Category: প্রধান সংবাদ

  • এনসিপিতে যোগ দিলেন ছাত্রদল নেতা সাম্যর ভাই সাগর

    এনসিপিতে যোগ দিলেন ছাত্রদল নেতা সাম্যর ভাই সাগর

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নিহত নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্যর বড় ভাই সর্দার আমিরুল ইসলাম সাগর জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন। সাগর নিজেও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

    ২০১৭ সালের আগস্টে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে বহিষ্কার হন সাগর। তবে ২০১৯ সালের ১৭ এপ্রিল তার বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করে সাগরকে সংগঠনে ফিরিয়ে নেয় ছাত্রদল।

    রোববার গঠিত এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তর সমন্বয় কমিটির সদস্য করা হয়েছে তাকে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এফ রহমান হল ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক সাম্য গত ১৩ মে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের পাশে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিহত হন। এ হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে ছাত্রদল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি এবং প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে টানা এক সপ্তাহ শাহবাগ অবরোধ করে আন্দোলন করে। সাম্য ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সর্বাত্মক অংশ নেন। সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল আমিরুল ইসলাম সাগরেরও।

    এনসিপিতে যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে সাগর বলেন, ‘২০১৯ সালে ছাত্র রাজনীতি ছাড়ার পর থেকে আর কিছুতে ছিলাম না। জিয়াউর রহমানের আদর্শের জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। আমার বাবাও ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা ছিলেন। গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে জাতীয়তাবাদের রাজনীতি করার প্রচেষ্টা হিসেবেই এনসিপিতে যোগ দিয়েছি।’

  • তহবিল সংকটে ইউনিসেফ: চাকরি হারালেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১২’শ শিক্ষক

    তহবিল সংকটে ইউনিসেফ: চাকরি হারালেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১২’শ শিক্ষক

    তহবিল সংকট প্রকট আকার ধারণ করায় টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১ হাজার ২০০ শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এতে ক্যাম্পের ৪ লাখ শিশু ও কিশোর শিক্ষা ঝুঁকিতে পড়েছে। নতুন তহবিল সংগ্রহ করা না গেলে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‌‘ইউনিসেফ তাদের তহবিল সংকটের কারণে ক্যাম্পের লার্নিং সেন্টার চালানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে। সব মিলিয়ে ক্যাম্পে ৪ লাখের মতো শিক্ষার্থী আছে। আর প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ২০০ বাঙালি শিক্ষকের চাকরি চলে গেছে। অন্যদের বেতন পরিশোধ করার মতো অবস্থায় ইউনিসেফ নেই। বাকি শিক্ষকদের পর্যায়ক্রমে চাকরিচ্যুতির বিষয় জানানো হবে। বিষয়টি নিয়ে ইউনিসেফ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তহবিল না পেলে এই সংকট থেকে বের হওয়ার কোনো উপায় দেখছি না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পের লার্নিং স্কুলে মিয়ানমারের কারিকুলাম অনুসরণ করে পড়ানো হয়। সাধারণত বাঙালি শিক্ষকরা ইংরেজি পড়ান। কারও চাকরি চলে যাচ্ছে, এটা তার পরিবার এমনকি আমাদের জন্যও দুঃখজনক।’

    প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের শিশু তহবিল-ইউনিসেফ রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা করতে ক্যাম্পে দীর্ঘদিন ধরে ‘লার্নিং স্কুল’ পরিচালনা করে আসছে। ইউনিসেফের তহবিলে দেশীয় বেশ কয়েকটি এনজিও প্রকল্পের মাধ্যমে স্কুলগুলো চালাচ্ছিল। সব মিলিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিদ্যায়তনে ৮ হাজার শিক্ষক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪ হাজার বাঙালি ও ৪ হাজার রোহিঙ্গা শিক্ষক। এদের মধ্যে বৃহস্পতিবার আকস্মিকভাবে ১ হাজার ২০০ বাঙালি শিক্ষককে চাকরিচ্যুতির বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়। বিনা নোটিশে চাকরি হারানোর প্রতিবাদে রোববার উখিয়া ও টেকনাফে বিক্ষোভ করেছেন চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা।

    এদিকে গত শনিবার দিনভর উখিয়া শহীদ মিনার চত্বরে চাকরিচ্যুত করার প্রতিবাদে ও পুনরায় চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। বিক্ষোভকারী শিক্ষকরা জানান, ‘বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে পরিচালিত রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য স্কুলগুলোতে স্থানীয় ও রোহিঙ্গা উভয় সম্প্রদায়ের শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছিল। তবে হঠাৎ করে অর্থ সংকটের কারণ দেখিয়ে শুধু স্থানীয় ১ হাজার ২৫০ জন শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়। যেখানে রোহিঙ্গা শিক্ষকরা বহাল আছেন। আরও প্রায় ৩ হাজার শিক্ষককে ছাঁটাইয়ের প্রস্তুতি চলছে।’ এভাবে চললে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ পরিচালনাকারী কোনো এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংস্থার গাড়ি প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

    এ বিষয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চাকরি পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। ভুক্তভোগী শিক্ষকরা বলেন, ‘রোহিঙ্গা শিক্ষকরা যদি কাজ করতে পারেন তাহলে আমরা কেন পারব না? শুধু আমাদেরই চাকরিচ্যুত করা হলো। এ বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নেব না।’ মাস পাঁচেক আগে বেতন বৈষম্য নিয়ে আন্দোলন করার কারণ তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

    উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘ইউনিসেফের অর্থায়নে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এনজিও ক্যাম্পে শিক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে। কিন্তু অর্থ সংকটের কারণে শিক্ষা প্রকল্পটি বন্ধ করার প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়টি ইউনিসেফ চিঠিযোগে সরকারকে অবহিত করেছে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত প্রকল্প চালানোর অর্থ তাদের রয়েছে বলে চিঠিতে বলা হয়েছিল। এর প্রতিবাদে দুইদিন ধরে শিক্ষকরা প্রতিবাদ করছেন।’

    রোববার ইউনিসেফ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট মোকাবেলায় ইউনিসেফ যে কার্যক্রম চালায়, তার তহবিল সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে শরণার্থী শিবিরগুলোর ৮৩ শতাংশ শিক্ষার্থীর ওপর। এসব শিক্ষার্থী ইউনিসেফ সহায়তাপুষ্ট শিক্ষাকেন্দ্রে পড়াশোনা করে।

    এদিকে গতকাল শনিবার ইউনিসেফ এক বিবৃতিতে বলছে, নতুন তহবিল গঠন এবং নতুন করে কার্যক্রম সাজানোর ‘নিরলস প্রচেষ্টা’ চালানোর পরও তহবিল সংকটের কারণে সংস্থাটিকে কিছু ‘কষ্টদায়ক’ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষকদের সহায়তা স্থগিত করার মতো বিষয়। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ১ হাজার ১৭৯ জন স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষকের সঙ্গে ইউনিসেফের চুক্তি শেষ হবে। এই স্বেচ্ছাসেবকরা মূলত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সদস্য।

    ইউনিসেফ বলছে, শিক্ষা কেন্দ্রগুলো চলতি জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এরপর এসব কেন্দ্র খোলার বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করবে নতুন তহবিল পাওয়ার ওপর।

  • ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে সেনাবাহিনীর স্পষ্ট অবস্থান দেখতে চাই: সারজিস

    ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে সেনাবাহিনীর স্পষ্ট অবস্থান দেখতে চাই: সারজিস

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আমরা এখনো যথেষ্ট সম্মানের জায়গায় রাখি। কিন্তু ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে তাদেরও স্পষ্ট অবস্থান এবং কার্যক্রম আমরা দেখতে চাই।’

    রোববার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে সারজিস আলম এ কথা বলেন। জি এম কাদেরের রংপুরের বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার বিষয়ে গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে রংপুর মহানগরের পায়রা চত্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহানগরের আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ও জেলার আহ্বায়ক ইমরান আহমেদের সঙ্গে কথা বলেন সেনাসদস্যরা। খবর পেয়ে রাত দেড়টার দিকে ঘটনাস্থলে যান সারজিস আলম। সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পর রাত দুইটার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই নেতাকে নিয়ে ঘটনাস্থল ছাড়েন তিনি।

    এরপর আজ সন্ধ্যায় ‘রংপুর ও আওয়ামী লীগের B Team জাতীয় পার্টি ইস্যু!’ শিরোনামে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন সারজিস আলম। তিনি পোস্টে বলেন-

    ‘১. তিন দিন আগে রংপুরে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনীত অবৈধ নির্বাচনের একাধিকবারের অবৈধ মেয়র মোস্তফা আবার মেয়র পদে ফিরে আসার জন্য আওয়ামী লীগের পোষ্য বি টিম জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে রংপুর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে!

    ২. আওয়ামী লীগ ও ভারতের সঙ্গে নেগোসিয়েশন করে সাময়িক বিরোধিতার ভান ধরে বিরোধী দলের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছে জাতীয় পার্টি। এমনকি বিএনপি-জামায়াত যখন প্রহসনের অবৈধ নির্বাচন থেকে দূরে থেকেছে, হাজারো অন্যায়, জুলুম, অত্যাচার সহ্য করেছে, তখন এই জাতীয় পার্টি বিরোধী দল সেজে আওয়ামী লীগকে সরকারি দলের বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টা করেছে! সব সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছে!

    ৩. দুই দিন আগে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের রংপুরে গিয়ে আবার স্থানীয় জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে নামার পরিকল্পনা শুরু করেছে!

    ৪. অতঃপর যখন রংপুরের ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য একসঙ্গে জি এম কাদের ও জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে অহিংস বিক্ষোভ মিছিল করে, তখন জাতীয় পার্টির সন্ত্রাসীরা সেই বিক্ষোভ মিছিলে প্রথম হামলা চালায়!

    এরপর জি এম কাদেরের বাড়িতে একটি বাইক পোড়ানোর ঘটনা দেখা যায়। এই বাইক পোড়ানোর মব বা ভ্যান্ডালিজমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রংপুরে দায়িত্বরত সেনাবাহিনী সংশ্লিষ্টদের খুঁজতে ৯ মাসের সর্বোচ্চ বড় অপারেশনের জন্য মাঠে নামে! মহানগর বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা ও মহানগরের বৈষম্যবিরোধীর আহ্বায়ককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ করা হতেই পারে, এটা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যে ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে সর্বশেষ এই ঘটনা ঘটেছে, সেই ঘটনাগুলোর কারণ কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে না খুঁজে সর্বশেষ বিষয় নিয়ে আদিখ্যেতা দেখানো শুরু হয়।

    জি এম কাদেরের বাড়ির পুরোনো বাইক আর সামান্য আগুন নিয়ে যাদের এত চিন্তা, তারা বিগত ৯ মাসে আওয়ামী সন্ত্রাসী–খুনিদের ধরতে কয়টা অভিযান চালিয়েছে? কতজনকে গ্রেপ্তার করেছে? যে মোস্তফা একাধিক অবৈধ নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হয়ে তাঁর পরিবারের সদস্য ও সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে রংপুরে লুটপাট চালিয়েছেন, কোটি টাকা দুর্নীতির আখড়া বানিয়েছে, সিটি করপোরেশনকে ডাকাতির ক্ষেত্র বানিয়েছে, সেই মেয়র মোস্তফাকে ধরতে কযত দিন অপারেশন চালানো হয়েছে? ৯ মাসে রংপুরের বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী দখলদারদের থেকে জনগণের ন্যায্য সম্পদ-অর্থ উদ্ধারের জন্য কয়টি অভিযান চালানো হয়েছে?

    জাতীয় পার্টির যে সন্ত্রাসীরা অবৈধ মেয়র মোস্তফার নেতৃত্বে প্রথম ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যের বিক্ষোভ মিছিলে হামলা চালিয়েছে, যে জি এম কাদের এলাকায় সন্ত্রাসীদের নিয়ে বৈঠক করে পরিস্থিতিকে উসকে দিয়েছে, তাদের ধরতে কয়টি অভিযান চালানো হয়েছে? বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আমরা এখনো যথেষ্ট সম্মানের জায়গায় রাখি। কিন্তু ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে তাদেরও স্পষ্ট অবস্থান এবং কার্যক্রম আমরা দেখতে চাই। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের সন্ত্রাসীরা তাদেরই বি টিম জাতীয় পার্টিরূপে ফিরে আসার চেষ্টা করলে সেই চেষ্টাকে ব্যর্থতায় পর্যবসিত করা হবে।’

  • নারীকে লাথি মেরে বহিষ্কার সেই জামায়াত কর্মী গ্রেফতার

    নারীকে লাথি মেরে বহিষ্কার সেই জামায়াত কর্মী গ্রেফতার

    চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের কর্মসূচিতে নারীকে লাথি মারার ঘটনায় বহিষ্কৃত জামায়াতে ইসলামীর কর্মী আকাশ চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রবিবার (০১ জুন) বিকালে নগরের কোতোয়ালি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওসি বলেন, ‘গোপন তথ্যের ভিত্তিতে খবর পেয়ে আকাশ চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের করা দ্রুত বিচার আইনের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

    মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ডাদেশ থেকে খালাস পাওয়ার প্রতিবাদে গত বুধবার বিকালে কর্মসূচি ঘোষণা করে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট। কর্মসূচি শুরুর পরপর সেখানে মিছিল নিয়ে আসে ‘শাহবাগবিরোধী ঐক্য’। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। এ সময় শাহবাগবিরোধী ঐক্যের লোকজন ছাত্র জোটের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান। এতে ১৫ জন আহত হন।

    পুলিশ জানায়, হামলার সময় ঘটনাস্থল থেকে ওবাইদুর ও সেলিমকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে আটক দুজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ২০ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করে। মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এলাকায় মহড়া দিয়ে জনমনে আতঙ্ক, ত্রাস ও রাস্তায় যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে।

    এরই মধ্যে হামলার ঘটনার ভিডিও ফেসবুক ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে এক নারীসহ দুজনকে পেছন থেকে লাথি মারতে দেখা যায় এক ব্যক্তিকে। যে ব্যক্তিকে লাথি মারতে দেখা গেছে, তার নাম আকাশ চৌধুরী।

    ভিডিওতে দেখা যায়, হামলার পর প্রেসক্লাবের পাশে একটি ভবনের নিচে আশ্রয় নেন গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নেতাকর্মীরা। সেখানে একজন পুলিশ সদস্যকেও দেখা গেছে। ওই ব্যক্তি পুলিশের চোখ এড়িয়ে নেতাকর্মীদের পেছনে যান। সেখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ একজনকে লাথি মারেন তিনি। এরপর ঘুরে আবার আরেক নারীকে লাথি মারেন। গত ৩০ মে রাতে মহানগরের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে নারীকে লাথি মারার ঘটনায় আকাশ চৌধুরীকে বহিষ্কার করা হয়।

  • নগদে আতিক মোর্শেদের স্ত্রীর নিয়োগে অনিয়ম পেয়েছে দুদক

    নগদে আতিক মোর্শেদের স্ত্রীর নিয়োগে অনিয়ম পেয়েছে দুদক

    মোবাইল ব্যাংকিং নগদের দুর্নীতি অনুসন্ধানে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আতিক মোর্শেদের স্ত্রীর নিয়োগে প্রাথমিকভাবে অনিয়মের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

    রোববার (১ জুন) সংস্থাটির কর্মকর্তারা নগদের গুলশান অফিসে অভিযান পরিচালনা করেন।

    পরে দুদকের সহকারী পরিচালক ইকরাম হোসেন জানান, নগদে অভিযান চালিয়ে প্রধান উপদেষ্টার আইসিটি বিষয়ক বিশেষ সহকারীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তার স্ত্রীকে চাকরি দেয়ার ক্ষেত্রে অসঙ্গতির তথ্য মিলেছে।

    এছাড়া নগদের গত দুই মাসের বিল ভাউচারের মাধ্যমে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ বিষয়েও তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।

    এদিকে গত ৩০ মে ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে আতিক মোর্শেদ ভুয়া বিল-ভাউচারে নগদ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেন। পাশাপাশি ওই পোস্টে তার স্ত্রীর নগদে মেধা ও যোগ্যতার বলে চাকরি পেয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

  • এক লাখ কর্মী নিতে চায় জাপান, বাড়ছে বিনোয়োগও: প্রেস সচিব

    এক লাখ কর্মী নিতে চায় জাপান, বাড়ছে বিনোয়োগও: প্রেস সচিব

    জাপান সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি প্রবাসী কর্মী পাঠানোর পথ প্রশস্ত হবে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব সচিব শফিকুল আলম। শফিকুল আলম বলেন, মাতারবাড়ি প্রজেক্টে বড় ধরনের বিনিয়োগ করবে জাপান। এছাড়া দেশটির ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে ইতিবাচক কথা হয়েছে। পাশাপাশি দেশটিতে বছরে ১ লাখ কর্মী পাঠানোর বিষয়েও কথা হয়েছে।

    রোববার (১ জুন) বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

    তিনি বলেন, মাতাবাড়ি নিয়ে মাস্টার প্ল্যানে জাপান সহযোগিতা করবে। ২৯ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে বড় অংশ দেবে জাপান। এছাড়া জাপানি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধি করাও সফরের উদ্দেশ্য ছিল, তাও অনেকটা সফল হয়েছে। জাপানের মেইন ইনভেস্টমেন্ট এজেন্সি-জেটপোর সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা বিনিয়োগে পজেটিভ রেসপন্স দিয়েছে।

    জাপানে কর্মী পাঠানো এবং দেশটির ম্যানপাওয়ার মার্কেট নিয়ে কাজ করারও অপার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে জানিয়ে প্রেস সচিব আরও বলেন, জাপান ৫ বছরে ১ লাখ লোক নিতে চায়। এ বিষয়ে কাজ করা হবে। এছাড়া জাপানে যাওয়ার ক্ষেত্রে যে ভিসা জটিলতা তৈরি হতো তারও সমাধানে আলোচনা হয়েছে।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে উপ-প্রেস সচিব আজাদ মজুমদার ও সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব আহমেদ ফয়েজও উপস্থিত ছিলেন।

  • পদ হারানোর গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন ছাত্রদল সভাপতি

    পদ হারানোর গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন ছাত্রদল সভাপতি

    পদ হারানোর গুঞ্জন ছড়ানোর দুদিন পর অবশেষে মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তবে ঝেড়ে কাশলেন না, অর্থাৎ পরিষ্কার করে কিছু বললেন না। জিউয়ে রাখলেন রহস্য। আর বললেন, যে খবর ছড়ানো হয়েছে তা ‘প্রোপাগাণ্ডা’।

    রোববার (১ জুন) নিজের পদ হারানোর গুঞ্জন নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেন রাকিব।

    ছাত্রদল সভাপতি বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় যখন ছাত্রদলের ভালো একটা নিউজ থাকে কিংবা বিগত সময়ের ভালো কিছু থাকে, সেগুলো কিন্তু আমরা সংবাদ মাধ্যমে খুব একটা দেখতে পাই না। বিশেষ করে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে ছাত্রদলের কত ভূমিকা, সেগুলো কখনো সংবাদমাধ্যমে স্থান পায় না। কিন্তু একটা প্রপাগাণ্ডাকে ইস্যু করে নিউজ হয়ে যায়।’

    রাকিবের অভিযোগ, ‘বিগত সাড়ে ১৫ বছর যে ধরনের কালচার ছিল, সেই কালচার থেকে সংবাদমাধ্যম এখনো বের হতে পারেনি। সবাই না, অল্প কিছু সংবাদমাধ্যম রয়েছে। আমি আশা রাখব, অবশ্যই সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তারা আরও বেশি সতর্ক হবে এবং প্রপাগাণ্ডা-নির্ভর যে সংবাদ পরিবেশন, তা থেকে অবশ্যই বিরত থাকবে।’

    এ সময় তারুণ্যের সমাবেশ অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে ছাত্রদল সভাপতি বলেন, ‘বৃষ্টিতে ভিজে আমি ওই রাতেই প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে যাই। সে কারণে বেলা ১১টার প্রেস কনফারেন্স আমি মিস করি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে যে কর্মসূচি ছিল, সে দুটি কর্মসূচি আমি মিস করি। পরবর্তীতে আমি পার্টিকে জানিয়েছি। আমি নিজে আমার সাধারণ সম্পাদকসহ আমার যে কলিগরা রয়েছে, তাদের কল দিয়ে বলেছি যে- আগামীকালের প্রগ্রামে আমি যাব না। আমি বিষয়টি পার্টিকেও জানিয়েছি। এটিকে ইস্যু করে পরে দেখলাম নিউজ করা হয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘একজন মানুষ তো অসুস্থ হতে পারে। আমি কি রোবট? আমি আমার রাজনীতির জীবনে বিগত সাড়ে ১৫ বছর বলেন কিংবা এই সময় আমি অসুস্থ হয়েছি বলে মনে পড়ে না। আমি চার বার প্রায় এক বছরের মতো জেল খেটেছি। কারাগারেও আমি অসুস্থ থাকতাম না। কিন্তু মানুষ তো অসুস্থ হতেই পারে। এটাকে ইস্যু করে নিউজ করা হয়, এতে আমি মর্মাহত হয়েছি এবং খুবই কষ্ট পেয়েছি।’

    রাকিব বলেন, ‘ছাত্রদলে কখনো কোনো বিভেদ ছিল না, আগামীতেও থাকবে না। আমরা আমাদের মতামতের ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আলোচনা করি। সেখানে ভিন্নমত আসতে পারে, একটা সিদ্ধান্তে ভিন্নমত আসতে পারে, একটা কর্মসূচিতে ভিন্ন পন্থা-পরামর্শ আসতে পারে। আমরা সেই আলোকে কর্মসূচিগুলো সাজাই। বিশেষ করে আমরা সুপার ফাইভ রয়েছি, আমরা শীর্ষ নেতৃত্ব রয়েছি, কেন্দ্রীয় সংসদ রয়েছে, আমরা সেই আলোকে কর্মসূচি প্রণয়ন করি। সেক্ষেত্রে অবশ্যই তারা পরামর্শ দেবে। কিন্তু কখনো আজকের দিন পর্যন্ত আমাদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি হয়নি।’

    তিনি বলেন, ‘যে বা যারা এই সোশ্যাল মিডিয়ার প্রপাগাণ্ডাকে ইস্যু করে নিউজ করে, ভেবেছে ছাত্রদলের মাঝে কোনো বিভেদ হয়েছে, উল্লসিত হয়েছে, তাদের উদ্দেশে বলছি, ছাত্রদলে কখনো বিভেদ ছিল না, আগামীতেও থাকবে না ইনশাআল্লাহ।’

    এর আগে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাচিল উদ্দীন নাছিরও রোকিবুল ইসলামের পদ হারানোর গুঞ্জনকে ‘প্রোপাগাণ্ডা’ হিসেবে দাঁগিয়ে দেন। তিনি দাবি করেন, ‘যে খবর ছড়িয়েছে, তা শতভাগ ভুয়া।’

    মূলত ঘটনার সূত্রপাত তারুণ্যের সমাবেশকে কেন্দ্র করে। গত বুধবার (২৮ মে) ঢাকায় অনুষ্ঠিত ওই আয়োজনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেখানে উপস্থিত থেকেও ছাত্রদল সভাপতি রাকিব সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হন বলে অভিযোগ।

    ওই ঘটনা ছাত্রদল ও বিএনপির ভেতরে রাকিবের প্রতি ক্ষোভকে চূড়ান্ত রূপ দেয়। তারই জেরে তাকে সংগঠনের কার্যক্রম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। এও জানা যায়, রাকিবকে নিষ্ক্রিয় করে সিনিয়র সহসভাপতি আবু আহসান মোহাম্মদ আফসান ইয়াহিয়াকে ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কী বিকল্প আছে?

    যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কী বিকল্প আছে?

    ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে বন্ধের পরিকল্পনা করায় উদ্বেগ এবং অনিশ্চয়তায় ভুগছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ছাত্র-ছাত্রীরা। মার্কিন প্রশাসনের এই জাতীয় পরিকল্পনার কারণ হলো, তাদের পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থী ও ফরেন এক্সচেঞ্জ ভিসার আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে থাকা অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। খবর বিবিসি বাংলার। 

    সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অভিজাত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কড়া অবস্থান নিতে দেখা গিয়েছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত করার পরিকল্পনা সেই পদক্ষেপেরই একটা অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘অত্যাধিক উদারপন্থি’ বলে মনে করেন।

    ক্যাম্পাসে ইহুদি-বিদ্বেষ মোকাবিলা করার জন্য যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না– এমন অভিযোগ তুলে তিনি সম্প্রতি হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক ছাত্র ভর্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। এরপর আদালতের দ্বারস্থ হয় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। আপাতত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওই নিষেধাজ্ঞায় স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।

    কারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে?
    বিদেশি শিক্ষার্থীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহকারী সংস্থা ‘ওপেন ডোরস’ বলছে, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ২১০টিরও বেশি দেশের ১১ লাখেরও বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী মার্কিন কলেজগুলোতে ভর্তি হয়েছিল। ওপেন ডোরস-এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী যান ভারত থেকে। তাদের তথ্য বলছে, তিন লাখ ৩৩ হাজারের-এরও বেশি ভারতীয় শিক্ষার্থী গত বছর বিভিন্ন মার্কিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছেন।

    এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পরেই চীন থেকে সবচেয়ে বেশি ছাত্র-ছাত্রী পড়তে আসেন। গত বছর প্রায় দুই লাখ ৮০ হাজার পড়ুয়া যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি হয়েছেন। এর পরেই রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম, নাইজেরিয়া, বাংলাদেশ, ব্রাজিল এবং নেপাল।

    এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চলতি সপ্তাহের বুধবার ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প প্রশাসন কমিউনিস্ট পার্টির সাথে সম্পর্কিত অথবা জটিল বিষয়ে লেখাপড়া করছে এমন চীনা শিক্ষার্থীদের ভিসা আগ্রাসীভাবে বাতিল করবে। এই পরিকল্পনারই অংশ হিসেবে, ভবিষ্যতে চীন ও হংকং যারা মার্কিন ভিসার জন্য আবেদন করবেন তাদের “কড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা” জন্য মানদণ্ডেরও সংশোধন করা হবে। তবে এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করছেন এমন কতজন চীনা শিক্ষার্থী প্রভাবিত হতে পারেন তা স্পষ্ট নয়।

    চীন জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের এই জাতীয় পদক্ষেপের তারা “দৃঢ় বিরোধিতা” করছে। পাশাপাশি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আরও গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য আহ্বান জানিয়েছে সে দেশ। ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যেই বেশ কিছু বিদেশি ছাত্রকে ‘ডিপোর্ট’ করার পদক্ষেপ নিয়েছে। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভিসাও বাতিল করেছে।

    মার্চের শেষে, মার্কো রুবিও জানিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারীদের দমন করার উদ্দেশ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র কমপক্ষে ৩০০জন বিদেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করেছে। তবে তারা কোন কোন দেশের, তা বলেননি।

    এদিকে বুধবার, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় আদালতে দায়ের করা একটা মামলায় জানিয়েছে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পঠন-পাঠনের জন্য ওই প্রতিষ্ঠানের সার্টিফিকেশন বাতিল করলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আদালতে যে আবেদনের জমা দেওয়া হয়েছে, সেখানে হার্ভার্ডের আন্তর্জাতিক অফিসের পরিচালক মৌরিন মার্টিন জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নেওয়া এই পদক্ষেপ শিক্ষার্থী এবং স্কলারদের ‘মানসিক যন্ত্রণা’ দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, শিক্ষার্থীরা ‘গ্র্যাজুয়েশন সেরেমোনি’ (স্নাতক হওয়ার পর সার্টিফিকিট দেওয়ার জন্য যে অনুষ্ঠান) এড়িয়ে যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বাতিল করছে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে অন্য কলেজে স্থানান্তর হওয়ার চেষ্টাও করছে।

    আদালতের দায়ের করা আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু কিছু শিক্ষার্থী এই আশঙ্কায় ভুগছেন যে দেশে ফিরতে হলে তারা সেখানে সক্রিয় সংঘাত বা রাজনৈতিক নিপীড়নের মুখোমুখি হতে পারেন।

    পশ্চিম ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত উচ্চ আন্তর্জাতিক শিক্ষা ক্ষেত্রের একজন বৈশ্বিক কৌশলবিদ অধ্যাপক এমেরিটাস উইলিয়াম ব্রুস্টেইন। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এর প্রভাব মারাত্মক হবে। হার্ভার্ড হয়ত (বিষয়টা সামাল দিতে) পারবে, মানে বিষয়টা কঠিন সেটা বটে, কিন্তু পেরে যাবে। কিন্তু আমার উদ্বেগের বিষয় হলো আমাদের পাবলিক ইউনিভার্সিটিগুলোকে নিয়ে। তারা শিক্ষার্থীদের ফি থেকে আসা আয়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর বেশি মাত্রায় নির্ভরশীল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে থাকা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ে তাদের যে বৈচিত্র্যময় দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করেন- সেখানেই মূলত এর (ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপের) প্রভাব পড়বে।

    কী বিকল্প রয়েছে?
    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কানাডা, যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়াও বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। কিন্তু অভিবাসন আইনে নাটকীয় পরিবর্তনের ফলে ইদানীং সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমাতে বদ্ধপরিকর কানাডা। উদাহরণস্বরূপ, অন্য দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘প্রুফ অফ ফান্ড’ (ব্যয়ভার চালানোর জন্য যথেষ্ট অর্থ রয়েছে কি না) -এর পরিমাণ বাড়িয়েছে। অভিবাসনের ওপর রাশ টানার জন্য কানাডায় যে চেষ্টা চলছে, এটা কিন্তু তারই একটা অংশ।

    যুক্তরাজ্য যেখানে অক্সফোর্ড এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন নামীদামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, তারাও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ কমিয়ে আনছে। শিক্ষার্থী ভিসায় বিধিনিষেধ চালু হয় ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে। এর ফলে স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীরা তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাজ্যে আনার অধিকার হারিয়ে ফেলেন। অন্যদিকে, নতুন শিক্ষার্থীদের তাদের কোর্স শেষ হওয়ার আগে ওয়ার্ক ভিসায় স্যুইচ করা থেকে বিরত করা হয়।

    বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আকর্ষণকারী দেশের মধ্যে অন্যতম অস্ট্রেলিয়াও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবেদনের ওপর লাগাম টেনেছে। সে দেশে কোভিডের আগে সামগ্রিক অভিবাসনের যে স্তর ছিল সেই মাত্রায় আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। অধ্যাপক ব্রুস্টেইন বলেন, এর ফলে শিক্ষার্থীদের নিজেদের দেশেই থেকে যেতে হতে পারে কারণ আরও বেশি সংখ্যক দেশ তাদের নিজস্ব শিক্ষা ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করছে। আবার তাদের হয়তো তা না-ও করতে হতে পারে।”

    কোন কোন দেশ সুযোগ দিচ্ছে?
    আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে অনেক দেশই একটা সুযোগ হিসেবে দেখছে। এর কারণ তহবিলের একটা উল্লেখযোগ্য অংশের জন্য তারা বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর নির্ভর করে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রায়শই বিপুল পরিমাণে টিউশন ফি দিতে হয়।

    জন লি হংকংয়ের প্রধান নির্বাহীর দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি বলেছেন, যেসব শিক্ষার্থী “মার্কিন নীতির কারণে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন, পড়াশোনা করতে অসুবিধা হচ্ছে, অথবা মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন তাদের স্বাগত জানাবে হংকং। যারা হংকংয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চান তাদের জন্য সরকার এবং স্থানীয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সব রকমভাবে সাহায্য ও ব্যবস্থা করবে।

    মালয়েশিয়ার সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়সহ এশিয়ার অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের তাদের দেশে পড়াশোনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। সানওয়া বিশ্ববিদ্যালয় গোষ্ঠীর সিইও সামাজিক মাধ্যম ‘লিংকডইন’-এ লিখেছেন, আমাদের অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির (এএসইউ) সঙ্গে পার্টনারশিপ রয়েছে। আমরা হার্ভার্ড থেকে প্রাপ্ত আপনাদের সমস্ত ক্রেডিট এএসইউ-তে স্থানান্তরিত করতে পারি। আমাদের নিজস্ব সান-ইউ ডিগ্রি প্রোগ্রামগুলোতেও স্থানান্তর করার জন্য ব্যবস্থা করতে পারি যা (এই ডিগ্রি) আপনাদের ল্যাংকাস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অতিরিক্ত ব্রিটিশ সার্টিফিকেশনও এনে দেবে।

    আমেরিকার বাইরে যারা বিকল্প খুঁজছেন এমন ছাত্র ছাত্রীদের কাছে জার্মানিও ক্রমে একটা জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। জার্মান একাডেমিক এক্সচেঞ্জ সার্ভিস-এর পূর্বাভাস অনুসারে, ২০২৫ সালে সে দেশে চার লক্ষেরও বেশি আন্তর্জাতিক স্কলার থাকবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। গত বছরের মার্চ মাসে, জার্মানি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করার অনুমতি দেওয়ার জন্য নতুন ব্যবস্থাও চালু করেছে। এর আগে ওই কাজের সীমা ছিল সপ্তাহে দশ ঘণ্টা। যদিও বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ‘প্রুফ অফ ফান্ড’-এর পরিমাণও বাড়িয়েছে। তবে তা বৃদ্ধি কানাডা বা অস্ট্রেলিয়ার মতো অতটা নাটকীয় নয়।

    অধ্যাপক ব্রুস্টেইন বলেন, গত ১৫ বছরে উচ্চশিক্ষার বৈশ্বিক বাজারে মৌলিক পরিবর্তন এসেছে। তাই তাই কিন্তু এখন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে অনেক বিকল্প রয়েছে। মালয়েশিয়ায় অনেকই বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষস্থানীয়। আমার মনে হয় অস্ট্রেলিয়ার কথা এখনো ভাবা যেতে পারে। ফ্রান্সে এমন এমন শীর্ষ অধ্যাপকদের আকর্ষণ করার জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হচ্ছে, যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন। তাই আমার মনে হয় ইউরোপের কথাও বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে আমি পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কী ঘটছে তার ওপর জোর দেই, কারণ এটাই বিশ্বের সবচেয়ে গতিশীল ক্ষেত্র।

    অন্য দেশের শাখা-ক্যাম্পাস
    এই প্রসঙ্গে অধ্যাপক ব্রুস্টাইন একটা উল্লেখযোগ্য বিষয়ের কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শাখা-ক্যাম্পাস’-এর ধারণা এখন আরও বেশি পরিমাণে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আমি জানি ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় এমনটা (শাখা ক্যাম্পাস) রয়েছে এবং তার একটা দীর্ঘ ইতিহাসও রয়েছে। মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও এর চল আছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যা ঘটছে তা সত্ত্বেও, ভারত ও চীনে ইলিনয় ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি কাজ করছে।

    হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে, আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, কোরিয়া, সেনেগাল এবং ব্রাজিলসহ ৫০টারও বেশি দেশের তালিকা রয়েছে যেখানে তাদের অনুমোদিত প্রোগ্রামে পঠনপাঠনের সুযোগ রয়েছে। তবে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই তালিকার মধ্যে একটাতে স্থানান্তর করতে পারবে কি না সেই বিষয়ে এখনো কিছু ঘোষণা করা হয়নি।

  • জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স প্রথমবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আজ

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স প্রথমবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আজ

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (অনার্স) প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষা আজ শনিবার (৩১ মে) বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উপকূলীয় ১৬টি জেলার কোনো শিক্ষার্থী যদি এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারে, সেক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

    শুক্রবার (৩১ মে) রাজধানীর ধানমন্ডিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়- এবার এমসিকিউ পরিক্ষা পদ্ধতিতে একশ নম্বরের মধ্যে বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান ২০ নম্বর করে থাকবে ও গ্রুপভিত্তিক বিষয়ে থাকবে ৪০ নম্বর।

    সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এস এম আমানুল্লাহ লিখিত বক্তব্যে জানান, গুনগত পরিবর্তন ও সংস্কারের অংশ হিসেবে স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মিনিমান স্ক্যানিং করে ভর্তি করা প্রয়োজন। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ফের পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে। দেশের সাতটি বিভাগের ৮৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে এই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশ নেবেন প্রায় সাড়ে ৫ লাখ শিক্ষার্থী।

    তিনি জানান, সিলেবাসে আসবে পরিবর্তন। কারিকুলামে যুক্ত হবে আইসিটি ও ইংরেজি।

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষার সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। কেন্দ্রসমূহের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিবদের নিয়ে মিটিংও করা হয়েছে। বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র নির্ধারণও করা হয়েছে এবং তার তালিকা প্রকাশ করা হযেছ। তালিকায় অনুযায়ী ঢাকা বিভাগে সর্বাধিক ২৪৭টি কেন্দ্র রয়েছে। এরপর খুলনা বিভাগে ১৫৬টি, রাজশাহী বিভাগে ১৪৩টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩৪টি, রংপুর বিভাগে ৯৬টি, বরিশাল বিভাগে ৫৯টি এবং সিলেট বিভাগে ৪৪টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে সরকারি কলেজ ছাড়াও স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকারি কলেজ ছাড়াও অনেক স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে-পরীক্ষা পদ্ধতি অনুযায়ী, এক ঘণ্টা সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের এমসিকিউ ভিত্তিক ১০০ নম্বরের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। মেধাতালিকা প্রস্তুতে ভর্তি পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বরের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষার জিপিএর ৪০ শতাংশ এবং এইচএসসি পরীক্ষার জিপিএর ৬০ শতাংশ যুক্ত করে মোট ২০০ নম্বরের ভিত্তিতে ফলাফল নির্ধারণ করা হবে। ভর্তিচ্ছুদের অবশ্যই পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও এইচএসসি রেজিস্ট্রেশন কার্ড সঙ্গে আনতে হবে।

    পরীক্ষায় সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা গেলেও মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।

    উপকূলীয় ১৬টি জেলার বিপদাপন্ন আবহাওয়া পরিস্থিতিকে অনেকটা উপেক্ষা করে পরীক্ষা গ্রহণে অনড় থাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এর আগে এই পরীক্ষা দুবার পিছিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা অনুসারে এ ভর্তি পরীক্ষাটি ৩ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। পরে নির্ধারিত এ তারিখ থেকে পিছিয়ে ২৪ মে এবং পরে আরও এক সপ্তাহ পিছিয়ে ৩১ মে পুনঃনির্ধারণ করা হয়।

    প্রসঙ্গত, ২০১৪-১৫ সেশনের পর বন্ধ হয়ে যায় ভর্তি পরীক্ষা। এরপর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে ভর্তি করা হতো। কিন্তু দীর্ঘ ১২ বছর পর পুনরায় ভর্তি পরিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্নাতকে ভর্তি করা হচ্ছে ।

  • বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেত্রীকে রাস্তায় ফেলে মারধর

    বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেত্রীকে রাস্তায় ফেলে মারধর

    ফরিদপুরের নগরকান্দায় রাস্তায় ফেলে বৈশাখী ইসলাম বর্ষা (১৮) নামের এক কলেজছাত্রীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। মারধরের ঘটনায় একটি ফেসবুক লাইভ ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। তিনি ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থী ও ফরিদপুর জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম-সদস্য সচিব।

    শুক্রবার (৩০ মে) বিকালে উপজেলার ভাবুকদিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি ওই এলাকার বাবু শেখের মেয়ে বলে জানা গেছে।

    এদিকে মারধরের সঙ্গে জড়িতদের আটক করতে গেলে লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশের ওপরে হামলা করা হয়। এ নিয়ে এখনও ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

    বর্ষার পরিবারের অভিযোগ, তার ছোট বোনকে বিএনপির এক কর্মী সাগর হোসেন পছন্দ করে। তাকে বিরক্ত ও ইভটিজিং করায় নগরকান্দা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সেখান থেকে বাড়ি ফিরে আসার সময় পথে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে চুল ধরে টানে ও মারধর করে। তার বাবাকেও খুঁজে মারধর করার জন্য। সেখানে বর্ষা ফেসবুক লাইভে এসে তার হামলার কথা জানায় ও সেখান থেকে প্রশাসন তাদের উদ্ধার করে।

    তবে, বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    নগরকান্দা থানার ওসি মোহাম্মদ সফর আলী বলেন, এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিস্তারিত পরে জানাতে পারবো।