শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬
spot_img

স্কুলে ভর্তি নীতিমালা প্রকাশ: এবারও ৬৩শতাংশ ভর্তি কোটায়

সরকারি স্কুলে ভর্তি প্রক্রিয়ায় এবারও লটারির মাধ্যমেই শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে প্রতিটি শাখায় সর্বোচ্চ ৫৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে। আর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে আবেদনকারীরা সর্বোচ্চ পাঁচটি বিদ্যালয় পছন্দক্রম দিতে পারবেন। ডাবল–শিফট বিদ্যালয়ের উভয় শিফটে আবেদন করলে তা দুটি পছন্দ হিসেবে গণ্য হবে। শিক্ষার্থীকে পছন্দ করা বিদ্যালয়গুলোর মধ্য থেকে একটি বিদ্যালয় চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও এ বছরও মোট ৬৩ শতাংশ কোটা বহাল থাকছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) জারি করা এ নীতিমালায় আগামী শিক্ষাবর্ষেও ভর্তি নীতিমালা থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

প্রকাশিত ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, আগের বছরের মতো এবারও ৬৩ শতাংশ আসন বিভিন্ন কোটায় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ— ৪০ শতাংশ ক্যাচমেন্ট এরিয়া কোটা। স্কুলসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের জন্য এ কোটা বরাদ্দ থাকলেও বহু অভিভাবক এর বিরোধিতা করছেন; বিশেষত যারা কর্মসূত্রে রাজধানীতে অস্থায়ীভাবে থাকেন। তাদের মতে, এ কোটা তাদের সন্তানদের সুযোগ সংকুচিত করে।

অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কর্মকর্তারা বলছেন, ক্যাচমেন্ট কোটা রাখার লক্ষ্য হলো ভিড় ও বিশৃঙ্খলা কমানো, পাশাপাশি শিশুদের নিজেদের এলাকার স্কুলে পড়ার সুযোগ নিশ্চিত করা। তবে এর প্রয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে— ক্যাচমেন্ট কোটায় আবেদন করতে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্র বাধ্যতামূলক। এতে ভাড়াটিয়া পরিবারগুলোকে প্রায়ই ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

ক্যাচমেন্ট ছাড়াও ২৩% বিশেষ কোটা রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের জন্য ৫%, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মীদের জন্য ১%, সরকারি প্রাথমিক স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের জন্য ১০%, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী ২%, একই স্কুলে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর যমজ/সহোদর ভাই-বোনের জন্য ৫%, এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে সরকারি প্রাথমিক স্কুল থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ১০ শতাংশ আসন বরাদ্দ বাধ্যতামূলক।

নীতিমালায় উল্লেখ না থাকলেও প্রচলিত রয়েছে আরেকটি ‘অলিখিত কোটা’। দূর-দূরান্ত থেকে বদলি হয়ে আসা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানের জন্য প্রায় ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষণ। পাশাপাশি সরকারি হাইস্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের সন্তানরাও বিশেষ সুবিধার আওতায় ভর্তি হন।

জানতে চাইলে মাউশির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বি এম আব্দুল হান্নান বলেন, মন্ত্রণালয়ের সভায় অনুমোদিত নীতিমালা অনুযায়ী এবারও লটারির মাধ্যমে ভর্তি সম্পন্ন হবে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আপত্তি উঠলে বা নতুন প্রস্তাব এলে মন্ত্রণালয় তা বিবেচনা করবে।

এ বিভাগের আরও পড়ুন

spot_img

সর্বশেষ

spot_img