Category: শিক্ষাঙ্গন

  • সাম্য হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

    সাম্য হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সকল আসামীর অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তারে প্রশাসনকে আগামী ৪৮ ঘণ্টা আল্টিমেটাম দিয়ে শাহবাগ থানা ঘেরাও করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

    শুক্রবার (১৬মে) বেলা সাড়ে ১১টায় ‘জাস্টিস ফর সাম্য’ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সাম্য হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষ করে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগ থানা ঘেরাও করে।

    এসময় তারা ‘আমার ভাই মরলো কেন? প্রশাসন জবাব চাই,’ ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস, জাস্টিস, জাস্টিস’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’ ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন,’ প্রভৃতি স্লোগান দেন।

    এর আগে রাজুতে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের দাবি খুবই স্পষ্ট- আমরা সাম্য হত্যার সঠিক বিচার চাই। কিন্তু, একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে প্রশাসন কীভাবে ঘুমায়? সেটা আমাদের মাথায় আসেনা। সেদিনের ঘটনায় বাংলা অ্যাকাডেমির সিসি ক্যামেরা, শমরিতা হাসপাতালের সিসি ক্যামেরা দেখলেই তো স্পষ্ট হওয়া যায় কারা খুনি। কিন্তু প্রশাসন কেন লুকাচ্ছে এসব? তাদের উদ্দেশ্যটা কী? তারা এটা নিয়ে প্রহসন চালাচ্ছে।

    আরেক শিক্ষার্থী বলেন, যদি সাম্যের আসামিদের গ্রেপ্তার না করা হয় তবে আমরা শাহবাগ থানার সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দিবো। আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার করতে হবে। আমার ভাইয়ের লাশের সাথে মকারি করা চলবে না।

    ঘেরাও চলাকালে বিক্ষোভকারীদের একটি প্রতিনিধিদল থানায় গিয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন।

    শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মনসুর সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা থানায় এসে তাদের দাবি জানিয়েছেন। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং আশ্বস্ত করেছি। এরপর তারা ফিরে গেছেন।’

    এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, অপরাধীদের গ্রেপ্তারে তাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

  • সকালে জবিয়ান সমাবেশ, জুম্মার পর গণঅনশন

    সকালে জবিয়ান সমাবেশ, জুম্মার পর গণঅনশন

    শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে আজ শুক্রবার জুম্মার নামজের পর থেকে গণঅনশন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

    বৃহস্পতিবার (১৫ মে) রাত ১২টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন নেতৃবৃন্দের মতামতের ভিত্তিতে ‘জবি ঐক্যের’ পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইছউদ্দীন এ ঘোষণা দেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কাকরাইল মোড়েই অবস্থান করবেন শিক্ষার্থীরা।

    অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন বলেন, আমরা সরকারের নিকট আমাদের অধিকার আদায়ের দাবি জানিয়েছিলাম। তারা আমাদের উপর হামলা চালিয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বেধড়ক মেরেছে কিন্তু আমাদের অধিকারের বিষয়ে কোন কর্নপাত করেনি। এমনকি ৩৫ ঘন্টা পার হলেও কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি প্রশাসন। সরকার থেকে কোন বার্তা আসেনি।

    তিনি বলেন, দাবি আদায়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কাল (আজ শুক্রবার) জুম্মার পরে গণঅনশন শুরু করবে। এতে সকল সাবেক ও বর্তমান জবিয়ানদের অংশ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিন শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে আন্দোলন স্থলে শুরু হবে জবিয়ান সমাবেশ শুরু হবে।

    একই সাথে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির আন্দোলনে পুলিশ কতৃক শিক্ষক শিক্ষার্থী, সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ১৪ মে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কালো দিবস পালনের ঘোষণা দেন তিনি।

    তিনি বলেন, এই রাজ পথেই আমরা কাল জুম্মার নামাজ আদায় করবো। আমি সকল সাবেক বর্তমান জবিয়ানদের আহ্বান জানাই এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার।

    এসময় শিক্ষার্থীরা ‘আবাসন চাই, বঞ্চনা নয়’, ‘বাজেট কাটছাঁট চলবে না’, ‘হামলার বিচার চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

    এর আগে গত বুধবার (১৪ মে) সকাল ১১টায় তিন দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের উদ্দেশ্যে লং মার্চ শুরু করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। লং মার্চটি গুলিস্তান, মৎস্য ভবন পার হয়ে কাকরাইল মসজিদের সামনে পৌঁছালে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে লং মার্চে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর। এ সময় ছত্রভঙ্গ করতে গরম পানি ছোড়ে পুলিশ। শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

    পরবর্তীতে রাতে উপদেষ্টা মাহফুজ সামনে এসে ব্রিফিং করতে আসেন। তার ব্রিফিংয়ে অসন্তুষ্ট হন শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা উপদেষ্টা মাহফুজকে উদ্দেশ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। বক্তৃতার একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে একজন তাকে লক্ষ্য করে বোতল ছুড়ে মারেন। এতে উপদেষ্টা মাহফুজ রাগান্বিত হয়ে ব্রিফিং বন্ধ করে চলে যান।

    এদিকে শিক্ষার্থীদের আগের তিন দফা দাবির সঙ্গে নতুন আরও এক দাবি যুক্ত হয়েছে। ১৪ মে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অতর্কিত হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

    এছাড়াও গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রইস উদ্দিন।

    তিনি বলেন, আমরা এখানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকার নিয়ে এসেছি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি আদায়ের জন্য এসেছি। আমাদের ওপর নির্বিচারে পুলিশ হামলা চালিয়েছে। এটি সম্পূর্ণ অন্যায়। আমরা কারও বিরুদ্ধে এখানে কথা বলতে আসিনি এবং কোনো ষড়যন্ত্র করতেও আসিনি। আমাদের অধিকার চাইতে এসেছি। দাবি আদায় না করে আমরা ঘরে ফিরবো না। দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন চলবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষা-পরীক্ষা কার্যক্রম চলবে না, দাবি আদায় করে আমরা ঘরে ফিরবো।

    শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি হলো-বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে আবাসন বৃত্তি চালু করা, জবির প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কাটছাঁট না করে অনুমোদন, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ একনেক সভায় পাস ও বাস্তবায়ন।

  • জার্মান ইউনিভার্সিটি বন্ধ ঘোষণা

    জার্মান ইউনিভার্সিটি বন্ধ ঘোষণা

    গাজীপুরে অবস্থিত জার্মান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। তবে কি কারনে বিশ্ববিদ্যালয়টি বন্ধ ঘোষণা করা হলো তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    বৃহস্পতিবার (১৫ মে) বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানানো হয়েছে। ৬ষ্ঠ জরুরি সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘অনিবার্য কারণবশত’ এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত সকল ছাত্রছাত্রী এবং কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জানানো যাচ্ছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। আগামী শুক্রবার (১৬ মে) থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

  • শিক্ষার্থীর সঙ্গে রাবি শিক্ষকের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল

    শিক্ষার্থীর সঙ্গে রাবি শিক্ষকের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফাইন্যান্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহকে নিজ কক্ষে এক ছাত্রীসহ অপ্রীতিকর অবস্থায় পাওয়া গেছে।

    বুধবার (১৪ মে) রাতে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে রবিবার (১১ মে) সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটে।

    অভিযুক্ত শিক্ষক মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’- এর সদস্য। গত জুলাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন বলে জানা গেছে।

    জানা গেছে, রবিবার বিকেল ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অ্যাকাডেমিক ভবনের ৩০৭নং কক্ষে ওই ছাত্রীকে নিয়ে ঢোকেন অধ্যাপক হেদায়েত উল্লাহ। কক্ষে ঢোকার পর তিনি বৈদ্যুতিক বাতি নিভিয়ে দেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী ওই কক্ষের দরজায় কড়া নাড়লে কিছুক্ষণ পর শিক্ষক দরজা খুলেন। এ সময় তারা কক্ষে ঢুকে দেখতে পান ওই ছাত্রীর ওড়না ও হিজাব অনুপস্থিত ছিল এবং তার ব্যাগ, সেফটিপিনসহ কিছু জিনিস শিক্ষকের টেবিলে পড়ে ছিল। পাশেই ছিল একটি বালিশ। পরিস্থিতি দেখে ছাত্ররা ভিডিও ধারণ শুরু করলে, শিক্ষক ছাত্রীটির মাথায় একটি রুমাল পরিয়ে দেন।

    শিক্ষার্থীরা তখন জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ‘কোর্স রিলেটেড একটা বিষয় বুঝার জন্য সে এখানে এসেছে।’ পরে শিক্ষার্থীরা উভয়ের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন এবং ঘটনাস্থলেই বিষয়টি মীমাংসা করেন।

    এ বিষয়ে জানতে মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহর মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

    ফাইন্যান্স বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. শিবলী সাদিক বলেন, ‘মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে এর আগে এক ছাত্রী বিভাগে যৌন হয়রানির অভিযোগ দিয়েছিল। তখন বিভাগের সভাপতি আরেকজন ছিলেন। পরে বিভাগের সভাপতি বসে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। তবে গত রবিবার ছাত্রীর সঙ্গে কক্ষে আপত্তিকর অবস্থায় থাকার বিষয়টি আমি জানি না।’

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে কিছু জানি না। কেউ অভিযোগ দেননি। তবে অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে ব্যবস্থা নেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।’

    এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীবকে একাধিকবার কল করলেও তিনি সাড়া দেননি।

  • সাম্য হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকবে ছাত্রদল

    সাম্য হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকবে ছাত্রদল

    স্বাধীনতার পর থেকে ছাত্রদল ছাড়া আর কোনো আর ছাত্র সংগঠন ছাত্রদের জন্য উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেনি দাবি করে সংগঠনটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেছেন, সাম্য হত্যার বিচার নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকবে তারা।

    এছাড়া দায়িত্ব নেবার পর গেল ৯ মাসে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থতার দায়ে তিনি পদত্যাগ দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি-প্রক্টরের। ঘোষণা দিয়েছে ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে অবস্থানেরও।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল বিশ্ববিদ্যালয়। বৃহস্পতিবার (১৫ মে) বিশ্ববিদ্যালয় শোক জানিয়ে অর্ধ দিবস ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত রাখলেও সাম্য হত্যার প্রতিবাদে ভিসির বাসভবনের সামনে কালো ব্যাজ ধারণ কর্মসূচি পালন করে ছাত্রদল।

    এসময় যোগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা। প্রশাসনের দ্বিচারিতা নিয়ে সমালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতারা।

    বৃষ্টি উপেক্ষা করে চলা কর্মসূচিতে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব জানান, সাম্য হত্যার বিচার ও নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকবেন তারা।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ‘আমরা দেখেছি, আমাদের ছোট ভাই সাম্যকে কীভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে কীভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়, তা আমাদের প্রশ্ন।

    তিনি বলেন, ‘আমরা ভিসিকে কয়েকবার ক্যাম্পাসকে নিরাপদ করার জন্য স্বারকলিপি দিয়েছি। কিন্তু কোনও পদক্ষেপ দেখতে পাইনি‌। ক্যাম্পাসে ৫ আগস্টের আগের কয়েক বছরে একটিও খুনের ঘটনা ঘটে নি। কিন্তু ৯ মাসে কীভাবে দুটি হত্যা হয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হ‌ওয়া প্রক্টরকে আজকের মধ্যে আর তাঁর পদে দেখতে চাই না। সেই সঙ্গে ভিসির পদত্যাগ দাবি করছি‌।’

    এর আগে গত মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে রাজধানীর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছুরিকাঘাতে খুন হন ছাত্রদল নেতা সাম্য।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে পড়তেন তিনি। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী এফ রহমান হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায়।

    পুলিশের ভাষ্য, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় আরেক মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লাগার জেরে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সাম্যকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এ ঘটনায় সকালে নিহতের বড় ভাই শরীফুল ইসলাম শাহবাগ থানায় ১০-১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন।

    এরমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর কারাগার পাঠানো হয়েছে। তারা হলেন- মো. তামিম হাওলাদার, সম্রাট মল্লিক এবং মো. পলাশ সরদার।

    এর মধ্যে তামিম হাওলাদারের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নে ব্রাহ্মন্দীতে। ওই এলাকার এরশাদ হাওলাদারের ছেলে তিনি।

  • জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন ঘোষণা

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন ঘোষণা

    শিক্ষার্থীদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রইস উদ্দিন।

    তিনি বলেন, আমরা এখানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকার নিয়ে এসেছি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি আদায়ের জন্য এসেছি। আমাদের ওপর নির্বিচারে পুলিশ হামলা চালিয়েছে। এটি সম্পূর্ণ অন্যায়। আমরা কারও বিরুদ্ধে এখানে কথা বলতে আসিনি এবং কোনো ষড়যন্ত্র করতেও আসিনি। আমাদের অধিকার চাইতে এসেছি। দাবি আদায় না করে আমরা ঘরে ফিরবো না। দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন চলবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষা-পরীক্ষা কার্যক্রম চলবে না, দাবি আদায় করে আমরা ঘরে ফিরবো।

    বৃহস্পতিবার (১৫ মে) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে কাকরাইলে এই ঘোষণা দেন তিনি।

    তিনি বলেন, আমাদের এখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য যদি কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় ভালো হবে না। আমার চোখের সামনে আমার কোনো শিক্ষার্থীকে কেউ আঘাত করতে পারবে না।

    এসময় শিক্ষার্থীরা ‘আবাসন চাই, বঞ্চনা নয়’, ‘বাজেট কাটছাঁট চলবে না’, ‘হামলার বিচার চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

    এর আগে গতকাল বুধবার সকাল ১১টায় তিন দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের উদ্দেশ্যে লং মার্চ শুরু করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। লং মার্চটি গুলিস্তান, মৎস্য ভবন পার হয়ে কাকরাইল মসজিদের সামনে পৌঁছালে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে লং মার্চে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর। এ সময় ছত্রভঙ্গ করতে গরম পানি ছোড়ে পুলিশ। শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

    পরবর্তীতে রাতে উপদেষ্টা মাহফুজ সামনে এসে ব্রিফিং করতে আসেন। তার ব্রিফিংয়ে অসন্তুষ্ট হন শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা উপদেষ্টা মাহফুজকে উদ্দেশ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। বক্তৃতার একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে একজন তাকে লক্ষ্য করে বোতল ছুড়ে মারেন। এতে উপদেষ্টা মাহফুজ রাগান্বিত হয়ে ব্রিফিং বন্ধ করে চলে যান।

    এদিকে শিক্ষার্থীদের আগের তিন দফা দাবির সঙ্গে নতুন আরও এক দাবি যুক্ত হয়েছে। ১৪ মে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অতর্কিত হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

    শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি হলো-বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে আবাসন বৃত্তি চালু করা, জবির প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কাটছাঁট না করে অনুমোদন, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ একনেক সভায় পাস ও বাস্তবায়ন।

  • উপদেষ্টা মাহফুজের মাথায় বোতল ছুঁড়ল জবি শিক্ষার্থীরা, ভুয়া ভুয়া স্লোগান

    উপদেষ্টা মাহফুজের মাথায় বোতল ছুঁড়ল জবি শিক্ষার্থীরা, ভুয়া ভুয়া স্লোগান

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির বিষয়ে কথা বলতে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের প্রসঙ্গ তুলতেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখে পড়েন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। কথা বলার একপর্যায়ে তাকে লক্ষ্য করে পানির বোতল ছুঁড়ে মারা হলে তিনি বক্তব্য শেষ না করেই স্থান ত্যাগ করেন।

    বুধবার (১৪ মে) রাত ১০টার দিকে কাকরাইল মসজিদের পাশে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সামনে পুলিশের ব্যারিকেডের কাছে বক্তব্য দিচ্ছিলেন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। এ সময় হঠাৎ একটি পানির বোতল ছুঁড়ে মারা হয়, যা তার মাথায় লাগে। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বক্তব্য শেষ না করেই সেখান থেকে সরে যান।

    বক্তব্যের শুরুতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন। বিষয়টি নিয়ে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করে সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

    তবে দুপুরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আজকে হয়তো কিছু পুলিশ সদস্য…” — কথা শেষ করার আগেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে “ভুয়া, ভুয়া” স্লোগান ওঠে। ঠিক তখনই হঠাৎ করে একটি বস্তু, সম্ভবত পানির বোতল, তার মাথায় আঘাত করে।

    এরপর উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, “আমি আর কথা বলব না।” পরে তিনি পুলিশের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’র দিকে ফিরে যান।

  • জবি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ, আহত অর্ধশত

    জবি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ, আহত অর্ধশত

    আবাসন সমস্যার সমাধানসহ তিন দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লংমার্চ পুলিশের বাধায় আটকে গেছে। রাজধানীর কাকরাইল এলাকায় তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এতে শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও সাংবাদিকসহ আহত হয়েছেন অর্ধশত।

    বুধবার (১৪ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মৎস্যভবন পার হয়ে কাকরাইল মসজিদের ক্রসিং মোড় এলেই তাদের বাধা দেয় পুলিশ।

    প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ ও মিছিলের ওপর সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ডিএমপি। এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার অভিমুখে যাওয়ার চেষ্টা করলে শুরু হয় পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ। প্রতিবাদে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যমুনা অভিমুখে কাকরাইল মসজিদের ক্রসিং মোড়ের সামনে বসে পড়েন।

    শিক্ষার্থীরা জানান, পুলিশের হামলায়, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ আহত হয়েছেন ৫০ জন।

    আন্দোলনকারীদের তিন দফা দাবি হলো-আবাসনব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০% শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন বৃত্তি ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে কার্যকর করতে হবে; জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কাঁটছাট না করেই অনুমোদন করতে হবে; জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ পরবর্তী একনেক সভায় অনুমোদন করে অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করতে হবে।

    এদিন বেলা সাড়ে ১১টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে রওয়ানা হন। পদযাত্রা প্রথমে গুলিস্তান মাজার গেইট বাধার সম্মুখীন হয়। পরে মৎস্যভবনে ফের পুলিশের বাধা অতিক্রম করে যমুনা অভিমুখে এগিয়ে যেতে থাকেন জবি শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের পদযাত্রা কাকরাইল মসজিদ ক্রসিং মোড়ে আসতেই অতর্কিত টিয়ারগ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড, গরম পানি নিক্ষেপ করতে শুরু করে পুলিশ। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ৫০ জন আহত হন। টিয়ারগ্যাসে আহত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দিন, সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন লিমন, এছাড়া ঢাকা ট্রিবিউন এর জবি প্রতিনিধি সোহান ফরাজি, দৈনিক সংবাদের জবি প্রতিনিধি মেহেদী।

    আহত সাংবাদিক মাহতাব লিমন, মেহেদীসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    আহত শিক্ষক সমিতির সেক্রেটারি ড. মো. রইছ উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার বিচার ও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা এখানে অবস্থান করব।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. তাজাম্মুল হক বলেন, আমার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ হামলা চালিয়েছে। আমার সহকারী প্রক্টরের ওপর পুলিশ আঘাত করেছে। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য আন্দোলনে পুলিশ অমানবিক আচারণ করেছে। এর বিচার না হওয়া পর্যন্ত এখন থেকে যাওয়া হবে না।

    এ ব্যাপারে রমনা জোনের ডিসি মাসুদ বলেন, যমুনার সামনে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এখানে মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

  • বর্তমান অর্থনীতি ব্যবসার অর্থনীতি, মানুষের অর্থনীতি নয়: প্রধান উপদেষ্টা

    বর্তমান অর্থনীতি ব্যবসার অর্থনীতি, মানুষের অর্থনীতি নয়: প্রধান উপদেষ্টা

    বর্তমান অর্থনীতি ব্যবসার অর্থনীতি, মানুষের অর্থনীতি নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বলেন, বর্তমান অর্থনীতি ব্যবসার অর্থনীতি, মানুষের অর্থনীতি নয়। যেকোনো অর্থনীতিবিদ্যা মানুষকে দিয়ে শুরু করতে হবে। আমরা এক ব্যবসাকেন্দ্রিক সভ্যতা গড়ে তুলেছি। এই সভ্যতা আত্মঘাতী সভ্যতা। এটা টিকবে না। আমাদের নতুন সভ্যতা গড়ে তুলতে হবে।

    বুধবার (১৪ মে) দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

    ক্ষুদ্র ঋণব্যবস্থার প্রবর্তন এবং এর জন্য শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ১৮৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় মানুষের জন্য কিছু একটা করার তাগিদ থেকে এই ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছিলেন। এর জন্য নোবেল পুরস্কার পাবেন সেটা তাঁর মনে কখনো আসেনি।

    নিজের দীর্ঘদিনের কর্মস্থল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে অতীতের স্মৃতিচারণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ১৯৭২ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করি। এরপর ৭৪ সালে দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। সারাদেশে তখন হাহাকার চলছে। সেই দুর্ভিক্ষ দেখে মানুষের জন্য কিছু করার চিন্তা আসে। এই চিন্তা থেকে ক্ষুদ্র ঋণ চালু করি। নোবেল পুরুস্কার পাবো তা কখনও মনে আসেনি।

    পৃথিবীর ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের হাতে এমন মন্তব্য করে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, গবেষণার মাধ্যমে পুরো বিশ্বকে নিজেদের আয়ত্তের মধ্যে রাখতে হবে। পৃথিবীর ভবিষ্যৎ কেমন হবে তা ছাত্র সমাজই ঠিক করবে।

    ড. ইউনূস বলেন, পৃথিবীকে সাজানো প্রতিটি গবেষণার মূল লক্ষ্য হতে হবে। অন্যথায় তা গন্তব্যহীন গবেষণা হবে।

    এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি দেয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)। ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠায় অনন্য অবদানের জন্য নোবেল জয়ী অধ্যাপককে এই ডিগ্রি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত পঞ্চম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে ডি লিট ডিগ্রি তুলে দেন উপাচার্য ড. ইয়াহ্ইয়া আখতার।

    এ সময় চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) মো. কামাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আজ (বুধবার) প্রথমবার চট্টগ্রাম সফরে যান ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানে তিনি বেশ কিছু কর্মসূচিতে অংশ নেন। বিকেলেই তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

  • জিএসটি গুচ্ছের  ‘এ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ, পাসের হার  ৪৫দশমিক ৭৪

    জিএসটি গুচ্ছের ‘এ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৪৫দশমিক ৭৪

    জিএসটি গুচ্ছভুক্ত ১৯টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। পরীক্ষায় কৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৭ হাজার ৪২৫ জন। যা শতকরায় ৪৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

    মঙ্গলবার (১৩ মে) বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের পর থেকে ফলাফল ভর্তিসংক্রান্ত ওয়েবসাইটে (gstadmisson.ac.bd) প্রকাশিত হয়েছে।

    জানা গেছে, ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৪২ হাজার ৭১৪ জন। এরমধ্যে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৫৩ জন (শতকরা ৮৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ)। পরীক্ষায় কৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৭ হাজার ৪২৫ জন (শতকরা ৪৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ) এবং অকৃতকার্য সংখ্যা ৬৮ হাজার ১২৮ জন (শতকরা ৫৪ দশমিক ২৬ শতাংশ)।

    এবার অনুপস্থিতির সংখ্যা ১৭ হাজার ১৬১ জন (শতকরা ১২ দশমিক ০২ শতাংশ)। ওএমআর বাতিলের সংখ্যা ৩৯টি। ১০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রাপ্ত নম্বর ৮৪ দশমিক ৭৫ ও সর্বনিম্ন প্রাপ্ত নম্বর মাইনাস ১৫ দশমিক ৭৫।

    বিকেল ৩টায় গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির আহবায়ক ও মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দের সভাপতিত্বে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে ফলাফল ঘোষণার পর কমিটির আহবায়ক সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ তথ্য জানান।

    উল্লেখ্য, গত ২৫ এপ্রিল ‘সি’, ২ মে, ‘বি’ এবং ৯ মে ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। এ নিয়ে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সকল ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন এবং ফলাফলও প্রকাশিত হয়েছে।