শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬
spot_img

জাবির আইআর বিভাগের শিক্ষকের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও খাতা অবমূল্যায়নের অভিযোগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক (আইআর) বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের প্রতি অন্যায্য আচরণ, রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে অপমান, খাতার অবমূল্যায়ন এবং মানসিক হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী।

সোমবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে করা একটি লিখিত অভিযোগপত্র দাখিল করেন আইআর বিভাগের শিক্ষার্থী সজিবুর রহমান।

এসময় তিনি বলেন, বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফজলুল হালিম রানা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যমূলক ব্যবহার করছেন এবং খাতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করে মানসিক হয়রানি এবং রাজনৈতিকভাবে ট্যাগিং করছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত শিক্ষক প্রায়ই টিউটোরিয়াল বা অ্যাসাইনমেন্ট খাতা না দেখে ইচ্ছামতো কম নম্বর দেন। এমনকি এক শিক্ষার্থী প্রথম টিউটোরিয়ালে কম নম্বর পাওয়ার কারণ দেখিয়ে পরবর্তী টিউটোরিয়াল খাতাও না দেখে একই নম্বর দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, একই ধরনের উত্তরে কেউ পূর্ণ নম্বর পেলেও কেউ কম নম্বর পেয়েছেন—যা শিক্ষক মূল্যায়নে পক্ষপাতের ইঙ্গিত দেয়।

এছাড়া অভিযোগকারী এবং অন্য শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, শিক্ষক অনেক সময় শিক্ষার্থীদের দাড়ি, পোশাক বা মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ডের কারণে ‘শিবির’ বা ‘জঙ্গি’ ট্যাগ দিয়ে অপমান করে থাকেন। বিভাগের ক্লাস প্রতিনিধি (সিআর) ও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীও তার খারাপ ব্যবহার, হুমকি এবং অবমাননাকর মন্তব্যের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন।

অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত বেশ কয়েকটি ব্যক্তিগত সাক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগকারী শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষক বছরের বেশিরভাগ সময় ক্লাস না নিলেও পরীক্ষা শুরুর কয়েকদিন আগে হঠাৎ হাতে লেখা অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে বলেন, যা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি বাধাগ্রস্ত করে।

এসময় অভিযোগকারী শিক্ষার্থী সজিবুর রহমানের সাথে অভিযোগ জানাতে আসেন ঐ বিভাগের আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। অভিযোগপত্রে শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। দাবিগুলো হলো–

(১) সহযোগী অধ্যাপক ফজলুল হালিম রানা যেন চতুর্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন না করেন;

(২) টিউটোরিয়ালসহ সব খাতা স্বাধীনভাবে পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা ;

(৩) নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগ সত্য প্রমাণ হলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ;

(৪) শিক্ষার্থীদের ওপর ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক হেনস্থা প্রতিরোধে স্থায়ী নীতিমালা গ্রহণ এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিষয়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

অভিযোগপত্র জমাদান শেষে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিনের আচরণে তারা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছেন। এধরনের ঘটনার ফলে পরবর্তীতে তাদের শারীরিক, মানসিক হয়রানি এবং একাডেমিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।

এসময় অন্যান্যদের মাঝে আরও উপস্থিত ছিলেন জাকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক আবু উবায়দা, কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতিসহ বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

এ বিভাগের আরও পড়ুন

spot_img

সর্বশেষ

spot_img