকারকে টালবাহানা না করার আহ্বান জানান।

    শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে চলে যাওয়ারও আহ্বান জানান অধ্যাপক ড. রইছউদ্দীন। তার ঘোষণার পর অনেক শিক্ষার্থীকে সড়ক ছেড়ে চলে যেতে দেখা যায়। তবে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী তখনও সেখানে অবস্থান করছিলেন।

    এ বিষয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিক ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাফিদ বলেন, জবি ঐক্য থেকে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সে কারণে আমরা এখন চলে যাচ্ছি।

    এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস এম এ ফায়েজের উপস্থিতিতে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালন বাজেট বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাজেট বৃদ্ধির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রথম দাবি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আবাসন সংকট নিরসনে অস্থায়ী হল নির্মাণে খুব দ্রুত এ কাজ শুরু হবে। দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অতি দ্রুত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

    ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা সারা দিন এটা নিয়ে কাজ করেছি। ইউজিসি একটি পরিবার হিসেবে সবাই মিলে সমাধান করতে পারব। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি একসঙ্গে বসে সব সমাধান করব। আপনাদের সব দাবি বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি।

    এসময় ইউজিসি চেয়ারম্যান দাবি আদায়ের জন্য গণঅনশনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান।

    পরে জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইছউদ্দীন বলেন, আমাদের চতুর্থ দাবি ছিল আমাদের ওপর হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। হামলার ঘটনায় পুলিশ দুঃখ প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া সাত দিনের মধ্যে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। এ ছাড়া সরকার আমাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে।

    এর আগে শুক্রবার বিকাল ৩টায় গণঅনশনের বসেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও ওইদিন সকালে কাকরাইলে আন্দোলনস্থলে সমবেশ করেন তারা।

    সরেজমিনে দেখা যায়, দাবি আদায়ে তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলন করছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কিছুক্ষণ পর পর ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। আবার কেউ কেউ ছোট ছোট মিছিল নিয়ে আসছেন কাকরাইল মোড়ে। জানাচ্ছেন আন্দোলনরতদের সঙ্গে সংহতি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এতে মুখরিত হয়ে উঠেছে কাকরাইল মোড়।

    প্রসঙ্গত, গত বুধবার (১৪ মে) সকাল ১১টায় তিন দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের উদ্দেশ্যে লং মার্চ শুরু করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। লং মার্চটি গুলিস্তান, মৎস্য ভবন পার হয়ে কাকরাইল মসজিদের সামনে পৌঁছালে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে লং মার্চে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর। এ সময় ছত্রভঙ্গ করতে গরম পানি ছোড়ে পুলিশ। শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

    পরবর্তীতে রাতে উপদেষ্টা মাহফুজ সামনে এসে ব্রিফিং করতে আসেন। তার ব্রিফিংয়ে অসন্তুষ্ট হন শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা উপদেষ্টা মাহফুজকে উদ্দেশ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। বক্তৃতার একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে একজন তাকে লক্ষ্য করে বোতল ছুড়ে মারেন। এতে উপদেষ্টা মাহফুজ রাগান্বিত হয়ে ব্রিফিং বন্ধ করে চলে যান।

    এছাড়াও গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রইস উদ্দিন। ওইদিন রাতেই তিনি দাবি না মানলে গণঅনশন কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

    এদিকে তিনদফা দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করলেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি হামলার পর শিক্ষার্থীদের আগের তিন দফা দাবির সঙ্গে নতুন আরও এক দাবি যুক্ত হয়েছে।

    শিক্ষার্থীদের বর্তমান চার দফা দাবি ছিল-

    • বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে আবাসন বৃত্তি চালু করা,
    • জবির প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কাটছাঁট না করে অনুমোদন,
    • দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ একনেক সভায় পাস ও বাস্তবায়ন
    • ১৪ মে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অতর্কিত হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
  • জবি শিক্ষার্থীদের তিনদফা দাবি মেনে নিল সরকার

    জবি শিক্ষার্থীদের তিনদফা দাবি মেনে নিল সরকার

    তিনদিন থেকে আন্দোলনরত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি মেনে নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আগামী সাত দিনের মধ্যে এসব বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    শুক্রবার (১৬ মে) সন্ধা সাড়ে ৭টায় কাকরাইলের অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের কাছে এসে এই ঘোষণা দেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালন বাজেট বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রথম দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আবাসন সংকট নিরসনে দ্রুত অস্থায়ীভাবে স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।

    পরে অনশনকারী শিক্ষার্থীদের পানি পান করানো হয়।

    এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইউজিসি চেয়ারম্যান এসএম ফায়েজ আহমেদ ও অন্যরা।

    এদিকে রাত ৮টায় সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তের বিষয়ে জবির শিক্ষক শিক্ষার্থীরা ব্রিফিং করবে বলে জানিয়েছে।

  • উপদেষ্টা মাহফুজকে বোতল নিক্ষেপকারী শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দিল পুলিশ

    উপদেষ্টা মাহফুজকে বোতল নিক্ষেপকারী শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দিল পুলিশ

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের মাথায় পানির বোতল নিক্ষেপকারী শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    শুক্রবার (১৬ মে) দুপুরে তাকে আট করে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে সন্ধ্যায় অভিভাবকের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।

    বোতল ছুড়ে মারা ওই যুবকের নাম ইশতিয়াক হোসেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ১৯তম ব্যাচের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

    তবে জিজ্ঞাসাবাদের ফলে কী তথ্য পাওয়া গেছে কিংবা শিক্ষার্থী কেন তথ্য উপদেষ্টার দিকে বোতল ছুড়ে মেরেছেন—সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

    ডিএমপির মিডিয়া উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়, “তথ্য উপদেষ্টার দিকে পানির বোতল নিক্ষেপের ঘটনায় একজনকে ডিবি কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পরে তাকে তার অভিভাবকের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।”

    উল্লেখ্য, গত ১৪ মে রাতে কাকরাইল মসজিদের সামনে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংলাপে বসেন। আলোচনার এক পর্যায়ে হঠাৎ তার দিকে একটি প্লাস্টিকের পানির বোতল ছুড়ে মারা হয়। ঘটনাটি উপস্থিত সবাইকে হতবাক করে দেয়। তবে এতে উপদেষ্টা গুরুতর আহত হননি।

    ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, বোতল নিক্ষেপের সঙ্গে সঙ্গে এক তরুণ ভিড়ের মধ্যে মিশে যান। তার মুখ আংশিক দৃশ্যমান ছিল। পুলিশ জানায়, আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

  • গণঅনশনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

    গণঅনশনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

    তৃতীয় দিনের মতো চার দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখের কাকরাইল মোড়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা।

    শুক্রবার (১৬ মে) বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে গণঅনশন কর্মসূচি শুরু করেন তারা। এতে যোগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীরা।

    এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন শিক্ষক সমিতির মুখপাত্র ও ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মোর্শেদ ভূইঁয়া। তিনি বলেন, আমরা যখন ক্যাম্পাস থেকে এসেছি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এখান থেকে ফিরবো না। এই মুহূর্ত থেকে আমাদের গণঅনশন শুরু হলো।

    এর আগে বিকাল ৩টায় সমাবেশে ‘জবি ঐক্যের’ পক্ষ থেকে গণঅনশনের ঘোষণা দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহতাব লিমন। তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলন এমন জায়গায় এসে পৌঁছেছে আমাদের আর পেছনে ফেরার জায়গা নেই। আমরা বিকেল সাড়ে তিনটায় অনশন কর্মসূচি শুরু করব। বিজয় না নিয়ে আমরা ফিরছি না।

    এর আগে শুক্রবার সকালে কাকরাইলে আন্দোলনস্থলে সমবেশ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা।

    সরেজমিনে দেখা যায়, দাবি আদায়ে তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলন করছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কিছুক্ষণ পর পর ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। আবার কেউ কেউ ছোট ছোট মিছিল নিয়ে আসছেন কাকরাইল মোড়ে। জানাচ্ছেন আন্দোলনরতদের সঙ্গে সংহতি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এতে মুখরিত হয়ে উঠেছে কাকরাইল মোড়।

    ‘ইউজিসির কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’ ‘আমার ভাই আহত কেন, মাহফুজ তুই জবাব দে’ ‘আমার বোন আহত কেন, মাহফুজ তুই জবাব দে’, ‘১, ২, ৩, ৪ ক্যাম্পাস আমার অধিকার, ‘বৈষম্যের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ক্ষমতা না জনতা জনতা, জনতা জনতা’।

    এছাড়া ‘তুমি কে, আমি কে? জবিয়ান জবিয়ান’, সিন্ডিকেটের আস্তানা ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও, জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’, দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত, ‘রক্ত লাগলে রক্ত নে, তবু মোদের হল দে’, ‘আইসা পড়ছি যমুনা, খালি হাতে যামু না’, ‘পুলিশ দিয়ে আন্দোলন, বন্ধ করা যাবে’সহ নানা স্লোগান দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

    প্রসঙ্গত, গত বুধবার (১৪ মে) সকাল ১১টায় তিন দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের উদ্দেশ্যে লং মার্চ শুরু করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। লং মার্চটি গুলিস্তান, মৎস্য ভবন পার হয়ে কাকরাইল মসজিদের সামনে পৌঁছালে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে লং মার্চে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর। এ সময় ছত্রভঙ্গ করতে গরম পানি ছোড়ে পুলিশ। শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

    পরবর্তীতে রাতে উপদেষ্টা মাহফুজ সামনে এসে ব্রিফিং করতে আসেন। তার ব্রিফিংয়ে অসন্তুষ্ট হন শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা উপদেষ্টা মাহফুজকে উদ্দেশ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। বক্তৃতার একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে একজন তাকে লক্ষ্য করে বোতল ছুড়ে মারেন। এতে উপদেষ্টা মাহফুজ রাগান্বিত হয়ে ব্রিফিং বন্ধ করে চলে যান।

    এছাড়াও গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রইস উদ্দিন। ওইদিন রাতেই তিনি দাবি না মানলে গণঅনশন কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

    এদিকে তিনদফা দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করলেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি হামলার পর শিক্ষার্থীদের আগের তিন দফা দাবির সঙ্গে নতুন আরও এক দাবি যুক্ত হয়েছে।

    শিক্ষার্থীদের বর্তমান চার দফা দাবি হলো-

    • বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে আবাসন বৃত্তি চালু করা,
    • জবির প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কাটছাঁট না করে অনুমোদন,
    • দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ একনেক সভায় পাস ও বাস্তবায়ন।
    • ১৪ মে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অতর্কিত হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
  • উপদেষ্টা মাহফুজকে বোতল ছোঁড়া সেই জবি ছাত্র আটক, ডিবিতে জিজ্ঞাসাবাদ

    উপদেষ্টা মাহফুজকে বোতল ছোঁড়া সেই জবি ছাত্র আটক, ডিবিতে জিজ্ঞাসাবাদ

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আন্দোলনের মধ্যে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকে উদ্দেশ্য করে ভরা পানির বোতল ছুড়ে মারা সেই যুবককে আটক করেছে ডিবি পু্লিশ। বর্তমানে ডিবি কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

    শুক্রবার (১৬ মে) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ তালিবুর রহমান।

    তিনি জানিয়েছেন, ‘এ ঘটনায় একজন যুবককে আটক করা হয়েছে। তাকে ডিবি কার্যালয়ে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে তার অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

    এর আগে বুধবার রাতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে যান উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। কিছু সময় পর হঠাৎই একটি ভরা পানির বোতল উড়ে এসে তার মাথায় পড়ে। এরপর কথা শেষ না করেই চলে যান মাহফুজ।

    জানা গেছে, বোতল ছুড়ে মারা ওই যুবকের নাম ইশতিয়াক হোসেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ১৯তম ব্যাচের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

    যদিও এ ঘটনায় ওই যুবকের দাবি, তিনি মাহফুজকে উদ্দেশ্য করে বোতল ছুড়ে মারেননি। আন্দোলনের তাৎক্ষণিক উত্তেজনায় বোতলটি তিনি উপরের দিকে মেরেছিলেন, দুর্ভাগ্যক্রমে সেটি উপদেষ্টার মাথায় গিয়ে পড়ে।

  • জবি শিক্ষক সমিতির সঙ্গে বৈঠকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়-ইউজিসি

    জবি শিক্ষক সমিতির সঙ্গে বৈঠকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়-ইউজিসি

    চার দফা দাবিতে টানা তিনদিন ধরে আন্দোলনরত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের দাবিকে কেন্দ্র করে শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে মিটিংয়ে বসেছেন বৈঠকে বসেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নেতারা।

    শুক্রবার (১৬ মে) দুপুরে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কার্যালয়ে এই বৈঠকে অংশ নেন জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইস উদ্দিন, ড. বেলাল হোসাইনসহ একটি প্রতিনিধি দল।

    এর আগে শুক্রবার সকালে কাকরাইলে আন্দোলনস্থলে সমবেশ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। জুমার পর থেকে আন্দোলরত শিক্ষার্থীদের গণঅনশন কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা।
    সরেজমিনে দেখা যায়, দাবি আদায়ে তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলন করছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কিছুক্ষণ পর পর ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। আবার কেউ কেউ ছোট ছোট মিছিল নিয়ে আসছেন কাকরাইল মোড়ে। জানাচ্ছেন আন্দোলনরতদের সঙ্গে সংহতি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এতে মুখরিত হয়ে উঠেছে কাকরাইল মোড়।

    ‘ইউজিসির কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’ ‘আমার ভাই আহত কেন, মাহফুজ তুই জবাব দে’ ‘আমার বোন আহত কেন, মাহফুজ তুই জবাব দে’, ‘১, ২, ৩, ৪ ক্যাম্পাস আমার অধিকার, ‘বৈষম্যের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ক্ষমতা না জনতা জনতা, জনতা জনতা’।

    এছাড়া ‘তুমি কে, আমি কে? জবিয়ান জবিয়ান’, সিন্ডিকেটের আস্তানা ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও, জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’, দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত, ‘রক্ত লাগলে রক্ত নে, তবু মোদের হল দে’, ‘আইসা পড়ছি যমুনা, খালি হাতে যামু না’, ‘পুলিশ দিয়ে আন্দোলন, বন্ধ করা যাবে’সহ নানা স্লোগান দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

    প্রসঙ্গত, গত বুধবার (১৪ মে) সকাল ১১টায় তিন দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের উদ্দেশ্যে লং মার্চ শুরু করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। লং মার্চটি গুলিস্তান, মৎস্য ভবন পার হয়ে কাকরাইল মসজিদের সামনে পৌঁছালে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে লং মার্চে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর। এ সময় ছত্রভঙ্গ করতে গরম পানি ছোড়ে পুলিশ। শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

    পরবর্তীতে রাতে উপদেষ্টা মাহফুজ সামনে এসে ব্রিফিং করতে আসেন। তার ব্রিফিংয়ে অসন্তুষ্ট হন শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা উপদেষ্টা মাহফুজকে উদ্দেশ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। বক্তৃতার একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে একজন তাকে লক্ষ্য করে বোতল ছুড়ে মারেন। এতে উপদেষ্টা মাহফুজ রাগান্বিত হয়ে ব্রিফিং বন্ধ করে চলে যান।

    এছাড়াও গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রইস উদ্দিন।

    শিক্ষার্থীদের প্রথম তিন দফা দাবি হলো-বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে আবাসন বৃত্তি চালু করা, জবির প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কাটছাঁট না করে অনুমোদন, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ একনেক সভায় পাস ও বাস্তবায়ন। এদিকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি হামলার শিক্ষার্থীদের আগের তিন দফা দাবির সঙ্গে নতুন আরও এক দাবি যুক্ত হয়েছে। ১৪ মে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অতর্কিত হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।