১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের চূড়ান্ত ফলাফলে অনিয়ম ও বৈষম্যের প্রতিবাদে ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে আজ সোমবারও জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ করেছে দুই শতাধিক চাকরিপ্রার্থী তরুণ-তরুণী। সকাল ১০টা থেকে তারা এ কর্মসূচি শুরু করেন। দুপুর পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলে।
এদিকে, চাকরিপ্রার্থীদের অব্যাহত আন্দোলন ও অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার ওয়েবসাইটে ‘সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি’ দিয়ে আরও ১১৩ চাকরিপ্রার্থীকে উত্তীর্ণ দেখিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।
এনটিআরসিএর পরিচালক (যুগ্ম সচিব) কাজী কামরুল আহছানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিটি গত ১৫ জুন সই করা হলেও তা প্রকাশ করা হয়েছে গতকাল সোমবার।
এর আগে, গত ৪ জুন বিকেল ৫টায় ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। তাতে ৬০ হাজার ৫২১ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। কিন্তু ফল প্রকাশের পর বেশ কয়েকজন প্রার্থী অভিযোগ করেন, তারা লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েও চূড়ান্ত ফলে নাম পাননি। এনটিআরসিএ তাদের অভিযোগ পর্যালোচনা করে জানতে পারে— ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ অনুষ্ঠিত একটি পরীক্ষার ফল চূড়ান্ত তালিকায় কারিগরি ত্রুটির কারণে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
এ বিষয়ে এনটিআরসিএ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ভুলত্রুটির বিষয়টি উদঘাটনের পর ২৩ মার্চের পরীক্ষার হার্ডকপি ও সফট কপি পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হয়। এতে দেখা যায়, ওই দিনের পরীক্ষায় বিভিন্ন বিষয়ের ১১৩ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। ফলে, সংশোধিত ফল অনুযায়ী, ১৮তম নিবন্ধন পরীক্ষায় মোট উত্তীর্ণ প্রার্থীর সংখ্যা এখন ৬০ হাজার ৬৩৪ জন।
চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, এনটিআরসিএ’র এমন বিজ্ঞপ্তির পর কর্মকর্তাদের খামখেয়ালিপনা, দায়িত্বহীনতা প্রমাণিত হয়েছে। ফলাফলে আরও ঘাপলা রয়েছে অভিযোগ এনে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা।
গত ৪ জুন ১৮ নিবন্ধনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে এনটিআরসিএ। ফলাফলে ৬০ হাজার ৫২১ জন উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। আজ সোমবার আরও ১১৩ জনকে উর্ত্তীর্ণ দেখানোয় উত্তীর্ণের মোট সংখ্যা দাঁড়াল ৬০ হাজার ৬৩৪ জনে।
এর আগে গত রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কয়েক হাজার চাকরিপ্রার্থী বিক্ষোভ করেন। তাদের আন্দোলনের জেরে প্রেসক্লাবের সামনের দুই পাশের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চাকরিপ্রার্থীদের ওপর জলকামান ও লাঠিচার্জ করে।
চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, বিধি লঙ্ঘন করে আমাদের ফেল করিয়েছেন এনটিআরসিএ কর্তাব্যক্তিরা। মৌখিক পরীক্ষায় অনভিজ্ঞ, বিষয় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ না থাকা ছাড়াও মৌখিক পরীক্ষায় অবান্তর নানা প্রশ্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন প্রার্থীরা।
চাকরিপ্রার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে- ১৮তম নিবন্ধনের ভাইভা ফলাফল পুনর্বিবেচনা করে সকল যোগ্য প্রার্থীকে উত্তীর্ণ করতে হবে। যেসব প্রার্থী লিখিত অংশে ৪০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়েছেন, তাদের সকলকেই এনটিআরসিএ সনদ দিতে হবে। ভাইভা নম্বরসহ পূর্ণ মার্কশিট প্রকাশ করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।


